জম্মু ও কাশ্মীরের অভ্যন্তরীণ বিভাজন থেকে কীভাবে বহুমুখী আঞ্চলিক দাবি উত্থাপন হতে পারে তা ব্যাখ্যা করো।
জম্মু ও কাশ্মীরের অভ্যন্তরীণ বিভাজন থেকে কীভাবে বহুমুখী আঞ্চলিক দাবি উত্থাপন হতে পারে তা ব্যাখ্যা করো।
উত্তরঃ তিনটি রাজনৈতিক অঞ্চল নিয়ে জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্য গঠিত। ওই তিনটি অঞ্চল হল— 1 জম্মু, 2 কাশ্মীর এবং 3 লাদাখ।
হিমালয়ের পাদদেশে কিছুটা সমতলভূমি ও কিছু পাহাড়ি অঞ্চল নিয়ে জম্মুর ভৌগোলিক অবস্থান। এখানে প্রধানত হিন্দু, মুসলিম ও শিখ সম্প্রদায়ের বসবাস। কাশ্মীরের সংখ্যাগরিষ্ঠ অধিবাসী মুসলিম ধর্মাবলম্বী। স্বল্পসংখ্যক হিন্দু ধর্মাবলম্বীরাও এখানে বসবাস করে। এদের সকলের ভাষা হল কাশ্মীরি।
লাদাখের জনসংখ্যা খুব কম। এর অধিকাংশ অঞ্চল জুড়ে রয়েছে পাহাড়। অধিবাসীদের মধ্যে প্রায় সমান সংখ্যক বৌদ্ধ এবং মুসলিম ধর্মাবলম্বী রয়েছে। এবং তাদের সংস্কৃতি মূলত তিব্বতি। জম্মু ও কাশ্মীরের তিনটি রাজনৈতিক অঞ্চলের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের আঞ্চলিক প্রত্যাশা গড়ে উঠতে পারে। যেমন—
[i] কাশ্মীর রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা, ভারত ও পাকিস্তান থেকে মুক্ত হয়ে।
[ii] অন্য একটি গোষ্ঠী কাশ্মীরকে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করতে চায়।
[iii] তৃতীয় একটি প্রবণতা ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্তি।
[iv] কাশ্মীরের আন্তঃরাজ্যের স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার দাবির পাশাপাশি রাষ্ট্রের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত অবস্থায় স্বায়ত্তশাসনের দাবিও ছিল তাদের।
এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য জম্মু ও কাশ্মীর সংযুক্তির শুরু থেকেই ভারতীয় সংবিধানের 370নং ধারা অনুযায়ী ওই রাজ্যকে বিশেষ মর্যাদা ও স্বাতন্ত্র্যতা প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু 2019 খ্রিস্টাব্দে 'Reorganisation Act 2019' দ্বারা জম্মু ও কাশ্মীরের ওই বিশেষ অধিকার লুপ্ত হয়। পরিবর্তে জম্মু ও কাশ্মীরকে ভাগ করে জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ নামক দুটি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল সৃষ্টি করা হয়।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন