তিপ্পা বিদ্রোহ কবে সংঘটিত হয়। তিপ্রা বিদ্রোহের সময় ত্রিপুরার রাজা কে ছিলেন? তিপ্রা বিদ্রোহের দু'জন নেতার নাম কর। তিপ্রা বিদ্রোহের কারণ ও প্রকৃতি সম্পর্কে আলোচনা কর।
When did the Tipra movement occur? Who was the King of Tripura that time? Name two leaders of Tipra movement?Discuss the causes and nature of Tipra movements?
তিপ্পা বিদ্রোহ কবে সংঘটিত হয়। তিপ্রা বিদ্রোহের সময় ত্রিপুরার রাজা কে ছিলেন? তিপ্রা বিদ্রোহের দু'জন নেতার নাম কর। তিপ্রা বিদ্রোহের কারণ ও প্রকৃতি সম্পর্কে আলোচনা কর।
ভূমিকা তিপ্ৰা বিদ্রোহ ১৮৫০ খ্রীষ্টাব্দে সংঘটিত হয়। এই সময়ে ত্রিপুরার রাজা ছিলেন ঈশান চন্দ্র মাণিক্য। এই বিদ্রোহের দুজন নেতা ছিলেন পরীক্ষিৎ ও কীর্তি।
পটভূমিকা ১৮৪৯ খ্রীঃ কৃষ্ণকিশোর মাণিক্যের মৃত্যু হলে যুবরাজ ঈশানচন্দ্র মাণিক্য ১৮৫০ খ্রীঃ ১লা ফেব্রুয়ারি ত্রিপুরার সিংহাসনে আরোহন করেন। ঈশানচন্দ্র মাণিক্যের অভিষেক কালে ইংরেজ সরকার একশো পঁচিশটি স্বর্ণমুদ্রা নজর হিসাবে দাবি করেন। অনেক তর্কবিতর্কের পর একশো এগারোটি স্বর্ণমুদ্রা নজর হিসাবে গৃহীত হয়। তার অভিষেক কালে ঈশানচন্দ্র মাণিক্য তাঁর পরবর্তী ভ্রাতা উপেন্দ্রচন্দ্র ঠাকুরকে যুবরাজ নিযুক্ত করেন এবং জ্যেষ্ঠপুত্র ব্রজেন্দ্রচন্দ্র ঠাকুরকে বড়ঠাকুর নিযুক্ত করা হয়।
বিদ্রোহের কারণ সিংহাসনে আরোহন করেই ঈশানচন্দ্র মাণিক্য কঠিন আর্থিক সংকটের সম্মুখীন হন। পিতা কৃষ্ণকিশোর মাণিক্যের এগারো লক্ষ টাকার ঋণভার তাঁর কাঁধে এসে পড়ে। এই অবস্থায় তিনি বলরাম হাজারি নামে এক কঠোর প্রকৃতির লোককে দেওয়ান নিযুক্ত করেন। বলরাম হাজারি ও তাঁর ভ্রাতা শ্রীদাম হাজারি কঠোরভাবে রাজস্ব আদায় করতে থাকে। দেওয়ান বলরাম হাজারির প্রধান কাজ ছিল -
১) রাজাকে আর্থিক সংকট থেকে মুক্ত করা।
২) বিলাসী ও অমিতব্যয়ী যুবরাজ উপেন্দ্রচন্দ্রের ক্রমাগত আর্থিক চাহিদা পূরণ করা। এই উদ্দেশ্যে বলরাম হাজারি শুধু কঠোরভাবে রাজস্ব আদায় করে ক্ষান্ত হলেন না, নানাভাবে প্রজাদের করভারে জর্জরিত করতে লাগলেন। এই বিষয়ে তাঁর ভ্রাতা শ্রীদাম হাজারি তাঁর প্রধান সহায়ক ছিলেন। এই দুই ভাই-এর অত্যাচারে প্রজাদের মধ্যে বিক্ষোভের সঞ্চার হল।
এইদিকে রাজপরিবারের অনেকে যাঁরা বলরামের দেওয়ান নিযুক্তি পছন্দ করেন নি এবং ঈশানচন্দ্র মাণিক্যের প্রতি ঈর্ষান্বিত ছিলেন তাঁরা গোপনে প্রজাদের বিদ্রোহের ইন্ধন জোগাতে লাগলেন।
বিদ্রোহ অবশেষে দেওয়ান বলরাম হাজারি ও তাঁর ভাই শ্রীদাম হাজারির শাসন ও শোষণে অতিষ্ট হয়ে একদল তিপ্রা ও কুকি সম্প্রদায় কীর্তি ও পরীক্ষিৎ নামে দুজন সর্দারের নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ হয় এবং ১৮৫০ খ্রীঃ এপ্রিল মাসে একদিন রাত্রে বলরাম হাজারির বাসভবন আক্রমণ করে। বলরাম হাজারির রক্ষীরা বাধা দিতে দিয়ে বিদ্রোহীদের হাতে নিহত হন। বলরাম হাজারি পলায়ন করে প্রাণরক্ষা করেন কিন্তু শ্রীদাম হাজারি বিদ্রোহীদের হাতে নিহত হলেন। ১৮৫০ খ্রীঃ-এর এই বিদ্রোহ তিপ্রা বিদ্রোহ নামে পরিচিত।
বিদ্রোহ দমন শেষ পর্যন্ত রাজার সেনাদলের তৎপরতায় এই বিদ্রোহ দমন করা হয়। বিদ্রোহীদের অনেকেই বন্দি করা হল এবং তাঁদের অন্যতম নায়ক কীর্তি যুবরাজ উপেন্দ্রচন্দ্র প্রেরিত গুপ্ত ঘাতকের হাতে নিহত হলেন।
এই বিদ্রোহ দমনের পর কোনো এক কারনে বলরাম হাজারি রাজা ঈশানচন্দ্র মাণিক্যের প্রতি অসন্তুষ্ট হন এবং গোপনে রামমাণিক্য বর্মন, কাপ্তান সর্দার খাঁ ও ছোবান খাঁ প্রভৃতি কয়েকজন সৈনিকের সঙ্গে তাঁর গোপন আলোচনা চালাতে থাকে। সৌভাগ্যক্রমে মহারাজ ঈশানচন্দ্র ষড়যন্ত্রের কথা পূর্বেই জানতে পারে। তিনি বলরাম হাজরিকে পদচ্যুত করেন এবং অন্যান্য ষড়যন্ত্রকারীদের সঙ্গে তাকে রাজ্য থেকে নির্বাসিত করা হয়।তারপর ব্রজমোহন ঠাকুরকে তাঁর স্থলে দেওয়ান পদে নিযুক্ত হয়ে রাজ্য ও জমিদারি পরিচালনা করতে থাকেন।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন