ভারতে সার্বিক প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকার ব্যর্থ হয়েছে বলে যাঁরা মনে করেন, তাঁদের যে-কোনো 4টি যুক্তি উল্লেখ করো।
ভারতে সার্বিক প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকার ব্যর্থ হয়েছে বলে যাঁরা মনে করেন, তাঁদের যে-কোনো 4টি যুক্তি উল্লেখ করো।
ভারতের বিগত সাধারণ নির্বাচনের পরিপ্রেক্ষিতে ভারতে সর্বজনীন ভোটাধিকারের প্রয়োগ যথাযথ হয়েছে কিনা, এ ব্যাপারে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মধ্যে দ্বিমত দেখা যায়। সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকার ভারতে ব্যর্থ বলে যারা মনে করেন তাঁদের যুক্তিগুলি হল-
[i] সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকার সাফল্য লাভ করতে পারে যদি সর্বজনীন শিক্ষার প্রসার ঘটে। শিক্ষা মানুষের চেতনাকে বিকশিত করে। রাজনৈতিক জ্ঞান লাভ করতেও শিক্ষা আবশ্যক। কিন্তু ভারতের প্রায় শতকরা 34 ভাগ মানুষ আজও নিরক্ষর। এই ব্যাপক নিরক্ষর মানুষের পক্ষে রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি ও ভূমিকার মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়। এরা না বুঝেই বা না জেনেই ভোটদান করে থাকে। অনেক সময় এরা ভোটদানের গুরুত্ব উপলব্ধি না করতে পারায় ভোটদানে আগ্রহও দেখায় না।
[ii] সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকারের সাফল্যের অন্যতম মাপকাঠি হল-ব্যাপক মানুষের অংশগ্রহণ। কিন্তু ভারতে এখনও 35-40 শতাংশ মানুষ ভোটদানে বিরত থাকে। এর দ্বারাই প্রমাণিত হয় যে, ভারতের নির্বাচক মন্ডলী হয় রাজনীতি সচেতন নয়, নয়তো নির্বাচন পদ্ধতির ওপর ক্রমশ আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। আর এটা সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকারের অসাফল্যই প্রমাণ করে।
[iii] অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সার্বিক প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকারের সাফল্যের অন্যতম প্রধান শর্ত বলে বিবেচিত হয়। কিন্তু ভারতে নির্বাচনে ব্যাপক দুর্নীতি, ভোটে কারচুপি, ভোটকেন্দ্র দখল, জালভোট দান প্রভৃতি অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরূপ অবস্থায় ভারতের সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকার কার্যত ব্যাহত হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন।
[iv] সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকার বাস্তবায়িত হতে হলে মানুষের কিছুটা আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য থাকা আবশ্যক। অথচ ভারতের প্রায় 35 শতাংশ মানুষ এখনও দারিদ্র্য সীমার নীচে বাস করে। স্বাভাবিক ভাবেই টাকা, গম, চাল, কাপড়, কম্বল প্রভৃতি দিয়ে তাদের কাছ থেকে ভোট আদায় করে বহু অযোগ্য ও অসাধু প্রার্থীকে নির্বাচনে জয়লাভ করতে দেখা যাচ্ছে। এটা সুস্থ গণতন্ত্রের পক্ষে যেমন ভালো নয়, তেমনি সার্বিক প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকারের ব্যর্থতাও প্রমাণ করে।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন