Discuss the history of mining Industry in Assam with special reference to coal and petroleum.
কয়লা এবং পেট্রোলিয়ামের উল্লেখপূর্বক আসামে খনিজ শিল্পের উত্তোলনের ইতিহাস আলোচনা করো।
ভূমিকা আসামে যেসমস্ত প্রাকৃতিক সম্পদ পাওয়া যায় তার মধ্যে কয়লা এবং খনিজ তেল বিশেষ উল্লেখযোগ্য। আর এই কয়লা এবং খনিজ তেলের সন্ধান এবং তার উত্তোলনের প্রচেষ্টা মূলতঃ শুরু হয়েছিল ব্রিটিশ কর্তৃক আসাম অধিগ্রহণের পর। কারন ব্রিটিশ কর্তৃক আসাম অধিগ্রহণের পরই আসামে চা শিল্প গড়ে ওঠে। আর চা শিল্পকে কেন্দ্র করে একদিকে যেমন যোগাযোগ, পরিবহন বা রেলপথ নির্মানের প্রশ্নটি গুরুত্ব পেয়েছিল অন্যদিকে বাগানের জমি খোঁজ করতে গিয়ে বিশাল অরণ্য সম্পদ, কয়লা, পেট্রোলিয়াম ইত্যাদির সন্ধান মেলে। তবে এই সমস্ত প্রাকৃতিক সম্পদ আসামের জনগণের আর্থিক সমৃদ্ধির পরিবর্তে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের আর্থিক সমৃদ্ধি ঘটাতেই বিশেষভাবে সাহায্য করেছিল।
কয়লা আসামে সর্বপ্রথম কয়লার সন্ধান পাওয়া যায় ১৮৩৪ সালে বর্তমান মেঘালয়ের অন্তর্গত চেরাপুঞ্জিতে। কিন্তু প্রকৃত অর্থে আসামে কয়লা উত্তোলন শুরু হয় ১৮৪০ সালে। এই বছর Assam Tea Company (ATC) এবং Assam Railway and Trading Company (ARTC) ডিব্রুগর এবং শিবশাগরের প্রায় ৪০ কিমি দীর্ঘ জয়পুর অঞ্চলে ব্যাপকভাবে কয়লা উত্তোলন শুরু করে। পরবর্তিকালে তিনসুকিয়া জেলার মাকুম বা লেডো, সরাইপুঞ্জ, তরাযান অঞ্চল, কার্বি আংলং এর কোলিয়া যান, শীলভেটা এলাকা, নর্থ কাছার হিলস্ এর ঘোটা-আর্দা, উমরাংশু, গরমপানি, খাসি পাহার এবং ধুবরি জেলার শিংরিমারি অঞ্চলে কয়লা খনি আবিস্কৃত হয় এবং এই সমস্ত কয়লা খনি থেকে কয়লা উত্তোলনের কাজ শুরু হয়।
প্রথমদিকে কোলকাতা কেন্দ্রিক কোল কমিটি আসামের কয়লাখনিগুলি থেকে কয়লা উত্তোলনের আগ্রহ দেখালেও তেমন অগ্রনী ভূমিকা নিতে পারেনি। ফলে Malcolm and Browne Wood পাহারের সর্দারদের সাথে চুক্তি করে কয়লা উত্তোলনে সচেষ্ট হয়। কিন্তু ATC এবং ARTC এর কাছে পর্যদস্তু হয়ে পিছপা হয়। ফলে ১৮৮২ সালে ARTC এর উদ্যোগে তিনসুকিয়ায় লেডো কোলিয়ারি চালু হয় এবং সমগ্র আসামে মাকুম কয়লাখনি অঞ্চল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করতে সমর্থ হয়। ফলে ১৯২১ সালে আসামের কয়লাখনিগুলিতে ৩, ১৫৮ জন কয়লা শ্রমিক কাজ করার সুযোগ পায়।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ARTC এর মতো সংস্থাগুলো গুরুত্ব হারায়। ১৯৭৩ সালে সারাদেশের কয়লা খনি গুলির জাতীয়করন করা হয় এবং ১৯৭৫ সালে Coal India Limited গঠিত হয়। Coal India Limited এর অঙ্গ হিসাবে North Eastern Coal fields এর সদর দপ্তর মার্ঘারিটায় স্থাপিত হয়।
খনিজতেল (পেট্রোলিয়াম) আসামে প্রথম খনিজ তেলের সন্ধান পাওয়া যায় ডিগবয়ে। তবে কিভাবে প্রথম এই খনিজতেলের সন্ধান পাওয়া গেল সেসম্পর্কে বিভিন্ন মতামত প্রচলিত আছে। আপার আসামে কর্মরত বিভিন্ন আর্মি অফিসার যেমন Lr.R. Wilcox, Major A. White, Francis Jenkins, Capt. P.S. Hanney প্রমুখ তাদের ডাইরিতে আসামে খনিজ তেলের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছেন। একই ভাবে আসামের চা উৎপাদক C.A. Bruce এবং Geo- logical Survey of India এর কর্ণধার H.B.Medicott তাদের ডাইরিতে আসামে লুকিয়ে থাকা খনিজ তেলের কথা উল্লেখ করেছেন। শেষপর্যন্ত ১৮৮২ সালে যখন ডিগবয় অঞ্চল থেকে ডিব্ৰুগর - মার্ঘারিটা রেলপথ নির্মানের জন্য প্রয়োজনীয় স্লিপারের কাঠ হাতির সাহায্যে আনা হচ্ছিল তখন Assam Railwas and Trading Company এর ইঞ্জিনিয়াররা হাতির পায়ে তেলের গন্ধ পান। সঙ্গে সঙ্গে ডিগবয় অঞ্চলে খনন কার্য শুরু হয়। বলা হয়ে থাকে যে শ্রমিকদের উৎসাহিত করার জন্য ধ্বনি ওঠে : 'Dig boy, dig'। ফলে ঐ জায়গাটির নাম হয় Digboy। এইভাবে আসামে খনিজ তেলের উত্তোলনের সূত্রপাত ঘটে।
পৃথিবীতে খনিজ তেল উৎপাদনের প্রথম প্রচেষ্টা শুরু হয়েছিল ১৮৫৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায়। আর দ্বিতীয় উদ্যোগটি শুরু হয়েছিল আসামের ডিগবয়ে। তবে ডিগবয় থেকে তেল উৎপাদনের জন্য কে প্রথম খননকার্য শুরু করেছিলেন সে সম্পর্কে বিতর্ক আছে। অনেকের মতে কলকাতাব Mc Killop Stewart Co- এর মিস্টাব Goodenough ডিগবয় থেকে ৪৮ কিমি দূরে নাহোরপুঞ্জ এলাকায় ১৮৮৬ সালে তেলের জন্য প্রথম খনন কার্য শুরু করেন। আবার কারো কারো মতে ARTC এর কানাডীয় ইঞ্জিনিয়ার W.L. Lake ই ডিগবয়ে প্রথম খননকার্য শুরু করেন। বিতর্ক যাইহোক না কেন প্রথমদিকে ARTC এর তেল উত্তোলনের বিশেষজ্ঞ দল নাথাকার কারনে ১৮৮৯ সালে Assam Oil Company গঠিত হয়।। এই কোম্পানি ডিগবয়ে তেল উৎপাদন ও পরিশোধনের কার্য শুরু করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ডিগবয় থেকে দিনে ৭০০০ ব্যারেল পর্যন্ত তেল উত্তোলন করা হয়েছিল।
১৯৮১ সালে Assam Oil Company কে ভারতীয় পার্লামেন্টের বিধি অনুযায়ী In- dian Oil Corporation এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়। দীর্ঘ একশত বছরেরও বেশি সময় ধরে ডিগবয় পর্যাপ্ত পরিমানে তেল উৎপাদন করে চলেছে। লক্ষ লক্ষ টন পেট্রোল, ডিজেল, কেরোসিন সহ বিভিন্ন ধরনের পেট্রোলিয়াম পন্যকে পরিশোধিত করার উদ্দেশ্য বর্তমান আসামের ডিগবয় নুনমাটি, ধালিগাঁও এবং নুমালিগড়ে তেল পরিশোধনাগার চালু আছে। এর থেকে বোঝা যায় আসামে খনিজ তেলের ভান্ডার কত বিশাল। আর এই কারনে ডিগবয়কে বলা হয়, “a tech- nical marvel of the past and present".
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন