সামষ্টিক মূল্যায়নের সংজ্ঞা দাও। সামষ্টিক মূল্যায়নের বৈশিষ্ট্য আলোচনা কর। সামষ্টিক মূল্যায়নের শ্রেনিবিভাগগুলি কী কী। সামষ্টিক মূল্যায়নের গুরুত্ব কী। সামষ্টিক মূল্যায়নের সীমাবদ্ধতা আলোচনা কর।
Define summative evaluation. Discuss the characteristics of summative evaluation. Point out the classification of summative evaluation. What are the importance of summative evaluation. What are the limitations of summative evaluation.
(সামষ্টিক মূল্যায়নের সংজ্ঞা দাও। সামষ্টিক মূল্যায়নের বৈশিষ্ট্য আলোচনা কর। সামষ্টিক মূল্যায়নের শ্রেনিবিভাগগুলি কী কী। সামষ্টিক মূল্যায়নের গুরুত্ব কী। সামষ্টিক মূল্যায়নের সীমাবদ্ধতা আলোচনা কর।)
সামষ্টিক বা প্রান্তিক মূল্যায়ন (Summative Evaluation)
শিখন-শিক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন শেষে কার্যক্রমের সামগ্রিক ফলাফল, প্রভাব ও অর্জিত লক্ষ্যমাত্রা নিরূপণের জন্য যে মূল্যায়ন করা হয়, তাকে সামষ্টিক বা প্রান্তিক মূল্যায়ন বলে।
Page & Thomas International Dictionary of Education - 4 সামষ্টিক মূল্যায়ন এর সংজ্ঞায় বলেছেন, “ কোন শিক্ষা পরিকল্পনা বা কর্মকান্ডের শেষে এর কার্যকারিতা যাচাইয়ের মূল্যায়নকে সামষ্টিক মূল্যায়ন বা প্রান্তিক মূল্যায়ন বলে।” (Evaluation at the con- clusion of any educational plan or activity to determined the effective- ness of the activity)
R.N. Patel বলেছেন, “ কোন কর্মকান্ড সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ও সর্বশেষ মূল্যায়ন বা সিদ্ধান্ত কে সামষ্টিক মূল্যায়ন বলে” (Making overall assessment or decision with the pro gram is a summative evaluation)
Best ও Kahn তাঁদের Research in Education” গ্রন্থে বলেছেন, “ অধিকাংশ লোক মূল্যায়ন বলতে সামষ্টিক মূল্যায়নের কথাই বিবেচনা করেন। এর প্রাথমিক উদ্দেশ্যসমূহ হল গ্রেড নির্ণয়, শিক্ষণ দক্ষতার বিচার ও শিক্ষাক্রমের পর্যালোচনা।” (Summative evaluation is what most people think of when they consider evaluation. Its primary purpose are to determine grades. judge teaching competence and compare curricula.) সামষ্টিক মূল্যায়নের বৈশিষ্ট্য (Characteristics of Summative Evaluation) :
১. একটি নির্দিষ্ট সময়ান্তে, পর্বশেষে, সেমিষ্টার শেষে প্রান্তিক মূল্যায়ন করা হয়।
২. এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো গ্রেড নির্ণয়, শিক্ষণ দক্ষতা নির্ণয় ও শিক্ষাক্রম পর্যালোচনা।
৩. এটি হলো শিক্ষার্থী কর্তৃক নির্দিষ্ট কোন বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের চূড়ান্ত অবস্থার মূল্যায়ন।
৪. ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণ ও অধিকতর উন্নত কার্যক্রম গ্রহণের পথ নির্দেশ করে।
৫. এটি মূল্যায়ন প্রক্রিয়াকে তাৎপর্যপূর্ণ বৈশিষ্ট্য মন্ডিত করে তোলে।
৬. প্রান্তিক মূল্যায়ন হল মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার অপরিহার্য একটি পদক্ষেপ।
৭. এটির সাহায্যে শিক্ষার্থীর পারদর্শিতার একটি সামগ্রিক চিত্র পাওয়া যায়।
৮. এটি প্রধানত আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হয়।
৯. এটি মাধ্যমে শিক্ষার্থীর শিখন ও তার অগ্রগতির একটি সারসংক্ষেপ পাওয়া যায় ।
১০. এটি ভবিষ্যৎ কর্ম পরিকল্পনার জন্য কার্যকরী সিদ্ধান্ত প্রদানে সক্ষম।
সামষ্টিক মূল্যায়নের শ্রেণিবিভাগ Classification of Summative Evaluation)
সামষ্টিক মূল্যায়ন নানা ধরনের হতে পারে, যেমন:
১. লিখিত পরীক্ষা (Written Test)
২. মৌখিক পরীক্ষা (Oral Test)
১. লিখিত পরীক্ষা : লিখিত পরীক্ষা আবার দু' প্রকার হতে পারে, যথা
(ক) রচনামূলক (Eassy type)
(খ) নৈর্ব্যক্তিক (Objective type)
রচনামূলক অভীক্ষা দু'রকম হতে পারে, যেমন
(ক) সংক্ষিপ্ত রচনামূলক
(খ) দীর্ঘ রচনামূলক
২. মৌখিক পরীক্ষা
ভর্তি পরীক্ষা বা এ ধরনের অন্য কোন পরীক্ষা, পাবলিক পরীক্ষা ইত্যাদিতে এ ধরনের পরীক্ষা ব্যবহৃত হয়।
এছাড়া নির্দিষ্ট সময়াস্তে অ্যাসাইনমেন্ট অথবা টার্ম পেপার ও সামষ্টিক মূল্যায়নে ব্যবহৃত হয়।
সামষ্টিক মূল্যায়নের গুরুত্ব ( Importance of Summative Evaluation)
সামষ্টিক মূল্যায়ন, মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার অপরিহার্য পদক্ষেপ। নিচে সামষ্টিক মূল্যায়নের গুরুত্ব আলোচনা করা হলো :
১. কোন বিষয়বস্তু শিক্ষার উদ্দেশ্য পরিমাপ করার জন্য সামষ্টিক মূল্যায়ন একান্ত আবশ্যক।
২. এর মাধ্যমে শিক্ষার্থী কর্তৃক নির্দিষ্ট কোন বিষয়ে দক্ষতা অর্জনে চূড়ান্ত অবস্থা নির্ণয় করা যায়।
৩. ফলাবর্তন (Feed back) এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীর জন্য পরবর্তী কার্যক্রম কি হবে তার নিদের্শনা পাওয়া যায়।
8. ভবিষ্যৎ কর্ম পরিকল্পনায় কার্যকরী পদক্ষেপ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে এটি সহায়ক।
৫. একটি নির্দিষ্ট সময়াস্তে শিক্ষার অগ্রগতি সম্পর্কিত বিবরণী এই মূল্যায়নের মাধ্যমে অভিভাবককে প্রদান করা যায়।
৬. শিক্ষার উদ্দেশ্য কতটা অর্জিত হয়েছে, শিক্ষণ পদ্ধতির কার্যকারিতা কতটুকু এবং শিক্ষাক্রমের পর্যালোচনা এই সামষ্টিক মূল্যায়নের মাধ্যমে করা সম্ভব।
সামষ্টিক মূল্যায়নের সীমাবদ্ধতা (Limitations of summative Evaluation)
যদিও সামষ্টিক মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষা কর্মকান্ডের একটা সারসংক্ষেপ পাওয়া যায় তবুও এর অনেক ত্রুটি বিচ্যুতি রয়েছে। এগুলো হল :
১. শিখন- শিক্ষণ কর্ম পরিচালনায় শিক্ষককে অনেক দক্ষ হতে হয়, তা না হলে প্রান্তিক মূল্যায়ন ত্রুটিপূর্ণ হতে পারে।
২. কখনও কখনও প্রান্তিক মূল্যায়নের ফলাফল সন্তোষজনক হয় না শিক্ষার্থী গঠনমূলক মূল্যায়নে ভাল ফল করলেও প্রান্তিক মূল্যায়নে এসে ফলাফল খারাপ করে।
৩. প্রান্তিক মূল্যায়নে গ্রেড বা স্কোর প্রদানে অনেক শিক্ষার্থীর প্রাপ্ত স্কোর আদর্শ মানের (norm) অনেক নিচেও এসে যেতে পারে।
৪. শিক্ষকের অন্তঃদৃষ্টি (insight) হতে হবে প্রখর, তা না হলে তিনি প্রান্তিক মূল্যায়নে পক্ষপাতদৃষ্ট হয়ে পড়বেন। এ সকল অসুবিধা থাকা সত্ত্বেও প্রান্তিক মূল্যায়ন, মূল্যায়ন প্রক্রিয়াকে তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে
.png)
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন