.png)
Tripura University BA 4th semester political science broad question Bangla answer
প্রশ্ন : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের ক্ষমতা ও কার্যাবলী আলোচনা করো । ( Discuss the powers and functions of the Senate in USA) অথবা সিনেটকে বিশ্বের সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী উচ্চকক্ষ বলা হয় কেন ? ( Why Senate is called the most powerful chamber of the world ?)
উত্তর : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বি - কক্ষবিশিষ্ট আইনসভায় উচ্চকক্ষ সিনেট এবং নিম্নকক্ষ জনপ্রতিনিধিসভা নামে পরিচিত । মার্কিন সিনেট প্রতিটি অঙ্গরাজ্য থেকে ২ জন করে নির্বাচিত সদস্য নিয়ে মোট ১০০ জন সদস্য দ্বারা গঠিত । সিনেট সদস্য প্রার্থীকে মার্কিন নাগরিক এবং ৩০ বছর বয়স্ক হতে হবে । সাধারণভাবে সিনেট একটি স্থায়ী কক্ষ এবং কার্যকাল ৬ বছর । প্রতি ২ বছর অন্তর এক তৃতীয়াংশ সদস্য নির্বাচিত হন ।
ক্ষমতা ও কার্যাবলী :
মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ হিসাবে সিনেট এমন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা ও কার্যাবলী সম্পাদনের অধিকারী যার জন্য সিনেটকে বিশ্বের সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী দ্বিতীয় কক্ষ বলা হয় । লীণ্ডাস রোজার্স - এর মতে , “ সিনেট হল আধুনিক রাজনীতির সর্বাপেক্ষা স্মরণীয় আবিষ্কার । ”
( ১ ) আইন - সংক্রান্ত : শুধুমাত্র অর্থবিল ছাড়া অন্যান্য সমস্ত বিল সিনেটেও উত্থাপিত হতে পারে । অর্থবিল উত্থাপন করতে না পারলেও বিলের শিরোনাম বাদ দিয়ে সমস্ত অংশের পরিবর্তন ঘটাতে পারে । এছাড়া সিনেটের অনুমোদন ব্যতীত কোনো বিল আইনে পরিণত হতে পারে না । সুতরাং আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে সিনেট গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতার অধিকারী । ব্রিটেনে লর্ডসভা এরূপ ব্যাপক ক্ষমতা ভোগ করে না ।
( ২ ) নিয়োগ - সংক্রান্ত ক্ষমতা : সিনেটের পরামর্শ ছাড়া রাষ্ট্রপতির যে কোনো নিয়োগ বাতিল হয়ে যেতে পারে । অবশ্য বর্তমানে সিনেটের সৌজন্যের জন্য রাষ্ট্রপতি পূর্বেই সিনেটের সঙ্গে পরামর্শ করে থাকেন । অবশ্য এক্ষেত্রেও উল্লেখ করা প্রয়োজন যে , সিনেট মনে করলে সিনেটীয় সৌজন্যবোধ উপক্ষো করে রাষ্ট্রপতির যে কোনো নিয়োগকে বাতিল করতে পারে ।
( ৩ ) সন্ধি , চুক্তি ইত্যাদি অনুমোদন - সংক্রান্ত ক্ষমতা : দেশের রাষ্ট্রপ্রধান হিসাবে রাষ্ট্রপতি যে কোনো বৈদেশিক চুক্তি সম্পাদন করেন । তবে এই সমস্ত চুক্তির সম্পাদন সিনেটের অনুমোদন সাপেক্ষ । এছাড়া যে কোনো বৈদেশিক রাষ্ট্রের সঙ্গে আলাপ - আলোচনা করার জন্য সিনেট রাষ্ট্রপতির নিকট অনুরোধ করতে পারে ।
( ৪ ) তদন্ত - সংক্রান্ত ক্ষমতা : সিনেটের একটি অন্যতম ক্ষমতা হল যে , রাষ্ট্র প্রশাসনের সঙ্গে জড়িত যে কোন উচ্চপদস্থ কর্মচারীর কার্যাবলী তদন্ত করতে পারে । সিনেটের তদন্তের ভয়ে সরকারী কর্মচারীগণ ভীত ও সন্ত্রস্ত থাকেন ।
( ৫ ) বিচার - সংক্রান্ত ক্ষমতা : রাষ্ট্রপতি , উপরাষ্ট্রপতি উচ্চপদস্থ কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ইম্পিচমেন্ট আনয়ন করতে না পারলেও তা বিচার করার ক্ষমতা সিনেটের রয়েছে । এছাড়া উপরাষ্ট্রপতির নির্বাচন , বৈদেশিক সম্পর্ক ইত্যাদি ক্ষেত্রে সিনেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । ব্রিটেনে লর্ডসভার এই সমস্ত ক্ষমতা নেই ।
উপরিউক্ত কার্যাবলীর পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন সিনেটকে বিশ্বের সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী দ্বিতীয় কক্ষ বলা হয় ।
সিনেটের ক্ষমতা বৃদ্ধির কারণ : বর্তমানে সিনেটকে নিম্নলিখিত কারণেও বিশ্বের সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী দ্বিতীয় ব্যবস্থা বলা হয় : প্রথমত , মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সিনেট জনপ্রতিনিধি সভাকে নিয়ন্ত্রণ করে । মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি থাকার ফলে রাষ্ট্রপতির পরিবর্তে সিনেটই জনপ্রতিনিধি সবাকে নিয়ন্ত্রণ করে । যে কক্ষ জনগণের দ্বারা নির্বাচিত ও আইন প্রণয়নকারী সংস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করে সেই কক্ষ নিঃ সন্দেহে একটি শক্তিশালী কক্ষ । ব্রিটেনে লর্ডসভা অথবা ভারতে রাজ্যসভার অনুরূপ ক্ষমতা নেই ।
দ্বিতীয়ত , নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য নীতি থাকার জন্য সিনেট রাষ্ট্রপতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে । রাষ্ট্রপতি ও সিনেট পরস্পরকে নিয়ন্ত্রণ করে রাজনৈতিক ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে ।
তৃতীয়ত , সিনেট একটি স্থায়ী কক্ষ । এছাড়া এর সদস্যগণ প্রত্যক্ষভাবে জনগনের দ্বারা প্রতিটি অঙ্গরাজ্য থেকে নির্বাচিত হয়ে থাকেন । এর ফলে অভিজ্ঞতা , দক্ষতা এর সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সিনেট প্রতিনিধি সভা থেকে অধিক শক্তিশালী হয়ে উঠেছে ।
চতুর্থত , মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ , ডাক্তার , উকিল , আইনীজীবী সকলেই জনপ্রতিনিধি সভার সদস্য হওয়া অপেক্ষা সিনেটের সদস্য হওয়া অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ বলে মনে করেন ।
পঞ্চমত , নিরপেক্ষতা সিনেটের একটি অন্যতম উপাদান হিসাবে কাজ করে । বিশ্লেষণ করে বলা যায় যে , রাষ্ট্রপতির দলভুক্ত সদস্যরাও রাষ্ট্রপতির কার্যাবলীর সমালোচনা ও প্রয়োজনবোধে অসম্মতি উত্থাপন করে থাকে । তত্ত্বগতভাবে সিনেটকে নিরপেক্ষ বলে মনে হলেও বুর্জোয়া সমাজ ব্যবস্থার প্রতি অধিক আস্থাসম্পন্ন রাষ্ট্রপতির কার্যাবলীর সমর্থন প্রকাশ করাই সিনেটের অন্যতম কাজে পরিণত হয়েছে ।
পরিশেষে বলা যায় , পরিবর্তিত আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং অভ্যন্তরীন সঙ্কট থেকে মার্কিন ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখার গুরুদায়িত্ব রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সিনেটের হস্তেও অর্পিত হয়েছে । এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক ল্যাস্কি মন্তব্য করেন যে – সিনেটের সহযোগিতা ছাড়া রাষ্ট্রপতি চলতে পারে না । এর ফলে সিনেট আজ একটি অদ্বিতীয় ক্ষমতাসম্পন্ন দ্বিতীয় কক্ষে পরিণত হয়েছে । সুতরাং উচ্চকক্ষ হিসাবে মার্কিন সিনেট ব্রিটেনের লর্ডসভার তুলনায় অধিকতর মর্যাদার অধিকারী হয় । হ্যারিস মন্তব্য করেন । Senate is the most powerful chamber of the world . আইন প্রণয়ন , শাসনবিভাগকে নিয়ন্ত্রণ , পররাষ্ট্র বিষয়ে মার্কিন সিনেট ব্রিটিশ লর্ডসভা অথবা ফরাসি সিনেটের তুলনায় ক্রমাগতভাবে প্রাধান্য বিস্তার করেছে । তাই সিনেটকে বিশ্বের সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী দ্বিতীয় কক্ষ হিসেবে অভিহিত করা হয় ।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন