ভারতে প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকার সাফল্যমন্ডিত হয়েছে বলে যাঁরা দাবি করেন, তাঁদের চারটি যুক্তির উল্লেখ করো।
ভারতে প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকার সাফল্যমন্ডিত হয়েছে বলে যাঁরা দাবি করেন, তাঁদের চারটি যুক্তির উল্লেখ করো।
ভারতে প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকার সাফল্যমণ্ডিত হয়েছে বলে যাঁরা দাবি করেন, তাঁদের যুক্তিগুলি হল-
[i] সমগ্র ভারতে সাক্ষরতার অভিযান চালিয়ে ভারতে সাক্ষর মানুষের সংখ্যা অনেক পরিমাণে বৃদ্ধি করা হয়েছে। তা ছাড়া, সাক্ষর হলেই মানুষের রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি পায় না। অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, বিগত নির্বাচন- গুলিতে অশিক্ষিত বা অল্পশিক্ষিত গ্রামীণ ও শ্রমিক- অধ্যুষিত এলাকায় শিক্ষিত শহরাঞ্চলের অপেক্ষা ভোট- দাতার উপস্থিতির পরিমাণ অনেক বেশি।
[ii] ভারতে বিগত সাধারণ নির্বাচনগুলিতে ভোটদাতাদের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি ভারতে সার্বিক প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকারের সাফল্যকে প্রমাণ করে দেয়। প্রথম নির্বাচনে ভোটদাতাদের উপস্থিতি যেখানে ছিল 45.7 শতাংশ, বর্তমানে সেই সংখ্যা 75 শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে। অশিক্ষা, দারিদ্র্যতা ইত্যাদি কোনো কারণই ভোটদাতাদের ভোটদানের অধিকার প্রয়োগ করতে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে নি।
[iii] সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকারের নীতি স্বীকৃত হওয়ায় প্রথম পর্বে রাজনৈতিক সচেতনতার কিছু অভাব থাকলেও বর্তমানে তা পরিপক্কতার রূপ নিয়েছে। বর্তমানে ভারতীয় নাগরিকগণ যথেষ্ট বিচক্ষণতার সঙ্গে ভোটপ্রদান করছে তা চতুর্থ সাধারণ নির্বাচনের থেকে কেন্দ্রে কংগ্রেসকে পরাস্ত করে জনতা সরকার, বিজেপি জোটকে ক্ষমতায় বসিয়েছে। আবার কেন্দ্রে কংগ্রেস দলকে পুনরায় ক্ষমতায়ও বসিয়েছে। তা ছাড়া, বিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভাগুলির নির্বাচনেও জনগণ যথেষ্ট রাজনৈতিক সচেতনতা ও বিচক্ষণতার পরিচয় রাখছে।
[iv] প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকার স্বীকৃত হওয়ার ফলে ভারতীয় জনগণের মধ্যে দেশপ্রেম ও ঐক্যবোধ জাগরিত হয়েছে। নাগরিকগণ রাষ্ট্রের বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমস্যার সঙ্গে পরিচিত হয়েছে এবং সেই সব সমাধানে তৎপর দেখাচ্ছে। অবশ্য এক্ষেত্রে ভারতীয় রাজনৈতিক দলগুলির বিশেষ অবদান রয়েছে। সুতরাং, কিছুছো টোখাটো ত্রুটি-বিচ্যুতির প্রমাণ মিললেও এ কথা বলতেই হবে যে, সংগত কারণেই ভারতের সর্বজনীন ভোটাধিকার ব্যর্থ হয়নি, বরং আশাতীতভাবে সাফল্য লাভ করেছে।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন