Discuss the history of the spread of the wes-tern education in Assam.
আসামে পাশ্চাত্য শিক্ষা বিস্তারের ইতিহাস আলোচনা কর।
ভূমিকা বঙ্গদেশের সাথে তুলনা করলে দেখা যায় যে আসামে পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রভাব অনেক দেরিতে এসেছিল। ১৮৩৬ সালে আসামে বাংলা ভাষার মাধ্যমে শিক্ষা দানের প্রথা চালু হয় এবং ১৮৭৩ সাল পর্যন্ত আসামে বাংলা ভাষা প্রচলিত ছিল। ফলে আসামের ধনাঢ্য পরিবারের সন্তানরা পাশ্চাত্য শিক্ষা লাভের উদ্দেশ্যে কোলকাতায় পাড়ি দিতেন। সম্ভবতঃ আনন্দরাম ঢেকিয়াল ফুকন (১৮২৯-৫৯) ছিলেন প্রথম অসমিয়া ছাত্র যিনি কোলকাতায় শিক্ষার্থী হিসেবে এসেছিলেন। সেই 'ট্র্যাডিশন' আসামে ব্রিটিশ শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরও প্রায় অর্ধশতক পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।
আসামে পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রবর্তন আসামে ব্রিটিশ শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্তৃপক্ষ আসামের স্থানীয় বুদ্ধি জীবিদের সহযোগিতার প্রয়োজন অনুভব করেন। কিন্তু অসমিয়াদের অধিকাংশ সেই সময় ইংরেজী ভাষায় পারদর্শী ছিলেন না এমনকি অনেকে প্রথাগত শিক্ষার আঙ্গিকেও তেমন শিক্ষিত ছিলেন না। অথচ স্থানীয় প্রথা, বিশ্বাস, আচার-অনুষ্ঠান ইত্যাদি সম্পর্কে সম্যক ধারনা লাভের জন্য ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের কাছে অসমিয়া বুদ্ধিজীবীদের সাহায্য এবং সহযোগিতা অনিবার্য হয়ে উঠল।
এইরূপ পরিস্থিতিতে ১৮৩৪ সালে ক্যাপ্টেন ফ্রান্সিস্ জেনকিনস্ ভারত সরকারের কাছে একটি প্রতিবেদন লিখে অসমিয়া যুবকদের মধ্যে ইংরেজি ভাষার মাধ্যমে শিক্ষা প্রবর্তনের উদ্দেশ্যে গুয়াহাটি, দরং, নওগাঁও ও বিশ্বনাথ এলাকায় চারটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আর্জি জানান। ১৮৩৫ সালে ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্তৃপক্ষ গুয়াহাটিতে ইংরেজি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব অনুমোদন করে। ফলে ঐবছরেই Mr. Singer কে মাসিক দেড়শো টাকা বেতনে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ করে মোট ৫৮ জন ছাত্র নিয়ে আসামে ইংরেজি স্কুলের পথচলা শুরু হয়। এই স্কুল প্রতিষ্ঠার জন্য কোচবিহারের রাজা, দয়ারাম বরুয়া ও যুগোরাম ফুকন মাথাপিছু ১০০০ টাকা এবং কুরুয়ার দিহিঙ্গিয়া গোঁহাইন ৫০০ টাকা দান করেন।
গুয়াহাটিতে প্রতিষ্ঠিত এই ইংরেজি স্কুলটি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন নামে পরিচিতি লাভ করে। যেমন গৌহাটি সেমিনারি, গৌহাটি স্কুল, কলেজিয়েট স্কুল ইত্যাদি। তবে পরবর্তীকালে এটি ‘কটন কলেজিয়েট স্কুল' নামেই খ্যাতী লাভ করে। গুয়াহাটিতে প্রতিষ্ঠিত স্কুলটির ছাত্র সংখ্যা ক্রমশঃ বাড়তে থাকে। ১৮৪০ সালে স্কুলটির ছাত্র সংখ্যা বেড়ে ৩৪০-এ পরিণত হয়। ১৮৫৮ সালে কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এই স্কুলটিকে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় অবতীর্ণ হওয়ার ছারপত্র দেয়। সেই সময় থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনেই ছাত্রদেরকে ম্যাট্রিকুলেশন বা এন্ট্রান্স পরীক্ষায় বসতে হত। তবে স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৪৮ সালে গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এই নিয়মে পরিবর্তন ঘটে।
আসামে নারীদের মধ্যে পাশ্চাত্য শিক্ষা বিস্তার আসামে নারীদের মধ্যে পাশ্চাত্য শিক্ষা বিস্তারের কাজে প্রথম এগিয়ে আসেন বাংলার নবজাগরনে আলোকদীপ্ত ইংরেজি শিক্ষিত অসমিয়া যুবকরা। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন হালিরাম ঢেকিয়াল ফুকন, আনন্দরাম ঢেকিয়াল ফুকন প্রমুখ। তবে আসামে নারীদের মধ্যে পাশ্চাত্যশিক্ষা বিস্তারের ব্যাপারে খ্রীষ্টান মিশনারীরা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছিল। Mrs. Brown এবং Mrs. Cutter ১৮৪০ সালে সর্বপ্রথম আসামের শিবসাগরে মিশনারী স্কুল তৈরী করেন। এরপর ১৮৪৩ সালে Bronson আসামের নওগাঁওয়ে এবং ১৮৫০ সালে Mrs. Barker গুয়াহাটিতে নারীদের জন্য মিশনারী স্কুল তৈরী করেন। কিন্তু উচ্চশ্রেনিভূক্ত অভিভাবকদের এইসব স্কুল সম্পর্কে কিছুটা সন্দেহ ও ভীতি থাকার ফলে নারীদের মধ্যে পাশ্চাত্য শিক্ষা বিস্তারের জন্য মিশনারীদের প্রচেষ্টা তেমন সফল হয়নাই।
১৮৫৪ সালে শিক্ষা সংক্রান্ত ব্যাপারে Wood এর Despatch এর পর শিবসাগর, গুয়াহাটি এবং নওগাঁওতে মেয়েদের জন্য সরকারী প্রাথমিক স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়। সরকার ও মিশনারীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কিছু কিছু উদার মনোভাবাপন্ন ব্যক্তিও আসামে নারী শিক্ষা বিস্তারের কাজে এগিয়ে আসেন এর ফলে ১৮৯৭-৯৮ সালের মধ্যে সমগ্র আসামে ২৩৫টি বালিকা বিদ্যালয় এবং ৩টি মিডিল স্কুল গড়ে ওঠে যেগুলিতে যথাক্রমে ৩৮২৩ এবং ২৩৫ জন ছাত্রী পড়াশোনা করত।
আসামে পাশ্চাত্য শিক্ষা বিস্তারে কটন কলেজের ভূমিকা ১৯০১ সালের ২৭শে এপ্রিল তদানীন্তন আসামের চীফ কমিশনার Sir Henry John Stedman Cotton এর উদ্যোগে গুয়াহাটিতে কটন কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। কটনকলেজ ছিলো আসামে পাশ্চাত্য শিক্ষা বিস্তারের প্রথম উচ্চশিক্ষা কেন্দ্র। Ferederick William Sudmerson ছিলেন এই কলেজের প্রথম অধ্যক্ষ। মাত্র ৩৯ জন ছাত্র এবং ৫ জন অধ্যাপক নিয়ে এই কলেজ তার পথচলা শুরু করে। শুরুতে শুধুমাত্র কলাবিভাগে পড়াশোনা করার সুযোগ ছিল কিন্তু পরে এই কলেজে অন্যান্য বিভাগও খোলা হয় ।
কটন কলেজকে কেন্দ্র করেই অসমিয়া মধ্যবিত্তদের মধ্যে জাতীয় চেতনার উন্মেষ হয়। কারন ইংরেজি শিক্ষাকে কেন্দ্র করে জাতীয়তাবাদী চেতনা অঙ্কুরিত হওয়ার ফলে মধ্যবিত্তদের উদ্যোগে নানা সভাসমিতি গড়ে ওঠে। মূলতঃ এই সভাসমিতি গুলোর নেতৃত্বেই সারা দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আসামেও অসহযোগ আন্দোলন, আইন অমান্য আন্দোলন এবং ভারত ছারো আন্দোলন গড়ে উঠেছিল।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন