ভারতের নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা সম্পর্কিত সাংবিধানিক ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা সংক্ষেপে আলোচনা করো।
ভারতের নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা সম্পর্কিত সাংবিধানিক ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা সংক্ষেপে আলোচনা করো।
ভারতের নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন, স্বতন্ত্র ও নিরপেক্ষ- ভাবে গড়ে তোলার জন্য সাংবিধানিক ব্যবস্থা গৃহীত হলেও নির্বাচন প্রক্রিয়াকে একেবারে ত্রুটিমুক্ত করা যায় নি।
[i] নির্বাচন কমিশনের গঠন, ক্ষমতা ও কার্যাবলি প্রয়োগের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের ওপর ন্যস্ত। এ ব্যবস্থা কোনোভাবেই যুক্তরাষ্ট্রীয় নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
[ii] নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন সুপারিশ এবং পরামর্শ কেন্দ্রীয় সরকার গ্রহণ করতে বাধ্য নন।
[iii] মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের চাকরির শর্তাদি রাষ্ট্রপতি ধার্য করেন। ফলে এক্ষেত্রে কমিশনকে কেন্দ্রীয় সরকারের রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করতে হতে পারে।
[iv] অবসর গ্রহণের পর মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অন্য পদে নিয়োগ করা যায়। ফলে, সরকারি অনুগ্রহ লাভের এই সুযোগ কমিশনের নিরপেক্ষতার পথে প্রতিবন্ধক হয়ে উঠতে পারে।
[v] নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সরকারের। কিন্তু কেন্দ্র ও রাজ্যের পুলিশ বা অন্যান্য অসামরিক বাহিনীর নিরপেক্ষতা ছাড়া নির্বাচন কমিশনের পক্ষে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন পরিচালনা করা সম্ভব নয়। এইসব কারণে অনেকের মতে, নির্বাচন কমিশন দুর্বল প্রকৃতির হয়ে পড়েছে। এস আর মহেশ্বরী বলেছেন, "ভারতীয় গণতন্ত্রের চারটি স্তম্ভের মধ্যে নির্বাচন কমিশন হল সর্বাপেক্ষা দুর্বলতম স্তম্ভ।”
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন