অন্নদাদিদি
সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো (MCQ) প্রশ্নমান ১
১. অন্নদাদিদি অচৈতন্য হয়ে পড়েছিল—
(ক) লাঠির আঘাতে
(খ) বর্শার আঘাতে
(গ) ইটের আঘাতে
(ঘ) কোনোটিই নয়
উত্তর: (ক) লাঠির আঘাতে।
২. শাহজি ইন্দ্রকে কী দিয়ে খোঁচা মেরেছিল—
(ক) বর্শা
(খ) তলোয়ার
(গ) ছুরি
(ঘ) লাঠি
উত্তর: (ক) বর্শা।
৩. “আমি তো কখনও মিথ্যে কথা কইনে ভাই।”— কে বলেছে ?
(ক) শাহজি
(খ) শ্রীকান্ত
(গ) ইন্দ্রনাথ
(ঘ) অন্নদাদিদি
উত্তর: (ঘ) অন্নদাদিদি ।
৪. শাহজি তিনদিনের বাসি মড়া কতক্ষণের মধ্যে দাঁড় করাতে পারেন ?
(ক) আধঘণ্টা
(খ) একঘণ্টা
(গ) তিন ঘণ্টা
(ঘ) চার ঘণ্টা
উত্তর: (ক) আধঘণ্টা ।
৫. ইন্দ্রনাথ কী দিয়ে শাহজির হাত বেঁধেছিল ?
(ক) কাপড়
(খ) পাগড়ি
(গ) ওড়না
(ঘ) দড়ি
উত্তর: (খ) পাগড়ি ।
৬. “এমনই মন্তরের জোর।”— কোন্ ‘মন্তর'-এর কথা বলা হয়েছে ?
(ক) ধুলোপড়া
(খ) দেহবন্ধন
(গ) ঘর কখন
(ঘ) কড়ি-চালা
উত্তর: (ঘ) কড়ি চালা।
৭. ইন্দ্র কার হাতে শাহজিকে তুলে দিতে চেয়েছিল ?
(ক) অন্নদাদিদির
(খ) পুলিশের
(গ) শ্রীকান্তের
(ঘ) ডাকাতের
উত্তর: (খ) পুলিশের।
৮. “এ বিদ্যে কি কেউ শিগগির দিতে চায় দিদি ?” —কোন বিদ্যে ?
(ক) মড়া বাঁচানো
(খ) কড়ি চালা
(গ) দেহ বন্ধন
(ঘ) ঘরবন্ধন
উত্তর: (ক) মড়া বাঁচানো।
৯. — চোখ দুটো ধক করিয়া জ্বলিয়া উঠিল।”(শূন্যস্থানে বসবে)
(ক) শ্রীকান্তের
(খ) ইন্দের
(গ) শাহজির
(ঘ) অন্নদার
উত্তর: (গ) শাহজির
১০. “আমরা যে সাপুড়ে ভাই”—'ভাই' কে ?
(ক) শ্রীকান্ত
(খ) ইন্দ্রনাথ
(গ) শাহজি
(ঘ) কেউই নয়
উত্তর: (খ) ইন্দ্রনাথ।
নীচের প্রশ্নগুলি এক-একটি শব্দে/ পূর্ণাঙ্গ বাক্যে উত্তর দাও প্রশ্নমান ১
১. 'অন্নদাদিদি' শীর্ষক গদ্যাংশটি কোন্ মূল গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে ?
উত্তর: ‘অন্নদাদিদি” শীর্ষক গদ্যাংশটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস 'শ্রীকান্ত'-এর প্রথম পর্ব থেকে নেওয়া হয়েছে।
২. “ছি দাদা, এমন কাজ আর কখনো করে না।” –কে, কাকে এই উক্তিটি করেছে ? কাজটি কী ?
উত্তর: অন্নদাদিদি ইন্দ্রকে এই উক্তিটি করেছে। কাজটি হল সাপ নিয়ে খেলা করা।
৩. সাপটি কোথায় ছোবল মেরেছিল ?
উত্তর: সাপটি ইন্দ্রের হাতের ডালাটায় ছোবল মেরেছিল।
৪. বিষ পাথর কী ?
উত্তর: বিষ পাথর বলতে এমন এক পাথরকে বোঝায়, যার সাহায্যে সাপের বিষ টেনে বের করা হয়।
৫. “আজ দাও না দিদি আমাকে একটি।” বক্তা কার কাছে, কী চেয়েছে ?
উত্তর: বক্তা ইন্দ্রনাথ তার দিদি অন্নদার কাছে একটি বিষ পাথর চেয়েছিল।
৬. শাহজি ইন্দ্রকে কীসের মন্ত্র দিয়েছিল ?
উত্তর: শাহজি ইন্দ্রনাথকে শুধু হাতচালার মন্ত্র দিয়েছিল।
৭. “ওকে আর আমি খোশামোদ করচি নে দিদি, "কে, কাকে খোশামোদ করবে না ?
উত্তর: আলোচ্য উক্তিটির বক্তা ইন্দ্রনাথ, সাপুড়ে শাহজিকে আর খোশামোদ করবে না।
৮. “আমাদের আগাগোড়া সমস্তই ফাঁকি।”- 'আমাদের' বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে ?
উত্তর: ‘আমাদের' বলতে অন্নদাদিদি ও শাহজির কথা বলা হয়েছে।
৯. “আমরা যে সাপুড়ে” – সাপুড়ে কাদের বলে ?
উত্তর: যারা সাপ ধরে বেড়ায় ও সাপের খেলা দেখিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে তাদের সাপুড়ে বলে।
১০. শাহজি কীসের জোরে মড়া বাঁচায় বলে প্রচার করে ?
উত্তর: শাহজি মন্ত্রের জোরে মড়া বাঁচায় বলে প্রচার করে।
১১. “শাহজি চমকাইয়া উঠিল।” —শাহজির চমকে ওঠার কারণ কী ?
উত্তর: শাহজির ভণ্ডামির কথা জানতে পেরে ইন্দ্র তাকে তীব্র আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে তিরস্কার করে অশিষ্ট ইঙ্গিত করছিল। তা দেখে শাহজি চমকে উঠেছিল।
১২. শ্রীকান্তের সর্বাঙ্গ কোন গাছের কাঁটায় ক্ষতবিক্ষত হল ?
উত্তর: শ্রীকান্তের সর্বাঙ্গ শিয়াকুল গাছের কাঁটায় ক্ষতবিক্ষত হল।
১৩. শাহজি অদূরে বসে কীসের দৃষ্টি দিয়ে নিঃশব্দে চেয়ে দেখতে লাগল ?
উত্তর: শাহজি অদূরে বসে মুমূর্ষু বিষাক্ত সাপের দৃষ্টি দিয়ে নিঃশব্দে চেয়ে দেখতে লাগল।
১৪. সংসার চালানোর জন্য অন্নদাদিদি কী বিক্রি করত ?
উত্তর: সংসার চালানোর জন্য অন্নদাদিদি কাঠ কুড়োতো, ঘুঁটে বিক্রি করত।
১৫. “আর কখনো এ বাড়িতে আসিস নে।” –কে, কাকে এ কথা বলেছে ?
উত্তর: আলোচ্য উদ্ধৃতিটিতে অন্নদাদিদি ইন্দ্রকে এ কথা বলেছে।
১৬. “একটি অভিযোগেরও প্রতিবাদ করিলেন না।” –কে, কার কথার প্রতিবাদ করল না ?
উত্তর: অন্নদাদিদি ইন্দ্রের কথার প্রতিবাদ করল না।
১৭. “তোমাদের একেবারে গোলাম হয়ে থাকব।”-বক্তা কেন এ কথা বলেছে ?
উত্তর: অন্নদাদিদি যদি বক্তাকে তার সমস্ত বিদ্যা দান করে, তাহলে বক্তা ইন্দ্রনাথ কৃতজ্ঞতাবশত তাদের গোলাম হয়ে থাকবে।
১৮. “তোর দিদির এসব কানাকড়ির বিদ্যেও নেই।”-কোন্ বিদ্যার কথা বলা হয়েছে ?
উত্তর: অলৌকিক মায়াবিদ্যা, মন্ত্রশক্তি, তুকতাক বা জাদুবিদ্যা যেমন- হাত-চালা, মৃতসঞ্জীবনীবিদ্যা, কড়ি-চালা, ঘর-বন্ধন, দেহ-বন্ধন, ধুলো-পড়া প্রভৃতি বিদ্যার কথা বলা হয়েছে।
১৯. শাহজি অন্নদাদিদিকে কীসের আঘাতে অচৈতন্য করেছিল ?
উত্তর: শাহজি অন্নদাদিদিকে লাঠির আঘাতে অচৈতন্য করেছিল।
নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও (20টি শব্দের মধ্যে প্রশ্নমান ২
১. “এ সংবাদ তাহার জানা ছিল না।”-কার, কোন্ সংবাদ জানা ছিল না ?
উত্তর: কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘শ্রীকান্ত' উপন্যাস থেকে নেওয়া ‘অন্নদাদিদি' নামক পাঠ্যাংশ থেকে উদ্ধৃতাংশটি গৃহীত হয়েছে। ইন্দ্র যে শাহজি অপেক্ষা কতখানি বলবান, সে সংবাদ শাহজির জানা ছিল না।
২. শ্রীকান্তকে অপয়া বলার কারণ কী ?
উত্তর: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘অন্নদাদিদি' গল্পাংশের অন্যতম চরিত্র ইন্দ্রনাথ 'অপয়া' বলেছে তার বন্ধুপ্রতিম শ্রীকান্তকে।
গল্পে দেখা যায়—শ্রীকান্তকে নিয়ে ইন্দ্রনাথ অন্নদাদিদির বাড়ি আসে তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন মন্ত্রতন্ত্র শেখার উদ্দেশ্যে। কিন্তু, এই উদ্দেশ্যে পূরণ তো হয়ই না; উপরন্তু, একে কেন্দ্র করে ইন্দ্রের সঙ্গে অন্নদাদিদি ও তার স্বামীর মধ্যে তুমুল বাকবিতণ্ডা এমনকি হাতাহাতিও হয়। শেষ পর্যন্ত তার প্রিয় অন্নদাদিদির সঙ্গেও তার সম্পর্ক ছিন্ন হয়। এই সমস্ত খারাপ ঘটনা যেহেতু শ্রীকান্তের উপস্থিতিতে ঘটে, তাই সংস্কারের বশে ইন্দ্র তাকে ‘অপয়া’ বলেছে।
৩. “তোর দিদির এসব কানাকড়ির বিদ্যেও নেই।” –কে, কাকে এ কথা বলেছে ? এখানে কোন্ বিদ্যার কথা বলা হয়েছে ?
উত্তর: অন্নদাদিদি ইন্দ্রনাথকে এ কথা বলেছে।
ইন্দ্ৰ হাত-চালা, কড়ি-চালা, মরা মানুষ বাঁচিয়ে তোলার মতো অসম্ভব সব মন্ত্র বা বিদ্যার কথা শাহজির কাছে শুনেছিল । তার ধারণা ছিল শাহজির স্ত্রী হিসেবে অন্নদাদিদিও সেসব বিদ্যার কথা জানে। তাই তার মুখ থেকে এ ধরনের বিদ্যার কথা শোনার জন্য ইন্দ্র প্রসঙ্গক্রমে আরও কিছু মন্ত্রবিদ্যার কথা তোলে, যেমন—ঘর-বন্ধন, দেহ-বন্ধন, ধুলো-পড়া প্রভৃতি। এখানে উক্ত বিদ্যাগুলির কথাই বলা হয়েছে।
৪. “এমনি মন্তরের জোর।” –কোন্ মন্ত্রের কথা বলা হয়েছে ? সেই মন্ত্রের জোর কেমন ছিল ?
উত্তর: এখানে কড়ি-চালা' নামক একটি মন্ত্রের কথা বলা হয়েছে।
পাঠ্যাংশে বর্ণিত ইন্দ্রের মতে, দুটি কড়ি মন্ত্র পড়ে ছেড়ে দিলে তারা উড়ে গিয়ে যত দূরেই থাক-না-কেন দংশনকারী সাপের কপালে কামড়ে ধরে, তাকে সামনে এনে হাজির করে দেয়। কড়ি-চালা মন্ত্র এতটাই ক্ষমতাসম্পন্ন ।
৫. “এ সঙ্গে থাকলে কেউ তো কামড়াতে পারেই না ; ” -বক্তা কে ? সে কী থাকার কথা বলেছে ? তা সঙ্গে থাকলে কেউ কেন কামড়াতে পারে না বলে বক্তার বিশ্বাস ?
উত্তর: বক্তা হল ইন্দ্রনাথ ।
সে তার কোঁচার কাপড়ের আড়ালে থাকা কোমরে সুতো বাঁধা একটি শুকনো গাছের শিকড়ের কথা বলেছে।
৬. শাহজিকে বড়ো ওস্তাদ' বলার কারণ কী?
উত্তর: অন্ধবিশ্বাসে আস্থাশীল ইন্দ্রর কাছে শাহজি গুরুতুল্য মানুষ। হাত-চালা, কড়ি-চালা, ঘর-বন্ধন, দেহ-বন্ধন বা ধুলো- পড়ার মতো অসম্ভব সব বিদ্যার কথা ইন্দ্র তার মুখে শুনেছে। এমনকি সে নাকি মন্ত্রবলে মরা মানুষও বাঁচাতে সক্ষম। ইন্দ্রের মতে, তিন দিনের বাসি মড়াকেও মাত্র আধঘণ্টার মধ্যেই নাকি দাঁড় করিয়ে দেন শাহজি। তাই ইন্দ্র শাহজির এই অলৌকিক ক্ষমতার প্রতি শ্রদ্ধাবনত হয়ে তাকে ‘বড়ো ওস্তাদ' বলেছে।
৭. “ওটা শুধু হাতের কৌশল ইন্দ্র”-কার উক্তি ? কোন্ কাজটিকে 'হাতের কৌশল' বলা হয়েছে ?
উত্তর: উদ্ধৃত বক্তব্যটি অন্নদাদিদির উক্তি । অন্নদাদিদি ঘরের ভেতর নড়েচড়ে বেড়ানো একটি ভয়ানক বিষধর গোখরো সাপকে অবলীলায় ইন্দ্রের সামনে ধরে এনেছিল। এখানে সেই বিপজ্জনক কাজটিকেই 'হাতের কৌশল' বলা হয়েছে।
৮. “ঠকানোই যে আমাদের ব্যাবসা” – কে, কখন এ উক্তি করেছে ?
উত্তর: সাপুড়ে শাহজির কাছ থেকে মন্ত্রবিদ্যা সংগ্রহের ব্যাপারে আশাহত হয়ে ইন্দ্রনাথ অন্নদাদিদির কাছ থেকে যখন জানতে পারে যে, তারা কোনো মন্ত্রবিদ্যা জানে না, বরং তারা যা জানে, তা কৌশলমাত্র— তখনই ইন্দ্রনাথ আকস্মিকভাবে উত্তেজিত হয়ে তার কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরে নেওয়া অর্থের প্রসঙ্গ তুলে তাদের 'ঠগ', 'জোচ্চোর' বলে অপমান করে। সেই অপমানের প্রত্যুত্তর হিসেবেই অন্নদাদিদি আলোচ্য উক্তিটি করেছে।
৯. “তোকে সঙ্গে নিলেই একটা না একটা 'ফ্যাসাদ বাধে” – বক্তা কোন্ পরিস্থিতিকে 'ফ্যাসাদে পড়া' বলে উল্লেখ করেছে ?
উত্তর: শাহজি ও অন্নদাদিদির বাড়িতে শ্রীকান্তকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার পর ইন্দ্রের তন্ত্রমন্ত্র বিদ্যালাভকে কেন্দ্র করে তার সঙ্গে অন্নদাদিদির যে-বাদানুবাদ, মনোমালিন্য গড়ে ওঠে এবং তারই জেরে শাহজির নির্মম আচরণ, পরে ইন্দ্রের সঙ্গে তার ধস্তাধস্তি ও পারস্পরিক আক্রমণের ফলস্বরূপ যে-বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল—এখানে সেই পরিস্থিতিকেই ইন্দ্র "ফ্যাসাদে পড়া' বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও (৪০টি শব্দের মধ্যে প্রশ্নমান ৪
১. “আমি বিস্মিত, ব্যথিত, স্তব্ধ হইয়া নির্জন নদীতীরে একাকী দাঁড়াইয়া রহিলাম।” –উদ্ধৃতাংশে ‘আমি কে ? মন্তব্যটি স্বপ্নসঙ্গ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত গল্পাংশে 'আমি' বলতে শ্রীকান্তের কথা বলা হয়েছে।
শ্রীকান্ত ইন্দ্রনাথের বন্ধু। ইন্দ্রের কথা অনুসারে বাড়িতে কাউকে না বলে চুপিসারে রাতের অন্ধকারে ইন্দ্রের সঙ্গে তার দিদির বাড়ি যায়। সেখানে পৌঁছে স্বল্প সময়ের মধ্যে অনেক বিচিত্র অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয় সে। দিদি কথা প্রসঙ্গে জানিয়ে দেয় যে, ইন্দ্রনাথ শুধু শুধু মিথ্যা আশা নিয়ে মন্ত্র সংগ্রহের জন্য শাহজির পিছন পিছন ঘুরছে। এগুলো সবকিছুই মানুষকে ঠকানোর ব্যাবসা মাত্র। এ কথা শুনে, একদিকে দীর্ঘদিনের আশাভঙ্গ অন্যদিকে তাদের জন্য টাকা অপচয়ে ইন্দ্র উত্তেজিত হয়ে শাহজিকে গালিগালাজ করতে শুরু করে। শাহজি ইন্দ্রের কাছ থেকে জানতে পারে শাহজির স্ত্রী অন্নদা অর্থাৎ ইন্দ্রের দিদিই তাকে এ কথা বলেছে। শাহজি তাতে ক্রুদ্ধ হয়ে লাঠির আঘাতে মূর্ছিত করে অন্নদাকে। দিদিকে বাঁচাতে গিয়ে ইন্দ্ৰও অল্পবিস্তর শাহজির হাতে আহত হয়। অবশেষে দিদির থেকেও তীব্র অপমান পেয়ে প্রায় শেষ রাতে নৌকা করে তাদের গন্তব্যে এসে পৌঁছায়। শ্রীকান্তকে নৌকা থেকে নামিয়ে ইন্দ্র তাকে জানায় যে, শ্রীকান্তের জন্যই ইন্দ্র বিপদে পড়েছে। তাই আর কখনো তাকে সঙ্গে নেবে না। শ্রীকান্ত অপয়া । এই কথা বলে ইন্দ্র দ্রুতগতিতে নদীর গভীর জলে নৌকা ঠেলে বাঁকের মুখে অদৃশ্য হয়ে যায়। বর্ণিত এই ঘটনার জন্য শ্রীকান্ত দুঃখভরা মনে নীরবে জনহীন নদীতীরে একাকী দাঁড়িয়ে রইল।
২. “দিদি চুপ করিয়া রহিলেন – একটি অভিযোগেরও প্রতিবাদ করিলেন না।” –দিদির বিরুদ্ধে কী কী অভিযোগ ছিল ? দিদি সে অভিযোগের প্রতিবাদ করলেন না কেন ?
উত্তর: সংজ্ঞাহীন অন্নদাদিদি চেতনা ফিরে পাওয়ার পর, শাহজির বন্ধনমুক্ত করে দিয়ে ইন্দ্রকে বলে—সে যেন আর তার বাড়িতে না আসে। এমনকি, ইন্দ্র যাতে ভবিষ্যতে তাদের কোনো খোঁজখবর-ও না নেয়, এমন শপথও করিয়েছিল। স্নেহপরায়ণ দিদির এই আচরণে ব্যথিত ও ক্ষুব্ধ ইন্দ্রনাথ দিদিকে 'নেমক হারাম' বলে তিরস্কার করেছিল এবং বলেছিল আমাকে যে শাহজি খুন করতে চেয়েছিল; সেটা কিছু নয়। আমি বেঁধে রেখেছি বলে এত রাগ। দিদির বিরুদ্ধে ইন্দ্রনাথের এইসব অভিযোগ ছিল।
ইন্দ্ৰনাথ বিভিন্ন মন্ত্রতন্ত্র ও জাদুবিদ্যা শেখার আশায় শাহজি ও অন্নদাদিদির বাড়ি আসলেও, দিদি জানত যে, ইন্দ্রনাথের উদ্দেশ্য সফল হবে না। কারণ তারা এসব কিছুই জানে না, সবটাই লোক ঠকানো ব্যাবসা। এ কথা ইন্দ্রনাথকে দিদি জানিয়েও দেয়। তারপরই ঘটনাক্রমে দিদির সঙ্গে ইন্দ্রনাথের তর্কাতর্কি এবং শাহজির সঙ্গে তার হাতাহাতি হয়। এমনকি, ইন্দ্রনাথ তাদের ঠক-জোচ্চোর বলে গালিগালাজও করে। এসবের প্রত্যুত্তরস্বরূপ দিদি কোনো প্রতিবাদ না করে চুপ করে থাকে। কারণ সে জানত যে, ইন্দ্রনাথের বলা প্রতিটি অভিযোগই একান্তভাবে সত্যি।
৩. ‘অন্নদাদিদি' গদ্যাংশ অবলম্বনে শ্রীকান্ত চরিত্রটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: শ্রীকান্ত বাস্তবিকই ‘শ্রীকান্ত' উপন্যাসের কথক। নেপথ্যচারী হিসেবেই তার প্রধান ভূমিকা : সেজন্য অন্যান্য চরিত্রের তুলনায় সে স্বভাবতই সব দিক থেকে স্বতন্ত্র।
‘অন্নদাদিদি” গল্পাংশে প্রথম দিকে সে প্রায় নীরব দর্শক। ইন্দ্রের সঙ্গে অন্নদাদিদির যা কথোপকথন হয়, সে সমস্ত কিছু আনুপূর্বিক ও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে লক্ষ করে। মানবচরিত্রের ভিতরে বা বাইরে কী দৃশ্যমান, তা যেন সে তৃতীয় চোখ দিয়ে দেখতে পায়। ইন্দ্ৰ মাঝেমধ্যে যা বলে, যা দেখায়, কোনো মন্তব্য না-করে শ্রীকান্ত প্রায়ই সেগুলি মান্য করে। অন্নদাদিদির দুঃখ-দৈন্যের সংসারে প্রবেশ করে শ্রীকান্ত দ্যাখে, ইন্দ্র অন্নদাদিদিকে বাসি মড়া বাঁচাতে পারে কিনা প্রশ্ন করলে, দিদির মধুর হাসি যেন মেঘভরা আকাশের বিদ্যুৎদীপ্তির মতো মুহূর্তে উদয় হয়ে মুহূর্তে মিলিয়ে যায়। তার এই নিপুণ পর্যবেক্ষণশক্তি সত্যিই প্রশংসনীয়, চমকপ্রদ।
অন্যদিকে অন্নদার তন্ত্রমন্ত্রবিদ্যা না-জানা সম্পর্কে ইন্দু যখন প্রচণ্ড অবিশ্বাসী, শ্রীকান্ত সেখানে নীরবতা ভেঙে তার সমস্ত কথায় বিশ্বাস জ্ঞাপন করতে চায় এবং অন্নদার কাছে 'ভদ্রলোকের ছেলে,’ 'ভাই' প্রভৃতি আখ্যায় ভূষিত হয়। অন্নদার সবিনয় ভাষণের মধ্যে শ্রীকান্ত প্রত্যক্ষ করে তার অন্তর্দেশ এবং ইন্দ্রের অবিশ্বাসকে সে বিস্ময়ের চোখে দেখে।
রচনার শেষে শ্রীকান্তকে একটু সক্রিয় হতে দেখা যায়। যখন ইন্দ্র তাকে অন্নদার বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে চলে যেতে উদ্যত হয়, তখন অন্নদার সাহায্যকল্পে পাঁচটি টাকা সে তার বাড়িতে রেখে আসতে চায়। এ ছাড়া ইন্দ্র-শাহজির সংঘর্ষে শ্রীকান্ত অত্যন্ত মানবিক ভূমিকা পালন করে। ইন্দ্রের ক্ষতস্থানে কাপড় বেঁধে দেয়। এককথায় শ্রীকান্ত এক সহানুভূতিশীল মরমি চরিত্র। এই কারণেই ইন্দ্রের কাছে 'অপয়া' আখ্যা পেয়ে সে বিস্মিত-ব্যথিত হয়। কিন্তু বাস্তবিক, সে মনুষ্যজীবনের ও চরিত্রের দক্ষ পর্যবেক্ষকরূপে যেন গল্পে উপস্থিত থেকেছে।
৪. “শাহজির কাছে এটুকু আদায় করতে কি আমাকে কম কষ্ট পেতে হয়েছে ?” –কে, কাকে উদ্দেশ্য করে এ কথা বলেছে ? মন্তব্যটি কেন করা হয়েছে ? উত্তর: কথাটি গল্পের অন্যতম চরিত্র ইন্দ্রনাথ শাহজির স্ত্রী তথা অন্নদাদিদিকে উদ্দেশ্য করে বলেছে।
ইন্দ্রনাথের বিশ্বাস ছিল যে, শাহজি বিভিন্ন ধরনের জাদু বিদ্যা ও সর্পবিদ্যায় পারদর্শী। তাই ইন্দ্রনাথও শাহজির কাছ থেকে এই সমস্ত তন্ত্রমন্ত্র শিখে নিতে চেয়েছিল। কিন্তু, শাহজি প্রকৃতপক্ষে ছিল ভণ্ড। সে এসবের কিছুই জানত না। তাই নানা অজুহাতে ইন্দ্রনাথকে জাদুবিদ্যা শেখাতে দেরি করছিল। ইন্দ্রনাথও ছিল নাছোড়বান্দা। তাই এক প্রকার জোর করেই সে সর্পবিষ- নিরোধক একটি গাছের শিকড় শাহজির কাছ থেকে আদায় করে নিয়েছিল। এই কারণেই সে বলেছে যে, এই সামান্য জিনিসটুকু আদায় করতেও তাকে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। অর্থাৎ, উপরোধ, অনুরোধ কিংবা নানাভাবে শাহজিকে সাহায্য করে, তবেই সে শিকড়টি পেয়েছে।
৫. “লোকটা যেন এই কথায় শিহরিয়া মুখ তুলিয়া চাহিয়াই তৎক্ষণাৎ মুখখানা নত করিয়া ফেলিল।” –“লোকটা’ কে ? কার, কোন্ কথায়, কেন সে এমন প্রতিক্রিয়া করেছিল ?
উত্তর: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'শ্রীকান্ত' উপন্যাস-এর অন্তর্গত ‘অন্নদাদিদি' গল্পাংশ থেকে আলোচ্য উক্তিটি গৃহীত হয়েছে। 'লোকটা' হল অন্নদাদিদির স্বামী ও ইন্দ্রনাথের 'গুরু' শাহজি।
ইন্দু ও শাহজির মধ্যে মারপিট হওয়ার পর ইন্দ্র পাগড়ি দিয়ে শাহজিকে বেঁধে রাখে এবং অন্নদাদিদি তার কাছ থেকে টাকা নিতে অস্বীকার করায় শাহজি দিদিকে কীভাবে অত্যাচার করে, সেই কথা শ্রীকান্তকে বলে। সঙ্গে এও বলে যে, এরকম অত্যাচারীকে সে পুলিশে দিয়ে তবে ছাড়বে-না-হলে শাহজি হয়তো দিদিকে খুন করে ফেলবে। ইন্দ্রের মুখে এই কথা শুনেই শাহজি উক্ত প্রতিক্রিয়া করেছিল।
শাহজি নিজে তার কৃতকর্ম সম্পর্কে অবগত ছিল। ইন্দ্রের অভিযোগ যে সত্যি, তা সে জানত। তাই, অপমানে সে মুখখানা নত করেছিল। আবার, ইন্দ্রের মতো দুরন্ত ছেলে যে প্রয়োজনে তাকে পুলিশে দিতেও পারে, এ কথা ভেবে সে শিউড়ে উঠেছিল।
.png)
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন