How did the treaty of Yandeboo lead to the annexation of Assam by the British? Or, Discuss the history of annexation of Upper and Lower Assam by the British.
কিভাবে ইয়ান্দাবুর চুক্তি ব্রিটিশ কর্তৃক আসাম অধিগ্রহণের পথ প্রশস্ত করেছিল?
ব্রিটিশ কর্তৃক উচ্চ ও নিম্ন আসাম অধিগ্রহণের ইতিহাস আলোচনা করো।
ভূমিকা ১৮২৬ সালের ইয়ান্দাবুর চুক্তি আসামের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ঘটনা। এই চুক্তির ফলেই একদিকে যেমন আসামে বর্মী আধিপত্যর অবসান ঘটে এবং অন্যদিকে ইংরেজ আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত হয়। বস্তুতঃ প্রথম ইঙ্গ ব্রহ্মযুদ্ধ চলাকালীন অবস্থাতেই কাছারের রাজা গোবিন্দ চন্দ্র, জয়ন্তিয়ার রাজা রামসিংহ, মণিপুরের রাজা গম্ভীর সিং প্রমুখ কোম্পানীর সাথে মৈত্রী চুক্তিতে আবদ্ধ হয়ে কোম্পানীর প্রতি আনুগত্য জানায়। এর ফলে ১৮২৬ সালের ইয়ান্দাবুর চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার আগেই সমগ্র ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা বিনাযুদ্ধে ব্রিটিশদের দখলে চলে আসে এবং ১৮২৮ সালে নিম্ন আসামকে আনুষ্ঠানিকভাবে বঙ্গদেশ তথা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
ব্রিটিশ কর্তৃক লোয়ার আসাম অধিগ্রহণ তবে ইয়ান্দাবুর চুক্তির মাধ্যমে ব্রিটিশরা আসাম অধিকারের বৈধ অধিকার পেয়েছিল কিনা এ বিষয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে বিতর্ক আছে। বস্তুতঃ ১৮২৬ সালের ইয়ান্দাবুর চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল বর্মী ও কোম্পানির কর্তৃপক্ষের মধ্যে। ঐ চুক্তিতে আহোম রাজা বা প্রজার কোন স্বাক্ষর বা অনুমতি ছিল না। কিন্তু সেই মুহূর্তে আসামের কেউ ব্রিটিশ শক্তির বিরোধিতা করেনি বরং দুহাত তুলে কোম্পানির কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়েছিলেন বর্মী অপশাসনের যবনিকা টানার জন্য। কারন ১৮২৫ খ্রীষ্টাব্দে আপার আসামের রাজধানী রংপুর থেকে বর্মী বাহিনীকে উৎখাত করার সময় ব্রিটিশ অফিসার ডেভিড স্কট ঘোষণা করেছিলেন যে, “আসাম জয় করার উদ্দেশ্যে নয়, বরং প্রতিরক্ষার তাগিদে এবং বর্মী শত্রুরা যাতে আর উত্যক্ত না করতে পারে, সেই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতেই কোম্পানির সেনাবাহিনী আসামে এসেছে। ডেভিড স্কটের এই ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে সেই সময় আসামে একটি ধারণা সৃষ্টি হয়েছিল যে, ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির সামরিক শাসনের মেয়াদ স্বল্পকালের জন্য এবং অবস্থা স্বাভাবিক হলেই কোম্পানির সেনাবাহিনী আসাম থেকে চলে যাবে। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই আসাম বাসীর এই ধারণা ভুল বলে প্রমাণিত হল। ইয়ান্দাবুর চুক্তি বর্মী আগ্রাসী নীতির স্থলে ব্রিটিশ আগ্রাসী নীতির জন্ম দিল এবং এই ইয়ান্দাবুর চুক্তিকে সামনে রেখেই ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানি আসামকে একটি কলোনিতে পরিণত করে পরাধীনতার শৃঙ্খলে বেধে ফেলল। এই পরাধীনতার সূত্রপাত হয় ১৮২৮ সালে যখন গুয়াহাটিসহ নিম্নআসাম আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত হয়েছিল।
ব্রিটিশ কর্তৃক আপার আসাম অধিগ্রহণ ১৮২৮ সালে ব্রিটিশ কর্তৃক লোয়ার আসাম অধিগ্রহণ অনেকের মনে কোম্পানরি আসল উদ্দেশ্য সম্পর্কে সন্দেহের সৃষ্টি করে। ফলে আহোম অভিজাতরা নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার প্রশ্নে আহোমদের শূন্য সিংহাসনে রাজ পরিবারভুক্ত গোমাধর কুঁত্তরকে প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে ১৮২৮ সালের নভেম্বর মাসে ধনঞ্জয় বরগোহাই-এর নেতৃত্বে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। কিন্তু ব্রিটিশদের দমননীতির ফলে ধনঞ্জয় পালিয়ে গিয়ে নাগা পাহারে আশ্রয় নিলে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের প্রথম চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
প্রথম চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার কিছুদিন পর ১৮৩০ সালে ধনঞ্জয় আরেকবার আহোম সিংহাসন ছিনিয়ে আনার চেষ্টা করেন। তিনি রূপচাঁদ কুঁত্তরকে আহোম সিংহাসনের দাবীদার হিসাবে ঘোষণা করেন এবং মোয়ামারিয়া, খামতি, সিংফো, খাসি, গারো, নাগা প্রভৃতি বিভিন্ন উপজাতির অসন্তুষ্ট নেতৃত্বকে এক জায়গায় সমবেত করে ব্রিটিশ বিরোধী অভিযানের ডাক দেন। ব্রিটিশ সরকার অত্যন্ত নির্মমতার সাথে এই বিদ্রোহও দমন করে। রুপচাঁদ, ধনঞ্জয় সহ অনেক বিদ্রোহীনেতাকে প্রকাশ্যে ফাঁসি দেওয়া হয়। বাকি বিদ্রোহীদের হয় নির্বাসন নতুবা ১৪ বছর পর্যন্ত কারাদন্ডে দণ্ডিত করা হয়। পরবর্তীকালে গদাধর সিংহের নেতৃত্বে আহোম সিংহাসন ছিনিয়ে আনার আরেকটি প্রচেষ্টা করা হয়। ব্রিটিশদের সতর্ক দৃষ্টির ফলে এই বিদ্রোহটি অংকুরেই বিনষ্ট হয়।
ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে পরপর তিনটি বিদ্রোহ ব্যর্থ হলেও এই বিদ্রোহগুলি থেকে শিক্ষা নিয়ে ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী আসামে ব্রিটিশ রাজ্যের পত্তন ও সম্প্রসারনের অনুসৃত নীতির ক্ষেত্রে কিছু কিছু পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়। ডেভিড স্কট আহোমদের শূন্য সিংহাসনে কিছুদিনের জন্য অনুগত একজন দাবিদারকে দিয়ে আপার আসামকে করদ রাজ্যে পরিণত করার যে প্রস্তাব গভর্নর জেনারেল উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের নিকট পেশ করেছিলেন তা গৃহিত হয়। ফলে ১৮৩২ সালের অক্টোবর মাসে পুরন্দর সিংহকে জোড়হাটে রাজধানীসহ সিংহাসন ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গ্রহণ করে। বিনিময়ে পুরন্দর সিংহকে বাৎসরিক ৫০, ০০০ টাকার কর ও ব্রিটিশ পলিটিক্যাল এজেন্ট এর নির্দেশ মেনে চলতে বলা হয়। অর্থাৎ ১৮৩৩ সালে আপার আসাম ব্রিটিশদের একটি করদ রাজ্যে পরিণত হয়।
ডেভিড স্কটের অনুসৃত নীতি পরবর্তী ব্রিটিশ কমিশনার রবার্টসন (১৮৩১-৩৪), ফ্রান্সিস জেনকিনস (১৮৩৪-৬১) এবং হপকিনসন (১৮৬১-৭৪) এর আমলে পরিত্যক্ত হয়। এই সময় কোম্পানির কর্তৃপক্ষ আহোম শাসিত অঞ্চল ছাড়াও আশেপাশের ছোটোখাটো স্বায়ত্ব শাসিত রাজ্যগুলিকেও গ্রাস করার পরিকল্পনা গ্রহণ করে। এরই সূত্র ধরে সময়মতো নির্দিষ্ট রাজস্ব কোম্পানির কোষাগাড়ে জমা দিতে ব্যর্থতা, অপশাসন, আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ইত্যাদির অভিযোগে অভিযুক্ত করে ১৮৩৮ সালে পুরন্দর সিংহকে অপসারিত করা হয়। এর ফলে ১২২৮ খ্রীষ্টাব্দে সুকাফার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত আহোম রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে। ব্রিটিশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ১৮৩৮ সালে আপার আসামকেও ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অঙ্গিভূত করে। এরই সূত্র ধরে উত্তর ও দক্ষিণ কাছার, খাসি পাহার, জয়ন্তিয়া রাজ্য, মিকির হিলস, মোরান বা মটক রাজ্য, নাগাপাহার ইত্যাদিও ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন