সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

বৈশিষ্ট্যযুক্ত পোস্ট

ত্রিপুরা রাজ্য কিভাবে স্বাধীন ভারতের সাথে যুক্ত হয় ?

 How did Tripura Join as a State of Independent India? ত্রিপুরা রাজ্য কিভাবে স্বাধীন ভারতের সাথে যুক্ত হয় ? ভূমিকা ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ১৭ মে ত্রিপুরার মহারাজা বীর বিক্রম কিশোর মানিক্য বাহাদুর ৩৯ বছর বয়সে পরলোক গমন করলে তার পুত্র কিরীট বিক্রম কিশোর দেববর্মন মানিক্য বাহাদুর ত্রিপুরা রাজ্য ও চাকলা রোশনাবাদের জমিদারি উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত হন। তিনি নাবালক থাকায় ভারত সরকারের পরামর্শ অনুযায়ি রাজমাতা মহারাণি কাঞ্চনপ্রভা দেবীর নেতৃত্বে রাজপ্রতিনিধি শাসন পরিষদ বা কাউন্সিল অব রিজেন্সি গঠিত হয়। মহারাণি কাঞ্চনপ্রভা দেবী এই পরিষদের প্রেসিডেন্ট এবং রাজকুমার ব্রজেন্দ্র কিশোর দেববর্মন বাহাদুর ভাইস প্রেসিডেন্ট নিযুক্ত হন। মেজর বঙ্কিম বিহারী দেববর্মন ও মন্ত্রী রাজরত্ন সত্যব্রত মুখার্জি এই পরিষদের সদস্য নিযুক্ত হন। (২) পাকিস্তানের ত্রিপুরা আক্রমনের ষড়যন্ত্র ভারত স্বাধীনতা লাভের অল্পদিনের পরেই ত্রিপুরা রাজ্য এক গভীর সঙ্কটের সম্মুখীন হয়। ত্রিপুরা সীমান্তস্থিত কুমিল্লার মুসলিম ন্যাশনাল গার্ডের উদ্যোগে ও আগরতলার কতিপয় ব্যক্তির সহযোগিতায় পাকিস্তান ত্রিপুরা আক্রমনের পরিকল্পনা করে। ত্রিপুরার রা...

যুদ্ধ কেন? class 12 bengali question answer

যুদ্ধ কেন?
class 12 bengali question answer

সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো (MCQ)  প্রশ্নমান ১
উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা সাজেশন 2023 mcq

যুদ্ধ কেন? কবিতাটি 'কাস্তে' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। class 12 bengali question answer

১. ‘যুদ্ধ কেন ?' কবিতাটি কোন্ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত ?

(ক) যুদ্ধ

(খ) কাস্তে

(গ) কবিতা

(ঘ) কোনোটিই নয়।

উত্তর: (গ) কবিতা।

২. কবি যুদ্ধকামী ব্যক্তিদের উল্লেখ করেছেন—

(ক) বীরযোদ্ধা বলে

(খ) বিশ্বাসঘাতক বলে

(গ) আততায়ী বলে

(ঘ) আহাম্মক বলে

উত্তর: (ঘ) আহাম্মক বলে ।

৩. ট্যাংকের চাকার তলায় চিড় খায়—

(ক) ভারতবর্ষ

(খ) পৃথিবী

(গ) বাংলাদেশ

(ঘ) যুদ্ধক্ষেত্র

উত্তর: (খ) পৃথিবী।

৪. কৰি বসতি করতে বলেছেন—

(ক) পাহাড়ে

(খ) সমতলে

(গ) মেরুতে

(ঘ) জঙ্গলে

উত্তর: (গ) মেরুতে।

৫. ফাটা রেকর্ডের মতো ঘুরে চলে—

(ক) ঘড়ির কাঁটা

(খ) ট্যাংকের চাকা

(গ) পৃথিবী

(ঘ) কম্পাস

উত্তর: (গ) পৃথিবী।

৬. কবির মতে, পৃথিবী অনেক—

(ক) জনবসতিপূর্ণ

(খ) বড়ো

(গ) দূষিত

(ঘ) সহনশীল

উত্তর: (খ) বড়ো।

৭. কবি জলাভূমিকে কী করতে বলেছেন ?

(ক) খেত

(খ) জঙ্গল

(গ) বাগান

(ঘ) মাঠ

উত্তর: (ঘ) মাঠ।

৮. যুদ্ধ বাধলে কীসের হাওয়াই ওড়ে ?

(ক) শবদেহের

(খ) মৃত্যুর

(গ) সন্ত্রাসের

(ঘ) অত্যাচারের

উত্তর: (খ) মৃত্যুর।

৯. কবি কীসে চড়ে নেমে পড়তে বলেছেন ?

(ক) বিমানে

(খ) রকেটে

(গ) হেলিকপ্টারে

(ঘ) প্যারাস্যুটে

উত্তর: (ঘ) প্যারাস্যুটে।

১০. কবি কিরঘিজ ও স্টেপিসে কী করার পরামর্শ দিয়েছেন ?

(ক) বীজ বোনার

(খ) বসতি গড়ার

(গ) ঘুরতে যাওয়ার

(ঘ) বাগান করার

উত্তর: (ক) বীজ বোনার

নীচের প্রশ্নগুলি এক-একটি শব্দে /পূর্ণাঙ্গ বাক্যে উত্তর দাও  প্রশ্নমান ১
HS Bengali Question and answer

১. ‘যুদ্ধ কেন ?' কবিতাটি কোন্ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত ?

উত্তর: ‘যুদ্ধ কেন?' কবিতাটি 'কাস্তে' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

২. “তবুও লড়াই করে....।”- কারা লড়াই করে ?

উত্তর: আহাম্মক লোকেরা লড়াই করে।

৩. যুদ্ধ বাঁধলে কী হয় ?

উত্তর: যুদ্ধ বাঁধলে বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর হাওয়াই উড়তে থাকে।

৪. আজকে আকাশ জুড়ে কীসের মহামারি ?

উত্তর: আজকে আকাশ জুড়ে মহাসমরের মহামারি ।

৫. ‘যুদ্ধ কেন ?' কবিতায় কবি কোন যুদ্ধের ইঙ্গিত করেছেন ?

উত্তর: ‘যুদ্ধ কেন?' কবিতায় কবি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইঙ্গিত করেছেন।

৬. "আহাম্মকের ক্রুর আকাঙ্ক্ষায় বলতে বোঝানো হয়েছে ?

উত্তর: ‘আহাম্মকের ক্রুর আকাঙ্ক্ষায় বলতে আহাম্মকদের যুদ্ধ অভিলাষ বা বাসনাকে বোঝানো হয়েছে।

৭. গানের পিন ফাটলে বেঁধে যাওয়ার ফল কী ?

উত্তরঃ গানের পিন ফাটলে বেঁধে যাওয়ার ফলে কবির গানের কথাগুলি একঘেয়ে। কারণ সেগুলি ঘুরে ঘুরে একই কথা বলে।

৮. কবি জায়গার অভাব পূরণের জন্য কী অভিমত ব্যক্ত করেছেন ?

উত্তর: কবি জায়গার অভাব পূরণের জন্য জলাভূমি, জঙ্গল ভেঙেচুরে আবাদ করতে বলেছেন।

৯. কোথায় বসতি স্থাপনের আবেদন জানিয়েছেন কবি ?

উত্তর: কবি মেরুতে বসতি স্থাপন করার আবেদন জানিয়েছেন।

১০. কবি কীভাবে জঙ্গল হাসিল করার কথা বলেছেন ?

উত্তর: কবি এখানে ভেঙেচুরে, পিয়ে জঙ্গল হাসিল করার কথা বলেছেন।

১১. কবি কোন্ অঞ্চলে বীজ বোনার পরামর্শ দিয়েছেন ?

উত্তর: কবি কিরঘিজ ও স্টেপিস অঞ্চলে বীজ বোনার পরামর্শ দিয়েছেন।

১২. বিজ্ঞানের কোন জিনিসটি কবি চান না ?

উত্তর: কবি বিজ্ঞানের তাপ অর্থাৎ, ধ্বংসকারী শক্তিকে চান না।

১৩. “এ কথা চরমতম নয়”–কোন্ কথা চরমতম নয় ?

উত্তর: মহাযুদ্ধে সাধারণ মানুষের জয় বা পরাজয়ের কথাটি চরমতম নয়।

১৪. “কেন হবে বারবার বর্বর এই অভিনয় ?” –এখানে কোন্ অভিনয়ের কথা বলা হয়েছে ?

উত্তর: এখানে পৃথিবীর বুকে ঘটে যাওয়া অমানবিক যুদ্ধরূপী অভিনয়ের কথা বলা হয়েছে।

১৫. কবি দিনেশ দাসের মতে, পৃথিবীটি কেমন ?

উত্তর: কবি দিনেশ দাসের মতে, পৃথিবী অনেক বড়ো এবং এখানে কয়েক কোটি লোকের বসবাস আছে।

নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও (20টি শব্দের মধ্যে)  প্রশ্নমান ২

১. “বিজ্ঞানের তাপ নয়, আলো তুলে ধরো।” –কবির এরূপ উক্তির কারণ কী ?

উত্তর: বিজ্ঞানের আবিষ্কারলব্ধ ফলকে মানুষ নানাভাবে অপব্যবহার করে থাকে। তখন বিজ্ঞান আর শুভকর থাকে না। বিজ্ঞানের আবিষ্কারজাত মারণাস্ত্র, বোমা, মিসাইলের বিস্ফোরণের তাপে বহু সাধারণ মানুষের অসহায় মৃত্যু ঘটে। তাই বিজ্ঞানের এই তাপ তথা ধ্বংসকারী শক্তিকে কবি চান না। তিনি চান বিজ্ঞানের কল্যাণকারী, মানবসেবার সহায়ক আলোকে। সেই আলোকেই কবি মানবতার পথে, কল্যাণসাধনের উদ্দেশ্যে তুলে ধরতে বলেছেন।

২. “বারেবারে ঘুরে ঘুরে একঘেয়ে এক কথা কয়”–কে কথা কয় ? কথাটিই বা কী ?

উত্তর: কবি দিনেশ দাস বর্ণনা করেছেন যে, যুদ্ধবাজদের তৈরি যুদ্ধের ফলে পৃথিবীর ফাটা রেকর্ডে তাঁর গানের পিন আটকে যাওয়ায় তা শুধু বারে বারে এক কথাই বলে চলেছে।

 কথাটি হল—“কেন হবে বারবার বর্বর এই অভিনয়?” অর্থাৎ, স্বার্থলোভী কিছু মানুষের ক্রুর আকাঙ্ক্ষা চরিতার্থ করার জন্য কেন বারবার একইভাবে নির্মম, নিষ্ঠুর যুদ্ধের মহড়া চলবে? কেন এই ইচ্ছাকৃত মানুষ মারার অমানবিক ও পাশবিক অভিনয়, উৎসব সংঘটিত হবে?

৩. “এ পৃথিবী বারবার চিড় খায় ট্যাংকের চাকায় ” পৃথিবীর বারবার চিড় খাওয়ার কারণ কী ?

উত্তর: কবি পৃথিবীকে মানবসভ্যতার প্রতিরূপ হিসেবে চিত্রিত করেছেন। তাঁর মতে, যুদ্ধবাজদের অপরিণামদর্শিতার কারণে যে-যুদ্ধ বাধে, তাতে মানবতার সর্বাধিক অপমান হয়; ক্ষতি হয় মানুষে-মানুষে সম্পর্ক ও বিশ্বাসের। আহাম্মকদের কুটিল লোভের ফল-পরিণামে একটা অবিশ্বাসের বাতাবরণ তৈরি হয়। তবুও যুদ্ধের ঘনঘটা এতটুকু কমে না। কবি এই ঘটমান ও অনিঃশেষ বর্বরতা এবং তার দরুন পৃথিবীর দুর্দশার প্রতীক চিত্রকে যুদ্ধের প্রতিরূপবাচক ‘ট্যাংকের চাকা'-র উল্লেখ-এর মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন।

৪. “কেন হবে বারবার বর্বর এই অভিনয় ?” –'বর্বর' বলতে কবি এখানে কী বুঝিয়েছেন ? বাক্যটির অর্থ বুঝিয়ে লেখো।

উত্তর: ‘বর্বর' শব্দের অর্থ অসভ্য, নীচ বা মূর্খ । কিন্তু এখানে 'বর্বর' শব্দটি অমানবিক বা পাশবিক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। → মানুষের কাছে মানবিকতাই কাম্য। কিন্তু মানুষ মাঝে-মধ্যেই সে-কথা ভুলে যায়। লোভের বশবর্তী হয়ে নিজেদের মধ্যে লড়াই করে, যুদ্ধ বাধায়। ফলে অনাবশ্যক মৃত্যুর মিছিল চলে। একবার নয়—বারবার, বহুবার এই একই ঘটনা ঘটতে থাকে। কবি তাই সংগত কারণেই প্রশ্ন তুলেছেন বারবার এই অমানবিক, পাশবিক তথা 'বর্বর' যুদ্ধের মহড়া, ‘অভিনয় কেন চলবে?

৫. “তবুও লড়াই করে যত আহাম্মক”— আহাম্মকেরা কী কারণে লড়াই করে ?

উত্তর: যুদ্ধবাজ আহাম্মকদের লোভের শেষ নেই। শক্তির দম্ভে তারা আরও বেশি স্থানে, আরও অধিকতর মানুষের ওপর কর্তৃত্ব করতে চায়। অকারণ অর্থ-সম্পদ বৃদ্ধি করে নিজেদের সুখ-বিলাসকে চিরস্থায়ী করতে চায়। তাদের ক্রুর আকাঙ্ক্ষার সীমাহীন পরিণাম মানুষে-মানুষে বিভেদ তৈরি করে। আর সেই বিচ্ছিন্নতার ফাটলকে পুঁজি করে তারা সমস্ত বিশ্বে নিজেদের অধিকারকে অব্যাহত রাখতে সচেষ্ট হয়। এজন্য যুদ্ধ তাদের প্রধান হাতিয়ার। আসলে নিজেদের ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের মৌরুসীপাট্টা বজায় রাখতেই তারা লড়াই করে।

৬. “এ কথা চরমতম নয়”-কোন কথা, কেন চরমতম नয় ?

উত্তর: যুদ্ধে কারও জয়ী হওয়া বা পরাজিত হওয়া কথাটি যে চরমতম নয়, তা আলোচনা প্রসঙ্গে কবি আলোচ্য অংশটির অবতারণা করেছেন। যুদ্ধ সবসময় ধ্বংসকেই ডেকে আনে। যুদ্ধের ফলে মৃত্যু হয় মানুষের। পৃথিবীতে আকাল, মহামারি দেখা দেয়। তাই কোনো শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের কাছেই যুদ্ধ বিষয়টি কাম্য নয়। কিন্তু কিছু যুদ্ধবাজ আহাম্মকেরা নিজেদের লোভের জন্য, আত্মস্বার্থের জন্য অকারণ যুদ্ধ বাধায়। সাধারণ মানুষদের সুখ-শান্তি-সমৃদ্ধির চিন্তা করে না। এই নেতিবাচক মানব প্রবৃত্তির অবসান একান্ত আবশ্যক বলে কবি মনে করেন।

৭. “আমার গানের পিন বেধে গেছে হঠাৎ ফাটলে, ” – ' গানের পিন' বলতে কী বোঝো ?

উত্তর: আগেকার দিনে গ্রামোফোনে এলপি রেকর্ড (Long Playing Record) বাজাতে গেলে একটা পিনের সাহায্য নিতে হত। সেটি কোনো কারণে আটকে গেলে গানের একই অংশ বারবার শোনা যেত। আলোচ্য কবিতায় কবির একই প্রশ্নের পুনরুক্তি, তাঁর মতে, 'গানের পিন বেধে যাওয়া-র সমতুল্য।

নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও (৪০টি শব্দের মধ্যে  প্রশ্নমান ৪
উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা বড় প্রশ্ন উত্তর 2023

১. “কেন হবে বারবার বর্বর এই অভিনয় ?”–কোন্ অভিনয়ের কথা বলা হয়েছে ? এই অভিনয়কে 'বর্বর' বলা হয়েছে কেন ?

উত্তর: কবির মতে, স্বার্থান্বেষী কিছু আহাম্মকের দখলদারি মনোভাবের জন্যে বারংবার যুদ্ধ বাধে। কিন্তু এই যুদ্ধ অনিবার্য নয়। এই যুদ্ধ তৈরি করা ইচ্ছাকৃত এবং বারেবারেই এর মহড়া চলে। এতে জয়ী ও পরাজিত—দু-পক্ষেরই ক্ষতি সাধিত হয়। তাই যে-কোনো যুদ্ধই বর্বর, অন্তঃসারহীন অভিনয় ছাড়া আর কিছু নয়। তা ছাড়া যুদ্ধের জন্য অজুহাত দর্শানোর মধ্যেও আছে ভান বা অভিনয়।

 যুদ্ধের এই অভিনয় রক্তক্ষয়ী। এই অভিনয় বহু মানুষের অকাল মৃত্যু ডেকে আনে। যুদ্ধ কখনোই অনিবার্য নয়।

স্বার্থান্বেষী কিছু আহাম্মকের কামনা-বাসনা চরিতার্থ করার জন্যেই এই যুদ্ধ, এই লড়াই-এর সৃষ্টি। যে-যুদ্ধ মানুষ ও মানবতাকে ঠান্ডা মাথায় হত্যা করে, তা অবশ্যই নীচ, অসভ্য, অমানবিক। তাই এর অভিনয় বা মহড়াকে 'বর্বর' বলা হয়েছে।

২. “বিজ্ঞানের তাপ নয়—–আলো তুলে ধরো”- কবি বিজ্ঞানের তাপ ও আলো বলতে কী বুঝিয়েছেন ? কবি কেন তাপ নয়, আলো তুলে ধরার কথা বলেছেন ?

উত্তর : কবি দিনেশ দাস তাঁর 'যুদ্ধ কেন?' কবিতায় উদ্ধৃতাংশে 'বিজ্ঞানের তাপ' বলতে বিজ্ঞানের ক্ষতিকর দিক তথা অভিশাপ এবং ‘বিজ্ঞানের আলো' বলতে বিজ্ঞানের আশীর্বাদী দিকটি বা মঙ্গলময় রূপটিকে বুঝিয়েছেন।

 দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে কবি বিশ্বব্যাপী যুদ্ধের যে আগ্রাসী মূর্তি প্রত্যক্ষ করেছেন তারই ফলস্বরূপ এই কবিতার অবতারণা। এখানে করি বিজ্ঞানের একটি বিশেষ দিকের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বিজ্ঞান নিরপেক্ষ হলেও, বিজ্ঞানের আবিষ্কারকে মানুষ অসৎ কাজে ব্যবহার করে থাকে। তখন বিজ্ঞান কল্যাণময়ী থেকে হয়ে উঠে ধ্বংসাত্মক। যার দৃষ্টান্ত হিসেবে বলা যায়—জাপানের হিরোসিমা ও নাগাসাকি। বিজ্ঞানের অত্যাধুনিক মারণাস্ত্রের কারণে বহু মানুষের অকালমৃত্যু ঘটে। তাই বিজ্ঞানের এই ধ্বংসকারী রূপকে বর্জন করে কবি বিজ্ঞানকে তুলে ধরতে চান, কল্যাণময়ী ও মানবসেবায় আলোকরূপে ব্রতী করান—বিজ্ঞানের সেই আলোই একমাত্র পারবে যুদ্ধ ও মৃত্যুর অন্ধকার থেকে পৃথিবীকে ও পৃথিবীর মানুষকে মানবতার জ্যোতির্ময় লোকে নিয়ে যেতে।

৩. “এ পৃথিবী বারবার চিড় খায় ট্যাংকের চাকায়, ” – পৃথিবীর চিড় খাওয়া বলতে কী বোঝানো হয়েছে ? অংশটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: সাম্যবাদী কবি দিনেশ দাসের 'যুদ্ধ কেন?' কবিতায় স্বার্থপর যুদ্ধবাজ রাষ্ট্রনায়কদের অপরিণামদর্শিতার ফলেই যে অকাল যুদ্ধ নেমে আসে—এ কথা জোরের সঙ্গে বলা হয়েছে। আরও জানোনো হয়েছে যে, সেইসব আহাম্মকের ক্রূর, কুটিল আকাঙ্ক্ষার পরিণামে বাস্তব পৃথিবী এবং মানুষের মধ্যেকার বিশ্বাস চিড় খায়, ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

 উদ্দিষ্ট চিত্রকল্পে যুদ্ধের বীভৎসতা এবং তার অনিবার্য ফলশ্রুতির ছবি ফুটে উঠেছে। ট্যাংক' যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত অন্যতম সামরিক যান। ট্যাংকের চাকার চাপে পৃথিবীর ত্বক বারংবার চিড় খাচ্ছে এই বর্ণনার আড়ালে আসলে জাগতিক মানবিকতা, ভ্রাতৃত্ববোধ, আস্থা, বিশ্বাস কীভাবে যুদ্ধের নৃশংসতা ও বর্বরতার আঘাতে ভেঙে পড়ছে, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। মানবতাবাদী কবি পৃথিবীর বুকে মানবিক বোধের উদবোধন দেখতে চান। যুদ্ধ-বিবাদ একই সঙ্গে মনুষ্যঘাতী এবং মনুষ্যধর্মের হস্তারক। তবুও যুদ্ধ নিয়ত ঘটে চলে, মানবিকতা ক্ষত-বিক্ষত হয়। এই সর্বদা সংঘটিত নিধনযজ্ঞ দেখে কবির বেদনা আলোচ্য প্রশ্নোদৃত পঙ্ক্তিতে মূর্ত হয়ে উঠেছে।

৪. “যুদ্ধ বাধে আর ওড়ে মৃত্যুর হাওয়াই”—যুদ্ধ বাধে কেন ? যুদ্ধের পরিণাম কী ?

উত্তর: কিছু অপরিণামদর্শী, লোভী মানুষের দখলদারি মনোভাব ও তৎপরতার কারণেই যুদ্ধ বাধে। সেইসব ‘আহাম্মক', নির্বোধেরা এত বড়ো পৃথিবীকে নিজের করায়ত্ত করতে চায়। বিবিধ স্বার্থান্বেষীদের ভোগদখলের স্বার্থ-সংঘাতের কারণেই বারংবার পৃথিবীতে যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে ওঠে।

 পৃথিবী অনেক বড়ো। এখানে যত কোটি লোক বসবাস করে, তা তাদের জন্য যথেষ্ট হয়েও অনেক পরিমাণ উদ্‌বৃত্ত থাকে। কিন্তু মানুষের লোভ সীমাহীন। তার আরও জায়গা চাই। সেই অতিরিক্ত জায়গা দখলের জন্যে মানুষ নিজেদের মধ্যে নির্বোধ, ‘আহাম্মক'-এর মতো লড়াই করে। শুরু হয় অনভিপ্রেত যুদ্ধ। এ যুদ্ধ রক্তক্ষয়ী। এ যুদ্ধে মানুষ মানুষকে মারে। ফলে দেখা যায় মৃত্যুর মিছিল। বন্দুক, বেয়নেট, মারণ বোমা, মিসাইল-বিস্ফোরণে অসংখ্য মানুষের মৃত্যুতে যেন 'মৃত্যুর হাওয়াই’ উড়তে থাকে। এ হল যুদ্ধের অবশ্যম্ভাবী ফল বা পরিণাম।

বস্তুত, 'মৃত্যুর হাওয়াই' এখানে প্রতীক চিত্র হিসেবে উপস্থিত। সমাজের ভাগ্যাকাশে অগণিত মৃত্যুরূপা হাও (হাউই)-এর সার উড়ে চলেছে এই দৃশ্যকল্পটি আসলে যুদ্ধের অনিবার্য বীভৎসতা ও মনুষ্যনিধনের মিছিলের বাস্তবতারে আমাদের সামনে তুলে ধরে। এখানেই যুদ্ধ ও মৃত্যুর হাওয়াই'—এই চিত্রকল্পটির অঙ্গাঙ্গি সংযোগ।

৫. “পৃথিবী অনেক বড়ো/জলাভূমি মাঠ করো”–কার, কোন্ কবিতার পঙ্ক্তি ? কোন্ প্রেক্ষিতে কবি কথাটি বলেছেন ? কবির এই প্রত্যাশার কারণ কী ?

উত্তরঃ পৃথিবীতে স্বার্থান্বেষী কিছু আহাম্মকের দখলদারি মনোভাবের জন্য বারংবার যুদ্ধ বাধে। যুদ্ধের প্রতি কবি ঘৃণ্য মনোভাব ব্যক্ত করেছেন। কবির মতে, পৃথিবী অনেক বড়ো। এখানে আজও অনেক জলাভূমি, বিস্তীর্ণ জঙ্গল রয়েছে যা পরিষ্কার করে আবাদ করা যেতে পারে। কবি মানুষকে যুদ্ধ, হানাহানি দাঙ্গা থেকে বিরত করে সৃষ্টিধর্মী কাজে অনুপ্রাণিত করার জন্য এই কথাটি বলেছেন।

 সুস্থ, সুন্দরভাবে বাঁচতে খোলামেলা পরিবেশ দরকার। দূষণহীন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশে মানুষ পরম শান্তিতে নিশ্বাস নিয়ে পারে। জলাশয়, খোলা মাঠ, সবুজ গাছপালায় পূর্ণ জঙ্গল মানুষকে সেই বেঁচে থাকার পরিবেশ দিতে পারে। যুদ্ধ ও তার পরিণতিতে পরিবেশ বিপন্ন হয়, মানুষ সুস্থ-সুন্দর পরিবেশে সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে পারে না। তার ওপর আহম্মকদের যুদ্ধ করার বর্বর মানসিকতা শান্তিপ্রিয় কবিকে যন্ত্রণাকাতর করে, তাঁর চরম অশান্তির কারণ হয়। কবি বারুদের গন্ধ চান না। জলের নিথর শান্তিসুখ ও মাঠের উদার, উন্মুক্ততা তাঁর কাম্য বলেই কবি এরকম প্রত্যাশা করেছেন।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

আগামী' কবিতাটি 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

আগামী Class 12 Bengali Question 2023 সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো (MCQ)  প্রশ্নমান ১ class 12 bengali mcq question answer ১. “ক্ষুদ্র আমি তুচ্ছ নই”-বক্তা কে ? (ক) বৃক্ষ শিশু (খ) বনস্পতি (গ) বটবৃক্ষ (ঘ) সদ্য অঙ্কুরিত বীজ উত্তর: (ঘ) সদ্য অঙ্কুরিত বীজ। ২. অঙ্কুরিত বীজের ক্ষুদ্র শরীরে বাজে— (ক) ঝড় (খ) বৃষ্টি (গ) ভূমিকম্প (ঘ) তুফান উত্তর: (ক) ঝড়। ৩. অঙ্কুরিত বীজের শাখায় প্রত্যাহত হবে— (ক) পত্রমর্মর (খ) মর্মরধ্বনি (গ) পাখির কূজন (ঘ) বিচিত্রধ্বনি উত্তর: (খ) মর্মরধ্বনি । ৪. অঙ্কুরিত বৃক্ষশিশু অরণ্যের বিশাল চেতনা অনুভব করে— (ক) পত্রে (খ) পুষ্পে (গ) শিকড়ে (ঘ) শাখায় উত্তর: (গ) শিকড়ে। ৫. “জানি তারা মুখরিত হবে”—কীভাবে ? (ক) নব শতকের গানে (খ) নতুন দিনের গানে (গ) নব তারণ্যের গানে (ঘ) নব জীবনের গানে উত্তর: (গ) নব অরণ্যের গানে। ৬. অঙ্কুরিত বৃক্ষশিশু নব অরণ্যের গানে মিশে যাবে— (ক) বসন্তে (খ) বর্ষায় (গ) গ্রীষ্মে (ঘ) শীতে উত্তর: (ক) বসন্তে। ৭. অঙ্কুরিত বীজ কোথায় মিশে যাবে ? (ক) অরণ্যের দলে (খ) বৃহতের দলে (গ) ক্ষুদ্রের দলে (ঘ) মহীরুহ-র দলে উত্তর: (খ) বৃহতের দলে। ৮. অঙ্কুরিত বীজ নিজেকে বলেছে— (ক) ভ...

বীরচন্দ্র মানিক্য থেকে বীরবিক্রম কিশোর মানিক্য পর্যন্ত ত্রিপুরার আধুনিকীকরণ সম্পর্কে আলোচনা কর।

 Discuss the modernization of Tripura from Birchandra Manikya to Bir Bikram Kishor Manikya. বীরচন্দ্র মানিক্য থেকে বীরবিক্রম কিশোর মানিক্য পর্যন্ত ত্রিপুরার আধুনিকীকরণ সম্পর্কে আলোচনা কর।  ত্রিপুরায় আধুনিক যুগের সূচনা হয় মহারাজ বীরচন্দ্র মানিক্যের শাসনকালে। তিনি ব্রিটিশ ভারতের শাসন পদ্ধতির অনুকরণে ত্রিপুরার শাসন ব্যবস্থার সংস্কার করেণ এবং লিখিত আইন কানুন প্রনয়নের মাধ্যমে বিচার ব্যবস্থাকে সুসংবদ্ধ ও সুসংগঠিত করেণ। মোটের উপর বীরচন্দ্রমানিক্য (১৮৬২-১৮৯৬ খ্রি:) তাঁর আমলে ত্রিপুরা রাজ্য এক নতুন রূপ লাভ করে। ১) মিউনিসিপ্যালিটি গঠন তিনি ১৮৭১ খ্রিস্টাব্দে আগরতলা মিউনিসিপ্যালিটি গঠন করেন। তবে নাগরিক জীবনের সুযোগ সুবিধা বিধানে কিংবা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা হিসাবে দীর্ঘকাল কোনো কার্যকারী ব্যবস্থা গ্রহণে আগরতলা মিউনিসিপ্যালিটি ছিল ব্যর্থ। ১৯৮১ খ্রিস্টাব্দের ৩ জুলাই ডবলিউ. বি. পাওয়ার সাহেব ত্রিপুরা রাজ্যের প্রথম পলিটিক্যাল এজেন্ট নিযুক্ত হন।  ২) বিচার সংক্রান্ত সংস্কার প্রাচীনকাল হতে দেওয়ানি ও ফৌজদারি সংক্রান্ত বিচারের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি মহারাজ স্বয়ং সম্পাদন করতেন। ১৮৭২ খ্রিস্টা...

বীরচন্দ্র মানিক্যের পূর্ববর্তী সময়ে ত্রিপুরার অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা সম্পর্কে আলোচনা কর।

 Discuss the social and economic condition of Tripura before the accession of Birchandra Manikya. বীরচন্দ্র মানিক্যের পূর্ববর্তী সময়ে ত্রিপুরার অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা সম্পর্কে আলোচনা কর। ভূমিকা ত্রিপুরার মাণিক্য উপাধিকারী রাজন্যবর্গের মধ্যে কেউ কেউ ছিলেন আত্মমর্যাদাজ্ঞানহীন, ক্ষমতালোভী ও ষড়যন্ত্রী। এসব ক্ষমতালোভী ও ষড়যন্ত্রীরা মুঘল ফৌজদারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে অধিক সংখ্যক হাতি, নিয়মিত উচ্চ হারে খাজনা, নজরানা ইত্যাদি দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাজত্বের সনদ লাভ করতেন। এটা ত্রিপুরার দুর্বল অর্থনীতির উপর এক বিরাট আঘাত ও স্থায়ী ক্ষতস্বরূপ ছিল। তবে এ সময়ের শুভদিক হল ত্রিপুরায় ব্রিটিশ ভারতের অনুকরণে আইন প্রণয়নের সূত্রপাত, প্রশাসনিক বিধিব্যবস্থার প্রবর্তন, অর্থনৈতিক উন্নয়নের উন্মেষ ও সামাজিক সংস্কার। Economic Condition ১) চাষাবাদ ও কৃষি ত্রিপুরার অধিবাসীদের প্রধান জীবিকা হল কৃষি। কৃষিজ উৎপাদনের মধ্যে ধান, গম, আলু, আখ, সরিষা, ডাল জাতীয় শস্য, কার্পাস, তুলো, কচু, আদা, তরমুজ ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। শিকার ও পশুপালন করেও তারা জীবিকা নির্বাহ করত। এখানকার চাষযোগ্য সমতল জমির সাথে ...