সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

রাষ্ট্রবিজ্ঞান লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

বৈশিষ্ট্যযুক্ত পোস্ট

ত্রিপুরা রাজ্য কিভাবে স্বাধীন ভারতের সাথে যুক্ত হয় ?

 How did Tripura Join as a State of Independent India? ত্রিপুরা রাজ্য কিভাবে স্বাধীন ভারতের সাথে যুক্ত হয় ? ভূমিকা ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ১৭ মে ত্রিপুরার মহারাজা বীর বিক্রম কিশোর মানিক্য বাহাদুর ৩৯ বছর বয়সে পরলোক গমন করলে তার পুত্র কিরীট বিক্রম কিশোর দেববর্মন মানিক্য বাহাদুর ত্রিপুরা রাজ্য ও চাকলা রোশনাবাদের জমিদারি উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত হন। তিনি নাবালক থাকায় ভারত সরকারের পরামর্শ অনুযায়ি রাজমাতা মহারাণি কাঞ্চনপ্রভা দেবীর নেতৃত্বে রাজপ্রতিনিধি শাসন পরিষদ বা কাউন্সিল অব রিজেন্সি গঠিত হয়। মহারাণি কাঞ্চনপ্রভা দেবী এই পরিষদের প্রেসিডেন্ট এবং রাজকুমার ব্রজেন্দ্র কিশোর দেববর্মন বাহাদুর ভাইস প্রেসিডেন্ট নিযুক্ত হন। মেজর বঙ্কিম বিহারী দেববর্মন ও মন্ত্রী রাজরত্ন সত্যব্রত মুখার্জি এই পরিষদের সদস্য নিযুক্ত হন। (২) পাকিস্তানের ত্রিপুরা আক্রমনের ষড়যন্ত্র ভারত স্বাধীনতা লাভের অল্পদিনের পরেই ত্রিপুরা রাজ্য এক গভীর সঙ্কটের সম্মুখীন হয়। ত্রিপুরা সীমান্তস্থিত কুমিল্লার মুসলিম ন্যাশনাল গার্ডের উদ্যোগে ও আগরতলার কতিপয় ব্যক্তির সহযোগিতায় পাকিস্তান ত্রিপুরা আক্রমনের পরিকল্পনা করে। ত্রিপুরার রা...

ভারতীয় সংবিধানের তৃতীয় অংশ (Part-III)

 ভূমিকা ভারতীয় সংবিধানের তৃতীয় অংশ (Part-III)-এ 12-35নং ধারার মধ্যে মৌলিক অধিকার সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে। কিন্তু মৌলিক অধিকার বলতে কী বোঝায় তা এককথায় বলা যথেষ্ট কষ্টসাধ্য ব্যাপার। সাধারণত নাগরিকদের অধিকারগুলির মধ্যে যেগুলি ব্যক্তিত্ব বিকাশের পক্ষে একান্ত প্রয়োজন বলে বিবেচিত হয়, সেগুলিকে মৌলিক অধিকার বলা হয়। এ ছাড়াও শাসন বিভাগ ও আইন বিভাগের কর্তৃত্বের বাইরে এইসব অধিকারগুলি রয়েছে বলে এগুলিকে মৌলিক অধিকার বলা হয়। মৌলিক অধিকারের সঙ্গে অন্যান্য অধিকারের। পার্থক্যসমূহ মৌলিক অধিকারের সঙ্গে অন্যান্য অধিকারের পার্থক্যগুলি হল নিম্নরূপ- *[1] দেশের সাধারণ আইন নাগরিকদের সাধারণ আইনগত অধিকারগুলিকে সংরক্ষণ করে, কিন্তু মৌলিক অধিকারগুলি রাষ্ট্রের সংবিধানের দ্বারা স্বীকৃত ও সংরক্ষিত হয়। [II] মৌলিক অধিকার সংবিধানের দ্বারা স্বীকৃত ও সংরক্ষিত হয় বলে আইন বিভাগ দ্বারা প্রণীত কোনো আইন ও শাসন বিভাগের কোনো আদেশ, নির্দেশ এগুলির বিরোধী হলে আদালত সেগুলিকে বাতিল করে দিতে পারে। কিন্তু সাধারণ অধিকারের ক্ষেত্রে এ কথা প্রযোজ্য নয়। [III] মৌলিক অধিকারগুলির পরিবর্তন করতে হলে সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন। কি...

ভারতীয় সংবিধানে স্বীকৃত সাম্যের অধিকার আলোচনা করো।

ভারতীয় সংবিধানে স্বীকৃত সাম্যের অধিকার আলোচনা করো। মার্কিন, ফরাসি ও আইরিশ সংবিধানের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে সংবিধান রচয়িতারা ভারতীয় সংবিধানের তৃতীয় অংশে 12 থেকে 35 নং ধারায় নাগরিকদের মৌলিক অধিকারগুলি লিপিবদ্ধ করেছেন। বর্তমানে মৌলিক অধিকারের সংখ্যা 6টি। তাদের মধ্যে অন্যতম হল সাম্যের অধিকার (14-18নং ধারা)। সাম্যের অর্থ: সাম্য বলতে বোঝায় ধনী-নির্ধন, স্ত্রী-পুরুষ, জাতিবর্ণধর্মনির্বিশেষে প্রত্যেক মানুষকে তার আত্মবিকাশের সমান সুযোগসুবিধা প্রদান। শ্রেণিবিভাগ: ভারতের সংবিধানে 14নং থেকে 18নং- এই পাঁচটি ধারায় সাম্যের অধিকারকে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। [i] আইনের দৃষ্টিতে সমতা ও আইন কর্তৃক সমভাবে রক্ষিত হওয়ার অধিকার: ভারতের সংবিধানে স্বীকৃত সাম্যের অধিকারের প্রাণ হল 14নং ধারা। এই ধারায় বলা হয়েছে-ভারতের রাষ্ট্রীয় সীমানার মধ্যে রাষ্ট্র কোনো ব্যক্তিকে-প্রথমত, Equality before the law, অর্থাৎ, আইনের দৃষ্টিতে সমতা এবং দ্বিতীয়ত, Equal protection of the laws, অর্থাৎ, আইনের দ্বারা সমানভাবে রক্ষিত হওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করবে না। ব্যতিক্রম: এই ধারার কিছু ব্যতিক্রম আছে। সেগুলি হল: [a] রাষ্ট্রপতি বা রাজ্যপাল তাদের...

ভারতীয় সংবিধানে স্বাধীনতার অধিকারটি আলোচনা করো।

ভারতীয় সংবিধানে স্বাধীনতার অধিকারটি আলোচনা করো। ভারতীয় সংবিধানের তৃতীয় অংশে উল্লিখিত 12 থেকে 35নং ধারায় মৌলিক অধিকারগুলি লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। উল্লিখিত মৌলিক অধিকারগুলির মধ্যে 19 থেকে 22নং ধারায় স্বাধীনতার অধিকারটি সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। [i] 19নং ধারা: মূল সংবিধানের 19নং ধারায় সাত প্রকার স্বাধীনতার উল্লেখ ছিল। পরবর্তীকালে 1978 খ্রিস্টাব্দে 44 তম সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সম্পত্তি অর্জন, দখল ও হস্তান্তরের স্বাধীনতাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে 19নং ধারায় ছ-প্রকার স্বাধীনতা রয়েছে। সেগুলি হল- [a] বাক্ স্বাধীনতা ও মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা [19(1)(a)], [b] শান্তিপূর্ণ ও নিরস্ত্রভাবে সমবেত হওয়ার অধিকার [19(1)(b)], [c] সংগঠন ও সমিতি গঠনের স্বাধীনতা [19(1)(c)], [d] ভারতের সর্বত্র স্বাধীনভাবে যাতায়াতের স্বাধীনতা [19(1)(d)], [e] বসবাসের স্বাধীনতা [19(1)(e)], [f] বৃত্তি ও পেশার স্বাধীনতা [19(1)(f)]। চিত্র। পেশা নির্বাচনের স্বাধীনতা ব্যতিক্রম: সংবিধানের 19নং ধারায় বর্ণিত অধিকার- গুলির ওপর রাষ্ট্র যুক্তিসংগত বাধানিষেধ আরোপ করতে পারে। যেমন-ভারতের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষা, জনশৃঙ্খলা, মানহানি, আদালত অ...

ভারতীয় সংবিধানে শোষণের বিরুদ্ধে অধিকারটি আলোচনা করো।

ভারতীয় সংবিধানে শোষণের বিরুদ্ধে অধিকারটি আলোচনা করো। শোষণ সভ্যতার অভিশাপ, গণতন্ত্রের চরম শত্রু। কারণ, শোষণ বজায় থাকলে ন্যায়নীতিকে ভিত্তি করে সমাজ গড়ে উঠতে পারে না। ভারতীয় সংবিধানে ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে শোষণের বিরুদ্ধে অধিকাররের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। সংবিধানের 23 এবং 24 নম্বর ধারায় এর উল্লেখ আছে। [i] মানুষ ক্রয়বিক্রয় ও বেগার খাটানো নিষিদ্ধ: সংবিধানের 23(1) নং ধারায় মানুষ নিয়ে ব্যাবসা অর্থাৎ, মানুষ ক্রয়- বিক্রয়, বেগার খাটানো বা বলপূর্বক শ্রমদানে বাধ্য করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মানুষ ক্রয় বলতে দাসপ্রথা নিষিদ্ধ করা, অসৎ উদ্দেশ্যে নারী, শিশু ইত্যাদি ক্রয়বিক্রয় নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ব্যতিক্রম: জনস্বার্থে প্রয়োজন মনে করলে রাষ্ট্র জাতি- ধর্মবর্ণনির্বিশেষে প্রত্যেককে শ্রমদানে বাধ্য করতে পারে। সামরিক শিক্ষাগ্রহণ বা সমাজসেবামূলক কার্যসম্পাদনকে বাধ্যতামূলক বলে রাষ্ট্র যদি আইন প্রণয়ন করে তাহলে তা 23(1) নম্বর ধারার বিরোধী বলে গণ্য হবে না। [ii] শ্রমসাধ্য কাজে শিশুদের নিযুক্তি নিষিদ্ধকরণ: সংবিধানের 24 নং ধারায় বলা হয়েছে যে, 14 বছরের কম বয়স্ক শিশুদের কারখানা, খনি বা অন্য কোনো বিপজ্জনক কাজে নিয়...

ভারতীয় সংবিধানে উল্লিখিত ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকারটি আলোচনা করো।

ভারতীয় সংবিধানে উল্লিখিত ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকারটি আলোচনা করো। ভারতে সংবিধান প্রণেতারা পাশ্চাত্যের উদারনৈতিক ধ্যানধারণার দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে সংবিধানের 25 থেকে 28 নং ধারায় ধর্মের স্বাধীনতার অধিকারকে লিপিবদ্ধ করেছেন। মূল সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা না-বলা হলেও 1976 খ্রিস্টাব্দের 42তম সংবিধান সংশোধনী আইনে ভারতকে একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র বলে ঘোষণা করা হয়েছে। ধর্মনিরপেক্ষতার অর্থ হল এই যে, এখানে বিশেষ কোনো ধর্মকে ভারতরাষ্ট্রের ধর্ম হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি এবং রাষ্ট্রের সঙ্গে ধর্মের কোনো সম্পর্ক নেই। সংবিধানের বিভিন্ন ধারায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ধর্মগত কারণে কারও প্রতি কোনো বৈষম্য করা চলবে না। [i] ধর্মাচরণের স্বাধীনতা: সংবিধানের 25 নং ধারায় বলা হয়েছে প্রত্যেক ব্যক্তিই বিবেকের স্বাধীনতা এবং যে- কোনো ধর্মগ্রহণ, ধর্মীয় উপাসনা ও ধর্মীয় প্রচারের স্বাধীনতা ভোগ করবে।  বিধিনিষেধ: ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার অবাধ নয়। আইনশৃঙ্খলা, নৈতিকতা, জনস্বার্থের কারণে রাষ্ট্র এই সকল ধর্মীয় অধিকারের ওপর বাধানিষেধ আরোপ করতে পারে। [ii] ধর্মীয় সম্প্রদায়ের অধিকার: সংবিধানের 26 নং ধারায় বলা হয়েছে যে, কোনো সম্প্র...

ভারতীয় সংবিধানে মৌলিক অধিকারগুলির বৈশিষ্ট্য- সমূহ আলোচনা করো।

ভারতীয় সংবিধানে মৌলিক অধিকারগুলির বৈশিষ্ট্য- সমূহ আলোচনা করো। অধিকার বলতে সমাজজীবনের এমন সব শর্তাবলিকে বোঝায় যেগুলির অভাবে কোনো মানুষের পক্ষেই তার অন্তর্নিহিত গুণাবলি বিকশিত করা সম্ভব নয়। কিন্তু সব অধিকার মৌলিক নয়। মৌলিক অধিকার হল সেইসব অধিকার, যেগুলি মানুষের মৌল প্রয়োজন পূরণ করে। একারণেই ভারতীয় সংবিধানের তৃতীয় অধ্যায়ে 12 থেকে 35 নম্বর ধারায় নাগরিকদের মৌলিক অধিকারগুলি লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। ভারতীয় সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত মৌলিক অধিকার-গুলির বৈশিষ্ট্যসমূহকে এইভাবে বর্ণনা করা যায়- [i] অধিকারগুলি মূলত সামাজিক ও রাজনৈতিক: ভারতীয় সংবিধানে উল্লিখিত মৌলিক অধিকারগুলির প্রথম বৈশিষ্ট্য হল অধিকারগুলির চরিত্রগত দিক থেকে মূলত সামাজিক ও রাজনৈতিক। অর্থনৈতিক অধিকারের ওপর কোনো গুরুত্ব আরোপ করা হয়নি। [ii] অধিকারগুলি অবাধ নয়: ভারতের নাগরিকদের মৌলিক অধিকারগুলি অবাধ ও অনিয়ন্ত্রিত নয়। সামাজিক শৃঙ্খলা, জাতীয় ঐক্য ও সংহতি, বিদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রক্ষা, জনস্বার্থ ইত্যাদি কারণে মৌলিক অধিকারের ওপর বাধানিষেধ আরোপ করা যায়। [iii] অধিকারগুলি আদালত কর্তৃক বলবৎযোগ্য: সংবিধানের 32 ও 226 নং ধারা অনুসারে ভারতের...

ভারতীয় নাগরিকদের মৌলিক অধিকারগুলি কি নিরঙ্কুশ?

ভারতীয় নাগরিকদের মৌলিক অধিকারগুলি কি নিরঙ্কুশ? ভারতের নাগরিকদের মৌলিক অধিকারগুলি নিরঙ্কুশ 'নয়। সংবিধানে বর্ণিত মৌলিক অধিকারগুলির ওপর যেসব বাধা- নিষেধ আরোপ করা হয়েছে, সেগুলি হল-[i] রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, [ii] বৈদেশিক রাষ্ট্রের সঙ্গে মৈত্রীবন্ধন, [iii] শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা, [iv] আদালত অবমাননা, [v] মানহানি, [vi] অপরাধমূলক কার্যে প্ররোচনা দান এবং [vii] অসদাচরণ ও অশালীনতা প্রভৃতি কারণে রাষ্ট্র মৌলিক অধিকারগুলি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এ ছাড়াও বিশেষ অবস্থায় মৌলিক অধিকারগুলির ওপর নিম্নলিখিত বাধানিষেধ আরোপ করতে পারে- ভারতীয় নাগরিকদের মৌলিক অধিকার > রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা > বৈদেশিক রাষ্ট্রের সঙ্গে মৈত্রীবন্ধন > শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা > আদালত অবমাননা > মানহানি > অপরাধমূলক কার্যে প্ররোচনা দান > অসদাচরণ ও অশালীনতা [i] সাধারণ শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য ভারপ্রাপ্ত বাহিনীর লোকেদের ক্ষেত্রে মৌলিক অধিকারগুলির প্রয়োগ সংক্রান্ত নিয়মাবলি সংশোধন করার ক্ষমতা পার্লামেন্টের আছে। [ii] দেশে যদি সামরিক আইন বলবৎ থাকে, তবে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য কেন্দ্র বা রাজ্যের যে-কোনো কর্মচারীকে বরখাস্ত করার ক্ষমতা পার...

সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত মৌলিক অধিকারগুলির মধ্যে কোন্ মৌলিক অধিকারটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে তুমি মনে করো।

সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত মৌলিক অধিকারগুলির মধ্যে কোন্ মৌলিক অধিকারটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে তুমি মনে করো। এই অধিকারের এলাকাগুলি সংক্ষেপে উল্লেখ করে দেখাও যে, কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ? ভারতীয় সংবিধানের উল্লিখিত মৌলিক অধিকারগুলির মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক অধিকার হল স্বাধীনতার অধিকার। স্বাধীনতার অধিকার বলতে বাক্ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সমবেত হওয়ার স্বাধীনতা, ভারতের যে-কোনো স্থানে বসবাস করার, যে-কোনো বৃত্তি ও পেশা অবলম্বন করার অধিকার বোঝায়। এ ছাড়াও স্বাধীনতার অধিকারের মধ্যে যথার্থভাবেই ব্যক্তির ব্যক্তিস্বাধীনতা রক্ষা করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সংবিধানের 20নং ধারায় বলা হয়েছে যে, কোনো ব্যক্তিকে প্রচলিত আইনভঙ্গের অপরাধের জন্য শাস্তি দেওয়া যায় না এবং প্রচলিত আইনভঙ্গের জন্য প্রচলিত আইনানুসারেই শাস্তিপ্রদান করতে হবে। আবার 21 নং ধারানুসারে, আইন নির্দিষ্ট পদ্ধতি ছাড়া অন্য কোনো উপায়ে কোনো ব্যক্তিকে জীবন বা ব্যক্তিগত স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা যায় না। সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে বর্তমানে শিক্ষার অধিকারটি অন্যতম মৌলিক অধিকারে = পরিণত হয়েছে। 22 নং ধারানুসারে কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতার ও আটক করা হলে তাকে গ্রেফ...

মৌলিক অধিকার ও নির্দেশমূলক নীতির মধ্যে পার্থক্য- গুলি আলোচনা করো।

মৌলিক অধিকার ও নির্দেশমূলক নীতির মধ্যে পার্থক্য- গুলি আলোচনা করো। নাগরিকদের পরিপূর্ণ বিকাশ সাধনের উপযোগী পরিবেশ গঠনের উদ্দেশ্যে ভারতীয় সংবিধানের তৃতীয় অধ্যায়ে 12-35নং ধারায় মৌলিক অধিকারগুলি স্বীকৃত হয়েছে। অন্যদিকে, জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্রের নীতি এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে সংবিধানের চতুর্থ অধ্যায়ে 36-51 নং ধারায় নির্দেশমূলক নীতির উল্লেখ করা হয়েছে। উভয়ই অধিকার বলে গণ্য হলেও এবং উদ্দেশ্যগত দিক থেকে গভীর সংযোগ বর্তমান থাকলেও উভয়ের মধ্যে নিম্নলিখিত পার্থক্যগুলি লক্ষ করা যায়: [i] নেতিবাচক ও ইতিবাচক: মৌলিক অধিকারগুলি নাগরিকদের অধিকার সুনিশ্চিত করার জন্য রাষ্ট্রের কাজ- কর্মের সীমা নির্দেশ করে এবং রাষ্ট্র কর্তৃক হস্তক্ষেপের পরিধি সংকুচিত করে। অন্যদিকে, নির্দেশমূলক নীতি হল লক্ষ্য বা আদর্শে উপনীত হওয়ার উপযোগী নির্দেশনামা। [ii] আদালত কর্তৃক বলবৎযোগ্য: মৌলিক অধিকারগুলি আদালত কর্তৃক বলবৎযোগ্য। কিন্তু নির্দেশমূলক নীতিগুলি আদালত কর্তৃক বলবৎযোগ্য নয়। [iii] বাস্তবায়নের পদ্ধতি: নির্দেশমূলক নীতিগুলিকে কাজে পরিণত করতে হলে সেই উদ্দেশ্যে আলাদা করে আইন প্রণয়ন করতে হয়। কিন্তু নাগরি...

অধিকার এবং কর্তব্য কীভাবে পরস্পর সংযুক্ত, তা দেখাও।

অধিকার এবং কর্তব্য কীভাবে পরস্পর সংযুক্ত, তা দেখাও। অথবা, "অধিকারের মধ্যেই কর্তব্য নিহিত আছে।” এই উক্তিটি ব্যাখ্যা করো। [i]অধিকার: অধিকার এবং কর্তব্য হল একই মুদ্রার দুটি দিক। ইংরেজিতে একটি কথা আছে-Rights imply Duties। অর্থাৎ, অধিকার বললেই সঙ্গে সঙ্গে কর্তব্যের কথা ওঠে। একজনের যেমন ধর্মীয় উপাসনার অধিকার আছে, তেমনি অন্যের কর্তব্য হল অন্যকেও ধর্মীয় উপাসনায় বাধা না-দেওয়া। হবহাউস অধিকার ও কর্তব্যের সম্পর্ক বোঝাতে গিয়ে বলেছেন: আমার যেমন অধিকার • আছে রাস্তা দিয়ে হাঁটার; তেমনি তোমার কর্তব্য হল আমাকে রাস্তায় হাঁটতে বাধা না-দেওয়া। দেখা যাচ্ছে যে, একজনের অধিকার ভোগ অন্যের কর্তব্য পালনের ওপরে নির্ভর করে। [ii] আইনগত কর্তব্যের সঙ্গে আইনগত অধিকারও জড়িত: প্রত্যেক নাগরিকেরই আইনগত অধিকার আছে রাস্তা দিয়ে স্বাধীনভাবে চলাচল করার। কিন্তু এই অধিকার নিশ্চিত হতে পারে অন্যান্য নাগরিকের আইনগত কর্তব্যপালনের দ্বারা। স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করা ব্যক্তির আইনগত অধিকারের মধ্যে পড়ে। অন্যের আইনসংগত কর্তব্য হল ওই অধিকারে বাধা না-দেওয়া। কিন্তু কেউ যদি অন্য একজনের স্বাধীন মত প্রকাশে বাধা দান করে, তাহলে ওই ব্যক্তির মত প...

রাষ্ট্র পরিচালনার নির্দেশমূলক নীতির সঙ্গে মৌলিক অধিকারগুলির যে-কোনো চারটি পার্থক্য উল্লেখ করো।

রাষ্ট্র পরিচালনার নির্দেশমূলক নীতির সঙ্গে মৌলিক অধিকারগুলির যে-কোনো চারটি পার্থক্য উল্লেখ করো।  রাষ্ট্র পরিচালনার নির্দেশমূলক নীতির সঙ্গে মৌলিক অধিকারগুলির পার্থক্য হল- [i] মৌলিক অধিকারগুলি রাষ্ট্রের কাজের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে। অর্থাৎ, রাষ্ট্র কোন্ কোন্ কাজ করতে পারবে না, মৌলিক অধিকারগুলি তার নির্দেশ দেয়। কিন্তু নির্দেশমূলক নীতিগুলি রাষ্ট্রের কোন্ কোন্ কাজ করা উচিত, সে সম্পর্কে ইতিবাচক নির্দেশ দান করে থাকে। [ii] মৌলিক অধিকারগুলি এককভাবে কার্যকর হতে পারে। এগুলিকে কার্যকর করার জন্য আইনসভাকে কোনো আইন প্রণয়ন করতে হয় না। কিন্তু নির্দেশমূলক নীতি এককভাবে কার্যকর হতে পারে না। এগুলিকে কার্যকর করতে হলে আইন প্রণয়ন করা একান্ত প্রয়োজন। [iii] সংবিধানের তৃতীয় অংশে বর্ণিত মৌলিক অধিকারগুলি আদালত দ্বারা বলবৎযোগ্য। সাধারণ অবস্থায় মৌলিক অধিকারগুলি ক্ষুণ্ণ করা হলে সংবিধানের 32 নং ও 226 নং ধারার সাহায্যে আদালতে যাওয়া যায়। কিন্তু নির্দেশমূলক নীতিগুলি আদালত দ্বারা বলবৎযোগ্য নয়। [iv] মৌলিক অধিকারের সঙ্গে নির্দেশমূলক নীতির বিরোধ বাধলে নির্দেশমূলক নীতিগুলি বাতিল হয়ে যায়। কিন্তু নির্দেশমূলক নীতিগুলিকে মৌলিক...

ভারতীয় সংবিধানে বর্ণিত সংস্কৃতি ও শিক্ষাবিষয়ক অধিকারটি সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত টীকা লেখো।

ভারতীয় সংবিধানে বর্ণিত সংস্কৃতি ও শিক্ষাবিষয়ক অধিকারটি সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত টীকা লেখো। গণতন্ত্রের মূলভিত্তি হল সুচিন্তিত জনমত। আর জনগণের মধ্যে যদি রাজনৈতিক চেতনার বিকাশ না ঘটে তাহলে গণতন্ত্র সফল হয় না। সংবিধানের 29নং ও 30নং ধারায় সংস্কৃতি ও শিক্ষাবিষয়ক অধিকার ঘোষিত হয়েছে। 29 নং ধারায় বলা হয়েছে যে, সবশ্রেণির নাগরিক নিজ নিজ ভাষা, লিপি, সংস্কৃতি সংরক্ষণ করতে পারবে। এই অধিকারের স্বীকৃতির মাধ্যমে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়-গুলির স্বার্থ সংরক্ষণের বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়াও, রাষ্ট্র দ্বারা পরিচালিত বা সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশাধিকার থেকে কোনো ব্যক্তিকে ধর্ম, বংশ, জাতি বা ভাষার অজুহাতে বঞ্চিত করা যাবে না। 30নং ধারানুসারে, ধর্ম বা ভাষাভিত্তিক সংখ্যালঘু সম্প্রদায়- গুলি নিজেদের পছন্দমতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন ও পরিচালনা করতে পারবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিকে সাহায্য প্রদানের বিষয়ে রাষ্ট্র কোনোরকম বৈষম্যমূলক আচরণ করবে না। এইসব শিক্ষা- প্রতিষ্ঠানগুলিতে ধর্মীয় ভিত্তিতে আসন সংরক্ষিত করা যাবে না। এ ছাড়াও, রাষ্ট্র সংখ্যালঘু শ্রেণির কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি অধিগ্রহণ কর...

নির্বাচন ও গণতন্ত্র, ভারতের নির্বাচন পদ্ধতি, সংখ্যাধিক্য পদ্ধতি, সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব, ইজরাইলের সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব

নির্বাচন ও গণতন্ত্র বর্তমান গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় প্রতিটি দেশের জনসাধারণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সরাসরি অংশগ্রহণ করতে পারে না। বর্তমানে জনগণের দ্বারা প্রার্থীরা নির্বাচিত হন। বর্তমানে প্রতিটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচন ব্যবস্থা একটি প্রত্যক্ষ প্রতীকে পরিণত হয়েছে। আমরা প্রায়ই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ গণতন্ত্রের মধ্যে পার্থক্য নির্ধারণ করে থাকি। উভয়ের মধ্যে পার্থক্য কোথায়? প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রে জনসাধারণ দৈনন্দিন সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সরকার পরিচালনার কাজে অংশগ্রহণ করতে পারে। প্রাচীন গ্রিসের নগররাষ্ট্রগুলিতে প্রত্যক্ষ গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা দেখা যেত। আবার অনেকে গ্রামসভাকে প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রের উদাহরণ হিসেবে পেশ করেন। কিন্তু এই ধরনের প্রত্যক্ষ গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা অল্প জনসংখ্যাবিশিষ্ট দেশেই বাস্তবায়িত হওয়া সম্ভব। কিন্তু জনসংখ্যা যদি লক্ষ বা কোটি সংখ্যাবিশিষ্ট হয়ে থাকে তাহলে সম্ভব নয়। সেক্ষেত্রে পরোক্ষ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাই প্রযোজ্য। শেখানে জনগণ তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে শাসনকার্য - পরিচালনায় অংশগ্রহণ করতে পারে। পরোক্ষ গণতন্ত্রে জনগণ সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে তথা প্রশাসন পরিচাল...

ভারতের নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা কীভাবে বজায় রাখা হয়?

ভারতের নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা কীভাবে বজায় রাখা হয়? সংবিধানে ভারতের নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা সুনিশ্চিত করার জন্য কতকগুলি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। [i] নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের রাষ্ট্রপতি বা শাসক দল ইচ্ছামতো অপসারণ করতে পারে না। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণ করতে হলে সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতিদের যে কারণে এবং যে পদ্ধতিতে অপসারণ করা যায়, ঠিক সেই পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। এই পদ্ধতিটি বিশেষভাবে জটিল। তা ছাড়া, নির্বাচন কমিশনের অপর দুই নির্বাচন কমিশনার এবং আঞ্চলিক নির্বাচন কমিশনারদেরও রাষ্ট্রপতি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সুপারিশ ছাড়া তাদের অপসারিত করতে পারেন না। চিত্র। ভারতের প্রথম নির্বাচন কমিশনার সুকুমার সেন [ii] পার্লামেন্ট কর্তৃক প্রণীত আইন অনুসারে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের চাকরির শর্তাদি ও কার্যকাল নির্ধারণ করেন। [iii] নিয়োগের পর নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের চাকরির শর্ত, বেতন, ভাতা ইত্যাদি তাদের স্বার্থের বিরুদ্ধে পরিবর্তন করা যাবে না। [iv] সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালনের জন্য রাষ্ট্রপতি এবং রাজ্যপালগণ প্রয়োজনীয় সংখ্যক সরকারি কর্মচারী সরবরাহ করবেন...

নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের নিয়োগ ও পদচ্যুতি সম্পর্কে উল্লেখ করো।

নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের নিয়োগ ও পদচ্যুতি সম্পর্কে উল্লেখ করো। নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের নিয়োগ ও পদচ্যুতি সম্পর্কে উল্লেখ করো।  অবশ্য এক্ষেত্রে পার্লামেন্ট প্রণীত আইনানুসারে রাষ্ট্রপতি ক্ষমতা প্রয়োগ করেন। বর্তমানে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার-সহ অপর দুই নির্বাচন কমিশনারের কার্যকালের মেয়াদ 6 বছর। তবে ওই সময়ের পূর্বেই যদি কোনো নির্বাচন কমিশনারের বয়স 65 বছর পূর্ণ হয়ে যায়, তাহলে তাঁকে 6 বছরের পূর্বেই অবসর নিতে হয়। পদমর্যাদা, বেতন প্রভৃতির দিক দিয়ে তাঁরা সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতিদের সমতুল্য। নির্বাচন ব্যবস্থার নিরপেক্ষতার কথা চিন্তা করে সংবিধানের। 324(5) ধারায় বলা হয়েছে যে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে পদচ্যুত করতে হলে সুপ্রিমকোর্টেও বিচারপতিগণকে যে কারণে এবং যে পদ্ধতিতে পদচ্যুত করা যায়, ঠিক সেই পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। অর্থাৎ, প্রমাণিত অসামর্থ্য ও অসদাচারের অভিযোগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে পার্লামেন্টের উভয় কক্ষের অধিকাংশ এবং উপস্থিত ও ভোটদানকারী দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থনে রাষ্ট্রপতি পদচ্যুত করতে পারেন। নির্বাচন কমিশনের অপর দুই নির্বাচন কমিশনার এবং আঞ্চলিক নির্বাচন কমিশনারদেরও রাষ্ট্রপতি পদচ্যু...

ভারতের নির্বাচন কমিশন কীভাবে গঠিত হয়?

ভারতের নির্বাচন কমিশন কীভাবে গঠিত হয়? ভারতের সংবিধানের পঞ্চদশ অংশে 324(2) নং ধারায় বলা হয়েছে যে, একজন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (Chief Election Commissioner)-কে নিয়ে অথবা, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং কয়েকজন অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে। অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারের সংখ্যা কত হবে, সে সম্পর্কে সংবিধানে নির্দিষ্ট কিছু বলা নেই। অন্যান্য প্রয়োজনীয় কমিশনারদের সংখ্যা রাষ্ট্রপতি নির্ধারণ করেন। 1993 খ্রিস্টাব্দের 1 অক্টোবর রাষ্ট্রপতি শংকরদয়াল শর্মা কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেটের সিদ্ধান্ত অনুসারে এক অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে তিনজন সদস্যবিশিষ্ট নির্বাচন কমিশন গঠন করেন। ওই অর্ডিন্যান্স অনুসারে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার টি এন শেষণ ছাড়া এম এস গিল এবং জি ডি কৃষ্ণমূর্তিকে কমিশনের সদস্য করা হয়। বহু সদস্যবিশিষ্ট নির্বাচন কমিশন সম্পর্কে পরে পার্লামেন্ট কর্তৃক আইনও পাস হয়। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন কমিশনের সভাপতি (Chairman)। তবে ক্ষমতা, কর্তৃত্ব ও পদমর্যাদার দিক থেকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারের সমান। বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুযোগসুবিধার পরিপ্রেক্ষিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশন...

ভারতে প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকার সাফল্যমন্ডিত হয়েছে বলে যাঁরা দাবি করেন, তাঁদের চারটি যুক্তির উল্লেখ করো।

ভারতে প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকার সাফল্যমন্ডিত হয়েছে বলে যাঁরা দাবি করেন, তাঁদের চারটি যুক্তির উল্লেখ করো। ভারতে প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকার সাফল্যমণ্ডিত হয়েছে বলে যাঁরা দাবি করেন, তাঁদের যুক্তিগুলি হল- [i] সমগ্র ভারতে সাক্ষরতার অভিযান চালিয়ে ভারতে সাক্ষর মানুষের সংখ্যা অনেক পরিমাণে বৃদ্ধি করা হয়েছে। তা ছাড়া, সাক্ষর হলেই মানুষের রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি পায় না। অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, বিগত নির্বাচন- গুলিতে অশিক্ষিত বা অল্পশিক্ষিত গ্রামীণ ও শ্রমিক- অধ্যুষিত এলাকায় শিক্ষিত শহরাঞ্চলের অপেক্ষা ভোট- দাতার উপস্থিতির পরিমাণ অনেক বেশি। [ii] ভারতে বিগত সাধারণ নির্বাচনগুলিতে ভোটদাতাদের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি ভারতে সার্বিক প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকারের সাফল্যকে প্রমাণ করে দেয়। প্রথম নির্বাচনে ভোটদাতাদের উপস্থিতি যেখানে ছিল 45.7 শতাংশ, বর্তমানে সেই সংখ্যা 75 শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে। অশিক্ষা, দারিদ্র্যতা ইত্যাদি কোনো কারণই ভোটদাতাদের ভোটদানের অধিকার প্রয়োগ করতে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে নি। [iii] সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকারের নীতি স্বীকৃত হওয়ায় প্রথম পর্বে রাজনৈতিক সচেতনতার কিছু অভাব থাকলেও বর্তমানে তা পরিপক্কতার ...

ভারতে সার্বিক প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকার ব্যর্থ হয়েছে বলে যাঁরা মনে করেন, তাঁদের যে-কোনো 4টি যুক্তি উল্লেখ করো।

ভারতে সার্বিক প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকার ব্যর্থ হয়েছে বলে যাঁরা মনে করেন, তাঁদের যে-কোনো 4টি যুক্তি উল্লেখ করো। ভারতের বিগত সাধারণ নির্বাচনের পরিপ্রেক্ষিতে ভারতে সর্বজনীন ভোটাধিকারের প্রয়োগ যথাযথ হয়েছে কিনা, এ ব্যাপারে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মধ্যে দ্বিমত দেখা যায়। সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকার ভারতে ব্যর্থ বলে যারা মনে করেন তাঁদের যুক্তিগুলি হল- [i] সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকার সাফল্য লাভ করতে পারে যদি সর্বজনীন শিক্ষার প্রসার ঘটে। শিক্ষা মানুষের চেতনাকে বিকশিত করে। রাজনৈতিক জ্ঞান লাভ করতেও শিক্ষা আবশ্যক। কিন্তু ভারতের প্রায় শতকরা 34 ভাগ মানুষ আজও নিরক্ষর। এই ব্যাপক নিরক্ষর মানুষের পক্ষে রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি ও ভূমিকার মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়। এরা না বুঝেই বা না জেনেই ভোটদান করে থাকে। অনেক সময় এরা ভোটদানের গুরুত্ব উপলব্ধি না করতে পারায় ভোটদানে আগ্রহও দেখায় না। [ii] সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকারের সাফল্যের অন্যতম মাপকাঠি হল-ব্যাপক মানুষের অংশগ্রহণ। কিন্তু ভারতে এখনও 35-40 শতাংশ মানুষ ভোটদানে বিরত থাকে। এর দ্বারাই প্রমাণিত হয় যে, ভারতের নির্বাচক মন্ডলী হয় রাজনীতি সচেতন নয়, নয়তো নির্...

ভারতের নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা সম্পর্কিত সাংবিধানিক ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা সংক্ষেপে আলোচনা করো।

ভারতের নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা সম্পর্কিত সাংবিধানিক ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা সংক্ষেপে আলোচনা করো। ভারতের নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন, স্বতন্ত্র ও নিরপেক্ষ- ভাবে গড়ে তোলার জন্য সাংবিধানিক ব্যবস্থা গৃহীত হলেও নির্বাচন প্রক্রিয়াকে একেবারে ত্রুটিমুক্ত করা যায় নি। [i] নির্বাচন কমিশনের গঠন, ক্ষমতা ও কার্যাবলি প্রয়োগের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের ওপর ন্যস্ত। এ ব্যবস্থা কোনোভাবেই যুক্তরাষ্ট্রীয় নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। [ii] নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন সুপারিশ এবং পরামর্শ কেন্দ্রীয় সরকার গ্রহণ করতে বাধ্য নন। [iii] মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের চাকরির শর্তাদি রাষ্ট্রপতি ধার্য করেন। ফলে এক্ষেত্রে কমিশনকে কেন্দ্রীয় সরকারের রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করতে হতে পারে। [iv] অবসর গ্রহণের পর মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অন্য পদে নিয়োগ করা যায়। ফলে, সরকারি অনুগ্রহ লাভের এই সুযোগ কমিশনের নিরপেক্ষতার পথে প্রতিবন্ধক হয়ে উঠতে পারে। [v] নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সরকারের। কিন্তু কেন্দ্র ও রাজ্যের পুলিশ বা অন্যান্য অসামরিক বাহিনীর ন...

ভারতের ভোটদাতাদের কী কী যোগ্যতার অধিকারী হতে হয়?

ভারতের ভোটদাতাদের কী কী যোগ্যতার অধিকারী হতে হয়? স্বাধীনতা লাভের পর 1950 খ্রিস্টাব্দে ভারতের সংবিধানে ভারতে ব্রিটিশ ধাঁচের সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কথা ঘোষিত হয়। স্থির হয়, ভারতের জনগণ সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী হবে এবং সংসদীয় গণতন্ত্রকে বাস্তবায়িত করার জন্য প্রতি পাঁচবছর অন্তর সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কারা এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে বা নির্বাচনে অংশগ্রহণকারীদের যোগ্যতা কী হবে, তা সংবিধানের 324 থেকে 329 নং ধারায় বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে। সংবিধানের 326নং নম্বর ধারায় সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকারের ভিত্তিতে লোকসভা এবং রাজ্য বিধানসভার নির্বাচনগুলি অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত ধারায় ভোটদাতাদের যোগ্যতা সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, সংবিধান এবং পার্লামেন্ট প্রণীত আইন অনুসারে ভোটদানে অযোগ্য বলে বিবেচিত নয়, এরূপ সকল 21 বছর বয়স্ক বা তার ঊর্ধ্ব বয়স্ক প্রতিটি ভারতীয় নাগরিক ভোটদাতা হিসেবে বিবেচিত হবে। অবশ্য সংবিধানের 61-তম সংশোধনের (1989) মাধ্যমে ওই বয়সসীমা কমিয়ে 18 বছর করা হয়েছে। অর্থাৎ, বর্তমানে 18 বছর বয়স্ক বা তার ঊর্ধ্ব বয়স্ক প্রতিটি নাগরিক ভোটদাতা হিসেবে গণ্য হয়। তবে স...

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

আগামী' কবিতাটি 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

আগামী Class 12 Bengali Question 2023 সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো (MCQ)  প্রশ্নমান ১ class 12 bengali mcq question answer ১. “ক্ষুদ্র আমি তুচ্ছ নই”-বক্তা কে ? (ক) বৃক্ষ শিশু (খ) বনস্পতি (গ) বটবৃক্ষ (ঘ) সদ্য অঙ্কুরিত বীজ উত্তর: (ঘ) সদ্য অঙ্কুরিত বীজ। ২. অঙ্কুরিত বীজের ক্ষুদ্র শরীরে বাজে— (ক) ঝড় (খ) বৃষ্টি (গ) ভূমিকম্প (ঘ) তুফান উত্তর: (ক) ঝড়। ৩. অঙ্কুরিত বীজের শাখায় প্রত্যাহত হবে— (ক) পত্রমর্মর (খ) মর্মরধ্বনি (গ) পাখির কূজন (ঘ) বিচিত্রধ্বনি উত্তর: (খ) মর্মরধ্বনি । ৪. অঙ্কুরিত বৃক্ষশিশু অরণ্যের বিশাল চেতনা অনুভব করে— (ক) পত্রে (খ) পুষ্পে (গ) শিকড়ে (ঘ) শাখায় উত্তর: (গ) শিকড়ে। ৫. “জানি তারা মুখরিত হবে”—কীভাবে ? (ক) নব শতকের গানে (খ) নতুন দিনের গানে (গ) নব তারণ্যের গানে (ঘ) নব জীবনের গানে উত্তর: (গ) নব অরণ্যের গানে। ৬. অঙ্কুরিত বৃক্ষশিশু নব অরণ্যের গানে মিশে যাবে— (ক) বসন্তে (খ) বর্ষায় (গ) গ্রীষ্মে (ঘ) শীতে উত্তর: (ক) বসন্তে। ৭. অঙ্কুরিত বীজ কোথায় মিশে যাবে ? (ক) অরণ্যের দলে (খ) বৃহতের দলে (গ) ক্ষুদ্রের দলে (ঘ) মহীরুহ-র দলে উত্তর: (খ) বৃহতের দলে। ৮. অঙ্কুরিত বীজ নিজেকে বলেছে— (ক) ভ...

বীরচন্দ্র মানিক্য থেকে বীরবিক্রম কিশোর মানিক্য পর্যন্ত ত্রিপুরার আধুনিকীকরণ সম্পর্কে আলোচনা কর।

 Discuss the modernization of Tripura from Birchandra Manikya to Bir Bikram Kishor Manikya. বীরচন্দ্র মানিক্য থেকে বীরবিক্রম কিশোর মানিক্য পর্যন্ত ত্রিপুরার আধুনিকীকরণ সম্পর্কে আলোচনা কর।  ত্রিপুরায় আধুনিক যুগের সূচনা হয় মহারাজ বীরচন্দ্র মানিক্যের শাসনকালে। তিনি ব্রিটিশ ভারতের শাসন পদ্ধতির অনুকরণে ত্রিপুরার শাসন ব্যবস্থার সংস্কার করেণ এবং লিখিত আইন কানুন প্রনয়নের মাধ্যমে বিচার ব্যবস্থাকে সুসংবদ্ধ ও সুসংগঠিত করেণ। মোটের উপর বীরচন্দ্রমানিক্য (১৮৬২-১৮৯৬ খ্রি:) তাঁর আমলে ত্রিপুরা রাজ্য এক নতুন রূপ লাভ করে। ১) মিউনিসিপ্যালিটি গঠন তিনি ১৮৭১ খ্রিস্টাব্দে আগরতলা মিউনিসিপ্যালিটি গঠন করেন। তবে নাগরিক জীবনের সুযোগ সুবিধা বিধানে কিংবা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা হিসাবে দীর্ঘকাল কোনো কার্যকারী ব্যবস্থা গ্রহণে আগরতলা মিউনিসিপ্যালিটি ছিল ব্যর্থ। ১৯৮১ খ্রিস্টাব্দের ৩ জুলাই ডবলিউ. বি. পাওয়ার সাহেব ত্রিপুরা রাজ্যের প্রথম পলিটিক্যাল এজেন্ট নিযুক্ত হন।  ২) বিচার সংক্রান্ত সংস্কার প্রাচীনকাল হতে দেওয়ানি ও ফৌজদারি সংক্রান্ত বিচারের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি মহারাজ স্বয়ং সম্পাদন করতেন। ১৮৭২ খ্রিস্টা...

বীরচন্দ্র মানিক্যের পূর্ববর্তী সময়ে ত্রিপুরার অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা সম্পর্কে আলোচনা কর।

 Discuss the social and economic condition of Tripura before the accession of Birchandra Manikya. বীরচন্দ্র মানিক্যের পূর্ববর্তী সময়ে ত্রিপুরার অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা সম্পর্কে আলোচনা কর। ভূমিকা ত্রিপুরার মাণিক্য উপাধিকারী রাজন্যবর্গের মধ্যে কেউ কেউ ছিলেন আত্মমর্যাদাজ্ঞানহীন, ক্ষমতালোভী ও ষড়যন্ত্রী। এসব ক্ষমতালোভী ও ষড়যন্ত্রীরা মুঘল ফৌজদারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে অধিক সংখ্যক হাতি, নিয়মিত উচ্চ হারে খাজনা, নজরানা ইত্যাদি দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাজত্বের সনদ লাভ করতেন। এটা ত্রিপুরার দুর্বল অর্থনীতির উপর এক বিরাট আঘাত ও স্থায়ী ক্ষতস্বরূপ ছিল। তবে এ সময়ের শুভদিক হল ত্রিপুরায় ব্রিটিশ ভারতের অনুকরণে আইন প্রণয়নের সূত্রপাত, প্রশাসনিক বিধিব্যবস্থার প্রবর্তন, অর্থনৈতিক উন্নয়নের উন্মেষ ও সামাজিক সংস্কার। Economic Condition ১) চাষাবাদ ও কৃষি ত্রিপুরার অধিবাসীদের প্রধান জীবিকা হল কৃষি। কৃষিজ উৎপাদনের মধ্যে ধান, গম, আলু, আখ, সরিষা, ডাল জাতীয় শস্য, কার্পাস, তুলো, কচু, আদা, তরমুজ ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। শিকার ও পশুপালন করেও তারা জীবিকা নির্বাহ করত। এখানকার চাষযোগ্য সমতল জমির সাথে ...