নির্দেশনা ও পরামর্শদান ( Guidance and Counselling )
উদ্দেশ্য ( Objectives )
শিক্ষার্থীরা ব্যক্তিত্বের অর্থ , সংজ্ঞা , স্বরুপ , ধরন ইত্যাদি সম্পর্কে অবগত হবে ।
শিক্ষার্থীরা নির্দেশনার অর্থ , সংজ্ঞা প্রকারভেদ , শিক্ষায় নির্দেশনার গুরুত্ব ইত্যাদি সম্পর্কে জানবে ।
শিক্ষার্থীরা পরামর্শদানের অর্থ , সংজ্ঞা , পদ্ধতি , বৈশিষ্ট্য , শিক্ষায় পরামর্শদানের গুরুত্ব ইত্যাদি সম্পর্কে জানবে ।
শিক্ষার্থীরা অপসঙ্গতিমূলক আচরণের অর্থ , সংজ্ঞা , কারণসমূহ , ধরন , প্রতিকারের উপায় ইত্যাদি অবগত হবে ।
প্রাক্ - কথন ( Pre - face )
( ব্যক্তিত্বের ( Personality ) বিকাশ দুটো শক্তির উপর নির্ভর করে । একটি হল বংশগতি ( Heridity ) অপরটি হল পরিবেশ ( Environment ) ঐ ব্যক্তি মানসের যে - কোনো অগ্রগতি এই দুই ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় । কোনো বিশেষ অবস্থায় , বংশগতি কতটা ব্যক্তির বিকাশে সহায়তা করবে , তা নির্ভর করে পরিবেশ তার উপর কতটা ক্রিয়াশীল । আবার পরিবেশ ব্যক্তির উপর কতটা প্রভাব বিস্তার করবে তা নির্ণয় করে দেবে বংশগতি । এইভাবে ব্যক্তিজীবনে প্রতিনিয়ত এক সংগ্রাম চলছে । জীবনধারণের তাগিদে পরিবেশের সঙ্গে মানুষ প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে চলছে । কোনো বিশেষ মুহূর্তে কোনো বিশেষ আচরণ এই সংগ্রামেরই ফল । ব্যক্তির দৃষ্টির অগোচরে নানারকম ঘটনা ব্যক্তির উপর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রভাব বিস্তার করতে পারে । সুতরাং , ব্যক্তিত্ব দৈহিক , মানসিক সমস্ত রকম শক্তি সম্ভাবনার একটি সুষম সমন্বয় ।
বর্তমানের দ্রুত পরিবর্তনশীল সমাজ ব্যবস্থায় বেশিরভাগ ব্যক্তিই পরিবর্তিত পরিস্থিতি ও সমাজ পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে চলতে পারছে না । সেইজন্য ‘ নির্দেশনা ' এই ধারণাটি বিগত কয়েক দশক ধরে অভাবনীয়ভাবে উন্নত হয়েছে । নির্দেশনার চাহিদাটি ক্রমশই বৃদ্ধি পাচ্ছে যাতে পরিবর্তনশীল সমাজের সঙ্গে ব্যক্তি সহজেই সংগতিবিধান করতে পারে । ' নির্দেশনা ’ কেবলমাত্র শিক্ষার ক্ষেত্রে নয় , আজকাল সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শিক্ষাবিদ , শিল্পপতি , রাজনীতিবিদ প্রমুখ সকলেই এর উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন । এক কথায় প্রত্যেক ব্যক্তি যিনি মানব কল্যাণে আগ্রহী তিনিই যথাযোগ্য নির্দেশনার উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন ।
প্রত্যেক ব্যক্তিই জীবনের কোনো না কোনো সময়ে অন্যের পরামর্শ গ্রহণ করে থাকে । প্রত্যেক ব্যক্তির জীবনেই সমস্যা আসে , আর সেই সমস্যা সমাধানের জন্য সে সাহায্য প্রার্থনা করে । ব্যক্তিই এই পারস্পরিক নির্ভরতার নীতির উপর ভিত্তি করেই পরামর্শদান ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে । পরামর্শদান এবং পরামর্শ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা বর্তমানে ব্যক্তিই একটি মৌলিক চাহিদা । বিজ্ঞান ও কারিগরীর যুগে এর প্রয়োজনীয়তা অনেক বেড়ে গেছে । ব্যক্তির চাহিদা অনুযায়ী সমস্যা চিহ্নিতকরণ এবং যেগুলো পরিতৃপ্তির অনুকূল অবস্থা সৃষ্টি করে ব্যক্তিকে সহায়তা দানের পদ্ধতি স্থির করা হয় । পরামর্শদানে প্রত্যেক ব্যক্তিকে এই ধরনের বিজ্ঞানভিত্তিক সহায়তা দানের লক্ষ্যে কাজ করা হয়ে থাকে । বর্তমানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান , শিল্প প্রতিষ্ঠান , বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান , চিকিৎসাক্ষেত্র প্রভৃতি প্রায় সমস্ত ক্ষেত্রে পরামর্শদানের ব্যাপারে প্রয়োজনীয়তার সৃষ্টি হয়েছে ।
মানব সভ্যতা যতই অগ্রসর হচ্ছে ; ব্যক্তির দৈনন্দিন জীবন ততই জটিল আকার ধারণ করছে । সমস্যা বহুল জীবনে সব সমস্যার সমাধান ঘটিয়ে , সব ধরনের চাহিদা পরিপূরণ করে সংগতি বিধান প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে । তাই শিক্ষাক্ষেত্রে মানসিক সুস্বাস্থ্যের গুরুত্ব সর্বজন স্বীকৃত । দেহের কোনো বিশেষ অংশের ক্রিয়া সঠিকভাবে না হলে আমাদের দৈহিক অসুস্থতা দেখা দেয় , তেমনি মানসিক বিভিন্ন প্রক্রিয়া সঠিকভাবে সংগঠিত না হলে মানসিক অপসংগতি দেখা দেয় । বিদ্যালয়ে শিশুদের মধ্যে এ ধরনের মানসিক অপসংগতি নানা রকম আচরণগত সমস্যার সৃষ্টি করে । অপসংগতিমূলক আচরণ শিক্ষার্থীর পরবর্তী জীবনকে প্রভাবিত করে । তাই মানসিক সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে হলে অপসংগতিমূলক আচরণ যতদূর সম্ভব দূর করতে হবে ।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন