ভারতের নির্বাচন কমিশন কীভাবে গঠিত হয়?
ভারতের সংবিধানের পঞ্চদশ অংশে 324(2) নং ধারায় বলা হয়েছে যে, একজন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (Chief Election Commissioner)-কে নিয়ে অথবা, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং কয়েকজন অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে। অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারের সংখ্যা কত হবে, সে সম্পর্কে সংবিধানে নির্দিষ্ট কিছু বলা নেই। অন্যান্য প্রয়োজনীয় কমিশনারদের সংখ্যা রাষ্ট্রপতি নির্ধারণ করেন। 1993 খ্রিস্টাব্দের 1 অক্টোবর রাষ্ট্রপতি শংকরদয়াল শর্মা কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেটের সিদ্ধান্ত অনুসারে এক অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে তিনজন সদস্যবিশিষ্ট নির্বাচন কমিশন গঠন করেন। ওই অর্ডিন্যান্স অনুসারে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার টি এন শেষণ ছাড়া এম এস গিল এবং জি ডি কৃষ্ণমূর্তিকে কমিশনের সদস্য করা হয়। বহু সদস্যবিশিষ্ট নির্বাচন কমিশন সম্পর্কে পরে পার্লামেন্ট কর্তৃক আইনও পাস হয়। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন কমিশনের সভাপতি (Chairman)। তবে ক্ষমতা, কর্তৃত্ব ও পদমর্যাদার দিক থেকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারের সমান। বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুযোগসুবিধার পরিপ্রেক্ষিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।
প্রত্যেক সাধারণ নির্বাচন ও উপনির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনকে সাহায্য করার জন্য রাষ্ট্রপতি প্রয়োজনানুযায়ী আঞ্চলিক নির্বাচন কমিশনার (Regional Election Commissioner) নিযুক্ত করতে পারেন। তবে এ ধরনের নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতিকে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে পরামর্শ করেই করতে হয়। আঞ্চলিক নির্বাচন কমিশনারগণ নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ন্যস্ত দায়িত্ব পালন করেন। এরা সাধারণত রাজ্য বিধানসভা ও রাজ্য বিধান পরিষদের নির্বাচন এবং রাজ্য থেকে লোকসভার নির্বাচনের ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনকে সাহায্য করে থাকেন। বর্তমানে প্রত্যেক অঙ্গরাজ্যে একজন করে মুখ্য নির্বাচন অফিসার (Chief Election Officer) থাকেন। 1866 খ্রিস্টাব্দের জনপ্রতিনিধি আইনে প্রত্যেক জেলার জন্য একজন করে জেলা নির্বাচনি অফিসার (District Election Officer) নিয়োগের কথা বলা হয়েছে।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন