বাংলা কথাসাহিত্যে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবদান সংক্ষেপে বর্ণনা করো।
class 12 bengali question answer
রবীন্দ্র-পরবর্তী সাহিত্যধারায় মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাসগুলি জীবনের গদ্যময় বাস্তবতাকে প্রকাশ করেছে। বিচিত্রা পত্রিকায় প্রকাশিত 'অতসী মামী' (১৯৩৫) গল্পের মাধ্যমেই তিনি সাহিত্যের আঙিনায় প্রবেশ করেন। তাঁর প্রধান প্রধান উপন্যাসগুলি হল—'পুতুলনাচের ইতিকথা' (১৯৩৬), 'পদ্মানদীর মাঝি' (১৯৩৬), 'অহিংসা' (১৯৪১), ‘চতুষ্কোণ' (১৯৪৮), ‘সোনার চেয়ে দামী' (১৯৫১) ইত্যাদি ।
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘দিবারাত্রির কাব্য' উপন্যাসে মানুষের অবচেতন মনের দিকটি দেখানো হয়েছে। 'পুতুলনাচের ইতিকথা' উপন্যাসে পরিস্থিতির চাপে গ্রামকেন্দ্রিক মানুষের জীবনের জটিলতার দিকগুলি উঠে এসেছে। 'পদ্মানদীর মাঝি’-তে পদ্মাকেন্দ্রিক জেলে ও মাঝিদের জীবন-সংগ্রামের চিত্র সুচারুভাবে অঙ্কিত হয়েছে। ‘শহরতলী'-তে পুঁজিপতি ও মেহনতি মানুষের দ্বন্দ্ব ফুটে উঠেছে। 'চতুষ্কোণ' উপন্যাসটিকে যৌন জীবনের ছবি মনে হলেও সেখানে সুস্থ, উপভোগ্য জীবনের প্রতি ঝোঁক লক্ষ করা যায়।
বৃত্তিজীবী মানুষের জীবন ও সমাজকে নিপুণ দক্ষতায় তিনি চিত্রিত করেছেন। এর মধ্যে কল্পনার রং নেই, আছে বাস্তব সমাজ, বাস্তব জীবন। পূর্ববাংলার আঞ্চলিক জনজীবনের ছবি এ উপন্যাসে ধরা পড়েছে।
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় মানুষের কাম পিপাসার জান্তব মূর্তিকে তাঁর বিভিন্ন লেখায় ফুটিয়ে তুলেছেন। মানুষ কামনার আবর্তে পড়ে কীভাবে জীবনকে জটিল করে তোলে, 'প্রাগৈতিহাসিক' গল্পে তা ফুটে ওঠে। ফ্রয়েডীয় মনোবিকলনের তত্ত্ব কমবেশি তাঁর প্রায় সমস্ত উপন্যাসের মধ্যে দেখা যায়। ‘স্বাধীনতার স্বাদ’, ‘সর্বজনীন” প্রভৃতি উপন্যাসে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ ও মহাযুদ্ধ-পরবর্তী সমাজের অর্থনীতি, সমাজনীতি ও
মানুষের সামাজিক আলোচনার চিহ্ন পরিলক্ষিত হয়। সব মিলিয়ে রবীন্দ্র-পরবর্তী সময়ে আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রায় সব শাখাতে যে-প্রাণময় প্রাবল্য পরিলক্ষিত হয়, তার ভিত্তি গড়ে দিয়েছিলেন মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়।
.png)
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন