সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

বৈশিষ্ট্যযুক্ত পোস্ট

ত্রিপুরা রাজ্য কিভাবে স্বাধীন ভারতের সাথে যুক্ত হয় ?

 How did Tripura Join as a State of Independent India? ত্রিপুরা রাজ্য কিভাবে স্বাধীন ভারতের সাথে যুক্ত হয় ? ভূমিকা ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ১৭ মে ত্রিপুরার মহারাজা বীর বিক্রম কিশোর মানিক্য বাহাদুর ৩৯ বছর বয়সে পরলোক গমন করলে তার পুত্র কিরীট বিক্রম কিশোর দেববর্মন মানিক্য বাহাদুর ত্রিপুরা রাজ্য ও চাকলা রোশনাবাদের জমিদারি উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত হন। তিনি নাবালক থাকায় ভারত সরকারের পরামর্শ অনুযায়ি রাজমাতা মহারাণি কাঞ্চনপ্রভা দেবীর নেতৃত্বে রাজপ্রতিনিধি শাসন পরিষদ বা কাউন্সিল অব রিজেন্সি গঠিত হয়। মহারাণি কাঞ্চনপ্রভা দেবী এই পরিষদের প্রেসিডেন্ট এবং রাজকুমার ব্রজেন্দ্র কিশোর দেববর্মন বাহাদুর ভাইস প্রেসিডেন্ট নিযুক্ত হন। মেজর বঙ্কিম বিহারী দেববর্মন ও মন্ত্রী রাজরত্ন সত্যব্রত মুখার্জি এই পরিষদের সদস্য নিযুক্ত হন। (২) পাকিস্তানের ত্রিপুরা আক্রমনের ষড়যন্ত্র ভারত স্বাধীনতা লাভের অল্পদিনের পরেই ত্রিপুরা রাজ্য এক গভীর সঙ্কটের সম্মুখীন হয়। ত্রিপুরা সীমান্তস্থিত কুমিল্লার মুসলিম ন্যাশনাল গার্ডের উদ্যোগে ও আগরতলার কতিপয় ব্যক্তির সহযোগিতায় পাকিস্তান ত্রিপুরা আক্রমনের পরিকল্পনা করে। ত্রিপুরার রা...

সবুজের অভিযান' কবিতাটির কবি কে এবং মূলগ্রন্থের নাম কী

উচ্চমাধ্যমিক সাজেশন-2023 পদ্য
সবুজের অভিযান

১. সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো (MCQ)  প্রশ্নমান ১
Class 12 Bengali Suggestion 2023

Class 12 Bengali MCQ Question Answer উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা বড় প্রশ্ন উত্তর 2023 উচ্চমাধ্যমিক সাজেশন-2023 পদ্য সবুজের অভিযান

১. ‘সবুজের অভিযান' কবিতাটি প্রকাশিত হয়েছিল—

(ক) পরিচয় পত্রিকায়

(খ) সবুজপত্র পত্রিকায়

(গ) ভারতী পত্রিকায়

(ঘ) বালক পত্রিকায়

উত্তর: (খ) সবুজপত্র পত্রিকায়।

২. 'সবুজের অভিযান' কবিতায় যে ঋতুর উল্লেখ আছে, তা হল—

(ক) শরৎ

(খ) হেমন্ত

(গ) শীত

(ঘ) বসন্ত

উত্তর: (ঘ) বসন্ত ।

৩. “চক্ষুকর্ণ দুইটি — ঢাকা” (শূন্যস্থান পূরণ করো)

(ক) পালকে

(খ) ডানায়

(গ) পর্দায়

(ঘ) কাপড়ে

উত্তর: (খ) ডানায়

৪. মৃদু হাওয়ায় দুলছে—

(ক) খাঁচাখানা

(খ) ঝাড়বাতি

(গ) পর্দা

(ঘ) কোনোটিই নয়

উত্তর: (ক) খাঁচাখানা

৫. নবীনরা অট্টহাস্যে ফেড়ে ফেলবে—

(ক) আকাশ

(খ) মাটি

(গ) বাতাস

(ঘ) কোনোটিই নয়

উত্তর: (ক) আকাশ

৬. কবি বকুল মাল্য গাছা পরাতে বলেছেন—

(ক) শরৎকে

(খ) গ্রীষ্মকে

(গ) শীতকে

(ঘ) বসন্তকে

উত্তর: (ঘ) বসন্তকে

৭. ঝোলাঝুলি ঝেড়ে ভুলগুলি বেছে বেছে আনতে হবে—

(ক) শিবনাথের

(খ) শ্যামানাথের

(গ) ভোলানাথের

(ঘ) দেবনাথের

উত্তর: (গ) ভোলানাথের

৮. চিরকাল খাড়া থাকবে না—

(ক) লক্ষ্মীদেবীর পূজাবেদি

(খ) শিকল দেবীর পূজাবেদি

(গ) বিদ্যাদেবীর পূজা বেদি

(ঘ) সর্পদেবীর পূজাবেদি

উত্তর: (খ) শিকল দেবীর পূজাবেদি

৯. ‘সবুজের অভিযান' কবিতায় 'সবুজ' হল—

(ক) স্থবিরত্বের প্রতীক

(খ) তারুণ্যের প্রতীক

(গ) সংস্কারের প্রতীক

(ঘ) এক প্রকার রং

উত্তর: (খ) তারুণ্যের প্রতীক

১০. “আধমরাদের ঘা মেরে তুই বাঁচা।”—কাদের প্রতি কবির এই আহ্বান—

(ক) নবীনদের

(খ) কুসংস্কারাচ্ছন্নদের

(গ) যুদ্ধবাজদের

(ঘ) পরমপাকা প্রবীণদের

উত্তর: (ক) নবীনদের

নীচের প্রশ্নগুলি এক-একটি শব্দে/পূর্ণাঙ্গ বাক্যে উত্তর দাও  প্রশ্নমান ১
Class 12 Bengali Question 2023

১. ‘সবুজের অভিযান' কবিতাটির কবি কে এবং মূলগ্রন্থের নাম কী ?

উত্তর: ‘সবুজের অভিযান' কবিতাটির কবি হলেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং মূলগ্রন্থের নাম ‘বলাকা’।

২. 'সবুজের অভিযান' কবিতাটি কোন্ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল ?

উত্তর: ‘সবুজের অভিযান' কবিতাটি ‘সবুজপত্র' পত্রিকার প্রথম সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল

৩. “খাঁচাখানা দুলছে মৃদু হাওয়ায় ; "খাঁচাখানা কোথায় কীভাবে দুলছে ?

উত্তর: কুসংস্কারাচ্ছন্ন প্রবীণ পাকাদের ঘরের দাওয়ায় মৃদু হাওয়ায় খাঁচাখানা দুলছে।

৪. “উচ্চ বাঁশের মাচায়।” বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন ?

উত্তর: “উচ্চ বাঁশের মাচা” বলতে কবি সংস্কারাচ্ছন্ন প্রবীণদের নিজ ঘরে বন্দি হয়ে থাকার মনোভাবকে বুঝিয়েছেন।

৫. “আয় অশান্ত, আয় রে আমার কাঁচা।”—কবি কাদের অশান্ত এবং কাঁচা বলে সম্বোধন করেছেন ?

উত্তর: কবি নবীন তথা তরুণদের অশান্ত এবং কাঁচা বলে সম্বোধন করেছেন।

৬. “লাগবে লড়াই”—কীসে কীসে লড়াই লাগবে বলে কবির অভিমত ?

উত্তর: ‘সবুজের অভিযান' কবিতায় কবি নবীনদের সঙ্গে প্রবীণদের লড়াই লাগবে বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন।

৭. ‘সবুজের অভিযান' কবিতায় ব্যবহৃত প্রমত্ত এবং প্রমুক্ত শব্দ দুটির অর্থ কী ?

উত্তর: ‘সবুজের অভিযান' কবিতায় ‘প্রমত্ত' শব্দটি ‘উন্মত্ত' অর্থাৎ ‘নেশার প্রভাবগ্রস্ত' এবং ‘প্রমুক্ত' শব্দটি ‘সম্পূর্ণভাবে উদার' অর্থাৎ 'যার কোনো সংস্কার-বদ্ধতা নেই' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

৮. ‘সবুজের অভিযান' কবিতায় কোন্ ফুল এবং কোন্ ঋতুর কথা বলা হয়েছে ?

উত্তর: ‘সবুজের অভিযান' কবিতায় 'বকুল ফুল' ও 'বসন্ত' ঋতুর কথা বলা হয়েছে।

৯. “চক্ষুকর্ণ দুইটি ডানায় ঢাকা, ”–কাদের সম্পর্কে কবি এ কথা বলেছেন ?

উত্তর: সংস্কারাচ্ছন্ন, পরিণত বুদ্ধির, সদা সতর্ক ‘পরম পাকা' প্রবীণদের সম্পর্কে কবি এ কথা বলেছেন।

১০. “চিরকাল কি রইবে খাড়া!”—কী চিরকাল খাড়া থাকবে না ?

উত্তরঃ শিকল-দেবীর পূজাবেদি চিরকাল খাড়া থাকবে না।

১১. “আন্ রে বাছা-বাছা ।”—কী আনার কথা বলা হয়েছে ?

উত্তর: ভোলানাথের ঝোলাঝুলি ঝেড়ে ভুলগুলি আনার কথা বলা হয়েছে।

১২. “ঘুচিয়ে দে, ভাই”—কী ঘোচানোর কথা বলা হয়েছে ?

উত্তর: পথ চলার যেসব অকারণ ও যুক্তিহীন বিধিবিধান আছে, সেগুলি ঘুচিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

১৩. “ঝিমায় যেন চিত্রপটে আঁকা”–কাদের কথা বলা হয়েছে ?

উত্তর: আলোচ্য উদ্ধৃতিটিতে প্রবীণ অর্থাৎ, সংস্কারাচ্ছন্ন প্রাচীন মানুষদের কথা বলা হয়েছে।

১৪. নবীনদেরকে কবি কীসের জন্য ডাক দিয়েছেন ?

উত্তর: নবীনদেরকে কবি সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনের অচলায়তন ভেঙে সেখানে নবীন স্রোত প্রবাহিত করবার ডাক দিয়েছেন।

১৫. কারা মাটিতে চরণ ফেলতে চায় না ?

উত্তর: ‘মাটির ছেলে' অর্থাৎ সমাজের সংস্কারগ্রস্ত প্রবীণ মানুষেরা মাটিতে চরণ ফেলতে চায় না।

১৬. 'সবুজের অভিযান' কবিতায় কাকে দুয়ার ভেদ করে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে ?

উত্তর: ‘সবুজের অভিযান' কবিতায় পাগলামিকে দুয়ার ভেদ করে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।

নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও (20টি শব্দের মধ্যে)  প্রশ্নমান ২
উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা বড় প্রশ্ন উত্তর 2023

১. “চক্ষুকর্ণ দুইটি ডানায় ঢাকা, ” — কবির এইরূপ উক্তির কারণ কী ?

উত্তর: সবুজের অভিযান কবিতায় কবি প্রবীণদের উদ্দেশ্যে বলেছেন— গতানুগতিক চিন্তাধারায় বিশ্বাসী প্রবীণরা স্থবির ও গতিহীন, সংস্কারাচ্ছন্ন চিন্তাধারা থেকে কখনো নিজেদের বের করতে পারে না। তারা নিজেদের তৈরি করা সংকীর্ণ গণ্ডিতেই আবদ্ধ থাকতে চায়। অথচ তাদের চিন্তাধারার বাইরে যে প্রগতিশীল ও আধুনিকতার জোয়ার বইছে তাতে তাদের কোনো লক্ষ্য নেই। বাইরের আধুনিকতা তাদের প্রাচীনতম চিন্তাভাবনায় কোনো আঘাত হানতে পারে না। কারণ তাদের চোখ কান যেন সংকীর্ণ, প্রাচীনতম চিন্তাধারার ডানা দিয়ে ঢাকা। তাই কবি প্রবীণদের উদ্দেশ্যে এই কথা বলেছেন।

২. "বসন্তেরে পরাস আকুল করা

আপন গলার বকুলমাল্যগাছা।” — লাইন দুটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো ।

উত্তর: চিরযুবা, চিরজীবীদের প্রতি কবির নির্দেশ—তারা জীর্ণ,জরা ঝরিয়ে দিয়ে যেন অফুরন্ত প্রাণ দেদার ছড়িয়ে দেয়। বসন্তকে চিরযুবা চিরজীবী নবীনরা তাদের নিজের গলার বকুল ফুলের মালা পরিয়ে দেয়। পৃথিবীকে সবুজের নেশায় বিভোর করেছে। এই নবীন চিরজীবীরাই । এই নবীনরাই ঝড়ের মেঘের ভিতর বিদ্যুৎ ভরে রেখেছে। বসন্তকে তারাই নিজের গলার বকুলমালা পরিয়ে দেয়। এই নবীনরা অমর। তারা চিরসুবজ, তাজা, কাঁচা।

৩. কবি নবীনদের কেন পুচ্ছটি উচ্চে তুলে নাচাতে বলেছেন ?

উত্তর: কবি মনে করেন, সমাজের প্রথাবদ্ধ, ভিত্তিহীন সংস্কারকে এরাই বাতিল করে দিতে পারে। এর জন্য হয়তো প্রবীণদের সঙ্গে তাদের অনেক মতবিরোধ তৈরি হবে। তবুও, কবির আশা – সমস্ত তর্ক-বিতর্ক, বাধা-বিপত্তিকে উপেক্ষা করেই তারা নবযৌবনের বার্তা নিয়ে আসবে আর তারই প্রতীকস্বরূপ তারুণ্যের পুচ্ছরূপ ধ্বজা উড্ডীয়মান হবে, যা প্রকৃতপক্ষে নবীনতাকে স্বাগত জানাবে।

৪. সবুজের অভিযান' কবিতার প্রতিটি স্তবকে নবীনদের কবি যে যে নামে সম্বোধন করেছেন তা লেখো।

উত্তর: 'সবুজের অভিযান' কবিতায় কবি নবীন তরুণ সমাজকে নানান অভিধায় অভিহিত করেছেন। নবীন-সবুজদের জীবন- বৈশিষ্ট্য ও স্বভাবধর্মের কথা মনে রেখে পরিস্থিতি অনুযায়ী বহু অভিধায় গুণান্বিত করেছেন। কবির বলা এমন অভিধাগুলি হল—'নবীন', ‘কাঁচা’, ‘সবুজ, ‘অবুঝ’, ‘দুরন্ত', ‘জীবন্ত’, ‘অশান্ত’, ‘প্রচণ্ড’, ‘প্রমুক্ত”, “চিরযুবা’, ‘চিরজীবী' ও 'অমর'।

৫. “আয় প্রমুক্ত, আয় রে আমার কাঁচা।”— কবি এই প্রমুক্তদের আহ্বান জানিয়েছেন কেন ?

উত্তর: আপ্তবাক্য, বাঁধা বুলি, লোকাচার, সংকীর্ণতা ও যুক্তিহীন প্রথাবদ্ধতায় নিশ্চল সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনকে বিশ্বের শাশ্বত চিরন্তন স্রোতে প্রবাহিত করানোর জন্যে সর্বসংস্কারমুক্ত, কর্মোদ্যোগী, প্রাণপ্রাচুর্যে ভরপুর নবীনদেরকে দরকার। তারাই জীর্ণতার জগদ্দল পাথরকে সহজে অপসারিত করতে পারে। তাদের কর্মচাঞ্চল্য গতি পায়। জড়ত্বের মধ্যে প্রাণের নির্বাধ গতি উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে। তারা মুক্তমনা। সম্পূর্ণ উদার মন নিয়ে কাজ করতে সক্ষম বলেই কবি এই প্রযুক্তদের আহ্বান জানিয়েছেন।

নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও (৪০টি শব্দের মধ্যে)  প্রশ্নমান ৪
Class 12 bengali bhat question answer

১. 'সবুজের অভিযান' কবিতা অবলম্বনে নবীন ও প্রবীণদের স্বভাবধর্মের তুলনামূলক আলোচনা করো।

উত্তর: জীবন গতিশীল। নবীন যুবসম্প্রদায় সেই গতিবাদকে ভিত্তি করে সামনে দিকে এগিয়ে চলে। কিন্তু প্রবীণ, পরম পাকা-রা তা হতে দিতে চায় না। দুই শ্রেণির এমন ভিন্নমুখী, বিপরীত মানসিকতা ‘সবুজের অভিযান' কবিতায় পরিস্ফুট হয়েছে। নবীনদের স্বভাবধর্মের কথা বলতে গিয়ে কবি বেশ কিছু অভিধায় তাদের ভূষিত করেছেন, যেমন—নবীন, কাঁচা, সবুজ, অবুঝ, দুরন্ত, জীবন্ত, অশান্ত, প্রচন্ড, প্রমুক্ত, চিরযুবা, চিরজীবী, অমর ইত্যাদি। নবীনরা আধমরাদের ঘা মেরে বাঁচাতে সক্ষম। তারা যুক্তিহীন শাস্ত্রাচারকে অবহেলা করতে চায়। নবীনরা ঝড়ের মতন বিজয়কেতন নেড়ে সামনের দিকে দ্বিধা-ভয়হীন হয়ে চলতে পারে। সত্যকে আশ্রয় করে তারা মিথ্যের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সক্ষম।

প্রবীণরা কিন্তু নবীনদের শাস্ত্রীয় আচার-আচরণে, মূঢ় সংস্কারের নিশ্চিন্ত জীবনে বেঁধে রাখতে চায়। প্রবীণরা পরম পাকা। কবির ভাষায় তাদের চক্ষুকর্ণ দুইটি ডানায় ঢাকা। তারা যেন ছবিতে আঁকা তন্দ্রালু ও আলস্যপরায়ণ মানুষ। জগতের সঙ্গে, জীবন ও গতির সঙ্গে এঁদের কোনো সম্পর্ক নেই। বাইরের দিকে এরা তাকায় না—দেখে না যে, চারিদিকে বান ডেকে জীবননদের জোয়ার-জলে ঢেউ উঠেছে। প্রবীণরা সতত গতিবিমুখ। নিজেদের স্বভাবে প্রবীণরা নবীনদেরকে সংস্কারে বেঁধে রাখতে চায়। এঁরা পুথিপোড়ো ও শাস্ত্রীয় বিধিবিধানে নিজেদের সার্বিক শান্তি ও সুখ খুঁজে নেয়। তাই এ জীবনমুখী গতির স্রোতকে ভীষণ ভয় পায়।

২. “লাগবে লড়াই মিথ্যা এবং সাঁচায় ।

আয় প্রচণ্ড, আয় রে আমার কাঁচা।” —“মিথ্যা এবং সাঁচায়’ কীভাবে লড়াই লাগতে পারে ? নবীন কাঁচাদের কবি ‘প্রচণ্ড' বলেছেন কেন ?

উত্তর: মিথ্যা ও সাঁচায় দ্বন্দ্বের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। এখানে যুদ্ধভূমি নেই—রক্তক্ষরণও নেই। আছে চিন্তা-চেতনার জয়-পরাজয়। কবি গতিবাদে বিশ্বাসী আর গতিই শাশ্বত সত্য। চলমানতা জীবনে উজ্জ্বল্য নিয়ে আসে। স্থবিরত্বে বিশ্বাসী প্রবীণ ব্যক্তিরা মিথ্যার স্বর্গে বাস করতে চায়, কারণ সেখানেই তাদের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে। অচলায়তনের শৃঙ্খলে মানুষের বোধবুদ্ধিকে শৃঙ্খলিত করার মাধ্যমেই অন্ধ সংস্কারাচ্ছন্ন প্রবীণরা নিজেদের মুনাফা অর্জন করে। এইভাবে সমাজ, রাষ্ট্র ও সভ্যতায় উজ্জ্বল জীবন-প্রবাহ আনতে চেয়ে সত্যের পূজারি নবীনদের সঙ্গে মিথ্যার পরিপোষক প্রবীণদের দ্বন্দ্ব অনিবার্য বলে কবি মনে করেন।

 নবীন, কাঁচা যুবকরা কর্মচঞ্চল। কাজ করার প্রেরণায় তারা সামনের সব প্রতিবন্ধকতাকে হেলায় তুচ্ছ করে এগিয়ে যায়। নবীনরা অকুতোভয়। তাদের কোনো কিছুতেই ভয় নেই। প্রাণোদ্দীপ্ত জীবনের নিয়ন্ত্রক তারাই। তারা প্রাণ বাজি রেখে জীবনপ্রবাহে এগিয়ে যেতে পারে বলে কবির বিশ্বাস। ইউরোপ, আমেরিকা ভ্রমণকালে কবি সেখানকার সর্বস্তরের সমাজের গতিময়তায় উদ্‌বুদ্ধ হয়েছিলেন। সেই গতির ধারকরাও ছিল যুব সম্প্রদায়। যুবকরা সবকিছুকে পরখ করে দেখতে চায় আর এই নিরীক্ষার পথ তীব্র দ্বন্দ্বময়। উচ্ছ্বল প্রাণের মধ্যে গভীর আবেগ, উদ্দাম গতিময়তা মিশে থাকে। তাই বিধিবদ্ধ অচলায়তনের সঙ্গে সংঘর্ষে যুবকদের অন্তরস্থ প্রচণ্ডতা প্রকাশ্যে আসে। এই সত্যকে তুলে ধরতেই আলোচ্য প্রসঙ্গে কবি প্রশ্নোক্ত বিশেষণটি ব্যবহার করেছেন।

৩. “ওই যে প্রবীণ, ওই যে পরম পাকা,

চক্ষুকর্ণ দুইটি ডানায় ঢাকা,”

—চক্ষুকর্ণ দুইটি ডানায় ঢাকা' বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন ?

উত্তর: ‘চক্ষুকর্ণ দুইটি ডানায় ঢাকা" কথাটির দ্বারা সহজেই উপলব্ধি করা যায় যে, প্রবীণ ও পরম পাকা মানুষগুলি জগৎবিমুখ হয়ে থাকতে চায়। অথচ আধুনিক বিশ্ব গতিময়। পাশ্চাত্যে এসেছে বিপুল ও তীব্র জীবনপ্রবাহ। অন্যদিকে ভারতীয় জীবনে থেকে গিয়েছে প্রবীণদের সদাসতর্ক সংকীর্ণতার প্রভাব। শাস্ত্রতত্ত্ব ও আপ্তবাক্যে সংস্কারাচ্ছন্ন মানুষগুলি বহির্বিশ্বের খোঁজ নেয়া না। চার দেয়ালের ঘেরাটোপে নিজেদের আবদ্ধ রেখে তৃপ্তি অনুভব করে। এরা নতুন কিছু দেখতেও চায় না, শুনতেও চায় না। এ কারণে তীব্র বিরূপতা দেখিয়ে নিজেরাই নিজেদের চোখ-কান ঢেকে রেখেছে। এরা গতিময়, প্রাণোচ্ছ্বল জীবনের বিপক্ষে। অচলায়তনের মধ্যেই এদের অবস্থান, কারণ এই স্থবির জীবননির্বাহ-ই তাদের স্বার্থকে সুরক্ষিত রাখে। কিন্তু আত্মসর্ব রক্ষণশীলদের এই মানসিকতার প্রভাবেই ভারতের সমাজজীবন ক্রমশ নিস্তেজ ও পঙ্কিল হয়ে পড়ছে। এই স্থবির জড়ত্বের অবস্থানকেই গতির সমর্থক কবি 'চক্ষুকর্ণ দুইটি ডানায় ঢাকা' মন্তব্যের মাধ্যমে পরিস্ফুট করেছেন।

৪. “ওরে নবীন, ওরে আমার কাঁচা,

ওরে সবুজ, ওরে অবুঝ, আধমরাদের ঘা মেরে তুই বাঁচা।”

—“নবীন’-দেরকে কবি 'কাঁচা', 'সবুজ' ও 'অবুঝ' বলেছেন কেন ? 'আধমরাদের ঘা মেরে বাঁচানোর ব্যাপারটি পরিস্ফুট করো।

উত্তর: কবিতাটিতে রবীন্দ্রনাথ তারুণ্য ও যৌবনের জয়গান করেছেন। সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনের দীর্ঘদিনের রুদ্ধ স্রোতকে যুগপ্রবাহের সঙ্গে মিশিয়ে দিতে চায় প্রবল আবেগসর্বস্ব, কর্মোদ্যোগী মানুষ, আর তা কেবল তরুণদের মধ্যেই আছে। তারাই নিজেদের চাঞ্চল্য দিয়ে প্রতিবন্ধকতার পাঁচিল ভেঙে দেয়। তারা ভুলচুকের বিচার করে না। কী হবে ভেবে চুপ করে থাকে না। তাদের এই প্রবল কর্মোদ্দীপনা ও জীবনচাঞ্চল্যের জন্য কবি নবীনদের 'কাঁচা', 'সবুজ' ও 'অবুঝ' বলেছেন।

‘আধ-মরা' অর্থে জীবনপ্রবাহে গতিহীন মানুষ। এরা শাস্ত্রতত্ত্ব, আপ্তবাক্য, বাঁধা বুলি, মূঢ় লোকাচার, নির্বোধ যুক্তিহীন প্রথাবদ্ধতায় অনড় থাকে। আসলে তারা জড়ত্বপ্রাপ্ত স্থবির। এর মধ্যেই তারা সুখশান্তির সন্ধান করে। নৈষ্কর্মের মধ্যেকার সুখে সুখী এই মানুষদের কোনো জীবনমুখী বিকাশ নেই। এ কারণে কবির ভাবনায় তারা মৃতপ্রায়, আধমরা। অর্ধমৃত মানুষদের শরীরে কেবলমাত্র জীবনের ন্যূনতম লক্ষণটুকুই থাকে – প্রাণের উদ্দাম প্রবাহ সেখানে অনুভূত হয় না। কিন্তু কবি চান, সমাজজীবনের সর্বতো বিকাশ। তাই তিনি কর্মোদ্দীপ্ত তরুণদের জীবনের গতিবাদের প্রবাহে এদেরকে শামিল করতে বলেছেন, কারণ তাতেই তারা প্রাণ ফিরে পাবে। আর এভাবেই জড়তাগ্রস্ত মানুষের মধ্যে গতির মন্ত্র সঞ্চারণের দ্বারা সেই সমস্ত ‘আধমরা’-রা পুনরায় বেঁচে উঠবে।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

আগামী' কবিতাটি 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

আগামী Class 12 Bengali Question 2023 সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো (MCQ)  প্রশ্নমান ১ class 12 bengali mcq question answer ১. “ক্ষুদ্র আমি তুচ্ছ নই”-বক্তা কে ? (ক) বৃক্ষ শিশু (খ) বনস্পতি (গ) বটবৃক্ষ (ঘ) সদ্য অঙ্কুরিত বীজ উত্তর: (ঘ) সদ্য অঙ্কুরিত বীজ। ২. অঙ্কুরিত বীজের ক্ষুদ্র শরীরে বাজে— (ক) ঝড় (খ) বৃষ্টি (গ) ভূমিকম্প (ঘ) তুফান উত্তর: (ক) ঝড়। ৩. অঙ্কুরিত বীজের শাখায় প্রত্যাহত হবে— (ক) পত্রমর্মর (খ) মর্মরধ্বনি (গ) পাখির কূজন (ঘ) বিচিত্রধ্বনি উত্তর: (খ) মর্মরধ্বনি । ৪. অঙ্কুরিত বৃক্ষশিশু অরণ্যের বিশাল চেতনা অনুভব করে— (ক) পত্রে (খ) পুষ্পে (গ) শিকড়ে (ঘ) শাখায় উত্তর: (গ) শিকড়ে। ৫. “জানি তারা মুখরিত হবে”—কীভাবে ? (ক) নব শতকের গানে (খ) নতুন দিনের গানে (গ) নব তারণ্যের গানে (ঘ) নব জীবনের গানে উত্তর: (গ) নব অরণ্যের গানে। ৬. অঙ্কুরিত বৃক্ষশিশু নব অরণ্যের গানে মিশে যাবে— (ক) বসন্তে (খ) বর্ষায় (গ) গ্রীষ্মে (ঘ) শীতে উত্তর: (ক) বসন্তে। ৭. অঙ্কুরিত বীজ কোথায় মিশে যাবে ? (ক) অরণ্যের দলে (খ) বৃহতের দলে (গ) ক্ষুদ্রের দলে (ঘ) মহীরুহ-র দলে উত্তর: (খ) বৃহতের দলে। ৮. অঙ্কুরিত বীজ নিজেকে বলেছে— (ক) ভ...

বীরচন্দ্র মানিক্য থেকে বীরবিক্রম কিশোর মানিক্য পর্যন্ত ত্রিপুরার আধুনিকীকরণ সম্পর্কে আলোচনা কর।

 Discuss the modernization of Tripura from Birchandra Manikya to Bir Bikram Kishor Manikya. বীরচন্দ্র মানিক্য থেকে বীরবিক্রম কিশোর মানিক্য পর্যন্ত ত্রিপুরার আধুনিকীকরণ সম্পর্কে আলোচনা কর।  ত্রিপুরায় আধুনিক যুগের সূচনা হয় মহারাজ বীরচন্দ্র মানিক্যের শাসনকালে। তিনি ব্রিটিশ ভারতের শাসন পদ্ধতির অনুকরণে ত্রিপুরার শাসন ব্যবস্থার সংস্কার করেণ এবং লিখিত আইন কানুন প্রনয়নের মাধ্যমে বিচার ব্যবস্থাকে সুসংবদ্ধ ও সুসংগঠিত করেণ। মোটের উপর বীরচন্দ্রমানিক্য (১৮৬২-১৮৯৬ খ্রি:) তাঁর আমলে ত্রিপুরা রাজ্য এক নতুন রূপ লাভ করে। ১) মিউনিসিপ্যালিটি গঠন তিনি ১৮৭১ খ্রিস্টাব্দে আগরতলা মিউনিসিপ্যালিটি গঠন করেন। তবে নাগরিক জীবনের সুযোগ সুবিধা বিধানে কিংবা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা হিসাবে দীর্ঘকাল কোনো কার্যকারী ব্যবস্থা গ্রহণে আগরতলা মিউনিসিপ্যালিটি ছিল ব্যর্থ। ১৯৮১ খ্রিস্টাব্দের ৩ জুলাই ডবলিউ. বি. পাওয়ার সাহেব ত্রিপুরা রাজ্যের প্রথম পলিটিক্যাল এজেন্ট নিযুক্ত হন।  ২) বিচার সংক্রান্ত সংস্কার প্রাচীনকাল হতে দেওয়ানি ও ফৌজদারি সংক্রান্ত বিচারের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি মহারাজ স্বয়ং সম্পাদন করতেন। ১৮৭২ খ্রিস্টা...

বীরচন্দ্র মানিক্যের পূর্ববর্তী সময়ে ত্রিপুরার অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা সম্পর্কে আলোচনা কর।

 Discuss the social and economic condition of Tripura before the accession of Birchandra Manikya. বীরচন্দ্র মানিক্যের পূর্ববর্তী সময়ে ত্রিপুরার অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা সম্পর্কে আলোচনা কর। ভূমিকা ত্রিপুরার মাণিক্য উপাধিকারী রাজন্যবর্গের মধ্যে কেউ কেউ ছিলেন আত্মমর্যাদাজ্ঞানহীন, ক্ষমতালোভী ও ষড়যন্ত্রী। এসব ক্ষমতালোভী ও ষড়যন্ত্রীরা মুঘল ফৌজদারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে অধিক সংখ্যক হাতি, নিয়মিত উচ্চ হারে খাজনা, নজরানা ইত্যাদি দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাজত্বের সনদ লাভ করতেন। এটা ত্রিপুরার দুর্বল অর্থনীতির উপর এক বিরাট আঘাত ও স্থায়ী ক্ষতস্বরূপ ছিল। তবে এ সময়ের শুভদিক হল ত্রিপুরায় ব্রিটিশ ভারতের অনুকরণে আইন প্রণয়নের সূত্রপাত, প্রশাসনিক বিধিব্যবস্থার প্রবর্তন, অর্থনৈতিক উন্নয়নের উন্মেষ ও সামাজিক সংস্কার। Economic Condition ১) চাষাবাদ ও কৃষি ত্রিপুরার অধিবাসীদের প্রধান জীবিকা হল কৃষি। কৃষিজ উৎপাদনের মধ্যে ধান, গম, আলু, আখ, সরিষা, ডাল জাতীয় শস্য, কার্পাস, তুলো, কচু, আদা, তরমুজ ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। শিকার ও পশুপালন করেও তারা জীবিকা নির্বাহ করত। এখানকার চাষযোগ্য সমতল জমির সাথে ...