সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

বৈশিষ্ট্যযুক্ত পোস্ট

ত্রিপুরা রাজ্য কিভাবে স্বাধীন ভারতের সাথে যুক্ত হয় ?

 How did Tripura Join as a State of Independent India? ত্রিপুরা রাজ্য কিভাবে স্বাধীন ভারতের সাথে যুক্ত হয় ? ভূমিকা ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ১৭ মে ত্রিপুরার মহারাজা বীর বিক্রম কিশোর মানিক্য বাহাদুর ৩৯ বছর বয়সে পরলোক গমন করলে তার পুত্র কিরীট বিক্রম কিশোর দেববর্মন মানিক্য বাহাদুর ত্রিপুরা রাজ্য ও চাকলা রোশনাবাদের জমিদারি উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত হন। তিনি নাবালক থাকায় ভারত সরকারের পরামর্শ অনুযায়ি রাজমাতা মহারাণি কাঞ্চনপ্রভা দেবীর নেতৃত্বে রাজপ্রতিনিধি শাসন পরিষদ বা কাউন্সিল অব রিজেন্সি গঠিত হয়। মহারাণি কাঞ্চনপ্রভা দেবী এই পরিষদের প্রেসিডেন্ট এবং রাজকুমার ব্রজেন্দ্র কিশোর দেববর্মন বাহাদুর ভাইস প্রেসিডেন্ট নিযুক্ত হন। মেজর বঙ্কিম বিহারী দেববর্মন ও মন্ত্রী রাজরত্ন সত্যব্রত মুখার্জি এই পরিষদের সদস্য নিযুক্ত হন। (২) পাকিস্তানের ত্রিপুরা আক্রমনের ষড়যন্ত্র ভারত স্বাধীনতা লাভের অল্পদিনের পরেই ত্রিপুরা রাজ্য এক গভীর সঙ্কটের সম্মুখীন হয়। ত্রিপুরা সীমান্তস্থিত কুমিল্লার মুসলিম ন্যাশনাল গার্ডের উদ্যোগে ও আগরতলার কতিপয় ব্যক্তির সহযোগিতায় পাকিস্তান ত্রিপুরা আক্রমনের পরিকল্পনা করে। ত্রিপুরার রা...

বৃষ্টির জলসংরক্ষণ বৃষ্টির জল সংগ্রহের বিভিন্ন পদ্ধতি

বৃষ্টির জলসংরক্ষণ ( Rain Water harvesting )

 আমাদের দেশে এক তৃতীয়াংশ মানুষ শুষ্ক এলাকায় বাস করে । শুখা জমিতে বর্ষার জল ছাড়া কৃষিকাজ প্রায় অসম্ভব । ভূ গর্ভস্থ জল ব্যবহার করে সেচ ব্যবস্থা নিরাপদ নয় । জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে জলের চাহিদা বাড়ছে বহুগুণ । এই সমস্যা মোকাবেলায় বৃষ্টির জল সংরক্ষণের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে । এই বৃষ্টির জল সংরক্ষণ করার বিভিন্ন উপায় অতি প্রাচীন কাল থেকেই মানুষ আয়ত্ব করতে শিখেছিল । প্রাচীনকাল থেকেই খাল , বিল , পুকুর , বাঁধ কিংবা কূপের মাধ্যমে জল সঞ্চয় করে রাখার বিভিন্ন পদ্ধতি প্রচলিত ছিল । বৃষ্টির জল উপযুক্তভাবে সংগ্রহ করে ভালভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবহার করার ব্যবস্থাকে বৃষ্টির জল সংরক্ষণ বলে ।

বৃষ্টির জলসংরক্ষণ ( Rain Water harvesting )
বৃষ্টির জল সংরক্ষণ পদ্ধতি

আশির দশকের মাঝামাঝি সারা পৃথিবীর ক্রমবর্ধমান পানীয় জলের চাহিদা ও ভূপৃষ্ঠের জলের পরিমাণ কমে যেতে শুরু করে তখনই সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে বৃষ্টির জল সংরক্ষণের উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয় । আজও বৃষ্টির জল সংরক্ষণ একটি উপযুক্ত ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ । উপযুক্ত পরিমানে বৃষ্টির জল সংরক্ষনের ফলে কেবল পানীয় জলের সাশ্রয় হয় তা নয় , তাছাড়াও অনেক উপকার পাওয়া যায় । যেমন—

 ( ১ ) জলের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ হয় ।

 ২ ) ভূগর্ভস্থ ও ভূপৃষ্ঠের জলের দূষনের মাত্রা হ্রাস পায় ।

 ৩ ) জলের স্রোত নিয়ন্ত্রণ ও বন্যার প্রকোপ হ্রাস পায় ।

 ৪ ) শক্তি ব্যবহারের মাত্রা হ্রাস পায় ।

 ৫ ) ভূপৃষ্ঠের জল সম্পদ প্রয়োজনীয় জলের পরিপূরক হিসাবে ব্যবহার করা যায় ।

 পরিসংখ্যানে জানা যায়— - বৃষ্টির জলের ২০ থেকে ২৫ শতাংশ মিষ্টি জল হিসেবে , বাকি ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ জল নদী , নালা , খাল - বিল দিয়ে সমুদ্রে পতিত হয় । বিশেষজ্ঞদের মতে ৬৭৬ বর্গমিটার বাড়ির ছাদে বৃষ্টির জল ধরে রাখতে পারলে তা অন্ততঃ ৪০ জন মানুষের সারা বছরের জলের চাহিদা মেটাতে পারে , সেই সঙ্গে ভুগর্ভে আর্সেনিক দূষণের মাত্রাও হ্রাস পাবে । আমরা যদি সঠিকভাবে বৃষ্টির জলের অতিরিক্ত এক শতাংশ সংরক্ষণ করতে পারি , তবে মাথাপিছু বাড়তি ১০০ লিটার জল বছরে পেতে পারি । বৃষ্টির জল সংরক্ষণ একটি সহজতম এবং প্রায় খরচ বিহীন বিশেষভাবে দূষণ বিহীন একটি পদ্ধতি ।

 বৃষ্টির জল সংগ্রহের বিভিন্ন পদ্ধতি

 ক ) যেখানকার বৃষ্টিপাত সেখানেই ধরে রাখা ( Insitu Rainwater harvesfig )

 খ ) সরাসরি গড়ানো বৃষ্টির জলের সংগ্রহ ( Run off water )

 গ ) ভূপৃষ্ঠের অন্তর্ভাগে চোয়ানো জল প্রবাহের থেকে জল সংগ্রহ ( Percolation \ seepage water )

 ঘ ) ছোট ছোট অববাহিকা বা জল বিভাজিকার মাধ্যমে ।

 ঙ ) মাটির উপরিভাগে বিভিন্ন কলা কৌশলের মাধ্যমে ( আটক বাঁধ , চোয়ালো বাঁধ , কন্ট্যুর বাঁধ ) ।

 বৃষ্টির জল সংগ্রহ পদ্ধতিগুলিকে প্রধানতঃ দুই ভাগে ভাগ করা যায় । যথা—

 ১ ) ভূপৃষ্ঠের উপরিভাগে বৃষ্টির জলকে সংগ্রহ করা ( Storage of rainwater on surface for future use ) : এই চিরাচরিত পদ্ধতিতে পুকুর , মাটির নীচে ট্যাঙ্ক , আটকবাঁধ , খাঁচা বা জলাধার ইত্যাদির মাধ্যমে বৃষ্টির জল সংগ্রহ করা হয় ভবিষ্যতে বিভিন্ন কাজে ব্যবহারের জন্য ।

 ২ ) রিচার্জ পদ্ধতিতে ভূ - গর্ভস্থ জলের সঞ্চয় বাড়ানো ( Recharge of ground water ) : বর্তমানে বৃষ্টির জলসংগ্রহের এটি একটি নতুন ধারণা , এই পদ্ধতিতে পিট বা গর্ত , ট্রেঞ্চ , ইন্দারা - কুয়ো , টিউবওয়েল বা নলকূপ জলভরন কুয়ো ( Recharge well ) প্রভৃতির মাধ্যমে ভৌমজলের সঞ্চয় বাড়ানো হয় ।

 বাড়ির ছাদের বৃষ্টির জল সংগ্রহ ( Roof top water hervesting )

 শহরাঞ্চলে এমন কি গ্রামেও বৃষ্টির জল সংগ্রহের এটি একটি সহজ উপায় , এই পদ্ধতিতে বাড়ির ছাদের বৃষ্টি জলকে পাইপের সাহায্যে কোন চৌবাচ্চায় যা ট্যাঙ্কে জমা করে গৃহকার্যে বা বাগানে ব্যবহার করা যায় , অথবা জলভরন গর্তের ( Recharge pit / shaft ) মধ্যে জমা করে রিচার্জ পদ্ধতিতে ভূ - গর্ভস্থ জলের সঞ্চয় বাড়ানো যায় ।

 বৃষ্টির জল সংরক্ষণে সতর্কতা

 বৃষ্টির জল সংরক্ষণের জন্য আমাদের যেসমস্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে , তাহল-

 ক ) ছাদের ও জলবাহিত নল সবসময় পরিষ্কার - পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে ।

 খ ) জলবাহিত নলের মধ্যে ছাঁকনি ব্যবহার করতে হবে ।

 গ ) সংগৃহীত জলকে কয়েকদিন সঞ্চয় করে রাখলে ধুলো বালি থিতিয়ে যায় ।

 ঘ ) বিভিন্ন কারখানার পাশে বৃষ্টির জল ধরে রাখার সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে যাতে কারখানার বর্জ্য পদার্থ বা রাসায়নিক পদার্থ কোনো মতেই মিশতে না পারে ।

 ঙ ) যে জায়গায় জল ধরে রাখা হবে তা ঢাকনা দিয়ে রাখা দরকার ।

 কৃষিকাজে বৃষ্টির জল ব্যবহার

 কৃষিকাজে মূল বিষয় সেচ ব্যবস্থা । এ দেশে আজও শতকরা ২৫ ভাগের বেশী সেচব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি । ভূগর্ভস্থ সেচ ব্যবস্থা নানা কারণে অসম্ভব । এই অবস্থায় বৃষ্টির জলের উপর নির্ভর ছাড়া উপায় থাকে না । বৃষ্টির জল ধরে রাখার জন্য ওয়াটার হারভেস্টিং টেঞ্চ পরিকল্পনা নিতে হবে । এ ব্যাপারে বহু অনুসন্ধান দরকার বৃষ্টির জল কোথায় কিভাবে ওয়াটার সেড এলাকায় জমে । সেই জল জমা এলাকাগুলি চিহ্নিত করে জমির উপরিভাগে জলাধারের ব্যবস্থা করতে হবে । যা থেকে রবি শস্যের পরের ঋতুতেও সেচ ব্যবস্থা পাকা করা যায় । সাধারণত শুষ্ক জমিতে আউশ ধান , জোয়ার , ভূট্টা , সরষে , ডাল , গম ও সবজির চাষ হয় । এক একর জমিতে ১৫-৪০ একর ইঞ্চি জল লাগে । ( এক একর ইঞ্চি সমান সমান ৩৬৩০ ঘনফুট জল ) সরবরাহকৃত জলের মাত্র ৪৫ শতাংশ কোন ফসল গ্রহণ করে , বাকি ৫৫ শতাংশ জল জমিতে নষ্ট হয় উপযুক্ত সেচ ব্যবস্থা না থাকার জন্য । সারা পৃথিবীতে প্রতি বছর ৮০ মিলিয়ন হেক্টর কৃষিজমি জল জমে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে । ‘ ড্রিপ ইরিগেশন ’ বা ফোটায় ফোটায় জল সেচ এরকম একটি নতুন পদ্ধতি ৷ এই পদ্ধতিতে পাইপ লাইনের মাধ্যমে জল একেবারে ফসলের মূলে পৌঁছায় । ফলে উপরিতলের মতো জল সহজে উদ্বায়ী হয় না । অভিকর্ষেও বেশি নেমে যায় না । ৯৫ শতাংশ জলের অপচয় রোধ হয় । পশ্চিম এশিয়ার অনেক দেশ এই স্বল্প বৃষ্টিপাতকে সুষ্ঠুভাবে চাষের কাজে লাগিয়ে মরুভূমিকে সজীব করেছে । শুষ্ক অঞ্চলে ড্রিফট ও স্প্রিকলার পদ্ধতিতে সেচ ব্যবস্থা চালু করে মহারাষ্ট্র ও কর্নাটক রাজ্যে ফল চাষে প্রভূত উন্নতি সাধন করেছে ।

 প্রযুক্তিগত উপায়ে জলের পুনর্ব্যবহার

 গৃহস্থালির বা কলকারখানার পরিত্যক্ত জল পুনর্ব্যবহার করার জন্য নানা প্রচেষ্টা চলছে এবং কিছু ক্ষেত্রে চালুও করা হয়েছে । কিছু কিছু কলকারখানাতে জল পরিশোধনাগার বসিয়ে নিষ্ক্রান্ত জলকে শোধন করে ঐ জল আবার ব্যবহার করা হচ্ছে । ইজরায়েল শহরে ব্যবহৃত জলের তিরিশ শতাংশ লাগানো হয় সেচের কাজে , আরিজোনা মরুভূমির নিকটবর্তী শহরের পরিত্যক্ত জল নিয়ে একটি পারমাণবিক শক্তিকেন্দ্র চালনা করা হচ্ছে । সমুদ্রের নোনা জলকে সুপেয় করার জন্যও বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করা হচ্ছে । এখানে প্রযুক্তিগত উপায়ে জলের পুনর্ব্যবহারের দৃষ্টান্ত দেওয়া হল ।

 ১ ) বর্জ্য জল শোধন প্রক্রিয়া ( Treatment of waste water )

১ ) বর্জ্য জল শোধন প্রক্রিয়া ( Treatment of waste water )
জলের পুর্নব্যবহার

 গৃহস্থালির কাজে জল ব্যবহারের ফলে যে নোংরা বর্জ্য দ্রব্যপূর্ণ জল নর্দমা বা নালী পথে । বর্জন করা হয় তাকে সিউয়েজ ( sewage ) বলে । এই জলে ৯৯.৯ শতাংশ জল এবং ০.১ শতাংশ জৈব ও অজৈব অশুদ্ধি থাকে । এই জলকে কতগুলি ধাপে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় পরিশুদ্ধ করা হয় । এই পরিশুদ্ধিকরণ পদ্ধতিকে Sewage treatment বলে । এই পরিসুত জল জলাশয়ে । ব্যবহার করে মাছ চাষ , মুক্তোচাষ , চিংড়ি চাষ ছাড়াও কৃষি সেচ , কাপড় কাচা , কলকারাখানায় শীতলীকরণের কাজে ব্যবহার করা হয় । এমনকি সঠিকভাবে পরিশ্রুত করে পানীয় জল হিসাবেও ব্যবহার করা যায় । আজকাল পরিত্যক্ত জল পুনর্ব্যবহার করা হচ্ছে । ইজরায়েল শহরে ব্যবহৃত জলের ৩০ শতাংশ লাগানো হয় সেচের কাজে । বর্জ্যজল তিনটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শোধন করা হয় :

 ( ক ) প্রাথমিক শোধনঃ এই প্রক্রিয়ায় বর্জ্য শোধন কেন্দ্রে জল ধাতব ছাঁকনির মধ্য দিয়ে প্রবেশ করানো হয় । প্রাথমিক শোধনে জল ছাকা ও অধোক্ষিপ্ত হওয়া এই দুটি কাৰ্য্য সম্পন্ন হয় ।

 ( খ ) মধ্যবর্তী শোধন বা জৈব শোধন প্রক্রিয়া : মধ্যবর্তী শোধনের জন্য জলশোধন কক্ষে পাঠানো হয় । এই প্রক্রিয়ায় জলে দ্রবীভূত জৈব পদার্থ জলে উপস্থিত , জীবাণু দ্বারাই বিশিষ্ট হয়ে মুক্ত হয় ।

 ( গ ) চূড়ান্ত শোধন প্রক্রিয়া : দ্বিতীয় পর্যায়ে জলে প্রথমে বিভিন্ন তঞ্চনকারী বস্তু , যেমন অ্যালুমিনিয়াম ফেরিক যৌগ মিশ্রিত করে রাসায়নিক তঞ্চন ঘটানো হয় । তারপর বালির পুরু আস্তরণের উপর দিয়ে চালনা করে ধাপে ধাপে সঞ্চিত করার মধ্য দিয়ে চালনা করা হয় ও অতঃপর ক্লোরিনেশন কিংবা ওজোনাইজেশন করে সমস্ত অশুদ্ধিদূর করা হয় ও জীবাণুমুক্ত হয়ে বিশুদ্ধ জলে রূপান্তরিত হয় ।

 ২ ) মাছ চাষ করে নিকাশী ময়লাজল পরিশোধন

 পূর্ব কলকাতার জলাভূমিতে দেশীয় পদ্ধতিতে মাছ চাষ করে নিকাশী জলের ময়লা কমানো হচ্ছে । আবর্জনা সমৃদ্ধ জল ভেড়ির মাধ্যমে প্রবাহিত করা যায় । এই ভেরিতে মাছ করা হয় । তাকে Sewage treated Fisheries , ( SFF ) বলে । এইভাবে প্রতিদিন মহানগরীর প্রায় ৬৮ কোটি লিটার ময়লা জল পরিশ্রুত হয় ।

 ৩ ) পরিত্যক্ত জল বাগানে

 রান্নাঘর , বাথরুম , টয়লেটের ব্যবহৃত জল কীভাবে পুনর্ব্যবহারযোগ্য করা যায় সেটাও ভাবা হয়েছে নানাভাবে । কারণ মাত্রাধিক জল তুলে নেওয়ার ফলে ভূগর্ভস্থ জলতল ( Ground water Table ) নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মাটির নিচের মূল্যবান জলভান্ডার প্রায় বিপন্ন । সব থেকে অভিনব মনে হয় সয়েল বায়োটেকনোলজি ( Soil Bio - technology ) পদ্ধতিতে এই জলের বিশুদ্ধকরণ ও ব্যবহার । প্রকৃতি যেসব দূষিত জলকে বিশুদ্ধ করে , একই নিয়ম অবলম্বন করা হয়েছে এখানে । প্রথমে পরিত্যক্ত জল তারজালি বা ছাঁকনির মধ্যে প্রবাহিত করে জমা হয় সিমেন্টের চৌবাচ্ছায় । সেখান থেকে নুড়ি - পাথর বা গ্র্যাভেল দিয়ে তৈরি একটি স্তরের মধ্যে পাঠানো হয় এই জল । এই স্তরে বিভিন্ন ধরনের ভাসমান অপদ্রব্য ও জৈব অংশ আলাদা হয়ে যায় । পরবর্তী পর্যায়ে আলাদাভাবে সংগ্রহ করে এই জল স্প্রে করা হয় পাশের একটি জমিতে , যার উপরিভাগ ঢাকা থাকে লতা ও গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ দিয়ে । এখানে পরিত্যক্ত জলে নাইট্রোজেনের পরিমাণ নির্ধারিত হয় বা নাইট্রোজেনের সমতা বজায় রাখা হয় । স্তরটির নিচের দিকে থাকে ব্যাকটেরিয়া ও কেঁচোসমৃদ্ধ কালচার মিডিয়াম ( Culture medium ) । যার সাহায্যে প্রায় চার - পাঁচ ঘন্টার মধ্যে সম্পূর্ণভাবে বিশুদ্ধ হয় পরিত্যক্ত জল । এই জল অনায়াসে কাজে লাগানো যায় সবজি ও ফুল - ফলের চাযে । উদাহরণস্বরূপ উল্লেখযোগ্য মুম্বাই শহরের কয়েকটি সফল প্রকল্পের কথা । যেখানে প্রতি পাঁচশো বর্গমিটার জমিতে পরিত্যক্ত জল পরিশোধিত হয় প্রায় পঞ্চাশ ঘনমিটার প্রতিদিন । এক একটি ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের কর্মক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আনুষাঙ্গিক খরচও কমতে থাকে সমান্তরালভাবে । শুধুমাত্র ঘরের পরিত্যক্ত জলই নয় , সুইমিং পুল , পুকুর ইত্যাদির নোংরা জলও পরিষ্কার করা যায় একই পদ্ধতিতে ।

 ৪ ) লবণমুক্তকরণ ( De - salination ) : নিম্নলিখিত পদ্ধতিগুলির দ্বারা জলকে লবণমুক্ত করা যায় :

 ( ক ) পতন পদ্ধতি : লবণজলকে প্রথমে ফুটিয়ে বাষ্পে পরিণত করতে হবে । এই উৎপন্ন বাষ্পকে পরে শীতল ও ঘনীভূত করলে বিশুদ্ধ জল পাওয়া যায় । পশ্চিমবঙ্গে দীঘা , রামনগর , ওড়িশা , তামিলনাড়ু প্রভৃতি সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চলে সমুদ্রের জলকে সূর্যের তাপের মাধ্যমে বাষ্পায়িত করে প্রচুর লবণ উৎপাদিত হয় ।

 ( খ ) হিমাঙ্ককরণ : হিমাঙ্ককরণ পদ্ধতিতে লবণজলকে বরফে পরিণত করা হয় । এই পদ্ধতিতে শুধুমাত্র বিশুদ্ধ জলই বরফে পরিণত হয় । পরে বরফকে গলালে বিশুদ্ধ ( মিঠে ) জল পাওয়া যায় ।

 ( গ ) অপোহনের সাহায্যে বিচাড়ণ  : এই পদ্ধতিতে অপোহন নামে একটি বিশেষ পর্দা ব্যবহার করা হয় । এই পর্দার মধ্যে শুধুমাত্র বিশুদ্ধ জলই প্রবেশ করতে পারে । কখনই দ্রাব্যলবণ প্রবেশ করতে পারবে না । এই কৌশলে অনায়াসেই সমুদ্রের জলের লবণ বিতাড়িত করে পানীয় জলে পরিণত করা সম্ভব ।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

আগামী' কবিতাটি 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

আগামী Class 12 Bengali Question 2023 সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো (MCQ)  প্রশ্নমান ১ class 12 bengali mcq question answer ১. “ক্ষুদ্র আমি তুচ্ছ নই”-বক্তা কে ? (ক) বৃক্ষ শিশু (খ) বনস্পতি (গ) বটবৃক্ষ (ঘ) সদ্য অঙ্কুরিত বীজ উত্তর: (ঘ) সদ্য অঙ্কুরিত বীজ। ২. অঙ্কুরিত বীজের ক্ষুদ্র শরীরে বাজে— (ক) ঝড় (খ) বৃষ্টি (গ) ভূমিকম্প (ঘ) তুফান উত্তর: (ক) ঝড়। ৩. অঙ্কুরিত বীজের শাখায় প্রত্যাহত হবে— (ক) পত্রমর্মর (খ) মর্মরধ্বনি (গ) পাখির কূজন (ঘ) বিচিত্রধ্বনি উত্তর: (খ) মর্মরধ্বনি । ৪. অঙ্কুরিত বৃক্ষশিশু অরণ্যের বিশাল চেতনা অনুভব করে— (ক) পত্রে (খ) পুষ্পে (গ) শিকড়ে (ঘ) শাখায় উত্তর: (গ) শিকড়ে। ৫. “জানি তারা মুখরিত হবে”—কীভাবে ? (ক) নব শতকের গানে (খ) নতুন দিনের গানে (গ) নব তারণ্যের গানে (ঘ) নব জীবনের গানে উত্তর: (গ) নব অরণ্যের গানে। ৬. অঙ্কুরিত বৃক্ষশিশু নব অরণ্যের গানে মিশে যাবে— (ক) বসন্তে (খ) বর্ষায় (গ) গ্রীষ্মে (ঘ) শীতে উত্তর: (ক) বসন্তে। ৭. অঙ্কুরিত বীজ কোথায় মিশে যাবে ? (ক) অরণ্যের দলে (খ) বৃহতের দলে (গ) ক্ষুদ্রের দলে (ঘ) মহীরুহ-র দলে উত্তর: (খ) বৃহতের দলে। ৮. অঙ্কুরিত বীজ নিজেকে বলেছে— (ক) ভ...

বীরচন্দ্র মানিক্য থেকে বীরবিক্রম কিশোর মানিক্য পর্যন্ত ত্রিপুরার আধুনিকীকরণ সম্পর্কে আলোচনা কর।

 Discuss the modernization of Tripura from Birchandra Manikya to Bir Bikram Kishor Manikya. বীরচন্দ্র মানিক্য থেকে বীরবিক্রম কিশোর মানিক্য পর্যন্ত ত্রিপুরার আধুনিকীকরণ সম্পর্কে আলোচনা কর।  ত্রিপুরায় আধুনিক যুগের সূচনা হয় মহারাজ বীরচন্দ্র মানিক্যের শাসনকালে। তিনি ব্রিটিশ ভারতের শাসন পদ্ধতির অনুকরণে ত্রিপুরার শাসন ব্যবস্থার সংস্কার করেণ এবং লিখিত আইন কানুন প্রনয়নের মাধ্যমে বিচার ব্যবস্থাকে সুসংবদ্ধ ও সুসংগঠিত করেণ। মোটের উপর বীরচন্দ্রমানিক্য (১৮৬২-১৮৯৬ খ্রি:) তাঁর আমলে ত্রিপুরা রাজ্য এক নতুন রূপ লাভ করে। ১) মিউনিসিপ্যালিটি গঠন তিনি ১৮৭১ খ্রিস্টাব্দে আগরতলা মিউনিসিপ্যালিটি গঠন করেন। তবে নাগরিক জীবনের সুযোগ সুবিধা বিধানে কিংবা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা হিসাবে দীর্ঘকাল কোনো কার্যকারী ব্যবস্থা গ্রহণে আগরতলা মিউনিসিপ্যালিটি ছিল ব্যর্থ। ১৯৮১ খ্রিস্টাব্দের ৩ জুলাই ডবলিউ. বি. পাওয়ার সাহেব ত্রিপুরা রাজ্যের প্রথম পলিটিক্যাল এজেন্ট নিযুক্ত হন।  ২) বিচার সংক্রান্ত সংস্কার প্রাচীনকাল হতে দেওয়ানি ও ফৌজদারি সংক্রান্ত বিচারের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি মহারাজ স্বয়ং সম্পাদন করতেন। ১৮৭২ খ্রিস্টা...

বীরচন্দ্র মানিক্যের পূর্ববর্তী সময়ে ত্রিপুরার অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা সম্পর্কে আলোচনা কর।

 Discuss the social and economic condition of Tripura before the accession of Birchandra Manikya. বীরচন্দ্র মানিক্যের পূর্ববর্তী সময়ে ত্রিপুরার অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা সম্পর্কে আলোচনা কর। ভূমিকা ত্রিপুরার মাণিক্য উপাধিকারী রাজন্যবর্গের মধ্যে কেউ কেউ ছিলেন আত্মমর্যাদাজ্ঞানহীন, ক্ষমতালোভী ও ষড়যন্ত্রী। এসব ক্ষমতালোভী ও ষড়যন্ত্রীরা মুঘল ফৌজদারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে অধিক সংখ্যক হাতি, নিয়মিত উচ্চ হারে খাজনা, নজরানা ইত্যাদি দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাজত্বের সনদ লাভ করতেন। এটা ত্রিপুরার দুর্বল অর্থনীতির উপর এক বিরাট আঘাত ও স্থায়ী ক্ষতস্বরূপ ছিল। তবে এ সময়ের শুভদিক হল ত্রিপুরায় ব্রিটিশ ভারতের অনুকরণে আইন প্রণয়নের সূত্রপাত, প্রশাসনিক বিধিব্যবস্থার প্রবর্তন, অর্থনৈতিক উন্নয়নের উন্মেষ ও সামাজিক সংস্কার। Economic Condition ১) চাষাবাদ ও কৃষি ত্রিপুরার অধিবাসীদের প্রধান জীবিকা হল কৃষি। কৃষিজ উৎপাদনের মধ্যে ধান, গম, আলু, আখ, সরিষা, ডাল জাতীয় শস্য, কার্পাস, তুলো, কচু, আদা, তরমুজ ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। শিকার ও পশুপালন করেও তারা জীবিকা নির্বাহ করত। এখানকার চাষযোগ্য সমতল জমির সাথে ...