তৃণভূমির সংরক্ষণ ও পরিচালন ( Conservation and Management of grasslands )
পৃথিবীর যে সব অঞ্চলে বাৎসরিক বৃষ্টিপাত ১০ থেকে ৩০ ইঞ্চি সেসব অঞ্চলের মধ্যেই তৃণভূমি অঞ্চল সীমাবদ্ধ । যুক্তরাষ্ট্রের প্রেইরী , আর্জেটিনা , অস্ট্রেলিয়া ও রাশিয়ার দক্ষিণাংশ তৃণভূমি বিখ্যাত । এছাড়া ইউরোপ এবং এশিয়াতেও কিছু তৃণভূমি আছে যা শুকনো ও তৃণবৃত তাকে স্টেপ বলে । দক্ষিণ আমেরিকার তৃণভূমি দীর্ঘঘাস এর জন্য বিখ্যাত । এই অঞ্চলের মাটি কালো , জৈবপদার্থপূর্ণ এই জন্য উর্বর । বলা বাহুল্য , বিহার , মধ্যপ্রদেশ , উত্তরপ্রদেশ এবং রাজস্থানের পার্বত্য এবং মালভূমি অধ্যুষিত এলাকায় এ ধরনের তৃণভূমি বিস্তর ছড়িয়ে রয়েছে ।
বস্তুত , বৈচিত্র্যের দিক থেকে তৃণজাতীয় উদ্ভিদের তুলনা হয় না । এক সময় তৃণপরিবারভুক্ত উদ্ভিদের বলা হত গ্রামিনেয়ি । এখন বলা হয় পোয়াসিয়ে । এদের প্রায় ১০,০০০ প্রজাতি রয়েছে । কোন কোন প্রজাতি বছরে বিশেষ একসময় জন্মায় । অনেকে সারা বছর । কোথাও দেখা যায় বিস্তৃত এলাকা জুড়ে একই প্রজাতির তৃণ । আবার কোথাও একাধিক প্রজাতি পাশাপাশি বাস করে । কোথাও দুর্বার মত , কোথা লতান গাছ , আবার কোথাও লম্বা বাঁশ গাছের মত । তাদের অসাধারণ অভিযোজন ক্ষমতা ।
মানুষ ঘরের চাল ছাইতে , পশুখাদ্য হিসাবে , জমির সার , গৃহস্থালীর জ্বালানী হিসাবে ব্যবহার করে । গোচারণ এবং চাষের জমি তৈরি করায় অনেক তৃণভূমি আজ ধ্বংসের পথে । তাছাড়া শিল্প , কারখানা তৈরি করার ফলে তৃণভূমি নষ্ট হচ্ছে । এই জন্য তৃণভূমিকেও সংরক্ষণ করা প্রয়োজন ।
তৃণভূমি সংরক্ষণের উপায়
নিম্নলিখিত উপায়ে তৃণভূমি সংরক্ষণ করা যায় -
১। প্রথমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের তৃণভূমি চিহ্নিত করে , তাদের সম্পর্কে সমীক্ষা করা ।
২। তৃণভূমি সংরক্ষণের জন্য উপযুক্ত প্রহরার ব্যবস্থা করা ।
৩। রোগের আক্রমণে যাতে নষ্ট না হয় তার ব্যবস্থা করা ।
৪। সেচ , সার এবং অবক্ষয় রোধের ব্যবস্থা করে তৃণের উৎপাদন বৃদ্ধি করা ।
৫। অভিযোজনের মাধ্যমে যে সব প্রজাতির তৃণ ভৌগোলিক অঞ্চল বিশেষে ছড়িয়ে রয়েছে তাদের শারীরবৃত্ত ; প্রজনন ক্ষমতা প্রভৃতির উপর আরো গবেষণা এই সব তৃণের উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করবে ।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন