গদ্য
কবিতা ও বিজ্ঞান
সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো (MCQ)
১. বর্তমানে ভেদবুদ্ধির অত্যন্ত প্রচলন হয়েছে—
(ক) মধ্যপ্রাচ্যে
(খ) প্রাচ্যে
(গ) পাশ্চাত্যে
(ঘ) মধ্য এশিয়ায়
উত্তর: (গ) পাশ্চাত্যে।
২. কবি সুরের শেষ সীমা থেকে বাণী আহরণ করেন—
(ক) কম্পমান
(খ) ধাবমান
(গ) ভ্রাম্যমান
(ঘ) ম্রিয়মানক
উত্তর: (ক) কম্পমান।
৩. ভারতবর্ষ জ্ঞান অন্বেষণে সর্বব্যাপী একতার দিকে অগ্রসর হচ্ছে—
(ক) বলপূর্বক
(খ) অজ্ঞাতসারে
(গ) গোপনে
(ঘ) ইচ্ছাকৃতভাবে
উত্তর: (খ) অজ্ঞাতসারে।
৪. পাশ্চাত্য দেশের জ্ঞানরাজ্যে প্রচলন হয়েছে—
(ক) রূপান্তরের
(খ) ভেদবুদ্ধির
(গ) ঐক্যবদ্ধতার
(ঘ) বিভাজনের
উত্তর: (খ) ভেদবুদ্ধির।
৫. “পাছে নিজের মন ফাঁকি দেয়।”—এই ভাবনাটি—
(ক) কবির
(খ) বৈজ্ঞানিকের
(গ) ডাক্তারের
(ঘ) প্রাবন্ধিকের
উত্তর: (খ) বৈজ্ঞানিকের।
৬. “সকল কথায় তাহাকে যেন যোগ করিয়া দিতে হয়।”—উক্তিটি করেছেন—
(ক) জগদীশচন্দ্র বসু
(খ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
(গ) অন্নদাশংকর রায়
(ঘ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর: (ক) জগদীশচন্দ্র বসু।
৭. কার সঙ্গে বৈজ্ঞানিকের সাধনার ঐক্য আছে ?
(ক) ঐতিহাসিকের
(খ) পরিবেশবিদের
(গ) দার্শনিকের
(ঘ) কবির
উত্তর: (ঘ) কবির।
৮. বহুর মধ্যে যাতে হারিয়ে না যেতে হয়, সেদিকে লক্ষ রাখছে—
(ক) ভারতবর্ষ
(খ) পাশ্চাত্য
(গ) জাপান
(ঘ) ইউরোপ
উত্তর: (ক) ভারতবর্ষ।
৯. কবির পক্ষে অসাধ্য—
(ক) আত্মাভিমান
(খ) আত্মতুষ্টি
(গ) আত্মসংবরণ
(ঘ) আত্মনাশ
উত্তর: (গ) আত্মসংবরণ।
১০. “কেবল সাধনাই চলিতে থাকে,— দর্শন পাই না।” (শূন্যস্থানে বসবে)
(ক) মুক্তির
(খ) তৃপ্তির
(গ) ঈশ্বরের
(ঘ) সিদ্ধির
উত্তর: (ঘ) সিদ্ধির।
নীচের প্রশ্নগুলি এক-একটি শব্দে/পূর্ণাঙ্গ বাক্যে উত্তর দাও
১. 'কবিতা ও বিজ্ঞান' প্রবন্ধটি কোথা থেকে সংকলিত হয়েছে ?
উত্তর: জগদীশচন্দ্র বসুর 'কবিতা ও বিজ্ঞান' প্রবন্ধটি 'অব্যক্ত' গ্রন্থের ‘বিজ্ঞানে সাহিত্য' প্রবন্ধ থেকে সংকলিত হয়েছে।
২. জ্ঞানসাধনার ক্ষেত্রে ভারতবর্ষ কোন্ দিকে সর্বদা লক্ষ রেখেছে ?
উত্তর: জ্ঞানসাধনার ক্ষেত্রে বহুর মধ্যে যাতে হারিয়ে না যায়, ভারতবর্ষ সেদিকে সর্বদা দৃষ্টি রেখেছে।
৩. “তাহাকেই তিনি রূপের মধ্যে প্রকাশ করার চেষ্টা করেন।”-কে, কাকে রূপের মধ্যে প্রকাশ করার চেষ্টা করেন ?
উত্তর: কবি তাঁর অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে প্রত্যক্ষ করা অরপকে রূপের মধ্যে প্রকাশ করার চেষ্টা করেন।
৪. কার পন্থা স্বতন্ত্র হতে পারে বলে লেখকের ধারণা ?
উত্তর: বৈজ্ঞানিকের পন্থা স্বতন্ত্র হতে পারে বলে লেখকের ধারণা।
৫. কবিত্ব সাধনার সঙ্গে কার সাধনার ঐক্য রয়েছে ?
উত্তর: কবিত্ব সাধনার সঙ্গে বৈজ্ঞানিকের সাধনার ঐক্য রয়েছে।
৬. কোথা থেকে বৈজ্ঞানিক কম্পমান বাণী আহরণ করে আনেন ?
উত্তরঃ শ্রুতির শক্তি যেখানে সুরের শেষ সীমায় পৌঁছোয়, সেখান থেকে বৈজ্ঞানিক কম্পমান বাণী আহরণ করে আনেন।
৭. কীসের সন্ধানে বৈজ্ঞানিক ও কবির অনুভূতি বেরিয়েছে ?
উত্তর: বৈজ্ঞানিক ও কবি উভয়ের অনুভূতি অনির্বচনীয় একের সন্ধানে বেরিয়েছে।
৮. “পাছে নিজের মন নিজেকে ফাঁকি দেয়।” লেখকের মতে এই ভাবনাটি কার ?
উত্তর: এই ভাবনাটি ‘কবিতা ও বিজ্ঞান' প্রবন্ধের লেখক আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু সহ বিশ্বের সমস্ত বৈজ্ঞানিকদের ।
৯. “বলিয়া উঠেন 'যেন' নহে এই সেই”–কে বলে ওঠেন ?
উত্তর: এই কথাটি আলোচ্য প্রবন্ধের লেখক তথা বিশ্বের সমস্ত বৈজ্ঞানিক বলে ওঠেন।
১০. “তাহা হইলে সত্যের পূর্ণ মূর্তি প্রত্যক্ষ করা ঘটিয়া উঠে না ; ”—কীসের ফলে এরূপ অবস্থার সৃষ্টি হয় ?
উত্তর: জ্ঞানসাধনার ক্ষেত্রে জাতিভেদ প্রথাকে যদি শেষ পর্যন্ত অনুসরণ করা হয়, তাহলে সত্যের পূর্ণ মূর্তি প্রত্যক্ষ করা সম্ভব হবে না।
১১. জ্ঞান অন্বেষণের সঙ্গে আমরা কোন্ ব্যাপারে উৎসুক হয়েছি ?
উত্তরঃ জ্ঞান অন্বেষণের সঙ্গে আমরা নিজেদের এক বৃহৎ পরিচয় জানার ব্যাপারে উৎসুক হয়েছি।
১২. “সেখানেও তাঁহার ভাবের দৃষ্টি অবরুদ্ধ হয় না।” –কোথায়, কার ভাবের দৃষ্টি অবরুদ্ধ হয় না ?
উত্তর: অন্যের দেখা যেখানে ফুরিয়ে যায়, সেখানেও কবির ভাবের দৃষ্টি অবরুদ্ধ হয় না।
১৩. বৈজ্ঞানিককে সর্বদা কী ভাবতে হয় ?
উত্তর: বৈজ্ঞানিককে সর্বদা এই কথা ভাবতে হয়, যেন তাঁর নিজের মন তাঁকে ফাঁকি না দেয় ।
নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও (20টি শব্দের মধ্যে) প্রশ্নমান ২
১. কবি ও বৈজ্ঞানিকের মধ্যে পার্থক্যটুকু কী বলে লেখক মনে করেন ?
উত্তর: বিজ্ঞানাচার্য জগদীশচন্দ্র বসু মনে করেন, বৈজ্ঞানিক ও কবি উভয়েই মধ্যে সামান্য একটি পার্থক্য আছে। আর পার্থক্যটি হল—কবি পথের কথা ভাবেন না, আর বৈজ্ঞানিক পথকে উপেক্ষা করতে পারেন না। কবির পক্ষে আত্মসংবরণ করা অসাধ্য, কারণ তাঁকে সবসময় আত্মহারা হতে হয়। তাকে উপমার ভাষা ব্যবহার করতে হয়—সব কথায় তাঁকে যেন যোগ করে দিতে হয়। আর বৈজ্ঞানিকের পথ একান্ত বন্ধুর। তাঁকে পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষণের কঠোর পথে আত্মসংবরণ করে চলতে হয়। সবসময় মনের কথাকে বাইরের সঙ্গে মিলিয়ে চলতে হয়।
২. “জ্ঞান অন্বেষণে আমরা অজ্ঞাতসারে এক সর্বব্যাপী একতার দিকে অগ্রসর হইতেছি।”-পাশ্চাত্য দেশের সঙ্গে ভারতের জ্ঞান অন্বেষণের পদ্ধতিগত পার্থক্য কী ?
উত্তর: পাশ্চাত্য দেশের জ্ঞানরাজ্যে ভেদ-বুদ্ধির প্রচলনের ফলে সেখানে জ্ঞানের শাখা-প্রশাখার বিস্তার ঘটেছে। তারা আলাদাভাবে সত্যের প্রতিমূর্তির সন্ধান করে। কিন্তু বিচ্ছিন্ন সন্ধানের কারণে তাঁরা কেবল সাধনা চালিয়ে যায়, সিদ্ধি পায় না। অন্যদিকে ভারতবর্ষ তথা প্রাচ্য ঐক্য সাধনাকে বহুর মধ্যে হারাতে দেয় না। আবহমান কাল ধরে চলে আসা এই সাধনায় ভারতবাসী সহজেই দেখতে পায়। এক কথায় বলা যায়, পাশ্চাত্য পদ্ধতি হল বহুর মধ্যে একের সাধনা আর প্রাচ্যের পদ্ধতি হল একের মধ্যে বহুকে উপলব্ধি করা।
৩. “কিন্তু শেষ পর্যন্ত যদি কেবল এই প্রথাকেই অনুসরণ করি, তাহা হইলে সত্যের পূর্ণ মূর্তি প্রত্যক্ষ করা ঘটিয়া উঠে না”-কোন্ প্রথার অনুসরণের কথা বলা হয়েছে ?
উত্তর: বিজ্ঞানাচার্য জগদীশচন্দ্র বসু জানিয়েছেন, পাশ্চাত্য-দেশের জ্ঞানরাজ্যে বর্তমানে ভেদবুদ্ধির অত্যন্ত প্রচলন হয়েছে। সেখানে জ্ঞানের প্রত্যেক শাখা-প্রশাখা নিজেকে আলাদা রাখার জন্যই বিশেষ আয়োজন করেছে। এর ফলে নিজেকে এক করে জানবার চেষ্টা এখন লুপ্তপ্রায় হয়েছে। জ্ঞানসাধনার প্রথম দিকে এরকম জাতিভেদ প্রথায় উপকার হয় । তাতে উপকরণ সংগ্রহ করা এবং সেগুলো সাজানোর সুবিধা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যদি কেবল এই প্রথাকেই অনুসরণ করা হয়, তাহলে সত্যের পূর্ণ মূর্তি প্রত্যক্ষ করা যাবে না। কেবল সাধনাই চলতে থাকবে। সিদ্ধির দর্শন পাওয়া যাবে না ।
৪. “ভারতবর্ষ সেইদিকে সর্বদা লক্ষ রাখিয়াছে।” –ভারতবর্ষ কোন্ দিকে লক্ষ রেখেছে ? এর ফলস্বরূপ কী হয়েছে ?
উত্তর: জ্ঞান-অন্বেষণে যাতে বহুর মধ্যে হারিয়ে না যায়, ভারতবর্ষ সেদিকে সর্বদা লক্ষ রেখেছে।
জ্ঞান-অন্বেষণে ভারতবাসীরা অজ্ঞাতসারে এক সর্বব্যাপী একতার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সেই সঙ্গে আমরা নিজেদের এক বৃহৎ পরিচয় জানার জন্য উৎসাহী হয়েছি। ফলে আমরা কী চাইছি, কী ভাবছি বা কী পরীক্ষা করছি, তা এক স্থানে দেখলেই প্রকৃতরূপে দেখতে পাওয়া যাবে।
৫. “প্রভেদ এই,” –কাদের প্রভেদের কথা বলা হয়েছে ? প্রভেদটি কী ?
উত্তর: কবি ও বৈজ্ঞানিকের মধ্যে প্রভেদের কথা বলা হয়েছে।
কবি ও বৈজ্ঞানিক উভয়েরই অনুভূতি অনির্বচনীয় একের সন্ধানে বেরিয়েছে। কিন্তু দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য হল— কবি পথের কথা ভাবেন না আর বৈজ্ঞানিক পথটিকে উপেক্ষা করেন না। কবিকে সর্বদা আত্মহারা হতে হয়, আত্মসংবরণ করা তাঁর পক্ষে অসাধ্য। অন্যদিকে বৈজ্ঞানিক একান্ত বন্ধুর ও পর্যবেক্ষণ-পরীক্ষণের কঠোর পথে অগ্রসর হন বলে তাঁকে সর্বদা আত্মসংবরণ করে চলতে হয়।
নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও (৪০টি শব্দের মধ্যে) প্রশ্নমান ৪
১. আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু তাঁর 'কবিতা ও বিজ্ঞান' প্রবন্ধে যে-বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্ত উপস্থিত করেছেন, তার মূল বক্তব্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: জ্ঞান অন্বেষণের ক্ষেত্রে পাশ্চাত্য দেশে এবং ভারতবর্ষে নিজ নিজ পদ্ধতির অনুসরণ লক্ষ করা যায়। পাশ্চাত্য দেশের জ্ঞানরাজ্যে বর্তমানে ভেদবুদ্ধির অত্যন্ত প্রচলন হয়েছে। সেখানে বিজ্ঞানের প্রত্যেক শাখা-প্রশাখা নিজেকে আলাদা রাখার জন্যই বিশেষ আয়োজন করেছে। ফলে নিজেকে এক করে জানার চেষ্টা এখন প্রায় লোপ পেয়েছে। অন্যদিকে অনেকের মধ্যে যাতে হারিয়ে না-যায়, ভারতবর্ষ সেদিকে সর্বদা লক্ষ রেখেছে। ফলত, জ্ঞান-অন্বেষণে আমরা অজ্ঞাতসারেই এক সর্বব্যাপী একতার দিকে অগ্রসর হচ্ছি।
কবি এবং বৈজ্ঞানিক দুজন দু-ভাবে বিশ্বজগৎকে দর্শন করেন। কবি তাঁর অন্তরের দৃষ্টি দিয়ে বিশ্বজগৎ থেকে যে-অরূপকে দেখেন, তাকেই তিনি রূপের মাধ্যমে প্রকাশ করতে চেষ্টা করেন। অন্যের দেখা যেখানে শেষ হয়ে যায়, সেখানেও তাঁর ভাবের দৃষ্টি অবরুদ্ধ হয় না। সেই দৃষ্টি সঞ্জাত অপরূপ বার্তা কবির কাব্যের ছন্দে নানা আভাসে বেঞ্জে উঠতে থাকে।
বৈজ্ঞানিকের ও কবির পথ আলাদা হতে পারে, কিছু কবিত্বসাধনার সঙ্গে তাঁর সাধনার ঐক্য আছে। তবে বৈজ্ঞানিককে যে-পথ অনুসরণ করতে হয়, তা একান্ত বন্ধুর, পর্যবেক্ষণলব্ধ ও পরীক্ষণের কঠোর পথ। সেই অর্থে তাঁকে সর্বদা আত্ম সংবরণ করে চলতে হয়। কিন্তু কবিকে সর্বদা আত্মহারা হতে হয়, আত্মসংবরণ করা তাঁর পক্ষে অসাধ্য। এভাবেই লেখক জগদীশচন্দ্র বসু কবি ও বৈজ্ঞানিকের মধ্যে অনুভূতি এবং তার প্রকাশের যে-পার্থক্য লক্ষ করেছেন, তাকেই তাঁর ‘কবিতা ও বিজ্ঞান' প্রবন্ধে প্রকাশ করেছেন।
২. জ্ঞান অন্বেষণের ক্ষেত্রে পাশ্চাত্য ও ভারতবর্ষের মধ্যে লেখক কী পার্থক্য লক্ষ করেছেন, তা 'কবিতা ও বিজ্ঞান' প্রবন্ধ অনুসারে লেখো।
উত্তর: জ্ঞান-অন্বেষণের ক্ষেত্রে জগদীশচন্দ্র বসু পাশ্চাত্য দেশে লক্ষ করেছেন যে, সেখানে বর্তমানে ভেদবুদ্ধির অত্যন্ত প্রচলন হয়েছে। সেখানে জ্ঞানের প্রতিটি শাখা-প্রশাখা নিজেকে আলাদা রাখার জন্যই বিশেষ আয়োজন করেছে। তার ফলে, সেখানে নিজেকে এক করে জানবার চেষ্টা লুপ্তপ্রায় হয়েছে। জ্ঞানসাধনার প্রথম দিকে এরূপ জাতিভেদ প্রথা উপকার করে। তাতে উপকরণ সংগ্রহ করা এবং সেগুলি সজ্জিত করার কাজে সুবিধা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যদি কেবল এই প্রথাকেই অনুসরণ করা হয়, তাহলে সত্যের পূর্ণ মূর্তি প্রত্যক্ষ করা যায় না—কেবল সাধনাই চলতে থাকে, সিদ্ধির দর্শন পাওয়া যায় না।
অন্যদিকে, বহুর মধ্যে যাতে হারিয়ে না যায়, ভারতবর্ষ সেই দিকে সর্বদা লক্ষ রেখেছে। সেই চিরকালের সাধনার ফলে, আমরা সহজেই বহুর মধ্যে এককে দেখতে পাই। আমাদের মনে সে সম্পর্কে কোনো প্রবল বাধা সৃষ্টি হয় না। ফলে জ্ঞান অন্বেষণে আমরা অজ্ঞাতসারে এক সর্বব্যাপী একতার দিকে অগ্রসর হই। এরই সঙ্গে আমরা নিজেদের এক বৃহৎ পরিচয় জানার জন্য উৎসুক হয়েছি। ফলে, আমরা কী চাইছি, কী ভাবছি, কী পরীক্ষা করছি, তা এক স্থানে দেখলেই প্রকৃতরূপে দেখতে পাব। লেখক জগদীশচন্দ্র বসু এভাবেই জ্ঞান অন্বেষণের ব্যাপারে পাশ্চাত্য দেশ ও ভারতবর্ষীয় রীতি-পদ্ধতির পার্থক্য আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন।
৩. “প্রভেদ এই,”–কাদের মধ্যে প্রভেদের কথা বলা হয়েছে ? প্রাবন্ধিক তাঁদের মধ্যে কী ‘প্রভেদ লক্ষ করেছেন, তা সংক্ষেপে লেখো।
উত্তর: ‘কবিতা ও বিজ্ঞান' প্রবন্ধের প্রশ্নোবৃত অংশে কবি ও বৈজ্ঞানিকের মধ্যে প্রভেদের কথা বলা হয়েছে।
কবি ও বৈজ্ঞানিক উভয়েরই অনুভূতি অনির্বচনীয় একের সন্ধানে বের হয়েছে। কিন্তু উভয়ের মধ্যে পার্থক্য হল—কবি পথের কথা ভাবেন না আর বৈজ্ঞানিক পথকে উপেক্ষা করেন না। কবিকে সবসময় আত্মহারা হতে হয়, আত্মসংবরণ করা তাঁর পক্ষে অসাধ্য। কারণ কবির কবিত্ব নিজের আবেগের ভেতর থেকে প্রমাণ বের করতে পারে না। তাই তাঁকে উপমার ভাষা ব্যবহার করতে হয়।
অপরপক্ষে বৈজ্ঞানিককে যে-পথ অনুসরণ করতে হয়, তা পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষণের কঠোর পথ। সেই পথে তাঁকে সর্বদা আত্মসংবরণ করে চলতে হয়। সবসময় তাঁর ভাবনা— পাছে তাঁর নিজের মন নিজেকে ফাঁকি দেয়। এজন্য তাঁকে পদে পদে মনের কথাটা বাইরের সঙ্গে মিলিয়ে চলতে হয়। যদি কখনও দু-দিকের কথা না-মেলে, তাহলে তিনি একদিকের কথা কোনোমতেই গ্রহণ করতে পারেন না। সেই কারণেই তাঁর পথ নিশ্চিতের পথ। কিন্তু বৈজ্ঞানিকের চোখের আবরণ হঠাৎ অপসারিত হয়ে এক অচিন্তনীয় রাজ্যের দৃশ্য যখন তাঁকে অভিভূত করে, তখন মুহূর্তের জন্য তিনিও স্বাভাবিক আত্মসংবরণ করতে ভুলে যান।
৪. ইহার নানা মহল, ইহার দ্বার অসংখ্য।” –কার নানা মহল ও অসংখ্য দ্বার রয়েছে ? উক্তিটির তাৎপর্য কী সংক্ষেপে লেখো।
উত্তর: প্রকৃতির রহস্য নিকেতনের নানা মহল ও অসংখ্য দ্বার রয়েছে।
লেখক স্পষ্টভাবেই বলেছেন, প্রকৃতির রহস্য নিকেতনের মধ্যে রয়েছে নানা মহল ও অসংখ্য দ্বার। প্রকৃতি-বিজ্ঞানবিদ, রসায়নবিদ, জীবতত্ত্ববিদ ভিন্ন ভিন্ন দ্বার দিয়ে এর এক এক মহলে প্রবেশ করেছেন এবং মনে করেছেন সেইসব মহলই বুঝি তাঁর বিশেষ স্থান এবং অন্য মহলে বুঝি তাঁর গতিবিধি নেই। তাই জড়কে, উদ্ভিদকে, সচেতনকে তাঁরা অলঙ্ঘ্যভাবে বিভক্ত করেছেন। কিন্তু কেবলমাত্র এই বিভাগকে দেখাই যে বৈজ্ঞানিকের দেখা নয়, এ কথা জগদীশচন্দ্র স্পষ্টভাবেই বলেছেন।
তাঁর ধারণা, কক্ষে সুবিধার জন্য যত দেয়ালই তোলা হোক না কেন, সকল মহলেরই অধিষ্ঠাতা এক। সকল বিজ্ঞানই পরিশেষে এক সত্যকে আবিষ্কার করবে বলে ভিন্ন ভিন্ন পথ দিয়ে যাত্রা করেছে। সকল পথই যেখানে একত্রে মিলেছে, সেইখানেই পূর্ণ সত্য বিরাজমান। সত্য নিজের মধ্যে অসংখ্য বিরোধ ঘটিয়ে খণ্ড খণ্ড হয়ে অবস্থিত নয়। আর তাই প্রতিদিনই দেখা যায়, জীবতত্ত্ব, রসায়নতত্ত্ব, প্রকৃতিতত্ত্ব নিজ নিজ সীমা হারিয়ে ফেলছে।
.png)
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন