মৌলিক অধিকার ও নির্দেশমূলক নীতির মধ্যে পার্থক্য- গুলি আলোচনা করো।
নাগরিকদের পরিপূর্ণ বিকাশ সাধনের উপযোগী পরিবেশ গঠনের উদ্দেশ্যে ভারতীয় সংবিধানের তৃতীয় অধ্যায়ে 12-35নং ধারায় মৌলিক অধিকারগুলি স্বীকৃত হয়েছে। অন্যদিকে, জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্রের নীতি এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে সংবিধানের চতুর্থ অধ্যায়ে 36-51 নং ধারায় নির্দেশমূলক নীতির উল্লেখ করা হয়েছে। উভয়ই অধিকার বলে গণ্য হলেও এবং উদ্দেশ্যগত দিক থেকে গভীর সংযোগ বর্তমান থাকলেও উভয়ের মধ্যে নিম্নলিখিত পার্থক্যগুলি লক্ষ করা যায়:
[i] নেতিবাচক ও ইতিবাচক: মৌলিক অধিকারগুলি নাগরিকদের অধিকার সুনিশ্চিত করার জন্য রাষ্ট্রের কাজ- কর্মের সীমা নির্দেশ করে এবং রাষ্ট্র কর্তৃক হস্তক্ষেপের পরিধি সংকুচিত করে। অন্যদিকে, নির্দেশমূলক নীতি হল লক্ষ্য বা আদর্শে উপনীত হওয়ার উপযোগী নির্দেশনামা।
[ii] আদালত কর্তৃক বলবৎযোগ্য: মৌলিক অধিকারগুলি আদালত কর্তৃক বলবৎযোগ্য। কিন্তু নির্দেশমূলক নীতিগুলি আদালত কর্তৃক বলবৎযোগ্য নয়।
[iii] বাস্তবায়নের পদ্ধতি: নির্দেশমূলক নীতিগুলিকে কাজে পরিণত করতে হলে সেই উদ্দেশ্যে আলাদা করে আইন প্রণয়ন করতে হয়। কিন্তু নাগরিকদের মৌলিক অধিকারগুলি কার্যকর করার জন্য আলাদা করে আইন প্রণয়ন করার প্রয়োজন হয় না।
[iv] আদর্শ ও উদ্দেশ্য: আদর্শ এবং উদ্দেশ্যের দিক থেকে নির্দেশমূলক নীতিগুলি সমাজতান্ত্রিক, কিন্তু মৌলিক অধিকারগুলি গণতান্ত্রিক।
[v] মর্যাদা: মৌলিক অধিকারবিরোধী সংসদ প্রণীত কোনো আইনকে আদালত বাতিল বলে ঘোষণা করতে পারে। কেন-না মৌলিক অধিকারগুলি অলঙ্ঘনীয়। নির্দেশমূলক নীতিবিরোধী কোনো আইন প্রণীত হলে আদালতও সেই আইনকে বাতিল বলে ঘোষণা করতে পারে না। কেন-না এই নীতিগুলি অলঙ্ঘনীয় নয়।
[vi] অধিকারগুলি রাজনৈতিক নীতিগুলি সামাজিক: মৌলিক অধিকারগুলি প্রধানত নাগরিকদের রাজনৈতিক অধিকারকে প্রতিষ্ঠা করে। অপরদিকে, নির্দেশমূলক নীতিগুলি জনগণের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অধিকারের প্রতিফলন।
[vii] সংখ্যা: মৌলিক অধিকারগুলি সংখ্যায় অনেক কম। অন্যদিকে, নির্দেশমূলক নীতিগুলি সংখ্যায় অনেক বেশি।
মূল্যায়ন: পরিশেষে বলা যায় যে, উভয়ের মধ্যে কিছু পার্থক্য থাকলেও তা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মৌলিক অধিকারের ওপরে নির্দেশমূলক নীতিগুলিকে স্থান দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে নির্দেশমূলক নীতিগুলি মৌলিক অধিকারের পরিপূরক হিসেবে কাজ করছে।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন