How did Tripura Join as a State of Independent India? ত্রিপুরা রাজ্য কিভাবে স্বাধীন ভারতের সাথে যুক্ত হয় ? ভূমিকা ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ১৭ মে ত্রিপুরার মহারাজা বীর বিক্রম কিশোর মানিক্য বাহাদুর ৩৯ বছর বয়সে পরলোক গমন করলে তার পুত্র কিরীট বিক্রম কিশোর দেববর্মন মানিক্য বাহাদুর ত্রিপুরা রাজ্য ও চাকলা রোশনাবাদের জমিদারি উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত হন। তিনি নাবালক থাকায় ভারত সরকারের পরামর্শ অনুযায়ি রাজমাতা মহারাণি কাঞ্চনপ্রভা দেবীর নেতৃত্বে রাজপ্রতিনিধি শাসন পরিষদ বা কাউন্সিল অব রিজেন্সি গঠিত হয়। মহারাণি কাঞ্চনপ্রভা দেবী এই পরিষদের প্রেসিডেন্ট এবং রাজকুমার ব্রজেন্দ্র কিশোর দেববর্মন বাহাদুর ভাইস প্রেসিডেন্ট নিযুক্ত হন। মেজর বঙ্কিম বিহারী দেববর্মন ও মন্ত্রী রাজরত্ন সত্যব্রত মুখার্জি এই পরিষদের সদস্য নিযুক্ত হন। (২) পাকিস্তানের ত্রিপুরা আক্রমনের ষড়যন্ত্র ভারত স্বাধীনতা লাভের অল্পদিনের পরেই ত্রিপুরা রাজ্য এক গভীর সঙ্কটের সম্মুখীন হয়। ত্রিপুরা সীমান্তস্থিত কুমিল্লার মুসলিম ন্যাশনাল গার্ডের উদ্যোগে ও আগরতলার কতিপয় ব্যক্তির সহযোগিতায় পাকিস্তান ত্রিপুরা আক্রমনের পরিকল্পনা করে। ত্রিপুরার রা...
রাজনীতির অর্থ ব্যাখ্যা করো।
ভূমিকা: ‘রাজনীতি' বলতে কী বোঝায় তা এককথায় বলা কঠিন। রাজনীতির ইংরেজি প্রতিশব্দ ‘Politics' শব্দটি এসেছে গ্রিক শব্দ ‘Polis’ থেকে, যার অর্থ নগররাষ্ট্র। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক অ্যারিস্টট্স Politics নামক তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থের মাধ্যমেই তাঁর রাজনীতির আলোচনার সূচনা করেন, সেখানে রাজনীতি বলতে মূলত তৎকালীন গ্রিক নগররাষ্ট্র সম্পর্কিত আলোচনাকেই বোঝানো হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীকালে এই ধারণার ব্যাপক পরিবর্তন হয়।
[i] রাজনীতি প্রসঙ্গে আধুনিক ধারণা: আধুনিক রাষ্ট্র- বিজ্ঞানীদের মতে—রাজনীতি হল একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে মানবগোষ্ঠীগুলি এমন এক পরিস্থিতির অন্বেষণ করে, যেখানে গোষ্ঠীগুলি শান্তিপূর্ণ ও সফলভাবে নিজেদের উদ্দেশ্যপূরণ করতে পারে। অধ্যাপক অ্যালান বলের মতে, রাজনীতি হল—একধরনের কার্যকলাপ যা সমাজের সকল স্তরের বিরোধ ও তার মীমাংসার সঙ্গে যুক্ত। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী মিলারও বলেছেন যে, যেখানে কোনো বিরোধ নেই, যেখানে কোনো সমস্যা নিয়ে বিতর্ক হয় না সেখানে রাজনীতি অনুপস্থিত থাকে। মিলার, অ্যালান বল, ল্যাসওয়েল, রবার্ট ডাল প্রমুখের মতে, যেখানেই কোনো বিরোধ আছে, ক্ষমতার লড়াই আছে, সেখানেই আছে রাজনীতি। ডেভিড ইস্টন রাজনীতিকে ব্যাখ্যা করেছেন ‘মূল্যের কর্তৃত্বসম্পন্ন বণ্টন' হিসেবে। এই ব্যাখ্যানুসারে রাজনীতির পিছনে রয়েছে সম্পদের অপ্রতুলতা। সমাজে যেসব প্রয়োজনীয় বস্তু মানুষের চাহিদাপূরণ করে অথচ পরিমাণের দিক থেকে অপ্রতুল সেগুলিই হল ‘মূল্য’, আর এই অপ্রতুল মূল্যকে সমাজে বণ্টন করে দেওয়ার জন্যই দরকার ‘কর্তৃত্ব’।
[ii] রাজনীতি প্রসঙ্গে মার্কসীয় ধারণা: মার্কসীয়
দৃষ্টিতে রাজনীতি হল—একটি শ্রেণিগত ধারণা, যা ক্ষমতাকে কার্যকর করার ক্রিয়াকলাপের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকে। তাঁদের মতে, রাজনীতির পিছনে অন্য সব উপাদানের থেকেও অর্থনৈতিক উপাদানের প্রভাবই সবথেকে বেশি। এই কারণেই লেনিন রাজনীতিকে ‘অর্থনীতির ঘনীভূত প্রকাশ' বলে উল্লেখ করেছেন। অমার্কসবাদী রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা কিন্তু রাজনীতি ও অর্থনীতির মধ্যে এমন কোনো ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে স্বীকার করেন না ।
উপসংহার: সাধারণভাবে রাজনীতি বলতে—আমরা রাজনৈতিক দলগুলি সম্পর্কিত কাজকর্ম এবং সরকার গঠন ও পরিচালন সংক্রান্ত কাজকর্মকে বুঝে থাকি বটে, তবে আধুনিক মানবজীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রকেই প্রভাবিত করে চলেছে রাজনীতি। এই কারণেই রাজনীতি ও আধুনিক সমাজ ওতপ্রোতভাবে যুক্ত হয়ে পড়েছে।
.png)
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন