প্রিভিপার্স কী ? কেন ভারত সরকার এটি বিলোপ সাধন করেছে ?
উত্তরঃ স্বাধীনতার সময়ে অনেক দেশীয় রাজন্যশাসিত রাজ্য ভারতের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল। ভারত সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, রাজারা নির্দিষ্ট পরিমাণ ব্যক্তিগত সম্পত্তি নিজেদের অধিকারে রাখতে পারবে এবং অতিরিক্ত সম্পত্তি সরকার অধিগ্রহণ করবে। বিনিময়ে সরকার তাদের পরিবারকে বংশানুক্রমিকভাবে অনুদান বা সরকারি ভাতা প্রদান করবে। এই অনুদান সংযুক্ত রাজ্যের আকার ও রাজস্ব পরিমাণের ওপর নির্ভর করবে। সরকার কর্তৃক প্রদেয় এই সুযোগ-সুবিধাকে বলা হয় রাজন্যভাতা বা প্রিভিপার্স।
প্রিডিপার্স বিলোপের কারণ :
[i] ন্যায়ের পরিপন্থী : ভারতীয় সংবিধানের প্রস্তাবনায় এবং সংবিধানের অন্যান্য অংশে অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচারের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু রাজন্যভাতা প্রদান এই সকল ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।
[ii] সাম্যের বিরোধী : সংবিধানের 14 নং ধারায় সাম্যের নীতি রয়েছে। বলা হয়েছে আইনের দৃষ্টিতে সকলেই সমান এবং আইন কর্তৃক সকলে সমান সুযোগ পাবে। কিন্তু রাজপরিবারের প্রতি বিশেষ সুবিধা সাম্যের নীতির বিরোধী।
[iii] অগণতান্ত্রিক : ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশ। এদেশে বংশানুক্রমিক কোনো পদ নেই যা কামাও নয়। সাধারণতান্ত্রিক দেশে রাষ্ট্রপতি জনগণের পরোক্ষ ভোটে নির্বাচিত, তাই দেশীয় রাজাদের বংশানুক্রমিকভাবে ‘ভাতা' গণতন্ত্র সম্মত নয়।
[iv] সংবিধান বিরোধী : রাজন্যশাসিত রাজ্যগুলিকে ভারতের সঙ্গে সংযুক্তিকরণের সময় ভাতা প্রদানের বিষয়টি সমালোচিত হয়নি। কারণ রাজ্য সংযুক্তি ও ভারতের সংহতিকরণই ছিল মূল লক্ষ্য। তবে সংযুক্তিকরণের বিনিময়ে ভাতা প্রদান ছিল সংবিধান বিরোধী। তাই ইন্দিরা গান্ধি 1971 খ্রিস্টাব্দে নির্বাচনে জয়লাভ করে এই বিশেষ ভাতা বন্ধ করার জন্য সংবিধান সংশোধন করেন।
সংবিধানের 26তম সংশোধনীতে 291 ও 362 নং ধারা দুটি বাতিল করে নতুনভাবে 363(ক) ধারাটি যুক্ত করা হয়। শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধি একজন নারী প্রধানমন্ত্রী হয়েও এই কঠিন কাজটির সমাধানে তিনি অগ্রণী ভূমিকা নেন।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন