মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি কিভাবে নির্বাচিত হয় ? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতির কার্যাবলী ও পদমর্যাদা বর্ণনা করো।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি কিভাবে নির্বাচিত হয় ? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতির কার্যাবলী ও পদমর্যাদা বর্ণনা করো।
(How is the US President elected ? Discuss the functions and position of the American President).
মার্কিন রাষ্ট্রপতির নির্বাচন ও অপসারণ
সংবিধানের ২ নং ধারায় রাষ্ট্রপতির নির্বাচন পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি একটি নির্বাচক সংস্থা কর্তৃক নির্বাচিত হন। প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের নাগরিকগণ কর্তৃক নির্বাচিত প্রতিধিদের নিয়ে এই নির্বাচক সংস্থা গঠিত হয়। এই নির্বাচনে যিনি নির্বাচক সংস্থার সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন লাভ করেন তিনিই রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন বলে অধ্যক্ষ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী কোনো ব্যক্তিই যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারেন, তাহলে অধিক ভোট পেয়েছেন এমন অনধিক ৩ জন প্রার্থীর মধ্য থেকে একজনকে কংগ্রেসের জনপ্রতিনিধি সভা সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন করে।
রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার জন্য প্রার্থীদের কতকগুলি যোগ্যতার অধিকার হতে হয়। যথা- তাদের
ক) অবশ্যই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাভাবিক নাগরিক হতে হয়,
খ) অন্তত ৩৫ বছর বয়স্ক হতে হয়; এবং
গ) অন্তত ১০ বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করতে হয়।
রাষ্ট্রপতির কার্যকালের মেয়াদ ৪ বছর। সংবিধানে তার পুনঃনির্বাচন সম্পর্কে কোনো কথা সুস্পষ্টবাবে বলা হয় নি। কোনো রাষ্ট্রপতি দু-বারের বেশি ওই পদে অধিষ্ঠিত থাকতে পারবেন না ।
কার্যকাল পরিসমাপ্তির পূর্বে রাষ্ট্রপতির মৃত্যু হলে কিংবা তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলে অথবা তাকে পদচ্যুত করা হলে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হয়। ওই সময় উপরাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপতির যাবতীয় কার্য সম্পাদন করেন। দেশদ্রোহিতা, উৎকোচ গ্রহণ কিংবা অন্যান্য গুরুতর দুর্নীতিমূলক কার্যের অভিযোগে রাষ্ট্রপতিকে পদচ্যুত করা যায়। তবে ইম্পিচমেন্ট পদ্ধতির সাহায্যেই কেবলমাত্র তাঁকে পদচ্যুত করা সম্ভব। এই পদ্ধতি অনুসারে কংগ্রেসের জনপ্রতিনিধি কক্ষ রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ আননয়ন করে এবং সেনেটে সেই অভিযোগের বিচার করে। এই বিচারের সময় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সভাপতি হিসেবে কাজ করেন। সেনেটের উপস্থিত সদস্যদের দুই তৃতীয়াংশ অভিযোগ সমর্থন করলে রাষ্ট্রপতিকে পদচ্যুত করা হয়।
ক্ষমতা ও কার্যাবলী
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতির অসীম ক্ষমতা ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে অধ্যাপক স্ট্রং বলেছেন, বর্তমান বিশ্বের নিয়মতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলির মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতির ন্যায় বিরাট ক্ষমতাসম্পন্ন কর্মচারীর সন্ধান অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। মার্কিন রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও কার্যাবলীকে সাতটি ভাগে বিভক্ত করে আলোচনা করা যেতে পারে, যথা —
১) শাসন-সংক্রান্ত ক্ষমতা
২) আইন-সংক্রান্ত ক্ষমতা
৩) বিচার-সংক্রান্ত ক্ষমতা
৪) অর্থ-সংক্রান্ত ক্ষমতা
৫) জরুরি অবস্থা-সংক্রান্ত ক্ষমতা
৬) বিশ্ব রাজনীতির নিয়ামক হিসেবে ভূমিকা এবং
৭) অন্যান্য ক্ষমতা।
(১) শাসনসংক্রান্ত ক্ষমতা
সংবিধানের ২ নং ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির হাতে শাসন-সংক্রান্ত ক্ষমতাবলী অর্পিত হয়েছে। মার্কিন রাষ্ট্রপতির প্রথম দায়িত্ব হল সু-শাসনের প্রতিষ্ঠা করা। মার্কিন রাষ্ট্রপতির শাসন-সংক্রান্ত ক্ষমতাকে নিম্নলিখিত কয়েকটি ভাগে বিভক্ত করা যায়:
(ক) আইন প্রয়োগ যুক্তরাষ্ট্রীয় সংবিধান, কংগ্রেস প্রণীত আইন, যুক্তরাষ্ট্রীয় আদালতের রায়, অন্য রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত সন্ধি, চুক্তি ইত্যাদি যথাযথভাবে কার্যকর করা হচ্ছে কিনা তা লক্ষ রাখার দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির। এই উদ্দেশ্যে তিনি বিভিন্ন বিভাগের প্রধান এবং অন্যান্য কর্মচারীদের নির্দেশ প্রদান করতে পারেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানকে রক্ষা করার পবিত্র দায়িত্বও রাষ্ট্রপতির হাতে প্রদান করা হয়েছে। নাগরিকদের অধিকারসমূহ সংরক্ষণ, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা, বিদ্রোহ দমন ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ কাজ তাকেই সম্পাদন করতে হয়। দেশের কোনো অংশে আইনভঙ্গের কোনো ঘটনা ঘটলে তিনি সৈন্যবাহিনী মোতায়েন করে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও আইন বলবৎ করার ব্যবস্থা করতে পারেন।
খ) নিয়োগ-সংক্রান্ত ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির নিয়োগ-সংক্রান্ত বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। সংবিধানে একথা বলা হয়েছে যে, তিনি সেনেটের পরামর্শ ও অভিমত অনুযায়ী রাষ্ট্রদূত ও অন্যান্য মন্ত্রী ও বাণিজ্য দূত, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ও যুক্তরাষ্ট্রের সব কর্মচারীর নাম প্রস্তাব করতে এবং তাঁদের নিয়োগ করতে পারেন। উচ্চপদস্থ কর্মচারী নিয়োগের সময় রাষ্ট্রপতিকে সেনেটের সম্মতি গ্রহণ করতে হয়। তবে রাষ্ট্রপতি যাদের নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন সেনেট সাধারণত তা মেনে নেয়। এই প্রথা সেনেটরীয় সৌজন্যবিধি নামে পরিচিত।
গ) সামরিক ক্ষমতা সংবিধানে রাষ্ট্রপতিকে যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্যবাহিনী, নৌ-বাহিনী ও স্বদেশরক্ষী বাহিনীর সর্বপ্রধান সেনাপতি বলে বর্ণনা করা হয়েছে। তিনি সেনেটের অনুমোদনক্রমে সৈন্যবাহিনী ও নৌ-বাহিনীর অফিসারদের নিয়োগ করতে পারেন এবং যুদ্ধের সময় প্রয়োজন মনে করলে তাঁদের পদচ্যুত করতে পারেন। তাছাড়া তত্ত্বগতভাবে কেবলমাত্র কংগ্রেস যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারলেও বাস্তবে রাষ্ট্রপতি অনেক সময় এমনভাবে পররাষ্ট্রনীতি নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করেন যে, কংগ্রেসের পক্ষে যুদ্ধ ঘোষণা করা ছাড়া কোনো উপায় তাকে না ।
ঘ) বৈদেশিক ক্ষমতা রাষ্ট্রপতি পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণে চুড়ান্ত ক্ষমতার অধিকারী। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি বৈদেশিক রাষ্ট্রগুলিকে দূত, কনসাল প্রভৃতি কুটনৈতিক প্রতিনিধিদের নিয়োগ করেন এবং অন্যান্য রাষ্ট্রে কূটনৈতিক প্রতিনিধিগণ তার নিকটেই প্রেরিত হন। তিনি যে কোন রাষ্ট্রের সঙ্গে সন্ধি, চুক্তি ইত্যাদি সম্পাদন করতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে সেনেটের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সম্মতি প্রয়োজন।
(২) আইন সংক্রান্ত ক্ষমতা : যেমন
ক) বাণী প্রেরণ ও আদেশ জারি রাষ্ট্রপতি সাধারণভাবে কংগ্রেসের অধিবেশন আহ্বান করতে না পারলেও জুররি ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহনের জন্য বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করতে পারেন, এবং কংগ্রেসে বাণী প্রেরণ করতে পারেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি অর্ডিন্যান্স বা শাসনবিভাগীয় আদেশও জারি করতে পারেন।
খ) ভেটো প্রয়োগ রাষ্ট্রপতি আইন প্রণয়নের জন্য কোনো বিল প্রত্যক্ষভাবে উত্থাপন করতে না পারলেও কংগ্রেস কর্তৃক গৃহীত সংবিধান সংশোধনী বিল ছাড়া অন্যান্য প্রতিটি বিল তার অনুমোদনের জন্য প্রেরিত হয়। কোনো বিলে তিনি সম্মতি দিতে অস্বীকার করলে সংশ্লিষ্ট বিলটি আইনে রূপান্তরিত হতে পারে না। কংগ্রেস কর্তৃক গৃহীত হওয়ার পর কোনো বিল রাষ্ট্রপতির নিকট প্রেরিত হলে তিনি সংশ্লিষ্ট বিল সম্পর্কে তিন প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন।
(ক) প্রথমত, তিনি বিলে স্বাক্ষর প্রদান করতে পারেন। এর ফলে বিলটি আইনে পরিণত হয়।
(খ) দ্বিতীয়ত, তিনি কোনো বিলে সম্মতি জানাতে অস্বীকার করতে পারেন অর্থাৎ ভেটো প্রয়োগ করতে পারেন। এরূপ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতিকে ১০ দিনের মধ্যে যে কক্ষ থেকে বিলটি প্রেরণ করা হয়েছিল, সেই কক্ষে তাঁর আপত্তিসহ তা ফেরত পাঠাতে হয়, কিন্তু সংশ্লিষ্ট বিলটি যদি পুনরায় দুই তৃতীয়াংশের সংখ্যাগরিষ্ঠতায় কংগ্রেস কর্তৃক গৃহীত হয়, তাহলে তা রাষ্ট্রপতির সম্মতি ছাড়াই আইনে পরিণত হয়।
(গ) তৃতীয়ত, রাষ্ট্রপতি কোনো বিলে স্বাক্ষর না করে সেটিকে আটক রাখতে পারেন। এরূপ বিল প্রেরমের ১০ দিনের মধ্যে যদি কংগ্রেসের অধিবেশনের পরিসমাপ্তি ঘটে, তাহালে সংশ্লিষ্ট বিলটির স্বাভাবিক অপমৃত্যু ঘটে। এইভাবে বিল নাকচের ব্যবস্থাকে পকেট ভেটো বলা হয়।
গ) চাকরি বিতরণ চাকরি এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বিতরণের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি কংগ্রেসের অনেক সদস্যকে নিজের কুক্ষিগত করতে পারেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চাকুরি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বন্টনের ক্ষেত্রে স্পয়েল সিস্টেম বা ভাগবাটোয়ারা পদ্ধতির প্রচলন আছে। এই পদ্ধতি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির নির্বাচন পর্ব শেষ হওয়ার পর বিদায়ী রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত পদস্থ সরকারী কর্মচারীদের বরখাস্ত করে নব-নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি নিজের মনমতো ব্যক্তিদের ওইসব পদে নিয়োগ করেন।
(৩) বিচার-সংক্রান্ত ক্ষমতা
যুক্তরাজ্যের রাজা বা রাণীর মতো মার্কিন রাষ্ট্রপতির কিছু কিছু বিচার-সংক্রান্ত ক্ষমতা রয়েছে। যেমন :
প্রথমত, রাষ্ট্রপতি সেনেটের পরামর্শ ও অনুমোদনক্রমে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের নিয়োগ করেন। তবে তাঁদের পদচ্যুত করার কোনো ক্ষমতা তাঁর নেই।
দ্বিতীয়ত, সংবিধানে ২নং ধারাতে রাষ্ট্রপতির হাতে বিশেষ ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। এই ক্ষমতা অনুসারে তিনি দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত ব্যক্তির শাস্তির পরিমাণ হ্রাস করতে অথবা তাকে শাস্তির হাত থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি দিতে পারেন।
তৃতীয়ত, কোনো বিশেষ অপরাধের সঙ্গে জড়িত অপরাধীকে ক্ষমা প্রদর্শনের অধিকার রাষ্ট্রপতির রয়েছে।
(৪) অর্থ সংক্রান্ত ক্ষমতা
রাষ্ট্রপতির অর্থ-সংক্রান্ত ক্ষমতা বিশেষ উল্লেখযোগ্য।
প্রথমত, ১৯২১ সালে প্রণীত বাজেট ও হিসাবরক্ষা আইন অনুসারে রাষ্ট্রপতি সরকারী ব্যয় নির্বাহের জন্য কংগ্রেসের নিকট প্রয়োজনীয় অর্থ দাবি করতে পারেন।
দ্বিতীয়ত, তাঁকে সারা বছরের জন্য আনুমানিক আয়-ব্যায়ের হিসাব কংগ্রেসের সামনে পেশ করতে হয়।
তৃতীয়ত, রাষ্ট্রপতি পরিপূরক ব্যয়-বরাদ্দের দাবিও কংগ্রেসের নিকট উত্থাপন করতে পারেন।
(৫) জরুরি অবস্থা-সংক্রান্ত ক্ষমতা
উদায়নৈতিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলিতে আপৎকালীন বা জরুরি অবস্থায় প্রকৃত শাসকের ক্ষমতা ও মর্যাদা যথেষ্ট পরিমাণে বৃদ্ধি পায়। গৃহযুদ্ধ, অপর রাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ, বিশ্বযুদ্ধ, অর্থনৈতিক সঙ্কট প্রভৃতির মতো জরুরি অবস্থায় রাষ্ট্রপতি জাতীয় অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নানাপ্রকার বাধা-নিষেধ আরোপ করতে পারেন।
(৬) বিশ্ব-রাজনীতির নিয়ামক হিসেবে ভূমিকা
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পূর্ব পর্যন্ত মুনরো নীতি অনুসরণ করার ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব-রাজনীতির অঙ্গন থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখেছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর বিশ্বে অন্যতম বৃহৎশক্তি হিসেবে আবিভূত হওয়ার পর বিশ্ব-রাজনীতিকে আপন নিয়ন্ত্রণাধীনে আনার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তৎপর হয়ে ওঠে। ফলে বিশ্ব-রাজনীতির নিয়ামক হিসেবে রাষ্ট্রপতি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে শুরু করেন।
(৭) অন্যান্য ক্ষমতা :
যুক্তরাজ্যের রাজা বা রাণী নিয়মতান্ত্রিক রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে যে ভূমিকা পালন করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতিকেও অনুরূপ ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হয়। তিনি যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রধান। রাষ্ট্রের প্রতীক হিসেবে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থান থেকে আগত বিশিষ্ট। অভ্যাগতদের অভিবাদন জানান। রাষ্ট্রদূত এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের ভোজসভায় আপ্যায়িত করেন। জাতির পক্ষ থেকে খ্রিস্টমাস উৎসবের আলোকবৃক্ষ প্রজ্জ্বলিত করেন। রাণী যেমন ব্রিটিশ জনতার একক প্রতিরূপ তেমনি মার্কিনী মানুষের একক প্রতিরূপ হলেন রাষ্ট্রপতি। তিনিই হলেন জনমতের মূল প্রণেতা এবং ব্যাখ্যাকর্তা।
পদমর্যাদা
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতির ব্যাপক ক্ষমতা ও কার্যাবলী প্রত্যক্ষ করে অনেকে তাঁকে একনায়ক বলে বর্ণনা করেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান তাঁর ক্ষমতার গণ্ডিকে এমনভাবে আবদ্ধ করে রেখেছে, যাতে তিনি কখনই হিটলার বা মুসোলিনির মতো একনায়ক হয়ে উঠতে না পারেন। ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির প্রবর্তন, নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য ব্যবস্থার প্রতিষ্ঠা, রাষ্ট্রপতির স্বল্পকালীন কার্যকালের মেয়াদ। প্রভৃতি সাংবিধানিক ব্যবস্থা রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাকে নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে আবদ্ধ রেখেছে। এছাড়া, কংগ্রেস ইচ্ছা করলে রাষ্ট্রপতিকে নানাভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিচারবিভাগও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে পারে। বিচারবিভাগ কর্তৃক নির্ধারিত বিধিনিষেধ মেনে চলতে রাষ্ট্রপতি সব সময়েই বাধ্য। সর্বোপরি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সদাজাগ্রত জনমত রাষ্ট্রপতির স্বৈরাচারী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সর্বশ্রেষ্ঠ রক্ষাকবচ। প্রকৃতপক্ষে জনপ্রিয়তাই রাষ্ট্রপতির রাজনৈতিক সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি। পরিশেষে পদাধিকারীর ব্যক্তিত্ব ও দক্ষতার ওপর রাষ্ট্রপতি পদের পদমর্যাদা অনেকাংশে নির্ভরশীল।
.png)
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন