আদর্শায়িত অভীক্ষা বলতে কী বোঝ। আদর্শায়িত অভীক্ষার বৈশিষ্ট্যগুলি কী কী। অভীক্ষার আদর্শায়নের পদ্ধতিগুলি সম্পর্কে আলোচনা কর।
What do you mean by standardized test. What are the characteristics of standardized test. Discuss the method of standerdized test. আদর্শায়িত অভীক্ষা বলতে কী বোঝ। আদর্শায়িত অভীক্ষার বৈশিষ্ট্যগুলি কী কী। অভীক্ষার আদর্শায়নের পদ্ধতিগুলি সম্পর্কে আলোচনা কর।
আদর্শায়িত অভীক্ষা (Standradized Test)
কোন অভীক্ষা এক বা একাধিক বড় প্রতিনিধিমূলক শিক্ষার্থীদের উপর একই বা বিভিন্ন সময়ে বা বিভিন্ন উপায় প্রয়োগ করে যদি তাকে যথার্থ, নির্ভরযোগ্য, তুলনীয় ও ব্যবহার উপযোগী করে তোলা হয় এবং অভীক্ষাটিকে বারবার প্রয়োগের পর যদি তার প্রতিনিধিত্বমূলক আদর্শমান বা নর্ম (Norm) স্থির করা হয়, তবে তাকে আদর্শায়িত অভীক্ষা বলে।
এই ধরনের অভীক্ষা সব দিক থেকে নিয়ন্ত্রিত এর পদসংখ্যা, প্রয়োগ, পদ্ধতি, গঠন প্রকলতি, তাৎপর্য নির্ণয় পদ্ধতি ইত্যাদি সব কিছুই নিয়ন্ত্রিত।
মনোবিদ স্টোরে (Storey) এর মতে, “আদর্শায়িত অভীক্ষা হল ব্যাপকভাবে তৈরি ও পদ বিশ্লেষিত এমন এক অভীক্ষা যার জন্য পর্যাপ্ত আদর্শমান ও ব্যবহারের ম্যানুয়েল প্রদান করা হয় “ Stan- dardized test is any rigorously prepared and item analyzed test for which adequate norms and an adequate manual have been provided").
মনোবিজ্ঞানী গ্রোনল্যান্ড (Gronland) এর মতে, “ যে অভীক্ষার নির্দিষ্ট সংখ্যক পদ রয়েছে, পরিচালন ও নম্বর প্রদানের জন্য সুস্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে এবং আদর্শমান প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিনিধিত্বমূলক দলের মধ্যে প্রয়োগ করা হয়েছে তাকে আদর্শায়িত অভীক্ষা বলে”। (A standardized test is one which has fixed set of test items. specific direction for administration and scoring and has been given to representative groups of individuals for the purpose of establishing norms".)
আদর্শায়িত অভীক্ষার বৈশিষ্ট্য
১. আদর্শায়িত অভীক্ষার পদ নির্বাচনে বিশেষ নীতি অনুসরণ করা হয়। অভীক্ষাপদের কাঠিন্যমান, পৃথকীকরণ মান ইত্যাদির প্রতি লক্ষ্য রেখে অভীক্ষাপদ নির্বাচন করা হয়।
২. সুস্পস্ট নীতির মাধ্যমে অভীক্ষা প্রয়োগের পদ্ধতি ও স্কোর নির্ণয় পদ্ধতি নির্বাচন করা হয়।
৩. প্রাপ্ত স্কোরের তাৎপর্য নির্ণয় করার জন্য আদর্শায়িত অভীক্ষার আদর্শমান (norms) নির্ধারণ করা হয়।
৪. আদর্শায়িত অভীক্ষার ফলাফল তুলনামূলকভাবে বিচার করার জন্য সমান্তরাল অভীক্ষার ব্যবহার করা হয়।
৫. আদর্শায়িত অভীক্ষার প্রয়োগরীতি সম্পর্কিত নির্দেশ পত্র থাকে।
অভীক্ষার আদর্শায়নের পদ্ধতি
একটি অভীক্ষার আদর্শায়নের জন্য কতগুলো ধাপ বা পর্যায়ের মাধ্যমে অগ্রসর হতে হয়। এগুলো হলো
১. প্রাথমিক ধারণা গঠন (Formative of Primary Concept)
যে বিশেষ শিক্ষাগত ও মানসিক বৈশিষ্ট্য পরিমাপের জন্য অভীক্ষাটি তৈরি করতে হবে সে সম্বন্ধে একটি প্রাথমিক ধারণা গ্রহণ করতে হবে। একটি নির্দিষ্ট শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বয়সের ভিত্তিতে ঠিক করতে হবে, অভীক্ষাটির জ্ঞানমূলক যাচাই কোন পর্যায়ের হবে। এ প্রচেষ্টা অবশ্যই উদ্দেশ্যমুখী হতে হবে।
২. পদ প্রস্তুতকরণ (Preparation of Items)
শিক্ষার্থীর মানসিক পরিপক্কতার ওপর ভিত্তি করে যে প্রাথমিক ধারণা গঠন করা হয়, তার ভিত্তিতেই পদ প্রস্তুত করতে হবে। পদগুলো রচনার সময় তার রচনাশৈলী ও উৎকর্ষ মানের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করতে হবে। অভীক্ষা পদের উত্তর যেন হয় সুষ্পষ্ট, সুনির্দিষ্ট ও সীমাবদ্ধ। নির্ভুল উত্তর নির্ণয়ে যেন অভীক্ষা প্রণয়নকারী প্রভাবিত না হন। নির্বাচিত পদগুলো হবে নৈর্ব্যক্তিক ও সুস্পষ্ট। পদ প্রস্তুতকরণের সময় সংগৃহীত প্রশ্নের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি হতে হবে। অভীক্ষা পদ প্রস্তুতের সময় শিক্ষার্থীর মানসিক ক্ষমতা, অভিজ্ঞতা ও প্রদত্ত সময় ইত্যাদির প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে।
৩. কার্যকারিতা বিচার (Try out)
অভীক্ষা পদ প্রস্তুতকরণের সময় যতই সাবধানতা অবলম্বন করা হোক না কেন তার মধ্যে ত্রুটি থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এতে অভীক্ষার যথার্থতা ও নির্ভরযোগ্যতা হ্রাস পেতে পারে। তাই অভীক্ষার আদর্শায়নের একটি ধাপ হল - তার কার্যকারিতা বিচার করা। এ পর্যায়ে নমুনা দলের উপর প্রয়োগ করে দেখতে হবে, অভীক্ষার পদগুলোর উত্তর প্রদানে তার স্বাচ্ছন্দবোধ করছে কি না।
৪. পদ বিশ্লেষণ (Item Analysis)
অভীক্ষা পদের কার্যকারিতা বিচারের পর প্রত্যেকটি অভীক্ষা পদের কাঠিন্য মান (Difficulty Value), পার্থক্য নির্ণায়ক মান (Discriminating Value) অভ্যন্তরীণ সংগঠন ঠিক আছে কিনা তা নির্ণয়ের জন্য যে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় তাকে পদ বিশ্লেষর বলে। পদ বিশ্লেষণের জন্যে বিভিন্ন উন্নত গাণিতিক পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়।
৫. নির্ভরযোগ্যতা ও যথার্থতার মান নির্ণয় (Determination of Reliability and Validity)
কোন অভীক্ষার আদর্শায়নের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হল তার যথার্থতা ও নির্ভরযোগ্যতার মান নির্ণয়। অভীক্ষার যথার্থতার সহগাঙ্ক (Validity coefficient) ও নির্ভরযোগ্যতার সহগাঙ্ক (Reliability co-efficient) নির্ণয়ের মাধ্যমে প্রাপ্ত স্কোরের তাৎপর্য নির্ণয় করা যায়।
৬. আদর্শমান নির্ণয় (Fixing Norm)
অভীক্ষার আদর্শায়নের জন্য এমন একটি আদর্শমান (Norm) নির্ণয় করতে হবে যেন তা সকলের কাছে সমান গ্রহণযোগ্য হয় ও সমান তাৎপর্য বহন করে। এই আদর্শমান নির্ণয়ের জন্যে পুনঃপ্রয়োগের ফলে প্রাপ্ত স্কোর বন্টনকে কাজে লাগাতে হবে। প্রয়োজনবোধে একাধিক আদর্শমান নির্ণয় করা যেতে পারে।
নিচে প্রবাহ চিত্রের মাধ্যমে অভীক্ষার আদর্শায়নের বিভিন্ন ধাপগুলো দেখান হলো

অভীক্ষার আদর্শায়নের বিভিন্ন ধাপ।
অভীক্ষার আদর্শায়নের বিভিন্ন ধাপ বা পর্যায়গুলি পর্যালোচনা করলে বোঝা যায় অভীক্ষার আদর্শায়ন সত্যিই একটি জটিল কাজ। এ জটিল কাজকে সঠিক ও নির্ভুলভাবে বাস্তবায়িত করার জন্য উপরে উল্লিখিত পদক্ষেপ ছাড়াও আরও অনেকধাপ বা পর্যায়ের মাধ্যমে অগ্রসর হতে হয়। শ্রেণিকক্ষে ব্যবহৃত অভীক্ষাপদগুলো ব্যবহার করার জন্য এতসব জটিল পদ্ধতি অনুসরণ করা হয় না। স্পেসিফিকেশন টেবিলের মাধ্যমে অভীক্ষার যথার্থতা বজায় রেখে, শ্রেণিকক্ষে ব্যবহার উপযোগী অভীক্ষা শিক্ষকগণ তৈরি করতে পারেন।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন