কখন কোথায় জনশিক্ষা সমিতি গঠিত হয়। জনশিক্ষা সমিতির বিশেষ উল্লেখপূর্বক ত্রিপুরার রাজনৈতিক আন্দোলন আলোচনা কর ।
When was Janashiksha Committee founded and where? Discuss the Political movement in Tripura with special reference to Janshiksha Movement ?
কখন কোথায় জনশিক্ষা সমিতি গঠিত হয়। জনশিক্ষা সমিতির বিশেষ উল্লেখপূর্বক ত্রিপুরার রাজনৈতিক আন্দোলন আলোচনা কর ।
১৯৪৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর সদর বিভাগের দুর্গাচৌধুরী পাড়ায় জনশিক্ষা সমিতি প্রতিষ্ঠিত হয়। ভারতের রাজনৈতিক চেতনা বিকাশ লাভ করে ঊনবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে। সুসংগঠিত জাতীয় আন্দোলনের উদ্ভব ও বিকাশ ঘটে এই যুগে। ত্রিপুরার রাজনৈতিক চেতনা ও জাতীয় আন্দোলনের বিকাশ ঘটে আরো কিছু পরে, বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে।
রাজনৈতিক চেতনার বিকাশে বাধা ত্রিপুরায় রাজনৈতিক চেতনার বিকাশে যে বাধা তার ২টি কারণ ছিল।
প্রথমত ভারতের ব্রিটিশ শাসকদের মতো কোনো বিদেশী শক্তি ত্রিপুরায় রাজত্ব করেনি। ত্রিপুরার রাজারা ছিলেন স্থানীয় অধিবাসী। সামন্ততান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার সঙ্গে পরিচিত থাকলেও ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন ব্যবস্থার সঙ্গে ত্রিপুরার প্রত্যক্ষ কোনো যোগাযোগ ছিল না। তাই ভারতের সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী আন্দোলন প্রথম দিকে এখানে প্রসার লাভ করেনি।
দ্বিতীয়ত পাশ্চাত্য শিক্ষা ও ভাবধারায় ভারতে এবং বিশেষ করে তৎকালীন বাংলাদেশে যে নবজাগরণের সৃষ্টি হয় এবং যার ফলে ভারতে জাতীয় চেতনা এবং জাতীয় আন্দোলন জোরদার হয় তার প্রভাব ত্রিপুরায় ঊনবিংশ শতাব্দীতে বিস্তার লাভ করতে পারেনি।
জনশিক্ষা সমিতি গঠন ১৯৪৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর সদর বিভাগের দুর্গাচৌধুরী পাড়ায় মাত্র ১৯ জন শিক্ষিক যুবকের উপস্থিতিতে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং সেখানেই ত্রিপুরা রাজ্য জনশিক্ষা সমিতি প্রতিষ্ঠিত হয়। এই সমিতির উপদেশ কমিটির সভাপতি ছিলেন অবসর প্রাপ্ত জজ হৃদয় রঞ্জন দেববর্মা। ঠাকুর ধীরেনকৃষ্ণ দেববর্মা ছিলেন এই কমিটির সহ সভাপতি। পরবর্তী কালে কমিউনিস্ট নেতৃবৃন্দ এই সমিতির সদস্য ছিলেন। বীরেন দত্ত, অঘোর দেববর্মা, নীলমনি দেববর্মা, সুধন্বা দেববর্মা এবং আরো অনেকে এই সমিতির সদস্য ছিলেন।
সমিতির উদ্দেশ্য ত্রিপুরার পার্বত্য অঞ্চলের জনগণের মধ্যে শিক্ষার প্রসার ঘটানোই এই সমিতির প্রধান উদ্দেশ্য ছিল। নবনিযুক্ত শিক্ষামন্ত্রী ব্রাউন সাহেবের পৃষ্ঠপোষকতায় এই সমিতি ত্রিপুরার বিভিন্ন অঞ্চলে বহু প্রাথমিক স্কুল স্থাপন করতে সক্ষম হয়। স্কুলগুলি সরকারি অর্থ সাহায্য লাভ করে। শিক্ষা ও সমাজ সংস্কার মূলক গণপ্রতিষ্ঠান হলেও এই সমিতি ত্রিপুরার রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন গতিবেগ সৃষ্টি করেছিল এবং ত্রিপুরা জাতীয় মুক্তি পরিষদের গোড়াপত্তন ঘটেছিল।
প্রজা মন্ডল সমিতি গঠন জনমঙ্গল সমিতি, জনশিক্ষা সমিতি এবং আরো কিছু কম্যুনিষ্ট ভাবাপন্ন কর্মীরা মিলে ১৯৪৬ সালে ত্রিপুরা রাজ্য প্রজা মন্ডল নামে একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান গঠন করেন। এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় আগরতলার কৃষ্ণনগরে স্থাপিত হয়। যোগেশচন্দ্র দেববর্মা এই প্রতিষ্ঠানের প্রেসিডেন্ট এবং বীরচন্দ্র দেববর্মা সেক্রেটারী ছিলেন। রাজ্য গণমুক্তি পরিষদ গঠন :- ১৯৪৮ সালের প্রথম দিকে জনশিক্ষা সমিতি ও ত্রিপুরা প্রজামন্ডল সমিতির কমিউনিষ্ট পন্থী সদস্যদের গ্রেপ্তার করা শুরু হলে দশরথ দেববর্মা, বীরেন দত্ত, অঘোর দেববর্মা প্রমুখ কয়েকজন কমিউনিষ্ট পন্থী ব্যক্তি রাজঘাট গ্রামে লক্ষীকান্ত দেববর্মার বাড়িতে মিলিত হন এবং একটি জঙ্গি সংগঠন গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে ত্রিপুরা জাতীয় মুক্তি পরিষদ গঠন করেন। পরে তাহার নাম পরিবর্তন করে হয় ত্রিপুরা রাজ্য গণমুক্তি পরিষদ।
পরিষদের সদস্যবৃন্দ এই সমিতির সদস্যরা হলেন দশরথ দেববর্মা, সুধন্বা দেববর্মা, হেমন্ত দেববর্মা, রবীন্দ্র দেববর্মা ও অঘোর দেববর্মা। দশরথ দেববর্মা ছিলেন পরিষদের সভাপতি এবং অঘোর দেববর্মা ছিলেন পরিষদের সম্পাদক।
কমিউনিষ্ট পার্টিতে যোগদান ১৯৪৯ সালে ত্রিপুরায় ভারতীয় কমিউনিষ্ট পার্টির শাখা প্রতিষ্ঠিত হলেও ত্রিপুরা রাজ্য গণমুক্তি পরিষদের নেতৃবৃন্দ ত্রিপুরায় কম্যুনিষ্ট পার্টির সদস্যভুক্ত হন।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন