নারী
Class 12 bengali question answer 2023
সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো (MCQ) প্রশ্নমান ১
Class 12 Bengali Suggestion 2023
Class 12 Bengali MCQ Question Answer
১. কবির মতে, আদি পাপ করেছে—
(ক) নর
(খ) নারী
(গ) শিশু
(ঘ) ঈশ্বর
উত্তর: (ক) নর।
২. নারীর বিরহ মিলনে নর পেল—
(ক) বেদনা
(খ) কবি-প্রাণ
(গ) দুঃখ
(ঘ) কোনোটিই নয়
উত্তর: (খ) কবি-প্রাণ ।
৩. কৰি পুরুষকে সম্বোধন করেছেন—
(ক) ধার্মিক বলে
(খ) দয়ালু বলে
(গ) হৃদয়হীন বলে
(ঘ) হৃদয়বান বলে
উত্তর: (গ) হৃদয়হীন বলে ।
৪. পিতার আদেশে মাকে হত্যা করেছিলেন—
(ক) বিবস্বান
(খ) নচিকেতা
(গ) অতি
(ঘ) পরশুরাম
উত্তর: (ঘ) পরশুরাম।
৫. “তিনি নর-অবতার' 'নর-অবতার' হলেন—
(ক) বামন
(খ) নৃসিংহ
(গ) বলরাম
(ঘ) পরশুরাম
উত্তর: (ঘ) পরশুরাম।
৬. পাশ ফিরে কে শুয়ে রয়েছেন ?
(ক) নারী
(খ) পুরুষ
(গ) দেবতা
(ঘ) অর্ধনারীশ্বর
উত্তর: (ঘ) অর্ধনারীশ্বর ।
৭. কবি নারীকে ভেঙে চলে আসতে বলেছেন—
(ক) পাতাললোক
(খ) গৃহকোণ
(গ) যমপুরী
(ঘ) কোনোটিই নয়
উত্তর: (গ) যমপুরী।
৮. 'নারী' কবিতাটি প্রকাশিত হয়েছিল—
(ক) সাম্যবাদী পত্রিকায়
(খ) সর্বহারা পত্রিকায়
(গ) লাঙল পত্রিকায়
(ঘ) ধূমকেতু পত্রিকায়
উত্তর: (গ) লাঙল পত্রিকায়।
৯. ‘প্রেরণা ও শক্তিদায়িনী নারীকে কবি ভূষিত করেছেন—
(ক) শুভলক্ষ্মী অভিধায়
(খ) পুণ্যলক্ষ্মী অভিধায়
(গ) বিজয়লক্ষ্মী অভিধায়
(ঘ) হৃদয়লক্ষ্মী অভিধায়
উত্তর: (গ) বিজয়লক্ষ্মী অভিধায়।
১০. নারী বন্দি হয়ে আছে স্বর্ণ-রৌপ্য অলংকারখচিত—
(ক) যমপুরীতে
(খ) পাতালপুরীতে
(গ) নাগপুরীতে
(ঘ) যক্ষপুরীতে
উত্তর: (ঘ) যক্ষপুরীতে।
নীচের প্রশ্নগুলি এক-একটি শাব্দ / পূর্ণাঙ্গ বাক্যে উত্তর দাও প্রশ্নমান ১
HS Bengali Question and answer
১. “অর্ধেক তার আনিয়াছে নর, অর্ধেক তার নারী!”—কী অর্ধেক আনার কথা বলা হয়েছে ?
উত্তর: বিশ্বের সমস্ত সহায় ও চিরকল্যাণ দিকগুলি নারী-পুরুষের সম্মিলিত অবদান।
২. কবি কাজী নজরুল ইসলাম নারীকে কীসের লক্ষ্মী বলে প্রতিপন্ন করেছেন ?
উত্তর: কবি কাজী নজরুল ইসলাম নারীকে জ্ঞানের, গানের, শস্যের লক্ষ্মী বলে প্রতিপন্ন করেছেন।
৩. “নর পেল কবি-প্রাণ,”–নর 'কবি-প্রাণ' কীভাবে পেল ?
উত্তর: নারীর বিরহ ও মিলনের দ্বারা নর কবি-প্রাণ পেল ।
৪. পুরুষকে মানুষ করতে নারী কী দিল ?
উত্তর: পুরুষকে মানুষ করতে নারী অর্ধেক হৃদয় ঋণস্বরূপ দান করল।
৫. নর অবতার রূপে পুরুষ কী করল ?
উত্তর: নর অবতার রূপে পুরুষ পিতার আদেশে জননীকে কুঠারের আঘাতে ছিন্ন করল।
৬. “আমার চক্ষে পুরুষ-রমণী কোনো ভেদাভেদ নাই!”—“আমার' বলতে কবি এখানে কাকে বুঝিয়েছেন ?
উত্তর: ‘আমার’ বলতে কবি কাজী নজরুল ইসলাম নিজের ভাবনার কথা বুঝিয়েছেন।
৭. ভেঙে ফেলো ও শিকল !”-কোন্ শিকল ভেঙে ফেলার কথা বলা হয়েছে ?
উত্তর: নারীর হাতের রুলি, পায়ের মল, মাথার ঘোমটা-সহ সমস্ত আবরণ, যা তাকে ভীরু করেছে, সেগুলিকেই শিকল বলা হয়েছে এবং তা ভেঙে ফেলার কথা বলা হয়েছে।
৮. “সাম্যের গান গাই"-'সাম্যের গান গাই' বলতে কবি এখানে কী বোঝাতে চেয়েছেন ?
উত্তর: “সাম্যের গান গাই” অর্থাৎ প্রকৃতির শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মানবকুলের মধ্যে পুরুষ ও নারীর বৈষম্যহীনতার কথা কবি বলতে চেয়েছেন।
৯. বিশ্বের সমস্ত মহান সৃষ্টির কারিগর কারা ?
উত্তর: নারী ও পুরুষ সমভাবে বিশ্বের সমস্ত মহান সৃষ্টির কারিগর।
১০. 'নরককুণ্ড' কী ?
উত্তর: বিষ্ঠা, অগ্নি, গলিত ধাতু প্রভৃতিতে পূর্ণ নরকের বিভিন্ন গর্ত। যার মধ্যে পাপীদের চুবিয়ে রেখে শাস্তি দেওয়া হয়।
১১. “আদি-পাপ নারী নহে, ”– আদি পাপের অধিকারী কে ?
উত্তর: আদি পাপের অধিকারী—নর শয়তান।
১২. তাজমহলের ভেতরে এবং বাইরে কে কে বিরাজমান ?
উত্তর: তাজমহলের ভিতরে আছে 'মমতাজ' এবং বাইরে আছেন 'শাহজাহান'।
১৩. “যুগের ধর্ম এই ”—যুগের ধর্ম কী ?
উত্তর: যুগের ধর্ম হল অপরকে পীড়ন করলে সেই পীড়ন নিজের কাছে ফিরে আসবে।
১৪. ইতিহাসে কী লেখা আছে বলে কবি জানিয়েছেন ?
উত্তর: নর কোন যুদ্ধে কতটা রক্ত ঝরাল, তা ইতিহাসে লেখা আছে।
১৫. “সে-দিন সুদূর নয়”—কোন দিন সুদূর নয় ?
উত্তর: যেদিন ধরণি পুরুষের সঙ্গে নারীর জয়গান গাইবে, সেদিন সুদূর নয়।
১৬. 'বিজয়লক্ষ্মী নারী' পুরুষকে কী দিয়েছে ?
উত্তর: ‘বিজয়লক্ষ্মী নারী' পুরুষকে প্রেরণা ও শক্তি দিয়েছে।
নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও (20টি শব্দের মধ্যে ) প্রশ্নমান ২
HS Bengali Question and answer
১. “দিবসে দিয়াছে শক্তি-সাহস নিশীথে হয়েছে বন্ধু,” – কবির এরূপ মন্তব্যের কারণ কী ?
উত্তর: কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর 'নারী' কবিতায় সাম্যবাদের কথা বলেছেন। পুরুষশাসিত সমাজে নারী অবজ্ঞাত ও অস্বীকৃত। অথচ সামাজিক ক্রিয়াকাণ্ড লক্ষ করলে দেখা যায় যে নর অপেক্ষা নারীর ক্রিয়াশীলতা সমাজ বিকাশের ধারায় কম নয়। পুরুষ যেমন দিনের জ্বালা, তাপ, রৌদ্রদাহ সহ্য করেছে, তেমনই নারীরাও এনেছে রাত্রির শান্তি, জল, বাতাস। দিনের নারীরাই পুরুষদের শক্তি সাহস জুগিয়ে রাত্রে বধূবেশে মনে প্রশান্তি এনে দিয়েছে। পুরুষের মরুতৃষায় নারীরা মধুদান করেছে।
২. “নারীর বিরহে নারীর মিলনে, নর পেল কবি-প্ৰাণ,
যত কথা তার, হইল কবিতা, শব্দ হইল গান।” –উদ্ধৃতিটির মূল বক্তব্য পরিস্ফুট করো।
উত্তর: সমাজের ক্রিয়াকাণ্ড লক্ষ করলে দেখা যাবে, নর অপেক্ষা নারীর ক্রিয়াশীলতা সমাজবিকাশের ধারায় কম নয়। তবে শুধু কর্মক্ষেত্রেই নয়, মনোবিকাশের ক্ষেত্রে এবং সৃজনশীলতার পরিসরেও নারীর দান স্মরণীয়। নারীর বিরহ-মিলনের দ্বারাই নর কবি-প্রাণ লাভ করেছে। নারীর সমস্ত কথা হয়েছে 'কবিতা' আর শব্দ হয়েছে 'সংগীত'। সৃজনকর্মে নারীর উল্লেখ্য ভূমিকার কথাই এখানে বলা হয়েছে।
৩. “— সুধায় ক্ষুধায় মিলে
জন্ম লভিছে মহামানবের মহাশিশু তিলে তিলে।” –উদ্ধৃতাংশটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: কবি নজরুল লক্ষ করেছেন, বিশ্বে মহান যা-কিছু সৃষ্টি, যা-কিছু কল্যাণময় ও মঙ্গলকর, সেখানে শুধু একা পুরুষের নয়, নারী-পুরুষ উভয়ের ভূমিকাই বিরাজিত। নরের ক্ষুধা ও নারীর সুধা মিলিত হয়ে জন্ম নিয়েছে মহামানবের মহাশিশু। বিশ্বে যত বড়ো বড়ো জয় এবং অভিযান সাফল্য লাভ করেছে, তা সবই মাতা, ভগিনী, বধূদের ত্যাগস্বীকারের মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়েছে।
৪. “কত নারী দিল সিঁথির সিঁদুর লেখা নাই তার পাশে।” –উদ্ধৃতাংশটির মর্মার্থ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: পুরুষের কাছে নারী যেন নিছক উদ্দেশ্যসিদ্ধির সহায়ক যন্ত্রমাত্র। সাংসারিক ও সামাজিক জীবনে অকুণ্ঠ প্রেম, স্নেহ, সেবা, ভালোবাসার বিনিময়ে নারী পেয়েছে অবহেলা, আঘাত ও অসম্মান। অথচ কোনোকালে একা পুরুষের তরবারি রণক্ষেত্রে জয়লাভ করেনি। তাকে প্রেরণা দিয়েছে, শক্তিদান করেছে বিজয়লক্ষ্মী নারী, যদিও হৃদয়হীন পুরুষ তাদের অবদান অস্বীকার করেছে।
৫. “যুগের ধর্ম এই”—যুগের ধর্ম উল্লেখ করো।
উত্তর: কবি নজরুল ইসলাম 'যুগের ধর্ম' হিসেবে উল্লেখ করেছেন যে, অপরকে পীড়ন করলে সে-পীড়া নিজেকেই পেতে হবে। এখনও যদি পুরুষেরা নারীদের বন্দি করে রাখতে চায় তবে আগামী দিনে নিজেরাই এর ফল ভোগ করবে। বস্তুত, নারীকে পীড়ন করার সঙ্গে সঙ্গে নরও যে ক্লীবে পরিণত হয়, এই সত্য উপলদ্ধি করার দিন সমাগত। কবি তাই নারীর সর্বাঙ্গীণ মুক্তি কামনা করেছেন।
৬. “নরককুণ্ড বলিয়া কে তোমা, করে নারী হেয়-জ্ঞান?”-এ জিজ্ঞাসা কার ? এ বিষয়ে কবির ধারণা কী ?
উত্তর: প্রশ্নোদ্ধৃত জিজ্ঞাসাটি কবি নজরুল ইসলামের।
কবি লক্ষ করেছেন, নারীকে নরককুণ্ড রূপে লাঞ্ছিত ও অপমানিত হতে হয়। অথচ জীবনে সকল প্রকার আঘাত, বেদনা, অবমাননা সহ্য করেও নারী স্বীয় মহিমায় প্রোজ্জ্বল। নারী আপন অন্তরের সুধা প্রেম সহযোগে পার্থিব সংসারকে মধুর ও সুন্দর করে তোলে। তার সংস্পর্শে ধরার ধুলি আনন্দরেণুতে পরিণত হয়।
৭. “প্রেরণা দিয়াছে, শাস্তি দিয়াছে, বিজয়-লক্ষ্মী নারী !”—নারী পুরুষকে কীসে প্রেরণা ও শক্তি দিয়েছে ? পরিণামে নারী কী পেয়েছে, সংক্ষেপে লেখো ।
উত্তর: কোনোকালে একা পুরুষের তরবারি রণক্ষেত্রে জয়লাভ করেনি । যুদ্ধক্ষেত্রে পুরুষকে অনুপ্রেরণায় সঞ্জীবিত করেছে এবং নেপথ্যে থেকে শক্তিদান করেছে নারী।
সমাজজীবনে এবং সাংসারিক জীবনে অকুণ্ঠ প্রেম-স্নেহ-সেবা-ভালোবাসার বিনিময়ে নারী পায় অবহেলা, আঘাত ও অসম্মান। পুরুষ রণক্ষেত্রে কতটা রক্ত ঝরাল, তার কাহিনি ইতিহাসে লেখা আছে। কিন্তু কত নারী তার সিঁথির সিঁদুর এবং কত মাতা তার হৃদয় দিল উজাড় করে, কত বোন দিল তার সেবা—সেসবের কোনো কথা ইতিহাসের কোথাও লিপিবদ্ধ হয়নি। হৃদয়হীন পুরুষ তাদের অবদান স্বীকারে অক্ষম।
নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও (৪০টি শব্দের মধ্যে) প্রশ্নমান ৪
উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা বড় প্রশ্ন উত্তর 2023
১. সে-দিন সুদূর নয়—
যে-দিন ধরণি পুরুষের সাথে গাহিবে নারীরও জয়!” – সে দিন' বলতে এখানে কোন দিনের কথা বলা হয়েছে ? উদ্ধৃতাংশটির মর্মার্থ উপস্থাপন করো।
উত্তর: আলোচ্য কবিতায় কবি 'সে-দিন' বলতে বুঝিয়েছেন, যে-দিন নারী, পুরুষের সমান মর্যাদা পাবে, যে-দিন ধরণী পুরুষের সঙ্গে নারীরও জয়গান গাইবে অর্থাৎ যে-দিন ঘোমটার আড়ালে হাতে রুলি, পায়ে মলের শিকল ছিন্ন করে, দাসীর চিহ্ন ঝেড়ে ফেলে নারী বেরিয়ে আসবে যমপুরী ভেঙে পাতাল ফুঁড়ে ওঠা নাগিনির মতো। এতদিন নারী যে হাতে অমৃত বিলিয়েছে, প্রয়োজনে সে হাতে কূট বিষ বিলিয়ে দেবে। তাই কবি চেয়েছেন আজকের নারীসমাজ জোর করে চাপিয়ে দেওয়া সমস্ত বন্ধন ছিন্ন করে স্ব-মহিমায় জেগে উঠুক।
কবি কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন সাম্যবাদে বিশ্বাসী। কবি উপলব্ধি করেছেন জগৎ-কল্যাণকর মহান সৃষ্টির মূল রহস্য । কবির জীবনদর্শনে নারী পুরুষের কোনো প্রভেদ নেই। কারণ তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস- বিশ্বে যা-কিছু মহান সৃষ্টি, যা-কিছু কল্যাণময় ও মঙ্গলকর, সেখানে শুধু একা পুরুষের নয়, নারী-পুরুষ উভয়ের ভূমিকাই সমানভাবে বিরাজিত। তাই কবির কণ্ঠে উচ্চারিত হয়—
২. “সে-দিন সুদূর নয়
যে-দিন ধরণি পুরুষের সাথে গাহিবে নারীরও জয়!”
“প্রেরণা দিয়াছে, শক্তি দিয়াছে, বিজয়-লক্ষ্মী নারী।”—নারীকে 'বিজয়-লক্ষ্মী' বলা হয়েছে কেন ? নারী কীভাবে প্রেরণা দিয়েছে তা আলোচনা করে বুঝিয়ে দাও ।
উত্তরঃ নারীর অবদানের কথা ইতিহাস লিখে রাখেনি। কোন যুদ্ধে কত পুরুষ রক্ত দিল, সে-কথা লেখা থাকলেও স্ত্রীদের সিঁথির সিঁদুর মুছে ফেলার কথা, মায়ের হৃদয় উপড়ানোর কথা, বোনের সেবার কথা কেউ কোথাও লেখেনি। মা-বোন-স্ত্রীর ধৈর্য-প্রেরণা-উৎসাহই পুরুষকে অকুতোভয় হয়ে কাজ করতে সাহায্য করে। আড়ালে থেকে নারীরাই নীরবে নিভৃতে বিজয়গাথা রচনার ভিত্তি গড়ে দেয় বলে কবি নারীকে 'বিজয়-লক্ষ্মী' বলেছেন।
নারীর প্রেরণার কথা জানাতে গিয়ে কবি জানিয়েছেন, পৃথিবীর সমস্ত মহান সৃষ্টির মূলে নারীর ভূমিকা অর্ধেক। বিশ্বে যত ফুল ফোটে, যত ফল ফলে, নারীরাই তাতে রূপ, রস, মধু, গন্ধ দিয়েছে। নারীরা লক্ষ্মীস্বরূপা হয়ে পুরুষের পাশে থাকে বলেই তাদের পক্ষে কাজ করা সহজ হয়। পুরুষ দিনের জ্বালা, তপ্ত রৌদ্রতাপ আনলেও নারী রাত্রির শান্তি-সুখ, জল-হাওয়া এনেছে। নারীরাই পুরুষের জন্য মধু সরবরাহ করেছে। পুরুষ হালচাষ করে মাঠকে উর্বর করেছে আর নারীরা শস্যরোপণ করে তাকে সবুজ-শ্যামল করেছে। একইভাবে যুদ্ধকালে নারীর আত্মত্যাগ পুরুষকে বিজয়ী করে তোলে। ইতিহাসে পুরুষের জয়গাথা লেখা হলেও নারীরা আড়ালে থেকে নিজেদের সর্বস্ব দেয়। তারা স্ত্রী, মাতা, ভগিনীরূপে সব কিছু দান করে পুরুষকে ইতিহাসে প্রতিষ্ঠা দেয়। কোনোকালেই পুরুষের একার তরবারি তাকে বিজয়ী করেনি। নারীর নীরব, উচ্ছ্বাসহীন সম্মতি, ধৈর্য, সেবা পুরুষকে প্রেরণা দান করে।
৩. “সাম্যের গান গাই”–কে সাম্যের গান গাইছেন ? কোন্ পরিস্থিতি দেখে তিনি সাম্যের গান গেয়েছেন ?
উত্তর: সাম্যবাদী আদর্শে বিশ্বাসী কবি কাজী নজরুল ইসলাম সাম্যের গান গেয়েছেন।
কবি নজরুল লক্ষ করেছেন, হিন্দু ও মুসলমান উভয় সমাজেই নারী নির্মম লাঞ্ছনা, গঞ্জনা, নির্যাতন, অত্যাচার ও অবরোধপ্রথার শিকার। সাংসারিক জীবনে বা সামাজিক ক্ষেত্রে অকুণ্ঠ প্রেম-স্নেহ-সেবা-ভালোবাসার বিনিময়ে নারী পায় অবহেলা, আঘাত ও অসম্মান। অথচ পৃথিবীতে আজ পর্যন্ত যা-কিছু মহান সৃষ্টি, যা-কিছু কল্যাণকর বা মঙ্গলময়, সেখানে শুধু একা পুরুষের নয়, নারী-পুরুষ উভয়ের ভূমিকা সমানভাবে বিরাজিত । শুধু পুরুষের দ্বারা সংসার পরিচালিত হতে পারে না, নারীর জন্যই সংসার স্বর্গলোকে রূপান্তরিত হয়। কিন্তু পুরুষশাসিত সমাজে নারী অবজ্ঞাত ও অস্বীকৃত। অথচ সমাজের ক্রিয়াকাণ্ডের প্রতি লক্ষ করলে দেখা যাবে, পুরুষ অপেক্ষা নারীর ক্রিয়াশীলতা সমাজবিকাশের ধারায় কম নয়। নর ও নারীর যৌথ প্রচেষ্টাতেই সমাজ সুখকর ও সুন্দর হয়। শুধু কর্মক্ষেত্রেই নয়, মনোবিকাশের ক্ষেত্রে বা সৃজনশীলতার পরিসরেও নারীর অবদান কম নয়। কোনোকালে একা পুরুষের তরবারি রণক্ষেত্রে জয়লাভ করেনি; তাকে অনুপ্রেরণায় সঞ্জীবিত করেছে, শক্তি দান করেছে বিজয়লক্ষ্মী নারী । তাই কবি পুরুষের এই অকৃতজ্ঞতা, অনুদার মনোভাবের কঠোর সমালোচনা করে নারী-পুরুষের সমানাধিকারবাদের কথা ঘোষণা করেছেন।
৪. “পুরুষ হৃদয়-হীন”–কে, কোথায় এই মন্তব্য করেছেন ? কেন তিনি এমন মন্তব্য করেছেন ?
উত্তর: ‘বিদ্রোহী কবি’ কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর 'নারী' কবিতায় প্রশ্নোদ্ধৃত মন্তব্যটি করেছেন।
কবি নজরুল উপলব্ধি করেছেন, হিন্দু-মুসলমান উভয় সমাজেই নারী নির্মম লাঞ্ছনা, গঞ্জনা, নির্যাতন ও অত্যাচার সহ্য করে এসেছে। অসূর্যম্পশ্যা নারী বহির্জগতের সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্যুত হয়ে চিরবন্দিনির জীবনযাপন করে। পুরুষের কাছে নারী যেন নিছক উদ্দেশ্যসিদ্ধির সহায়ক যন্ত্রমাত্র। নারীরা সংসার জীবনে বা সামাজিক জীবনে অকুণ্ঠ প্রেম, স্নেহ, সেবা ও ভালোবাসা দিয়েও বিনিময়ে পায় অবহেলা, আঘাত ও অসম্মান। কবি নজরুল পুরুষের এই অকৃতজ্ঞতা ও অনুদার মনোভাবের কঠোর সমালোচনা করে নারী-পুরুষের সমানাধিকারের কথা আলোচ্য কবিতায় ঘোষণা করেছেন।
কবি লক্ষ করেছেন, বিশ্বে আজ পর্যন্ত যা-কিছু মহান সৃষ্টি, যা-কিছু কল্যাণকর তথা মঙ্গলজনক, সেখানে শুধু একা পুরুষের অবদান নয়, নারী-পুরুষ উভয়ের ভূমিকাই সমানভাবে বিরাজিত। নারী তার আপন অন্তরের সুধা-প্রেম সহযোগে পার্থিব সংসারকে মধুর ও সুন্দর করে তোলে। নারীর সংস্পর্শে ধরার ধূলি আনন্দরেণুতে পরিণত হয়। বিশ্বসৃষ্টির ধারা নারীর দ্বারাই বাহিত হয়। শুধু পুরুষের দ্বারা সংসার পরিচালিত হতে পারে না, নারীর জন্যই সংসার স্বর্গলোকে রূপান্তরিত হয়। কোনোকালে একা পুরুষের তরবারি যুদ্ধক্ষেত্রে জয়লাভ করেনি; তাকে অনুপ্রেরণায় সঞ্জীবিত করেছে বিজয়লক্ষ্মী নারী। অথচ হৃদয়হীন পুরুষ নারীর এই সমস্ত অবদানকে স্বীকার করতে চায় না। তাই সমাজসচেতন কবি নজরুল পুরুষকে আত্মকেন্দ্রিক, সংকীর্ণ, স্বার্থপর তথা হৃদয়হীন বলে উল্লেখ করেছেন।
৫. “বিশ্বে যা-কিছু মহান সৃষ্টি চির-কল্যাণকর/অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।”—কোন্ প্রসঙ্গে উক্তিটির অবতারণা করা হয়েছে ? বিশ্ব সৃষ্টি বিষয়ে নারী-পুরুষের অবদান সম্পর্কে কবির বক্তব্য লেখো।
উত্তর: সাম্যের পূজারি, 'বিদ্রোহী কবি' কাজী নজরুল ইসলাম সামাজিক বৈষম্য দূর করতে আগ্রহী। এই লক্ষ্যে তিনি প্রথমেই নারী-পুরুষের ভেদাভেদ দূর করার কথা বলেন। পুরুষশাসিত সমাজ নারীকে মর্যাদার আসন দেয়নি, অথচ কবি জানেন নারীদের সেবা-অনুপ্রেরণা শক্তি, সাহস না-পেলে পুরুষ কিছুই সম্পূর্ণ করতে পারে না। জগতের সমস্ত মহান সৃষ্টির নেপথ্যে নারীদের পরোক্ষ অথচ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কবি নারীদের সেই কাজের স্বীকৃতিদানের প্রসঙ্গে আলোচ্য কথাটি বলেছেন।
বিশ্বসৃষ্টি প্রসঙ্গে নারী-পুরুষের যুগ্ম অবদানের কথা বলতে গিয়ে কবি জানিয়েছেন— জগতের পাপ, তাপ, বেদনা, অশ্রুবারি ইত্যাদির আগমনে নারী-পুরুষের যৌথভাবে সমান অবদান আছে। এ বিশ্বে যত ফুল ফুটেছে, ফল ফলেছে সবেতেই তাদের সমান ভূমিকা। ফুলে ফলে থাকা রূপ-রস-গন্ধ-মধু সমস্তই নারীর দান। তাজমহলের বাইরে শাজাহানের উপস্থিতির সঙ্গে সঙ্গে অন্তরে মমতাজকেও উপলব্ধি করা যায়। নারীর জ্ঞান, বুদ্ধি, ধৈর্য, স্থিতি জগতে সৌন্দর্যের সঞ্চার করে। পুরুষ জাতি দিবসের জ্বালা, তাপ, রৌদ্রদাহ যেমন এনেছে, তেমনই নারীরাও এনেছে রাত্রির শান্তি, সুখ, জল, বাতাস। দিনের বেলা নারীরাই পুরুষদের শক্তি সাহস জুগিয়ে রাত্রে বধূবেশে মনে প্রশান্তি এনে দিয়েছে। পুরুষের হালবহনের সঙ্গে সঙ্গে নারীরা জল বহন করে আর সেই জল মাটির মিশ্রণে সোনালি ফসলে বিশ্বভূমি হেসে ওঠে। আর এভাবেই বিশ্ব সৃষ্টিতে নারী-পুরুষ সমান অবদান রাখে।
.png)
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন