প্রথম ইঙ্গ-ব্রষ্মযুদ্ধ সংঘটিত হওয়ার পিছনে প্রধান কারনগুলি কি কি ছিল? ইয়ান্দাবুর চুক্তির প্রধান শর্তগুলি কি কি ছিল?
What were the main causes which paved the way for the out break of the first Anglo-Burmese War? What were the main provisions of the treaty of yandaboo? com
প্রথম ইঙ্গ-ব্রষ্মযুদ্ধ সংঘটিত হওয়ার পিছনে প্রধান কারনগুলি কি কি ছিল? ইয়ান্দাবুর চুক্তির প্রধান শর্তগুলি কি কি ছিল?
ভূমিকা আহোম রাজত্বের শেষ ভাগে বিশেষ করে লক্ষী সিংহের সময় (১৭৬৯-১৭৮০ খ্রীঃ) থেকে রাজা ও মন্ত্রীদের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব চরমে ওঠে। লক্ষ্মী সিংহের সময় থেকে বুরাগোহাইন বা প্রধানমন্ত্রী ছিলেন প্রকৃত ক্ষমতার অধিকারী। পরবর্তী কালে চন্দ্রকান্ত সিংহের রাজত্বকালে পূর্ণানন্দ বুড়াগোহাইন সর্বশক্তিমান হয়ে উঠলে গৌহাটির বরফুকন বদনচন্দ্র পূর্ণানন্দ বুড়া গোহাইনকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য ষড়যন্ত্র শুরু করেন। বদনচন্দ্রর ষড়যন্ত্রর গন্ধ টের পেয়ে বুড়া গোহাই বদনচন্দ্রকে গ্রেপ্তারের পরিকল্পনা করলে বদনচন্দ্র পালিয়ে গিয়ে ব্রহ্মদেশের দরবারে আশ্রয় গ্রহণ করেন এবং অসহায় রাজা চন্দ্রকান্তকে তাঁরই মন্ত্রী পূর্নানন্দ বুড়াগোহাইনের হাত থেকে বাচানোর জন্য আবেদন করেন। বদনচন্দ্রের অনুরোধে বর্মীরাজ বোডাপায়া (১৭৮২-১৮১৯ খ্রীঃ) ১৮১৬ সালে আসাম আক্রমন করেন। আহোম সেনা জোড়হাট পর্যন্ত এগিয়ে আসে এবং বিপুল পরিমান ধনরত্ন সহ বর্মী রাজার হারেমের জন্য আহোম রাজকন্যাকেও নিয়ে যায় (এপ্রিল, ১৮১৭ খ্রীঃ)। আসামে পুরোপুরিভাবে বর্মী কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে ১৮১৯ সালের জানুয়ারী মাসে বর্মী সেনাপতি অলামিঙ্গি এবং ১৮১৯ সালের মে মাসে মিঙ্গিমহা তিলওয়া আসাম আক্রমণ করেন। এই আক্রমণের ফলে চন্দ্রকান্ত সিংহ জোড়হাট ত্যাগ করে গৌহাটিতে পালিয়ে গেলে মিঙ্গিমহা আহোম রাজবংশের পূণ্যধর নামে জনৈক ব্যক্তিকে যোগেশ্বর সিংহ নাম দিয়ে ১৮২১ সালে আহোমরাজ হিসাবে ঘোষণা করেন। এরফলে আসামে বর্মী কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়।
প্রথম ঈঙ্গ-ব্রহ্মযুদ্ধ ১৮২২ সালে আসামের উপর পুরোপুরি কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার পর বর্মীরা বঙ্গদেশের সীমানায় উপস্থিত হয় এবং ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীকে চট্টগ্রাম, ঢাকা ইত্যাদি স্থান ত্যাগ করার জন্য ক্রমাগত চাপদিতে থাকে। কিন্তু এই দাবী কোম্পানীর পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব ছিলনা। বর্মী সেনাপতি মহাবান্দুলা বঙ্গদেশ থেকে ইংরেজদের উৎখাতের জন্য চট্টগ্রাম ও ঢাকা অভিযান আরম্ভ করলে গভর্নর জেনারেল লর্ড আমহার্স্ট ১৮২৪ সালের ২৪শে ফেব্রুয়ারী ব্রহ্মদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। এর ফলে প্রথম প্রথম ইঙ্গ-ব্রহ্মযুদ্ধের সূত্রপাত হয়।
ইয়ান্দাবুর চুক্তি ১৮২৪ সালের ফেব্রুয়ারীর শেষদিকে কাছার ও জয়ন্তিয়াকে বর্মীদের প্রভাব থেকে মুক্ত করা হয় এবং এই রাজ্যদুটিকে কোম্পানীর করদ রাজ্যে পরিণত হয়। পরে ১৮২৪ সালের মার্চ মাসে ব্রিটিশ সেনাবাহিনী গুয়াহাটি ও নওগাঁও দখল করে। আসামের উপর বর্মী আধিপত্য সমাপ্ত হলে ব্রিটিশ সেনাবাহিনী ১৮২৪ সালের মে মাসে রেঙ্গুন আক্রমন করে। রেঙ্গুনে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীকে ঘিড়ে ফেলার উদ্দেশ্যে ৬০,০০০ সৈন্য নিয়ে বান্দুলা যুদ্ধে অবতীর্ণ হলেন। কিন্তু কোম্পানির সেনাধ্যক্ষ আর্কিবল্ড ক্যাম্পবেল এর নেতৃত্বে ব্রিটিশ সেনাবাহিনী বান্দুলার সেনাবাহিনীকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। বীর বিক্রমে যুদ্ধ করেও কান্দুলা ব্রিটিশদের কাছে পরাজিত হয়ে নিহত হন। কোম্পানির উন্নত রণকৌশল ও আধুনিক অস্ত্রের মুখোমুখি হয়ে নৌযুদ্ধে বর্মী বাহিনী বিধ্বস্ত হয়ে পরাজয় স্বীকার করতে বাধ্য হয়। যুদ্ধ শেষে ব্রশ্ন দেশের রাজধানী আভা থেকে কিছু দুরে ইয়ান্দাবুগ্রামে ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ও বর্মীদের মধ্যে ১৮২৬ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরীত হয়। ইহা ইতিহাসে ইয়ান্দাবুর চুক্তি নামে পরিচিত।
ইয়ান্দাবুর চুক্তির শর্ত
প্রথমত এই চুক্তি অনুযায়ী উভয়পক্ষ নিরবিচ্ছিন্ন শান্তি ও বন্ধুত্বের প্রতিশ্রুতিতে আবদ্ধ হয়।
দ্বিতীয়ত আভার দরবার আসাম ও আসামের অধীনস্থ অঞ্চল, কাছার, জয়ন্তীয়া মনিপুর ইত্যাদির, উপর সমস্ত অধীকার ত্যাগ করতে বাধ্য হয়।
তৃতীয়ত আরাকান ট্যাভয়, তেনাসেরিম, মারগুই ইত্যাদি দ্বীপের উপর ব্রহ্মদেশ সরকার তার অধিকার ত্যাগ করতে বাধ্য হয়।
চতুর্থত যুদ্ধের ক্ষতিপুরণ হিসাবে এককোটি টাকা বর্মী সরকার ব্রিটিশদের দিতে স্বীকৃত হয়।
এই ভাবে প্রথম ইঙ্গ-ব্রহ্মযুদ্ধ আসামে বর্মী আধিপত্যের যবনিকা টানে এবং ব্রহ্মদেশের স্বাধীন অস্তিত্বের প্রথম মৃত্যু ঘন্টা বাজিয়ে দেয়।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন