নির্বাচন ও গণতন্ত্র, ভারতের নির্বাচন পদ্ধতি, সংখ্যাধিক্য পদ্ধতি, সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব, ইজরাইলের সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব
নির্বাচন ও গণতন্ত্র
বর্তমান গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় প্রতিটি দেশের জনসাধারণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সরাসরি অংশগ্রহণ করতে পারে না। বর্তমানে জনগণের দ্বারা প্রার্থীরা নির্বাচিত হন। বর্তমানে প্রতিটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচন ব্যবস্থা একটি প্রত্যক্ষ প্রতীকে পরিণত হয়েছে। আমরা প্রায়ই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ গণতন্ত্রের মধ্যে পার্থক্য নির্ধারণ করে থাকি। উভয়ের মধ্যে পার্থক্য কোথায়? প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রে জনসাধারণ দৈনন্দিন সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সরকার পরিচালনার কাজে অংশগ্রহণ করতে পারে। প্রাচীন গ্রিসের নগররাষ্ট্রগুলিতে প্রত্যক্ষ গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা দেখা যেত। আবার অনেকে গ্রামসভাকে প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রের উদাহরণ হিসেবে পেশ করেন। কিন্তু এই ধরনের প্রত্যক্ষ গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা অল্প জনসংখ্যাবিশিষ্ট দেশেই বাস্তবায়িত হওয়া সম্ভব। কিন্তু জনসংখ্যা যদি লক্ষ বা কোটি সংখ্যাবিশিষ্ট হয়ে থাকে তাহলে সম্ভব নয়। সেক্ষেত্রে পরোক্ষ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাই প্রযোজ্য। শেখানে জনগণ তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে শাসনকার্য - পরিচালনায় অংশগ্রহণ করতে পারে। পরোক্ষ গণতন্ত্রে জনগণ সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে তথা প্রশাসন পরিচালনার ক্ষেত্রে খুবই সীমাবদ্ধ বা কম ভূমিকা পালন করে থাকে। এই ধরনের গণতন্ত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করে থাকে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা।
এ ছাড়াও, সবধরনের নির্বাচন কিন্তু গণতান্ত্রিক নয়। বিশ্বের অনেক অগণতান্ত্রিক দেশ আছে যেখানে এই ধরনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। যেসব দেশগুলিতে অগণতান্ত্রিক উপায়ে শাসকরা ক্ষমতা দখল করে আছে তারা তাদের শাসন ক্ষমতাকে বৈধতা দান করার জন্য একটি নির্বাচন সংঘটিত করে থাকে যাতে করে মনে হয়ে থাকে ওই শাসকের ক্ষমতা দখলটি বৈধভাবেই সংঘটিত হয়েছে।
ভারতের নির্বাচন পদ্ধতি
বিভিন্ন দেশের নির্বাচন পদ্ধতি বিভিন্ন রকম। পৃথিবীর এমন বহু দেশ আছে তাদের নির্বাচন পদ্ধতি ভিন্ন প্রকৃতির। কোথাও শাসকগোষ্ঠীর পক্ষে আবার কোথাও বা জাত, পাত, বর্ণ, ভাষা ইত্যাদি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে নির্বাচনি আইন তৈরি হয়। ফলে সেখানে প্রকৃত গণতন্ত্রের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের প্রতিফলন ঘটে না। ভারতের জনগণ পরোক্ষভাবে দেশের শাসনকার্যে অংশ নেয়। ভারতীয় জনগণ 18 বছর বয়স হলে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। যে প্রার্থী বেশি মাত্রায় ভোট পাবে সে বিজয়ী বলে ঘোষিত হবে। জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি দেশের প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে।
সংখ্যাধিক্য পদ্ধতি
FPTP পদ্ধতিতে সমগ্র দেশকে অনেকগুলি ভৌগোলিক অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়, যেগুলিকে নির্বাচনি ক্ষেত্র বা এলাকা বলা হয়। প্রতিটি নির্বাচনি এলাকা থেকে একজন প্রার্থীই প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হবেন। প্রতিটি নির্বাচনি এলাকার ভোটাররা প্রতিটি রাজনৈতিক দলের একজন প্রার্থীকেই তাদের পছন্দমতো ভোটদান করে থাকেন অন্যদের তুলনায় যিনি বেশি ভোট পান তিনিই বিজয়ী হন। এই পদ্ধতিকে সংখ্যাধিক্য পদ্ধতি বলা হয়। এইভাবে যে রাজনৈতিক দল সবথেকে বেশি সংখ্যক আসনে জয়লাভ করে সেই দলই আইনসভায় সরকার গঠন করে। এই পদ্ধতিতে একজন প্রার্থী সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ভোেট না পেয়েও নির্বাচনে জয়লাভ করতে পারে। ভারত, ব্রিটেন প্রভৃতি দেশে FPTP পদ্ধতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।
সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব
সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্বের বিভিন্ন পদ্ধতির মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব। যখন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠী তাদের প্রাপ্ত ভোটসংখ্যার সমানুপাতিক হারে আইনসভায় প্রতিনিধি প্রেরণ করতে পারে, তখন তাকে সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব বলা হয়। এই ব্যবস্থায় সমগ্র দেশকে কয়েকটি বৃহৎ নির্বাচনি এলাকায় ভাগ করা হয় এবং প্রতিটি নির্বাচনকেন্দ্র বহু আসন সমন্বিত হয়ে থাকে। সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্বের দুই প্রধান পদ্ধতি আছে, যথা- [a] হেয়ার পদ্ধতি (The Hare System), [b] তালিকা পদ্ধতি (The List System)। একক হস্তান্তরযোগ্য ভোটপদ্ধতিকে হেয়ার পদ্ধতি বলা হয়। অপরদিকে, তালিকা পদ্ধতিতে প্রতিটি প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দল নির্বাচনি এলাকার আসন-সংখ্যার সমান নিজ দলের প্রার্থীদের একটি তালিকা প্রস্তুত করে। এক্ষেত্রে নির্বাচকমণ্ডলী কোনো বিশেষ প্রার্থীকে ভোট দিতে পারে না। যে-কোনো একটি রাজনৈতিক দলের তালিকাকে তারা ভোট দিতে পারে।
ইজরাইলের সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব
সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্বের নীতি অনুসরণ করা হয় ইজরাইলের নির্বাচনে। ইজরাইলে প্রতি চার বছর অন্তর আইনসভায় নির্বাচন হয়। প্রতিটি দল নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে। নির্বাচন অনুষ্ঠানের দিন ভোটারগণ তাদের পছন্দের দলকে ভোট দেয় কিন্তু কোনো প্রার্থীকে দেখে নয়। প্রতিটি দল যে পরিমাণ ভোেট পায় আইনসভায় সেই অনুপাতে আসন লাভ করে। ফলে খুব ছোটো ছোটো দলও আইনসভায় তাদের প্রতিনিধি পাঠাতে পারে। ভারতে এই নীতি গ্রহণ করা হয় শুধুমাত্র রাষ্ট্রপতি, উপরাষ্ট্রপতি, রাজ্যসভা ও রাজ্যবিধান পরিষদের নির্বাচনের ক্ষেত্রে।
কীভাবে রাজ্যসভার নির্বাচনে সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্বের নীতি অনুসরণ করা হয়?
প্রতিটি রাজ্যে রাজ্যসভার জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক আসন থাকে। যেমন ত্রিপুরার আসন সংখ্যা 1 জন। প্রতিটি রাজ্যের জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত বিধানসভার প্রতিনিধিরাই রাজ্যসভার সদস্যদের নির্বাচন করে। এখানে ভোটারগণ বলতে রাজ্যের বিধায়করা, অর্থাৎ MLA গণ। প্রত্যেক বিধায়করা প্রতিটি প্রার্থীর পক্ষে নিজেদের পছন্দ কী তা জানাতে পারেন। কোনো প্রার্থীকে বিজয়ী হতে গেলে নির্দিষ্ট পরিমাণ ভোট তাঁকে পেতে হয়। যতক্ষণ না কোনো প্রার্থী নির্দিষ্ট কোটা পূরণ করতে পারছেন ততক্ষণ পর্যন্ত হস্তান্তর প্রক্রিয়া চলতে থাকবে। এইভাবে যে প্রার্থী সবচেয়ে বেশি পছন্দের ভোট পাবেন তিনি বিজয়ী হবেন।
ভারতের নির্বাচনে কেন FPTP বা সংখ্যাধিক্য পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়?
ভারতে নির্বাচন ব্যবস্থার FPTP পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে। কারণ-Proportional Representation (PR) বা সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব নীতিটি খুবই জটিল পদ্ধতি। এই পদ্ধতি ছোটো ও - কম জনসংখ্যাবিশিষ্ট দেশের জন্য প্রযোজ্য। কিন্তু ভারতের মতো বৃহদায়তন ও জনসংখ্যাবিশিষ্ট দেশের মধ্যে PR পদ্ধতি প্রয়োগ করা সম্ভব নয়। সেই তুলনায় FPTP পদ্ধতিটি হল অনেক বেশি সহজ ও সরল। সেটি এই পদ্ধতির সাফল্যের একটি কারণও বটে। FPTP পদ্ধতিটি এই কারণেই বেশি গ্রহণযোগ্য হয়েছে যে, এটি এতই সহজ পদ্ধতি যে, যারা রাজনীতি ও নির্বাচন সম্পর্কে কোনো জ্ঞান রাখে না তাদের কাছেও বোঝাটা খুবই সহজ।
সংরক্ষিত নির্বাচনি ক্ষেত্র
FPTP পদ্ধতিতে যেহেতু একটি নির্বাচনি ক্ষেত্র থেকে একজন প্রার্থী নির্বাচিত হন সেহেতু ওই নির্বাচনি ক্ষেত্রের মধ্যে জাতভিত্তিক ছোটো সম্প্রদায়গুলির ওপর প্রভাবশালী বড়ো জাতভিত্তিক সম্প্রদায়ের আধিপত্য বিস্তার করার একটি আশঙ্কা থেকেই যায়। যার ফলে সমাজের মধ্যে একটি বৈষম্যের সৃষ্টি হতে পারে। এই বৈষম্যকে দূর করার জন্য আমাদের সংবিধান প্রণেতারা ব্রিটিশদের দ্বারা প্রস্তাবিত Separate Electorates পদ্ধতিকে বর্জন করে নির্বাচনি এলাকার সংরক্ষণের নীতিকে গ্রহণ করেছিলেন। এই পদ্ধতিতে একটি নির্দিষ্ট সংরক্ষিত নির্বাচনি এলাকার সব ভোটদাতারাই ভোট দিতে পারবেন। কিন্তু ওই নির্বাচনি এলাকার প্রার্থী হবেন সংরক্ষিত সম্প্রদায়ের জনগণের মধ্যে থেকেই। ভারতীয় সংবিধানে 10 বছরের জন্য সংরক্ষণের ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছিল। পরে তা 2020 খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে।
অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন
যে-কোনো নির্বাচন প্রক্রিয়ার সাফল্যের পেছনে তার পদ্ধতিগত স্বচ্ছতা ও প্রভাবমুক্ততা বহুলাংশে নির্ভর করে। বিশেষ করে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত জরুরি। ভারতের সংবিধানে বলা হয়েছে যে, সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকারের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হবে। বহু ক্ষেত্রেই প্রশ্ন এসে যায় এই নির্বাচকমণ্ডলী কারা? কারা এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে? দুটি ক্ষেত্রেই এককথায় বলা যায়, ভারতের প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকগণ অংশ নেবেন। এখানে ভারতের সংবিধানে জাতি, বর্ণ, ধর্ম, লিঙ্গ ইত্যাদি নির্বিশেষে এমনকি শিক্ষাগত যোগ্যতাও এক্ষেত্রে কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। তবে এ কথা সত্য যে, কিছু বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে সংরক্ষণ ব্যবস্থার ফলে বিশেষ ধর্ম, জাতি, উপজাতি বা লিঙ্গের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ঘটে। তবে এই ব্যাপারের ক্ষেত্রেও অবশ্যই স্বচ্ছতা থাকতে হবে। তবে সুস্থ সুন্দর জাতি ও সমাজ গঠনের ক্ষেত্রে প্রভাবমুক্ত নির্বাচন প্রক্রিয়ার পাশাপাশি নির্বাচকমণ্ডলীরও সঠিক নির্বাচনের দায়িত্ব থেকে যায়।
সার্বিক প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকার এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অধিকার
যে-কোনো গণতান্ত্রিক নির্বাচন পদ্ধতিতেই সমস্ত প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের ভোটাধিকার অর্জনের যোগ্য বলে মনে করা হয়। যাকে সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকার বলা হয়। ভারত 1989 খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ভোটাধিকার অর্জনের বয়ঃসীমা ছিল 21 বছর। 1989 খ্রিস্টাব্দে 61 তম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে 21 থেকে তা কমিয়ে 18 বছর করা হয়েছে। সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকার নীতি প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের তাদের নিজেদের নির্বাচনি এলাকার প্রতিনিধি নির্বাচনের বিষয়গুলিকে সুনিশ্চিত করে।
স্বাধীন নির্বাচন কমিশন
ভারতের মতো একটি বিপুল জনসংখ্যাবিশিষ্ট ও বিশাল আয়তন দেশের নাগরিকরা যাতে স্বাধীনভাবে নিজেদের ইচ্ছানুযায়ী ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে তার জন্য সংবিধান প্রণেতারা সংবিধানের পঞ্চদশ অংশে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। সেই ব্যবস্থাটি হল একটি স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠন। সংবিধানের 324(2) নং ধারায় নির্বাচন কমিশনের গঠন সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, 2 জন মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে। তবে রাষ্ট্রপতি ইচ্ছা করলে কমিশনে আর কত জন কমিশনার থাকবেন, তা নির্ধারণ করে দিতে পারেন। বর্তমানে । জন মুখ্যনির্বাচন কমিশনারসহ আরও 2 জন কমিশনারকে নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছে। মুখ্যনির্বাচন কমিশনার কমিশনের সভাপতি হিসেবে কার্যসম্পাদন করেন।
নির্বাচন কমিশনকে যেসব কার্যাবলি সম্পাদন করতে হয় সেগুলির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হল-
[i] প্রতিটি সাধারণ নির্বাচনের পূর্বে ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা।
[ii] সমগ্র দেশের মধ্যে অবাধ ও স্বাধীন নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন ব্যবস্থার তত্ত্বাবধান করা।
[iii] নির্বাচন সংক্রান্ত কোনো বিরোধ উপস্থিত হলে সেই সম্পর্কে অনুসন্ধানের জন্য আধিকারিক নিয়োগ করা।
[iv] সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মচারীর ব্যবস্থা করতে রাষ্ট্রপতি ও রাজ্যপালদের অনুরোধ করা।
[v] নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক দলগুলিকে এবং জনগণকে কী কী আচরণবিধি মেনে চলতে হবে তা নির্ধারণ করা।
বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা
বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতার অর্থ হল, উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন এবং আইনসভায় মোট সদস্যের সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা। সংবিধানে এমন কতকগুলি বিষয় আছে যেগুলির সংশোধন বা পরিবর্তন করতে হলে বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠার প্রয়োজন হয়। যেমন-মৌলিক অধিকার, নির্দেশমূলক নীতিসমূহ প্রভৃতি বিষয় পরিবর্তন বা সংশোধনের ক্ষেত্রে এই বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতার পদ্ধতি অবলম্বন করতে হয়।
নির্বাচনি সংস্কার
নির্বাচনি সংস্কারের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সুপারিশ প্রদান করা হলেও কেন্দ্রীয় সরকারের আন্তরিকতার অভাবে সেইসব সুপারিশ অধিকাংশই কার্যকর করা হয়নি। 1985 খ্রিস্টাব্দে দলত্যাগবিরোধী আইন, 1988 - খ্রিস্টাব্দে প্রণীত ভোটদাতাদের বয়ঃসীমা হ্রাস ও বুথ দখলের - অভিযোগে শাস্তি প্রদান এবং 1991 খ্রিস্টাব্দে নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ সংক্রান্ত আইনের মতো কিছু আইন দ্বারা বিশেষ কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। এমতাবস্থায় নির্বাচন সংস্কারের জন্য যেসব ব্যবস্থাগুলি গ্রহণ করা যেতে পারে সেগুলি হল-
[i] নির্বাচন কমিশনের ওপর সরকারের প্রভাববিস্তার বন্ধ করার জন্য কমিশনারের নিজস্ব আধিকারিক ও কর্মচারী থাকা দরকার।
[ii] নির্বাচন পরিচালনার জন্য নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব একটি তহবিল থাকা উচিত।
[iii] শুধুমাত্র স্বীকৃত জাতীয় দলগুলিকেই লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ দেওয়া হলে লোকসভায় সরকার স্থায়িত্ব লাভ করবে।
[iv] নির্বাচনের যাবতীয় ব্যয় নির্বাহের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের হাতে প্রদান করতে হবে। কমিশন প্রতিটি দলকে নির্বাচনি প্রচারের জন্য আনুপাতিকভাবে অর্থ বরাদ্দ করবে।
[v] প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে তার নির্বাচনি ব্যয়সহ বার্ষিক আয় ব্যয়ের হিসাব কমিশনের কাছে বাধ্যতামূলকভাবে পেশ করতে হবে।
[vi] সরকারি প্রচার মাধ্যমগুলিতে কমিশন স্বীকৃত সব দলকেই প্রচারের সমান সুযোগ প্রদান করতে হবে।
[vii] কোনো নির্বাচন প্রার্থীর বিরুদ্ধে যদি অপরাধমূলক কার্যের অভিযোগ প্রমাণিত হয় বা বিচারাধীন থাকে তাহলে সেই প্রার্থীকে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত যে-কোনো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হবে।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন