সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

বৈশিষ্ট্যযুক্ত পোস্ট

ত্রিপুরা রাজ্য কিভাবে স্বাধীন ভারতের সাথে যুক্ত হয় ?

 How did Tripura Join as a State of Independent India? ত্রিপুরা রাজ্য কিভাবে স্বাধীন ভারতের সাথে যুক্ত হয় ? ভূমিকা ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ১৭ মে ত্রিপুরার মহারাজা বীর বিক্রম কিশোর মানিক্য বাহাদুর ৩৯ বছর বয়সে পরলোক গমন করলে তার পুত্র কিরীট বিক্রম কিশোর দেববর্মন মানিক্য বাহাদুর ত্রিপুরা রাজ্য ও চাকলা রোশনাবাদের জমিদারি উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত হন। তিনি নাবালক থাকায় ভারত সরকারের পরামর্শ অনুযায়ি রাজমাতা মহারাণি কাঞ্চনপ্রভা দেবীর নেতৃত্বে রাজপ্রতিনিধি শাসন পরিষদ বা কাউন্সিল অব রিজেন্সি গঠিত হয়। মহারাণি কাঞ্চনপ্রভা দেবী এই পরিষদের প্রেসিডেন্ট এবং রাজকুমার ব্রজেন্দ্র কিশোর দেববর্মন বাহাদুর ভাইস প্রেসিডেন্ট নিযুক্ত হন। মেজর বঙ্কিম বিহারী দেববর্মন ও মন্ত্রী রাজরত্ন সত্যব্রত মুখার্জি এই পরিষদের সদস্য নিযুক্ত হন। (২) পাকিস্তানের ত্রিপুরা আক্রমনের ষড়যন্ত্র ভারত স্বাধীনতা লাভের অল্পদিনের পরেই ত্রিপুরা রাজ্য এক গভীর সঙ্কটের সম্মুখীন হয়। ত্রিপুরা সীমান্তস্থিত কুমিল্লার মুসলিম ন্যাশনাল গার্ডের উদ্যোগে ও আগরতলার কতিপয় ব্যক্তির সহযোগিতায় পাকিস্তান ত্রিপুরা আক্রমনের পরিকল্পনা করে। ত্রিপুরার রা...

যোগ দর্শন ( Yoga Darshan )

যোগ দর্শন ( Yoga Darshan )

 ভূমিকা ( Introduction )

 যোগ দর্শন আস্তিক এবং সাংখ্য দর্শনের সমানতন্ত্ররূপে প্রসিদ্ধ অর্থাৎ এই দর্শন বেদের প্রামাণ্য বিশ্বাসী এবং অধিকাংশ সিদ্ধান্তই সাংখ্যানুসারী । তবে ঈশ্বর প্রসঙ্গে তাঁরা ভিন্নমত । ঐতিহ্যানুসারে সাংখ্যগণ নিরীশ্বরবাদী , আর যোগ দর্শন সেশ্বরবাদী । তাই সাংখ্যকে নিরীশ্বর সাংখ্য এবং যোগকে সেশ্বর সাংখ্য বলা হয় । তাছাড়া সাংখ্য দর্শন যেখানে তাত্ত্বিক আলোচনায় আগ্রহী , যোগ দর্শন সেখানে সেই তত্ত্বের প্রয়োগ বা ব্যবহারে আগ্রহী । একটি তত্ত্বমূলক এবং অপরটি প্রয়োগমূলক ।

 আধুনিককালে সাংখ্য ও যোগ দুটি স্বতন্ত্র দর্শনতন্ত্ররূপে পরিচিত । যোগ দর্শনের প্রতিষ্ঠাপক মহর্ষি পতঞ্জলি । তবে তিনি যোগের প্রবর্তক নন , কেননা তার পূর্বেও যোগীরা যোগ জানতেন । যোগ দর্শনকে পাতঞ্জল দর্শনও বলা হয় , মহর্ষি পতঞ্জলি রচিত যোগসূত্র বা পাতঞ্জলসূত্র এই দর্শনের আদি আকর গ্রন্থ । তবে এই পতঞ্জলি এবং পানিনির মহাভাষ্যকার পতঞ্জলি অভিন্ন কিনা সে বিষয়ে মতান্তর রয়েছে । 195 টি সূত্র সম্বলিত যোগসূত্র চারটি অধ্যায়ে বিভক্ত ।

 সমাধিপাদ

 সমাধিপাদে 51 টি সূত্র রয়েছে এবং এই সূত্রগুলির দ্বারা যোগের স্বরূপ ও প্রকার , উদ্দেশ্য , চিত্তবৃত্তি নিরোধ , যোগাঙ্গ ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে । এজন্য সমাধিপাদকে যোগপাদও বলা হয় ।

 সাধন পাদ

 সাধনপাদে 55 টি সূত্রের মধ্য দিয়ে মূলত ক্রিয়া যোগের প্রয়োজনীয়তা ও ফল প্রদর্শিত হয়েছে । এই অধ্যায়ে কর্মফল , দুঃখ , দুঃখের কারণ ও দুঃখের নিবৃত্তির উপায় সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে ।

 বিভূতিপাদ

 এই অধ্যায়ে যোগের মাধ্যমে যোগীর অলৌকিক শক্তি , ধ্যান , ধারণা ও বিবেক খ্যাতি ইত্যাদির বর্ণনা 55 টি সূত্রের মাধ্যমে আলোচনা করা হয়েছে । কৈবল্যপাদ

 কৈবল্যপাদে

 কৈবল্যের স্বরূপ ও প্রকার , পরলোক , পুরুষের সত্তা ইত্যাদি 34 টি সূত্র অবলম্বনে বর্ণিত হয়েছে ।

 যোগ শব্দের অর্থ

 সংস্কৃত ‘ যুজ ’ ধাতুর উত্তর ‘ ঘঙ ’ প্রত্যয় নিবেশে ‘ যোগ ’ শব্দের উৎপত্তি হয় । ‘ যুজ ’ ধাতুর অর্থ সংযোগ বা সমাধি । সুতরাং ব্যুৎপত্তিগত দিক থেকে যোগ বলতে সংযোগ বা সমাধিকে বোঝায় । তবে মহর্ষি পতঞ্জলি যোগের লক্ষণ প্রসঙ্গে বলেছেন , ‘ যোগশ্চি ও বৃত্তি নিরোধ ’ অর্থাৎ যোগ বলতে চিত্তবৃত্তি নিরোধকে বোঝায়  বুদ্ধি , অহংকার ও মন এই ত্রিতত্ত্বকে একত্রে যোগদর্শনে অন্তঃকরন বা চিত্ত বলা হয় । আর চিত্তের পরিণাম বা বিকারকে চিত্তবৃত্তি বলে । 

চিত্তবৃত্তি

 ‘ বৃত্তি ’ শব্দের অর্থ পরিনাম বা বিকার  তাই চিত্তের পরিনাম বা ধিকারকে চিত্তবৃত্তি বলে । যোগদর্শনে পাঁচপ্রকারের চিত্তবৃত্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে । প্রমাণ , বিপর্যয় , বিকল্প , নিদ্রা ও স্মৃতি 

 প্রমাণ

 প্রমাণ হল একপ্রকার জ্ঞানাত্মক চিত্তবৃত্তি । এরুপ চিত্তবৃত্তির দ্বারা প্রমা উৎপন্ন হয় । প্রমান ত্রিবিধ - প্রত্যক্ষ , অনুমান ও আগম । চিত্ত ইন্দ্রিয় প্রণালীর সহায়তায় বাহ্য বিষয়ের সাথে সম্বন্ধযুক্ত হলে ঐ বিষয় সম্বন্ধে বিশেষ নিশ্চয়রূপ যে চিত্তবৃত্তি উৎপন্ন হয় তাকে প্রত্যক্ষ প্রমাণ বলে । প্রত্যক্ষে অপ্রাপ্ত হেতুগম্য বিষয়ের জ্ঞানের করণরূপ চিত্তবৃত্তিকে অনুমান প্রমাণ বলে । বেদ ও বেদানুসারী স্মৃতি , পুরাণ প্রভৃতিকে আগম প্রমান বলা হয় ।

 বিপর্যয়

 বিপর্যয় নামক চিত্তবৃত্তি হল অতদ্রূপ , অপ্রতিষ্ঠ মিথ্যাজ্ঞান । বিপর্যয় বলতে ভ্রান্তজ্ঞান বা সংশয়জ্ঞান বা সংশয়কেই বোঝায় । যেমন রজ্জুতে সর্পভ্রম ।

 বিকল্প

 শব্দবোধের অনুসারী বিষয় অলীক বা শূন্য হলে বিকল্প নামক চিত্তবৃত্তি হয় । শুধু শব্দকে আশ্রয় করে যে জ্ঞান অর্জন করা হয় , যদিও সেই শব্দের অর্থানুসারে কোনো বাস্তব বস্তুর অস্তিত্ব নেই , তাকে বিকল্প বলা হয়  যেমন : - আকাশকুসুম , অনন্ত ।

 নিদ্রা

 জাগ্ৰত চৈতন্য ও স্বপ্নকালীন অভিজ্ঞতার অভাবহেতু চিত্তে যে বৃত্তির উদয় হয় তাই হল নিদ্রা । যোগ দর্শনে নিদ্রা বলতে সুষুপ্তিকে বোঝায়  চিত্তে তমোগুণের প্রাধান্যের দরুন এই অবস্থা সৃষ্টি হয় যার ফলে মানুষের জাগ্রত অবস্থার অভিজ্ঞতা এবং স্বপ্নের অভিজ্ঞতা সবই আচ্ছন্ন হয়ে যায় ।

 স্মৃতি

 স্মৃতিও এক প্রকারের চিত্তবৃত্তি  কোনা পরিবর্তন না ঘটিয়ে অভিজ্ঞতার পুনঃপ্রকাশের নাম স্মৃতি ।

 ক্লেশ

 উপরোক্ত পঞ্চবিধ চিত্তবৃত্তিকে ক্লিষ্ট ও অক্লিষ্ট এই দুই ভাগে ভাগ করা যায় । যে চিত্তবৃত্তি অবিদ্যাপ্রসূত এবং বন্ধনের কারণ তাকে ক্লিষ্ট চিত্তবৃত্তি বলে ( সংসার বন্ধনাদি ক্লেশ ) । অক্লিষ্ট চিত্তবৃত্তি ঠিক এর বিপরীত অক্লিষ্ট চিত্তবৃত্তি বন্ধনের অপঘাতক ও মুক্তির সহায়ক । যোগ দর্শনে পাঁচপ্রকার ক্লেশের কথা বলা হয়েছে । সেগুলি হল - অবদ্যিা , অস্মিতা , রাগ , দ্বেষ ও অভিনিবেশ । ক্লেশের উপস্থিতিতেই ধর্মাধর্মরূপ কর্মের উৎপত্তি হয় এবং পরিণতিতে জীবের বন্ধন দৃঢ় হয় । নিম্নে এগুলো সম্পর্কে আলোচনা করা হল—

 অবিদ্যা

 অনিত্যকে নিত্যরূপে , অশুচিকে শুচি রূপে , দুঃখকে সুখ রূপে অনাত্মাকে আত্মারূপে জ্ঞানই অবিদ্যা । বস্তু স্বরূপত যা তাকে ভিন্নরুপে জানাই অবদ্যিা ।

 অস্মিতা

 আত্মাকে বুদ্ধির সঙ্গে অভিন্ন মনে করার নাম অস্মিতা । এই অস্মিতা ক্লেশের ফলে পুরুষ নিঃসঙ্গ ও উদাসীন হয়েও নিজেকে কর্তা এবং ভোক্তা মনে করে ।

 রাগ

 যোগসূত্রকার রাগের পরিচয় দিতে গিয়ে বলেছেন ‘ সুখানুশয়ী রাগ ' অর্থাৎ সুখসাধনের প্রতি আসক্তিকে রাগ নামক ক্লেশবৃত্তি বলে । একে তৃয়া , লোভ বা গৰ্দ্ধও বলা হয় । যদিও অবিদ্যাই সকল ক্লেশের মূল তথাপি অস্মিতা থেকেই রাগ নামক ক্লেশের উৎপত্তি ।

 দ্বেষ

 দ্বেষ প্রসঙ্গে যোগসূত্রকার বলেছেন , ' দুঃখানুশয়ী দ্বেষ ’ অর্থাৎ দুঃখ সাধনের প্রতি বিরক্তিবোধ থেকে দ্বেষ নামক ক্লেশবৃত্তি বলে । একে প্রতিধ , জিঘাংসা ও ক্রোধ নামেও অভিহিত করা হয় । 

অভিনিবেশ

 অভিনিবেশ হল মৃত্যুভয়রূপ ক্লেশ । পূর্ব জন্মসমূহে অনুভূত মরন দুঃখ থেকে বিবেকী / অবিবেকী জীবমাত্রেই যে মৃত্যুভয় উৎপন্ন হয় তাকে অভিনিবেশ বলে ।

 চিত্তভূমি

 যোগের উদ্দেশ্য হল অবিবেকজ্ঞান দূর করে বিবেকজ্ঞানের প্রতিষ্ঠা করা । কিন্তু যতক্ষণ চিত্তের পরিণাম বা বিবেক থাকবে এবং আত্মা বা পুরুষের চৈতন্য তাতে প্রতিফলিত হবে , ততক্ষণ এই চিত্তবৃত্তিগুলি পুরুষ বা আত্মারই বৃত্তি বলে মনে হবে । সেইকারণেই যোগশাস্ত্রে চিত্তবৃত্তি নিরোধের কথা বলা হয়েছে । প্রকৃতিজাত চিত্ত প্রকৃতির ন্যায়ই ত্রিগুণাত্মক । কিন্তু মূল প্রকৃতিতে সত্ত্ব , রজ :, তম : – এই গুণত্রয় যেরুপ সাম্যাবস্থায় থাকে চিত্ততে সেরূপ থাকেনা । প্রতিটি গুণই অপর দুইগুণকে অভিভূত করে স্বীয় কতৃত্ব প্রচেষ্টায় সচেষ্ট হয় । এর থেকেই চিত্তের নানান অবস্থা বা চিত্তভূমির সৃষ্টি হয় । চিত্তভূমি হল চিত্তের সহজ স্বাভাবিক অবস্থা । চিত্তভূমি পাঁচ প্রকার ক্ষিপ্ত , মুঢ় , বিক্ষিপ্ত , একাগ্র ও নিরুদ্ধ  নিম্নে এগুলো আলোচনা করা হল

 ক্ষিপ্ত

 অস্থির , সদা চঞ্চল এবং প্রতিমুহূর্তে বিষয় হতে বিষয়ান্তরে ধাববান চিত্তের অবস্থাকে ক্ষিপ্তাবস্থা বলে  ক্ষিপ্তভূমিক চিত্ত রজঃ ও তম : গুণ প্রধান । সংসারক্লিষ্ট অধিকাংশ সাধারণ মানুষের চিত্তই ক্ষিপ্তভূমিক । চিত্তের এরূপ অবস্থা যোগ সহায়ক নয় ।

 মূঢ়

 অত্যধিক ইন্দ্ৰিয়াসক্ত চিত্ত মুঢ়ভূমিক । এরূপ চিত্ত তমোগুণ প্রধান হওয়ায় মোহাচ্ছন্ন , অলস , নিষ্ক্রিয় এবং তত্ত্বচিন্তায় অসমর্থ । চিত্তের এরূপ অবস্থা যোগের অনুকূল নয় ।

 বিক্ষিপ্ত

 বিক্ষিপ্তভূমিক চিত্ত ক্ষিপ্তভূমিক চিত্ত অপেক্ষা কিঞিৎ উন্নত স্তরের । কেননা ক্ষিপ্তভূমিক চিত্ত সদাচঞ্জল , কিন্তু বিক্ষিপ্তভূমিক চিত্ত কখনো চঞ্চল কখনো স্থির । এরূপ চিত্তে তমোজ্ঞানের প্রাধান্য না থাকায় চিত্ত সংবৃত্ত কিছু সময়ের জন্য নির্দিষ্ট বিষয়ে নিবিষ্ট হতে পারে । কিন্তু রজ : গুণের প্রভাবমুক্ত না হওয়ায় এই নিবেশ স্থায়িত্ব লাভ করেনা , চাঞ্চল্যবশত পরমূহুর্তেই বিষয়ান্তরে আকৃষ্ট হয় । এ অবস্থাও যোগ পদবাচ্য নয় ।

 একাগ্র

 একটিমাত্র অবলম্বন বিশিষ্ট চিত্তের ভূমিকে একাগ্রভূমি বলে  এরূপ ভূমিতে চিত্ত সম্পূর্নরূপে রজঃ ও তম : গুনের প্রভাবমুক্ত হয় । ফলত সত্ত্বগুণ পূর্নরূপে উদ্ভাসিত হয় এবং চিত্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে একটি নির্দিষ্ট ধ্যেয় বিষয়ে নিবদ্ধ হয় । কোনো বস্তুতে দীর্ঘকাল মন : সংযোগ এই অবস্থাতেই সম্ভব । এই অবস্থাকে বলা হয় সম্প্ৰজ্ঞাত সমাধি । যোগ দর্শনে সম্প্ৰজ্ঞাত সমাধির কয়েকটি স্তরের উল্লেখ করা হয়েছে- সবিতর্ক সমাধি , সবিচার সমাধি , সানন্দ সমাধি এবং সান্মিত সমাধি ।

 কোনো দেবতার মূর্তির মতো কোনো স্থূল বিষয়ে চিত্ত যখন নিবিষ্ট হয় তখন তাকে বলে সবিতর্ক সমাধি । তন্মাত্রের মতো সূক্ষ্ম বাহ্য জিনিসে যখন চিত্ত নিবিষ্ট হয় তখন তাকে বলা হয় সবিচার সমাধি । সূক্ষ্ম ইন্দ্রিয়ানুভূতির উপর নিবিষ্ট হলে তাকে বলা হয় সানন্দ সমাধি | সান্মিত সমাধিতে পৌঁছে ব্যক্তি অহম্ এর পার্থক্য উপলব্ধি করতে পারে ।

 নিরুদ্ধ

 যে ভূমিতে চিত্তের সর্ববিধ বৃত্তি নিরুদ্ধ হয় তাকে নিরুদ্ধভূমি বলে । এ অবস্থায় চিত্ত নিরালম্ব , শান্ত ও সমাহিত হয় । চিত্তবৃত্তির এরুপ নিরোধকে যোগ বলা হয় । যোগের ফলে আত্মা বৃত্তিসম্বন্ধ না হয়ে স্ব - স্বরূপে অবস্থান করে । একে অসম্প্ৰজ্ঞাত সমাধি বলে ।

 অষ্টাঙ্গযোগ

 যোগ দর্শনের চরম লক্ষ্য আত্মার কৈবল্যসিদ্ধি । কিন্তু সাধন ব্যতিরেকে সিদ্ধি সম্ভব হয়না । যোগ দর্শনে এই সাধনার জন্য অষ্টাঙ্গ যোগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে । তাই যোগকে মূলত প্রয়োগবিদ্যা বা সাধনশাস্ত্র বলা হয় । অষ্টাঙ্গ যোগের অনুষ্ঠান করলে অবিদ্যাদি পঞ্চপর্বরুপ ভ্রান্তজ্ঞানের ক্ষয় হয় এবং সম্যক জ্ঞানের উদ্ভাসন হয় । কৈবল্যের সাধনরূপ অষ্টাঙ্গ যোগ প্রসঙ্গে যোগসূত্রে বলা হয়েছে , ' যমনিয়মাসন - প্রানায়াম প্রত্যাহার ধারণাধ্যান সমাধায়োহষ্টাবঙ্গানি ' অর্থাৎ যম , নিয়ম , আসন , প্রাণায়াম , প্রত্যাহার , ধারনা , ধ্যান ও সমাধি - এই আটটি যোগাঙ্গ । নিম্নে এই আটটি যোগ সম্পর্কে আলোচনা করা হল

 যম

 কতকগুলি কর্ম থেকে প্রতিনিবৃতি হওয়াই যম - সাধন । অহিংসা , সত্য , অস্তেয় , ব্রহ্মচর্য ও অপরিগ্রহ এই পঞ্চসাধনকে একত্রে যম বলা হয় ।

 অহিংসা

 অহিংসা হল হিংসার অনুষ্ঠান । হিংসা ত্রিবিধ - কায়িক , বাচিক ও মানসিক । প্রাণী হত্যা কায়িক , প্রাণী হত্যার নির্দেশ দান বাচিক এবং প্রাণী হত্যার সকল্প মানসিক হিংসার দৃষ্টান্ত । তবে শুধুই হত্যাই নয় , প্রাণীকে যে কোনো প্রকার আঘাত বা দুঃখ দানই হিংসা । তাই অহিংসা হল যে কোনো প্রকার হিংসা থেকে পূর্ণ বিরতি ।

 সত্য

 সত্য শব্দের দ্বারা সত্য দর্শন , সত্য শ্রবন ও সত্য ভাষণ বোঝায় । অসত্য সম্পূর্ণ বর্জনীয় ।

 অস্তেয়

 অস্তেয় বলতে বোঝায় কায়িক , বাচিক ও মানসিক সর্বপ্রকার চৌর্যবৃত্তি হতে বিরতি । যোগ দর্শনে অস্তেয় বলতে কেবল পরদ্রব্য অগ্রহণ নয় , পরদ্রব্যের প্রতি স্পৃহাও পরিতাজ্য ।

 ব্রহ্মচর্য

 ব্রহ্মচর্য বলতে পূর্ণ যৌন সংযমকে বোঝায় । যৌনাচার কায়িক ও মানসিক উভয়বিধ হয় । ব্রহ্মচর্যে উভয়বিধ যৌনাচার সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ।

 অপরিগ্রহ

 জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়ের অতিরিক্ত বিষয় অগ্রহণই অপরিগ্রহ । জীবন রক্ষার জন্য ন্যূনতম যেটুকু প্রয়োজন কেবল সেটুকু ভোগ্য বস্তুই গ্রহণীয় । অপরিগ্রহের দ্বারা যোগিগণের কৈবল্যের প্রতিবন্ধক ভোগবিলাসিতাকে পরিহার করা হয়েছে ।

 নিয়ম

 যোগসূত্রকার বলেছেন , ' শৌচ - সন্তোষ- তপঃ স্বাধ্যায়েশ্বর প্রনিধানানি নিয়মা : অর্থাৎ শৌচ , সন্তোষ , তপঃ , স্বাধ্যায় ও ঈশ্বর প্রণিধান এই পঞ্চসাধনকে একত্রে নিয়ম বলে । ‘ শৌচ ’ শব্দের দ্বারা দৈহিক ও মানসিক উভয়বিধ শুচিতাকে বোঝানো হয়েছে । সন্তোষ হল একপ্রকার মানসিক সংযম , ক্ষুধা - তৃষ্ণা , শীত - উয় , কাষ্ঠ মৌন , আকারমৌন ইত্যাদি বিপরীত অবস্থা সহ্য করাকে তপশ্চর্যা বলে । মোক্ষের উপকারক শাস্ত্রাদি অধ্যয়ন এবং ইষ্টমন্ত্র জপকে স্বাধ্যায় বলে । প্রনব জপের ফলে ইষ্ট বিষয়ের দর্শনলাভ হয় । পরমগুরু ঈশ্বরে সর্বকর্ম সমর্পনকেই ঈশ্বরপ্রণিধান বলে । এরূপ অবস্থায় যোগী স্বস্থ হন , অর্থাৎ তাঁর আত্মা স্ব - স্বরূপে অবস্থান করে ।

 আসন

 মনঃসংযোগের জন্য বিভিন্ন ধরনের ভঙ্গি বা অভ্যাসকে বলা হয় আসন । আসন প্রসঙ্গে যোগসুত্রকার বলেছেন , ‘ স্থিরসুখমাসনম্ ' অর্থাৎ স্থির ও সুখদায়ক উপবেসন - ই আসন । আসন - এর অনুশীলনে দেহের নিয়ন্ত্রণ ও মনের একাগ্রতা সাধন সম্ভব হয় । যোগ শাস্ত্রে পদ্মাসন , বীরাসন , ভদ্রাসন , স্বস্তিকাসন , দণ্ডাসন , ময়ূরাসন ইত্যাদি শারীরিক আসনের উল্লেখ রয়েছে ।

 প্রাণায়াম

 বিশেষ নিয়মে শ্বাসপ্রশ্বাসের প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রন করার প্রক্রিয়া হল প্রাণায়াম । ব্যক্তির প্রাণবায়ুর শ্বাসরূপ অন্তর্মুখী গতি এবং প্রশ্বাসরূপ বহির্মুখী গতি একটি নির্দিষ্ট ছন্দে বিরামহীনভাবে চলে । এই প্রক্রিয়া যথাযথভাবে সম্পাদন করতে পারলে চিন্তা অন্তর্মুখী হয় এবং দীর্ঘসময়ব্যাপী আত্মচিন্তায় মগ্ন থাকা যায় ।

 প্রত্যাহার

 ইন্দ্রিয়গুলিকে তাদের বিষয় থেকে প্রতিনিবৃত্ত করে অন্তর্মুখী করার প্রক্রিয়াকে বলা হয় প্রত্যাহার । যোগ দর্শনে বলা হয়েছে , ইন্দ্রিয়গুলি যে পর্যন্ত তাদের নিজ নিজ স্বাভাবিক বিষয়ের প্রতি আকৃষ্ট হয় , সে পর্যন্ত মন চঞ্চল থাকে । তাই ইন্দ্রিয়গুলিকে বিষয়ানুরাগ থেকে মুক্ত করার জন্য প্রত্যাহার সাধনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ।

 ধারণা

 যোগ দর্শনে বলা হয়েছে , যে ব্যক্তি দীর্ঘ সময়ব্যাপী কোনো একটি বিষয়ে মনঃসংযোগ করতে পারেনা , সে সাধনার উচ্চতর স্তরে উঠতে পারেনা । তাই এই দর্শনে ধারণাকে একটি সাধন মার্গ হিসাবে গুরুত্ব দওেয়া হয়েছে । কোনো বিষয়ে দীর্ঘ সময় মনোনিবেশ করাকে বলা হয়েছে ধারণা । নাভি , হৃদয় , বক্ষ , কন্ঠ , তালু নাসিকাগ্র , নেত্র , ভ্রুযুগলের মধ্যভাগ বা দেবদেবীর মূর্তির মতো কোনো বাহ্যবস্তু ধারণার বিষয়বস্তু হিসাবে গ্রহণ করা যেতে পারে ।

 ধ্যান

 কোনো বিষয়ে বিরামহীন নিবিষ্ট চিন্তা করাকে যোগদর্শনে ধ্যান বলা হয় । ধ্যানস্থ অবস্থায় ধ্যানের বিষয়বস্তুর , অংশগুলি সম্পর্কে এবং সামগ্রিকভাবে বিষয়বস্তু সম্পর্কে সুস্পষ্ট পরিপূর্ণ জ্ঞান লাভ করা যায় ।

 সমাধি

 যোগ সাধনার সর্বশেষ পর্যায় হল সমাধি , এটি এমন একটি অবস্থা , যখন মন বিষয়বস্তুতে এতই নিবিষ্ট চিত্ত হয় যে চিন্তার বিষয় ব্যক্তির চৈতন্যকে সম্পূর্নভাবে আচ্ছন্ন করে ফেলে । এই অবস্থায় ব্যক্তিসত্তা আত্মময় হয়ে উঠে । এই অবস্থায় আত্মাই ধ্যানের কর্তা এবং বিষয় হয়ে উঠে । চিত্তবৃত্তি পরিপূর্ণভাবে নিরোধের জন্য এই সমাধি একান্তভাবে প্রয়োজন ।

 যোগদর্শনে উল্লিখিত এই অষ্টাঙ্গ যোগের মধ্যে দ্বিবিধ সাধন রয়েছে , বহিঃরঙ্গ সাধন ও অন্তরঙ্গ সাধন , যম , নিয়ম , আসন , প্রাণায়াম ও প্রত্যাহার - এই পাঁচটি বহিঃরঙ্গ । যোগসূত্রকার এগুলিকে সাধনপাদে সন্নিবিষ্ট করেছেন । আর ধারণা , ধ্যান ও সমাধি এই তিনটি অন্তরঙ্গ , যা একত্রে সংযম নামে খ্যাত , সেগুলিকে বিভূতিপাদে উল্লেখ করেছেন ।

 আধুনিক শিক্ষায় যোগ দর্শনের প্রাসঙ্গিকতা ( Relevance of Yoga Darshan in Modern Education )

 যোগ দর্শনে বলা হয়েছে , অজ্ঞানতাই মানুষের দুঃখের মূল কারণ । মানুষের এই দুঃখ দূর করার উপায় হিসাবে যোগ দর্শনে কিছু ব্যবহারিক কৌশল অবলম্বন করার উপদেশ দেওয়া হয়েছে । এই অর্থে যোগ দর্শনকে এক প্রকারের ব্যবহারিক দর্শনও বলা যায় । জীবনের দুঃখ মোচন করে মুক্তিলাভের জন্য মানুষের কি কি করণীয় এবং কি উপায়ে সেগুলি করতে হবে , সে বিষয়ে স্পষ্ট কার্যকরী নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যোগ দর্শনে অর্থাৎ ব্যক্তির প্রকৃত কল্যাণ সাধন , যোগ দর্শন শাস্ত্রের উদ্দেশ্য । তাই বলা যায় উদ্দেশ্যগত দিক থেকে যোগ দর্শন এবং শিক্ষার মধ্যে সাদৃশ্য বর্তমান । কারণ ব্যক্তিকল্যাণ সাধন করাও আধুনিক শিক্ষার লক্ষ্য ।

 যোগ দর্শনে চিত্তবৃত্তির পাঁচটি স্বাভাবিক স্তরের কথা উল্লেখ করা হয় যেগুলি আত্মার বিকাশ ঘটায় এবং এই স্তরগুলির মধ্যদিয়েই মানুষকে অগ্রসর হতে হয় । এই স্তরগুলি মনুষ্যজীবনে পর্যায়ক্রমে আসে । আধুনিক শিক্ষা , যে মনোবৈজ্ঞানিক নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত সেখানেও ব্যক্তি জীবনের বিকাশের কতগুলি ধারাবাহিক স্তরের উল্লেখ করা হয়েছে । এই স্তর বিভাগগুলির বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রক্ষা করেই শিক্ষা পরিকল্পনা রচনা করা হয় ।

 যোগসাধনায় যে অষ্টাঙ্গিক মার্গের কথা উল্লেখ করা হয়েছে , সেগুলিও আধুনিক শিক্ষায় স্বীকৃতি লাভ করেছে । ধারণা , ধ্যান এবং সমাধি যে মনঃসংযোগের সহায়ক একথা আধুনিক শিক্ষাবদিগণও স্বীকার করেন । অপরদিকে যম , নিয়ম , আসন , প্রাণায়াম ও প্রত্যাহারের মতো যোগগুলিও যে শিক্ষার্থীর মধ্যে মনঃ সংযোগের প্রস্তুতি আনে , সেকথাও আধুনিক শিক্ষায় পরোক্ষভাবে স্বীকার করা হয়েছে ।

 আধুনিক শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য হল শিক্ষার্থীর দৈহিক বিকাশে সহায়তা করা । শিক্ষার এই উদ্দেশ্যও যোগদর্শন দ্বারা প্রভাবিত । শিক্ষার্থীর দৈহিক বিকাশে সহায়তা করার জন্য আসন , প্রাণায়াম ইত্যাদির অনুশীলনকে আধুনিক শিক্ষার পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে । সুতরাং বিভিন্ন দিক থেকে বিচার করে বলা যায় , আধুনিক শিক্ষার অনেকগুলি নীতিই যোগ দর্শনের নীতির দ্বারা প্রভাবিত এবং আধুনিক শিক্ষার বহু কৌশল , যোগসাধনার কৌশলগুলিরই বিকল্পরূপ ।

 উপসংহার ( Conclution )

 সাংখ্য দর্শনের ব্যবহারিক প্রয়োগ হিসাবে মূলত যোগ দর্শনের উদ্ভব । তত্ত্বগতভাবে যোগদর্শনের বিরুদ্ধে কিছু আপত্তি উঠলেও আত্মতত্ত্ব জ্ঞান লাভ বা উপলব্ধি করার জন্য যোগদর্শনের গুরুত্ব অপরিসীম বলে গণ্য করা হয় ।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

আগামী' কবিতাটি 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

আগামী Class 12 Bengali Question 2023 সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো (MCQ)  প্রশ্নমান ১ class 12 bengali mcq question answer ১. “ক্ষুদ্র আমি তুচ্ছ নই”-বক্তা কে ? (ক) বৃক্ষ শিশু (খ) বনস্পতি (গ) বটবৃক্ষ (ঘ) সদ্য অঙ্কুরিত বীজ উত্তর: (ঘ) সদ্য অঙ্কুরিত বীজ। ২. অঙ্কুরিত বীজের ক্ষুদ্র শরীরে বাজে— (ক) ঝড় (খ) বৃষ্টি (গ) ভূমিকম্প (ঘ) তুফান উত্তর: (ক) ঝড়। ৩. অঙ্কুরিত বীজের শাখায় প্রত্যাহত হবে— (ক) পত্রমর্মর (খ) মর্মরধ্বনি (গ) পাখির কূজন (ঘ) বিচিত্রধ্বনি উত্তর: (খ) মর্মরধ্বনি । ৪. অঙ্কুরিত বৃক্ষশিশু অরণ্যের বিশাল চেতনা অনুভব করে— (ক) পত্রে (খ) পুষ্পে (গ) শিকড়ে (ঘ) শাখায় উত্তর: (গ) শিকড়ে। ৫. “জানি তারা মুখরিত হবে”—কীভাবে ? (ক) নব শতকের গানে (খ) নতুন দিনের গানে (গ) নব তারণ্যের গানে (ঘ) নব জীবনের গানে উত্তর: (গ) নব অরণ্যের গানে। ৬. অঙ্কুরিত বৃক্ষশিশু নব অরণ্যের গানে মিশে যাবে— (ক) বসন্তে (খ) বর্ষায় (গ) গ্রীষ্মে (ঘ) শীতে উত্তর: (ক) বসন্তে। ৭. অঙ্কুরিত বীজ কোথায় মিশে যাবে ? (ক) অরণ্যের দলে (খ) বৃহতের দলে (গ) ক্ষুদ্রের দলে (ঘ) মহীরুহ-র দলে উত্তর: (খ) বৃহতের দলে। ৮. অঙ্কুরিত বীজ নিজেকে বলেছে— (ক) ভ...

বীরচন্দ্র মানিক্য থেকে বীরবিক্রম কিশোর মানিক্য পর্যন্ত ত্রিপুরার আধুনিকীকরণ সম্পর্কে আলোচনা কর।

 Discuss the modernization of Tripura from Birchandra Manikya to Bir Bikram Kishor Manikya. বীরচন্দ্র মানিক্য থেকে বীরবিক্রম কিশোর মানিক্য পর্যন্ত ত্রিপুরার আধুনিকীকরণ সম্পর্কে আলোচনা কর।  ত্রিপুরায় আধুনিক যুগের সূচনা হয় মহারাজ বীরচন্দ্র মানিক্যের শাসনকালে। তিনি ব্রিটিশ ভারতের শাসন পদ্ধতির অনুকরণে ত্রিপুরার শাসন ব্যবস্থার সংস্কার করেণ এবং লিখিত আইন কানুন প্রনয়নের মাধ্যমে বিচার ব্যবস্থাকে সুসংবদ্ধ ও সুসংগঠিত করেণ। মোটের উপর বীরচন্দ্রমানিক্য (১৮৬২-১৮৯৬ খ্রি:) তাঁর আমলে ত্রিপুরা রাজ্য এক নতুন রূপ লাভ করে। ১) মিউনিসিপ্যালিটি গঠন তিনি ১৮৭১ খ্রিস্টাব্দে আগরতলা মিউনিসিপ্যালিটি গঠন করেন। তবে নাগরিক জীবনের সুযোগ সুবিধা বিধানে কিংবা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা হিসাবে দীর্ঘকাল কোনো কার্যকারী ব্যবস্থা গ্রহণে আগরতলা মিউনিসিপ্যালিটি ছিল ব্যর্থ। ১৯৮১ খ্রিস্টাব্দের ৩ জুলাই ডবলিউ. বি. পাওয়ার সাহেব ত্রিপুরা রাজ্যের প্রথম পলিটিক্যাল এজেন্ট নিযুক্ত হন।  ২) বিচার সংক্রান্ত সংস্কার প্রাচীনকাল হতে দেওয়ানি ও ফৌজদারি সংক্রান্ত বিচারের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি মহারাজ স্বয়ং সম্পাদন করতেন। ১৮৭২ খ্রিস্টা...

বীরচন্দ্র মানিক্যের পূর্ববর্তী সময়ে ত্রিপুরার অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা সম্পর্কে আলোচনা কর।

 Discuss the social and economic condition of Tripura before the accession of Birchandra Manikya. বীরচন্দ্র মানিক্যের পূর্ববর্তী সময়ে ত্রিপুরার অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা সম্পর্কে আলোচনা কর। ভূমিকা ত্রিপুরার মাণিক্য উপাধিকারী রাজন্যবর্গের মধ্যে কেউ কেউ ছিলেন আত্মমর্যাদাজ্ঞানহীন, ক্ষমতালোভী ও ষড়যন্ত্রী। এসব ক্ষমতালোভী ও ষড়যন্ত্রীরা মুঘল ফৌজদারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে অধিক সংখ্যক হাতি, নিয়মিত উচ্চ হারে খাজনা, নজরানা ইত্যাদি দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাজত্বের সনদ লাভ করতেন। এটা ত্রিপুরার দুর্বল অর্থনীতির উপর এক বিরাট আঘাত ও স্থায়ী ক্ষতস্বরূপ ছিল। তবে এ সময়ের শুভদিক হল ত্রিপুরায় ব্রিটিশ ভারতের অনুকরণে আইন প্রণয়নের সূত্রপাত, প্রশাসনিক বিধিব্যবস্থার প্রবর্তন, অর্থনৈতিক উন্নয়নের উন্মেষ ও সামাজিক সংস্কার। Economic Condition ১) চাষাবাদ ও কৃষি ত্রিপুরার অধিবাসীদের প্রধান জীবিকা হল কৃষি। কৃষিজ উৎপাদনের মধ্যে ধান, গম, আলু, আখ, সরিষা, ডাল জাতীয় শস্য, কার্পাস, তুলো, কচু, আদা, তরমুজ ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। শিকার ও পশুপালন করেও তারা জীবিকা নির্বাহ করত। এখানকার চাষযোগ্য সমতল জমির সাথে ...