সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

বৈশিষ্ট্যযুক্ত পোস্ট

ত্রিপুরা রাজ্য কিভাবে স্বাধীন ভারতের সাথে যুক্ত হয় ?

 How did Tripura Join as a State of Independent India? ত্রিপুরা রাজ্য কিভাবে স্বাধীন ভারতের সাথে যুক্ত হয় ? ভূমিকা ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ১৭ মে ত্রিপুরার মহারাজা বীর বিক্রম কিশোর মানিক্য বাহাদুর ৩৯ বছর বয়সে পরলোক গমন করলে তার পুত্র কিরীট বিক্রম কিশোর দেববর্মন মানিক্য বাহাদুর ত্রিপুরা রাজ্য ও চাকলা রোশনাবাদের জমিদারি উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত হন। তিনি নাবালক থাকায় ভারত সরকারের পরামর্শ অনুযায়ি রাজমাতা মহারাণি কাঞ্চনপ্রভা দেবীর নেতৃত্বে রাজপ্রতিনিধি শাসন পরিষদ বা কাউন্সিল অব রিজেন্সি গঠিত হয়। মহারাণি কাঞ্চনপ্রভা দেবী এই পরিষদের প্রেসিডেন্ট এবং রাজকুমার ব্রজেন্দ্র কিশোর দেববর্মন বাহাদুর ভাইস প্রেসিডেন্ট নিযুক্ত হন। মেজর বঙ্কিম বিহারী দেববর্মন ও মন্ত্রী রাজরত্ন সত্যব্রত মুখার্জি এই পরিষদের সদস্য নিযুক্ত হন। (২) পাকিস্তানের ত্রিপুরা আক্রমনের ষড়যন্ত্র ভারত স্বাধীনতা লাভের অল্পদিনের পরেই ত্রিপুরা রাজ্য এক গভীর সঙ্কটের সম্মুখীন হয়। ত্রিপুরা সীমান্তস্থিত কুমিল্লার মুসলিম ন্যাশনাল গার্ডের উদ্যোগে ও আগরতলার কতিপয় ব্যক্তির সহযোগিতায় পাকিস্তান ত্রিপুরা আক্রমনের পরিকল্পনা করে। ত্রিপুরার রা...

জল সংরক্ষণ ও পরিচালনের প্রয়োজনীয়তা, জল সংরক্ষণে জলবিভাজিকা উন্নয়ন প্রকল্প

জল সংরক্ষণ ও পরিচালনের প্রয়োজনীয়তা

 ( Need for conservation and Management of Water )

 জল হল আমাদের সবচেয়ে মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ । এটি শুধু জীবনদায়ী ও স্বাস্থ্যকর পানীয়ই নয় , কৃষি , শিল্প ও দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয় । বিজ্ঞানীরা কোন গ্রহ বা উপগ্রহে প্রাণের সন্ধান করতে প্রথমে জলের খোঁজ করেন । জল থেকে জীবনের উৎপত্তি । এখনও মানুষের দেহ ওজনের প্রায় ৭০ ভাগ জল রয়েছে । পৃথিবীর তিন চতুর্থাংশ হচ্ছে জল । জলের অভাব ও প্রাচুর্য্যই বিভিন্ন অঞ্চলের সংস্কৃতি ও সভ্যতা নিজের মত করে রূপ পেয়েছে ।

 পৃথিবীর সিক্ততম দেশগুলির মধ্যে আমাদের ভারতবর্ষ একটি । জল সম্পদে প্রকৃতির আশীর্বাদ হলেও ভারতবর্ষ সে জল ধরে রাখতে পারে না 

জল সংরক্ষণ ও পরিচালনের প্রয়োজনীয়তা

 বাস্তবিক পক্ষে পৃথিবীর মোট জলের পরিমাণ ১৪০ কোটি ঘনমিটার , তার মধ্যে মানুষ ব্যবহার করে ৩০০০ ঘন কিলোমিটার । বাকিটা ব্যবহার অনুপযোগী বা নোনা জল । আমাদের জীবমন্ডলে মোট জলের শতকরা ৯৭ ভাগ রয়েছে সমুদ্রে এবং ২ ভাগ রয়েছে বরফ আকারে , দুই মেরুপ্রান্তে , কেবলমাত্র ১ ভাগ রয়েছে নদী , নালা , ঝরণা প্রভৃতিতে । দেখা যায় মানুষের ব্যবহৃত জলের উৎস দুটি । ভূস্তরের উপরিতলের জল এবং ভূগর্ভস্থ জল । বিশেষজ্ঞদের ধারণা যে , জলের স্তর ক্রমশ নেমে যাচ্ছে , আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই পানীয় জলের সঙ্কট আরো তীব্র হবে । আজ যেমন বিশ্বে তেলের জন্য লড়াই কয়েক বৎসর পর হয়ত জলের জন্যই সেই লড়াই , বাস্তব পরিস্থিতি সেই দিকেই মোড় নিচ্ছে । জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে জলের যে চাহিদা বাড়ছে মনে হয় এই জলসঙ্কট আগামী ২০ বৎসরের মধ্যেই তীব্র আকার ধারণ করবে ।

 আমাদের প্রত্যেকের বাঁচার স্বার্থে জল সংরক্ষণের সুষ্ঠু সদ্ব্যবহারের ব্যাপারে সকলকে যত্নবান হতে হবে । এজন্য প্রয়োজন আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির আশ্রয় নেওয়া এবং জল সংরক্ষণে নতুন নীতি গ্রহণ করা । তাছাড়া জলের অপচয় রোধ করা , বৃষ্টির জল ধরে রাখা , ভূগর্ভস্থ জলস্তরের স্বাভাবিক মাত্রা বজায় রাখার ব্যবস্থা করা এবং জলবিভাজিকা প্রকল্প গ্রহণ করা ।

 জল সংরক্ষণে জলবিভাজিকা উন্নয়ন প্রকল্প

 ভূ - পৃষ্টের উপর সঙ্কীর্ণ ও দীর্ঘায়িত উচুভূমি যার উপর পতিত বৃষ্টির জল দুই দিকে ভাগ হয়ে যায় এবং নিকাশী ধারায় নীচু অঞ্চলের দিকে গড়িয়ে পরে তাকে ওয়াটার শেড বা জলবিভাজিকা রেখা বলে ।

 ক্ষুদ্র জলবিভাজিকাকে ভিত্তি করে ভূমি , জল , বনসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদের সংরক্ষণ ও যথাযথ ব্যবহার এবং অন্যান্য কর্মসূচীকে যুক্ত করে সার্বিক জল বিভাজিকা প্রকল্প উন্নয়ন করাই এই কর্মসূচীর উদ্দেশ্য । তাছাড়া জলবিভাজিকার মাধ্যমে মানুষের জীবনের গুণগত মান বাড়ানো এবং পরিবেশের উন্নতিসাধন করাও এই কর্মসূচীর মূল লক্ষ্য ।

 জলবিভাজিকার শ্রেণী বিভাগ ( Classification of Watershed )

 ভূ - খন্ডের ক্ষেত্রফলের উপর নির্ভর করে জলবিভাজিকাকে প্রধানত চারভাগে ভাগ করা হয় । যথা- ১ ) জলবিভাজিকা ( WaterShed ) : 800০ থেকে ৪০,০০০ হেক্টর অঞ্চল । ২ ) মধ্যম জলবিভাজিকা ( Sub - WaterShed ) : ২০০০-৪০০০ হেক্টর অঞ্চল । ৩ ) ক্ষুদ্র জলবিভাজিকা ( Mini Water Shed ) : ৪০০-২০০০ হেক্টর পর্যন্ত এবং ৪ ) অতিক্ষুদ্র জলবিভাজিকা ( Micro Water Shed ) : ১ থেকে ৪০০ হেক্টর পর্যন্ত অঞ্চলকে বলে ।

  জলবিভাজিকা ভিত্তিক উন্নয়নের উদ্দেশ্য

 আমাদের দেশের অনেক রাজ্যেই বৃষ্টিপাতের অনিশ্চয়তা , অনুপযোগী আবহাওয়া , বৃষ্টি নির্ভর কৃষিতে খাদ্য শস্য উৎপাদনে ব্যাপক তারতম্য ঘটায় । এই প্রকল্প এই সমস্যাগুলি দূর করে শস্য উৎপাদনে স্থিতাবস্থা আনতে সাহায্য করে । তৈলবীজ , ডালজাতীয় শস্য সমেত অন্যান্য উপযোগী ফসলের উৎপাদন বাড়ানো , দেশেব ভূমি ও জলসম্পদসহ সবুজ আস্তরণকে সংরক্ষণ করা । বর্ষার জলকে ধরে রেখে বন্যা প্রতিরোধ করা , একই সঙ্গে গ্রীষ্মকালে এই জল ব্যবহার করে অধিক ফসল উৎপাদন করা সম্ভব । সুতরাং কৃষি উন্নয়ন , খরা ও বন্যা মোকাবিলা , কর্মসংস্থানের সুযোগসহ সেচপ্লাবিত এলাকার সাথে বৃষ্টি নির্ভর এলাকার কৃষকদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি সাধন করাই এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য । রাজ্যস্তরে জলবিভাজিক কর্মসূচী প্রণয়নে কর্নাটক প্রথম স্থান দখল করে আছে ।

 জলবিভাজিকা প্রকল্পের মাধ্যমে জল সংরক্ষণের বিভিন্ন উপায় বা কৌশল :

জলবিভাজিকা প্রকল্পের মাধ্যমে জল সংরক্ষণের বিভিন্ন উপায় বা কৌশল

 ১ ) সাধারণত ৫-১৫ ইঞ্চি একর প্রতি কম জলের প্রয়োজন এমন ফসলগুলি হল , যেমন— গম , বাদাম , সরিষে , ডালশয্য চাষ করলে ফলন ভাল হয় এবং জল কম লাগে ।

 ২ ) জল বিভাজিকার দ্বারা ভূ - গর্ভস্থ জলের ব্যবহার কমিয়ে ভূ - পৃষ্ঠের জল ব্যবহার বাড়ানো যায় ।

 ৩ ) জল বিভাজিকার মাধ্যমে বৃষ্টির জলকে ধরে রেখে জলসংরক্ষণ প্রযুক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন জলাধারে সঞ্চিত করে সেচের কাজে ব্যবহার করলে মাটি লবণাক্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে ।

 ৪ ) ভূ - পৃষ্ঠের জমিতে আল দিয়ে রাখলে অনেকটা জল আটকে রাখা যায় এবং মাটির নীচে ভূ - গর্ভস্থ জলের পরিমাণও বৃদ্ধি পায় ।

 ৫ ) জলবিভাজিকার মাধ্যমে মাটির জলধারণ ক্ষমতা বাড়ে , ভূমিক্ষয় রোধ হয় এবং জল সংরক্ষণও করা যায় ।

 অন্যান্য প্রকল্প থেকে জলবিভাজিকা প্রকল্পের তফাৎ এই যে— এই প্রকল্পে কৃষি , বন , পশুপালন , মৎস্য , রেশম , তাঁত , কুটিরশিল্প ও অন্যান্য বিভাগগুলি একত্রে বৃষ্টি জল সংরক্ষণ মিলেমিশে কাজ করতে পারে । পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে ব্যয়বহুল প্রযুক্তিগত বিস্তার প্রয়োগের চেয়ে সারা বিশ্বে এই কম খরচের ব্যবস্থা অনেক বেশী উপযুক্ত এবং কার্যকরী ।

 সুসংহত জল ব্যবহার পরিচালনা ( Integrated watershed management ) :

 জলাধারের মাধ্যমে নীচু জায়গায় জল সংরক্ষণের কৌশলকে ‘ সুসংহত জল ব্যবহার ব্যবস্থা ’ বলে । জলাধারে সংরক্ষিত জল চাষের কাজে , মৎস্যচাষে এবং জলবিদ্যুৎ উৎপাদনেও ব্যবহার করা যায় । এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভুগর্ভস্থ জলস্তর পুণর্নবীকরণের পাশাপাশি বন্যা কিংবা খরারর মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলা করা সম্ভব । সুসংহত জল ব্যবহার ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্রমবর্ধমান জল সমস্যা ও জল সংরক্ষণ এবং ব্যবস্থাপনার সঙ্কট দূর করা যায় ।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

আগামী' কবিতাটি 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

আগামী Class 12 Bengali Question 2023 সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো (MCQ)  প্রশ্নমান ১ class 12 bengali mcq question answer ১. “ক্ষুদ্র আমি তুচ্ছ নই”-বক্তা কে ? (ক) বৃক্ষ শিশু (খ) বনস্পতি (গ) বটবৃক্ষ (ঘ) সদ্য অঙ্কুরিত বীজ উত্তর: (ঘ) সদ্য অঙ্কুরিত বীজ। ২. অঙ্কুরিত বীজের ক্ষুদ্র শরীরে বাজে— (ক) ঝড় (খ) বৃষ্টি (গ) ভূমিকম্প (ঘ) তুফান উত্তর: (ক) ঝড়। ৩. অঙ্কুরিত বীজের শাখায় প্রত্যাহত হবে— (ক) পত্রমর্মর (খ) মর্মরধ্বনি (গ) পাখির কূজন (ঘ) বিচিত্রধ্বনি উত্তর: (খ) মর্মরধ্বনি । ৪. অঙ্কুরিত বৃক্ষশিশু অরণ্যের বিশাল চেতনা অনুভব করে— (ক) পত্রে (খ) পুষ্পে (গ) শিকড়ে (ঘ) শাখায় উত্তর: (গ) শিকড়ে। ৫. “জানি তারা মুখরিত হবে”—কীভাবে ? (ক) নব শতকের গানে (খ) নতুন দিনের গানে (গ) নব তারণ্যের গানে (ঘ) নব জীবনের গানে উত্তর: (গ) নব অরণ্যের গানে। ৬. অঙ্কুরিত বৃক্ষশিশু নব অরণ্যের গানে মিশে যাবে— (ক) বসন্তে (খ) বর্ষায় (গ) গ্রীষ্মে (ঘ) শীতে উত্তর: (ক) বসন্তে। ৭. অঙ্কুরিত বীজ কোথায় মিশে যাবে ? (ক) অরণ্যের দলে (খ) বৃহতের দলে (গ) ক্ষুদ্রের দলে (ঘ) মহীরুহ-র দলে উত্তর: (খ) বৃহতের দলে। ৮. অঙ্কুরিত বীজ নিজেকে বলেছে— (ক) ভ...

বীরচন্দ্র মানিক্য থেকে বীরবিক্রম কিশোর মানিক্য পর্যন্ত ত্রিপুরার আধুনিকীকরণ সম্পর্কে আলোচনা কর।

 Discuss the modernization of Tripura from Birchandra Manikya to Bir Bikram Kishor Manikya. বীরচন্দ্র মানিক্য থেকে বীরবিক্রম কিশোর মানিক্য পর্যন্ত ত্রিপুরার আধুনিকীকরণ সম্পর্কে আলোচনা কর।  ত্রিপুরায় আধুনিক যুগের সূচনা হয় মহারাজ বীরচন্দ্র মানিক্যের শাসনকালে। তিনি ব্রিটিশ ভারতের শাসন পদ্ধতির অনুকরণে ত্রিপুরার শাসন ব্যবস্থার সংস্কার করেণ এবং লিখিত আইন কানুন প্রনয়নের মাধ্যমে বিচার ব্যবস্থাকে সুসংবদ্ধ ও সুসংগঠিত করেণ। মোটের উপর বীরচন্দ্রমানিক্য (১৮৬২-১৮৯৬ খ্রি:) তাঁর আমলে ত্রিপুরা রাজ্য এক নতুন রূপ লাভ করে। ১) মিউনিসিপ্যালিটি গঠন তিনি ১৮৭১ খ্রিস্টাব্দে আগরতলা মিউনিসিপ্যালিটি গঠন করেন। তবে নাগরিক জীবনের সুযোগ সুবিধা বিধানে কিংবা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা হিসাবে দীর্ঘকাল কোনো কার্যকারী ব্যবস্থা গ্রহণে আগরতলা মিউনিসিপ্যালিটি ছিল ব্যর্থ। ১৯৮১ খ্রিস্টাব্দের ৩ জুলাই ডবলিউ. বি. পাওয়ার সাহেব ত্রিপুরা রাজ্যের প্রথম পলিটিক্যাল এজেন্ট নিযুক্ত হন।  ২) বিচার সংক্রান্ত সংস্কার প্রাচীনকাল হতে দেওয়ানি ও ফৌজদারি সংক্রান্ত বিচারের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি মহারাজ স্বয়ং সম্পাদন করতেন। ১৮৭২ খ্রিস্টা...

বীরচন্দ্র মানিক্যের পূর্ববর্তী সময়ে ত্রিপুরার অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা সম্পর্কে আলোচনা কর।

 Discuss the social and economic condition of Tripura before the accession of Birchandra Manikya. বীরচন্দ্র মানিক্যের পূর্ববর্তী সময়ে ত্রিপুরার অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা সম্পর্কে আলোচনা কর। ভূমিকা ত্রিপুরার মাণিক্য উপাধিকারী রাজন্যবর্গের মধ্যে কেউ কেউ ছিলেন আত্মমর্যাদাজ্ঞানহীন, ক্ষমতালোভী ও ষড়যন্ত্রী। এসব ক্ষমতালোভী ও ষড়যন্ত্রীরা মুঘল ফৌজদারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে অধিক সংখ্যক হাতি, নিয়মিত উচ্চ হারে খাজনা, নজরানা ইত্যাদি দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাজত্বের সনদ লাভ করতেন। এটা ত্রিপুরার দুর্বল অর্থনীতির উপর এক বিরাট আঘাত ও স্থায়ী ক্ষতস্বরূপ ছিল। তবে এ সময়ের শুভদিক হল ত্রিপুরায় ব্রিটিশ ভারতের অনুকরণে আইন প্রণয়নের সূত্রপাত, প্রশাসনিক বিধিব্যবস্থার প্রবর্তন, অর্থনৈতিক উন্নয়নের উন্মেষ ও সামাজিক সংস্কার। Economic Condition ১) চাষাবাদ ও কৃষি ত্রিপুরার অধিবাসীদের প্রধান জীবিকা হল কৃষি। কৃষিজ উৎপাদনের মধ্যে ধান, গম, আলু, আখ, সরিষা, ডাল জাতীয় শস্য, কার্পাস, তুলো, কচু, আদা, তরমুজ ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। শিকার ও পশুপালন করেও তারা জীবিকা নির্বাহ করত। এখানকার চাষযোগ্য সমতল জমির সাথে ...