How did Tripura Join as a State of Independent India? ত্রিপুরা রাজ্য কিভাবে স্বাধীন ভারতের সাথে যুক্ত হয় ? ভূমিকা ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ১৭ মে ত্রিপুরার মহারাজা বীর বিক্রম কিশোর মানিক্য বাহাদুর ৩৯ বছর বয়সে পরলোক গমন করলে তার পুত্র কিরীট বিক্রম কিশোর দেববর্মন মানিক্য বাহাদুর ত্রিপুরা রাজ্য ও চাকলা রোশনাবাদের জমিদারি উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত হন। তিনি নাবালক থাকায় ভারত সরকারের পরামর্শ অনুযায়ি রাজমাতা মহারাণি কাঞ্চনপ্রভা দেবীর নেতৃত্বে রাজপ্রতিনিধি শাসন পরিষদ বা কাউন্সিল অব রিজেন্সি গঠিত হয়। মহারাণি কাঞ্চনপ্রভা দেবী এই পরিষদের প্রেসিডেন্ট এবং রাজকুমার ব্রজেন্দ্র কিশোর দেববর্মন বাহাদুর ভাইস প্রেসিডেন্ট নিযুক্ত হন। মেজর বঙ্কিম বিহারী দেববর্মন ও মন্ত্রী রাজরত্ন সত্যব্রত মুখার্জি এই পরিষদের সদস্য নিযুক্ত হন। (২) পাকিস্তানের ত্রিপুরা আক্রমনের ষড়যন্ত্র ভারত স্বাধীনতা লাভের অল্পদিনের পরেই ত্রিপুরা রাজ্য এক গভীর সঙ্কটের সম্মুখীন হয়। ত্রিপুরা সীমান্তস্থিত কুমিল্লার মুসলিম ন্যাশনাল গার্ডের উদ্যোগে ও আগরতলার কতিপয় ব্যক্তির সহযোগিতায় পাকিস্তান ত্রিপুরা আক্রমনের পরিকল্পনা করে। ত্রিপুরার রা...
বাংলা গদ্যের উদ্ভব ও ক্রমবিকাশে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের ভূমিকা সম্পর্কে আলোচনা করো।
উত্তর: ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এদেশের শাসনভার গ্রহণ করবার পর বাংলাদেশে এক সমস্যার সামনে পড়েন। তাঁরা উপলব্ধি করেন, সুষ্ঠুভাবে রাজ্যশাসন-এর পাশাপাশি বাণিজ্যের প্রয়োজনেও তাঁদের কর্মচারীদের বাংলা ভাষা শেখার যথেষ্ট প্রয়োজন রয়েছে। এই উপলব্ধির কারণেই ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে তৎকালীন ভারতের গভর্নর জেনারেল লর্ড ওয়েলেসলি কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ।
বাংলা গদ্য ভাষা সৃষ্টির ক্ষেত্রে তো বটেই, এমনকি বাংলা সাহিত্যের গঠন-কাঠামোর সৌন্দর্যায়নে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই কাজে যিনি গুরুদায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন, তিনি হলেন উইলিয়াম কেরি। বাংলা গদ্যসাহিত্যের ইতিহাসে তাঁর কথা অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গেই স্মর্তব্য। কারণ সেই সময় বাংলা গদ্য ভাষায় কোনো গ্রন্থ ছিল না এবং তিনি অনুভব করেছিলেন ইংরেজ সিভিলিয়ানদের শিক্ষাদানের মধ্য দিয়ে শাসনকার্য ও ব্যাবসার কাজে সহায়ক করে তুলতে সহজ গদ্যে রচিত গ্রন্থের অত্যন্ত প্রয়োজন। তাই তিনি নিজেই দুটি বাংলা গ্রন্থ রচনা করেছিলেন, যার মধ্যে একটির নাম 'কথোপকথন' (১৮০১)। এর বিষয়বস্তু ছিল সমসাময়িক যুগের কলকাতা অঞ্চলের মৌখিক ভাষাকে আদর্শ করে নারী-পুরুষের কথোপকথনের দৃষ্টান্তকে তুলে ধরা। সরল কথ্য ভাষায় রচিত এ গ্রন্থটি ছাড়াও ‘ইতিহাসমালা’ (১৮১২)-তে দেশি-বিদেশি পনেরোটি গল্প বিন্যস্ত হয়েছে। অত্যন্ত প্রাঞ্জল ভাষায় সহজসরল সাধুরীতিতে রচিত এ গ্রন্থও বাংলা গদ্যের ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য।
১৮০১ খ্রিস্টাব্দে কেরিসাহেব ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের দায়িত্ব নিয়ে শিক্ষাদানের উপযুক্ত বাংলা পাঠ্যপুস্তকের অভাব অনুভব করে নিজে যেমন পাঠ্যপুস্তক রচনায় উৎসাহী ও অগ্রণী হন, তেমনই এই কলেজের আরও কয়েকজন পণ্ডিতকে সেই কাজে উৎসাহিত করেন। এই কলেজেরই পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলা গদ্যসাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন পণ্ডিত রামরাম বসু, মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালংকার, তারিণীচরণ মিত্র, রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায়, চন্ডীচরণ মুনশি, হরপ্রসাদ রায় প্রমুখ। বাংলা গদ্যের সূচনাপর্বের বিকাশ ও বিবর্তনে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের ভূমিকা তাই শ্রদ্ধার সঙ্গে চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
.png)
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন