বৃষ্টির জলসংরক্ষণ ( Rain Water harvesting )
আমাদের দেশে এক তৃতীয়াংশ মানুষ শুষ্ক এলাকায় বাস করে । শুখা জমিতে বর্ষার জল ছাড়া কৃষিকাজ প্রায় অসম্ভব । ভূ গর্ভস্থ জল ব্যবহার করে সেচ ব্যবস্থা নিরাপদ নয় । জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে জলের চাহিদা বাড়ছে বহুগুণ । এই সমস্যা মোকাবেলায় বৃষ্টির জল সংরক্ষণের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে । এই বৃষ্টির জল সংরক্ষণ করার বিভিন্ন উপায় অতি প্রাচীন কাল থেকেই মানুষ আয়ত্ব করতে শিখেছিল । প্রাচীনকাল থেকেই খাল , বিল , পুকুর , বাঁধ কিংবা কূপের মাধ্যমে জল সঞ্চয় করে রাখার বিভিন্ন পদ্ধতি প্রচলিত ছিল । বৃষ্টির জল উপযুক্তভাবে সংগ্রহ করে ভালভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবহার করার ব্যবস্থাকে বৃষ্টির জল সংরক্ষণ বলে ।
আশির দশকের মাঝামাঝি সারা পৃথিবীর ক্রমবর্ধমান পানীয় জলের চাহিদা ও ভূপৃষ্ঠের জলের পরিমাণ কমে যেতে শুরু করে তখনই সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে বৃষ্টির জল সংরক্ষণের উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয় । আজও বৃষ্টির জল সংরক্ষণ একটি উপযুক্ত ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ । উপযুক্ত পরিমানে বৃষ্টির জল সংরক্ষনের ফলে কেবল পানীয় জলের সাশ্রয় হয় তা নয় , তাছাড়াও অনেক উপকার পাওয়া যায় । যেমন—
( ১ ) জলের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ হয় ।
২ ) ভূগর্ভস্থ ও ভূপৃষ্ঠের জলের দূষনের মাত্রা হ্রাস পায় ।
৩ ) জলের স্রোত নিয়ন্ত্রণ ও বন্যার প্রকোপ হ্রাস পায় ।
৪ ) শক্তি ব্যবহারের মাত্রা হ্রাস পায় ।
৫ ) ভূপৃষ্ঠের জল সম্পদ প্রয়োজনীয় জলের পরিপূরক হিসাবে ব্যবহার করা যায় ।
পরিসংখ্যানে জানা যায়— - বৃষ্টির জলের ২০ থেকে ২৫ শতাংশ মিষ্টি জল হিসেবে , বাকি ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ জল নদী , নালা , খাল - বিল দিয়ে সমুদ্রে পতিত হয় । বিশেষজ্ঞদের মতে ৬৭৬ বর্গমিটার বাড়ির ছাদে বৃষ্টির জল ধরে রাখতে পারলে তা অন্ততঃ ৪০ জন মানুষের সারা বছরের জলের চাহিদা মেটাতে পারে , সেই সঙ্গে ভুগর্ভে আর্সেনিক দূষণের মাত্রাও হ্রাস পাবে । আমরা যদি সঠিকভাবে বৃষ্টির জলের অতিরিক্ত এক শতাংশ সংরক্ষণ করতে পারি , তবে মাথাপিছু বাড়তি ১০০ লিটার জল বছরে পেতে পারি । বৃষ্টির জল সংরক্ষণ একটি সহজতম এবং প্রায় খরচ বিহীন বিশেষভাবে দূষণ বিহীন একটি পদ্ধতি ।
বৃষ্টির জল সংগ্রহের বিভিন্ন পদ্ধতি
ক ) যেখানকার বৃষ্টিপাত সেখানেই ধরে রাখা ( Insitu Rainwater harvesfig )
খ ) সরাসরি গড়ানো বৃষ্টির জলের সংগ্রহ ( Run off water )
গ ) ভূপৃষ্ঠের অন্তর্ভাগে চোয়ানো জল প্রবাহের থেকে জল সংগ্রহ ( Percolation \ seepage water )
ঘ ) ছোট ছোট অববাহিকা বা জল বিভাজিকার মাধ্যমে ।
ঙ ) মাটির উপরিভাগে বিভিন্ন কলা কৌশলের মাধ্যমে ( আটক বাঁধ , চোয়ালো বাঁধ , কন্ট্যুর বাঁধ ) ।
বৃষ্টির জল সংগ্রহ পদ্ধতিগুলিকে প্রধানতঃ দুই ভাগে ভাগ করা যায় । যথা—
১ ) ভূপৃষ্ঠের উপরিভাগে বৃষ্টির জলকে সংগ্রহ করা ( Storage of rainwater on surface for future use ) : এই চিরাচরিত পদ্ধতিতে পুকুর , মাটির নীচে ট্যাঙ্ক , আটকবাঁধ , খাঁচা বা জলাধার ইত্যাদির মাধ্যমে বৃষ্টির জল সংগ্রহ করা হয় ভবিষ্যতে বিভিন্ন কাজে ব্যবহারের জন্য ।
২ ) রিচার্জ পদ্ধতিতে ভূ - গর্ভস্থ জলের সঞ্চয় বাড়ানো ( Recharge of ground water ) : বর্তমানে বৃষ্টির জলসংগ্রহের এটি একটি নতুন ধারণা , এই পদ্ধতিতে পিট বা গর্ত , ট্রেঞ্চ , ইন্দারা - কুয়ো , টিউবওয়েল বা নলকূপ জলভরন কুয়ো ( Recharge well ) প্রভৃতির মাধ্যমে ভৌমজলের সঞ্চয় বাড়ানো হয় ।
বাড়ির ছাদের বৃষ্টির জল সংগ্রহ ( Roof top water hervesting )
শহরাঞ্চলে এমন কি গ্রামেও বৃষ্টির জল সংগ্রহের এটি একটি সহজ উপায় , এই পদ্ধতিতে বাড়ির ছাদের বৃষ্টি জলকে পাইপের সাহায্যে কোন চৌবাচ্চায় যা ট্যাঙ্কে জমা করে গৃহকার্যে বা বাগানে ব্যবহার করা যায় , অথবা জলভরন গর্তের ( Recharge pit / shaft ) মধ্যে জমা করে রিচার্জ পদ্ধতিতে ভূ - গর্ভস্থ জলের সঞ্চয় বাড়ানো যায় ।
বৃষ্টির জল সংরক্ষণে সতর্কতা
বৃষ্টির জল সংরক্ষণের জন্য আমাদের যেসমস্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে , তাহল-
ক ) ছাদের ও জলবাহিত নল সবসময় পরিষ্কার - পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে ।
খ ) জলবাহিত নলের মধ্যে ছাঁকনি ব্যবহার করতে হবে ।
গ ) সংগৃহীত জলকে কয়েকদিন সঞ্চয় করে রাখলে ধুলো বালি থিতিয়ে যায় ।
ঘ ) বিভিন্ন কারখানার পাশে বৃষ্টির জল ধরে রাখার সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে যাতে কারখানার বর্জ্য পদার্থ বা রাসায়নিক পদার্থ কোনো মতেই মিশতে না পারে ।
ঙ ) যে জায়গায় জল ধরে রাখা হবে তা ঢাকনা দিয়ে রাখা দরকার ।
কৃষিকাজে বৃষ্টির জল ব্যবহার
কৃষিকাজে মূল বিষয় সেচ ব্যবস্থা । এ দেশে আজও শতকরা ২৫ ভাগের বেশী সেচব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি । ভূগর্ভস্থ সেচ ব্যবস্থা নানা কারণে অসম্ভব । এই অবস্থায় বৃষ্টির জলের উপর নির্ভর ছাড়া উপায় থাকে না । বৃষ্টির জল ধরে রাখার জন্য ওয়াটার হারভেস্টিং টেঞ্চ পরিকল্পনা নিতে হবে । এ ব্যাপারে বহু অনুসন্ধান দরকার বৃষ্টির জল কোথায় কিভাবে ওয়াটার সেড এলাকায় জমে । সেই জল জমা এলাকাগুলি চিহ্নিত করে জমির উপরিভাগে জলাধারের ব্যবস্থা করতে হবে । যা থেকে রবি শস্যের পরের ঋতুতেও সেচ ব্যবস্থা পাকা করা যায় । সাধারণত শুষ্ক জমিতে আউশ ধান , জোয়ার , ভূট্টা , সরষে , ডাল , গম ও সবজির চাষ হয় । এক একর জমিতে ১৫-৪০ একর ইঞ্চি জল লাগে । ( এক একর ইঞ্চি সমান সমান ৩৬৩০ ঘনফুট জল ) সরবরাহকৃত জলের মাত্র ৪৫ শতাংশ কোন ফসল গ্রহণ করে , বাকি ৫৫ শতাংশ জল জমিতে নষ্ট হয় উপযুক্ত সেচ ব্যবস্থা না থাকার জন্য । সারা পৃথিবীতে প্রতি বছর ৮০ মিলিয়ন হেক্টর কৃষিজমি জল জমে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে । ‘ ড্রিপ ইরিগেশন ’ বা ফোটায় ফোটায় জল সেচ এরকম একটি নতুন পদ্ধতি ৷ এই পদ্ধতিতে পাইপ লাইনের মাধ্যমে জল একেবারে ফসলের মূলে পৌঁছায় । ফলে উপরিতলের মতো জল সহজে উদ্বায়ী হয় না । অভিকর্ষেও বেশি নেমে যায় না । ৯৫ শতাংশ জলের অপচয় রোধ হয় । পশ্চিম এশিয়ার অনেক দেশ এই স্বল্প বৃষ্টিপাতকে সুষ্ঠুভাবে চাষের কাজে লাগিয়ে মরুভূমিকে সজীব করেছে । শুষ্ক অঞ্চলে ড্রিফট ও স্প্রিকলার পদ্ধতিতে সেচ ব্যবস্থা চালু করে মহারাষ্ট্র ও কর্নাটক রাজ্যে ফল চাষে প্রভূত উন্নতি সাধন করেছে ।
প্রযুক্তিগত উপায়ে জলের পুনর্ব্যবহার
গৃহস্থালির বা কলকারখানার পরিত্যক্ত জল পুনর্ব্যবহার করার জন্য নানা প্রচেষ্টা চলছে এবং কিছু ক্ষেত্রে চালুও করা হয়েছে । কিছু কিছু কলকারখানাতে জল পরিশোধনাগার বসিয়ে নিষ্ক্রান্ত জলকে শোধন করে ঐ জল আবার ব্যবহার করা হচ্ছে । ইজরায়েল শহরে ব্যবহৃত জলের তিরিশ শতাংশ লাগানো হয় সেচের কাজে , আরিজোনা মরুভূমির নিকটবর্তী শহরের পরিত্যক্ত জল নিয়ে একটি পারমাণবিক শক্তিকেন্দ্র চালনা করা হচ্ছে । সমুদ্রের নোনা জলকে সুপেয় করার জন্যও বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করা হচ্ছে । এখানে প্রযুক্তিগত উপায়ে জলের পুনর্ব্যবহারের দৃষ্টান্ত দেওয়া হল ।
১ ) বর্জ্য জল শোধন প্রক্রিয়া ( Treatment of waste water )
গৃহস্থালির কাজে জল ব্যবহারের ফলে যে নোংরা বর্জ্য দ্রব্যপূর্ণ জল নর্দমা বা নালী পথে । বর্জন করা হয় তাকে সিউয়েজ ( sewage ) বলে । এই জলে ৯৯.৯ শতাংশ জল এবং ০.১ শতাংশ জৈব ও অজৈব অশুদ্ধি থাকে । এই জলকে কতগুলি ধাপে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় পরিশুদ্ধ করা হয় । এই পরিশুদ্ধিকরণ পদ্ধতিকে Sewage treatment বলে । এই পরিসুত জল জলাশয়ে । ব্যবহার করে মাছ চাষ , মুক্তোচাষ , চিংড়ি চাষ ছাড়াও কৃষি সেচ , কাপড় কাচা , কলকারাখানায় শীতলীকরণের কাজে ব্যবহার করা হয় । এমনকি সঠিকভাবে পরিশ্রুত করে পানীয় জল হিসাবেও ব্যবহার করা যায় । আজকাল পরিত্যক্ত জল পুনর্ব্যবহার করা হচ্ছে । ইজরায়েল শহরে ব্যবহৃত জলের ৩০ শতাংশ লাগানো হয় সেচের কাজে । বর্জ্যজল তিনটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শোধন করা হয় :
( ক ) প্রাথমিক শোধনঃ এই প্রক্রিয়ায় বর্জ্য শোধন কেন্দ্রে জল ধাতব ছাঁকনির মধ্য দিয়ে প্রবেশ করানো হয় । প্রাথমিক শোধনে জল ছাকা ও অধোক্ষিপ্ত হওয়া এই দুটি কাৰ্য্য সম্পন্ন হয় ।
( খ ) মধ্যবর্তী শোধন বা জৈব শোধন প্রক্রিয়া : মধ্যবর্তী শোধনের জন্য জলশোধন কক্ষে পাঠানো হয় । এই প্রক্রিয়ায় জলে দ্রবীভূত জৈব পদার্থ জলে উপস্থিত , জীবাণু দ্বারাই বিশিষ্ট হয়ে মুক্ত হয় ।
( গ ) চূড়ান্ত শোধন প্রক্রিয়া : দ্বিতীয় পর্যায়ে জলে প্রথমে বিভিন্ন তঞ্চনকারী বস্তু , যেমন অ্যালুমিনিয়াম ফেরিক যৌগ মিশ্রিত করে রাসায়নিক তঞ্চন ঘটানো হয় । তারপর বালির পুরু আস্তরণের উপর দিয়ে চালনা করে ধাপে ধাপে সঞ্চিত করার মধ্য দিয়ে চালনা করা হয় ও অতঃপর ক্লোরিনেশন কিংবা ওজোনাইজেশন করে সমস্ত অশুদ্ধিদূর করা হয় ও জীবাণুমুক্ত হয়ে বিশুদ্ধ জলে রূপান্তরিত হয় ।
২ ) মাছ চাষ করে নিকাশী ময়লাজল পরিশোধন
পূর্ব কলকাতার জলাভূমিতে দেশীয় পদ্ধতিতে মাছ চাষ করে নিকাশী জলের ময়লা কমানো হচ্ছে । আবর্জনা সমৃদ্ধ জল ভেড়ির মাধ্যমে প্রবাহিত করা যায় । এই ভেরিতে মাছ করা হয় । তাকে Sewage treated Fisheries , ( SFF ) বলে । এইভাবে প্রতিদিন মহানগরীর প্রায় ৬৮ কোটি লিটার ময়লা জল পরিশ্রুত হয় ।
৩ ) পরিত্যক্ত জল বাগানে
রান্নাঘর , বাথরুম , টয়লেটের ব্যবহৃত জল কীভাবে পুনর্ব্যবহারযোগ্য করা যায় সেটাও ভাবা হয়েছে নানাভাবে । কারণ মাত্রাধিক জল তুলে নেওয়ার ফলে ভূগর্ভস্থ জলতল ( Ground water Table ) নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মাটির নিচের মূল্যবান জলভান্ডার প্রায় বিপন্ন । সব থেকে অভিনব মনে হয় সয়েল বায়োটেকনোলজি ( Soil Bio - technology ) পদ্ধতিতে এই জলের বিশুদ্ধকরণ ও ব্যবহার । প্রকৃতি যেসব দূষিত জলকে বিশুদ্ধ করে , একই নিয়ম অবলম্বন করা হয়েছে এখানে । প্রথমে পরিত্যক্ত জল তারজালি বা ছাঁকনির মধ্যে প্রবাহিত করে জমা হয় সিমেন্টের চৌবাচ্ছায় । সেখান থেকে নুড়ি - পাথর বা গ্র্যাভেল দিয়ে তৈরি একটি স্তরের মধ্যে পাঠানো হয় এই জল । এই স্তরে বিভিন্ন ধরনের ভাসমান অপদ্রব্য ও জৈব অংশ আলাদা হয়ে যায় । পরবর্তী পর্যায়ে আলাদাভাবে সংগ্রহ করে এই জল স্প্রে করা হয় পাশের একটি জমিতে , যার উপরিভাগ ঢাকা থাকে লতা ও গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ দিয়ে । এখানে পরিত্যক্ত জলে নাইট্রোজেনের পরিমাণ নির্ধারিত হয় বা নাইট্রোজেনের সমতা বজায় রাখা হয় । স্তরটির নিচের দিকে থাকে ব্যাকটেরিয়া ও কেঁচোসমৃদ্ধ কালচার মিডিয়াম ( Culture medium ) । যার সাহায্যে প্রায় চার - পাঁচ ঘন্টার মধ্যে সম্পূর্ণভাবে বিশুদ্ধ হয় পরিত্যক্ত জল । এই জল অনায়াসে কাজে লাগানো যায় সবজি ও ফুল - ফলের চাযে । উদাহরণস্বরূপ উল্লেখযোগ্য মুম্বাই শহরের কয়েকটি সফল প্রকল্পের কথা । যেখানে প্রতি পাঁচশো বর্গমিটার জমিতে পরিত্যক্ত জল পরিশোধিত হয় প্রায় পঞ্চাশ ঘনমিটার প্রতিদিন । এক একটি ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের কর্মক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আনুষাঙ্গিক খরচও কমতে থাকে সমান্তরালভাবে । শুধুমাত্র ঘরের পরিত্যক্ত জলই নয় , সুইমিং পুল , পুকুর ইত্যাদির নোংরা জলও পরিষ্কার করা যায় একই পদ্ধতিতে ।
৪ ) লবণমুক্তকরণ ( De - salination ) : নিম্নলিখিত পদ্ধতিগুলির দ্বারা জলকে লবণমুক্ত করা যায় :
( ক ) পতন পদ্ধতি : লবণজলকে প্রথমে ফুটিয়ে বাষ্পে পরিণত করতে হবে । এই উৎপন্ন বাষ্পকে পরে শীতল ও ঘনীভূত করলে বিশুদ্ধ জল পাওয়া যায় । পশ্চিমবঙ্গে দীঘা , রামনগর , ওড়িশা , তামিলনাড়ু প্রভৃতি সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চলে সমুদ্রের জলকে সূর্যের তাপের মাধ্যমে বাষ্পায়িত করে প্রচুর লবণ উৎপাদিত হয় ।
( খ ) হিমাঙ্ককরণ : হিমাঙ্ককরণ পদ্ধতিতে লবণজলকে বরফে পরিণত করা হয় । এই পদ্ধতিতে শুধুমাত্র বিশুদ্ধ জলই বরফে পরিণত হয় । পরে বরফকে গলালে বিশুদ্ধ ( মিঠে ) জল পাওয়া যায় ।
( গ ) অপোহনের সাহায্যে বিচাড়ণ : এই পদ্ধতিতে অপোহন নামে একটি বিশেষ পর্দা ব্যবহার করা হয় । এই পর্দার মধ্যে শুধুমাত্র বিশুদ্ধ জলই প্রবেশ করতে পারে । কখনই দ্রাব্যলবণ প্রবেশ করতে পারবে না । এই কৌশলে অনায়াসেই সমুদ্রের জলের লবণ বিতাড়িত করে পানীয় জলে পরিণত করা সম্ভব ।


মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন