Describe the characteristics of a good test. সুঅভীক্ষার বৈশিষ্ট্যগুলি বর্ণনা কর।
সুঅভীক্ষার বৈশিষ্ট্য (Criteria of Good Test)
শিক্ষামূলক ও মনোবৈজ্ঞানিক পরিমাপের অন্যতম কৌশল হল অভীক্ষা। কোন শিক্ষার্থীর সার্বিক মূল্যয়নের যথার্থতা নির্ভর করে এর পরিমাপ কৌশলের উপর। তাই অভীক্ষাকে মূল্যায়নের কাজে লাগানোর আগে তার পরিমাপ ক্ষমতা বিচার করা আবশ্যক, অন্যথায় তাকে কাজে লাগানো যাবে না।
যে সকল কারণ বা উপাদান কিংবা শর্তের উপর অভীক্ষার পরিমাপ ক্ষমতা নির্ভর করে,তাদের সু-অভীক্ষার বৈশিষ্ট্য বলে।
সু-অভীক্ষার বৈশিষ্ট্যের শ্রেণিবিভাগ
সু- অভীক্ষার বৈশিষ্ট্যকে প্রধানত দু'ভাগে ভাগ করা যায়, যেমন :
১। অভীক্ষার ত্রুটিহীনতাজনিত বৈশিষ্ট্যাবলী (Characteristics related to error) এবং
২। অভীক্ষার ব্যবহারিক দিক সংক্রান্ত বৈশিষ্ট্যাবলী (Characteristics related to usability)
১। অভীক্ষার ত্রুটিহীনতাজনিত বৈশিষ্ট্যাবলী
একটি সু-অভীক্ষার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল তার ত্রুটিহীনতা। কিন্তু সব সময় একটি অভীক্ষা যে ত্রুটিহীন হবে তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। অভীক্ষার মাধ্যমে প্রাপ্ত পরিমাপে সাধারণত চার ধরনের ত্রুটি পরিলক্ষিত হয়। এগুলো হল :
ক) স্থায়ী বা ধ্রুব ত্রুটি (Constant error) যে বৈশিষ্ট্য পরিমাপের জন্য অভীক্ষাটি তৈরি করা হয়েছে, অভীক্ষাটি যদি শুধুমাত্র তা সঠিকভাবে পরিমাপ না করে একই সঙ্গে অন্যান্য বৈশিষ্ট্যও পরিমাপ করে তাহলে পরিমাপে যে ত্রুটি দেখা যায়, তাকে স্থায়ী বা ধ্রুব ত্রুটি বলে। যেমন : গণিতের দক্ষতা পরিমাপের জন্য একটি অভীক্ষা প্রয়োগ করলে তা যদি গাণিতিক জ্ঞানেরসঙ্গে হাতের লেখা বা ভাষার দক্ষতা পরিমাপ করে, তাহলে বুঝতে হবে তাতে স্থায়ী ত্রুটি আছে। এ ত্রুটি দূর করতে পারলে অভীক্ষাটি যে বৈশিষ্ট্য অর্জন করে তা হলো অভীক্ষার যথার্থতা।
খ। অস্থায়ী বা পরিবর্তনশীল ত্রুটি (Variable Error) একই অভীক্ষা যদি একদল শিক্ষার্থীর উপর বার বার প্রয়োগ করা হয় এবং সময়ের পরিবর্তনের দরুন যদি অভীক্ষার ফলাফল প্রায়ই ভিন্ন হয়, তাহলে অভীক্ষার এ ধরনের ত্রুটিকে বলা হয় অস্থায়ী বা পরিবর্তনশীল ত্রুটি। অবশ্য এ ধরনের ত্রুটিকে বলা হয় অস্থায়ী বা পরিবর্তনশীল ত্রুটি। অবশ্য এ ধরনের ত্রুটি অভীক্ষার্থীর শারীরিক বা মানসিক অবস্থা, পারিপার্শ্বিক ভিন্নতা ইত্যাদি কারণে দেখা দিতে পারে।
অভীক্ষার এ ধরনের ত্রুটি দূর করা গেলে তা একটি নতুন বৈশিষ্ট্য অর্জন করে। একে বলা হয়। অভীক্ষার নির্ভরযোগ্যতা (Reliability)।
গ. পর্যবেক্ষণ মূলক ত্রুটি (Observational Error) শিক্ষামূলক ও মনোবৈজ্ঞানিক পরিমাপ, পরীক্ষকের নিজস্ব স্বাতন্ত্র বৈশিষ্ট্য, মতামত দ্বারা প্রভাবিত হয়। পরিমাপের এ জাতীয় ত্রুটিকে বলা হয় পর্যবেক্ষণমূলক ত্রুটি। সুঅভীক্ষার এ ধরনের ত্রুটি না থাকাই বাঞ্ছনীয়। এ ধরনের ত্রুটি থেকে মুক্ত করতে পারলে অভীক্ষাটি একটি নতুন বৈশিষ্ট্য অর্জন করে। একে বলা হয়। নৈব্যক্তিকতা (Objective)।
ঘ. তাৎপর্য নির্ণয় সংক্রান্ত ত্রুটি (Error of Interpretation) শিক্ষামূলক ও মনেবৈজ্ঞানিক পরিমাপের স্কেলে কোন শূন্য বিন্দু নেই। এছাড়া এককগুলো সমদূরত্বে অবস্থিত কিনা সে সম্পর্কে সঠিকভাবে কিছু বলা যায় না। এ কারণে প্রাপ্ত স্কোর বা নম্বরের তাৎপর্য নির্ণয়ে ত্রুটি এবং অসম্পূর্ণতা থাকা স্বাভাবিক। পরীক্ষার্থীর প্রাপ্ত একই স্কোরের মান ভিন্ন ভিন্ন পরীক্ষক ভিন্ন ভিন্ন ভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেন। স্কোরের তাৎপর্য নির্ণয়ের ক্ষেত্রে পরিমাপের এ ধরনের ত্রুটিকে তাৎপর্য নির্ণয় সংক্রান্ত ত্রুটি বলে। এ ধরনের ত্রুটি দূর করার পর অভীক্ষাটি যে বৈশিষ্ট্য অর্জন করে, তাকে আদর্শায়ন (Standardization) বলে।
২. অভীক্ষার ব্যবহারিক দিক সংক্রান্ত বৈশিষ্ট্যাবলী
কোন অভীক্ষা একদল শিক্ষার্থীর উপর প্রয়োগ করার পূর্বে তার ব্যবহারিক অসুবিধাগুলোর কথা বিবেচনা করেই তা নির্বাচন করা উচিত। অভীক্ষার ব্যবহারিক দিক সংক্রান্ত বৈশিষ্ট্যগুলো হলো
ক. প্রয়োগশীলতা (Administrability) কোন অভীক্ষার প্রয়োগ সম্পর্কিত কাজ যদি সহজ, সরল ও ত্রুটিমুক্ত হয় তাহলে বলা চলে যে, অভীক্ষার প্রয়োগশীলতা আছে। অভীক্ষার প্রয়োগশীলতা যাচাইয়ের জন্য নিচের বিষয়গুলো বিবেচনা করতে হয়, যথা :
১। অভীক্ষার কারিগরি সংগঠন (Mechanical make up of the test)
২। অভীক্ষার প্রয়োগ পদ্ধতি (Method of administering the test)
৩। উত্তরপত্রে নম্বর প্রদান পদ্ধতি (Method of scoring the answer scripts)
৪। প্রাপ্ত নম্বরের তাৎপর্য নির্ণয় (Interpreting score)
খ. পরিমিততা (Economy) স্বল্প ব্যয়ে সীমিত সময়ে এবং পরিমিত পরিশ্রমে যদি অভীক্ষা প্রণয়ন, প্রয়োগ, উত্তরপত্র যাচাই এবং প্রাপ্ত নম্বরের তাৎপর্য নির্ণয় করা যায়, তাহলে বলা যায় অভীক্ষাটির পরিমিততা আছে।
গ. সম্পূর্ণতা (Adequacy) কোন অভীক্ষা প্রয়োগ ও স্কোরিং পদ্ধতির মধ্যে যতদূর সম্ভব সঙ্গতি রক্ষা করা, স্কোরগুলোর তাৎপর্য ব্যাখ্যা করা ও তুলনীয়তাকে যদি বিজ্ঞানসম্মত করা যায়, তাহলে বলা চলে অভীক্ষাটির সম্পূর্ণতা রয়েছে।
সুতরাং সুঅভীক্ষাটির বৈশিষ্ট্যের আলোচনার প্রেক্ষিতে একথা বলা চলে যে, অভীক্ষা নির্বাচনের সময় নিচের বৈশিষ্ট্যগুলোর প্রতি লক্ষ্য রাখা উচিত, যথা :
১। অভীক্ষার যথার্থতা (Validity of test)
২। অভীক্ষার নির্ভরযোগ্যতা (Reliability of test)
৩। অভীক্ষার নৈর্ব্যক্তিকতা (Objective of test)
৪। আদর্শায়ন (standardization of test)
৫। অভীক্ষার প্রয়োগশীলতা (Administrability of test)
৬। অভীক্ষার পরিমিততা (Economy of test)
৭। অভীক্ষার সম্পূর্ণতা (Adequacy of test)।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন