When did Jamatia movement occur? Who were the Jamatias? Discuss the causes and nature of Jamatia movement ?
জমাতিয়া বিদ্রোহ কবে সংঘটিত হয় ? জমাতিয়া কারা? জমাতিয়া বিদ্রোহের কারণ ও প্রকৃতি আলোচনা কর।
জমাতিয়া বিদ্রোহ ১৮৬৩ খ্রীঃ সংঘটিত হয়।
জমাতিয়া কারা তিপরা জাতির একটা পরাক্রমশালী সম্প্রদায় প্রাচীনকালে দলবদ্ধভাবে বসবাস করত ও ত্রিপুরেশ্বরের সেনাবাহিনীতে সৈনিকের কাজ করত বলে তাদের জমাতিয়া নামে আখ্যায়িত করা হত। তারাই ছিল ত্রিপুরার সেনাবাহিনীর প্রধান অংশ। যুদ্ধের সময় তারা সৈনিকের কাজ করলেও শান্তির সময় তারা কৃষিকাজে নিয়োজিত থাকত।
জমাতিয়া বিদ্রোহ ১৮৬২ খ্রীঃ ঈশানচন্দ্র মাণিক্যের মৃত্যুর পর তাঁর ভ্রাতা বীরচন্দ্র ত্রিপুরার রাজসিংহাসনে আরোহন করেন। বীরচন্দ্র মাণিক্য শাসন ক্ষমতা লাভ করলেও সিংহাসনের উত্তরাধিকার নিয়ে রাজবংশীয়রা আদালতে একাধিক মামলা দায়ের করেন। এদের মধ্যে অন্যতম দাবিদার ছিলেন বীরচন্দ্র মাণিক্যের ভ্রাতা নীলকৃষ্ণ ও চক্রধ্বজ। এদিকে ঈশানচন্দ্র মাণিক্যের আমলে যিনি সর্বেসর্বা ছিলেন সেই গুরু বিপিন বিহারী গোস্বামীর কঠোর শাসন তখনও অব্যাহত ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ মহারাজ বীরচন্দ্র মাণিক্য তাকে নজর বন্দি করেন। তিনি বন্দি হওয়ায় রাজপরিবারের স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী পুনরায় ক্ষমতাশালী হয়ে ওঠে।
বিদ্রোহের কারণ গুরু বিপিন বিহারী গোস্বামীকে নজরবন্দি করার ফলে রাজপরিবারের স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী তাদের ষড়যন্ত্র চালাতে শুরু করে। বীরচন্দ্র মাণিক্যের প্রতিপক্ষ ঠাকুর লোকদের বিশেষ করে নীলকৃষ্ণ ঠাকুরের প্ররোচনায় জমাতিয়ারা খাজনা বন্ধ করেছিল বলে রাজসরকারে খবর এসেছিল। তাই মহারাজ বীরচন্দ্র মাণিক্য রাজদরবারে জমাতিয়াদের মিসিপ বা প্রতিনিধি ওয়াখিরায় হাজারিকে এ ব্যাপারে অনুসন্ধানে জমাতিয়া অঞ্চলে পাঠালেন।
ওয়াখিরায় হাজারি ও তাঁর সঙ্গীদের সঙ্গে তৈথং অর্থাৎ বিনা পারিশ্রমিকে সরকারি কর্মচারী বা লোকদের মালপত্তর বহন নিয়ে জমাতিয়াদের বিরোধ রাধে। জমাতিয়া সম্প্রদায়। তৈথং প্রথায় বিনা পারিশ্রমিকে এ ধরণের মাল বহনের নিয়মাধীনে ছিল না। এই বিরোধে উত্তেজিত ওয়াখিরায় হাজারি খাজনা আদায় সম্বন্ধীয় কাজ বন্ধ রেখে রাজধানী আগরতলায় এসে রাজাকে জানালেন যে, জমাতিয়ারা খাজনা বন্ধ করে বিদ্রোহের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাঁর কথায় বিশ্বাস করে বীরচন্দ্র মাণিক্য জমাতিয়া গ্রামে একদল সৈন্য পাঠান। ইতিমধ্যেই যুদ্ধের একটা সুপ্ত মানসিকতা জমাতিয়াদের মধ্যে বরাবরই ছিল। ফলে ক্রুদ্ধ জমাতিয়ারা রাজকীয় বাহিনীর সঙ্গে এক খন্ডযুদ্ধে লিপ্ত হয়।
বিদ্রোহ ওয়াখিরায়ের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে অতঃপর জমাতিয়ারা তাদের সর্দার পরীক্ষিৎ-এর নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ হয়ে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। খাজনা দেওয়া বন্ধ করা ছাড়াও তারা উদয়পুরের রাজপ্রাসাদ আক্রমণ করে। ওই সময় বীরচন্দ্র মাণিক্য বিশেষ কাজে উদয়পুরে অবস্থান করেছিলেন। আকস্মিক আক্রমণে বিব্রত রাজা উদয়পুর ত্যাগ করেন এবং আগরতলা থেকে বিদ্রোহ দমনের জন্য একদল সেনা উদয়পুরে পাঠান। কিন্তু রাজকীয় বাহিনী পরীক্ষিৎ-কে গ্রেপ্তার করতে ও বিদ্রোহ দমন করতে ব্যর্থ হয়। এই শোচনীয় ব্যর্থতার পর বিদ্রোহ দমনে মহারাজা ডারলং কুকিদের শরণাপন্ন হন।
বিদ্রোহ দমন মুরছই ও হাপুই নামে দুজন কুকি সর্দারের অধীনে একদল কুকি সৈন্য বিদ্রোহ দমনে পাঠানো হয়। প্রায় ৬০০ কুকি সেনা উদয়পুরের পার্শ্ববর্তী জমাতিয়া বিদ্ৰোহ কবলিত গ্রামগুলি ঘিরে ফেলে। উভয়পক্ষে তুমুল লড়াইয়ে ২০০ জন জমাতিয়া বিদ্রোহী প্রাণ হারান। বিদ্রোহী পরীক্ষিৎ বন্দী হন। বলা হয় যে, কুকিরা বিজয়ের স্মারক হিসাবে বিদ্রোহী জমাতিয়াদের ২০০টি মুন্ড কেটে তা বর্শাফলকে বিদ্ধ করে আগরতলায় নিয়ে আসে এবং জনসাধারণের মনে ভীতি সঞ্চারের জন্য ছিন্ন মুন্ডগুলি গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল।
বিদ্রোহ প্রশমিত হলে মহারাজা বীরচন্দ্র মাণিক্য জানতে পারে যে, জমাতিয়া বিদ্রোহ আসলে রাজার বিরুদ্ধে ছিল না, তাহা ছিল আসলে রাজার নিযুক্ত দুর্নীতি পরায়ন কর্মচারী ও সর্দারদের বিশেষ করে ওয়াখিরায়ের অত্যাচারের বিরুদ্ধে। শেষে মহারাজা পরীক্ষিৎ কে মার্জনা করেন এবং তাকে ও অন্যান্য বন্দিদের বৈষ্ণবধর্মে দীক্ষিত করে মুক্তি দেন।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন