Who was David Scott? What sorts of reforms did he introduce in Assam? Make estimate of his achievement in establishing Brit- ish authority in Assam.
ডেভিড স্কট কে ছিলেন? আসামে তিনি কি ধরনের সংস্কার প্রবর্তন করেছিলেন? তাঁর কৃতিত্ব আলোচনা কর।
ডেভিড স্কটের পরিচয় আসামে ব্রিটিশ শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে যে সমস্ত ইংরেজ কর্মচারী অগ্রনী ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন তাদের মধ্যে ডেভিড স্কট বিশেষ উল্লেখযোগ্য। ডেভিড স্কট ১৭৮৬ খ্রীষ্টাব্দে স্কটল্যান্ডে জন্ম গ্রহণ করেন। কোলকাতার ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে প্রশিক্ষণ লাভ করে একজন দক্ষ সিভিল সার্ভেন্ট হিসাবে তিনি অবিভক্ত বঙ্গের বিভিন্ন স্থানে ও কোচবিহারে গুরুত্বপূর্ন পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। ১৮২২ সালের নভেম্বর মাসে তিনি তাঁর নিজস্ব পদের দায়িত্বর অতিরিক্ত হিসাবে উত্তর-পূর্ব সীমান্তের প্রশ্নে গভর্নর জেনারেল এর এজেন্ট হিসেবে নিযুক্ত হন। ১৮২৬ সালের ২৪ শে ফেব্রুয়ারী ইয়ান্দাবুর চুক্তি অনুযায়ী ব্রহ্মদেশ আসামের অধিকৃত অংশ কোম্পানীর নিকট হস্তান্তর করলে জেভিড স্কট গভর্নর জেনারেলের এজেন্ট হিসাবে ১৮২৬-১৮২৮ খ্রিঃ পর্যন্ত আসামের শাসন ব্যবস্থা পরিচালনা করেন। ১৮২৮ সালে তিনি আসামের ব্রিটিশ কমিশনার এর পদে উন্নীত হন এবং আমৃত্যু ১৮৩১ সাল পর্যন্ত তিনি ঐপদে অধিষ্ঠিত থেকে আসামে ব্রিটিশ শক্তির সম্প্রসারণ ও সুদৃঢ়করনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
ডেভিড স্কটের সংস্কার ১৮২৬ থেকে ১৮২৮ সাল পর্যন্ত আসামের গভর্নর জেনারেল এর এজেন্ট হিসাবে ডেভিড স্কট শাসন ব্যবস্থার খুঁটিনাটি ফোর্ট উইলিয়াম কর্তৃপক্ষের নজরে আনতেন এবং তাঁদের পরামর্শ নিয়েই সমস্ত কার্য পরিচালনা করতেন। ১৮২৮ সালে কমিশনার এর পদে উন্নীত হওয়ার পর তিনি কীভাবে সকলের আস্থা অর্জন করে ব্রিটিশ শক্তিকে আসামে প্রতিষ্ঠিত করা যায় সে ব্যাপারে তিনি তাঁর কিছু স্বকীয় চিন্তা ও প্রস্তাব কর্তৃপক্ষের কাছে পেশ করেছিলেন। তাঁর কিছু প্রস্তাব কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করেছিল আবার অনেক প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছিল।
একথা ঠিক যে, ডেভিড স্কট আসামে ঔপনিবেশিক ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তির রুপকার ছিলেন। কিন্তু গণতান্ত্রিক চেতনায় উদ্দিপিত স্কট হিংস্র ও উলঙ্গ আক্রমণের পক্ষপাতী ছিলেন না। ফলে ইয়ান্দাবুর চুক্তির পর তাঁর প্রাথমিক দায়িত্ব ছিল বর্মী আক্রমণে বিধ্বস্ত আসামে কিছুটা শান্তি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। নিম্ন আসামে আহোম রাজাদের কর্তৃত্ব ছিল ক্ষীণ এবং বঙ্গদেশ লাগোয়া ঐ অঞ্চলে কিছুদিন মুসলিম শাসন অব্যহত ছিল। ফলে রাজস্ব ব্যবস্থা থেকে শুরু করে সামাজিক ব্যবস্থা ইত্যাদি প্রতিবেশি বঙ্গদেশের অনুরুপ ছিল এবং এ কারনে নিম্ন আসাম তুলনামূলকভাবে সহজেই ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করে শাসন করা সহজ হয়েছিল। কিন্তু আপার আসামের রাজনৈতিক ও আর্থ সামাজিক পরিকাঠামো ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির।
বস্তুতঃ আপার আসাম ছিল আহোম রাজাদের ক্ষমতার কেন্দ্রভূমি। ডেভিড স্কট বুঝতে পেরেছিলেন যে ক্ষমতা হারানোর যন্ত্রনা আহোম অভিজাতরা সহজে ভুলতে পারবেন না।
ফলে তিনি অভিজাতদের প্রতি কিছুটা সহানুভূতির নীতি গ্রহণ করেছিলেন। যদিও অভিজাতদের বিদ্রোহগুলিকে তিনি কঠোর ভাবে দমন করেছিলেন। যাহোক, স্কটের উদ্যোগেই পুরন্দর সিংহ শেষপর্যন্ত সিংহাসনে বসতে পেরেছিলেন। আহম রাজত্বে প্রচলিত 'খেল' ব্যবস্থার সমাপ্ত না করে তিনি ঐ ব্যবস্থার স... জড়িত অন্যান্য প্রথাগুলিকে কিছুটা আধুনিক করার চেষ্টা করেন। প্রচলিত বিনিময় ব্যবস্থার পরিবর্তে তিনি নগদ অর্থে কর প্রদান এবং নগদ অর্থেই সমস্ত আদান-প্রদান পদ্ধতি চালু করেন। তিনি অভিজাতদের ব্যক্তিগত দাস হিসাবে পাইকদের শ্রম দানের ব্যবস্থা এবং মধ্যযুগীয় শাস্তিদান পদ্ধতি বন্ধ করে দেন।
শিক্ষাবিস্তারের জন্যও ডেভিড স্কট বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তাঁরই আহ্বানে শ্রীরামপুর ব্যাপটিস্ট মিশন ১৮২৯ সালে প্রথমে গুয়াহাটি ও পরে চেরাপুঞ্জিতে শাখা অফিস তৈরী করে। খ্রীষ্টধর্মের পাশাপাশি শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল ঐ মিশনারিদের প্রধান উদ্দেশ্য। পরবর্তীকালে গুয়াহাটি মিশন বন্ধ হলেও স্কট হতাশ হননি। বরং তিনি কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে প্রধানতঃ নিম্নআসামে দেশীয় পদ্ধতিতে শিক্ষাদানের উদ্দেশ্যে এবং সংস্কৃত ভাষার উপর গুরুত্ব দিয়ে ১১টি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
ডেভিড স্কটের মূল্যায়ন ডেভিড স্কট যথেষ্ট সহানুভূতির সঙ্গে আসামে কতগুলি সংস্কার প্রবর্তনের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তিনি আসামের মানুষকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন অর্থাৎ-আসাম দখল করার উদ্দেশ্য নয় বরং বর্মী দুঃশাসন থেকে আসামের মানুষকে মুক্ত করার জন্যই ইংরেজরা আসামে এসেছে, সেই প্রতিশ্রুতি তিনি রাখতে পারেননি। অন্যদিকে সমগ্র আসাম থেকে প্রত্যাশা মত রাজস্ব আদায় না হওয়ায় ডেভিড স্কটের কাজকর্মে কোম্পানির কর্তৃপক্ষ খুব একটা খুশি ছিলেন না। অর্থাৎ আসামবাসী ও ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ উভয়ের দিক থেকেই ডেভিড স্কট সমালোচিত হয়েছিলেন। অথচ আসামে ব্রিটিশ শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য অতিরিক্ত পরিশ্রমের ফলেই মাত্র ৪৫ বছর বয়সে স্কট ইহলোক ত্যাগ করেন। হয়ত এই কারনেই পরবর্তি কমিশনার রবার্টসন (১৮৩১-৩৪খ্রিঃ) স্কট সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, "Doubtless scott attempted more than he was equal to perform".
ডেভিড স্কট আসামের শাসন ব্যবস্থায় যে সংস্কারগুলি প্রবর্তন করেছিলেন এর ফলে শাসন ব্যবস্থায় এক জগাখিচুরি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। তিনি বুঝতে পারেননি যে, ধনতান্ত্রিক পাশ্চাত্যের গণতান্ত্রিক বিধান সামন্ততান্ত্রিক সমাজে অচল। তাই A. C. Banerjee বলেছেন "Failure to realise the basic incompatibility of the Ahom and British system was scott's greatest weakness..." তবুও স্কটকে নির্যাতিত মানুষের বন্ধু হিসাবেই চিত্রিত করা হয়েছে। তাই অসমিয়া ঐতিহাসিক Nirode K. Barooah বলেছেন ..... No Assamese could have more efficiently championed the cause of his country as did scott"।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন