সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

বৈশিষ্ট্যযুক্ত পোস্ট

ত্রিপুরা রাজ্য কিভাবে স্বাধীন ভারতের সাথে যুক্ত হয় ?

 How did Tripura Join as a State of Independent India? ত্রিপুরা রাজ্য কিভাবে স্বাধীন ভারতের সাথে যুক্ত হয় ? ভূমিকা ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ১৭ মে ত্রিপুরার মহারাজা বীর বিক্রম কিশোর মানিক্য বাহাদুর ৩৯ বছর বয়সে পরলোক গমন করলে তার পুত্র কিরীট বিক্রম কিশোর দেববর্মন মানিক্য বাহাদুর ত্রিপুরা রাজ্য ও চাকলা রোশনাবাদের জমিদারি উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত হন। তিনি নাবালক থাকায় ভারত সরকারের পরামর্শ অনুযায়ি রাজমাতা মহারাণি কাঞ্চনপ্রভা দেবীর নেতৃত্বে রাজপ্রতিনিধি শাসন পরিষদ বা কাউন্সিল অব রিজেন্সি গঠিত হয়। মহারাণি কাঞ্চনপ্রভা দেবী এই পরিষদের প্রেসিডেন্ট এবং রাজকুমার ব্রজেন্দ্র কিশোর দেববর্মন বাহাদুর ভাইস প্রেসিডেন্ট নিযুক্ত হন। মেজর বঙ্কিম বিহারী দেববর্মন ও মন্ত্রী রাজরত্ন সত্যব্রত মুখার্জি এই পরিষদের সদস্য নিযুক্ত হন। (২) পাকিস্তানের ত্রিপুরা আক্রমনের ষড়যন্ত্র ভারত স্বাধীনতা লাভের অল্পদিনের পরেই ত্রিপুরা রাজ্য এক গভীর সঙ্কটের সম্মুখীন হয়। ত্রিপুরা সীমান্তস্থিত কুমিল্লার মুসলিম ন্যাশনাল গার্ডের উদ্যোগে ও আগরতলার কতিপয় ব্যক্তির সহযোগিতায় পাকিস্তান ত্রিপুরা আক্রমনের পরিকল্পনা করে। ত্রিপুরার রা...

আগামী' কবিতাটি 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

আগামী
Class 12 Bengali Question 2023

সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো (MCQ)  প্রশ্নমান ১
class 12 bengali mcq question answer

আগামী কবিতাটি 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। Class 12 Bengali Question 2023

১. “ক্ষুদ্র আমি তুচ্ছ নই”-বক্তা কে ?

(ক) বৃক্ষ শিশু

(খ) বনস্পতি

(গ) বটবৃক্ষ

(ঘ) সদ্য অঙ্কুরিত বীজ

উত্তর: (ঘ) সদ্য অঙ্কুরিত বীজ।

২. অঙ্কুরিত বীজের ক্ষুদ্র শরীরে বাজে—

(ক) ঝড়

(খ) বৃষ্টি

(গ) ভূমিকম্প

(ঘ) তুফান

উত্তর: (ক) ঝড়।

৩. অঙ্কুরিত বীজের শাখায় প্রত্যাহত হবে—

(ক) পত্রমর্মর

(খ) মর্মরধ্বনি

(গ) পাখির কূজন

(ঘ) বিচিত্রধ্বনি

উত্তর: (খ) মর্মরধ্বনি ।

৪. অঙ্কুরিত বৃক্ষশিশু অরণ্যের বিশাল চেতনা অনুভব করে—

(ক) পত্রে

(খ) পুষ্পে

(গ) শিকড়ে

(ঘ) শাখায়

উত্তর: (গ) শিকড়ে।

৫. “জানি তারা মুখরিত হবে”—কীভাবে ?

(ক) নব শতকের গানে

(খ) নতুন দিনের গানে

(গ) নব তারণ্যের গানে

(ঘ) নব জীবনের গানে

উত্তর: (গ) নব অরণ্যের গানে।

৬. অঙ্কুরিত বৃক্ষশিশু নব অরণ্যের গানে মিশে যাবে—

(ক) বসন্তে

(খ) বর্ষায়

(গ) গ্রীষ্মে

(ঘ) শীতে

উত্তর: (ক) বসন্তে।

৭. অঙ্কুরিত বীজ কোথায় মিশে যাবে ?

(ক) অরণ্যের দলে

(খ) বৃহতের দলে

(গ) ক্ষুদ্রের দলে

(ঘ) মহীরুহ-র দলে

উত্তর: (খ) বৃহতের দলে।

৮. অঙ্কুরিত বীজ নিজেকে বলেছে—

(ক) ভাবী বনস্পতি

(খ) ভাবী মহিরুহ

(গ) ভাবী বৃক্ষ

(ঘ) ভাবী তরুলতা

উত্তর: (ক) ভাবী বনস্পতি ।

৯. অঙ্কুরিত বীজটিকে ঘিরে থাকে—

(ক) স্নেহ

(খ) স্বপ্ন

(গ) ছায়া

(ঘ) মায়া

উত্তর: (খ) স্বপ্ন।

১০. ফুল-ফল ছাড়াও অঙ্কুরিত বৃক্ষশিশু দিতে চেয়েছে—

(ক) পাখির কুজন

(খ) শীতল বাতাস

(গ) আশ্রয়

(ঘ) কোনোটিই নয়

উত্তর: (ক) পাখির কূজন ।

নীচের প্রশ্নগুলি এক একটি শব্দে পূর্ণাঙ্গ বাক্যে উত্তর দাও  প্রশ্নমান ১
Class 12 Bengali Question 2023

১. 'আগামী' কবিতাটি কোন্ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত ?

উত্তর: 'আগামী' কবিতাটি 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

২. “বিদীর্ণ করেছি মাটি”–বক্তা কীভাবে মাটি বিদীর্ণ করেছে ? ‘বিদীর্ণ' শব্দের অর্থ কী ?

উত্তর: বক্তা অর্থাৎ অঙ্কুরিত বীজ মাটির গভীরে শিকড় সঞ্চালনের মাধ্যমে মাটি বিদীর্ণ করেছে। ‘বিদীর্ণ' শব্দের অর্থ হল ভেদ করা।

৩. অঙ্কুরিত বীজ তার কোথায় 'অরণ্যের বিশাল চেতনা' অনুভব করে ?

উত্তর: অঙ্কুরিত বীজ তার শিকড়ে ‘অরণ্যের বিশাল চেতনা' অনুভব করে।

8. “... মেলে দেব সবার সম্মুখে”- বক্তা সবার সম্মুখে কী মেলে দেবে ?

উত্তর: বক্তা বৃক্ষশিশু তার দৃপ্ত শাখা সবার সম্মুখে মেলে দেবে।

৫. 'আগামী' কবিতায় কোন্ ঋতুতে বনস্পতির বীজ বৃহতের দলে মিশে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছে ?

উত্তর: আগামী বসন্ত ঋতুতে বনস্পতির বীজ বৃহতের দলে মিশে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছে।

৬. কিশলয়কে কীভাবে সকলে সংবর্ধনা জানাবে ? কিশলয় কী ?

উত্তর: জয়ধ্বনি দিয়ে সকলে কিশলয়কে সংবর্ধনা জানাবে। 'কিশলয়' মানে কচি পাতা বা নতুন পাতা বিশিষ্ট শাখা ।

৭. অঙ্কুরিত বীজ বড়ো হয়ে কী কী দেবে বলে আশ্বাস দিয়েছে ?

উত্তর: অঙ্কুরিত বীজ বড়ো হয়ে ফল, ফুল এবং পাখির কূজনের মতো মনোরঞ্জক উপহার দানের আশ্বাস দিয়েছে।

৮. আজ যে অঙ্কুরিত বীজ আগামীতে সে কী হবে ?

উত্তর: আগামীতে অঙ্কুরিত বীজ বনস্পতি হয়ে উঠবে।

৯. “আমি তো জীবন্ত প্রাণ,”–‘আমি’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে ?

উত্তর: এখানে ‘আমি’ বলতে নব অঙ্কুরিত এক বনস্পতির বীজকে বোঝানো হয়েছে।

১০. “আমি এক অঙ্কুরিত বীজ ; "- এখানে কোন্ অঙ্কুরিত বীজের কথা বলা হয়েছে ?

উত্তর: এখানে এক ক্ষুদ্র বনস্পতি বা বটবৃক্ষের বীজের কথা বলা হয়েছে।

১১. “মাটিতে লালিত, ভীরু, ”– বক্তা 'ভীরু' কেন ?

উত্তর: বক্তা বনস্পতির বীজ সদ্য অঙ্কুরিত হওয়ায় সৃষ্টির সূচনালগ্নে বাহ্যজগৎ সম্পর্কে সে সম্পূর্ণ অনভিজ্ঞ। এই অনিশ্চয়তা ও দুর্বলতার কারণেই সে ‘ভীরু’।

১২. “মেলেছি সন্দিগ্ধ চোখ, ” – বক্তার চোখ সন্দিগ্ধ কেন ?

উত্তর: সদ্য অঙ্কুরিত এবং ক্রমবিকাশের পথে অগ্রসরমান বনস্পতির বীজ বহির্বিশ্ব সম্পর্কে একপ্রকার কৌতূহল, ভীতি, অনিশ্চয়তা ও দুর্বলতায় আচ্ছন্ন বলে তার উন্মীলিত চোখে সন্দিগ্ধতা ফুটে উঠেছে।

১৩. “তবু ক্ষুদ্র এ শরীরে গোপনে মর্মরধ্বনি বাজে, ” – কার শরীরের কথা বলা হয়েছে ?

উত্তর: এখানে নব অঙ্কুরিত, সদ্যোজাত বৃক্ষশিশুর শরীরের কথা বলা হয়েছে।

১৪. 'গোপনে মর্মরধ্বনি' কোথায় বাজে ?

উত্তর: অঙ্কুরিত বীজের ক্ষুদ্র শরীরের গোপনে মর্মরধ্বনি বাজে।

১৫. 'আগামী' কবিতায় অঙ্কুরিত বীজ কীভাবে আত্মপরিচয় দিয়েছে ?

উত্তর: ‘আগামী' কবিতায় অঙ্কুরিত বীজ আত্মপরিচয় দিয়ে বলেছে—সে জড়, মৃত কিংবা অন্ধকারের খনিজ নয়; সে এক জীবন্ত প্রাণ ।

১৬. “জড় নই, মৃত নই, নই অন্ধকারের খনিজ” - বক্তা কে ?

উত্তর: আলোচ্য উদ্ধৃতাংশটির বক্তা হল একটি সদ্যোজাত অঙ্কুরিত বীজ।

নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও (20টি শব্দের মধ্যে )  প্রশ্নমান ২
class 12 bengali question answer

১. “জানি তারা মুখরিত হবে”- কীভাবে তারা মুখরিত হবে ? 'তারা' বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে ?

উত্তর: নব অরণ্যের গানে অর্থাৎ নতুন অরণ্য সৃষ্টির আনন্দে তারা মুখরিত হবে।

 'তারা' বলতে এখানে অঙ্কুরিত বটবৃক্ষের বীজকে বোঝানো হয়েছে।

২. “ জড় নই, মৃত নই, নই অন্ধকারের খনিজ,” – কার উক্তি ? সে নিজেকে কী বলে পরিচয় দিতে চায় ?

 উত্তর: কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘ছাড়পত্র' কাব্যের অন্তর্গত 'আগামী' কবিতায় অঙ্কুরিত বনস্পতির বীজ অর্থাৎ, সদ্যোজাত ক্ষুদ্র বৃক্ষশিশু এই উক্তি করেছে।

 ক্ষুদ্র হলেও অঙ্কুরিত বনস্পতির বীজ তার শরীরে অনুভব করে প্রাণের স্পন্দন। সে চেতনাসম্পন্ন এক বৃক্ষশিশু। আগামীদিনে বৃহত্তর জীবনে আত্মপ্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা তার মধ্যে নিহিত। তাই সে নিজেকে 'জীবন্ত প্রাণ' বলে পরিচয় দিতে চেয়েছে।

৩. “মেলেছি সন্দিগ্ধ চোখ, ” – বক্তা কে ? কীভাবে সে সন্দিগ্ধ চোখ মেলেছে ?

উত্তর: কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘আগামী' কবিতায় উদ্ধৃত উক্তিটির বক্তা অঙ্কুরিত বনস্পতির বীজ বা সদ্যোজাত বৃক্ষশিশু। > অঙ্কুরিত বীজ মাটির আস্তরণ ভেদ করে আকাশের ডাকে অর্থাৎ, প্রকৃতির আহ্বানে তার ‘সন্দিগ্ধ চোখ মেলেছে।

৪. “ বিদীর্ণ করেছি মাটি, দেখেছি আলোর আনাগোনা” – পঙ্ক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।

উত্তর: ‘আগামী' কবিতায় এক অঙ্কুরিত বীজের আগামী দিনে বনস্পতি মহিরুহ হয়ে ওঠার স্বপ্ন অভিব্যক্ত হয়েছে। অঙ্কুরোদ্‌গম থেকে সময়ের সূত্রে সম্ভাব্য পরিণতির পথে চলতে গিয়ে বনস্পতির বীজ মাটি বিদীর্ণ করে তার শিকড়কে চালিত করেছে আর সূর্যের উদয়াস্তের সঙ্গে সে প্রত্যক্ষ করেছে কালের প্রবাহ। তাই, বীজ থেকে বৃক্ষে রূপান্তরিতকরণের, অর্থাৎ অস্তিত্বের ক্রমিক উত্তরণের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে আলোচ্য পক্তিটি তাৎপর্যবহ হয়ে উঠেছে।

৫. “তবুও তোমায় আমি হাতছানি দেব বারে বারে ; ” – “আমি কে ? বক্তা কী সত্ত্বেও বারবার হাতছানি দেবে ?

উত্তর: কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের 'আগামী' কবিতায় আলোচ্য উক্তিটিতে 'আমি' বলতে বোঝানো হয়েছে অঙ্কুরিত বৃক্ষ শিশু বা ভাবী বনস্পতিকে।

 সংসারের মানুষ বা পথিকজন তার ছত্রছায়ায় এসে যদি তাকে কঠিন কুঠার দিয়ে আঘাতও করে, তবুও সে তাদের বারংবার হাতছানি দিয়ে আহ্বান জানাবে।

৬. “আগামী বসন্তে জেনো মিশে যাব বৃহতের দলে ; " - আগামী বসন্তে বক্তা কীভাবে বৃহতের দলে মিশে যাবে ?

উত্তর: 'আগামী' কবিতার বক্তা সদ্য অঙ্কুরিত বীজ প্রবল আত্মপ্রত্যয়ী ও আশাবাদী। জগতের কল্যাণসাধনই তার একমাত্র লক্ষ্য। সে আত্মপরায়ণ, ব্যক্তিকেন্দ্রিক নয়। তার এই আত্মপ্রত্যয়ী মনোভাব অকারণ নয়—সে নিজের পরিবেশ, পরিস্থিতি ও প্রতিকূলতা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। কিন্তু সে আকাশের ডাকে মাথা তুলেছে। ফলে চোখ তার সন্দিগ্ধ হলেও সে ভীত নয়। সে শিকড়ে অরণ্যের দৃঢ়তা খুঁজে নিয়ে শাখাপ্রশাখার ঝড় ঠেকানোর কথা ভাবে। ফল, ফুল ও ছায়াদানের কথাও ভাবে। এই পরোপকারী, কল্যাণকর মানসিকতাই তার দৃঢ় প্রত্যয়ের কারণ।

৭. অঙ্কুরিত বীজ নিজেকে ভাবী বনস্পতি বলেছে কেন ?

উত্তর: সদ্য অঙ্কুরিত বীজ নিজেকে ভাবী বনস্পতি বলছে, কারণ তার বড়ো হয়ে ওঠার দৃঢ় স্বপ্ন আছে। সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করার কঠোর প্রতিজ্ঞা তার কথাবার্তায় ও ভাবনায় স্পষ্ট। মাটি বিদীর্ণ করে আকাশের ডাকে সন্দিগ্ধ চোখ মেলা, আলোর আনাগোনা প্রত্যক্ষ করা, সর্বোপরি শিকড়ে অরণ্যের বিশাল চেতনার অনুভব তাকে ভাবী বনস্পতি হওয়ার বাসনা জোগায়। এমনকি, আগামীদিনে বনস্পতিদের মতো কাজ করার দৃঢ় বাসনাও তার মনে আছে। তার মহিরুহ হয়ে ওঠার ইচ্ছাতেই সে নিজেকে ভারী বনস্পতি বলেছে।

৮. “তবুও তোমায় আমি হাতছানি দেব বারে বারে”—'আমি' বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে ? বারে বারে হাতছানি দেবার অর্থ বুঝিয়ে দাও ।

উত্তর: ‘আমি’ বলতে সদ্য অঙ্কুরিত বীজ বা বৃক্ষ শিশুকে বোঝানো হয়েছে। সংসারের মানুষ বা পান্থজন তার ছত্রছায়ায় এসে যদি তাকে কঠিন কুঠার দিয়ে আঘাতও করে, তবুও সে তাদের বারংবার হাতছানি দিয়ে আহ্বান জানাবে।

নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও (৪০টি শব্দের মধ্যে)  প্রশ্নমান ৪
উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা বড় প্রশ্ন উত্তর 2023

১. “আমি তো জীবন্ত প্রাণ, ” – “আমি কে ? বক্তার 'তো' শব্দের প্রয়োগের কারণ উল্লেখ করো।

উত্তরঃ উদ্ধৃতাংশটিতে 'আমি' বলতে নব অঙ্কুরিত এক বনস্পতির বীজের কথা বলা হয়েছে।

 প্রাণের ধর্মই হল বিকাশলাভ । অরণ্যভূমিতে লালিত এক অঙ্কুরিত বনস্পতির বীজ ক্ষুদ্র হলেও তার শরীরে অনুভব করে উচ্ছ্বাসের প্রাণস্পন্দন। তার মধ্যে রয়েছে বেড়ে ওঠার অদম্য বাসনা। তাই সে জড় পদার্থ, মৃত, নিষ্প্রাণ বস্তু বা মাটির অন্ধকার তলদেশে সঞ্চিত খনিজদ্রব্যের মতো অসাড় পদার্থের সঙ্গে নিজের তুলনা করতে নারাজ। বরং নিজের প্রাণময় সত্তার বিষয়ে নিসন্দিগ্ধ বলে সে উক্ত নিষ্প্রাণ বস্তুগুলি থেকে বলিষ্ঠরূপে তার স্বাতন্ত্র্যই ঘোষণা করেছে। তার সংবেদন খালি চোখে প্রত্যক্ষ করা যায় না; তা পুরোপুরি অনুভবের বিষয়। কিন্তু মানুষ এই বিষয়টি বিস্মৃত হয়ে তাকে আর পাঁচটা নির্জীব বস্তুর মতো দেখে, সেইমতো আচরণ করে। পৃথিবীবাসীকে এই সহজ সত্যের কথাটি মনে করিয়ে দিতেই সদ্যোজাত বৃক্ষশিশুটি আলোচ্য। মন্তব্যে 'তো' শব্দটি ব্যবহার করেছে।

২. “তবু ক্ষুদ্র এ শরীরে গোপনে মর্মরধ্বনি বাজে,” –কার শরীরের কথা বলা হয়েছে ? তার শরীরে গোপনে মর্মরধ্বনি বেজে ওঠার তাৎপর্য আলোচনা করো।

উত্তরঃ এক সদ্য অঙ্কুরিত বৃক্ষশিশুর শরীরের কথা বলা হয়েছে।

 আলোচ্য কবিতায় আমরা দেখি, এক সদ্যোজাত, অঙ্কুরিত বনস্পতির বীজ আগামীদিনে মহিরুহ হয়ে ওঠার স্বপ্নে বিভোর। তার বিশ্বাস, বর্তমানে সে অঙ্কুরিত হলেও, আগামী দিনে সে-ই মেলে দেবে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পাতা। উদ্দাম হাওয়ায় তারা তখন নৃত্য করবে । তারপর সে দৃপ্ত শাখা মেলে ধরলে সবার মুখে ফুটে উঠবে বিস্ময় । তারপর ক্রমশ তার জীবনে আসবে কঠিন পরীক্ষা। ভীষণ ঝড়ে তখন নিজেকে সামলাতে দৃঢ় শিকড় দিয়ে সে মাটি আঁকড়ে ধরবে আর পল্লবিত শাখা দিয়ে ঝড়কে প্রতিহত করবে আর এভাবেই সে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে নিজস্ব আদর্শে গড়ে তুলবে এক অঙ্কুরিত বৃক্ষসমাজ—নব অরণ্যসৃষ্টির আনন্দে যারা মুখরিত হবে। আগামী বসন্তেই সেই নবকিশলয়ের বিজয়বার্তা ঘোষিত হবে বলে অঙ্কুরিত বীজটির বিশ্বাস। শুকনো পাতার মর্মর- ধ্বনিতে সদ্যোজাত বৃক্ষপ্রাণের অন্তরে এই আশায় উদ্দীপ্ত ভাবনা ও আত্মবিশ্বাসভরা স্বপ্ন বেজে ওঠে বলে কবি অনুভব করেছেন।

৩. “আগামী বসন্তে জেনো মিশে যাব বৃহতের দলে ; ” -বক্তা কীভাবে বৃহতের দলে মিশে যাবে ? উক্তিটির মধ্যে দিয়ে বক্তার চরিত্রের কোন্ ভাবটি প্রকাশ পেয়েছে, তা বলো।

উত্তর: বক্তা অঙ্কুরিত বীজ বড়ো হয়ে ওঠার অদম্য মানসিকতায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। সে আত্মবিশ্বাসী। বর্তমানে সে অঙ্কুরিত অবস্থায় থাকলেও আগামীদিনে তার শরীরে গজিয়ে ওঠা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পাতায় ঘোষিত হবে দৃপ্ত প্রাণের বাণী। এমনকি ভয়াবহ দুর্যোগ বা ঝঞ্ঝার মতো প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও সে নিজেকে শিকড় ও শাখাপ্রশাখা দিয়ে রক্ষা করতে পারবে বলে বিশ্বাস রাখে। সেইসঙ্গে নিজস্ব আদর্শে ও অনুপ্রেরণায় সে গড়ে তুলবে অসংখ্য অঙ্কুরিত নবজাতকদের, যারা তার ভাবধারায় উদ্বুদ্ধ হয়ে এক নতুন অরণ্যসমাজ গড়ার আনন্দে মুখর হয়ে উঠবে—এইসব স্বপ্ন নিয়েই বৃক্ষপ্রাণটি আগামী বসন্তে বৃহৎ বনস্পতি সমাজে প্রতিষ্ঠালাভ করবে বলে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। > আলোচ্য উক্তির মধ্য দিয়ে বক্তার চরিত্রে তাই প্রবল আত্মবিশ্বাসে আস্থাশীল আশাবাদী সত্তাটি পরিস্ফুট হয়েছে।

৪ . ‘আগামী' কবিতায় কবি ক্ষুদ্র চারাগাছের মধ্য দিয়ে ভাবীকালের সম্ভাবনার যে-চিত্র তুলে ধরেছেন, তা নিজের ভাষায় পরিস্ফুট করো।

উত্তর: কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের লেখা 'আগামী' কবিতায় বর্ণিত এক ক্ষুদ্র চারাগাছ ভাবীকালের সম্ভাবনার কল্পনায় বিভোর। তার বিশ্বাস, বর্তমানে সে অঙ্কুরিত হলেও আগামীদিনে সে-ই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পাতায় সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে। তারপর সবার সম্মুখে সে মেলে দেবে তার দৃপ্ত শাখা, যা দেখে বিস্ময়ে অভিভূত হবে প্রতিবেশি বৃক্ষগুলি । ক্রমশ কঠিন ঝড়ের প্রতিকূলতায় সে নিজেকে সংহত রেখে পরিস্থিতির মোকাবিলা করবে। কঠিন শিকড়ে সে আঁকড়ে ধরবে মাটি আর প্রসারিত শাখায় সে প্রতিহত করবে ঝড় । কালক্রমে তার এই বেড়ে ওঠার সংগ্রামী চেতনায় অনুপ্রাণিত হয়ে অঙ্কুরিত অনুগামী বৃক্ষশিশুরা মাথা তুলে দাঁড়াবে ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গড়ে তুলবে নব অরণ্যসমাজ। এভাবেই বৃক্ষশিশু তার দায়িত্ব পালন করে বৃক্ষসমাজে বনস্পতি মহিরুহরূপে প্রতিষ্ঠালাভ করবে। তারপর ফলে-ফুলে সমৃদ্ধ হয়ে সে পান্থজনকে তার ছায়ায় আসতে আহ্বান জানাবে। তখন যদি কোনো ঘাতক তাকে কুঠারাঘাতও করে, তবুও সে তাকে ঘৃণা করবে না। বরং তাকে বিপথগামিতা থেকে মুক্ত করতে বারংবার হাতছানি দিয়ে ডাকবে। এভাবেই কবি ক্ষুদ্র চারার মধ্যে দিয়ে তার ভাবীকালের সম্ভাবনার চিত্রকে কবিতায় তুলে ধরেছেন।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বীরচন্দ্র মানিক্য থেকে বীরবিক্রম কিশোর মানিক্য পর্যন্ত ত্রিপুরার আধুনিকীকরণ সম্পর্কে আলোচনা কর।

 Discuss the modernization of Tripura from Birchandra Manikya to Bir Bikram Kishor Manikya. বীরচন্দ্র মানিক্য থেকে বীরবিক্রম কিশোর মানিক্য পর্যন্ত ত্রিপুরার আধুনিকীকরণ সম্পর্কে আলোচনা কর।  ত্রিপুরায় আধুনিক যুগের সূচনা হয় মহারাজ বীরচন্দ্র মানিক্যের শাসনকালে। তিনি ব্রিটিশ ভারতের শাসন পদ্ধতির অনুকরণে ত্রিপুরার শাসন ব্যবস্থার সংস্কার করেণ এবং লিখিত আইন কানুন প্রনয়নের মাধ্যমে বিচার ব্যবস্থাকে সুসংবদ্ধ ও সুসংগঠিত করেণ। মোটের উপর বীরচন্দ্রমানিক্য (১৮৬২-১৮৯৬ খ্রি:) তাঁর আমলে ত্রিপুরা রাজ্য এক নতুন রূপ লাভ করে। ১) মিউনিসিপ্যালিটি গঠন তিনি ১৮৭১ খ্রিস্টাব্দে আগরতলা মিউনিসিপ্যালিটি গঠন করেন। তবে নাগরিক জীবনের সুযোগ সুবিধা বিধানে কিংবা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা হিসাবে দীর্ঘকাল কোনো কার্যকারী ব্যবস্থা গ্রহণে আগরতলা মিউনিসিপ্যালিটি ছিল ব্যর্থ। ১৯৮১ খ্রিস্টাব্দের ৩ জুলাই ডবলিউ. বি. পাওয়ার সাহেব ত্রিপুরা রাজ্যের প্রথম পলিটিক্যাল এজেন্ট নিযুক্ত হন।  ২) বিচার সংক্রান্ত সংস্কার প্রাচীনকাল হতে দেওয়ানি ও ফৌজদারি সংক্রান্ত বিচারের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি মহারাজ স্বয়ং সম্পাদন করতেন। ১৮৭২ খ্রিস্টা...

বীরচন্দ্র মানিক্যের পূর্ববর্তী সময়ে ত্রিপুরার অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা সম্পর্কে আলোচনা কর।

 Discuss the social and economic condition of Tripura before the accession of Birchandra Manikya. বীরচন্দ্র মানিক্যের পূর্ববর্তী সময়ে ত্রিপুরার অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা সম্পর্কে আলোচনা কর। ভূমিকা ত্রিপুরার মাণিক্য উপাধিকারী রাজন্যবর্গের মধ্যে কেউ কেউ ছিলেন আত্মমর্যাদাজ্ঞানহীন, ক্ষমতালোভী ও ষড়যন্ত্রী। এসব ক্ষমতালোভী ও ষড়যন্ত্রীরা মুঘল ফৌজদারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে অধিক সংখ্যক হাতি, নিয়মিত উচ্চ হারে খাজনা, নজরানা ইত্যাদি দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাজত্বের সনদ লাভ করতেন। এটা ত্রিপুরার দুর্বল অর্থনীতির উপর এক বিরাট আঘাত ও স্থায়ী ক্ষতস্বরূপ ছিল। তবে এ সময়ের শুভদিক হল ত্রিপুরায় ব্রিটিশ ভারতের অনুকরণে আইন প্রণয়নের সূত্রপাত, প্রশাসনিক বিধিব্যবস্থার প্রবর্তন, অর্থনৈতিক উন্নয়নের উন্মেষ ও সামাজিক সংস্কার। Economic Condition ১) চাষাবাদ ও কৃষি ত্রিপুরার অধিবাসীদের প্রধান জীবিকা হল কৃষি। কৃষিজ উৎপাদনের মধ্যে ধান, গম, আলু, আখ, সরিষা, ডাল জাতীয় শস্য, কার্পাস, তুলো, কচু, আদা, তরমুজ ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। শিকার ও পশুপালন করেও তারা জীবিকা নির্বাহ করত। এখানকার চাষযোগ্য সমতল জমির সাথে ...