সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

বৈশিষ্ট্যযুক্ত পোস্ট

ত্রিপুরা রাজ্য কিভাবে স্বাধীন ভারতের সাথে যুক্ত হয় ?

 How did Tripura Join as a State of Independent India? ত্রিপুরা রাজ্য কিভাবে স্বাধীন ভারতের সাথে যুক্ত হয় ? ভূমিকা ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ১৭ মে ত্রিপুরার মহারাজা বীর বিক্রম কিশোর মানিক্য বাহাদুর ৩৯ বছর বয়সে পরলোক গমন করলে তার পুত্র কিরীট বিক্রম কিশোর দেববর্মন মানিক্য বাহাদুর ত্রিপুরা রাজ্য ও চাকলা রোশনাবাদের জমিদারি উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত হন। তিনি নাবালক থাকায় ভারত সরকারের পরামর্শ অনুযায়ি রাজমাতা মহারাণি কাঞ্চনপ্রভা দেবীর নেতৃত্বে রাজপ্রতিনিধি শাসন পরিষদ বা কাউন্সিল অব রিজেন্সি গঠিত হয়। মহারাণি কাঞ্চনপ্রভা দেবী এই পরিষদের প্রেসিডেন্ট এবং রাজকুমার ব্রজেন্দ্র কিশোর দেববর্মন বাহাদুর ভাইস প্রেসিডেন্ট নিযুক্ত হন। মেজর বঙ্কিম বিহারী দেববর্মন ও মন্ত্রী রাজরত্ন সত্যব্রত মুখার্জি এই পরিষদের সদস্য নিযুক্ত হন। (২) পাকিস্তানের ত্রিপুরা আক্রমনের ষড়যন্ত্র ভারত স্বাধীনতা লাভের অল্পদিনের পরেই ত্রিপুরা রাজ্য এক গভীর সঙ্কটের সম্মুখীন হয়। ত্রিপুরা সীমান্তস্থিত কুমিল্লার মুসলিম ন্যাশনাল গার্ডের উদ্যোগে ও আগরতলার কতিপয় ব্যক্তির সহযোগিতায় পাকিস্তান ত্রিপুরা আক্রমনের পরিকল্পনা করে। ত্রিপুরার রা...

রাজনৈতিক তত্ত এর ভূমিকা, রাজনীতি বলতে কী বোঝায় ? রাজনীতির বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো ৷

রাজনৈতিক তত্ত এর ভূমিকা : Political Theory : An Introduction

রাজনীতি বলতে কী বোঝায় ?

রাজনৈতিক তত্ত্ব বিষয়টিতে আমরা কী পাঠ করি ?

রাজনৈতিক তত্ত্বের বাস্তব প্রয়োগ

কেন আমরা রাজনৈতিক তত্ত্ব পাঠ করব ?

(i) রাজনীতি বলতে কী বোঝায়?

‘রাজনীতি' কথাটি সম্পর্কে বোঝার বা জানার আগে ‘তত্ত্ব' কী? —এটা জানা আবশ্যিক। ‘তত্ত্ব' কথাটিকে এককথায় অন্তর্দৃষ্টি বলতে পারি। একটু বিশদে তত্ত্ব হল কোনো বিষয়কে স্পষ্ট ও গভীরভাবে উপলব্ধি করে ব্যাখ্যা করার মানসিক দৃষ্টিভঙ্গি। তত্ত্ব সম্পর্কে এই চিন্তাধারা যখন রাষ্ট্রীয় প্রেক্ষাপটে প্রয়োগ করা হয় তখন তাকে রাজনৈতিক তত্ত্ব বলা যেতে পারে অর্থাৎ, রাজনৈতিক তত্ত্ব হল রাজনৈতিক ক্রিয়াকর্ম বা রাজনৈতিক বিষয়াদি সম্পর্কিত ব্যাখ্যামূলক আলোচনা বা মানসিক চিন্তাধারা। সমাজবদ্ধ চিন্তাশীল মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তিই হল সমাজস্থ বিষয়াদি সম্পর্কে আলোচনা করা। সমাজের গঠনগত কাঠামো থেকে শুরু করে সরকার এবং তার প্রয়োজন ইত্যাদি সব বিষয়েই মানুষের জানার আগ্রহ অসীম। আর রাজনৈতিক তত্ত্বের কাজ মনুষ্য সমাজের যাবতীয় প্রশ্নের সঠিক ব্যাখ্যার অনুসন্ধান করা যা ভারতবর্ষের সংবিধানে স্থান করে নিয়েছে। রাজনৈতিক তত্ত্বই নির্ধারিত করে কোনো রাষ্ট্রের সংবিধান, প্রশাসন, অর্থনীতি এবং সমাজব্যবস্থার চরিত্র বা প্রকৃতি কেমন হবে। স্বাধীনতা, সাম্য, ন্যায়, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা প্রভৃতির ধারণা তৈরি হয় রাজনৈতিক তত্ত্বের মাধ্যমে। আইনের অনুশাসন, ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি, বিচার বিভাগীয় সমীক্ষা ইত্যাদির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করার কাজ রাজনৈতিক তত্ত্বের তথা রাজনীতির।

কিন্তু এখন দেখতে হবে স্বাধীনতা, সাম্য, গণতন্ত্র ইত্যাদি বিষয়- গুলির তত্ত্বের সঙ্গে ব্যাবহারিক রাজনীতিতে কতটা মিল। পরিস্থিতি বদলের ফলে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সাম্যের অস্তিত্ব থাকলেও অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে সাম্যের অস্তিত্ব প্রায় অনুপস্থিত বললেই চলে। তত্ত্বের সঙ্গে বাস্তবের ক্ষেত্রে যথেষ্ট পার্থক্য আছে। পরিস্থিতি বদলের সঙ্গে সঙ্গেও স্বাধীনতার ব্যাখ্যার বদল ঘটানো হয়েছে সংবিধানে। যদি সরকার দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে তাহলে সরকারের দ্বারা গৃহীত যাবতীয় নীতি সমাজ তথা মানবজীবনকে ধ্বংসের মুখে ফেলবে।

সুতরাং, সরকারের গৃহীত নীতির দ্বারাই আমাদের জীবন সার্বিকভাবে নিয়ন্ত্রিত। তাই আমরা সরকারের নীতি এবং কাজকর্মের প্রতি আগ্রহী হই এবং সরকারকে সমাজের স্বার্থে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাহায্যও করি। সর্বোপরি, রাজনীতি বলতে বোঝায়, সরকারের কর্মকাণ্ড এবং তা কীভাবে সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত। অন্যদিকে রাজনীতি হল সাধারণ মানুষ কীভাবে সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে।

রাজনৈতিক তত্ত্ব বিষয়টিতে আমরা কী পাঠ করি?

সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বিষয়াদি সম্পর্কে বিশদে আলোচনা বা চিন্তাভাবনাই হল রাজনৈতিক তত্ত্ব। সামগ্রিকভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সমাজকে প্রতিনিয়ত প্রভাবিত করে, পরিবর্তিতও করে। কিন্তু কীভাবে করে? এবং এতে কতটা প্রভাব বিস্তার করতে পারে? সেই প্রভাব সুদূরপ্রসারী হবে কিনা—এই বিষয়গুলিও রাজনৈতিক তত্ত্বের আলোচ্য বিষয়। শুধু তাই নয়, এর কার্যকারণ ব্যাখ্যাই তাত্ত্বিক চিন্তার উৎপত্তি ঘটায়। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে মানুষের যাবতীয় চিন্তাভাবনার ব্যাপক বিকাশ ঘটে এবং এর ফলে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করে। এই পরিবর্তন বা প্রভাবকে ব্যাখ্যা করতে নির্দিষ্ট কিছু নীতি, আদর্শ এবং মূল্য- বোধের সন্ধান পাওয়া যায়। এই নীতি, আদর্শ, মূল্যবোধই সাধারণ মানুষকে নতুন চিন্তার রসদ জোগায়। রাজনৈতিক নীতিকেও নিয়ন্ত্রণ করে। বিভিন্ন রাষ্ট্রই এই মূল্যবোধকে সংবিধানে স্থান দিয়ে যত্নসহকারে রক্ষা করে। উদাহরণ হিসেবে ভারত, ব্রিটেন, আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের কথা উল্লেখ করা যায়।

রাজনৈতিক এই চিন্তাভাবনা বা রাজনৈতিক তত্ত্ব একদিনে গড়ে ওঠে না। রাজনৈতিক তত্ত্ব দীর্ঘদিনের আলোচনা ও চিন্তা- ভাবনার ফল। যে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী এই চিন্তাভাবনা বা আলোচনার সূত্রপাত করেন, তিনি কোন্ সামাজিক প্রেক্ষাপটে অবস্থান করেন এই বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ এবং তাত্ত্বিক আলোচনাকে প্রভাবান্বিত করতে সক্ষম। এই ধরনের তার্কিক আলোচনার সূত্রপাত কৌটিল্যের সময়কাল থেকে। পরবর্তীকালে অ্যারিস্টটল, রুশো, মার্কস, মহাত্মা গান্ধি এবং বি আর আম্বেদকর সকলেই তাঁদের নিজ নিজ সামাজিক প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিয়েছেন এবং তা থেকেই তত্ত্বের জন্ম হয়েছে। খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতকে প্লেটো এবং অ্যারিস্টটল প্রথম গ্রিক দেশে গণতন্ত্র সম্পর্কে তাঁদের ভাবনা নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত ঘটান, একনায়কতন্ত্র না গণতন্ত্র কোনটি শাসনব্যবস্থার জন্য উপযুক্ত এই নিয়ে তাঁদের ছাত্রদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে গণতন্ত্র, একনায়কতন্ত্র ধারণাগুলি সম্পর্কে তাত্ত্বিক ভাবনাচিন্তা সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়। ঠিক এইভাবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক ধ্যানধারণার বদল ঘটে এবং নতুন নতুন তত্ত্বের জন্ম হয়। উদাহরণস্বরূপ, রুশো প্রথম স্বাধীনতাকে মানুষের মৌলিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য তাত্ত্বিক বিপ্লব করেন। পরবর্তীকালে সাম্যের অধিকার নিয়ে আলোচনা করেন কার্ল মার্কস। মহাত্মা গাম্বিও তাঁর গ্রন্থ হিন্দ স্বরাজ-এ স্বরাজের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনের কথা বলেন। ড. আম্বেদকর সমাজের পিছিয়ে পড়া শ্রেণি তথা তপশিলি জাতি, উপজাতিদের সমাজে অধিকার সংরক্ষণ করতে সোচ্চার হন। এই যাবতীয় তাত্ত্বিক ধ্যানধারণাগুলি যেমন— জীবনের অধিকারের ব্যাখ্যার ফলস্বরূপ, তেমনই জনশিক্ষার অধিকারকেও স্বাধীনতার অধিকারের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সমাজ বদলের সঙ্গে মানুষের জীবনযাত্রাও পরিবর্তিত হয়। তাই, যুগের সঙ্গে তাল মেলাতেই সংবিধান স্বীকৃত অধিকারগুলিকে যুগোপযোগী করতে সংশোধন করার প্রয়োজন হয়। ঠিক এইভাবেই দুনিয়া বদলের সঙ্গে সঙ্গে স্বাধীনতার ব্যাখ্যায় নতুন মাত্রা সংযোজিত হচ্ছে। কখনও স্বাধীনতায় বিপদের থাবাও পড়ছে। বিশ্বব্যাপী যোগাযোগ প্রযুক্তির সাহায্যে সমাজসেবীরা যেমন— একদিকে লুপ্তপ্রায় আদিবাসীদের সন্ধান পাচ্ছে, বিপরীত দিকে বিশ্বব্যাপী যোগাযোগ ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে পৃথিবী জুড়ে গোপনে জঙ্গি কার্যকলাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

রাজনৈতিক তত্ত্বের বাস্তব প্রয়োগ

রাজনৈতিক তত্ত্ব রাজনৈতিক ধ্যানধারণার ব্যাখ্যাকে প্রমাণ করে, বাস্তবে প্রয়োগযোগ্য করে তোলে। কোনও একটি ধারণা সম্পর্কে বিভিন্ন তাত্ত্বিকের বিভিন্ন মত নিয়ে বিতর্কের মাধ্যমে সঠিক ধারণাকে প্রতিষ্ঠিত করে তাত্ত্বিকরা তাকে বাস্তবে প্রয়োগ করেন। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে প্রয়োগের সময় পরিস্থিতির বদলহেতু নির্দিষ্ট ধারণার ব্যাখ্যাকেও বদল করতে হয়। এককথায়, তত্ত্বের অন্তর্নিহিত ব্যাখ্যাকে উপলব্ধি না করে প্রয়োগ করা সম্ভব নয়। প্রয়োগ করার পর কতটা বাস্তবসম্মত হল সে দিকেও নজর দেওয়া রাষ্ট্রতাত্ত্বিকদের কাজ। সাম্যের অধিকার কতটা প্রয়োজন? কখন এবং কাদের জন্য বিশেষ চিকিৎসা প্রয়োজন? মিড-ডে মিল ছাত্রদের স্কুলমুখী করতে কতটা সক্ষম হচ্ছে?—এই বিষয়গুলি তত্ত্বেরই বাস্তব প্রয়োগ, কিন্তু তা কতটা বাস্তবিক তা নজর রাখা বাঞ্ছনীয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক তাত্ত্বিক, সমাজবিদদের তার্কিক আলোচনার মাধ্যমেই সাম্য, স্বাধীনতা, অধিকার, ন্যায়, নাগরিকতা, ধর্মনিরপেক্ষতা প্রভৃতি বিষয়গুলি বাস্তবে প্রয়োগযোগ্য করে তোলা হয়।

কেন আমরা রাজনৈতিক তত্ত্ব পাঠ করব?

প্রতিটি মানুষই ছোটো থেকে বড়ো হওয়ার সঙ্গে পরিবার ও তার পরিবেশ থেকে নিজস্ব কিছু রাজনৈতিক ধ্যানধারণা নিয়ে বড়ো হয়। কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারণা তাদের মধ্যে সবসময় থাকে না। কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারণা তৈরি করতে রাষ্ট্রতত্ত্ব পড়া বা জানা প্রয়োজন। এ ছাড়া 18 বছর বয়স হলেই আমরা ভোটদান করি। কিন্তু সঠিক ভোট প্রদান করতে গেলে সামাজিক, রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্পষ্ট বুঝতে হবে। যারা উচ্চবিদ্যালয়ের ছাত্র তাদেরও রাজনৈতিক তত্ত্ব পাঠের প্রয়োজন। সমাজে টিকে থাকতে গেলে আমাদের নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়া প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে নাগরিকতা, সাম্য, স্বাধীনতা, মৌলিক অধিকার এই বিষয়গুলি সম্পর্কে স্পষ্ট ও সঠিক ধারণার জন্যও রাজনৈতিক তত্ত্ব পাঠের প্রয়োজন আছে।


অনুশীলনীর প্রশ্নোত্তর

1. রাজনৈতিক তত্ত্ব সম্পর্কিত নিম্নলিখিত বক্তব্যগুলির কোনটি সত্য বা মিথ্যা তা যাচাই করো।

(a) রাজনৈতিক তত্ত্ব যে-সকল ধারণা নিয়ে আলোচনা করে, যা রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের ভিত্তি গঠন করতে সাহায্য করে।

[b] এটি বিভিন্ন ধর্মসমূহের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ব্যাখ্যা করে।

[c] এটি স্বাধীনতা ও সাম্যের মতো ধারণাগুলির অর্থ ব্যাখ্যা করে।

[d] এটি রাজনৈতিক দলের কার্যকলাপ সম্পর্কে ভবিষ্যদ্‌বাণী করে।

সত্য—[a], [c]; মিথ্যা — [b], [d]।

2. রাজনীতি হল রাজনীতিবিদরা যা করে থাকেন তার চেয়ে বেশি কিছু। তুমি কি এই মন্তব্যের সঙ্গে একমত ? উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করো।

হ্যাঁ, রাজনীতিবিদরা যা করেন, রাজনীতি তার থেকে বেশি কিছু। সরকারের একটি অংশ হিসেবে রাজনীতিবিদরা রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু রাজনীতি এর ওপরে অবস্থিত। যে-কোনো সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ও অবিচ্ছেদ্য অংশ হল রাজনীতি। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়—

[i] সরকার কী করছে তার সঙ্গে রাজনীতি জড়িত, কীভাবে তারা জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করছে তা হল রাজনীতির আলোচ্য বিষয়।

[ii] কীভাবে জনগণ বা মানুষ সংগ্রাম করছে এবং সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করছে তার সঙ্গে রাজনীতি জড়িত।

[iii] মানুষ কীভাবে রাজনৈতিক কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত তার আলোচনা রাজনীতি করে থাকে। এই রাজনৈতিক কার্যকলাপ করতে গিয়ে তারা প্রত্যেকে প্রত্যেকের সঙ্গে আপসরফা করে থাকে যৌথ কার্যকলাপের ক্ষেত্রে। এই প্রত্যেকের নিজেদের মধ্যে আপসরফার বিষয়টি সামাজিক উন্নয়নকে বাস্তবায়িত করতে এবং জনগণের সাধারণ সমস্যাগুলিকে সমাধান করতে সাহায্য করে। সেগুলিও রাজনীতির আলোচনার বিষয়বস্তু।

3. একটি গণতান্ত্রিক সরকারের কার্যকলাপের সাফল্যের জন্য প্রয়োজন দেশের সচেতন নাগরিক। ব্যাখ্যা করো।

সদাজাগ্রত নাগরিকগণ অবশ্যই গণতন্ত্রের সফল চালিকাশক্তি। কারণ সচেতন নাগরিকরা গণতন্ত্রের উৎসমূলের দিকে পৌঁছাতে সাহায্য করে থাকে, যার ফলে গণতন্ত্রের ভিত্তি মজবুত হয়। এই সচেতন নাগরিকরা সাধারণ জনগণের মধ্যে তাদের অধিকার এবং সরকারের নীতিগুলি সম্পর্কে সচেতন করে থাকে ও সরকারকে বাধ্য করে নতুন নীতি নির্ধারণ করতে বা পুরোনো নীতিগুলির পরিবর্তন করে জনস্বার্থ সম্পর্কিত করে তুলতে।

4. রাজনৈতিক তত্ত্বের অধ্যয়ন আমাদের প্রত্যেকের কাছে কীভাবে উপযোগী ? এরকম চারটি উপায় বের করো যার সাহায্যে এটি প্রমাণ করা যায় যে রাজনৈতিক তত্ত্বের অধ্যয়ন আমাদের পক্ষে উপযোগী।

রাজনৈতিক তত্ত্বের অধ্যয়ন আমাদের কাছে ব্যবহারযোগ্য হতে পারে নিম্নলিখিতভাবে—

[i] আমরা যদি রাজনৈতিক তত্ত্বের অধ্যয়নকে বর্তমানে ও ভবিষ্যতে আমাদের বাহক হিসেবে পছন্দ করে থাকি তাহলে এটি আমাদের কাছে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠবে।

[ii] রাজনৈতিক তত্ত্বের অধ্যয়ন আমাদের দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে ভোটাধিকার প্রদানের সময় যুক্তিসংগত আচরণ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলিকে নিয়ে আলোচনা করতে সাহায্য করে। এটি রাজনৈতিক ধ্যানধারণার এবং আমাদের দেশের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলি সম্পর্কে ও তাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে প্রাথমিক জ্ঞানলাভ করতে সাহায্য করে। যাতে করে আমরা আমাদের স্বার্থগুলিকে সুচিন্তিতভাবে ও পরিণত মানসিকতা দিয়ে প্রকাশ করতে পারি ।

[iii] রাজনৈতিক তত্ত্বের অধ্যয়ন আমাদের রাজনৈতিক ধ্যানধারণা ও অনুভূতিগুলিকে মূল্যায়ন করতে উদ্বুদ্ধ করে থাকে। সেগুলি বা সে বিষয়গুলি যেমন—স্বাধীনতা, সাম্য ও ধর্মনিরপেক্ষতা ইত্যাদি কোনো বিমূর্ত বিষয় নয়। এগুলির বাস্তব উপযোগিতা সম্পর্কে আমাদের ধ্যানধারণাগুলিকে বাস্তবায়িত করে থাকে।

[v] রাজনৈতিক তত্ত্বের অধ্যয়ন ন্যায় বা সাম্য ইত্যাদি ধারণা- গুলির ওপর আমাদের চিন্তাভাবনাকে আরও পদ্ধতিগত করে তুলতে সাহায্য করে, যা আমাদের যে-কোনো রাজনৈতিক মতামতকে বা বক্তব্যকে সুসংবদ্ধভাবে ও আনুষ্ঠানিকভাবে পেশ করতে সাহায্য করে। তেমনি জনগণের সাধারণ স্বার্থ সম্পর্কিত বিষয়গুলিকে যুক্তিসংগতভাবে উপস্থাপনে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে।

5. তুমি কি মনে করো যে, ভালো যুক্তি অন্যদেরকে তোমার বক্তব্য শোনার জন্য বাধ্য করে ?

হ্যাঁ, একটি ভালো বক্তব্য অন্যদের বাধ্য করতে পারে কোনো একজনের বক্তব্য শুনতে। তবে সেই বক্তব্যকে হতে হবে যুক্তি- সংগত এবং নিজেকে রক্ষা করার ক্ষমতাসম্পন্ন। একটি আত্ম- রক্ষাকারী বক্তব্য অন্যান্য শ্রোতাকে বাধ্য করবে বক্তার বক্তব্য শুনতে । ভালো বক্তব্য পেশ করতে হলে সেই বক্তব্যকে হতে হবে গভীর জ্ঞানযুক্ত এবং ওই নির্দিষ্ট বিষয়ে চিন্তাশীল ভাবনাযুক্ত, একইসঙ্গে সাধারণ স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত।

6. তুমি কি মনে করো যে, রাজনৈতিক তত্ত্বের আলোচনা অঙ্কশাস্ত্রের আলোচনার সমতুল্য ? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

রাজনৈতিক তত্ত্বের অধ্যয়ন ও গণিতশাস্ত্রের অধ্যয়ন কখনোই এক হতে পারে না। গণিতশাস্ত্র উদ্দেশ্যকে অধ্যয়ন করে এবং যুক্তিসংগত ধারণা ও নীতির ওপর কাজ করে থাকে। অপরদিকে রাজনৈতিক তত্ত্ব সাধারণ মানুষকে অধ্যয়ন করে থাকে এবং যার না আছে কোনো সঠিক ধারণা ও নীতি। রাজনৈতিক তত্ত্বের ক্ষেত্রে ধারণাগুলি ও নীতিগুলি প্রসঙ্গান্তরে পরিবর্তিত হয়ে যায়। রাজনৈতিক তত্ত্বের মধ্যে আমরা সেইসব রাজনৈতিক ধারণাগুলির সঙ্গে একাত্ম ও আন্তরিক। যেমন—স্বাধীনতা, সাম্য, অধিকার, নাগরিকতা, ন্যায়, উন্নয়ন, জাতীয়তাবাদ ও ধর্মনিরপেক্ষতা ইত্যাদি যে ধারণাগুলির কোনো নির্দিষ্ট সংজ্ঞা নেই । অনেকে বিভিন্নরকমভাবে এইসব রাজনৈতিক ধারণাগুলির সংজ্ঞা, চরিত্র, প্রকৃতির বর্ণনা দিয়েছেন। কিন্তু গণিতশাস্ত্রে ত্রিভুজ বা চতুর্ভুজের ধারণার একটাই নির্দিষ্ট সংজ্ঞা পাওয়া যায়। এর কারণ হল রাজনৈতিক তত্ত্ব সমাজবিজ্ঞানের অংশ হওয়ার ফলে মানুষের মতামতও পরিবর্তিত হয়ে যায় বিভিন্ন ইস্যুতে। এখানে গণিতশাস্ত্রের উদ্দেশ্যের চেয়ে ধারণার বিভিন্ন মতামতই প্রাধান্য পেয়ে থাকে।


পাঠ্যপুস্তকের অন্তর্ভুক্ত কার্যাবলি এবং উৎসভিত্তিক প্রশ্নোত্তর
চলো চর্চা করি

1. রাজনীতি কী ?

‘রাজনীতি' শব্দটি বহু ও বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। অর্থাৎ রাজনীতির অর্থ সম্পর্কে ব্যাপক মতপার্থক্য বর্তমান। গ্রিক শব্দ ‘Polis’ থেকে ইংরেজি ‘Politics' শব্দটি এসেছে। ‘Polis’ শব্দের অর্থ হল নগর। প্রাচীন গ্রিক নগররাষ্ট্রগুলি এবং তাদের অনুসৃত নীতি, সমস্যাদি সংক্রান্ত আলোচনাকে গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটল রাজনীতির বিষয় হিসেবে গ্রহণ করেছিল। কিন্তু আকৃতি, প্রকৃতি, কার্যাবলি প্রভৃতি সবক্ষেত্রেই আধুনিক রাষ্ট্রের সঙ্গে প্রাচীন গ্রিসের নগররাষ্ট্রগুলির মৌলিক পার্থক্য লক্ষ করা যায়। এ ছাড়াও, বর্তমানে মানুষের রাজনৈতিক জীবন অত্যন্ত জটিল ও সমস্যাসংকুল। তাই প্রাচীন গ্রিক পদ্ধতিতে এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়।

বর্তমানে মানুষের জীবন ও মনুষ্য সমাজের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে রাজনীতি। এই রাজনীতিকে কেন্দ্র করেই মানুষের সামগ্রিক জীবনচক্র আবর্তিত হয়। কিন্তু রাজনীতি বলতে কী বোঝায়, তা নিয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও রাজনৈতিক সমাজতত্ত্ববিদদের মধ্যে যথেষ্ট মতপার্থক্য রয়েছে। সাধারণভাবে রাজনীতি বলতে দলীয় রাজনীতি অর্থাৎ রাজনৈতিক দলগুলির মতাদর্শগত ও ক্ষমতা দখলের লড়াই, নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের দ্বারা অনুসৃত কৌশল প্রভৃতিকে বোঝায়। কিন্তু রাজনীতি সম্পর্কে এই ধারণা শুধুমাত্র বিভ্রান্তিকরই নয়। সেইসঙ্গে সংকীর্ণতাদোষে দুষ্টও বটে। আবার কেউ কেউ মনে করেন, রাজনীতি হল অধিকতর সভ্য উপায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ। বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক গবেষকের মতে, রাজনীতিকে একটি প্রক্রিয়া বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। যার সাহায্যে গোষ্ঠীগুলি যৌথভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে সক্ষম। যাই হোক, রাজনীতির সংজ্ঞা নিয়ে মতপার্থক্য ছিল ও ভবিষ্যতেও থাকবে। সময়ের দাবির সঙ্গে সঙ্গে এর অর্থও পরিবর্তিত হয় । রাজনীতি হল এমন একটি বিষয় যার সাহায্যে একটি সমাজের মানুষের রাজনৈতিক অস্তিত্ব, বিভিন্ন ধরনের স্বার্থ, বহুবিধ রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা, মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা ইত্যাদি সবই পূরণ হয়ে থাকে।

2. এখুনি আমাকে রাজনীতি থেকে অবসর গ্রহণ করতে হবে। তোমার কার্যকলাপ তার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। সে ভাবছে তোমার মতোই মিথ্যা ও প্রতারণার মাধ্যমে পার পেয়ে যাবে।

[a] ছবিটিতে কী বোঝাচ্ছে ?

[b] রাজনীতির নেতিবাচক দিকগুলি দু-এক কথায় লেখো।

নেতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে রাজনীতি

[a] রাজনীতির নেতিবাচক দিকটিকে চিত্রায়িত করেছে কার্টুন ছবিটি ।

[b] রাজনীতির নেতিবাচক দিকগুলি হল যথাক্রমে—

[i] বেশিরভাগ রাজনৈতিক নেতারা মাঝেমধ্যেই মিথ্যা- ভাষণ পেশ করেন। এর ফলে তাঁর পরিবারের সকলে, এমনকি তাঁর পরিবারের ক্ষুদে সদস্যরাও প্রভাবান্বিত হয়ে পড়ে এই নেতিবাচক দিকটির দ্বারা।

[ii] রাজনীতিকে একটি ‘মলিন খেলা' বলে বিবেচনা করা হয়। এমনকি 'ক্ষমতার লড়াইয়ে জেতার জন্য যে- কোনো উপায়ই সঠিক (Everything is fair to win the power) এমনটিও বিবেচনা করা হয়।

3. সংবাদপত্র পাঠ করো, এর মুখ্য সংবাদগুলি কী কী ?

তোমার ক্ষেত্রে কি এগুলি প্রাসঙ্গিক ? । পাঠ্যপুস্তকের পৃষ্ঠা 4 3 জুলাই-এর একটি জনপ্রিয় দৈনিকের শিরোনামগুলি হল—

[a] 2019-এর বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে হারিয়ে শেষ চারে কোহলিরা।

[b] আর্থিকভাবে দুর্বলদের 10 শতাংশ সংরক্ষণ (প্রযোজ্য রাজ্য সরকারি চাকুরি ও শিক্ষায়)।

[c] সরকারি কর্মীকে কৈলাস-পুত্রের মার, ক্ষুদ্ধ প্রধানমন্ত্রী (নেতা—মন্ত্রী যাঁর ছেলেই হোক, দুর্ব্যাবহার মেনে নেব না: মোদি)।

[d] রেকর্ড বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত মুম্বাই, বাড়ছে মৃত্যু। আমরা জানি, খবরের কাগজে দৈনন্দিন ঘটে যাওয়া বিষয়গুলি থাকে যা আমরা সবিস্তারে জানতে পারি। এর মধ্যে সব খবরই যে সবার প্রয়োজন পড়ে তা নয়। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমার সবটুকুই জানা উচিত। তাই আমি সব পড়ি এবং বোঝার চেষ্টা করি। সব পড়লে সামগ্রিকভাবে গোটা দুনিয়া তথা আমার দেশ বা নিদেনপক্ষে আমার চারপাশে কী কী ঘটছে তা আমি জানতে পারি। এবং সেক্ষেত্রে যেগুলি আমার সত্যি প্রয়োজন সে বিষয়ে আমি সচেতন হই। আর যে বিষয়টি আমার হয়ত ঠিক তখনই প্রয়োজন নেই তবু জেনে রাখা দরকার, কারণ, আমি একজন সচেতন বাসিন্দা বা নাগরিক।

শিরোনামে যে ক্রিকেট খেলার খবরটি রয়েছে তা হয়ত আমাকে সরাসরি প্রাসঙ্গিকভাবে প্রভাবিত করছে না তবুও তা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ—বিশ্বকাপ চার বছরে একবার হয়। আমি খেলাধুলা পছন্দ করি, তাই এই খবরটি আমার কাছে আকর্ষণীয়।

দ্বিতীয় খবরটি কিন্তু আমার প্রাসঙ্গিকতাকে প্রভাবান্বিত করছে। কারণ, আমি ছাত্র কিন্তু আগামী দিনে চাকুরির জন্য যখন প্রস্তুত হব তখন এই খবরটি আমার কাছে প্রয়োজনীয় হবে।

তারপরের খবর দুটির একটি রাজনীতি সম্পর্কে। খবরটি বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের ভারপ্রাপ্ত জনৈক দলের পর্যবেক্ষক এবং তার পুত্রকে নিয়ে, যা আমাকে রাজনীতি সম্পর্কে সচেতন করে। রাজনীতির বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হই। রাজনৈতিক তত্ত্ব অধ্যায়ে রাজনীতির সংকীর্ণ ধারণার উদ্রেক কোন ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় তাও উপলব্ধি করি। সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর অবস্থান এও প্রমাণ করে রাজনীতিক সংকীর্ণ ধারণাটি সামগ্রিক ধারণা নয়, এ কেবল একটি ঘটনা বা দুর্ঘটনা। এর মাধ্যমে রাজনীতিকে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়। সুতরাং রাজনীতির সংকীর্ণ ও ব্যাপক উভয় ধারণা সম্পর্কে আমার ধারণা মজবুত হয়।

আর অন্য খবরটিও আমাদের চেনা। কারণ, প্রতি বছরই বর্ষার প্রাবল্যে মুম্বাইবাসীর এমন ভোগান্তি হয়। সেক্ষেত্রে প্রশাসনের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। কারণ, একই সমস্যা প্রতি বছরই মুম্বাইয়ের মানুষের প্রাণহানি ঘটায়।

সুতরাং নিয়মিত খবরের কাগজ পড়া এবং সেইসঙ্গে আমার জানা বিষয়গুলিকে ঝালিয়ে নেওয়া আমার দৈনন্দিন শিক্ষাকে অনেকখানি মজবুত করে। ছাত্রাবস্থায় যা জরুরি।

4. রাজনীতি কীভাবে আমাদের প্রাত্যহিক জীবনকে প্রভাবিত করে ? তোমার জীবনের যে-কোনো একটি দিনের ঘটনা বিশ্লেষণ করো।

রাজনীতি একটি প্রাত্যহিক বিষয়। সকালে চোখ খোলা থেকে শুরু করে রাতে শোয়া পর্যন্ত, আমরা রাজনীতির সঙ্গে থাকি। বা বলা যায়, রাজনীতির দ্বারা পরিচালিত হই। আমাদের জীবনের সবটুকুই রাজনীতির দ্বারা প্রভাবিত হয়।

রাজনীতি আমাদের কীভাবে প্রভাবিত করে, বলার আগে রাজনীতি সম্পর্কে দু-এক কথা বলা দরকার। রাজনীতিকে কেন্দ্র করেই আমাদের জীবন আবর্তিত হয়, এ কথা সত্য। তথাপি, রাজনীতি কথার সংক্ষেপে ব্যাখ্যা হল রাষ্ট্র সম্পর্কিত বিষয়। সুতরাং, রাষ্ট্রের আমাদের প্রতি যাবতীয় দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের বিষয়গুলি রাজনীতির সঙ্গে সম্পর্কিত। রাষ্ট্র যে অধিকারগুলি প্রদান করে এবং সুষ্ঠু শাসনব্যবস্থা পরিচালনার জন্য যে নীতিগুলি রূপায়ণ করে এর সবকিছুই সাধারণ মানুষকে প্রভাবিত করে। সুতরাং, রাষ্ট্র সংক্রান্ত বিষয় বা রাজনীতি হল রাষ্ট্রের যাবতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ সাধারণ মানুষকে প্রভাবিত করে।

সুতরাং, শিক্ষানীতি, স্বাস্থ্যনীতি, আর্থিকনীতি ইত্যাদি সম্পর্কে যাবতীয় বিষয়গুলি সর্বদাই আমাদের প্রভাবিত করে। শিক্ষার নীতি অনুযায়ী 8-14 বছর বয়সিদের বিনামূল্যে পড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যনীতি অনুযায়ী কেন্দ্রীয় যোজনা অনুযায়ী আর্থিক দিক থেকে দুর্বল শ্রেণিদের স্বাস্থ্য বিমার ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকায় সরকারি স্বাস্থ্য পরিসেবাকে শক্তিশালী করে, বিনামূল্যে ওষুধ পরিসেবার ব্যবস্থা—সবই সরকারি নীতি অনুযায়ী যা রাজনীতি সম্পর্ক এবং আমাদের জীবনকে প্রতিনিয়ত প্রভাবিত করছে। বাকি রইল অর্থের উন্নতি বা আর্থিক অবস্থাকে মজবুত করা যাতে রাষ্ট্র আর্থিক সমস্যায় প্রবেশ না করে।

সরকারি নীতিগুলি যেমন— সাধারণ মানুষগুলিকে সরাসরি প্রভাবিত করে ঠিক, তেমনই আমাদের অধিকার অনুযায়ী সরকারি নীতিগুলি রূপান্তরিত হচ্ছে কিনা সেই বিষয়টিও রাজনীতি সংক্রান্ত বিষয়। তাই আমরা বলতেই পারি রাজনীতি দ্বারা আমরা সর্বদাই প্রভাবিত এবং নিয়ন্ত্রিতও হই। সুতরাং, রাজনীতি যে-কোনো রাষ্ট্রের নাগরিকেরই প্রাত্যহিক বিষয়।

» একটি দিনের ঘটনা: বিশেষ কোনো একটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্লেষণ না করলে প্রাত্যহিক দিনটির অবস্থা আমরা বোঝাতে পারি না, রাজনীতি কীভাবে আমাদের প্রভাবিত করে। আমরা প্রাত্যহিক প্রয়োজনে যে যে দ্রব্য ব্যবহার করি মূলত সকাল থেকে দিন পর্যন্ত তার ক্রয়মূল্যের সঙ্গে বেশির ভাগ সময় সরকারকে পরোক্ষ কর প্রদান করি। এ ছাড়াও সাধারণ মানুষ তার উপার্জনের একটি অংশ সরকারকে কর হিসেব প্রদান করে। কর হিসেবে যে অর্থ রাষ্ট্রকে প্রদান করি তা রাষ্ট্রের উন্নয়নের কাজে অতিবাহিত হয়। সুতরাং, আমার প্রদেয় অর্থ দিতে আমি বাধ্য রাষ্ট্রের স্বার্থে। বিপরীত দিকে রাষ্ট্র নাগরিকের কাছ থেকে উন্নয়নের স্বার্থে অর্থগ্রহণ করে ওই খাতে ব্যয় করতে বাধ্য। এইভাবে আমি সর্বক্ষণ রাজনীতির দ্বারা প্রভাবিত। কিন্তু, বিপরীত ঘটনা ঘটলে রাষ্ট্র নাগরিকের প্রশ্নের জবাব দিতে বাধ্য। নচেৎ গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হওয়ায় ক্ষোভ সঞ্চারিত হলে সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ নির্বাচনের সময় ভোট বাক্সে পড়ে। তাই, জনগণকে সন্তুষ্ট রাখতে রাষ্ট্রও তৎপর হয়।

স্বাস্থ্যপরিসেবায় নাগরিকরা বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে চিকিৎসা করাতে পারে। স্বাস্থ্য বিষয়ে সরকারি সাহায্য পাওয়া সবই রাষ্ট্র প্রদত্ত বিষয় যা রাজনীতি সম্পর্কিত এবং আমাদের জীবনকে প্রভাবিত করে।

সরকারি শিক্ষাকেন্দ্রগুলিও রাষ্ট্র মদতপুষ্ট। স্কুল ছুট রুখতে মিড-ডে মিল প্রকল্প এবং স্বল্প খরচে বা বিনা খরচে শিক্ষা ব্যবস্থার দ্বারা আমরা উপকৃত হই যা রাজনীতি সম্পর্কিত।

সুতরাং, একটি মানুষের মৌলিক চাহিদা যোগান রাষ্ট্রকর্তৃক সম্পন্ন হয় যা রাজনীতি সম্পর্কিত বিষয়। তাই স্পষ্ট আমরা বলতে পারি যে, সর্বদাই আমরা রাজনীতি দ্বারা প্রভাবিত হই।

5. ছাত্রদের কি রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করা উচিত ?

রাজনীতি কী? এটি পাঠ্যপুস্তকে জানা যায়। রাজনীতি রাষ্ট্রবিজ্ঞান নয়, এটি সত্য। কিন্তু রাজনীতি আলোচনা করতে রাষ্ট্রকে বাদ দেওয়া যায় না। ঠিক তেমনই সমাজের প্রসঙ্গও চলে আসে। সুতরাং, পাঠ্যপুস্তক পড়লে জানা যায়, আর তাকে বাস্তবায়িত করার উপায়ই হল সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে অংশ- গ্রহণ করা। কিন্তু একজন ছাত্রের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করা উচিত কিনা সেই বিষয়টি একটি প্রশ্ন? কেউ এই বিষয়টি সমর্থন করে, আবার কেউ বিষয়টিকে সমর্থন করে না। উভয় ক্ষেত্রেই কয়েকটি যুক্তি দেখানো যেতে পারে।

» সপক্ষে যুক্তি: রাজনীতি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দেশের ভালোমন্দ, উন্নতি, প্রগতি, বিকাশ সবকিছুই রাজনীতির অংশ, যা নির্ভর করে দেশ শাসনের ওপর। দেশ শাসনের কাজটি অবশ্যই যোগ্য নেতৃত্বের ওপর নির্ভরশীল। যিনি যত বেশি যোগ্য হবেন, তিনি দেশকে ততই সঠিক দিশা দেখাতে পারবেন। এখন এই যোগ্যতার মাপকাঠি কী? সংবিধান অনুসারে যোগ্যতার একটি মাপকাঠি নিশ্চয়ই আছে। কিন্তু সেখানে সবথেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হল—শিক্ষা। যার সামগ্রিক শিক্ষা যত বেশি এবং গভীর হবে, শিক্ষালব্ধ জ্ঞান যার যত সমৃদ্ধ হবে তিনি তার জনগণের ভালোমন্দ ততটাই সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে পারবেন।

এর সপক্ষে যুক্তিগুলি হল—

[i] ছাত্ররা রাজনীতিতে বাঞ্ছনীয়। ছাত্ররা শিক্ষিত সমাজ। তাঁরাই একমাত্র রাজনীতিকে সংকীর্ণতার বেড়াজাল থেকে মুক্ত করতে পারবে।

[ii] ছাত্ররা হল সমাজের যুব সম্প্রদায়। তাদের দৃষ্টিভঙ্গি, মতামত আগামী দিনের পাথেয়।

[iii] ছাত্ররা শিক্ষিত। রাজনীতি করতে গেলে মনকে সংস্কার- মুক্ত করতে হয় এবং উদার হতে হয়। যা শিক্ষা ছাড়া সম্ভব নয়। শিক্ষাই জ্ঞানের বিকাশ ঘটায়, জ্ঞানের পরিধি বিস্তার করে, অভিজ্ঞতাকে সমৃদ্ধ করে।

সুতরাং এই দিক থেকে দেখতে গেলে একজন ছাত্রের অবশ্যই উচিত রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করা।

» বিপক্ষে যুক্তি: তবে এই বক্তব্যের বিপক্ষেও কিছু মত আছে।

[i] ছাত্ররা রাজনীতিতে আসলে তা দেশের পক্ষে ভালো। দেশ যোগ্য উত্তরসূরি পাবে। কারণ, ছাত্ররা শিক্ষিত যুবসমাজ। কিন্তু এই বক্তব্য আসলে বাস্তবায়িত হয় না। বাস্তবের চিত্রটি আসলে ভিন্ন। বাস্তবে ছাত্ররা রাজনীতিতে অংশগ্রহণের পর নিজেদের পড়াশোনা করার সময় সুযোগ পায় না। ধীরে ধীরে তারা কলেজ বা ইউনিভার্সিটির যে পাঠক্রম সেখান থেকে সরে যায়। কলেজে ক্লাস তারা প্রায় করে না বললেই চলে। সুতরাং যে শিক্ষার ভিত্তিতে রাজনীতি সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে তারা ব্রতী হয়েছিল তা থেকে সরে আসে।

[ii] শিক্ষার জেরে রাজনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে গিয়ে ছাত্ররা পাঠ্যপুস্তক বিমুখ হয়। ফলে তারা তাদের শিক্ষাবর্ষ থেকে পিছিয়ে পড়ে। তাদের শিক্ষাবর্ষ নষ্ট হয়। আবার অনেক সময় দেখা যায় রাজনীতিতে টিকে থাকতেই তারা কলেজ ছাড়ে না। এইভাবে তাদের ব্যক্তিগত পড়াশোনার জীবন নষ্ট হয় এবং যে জ্ঞানের গভীরতা বৃদ্ধি বাঞ্ছনীয় রাজনীতির উন্নতির স্বার্থে সেখানেও ভাটা পড়ে।

[iii] শিক্ষিতের রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ যদি তাদের শিক্ষা থেকে দূরে ঠেলে, তাহলে ছাত্রদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ সার্থক হয় না। সেক্ষেত্রে ছাত্রের মা-বাবা, পরিবার-পরিজনও তাদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

সুতরাং, ছাত্রদের সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে অংশগ্রহণ নিয়ে বিতর্কের অবসান তখনই সম্ভব যদি ছাত্ররা তাদের যে কর্তব্য অর্থাৎ, পড়াশোনায় মনোযোগী হয়ে নিয়মানুবর্তিতায় থেকে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবনকে সম্পূর্ণ করার পাশাপাশি রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

6. এই অধ্যায়ে উল্লিখিত যে-কোনো একজন রাষ্ট্রচিন্তাবিদের ওপর একটি সংক্ষিপ্ত টীকা লেখো (50টি শব্দের মধ্যে)।

গ্রিক দেশে প্লেটোর জন্ম। আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব 428/427 অথবা 424/423 অব্দে গ্রিসের এথেন্সে তাঁর জন্ম। প্রাচীন গ্রিকের ইতিহাস এবং পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তার ইতিহাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র হলেন প্লেটো, যাঁর শিক্ষক ছিলেন সক্রেটিস। প্লেটোর সবথেকে পরিচিত ছাত্র ছিলেন অ্যারিস্টটল। প্লেটোকে পাশ্চাত্য ধর্ম ও আধ্যাত্মিকতারও একজন জনক হিসেবে ভূষিত করা হয়।

প্লেটো রাষ্ট্রদর্শন সম্পর্কে একটি কাল্পনিক কথোপকথন সংলাপের আকারে রচনা করেন। এই সংলাপে কথক বা বক্তা ছিলেন গুরুশিষ্য। তিনি পাশ্চাত্য রাষ্ট্রদর্শনেরও জনক ছিলেন।

7. নীচে দেওয়া বক্তব্যগুলির সমর্থনে তুমি কি কোনো রাজনৈতিক নীতি বা আদর্শ খুঁজে বের করতে পারো ?

[a] বিদ্যালয়ে কোন্ বিষয় নিয়ে অধ্যয়ন করবো যে বিষয়ে আমার সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার থাকা উচিত।

[b] অস্পৃশ্যতার অনুশীলন সমাজে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

[c] সমস্ত ভারতীয় নাগরিক আইনের চোখে সমান ।

[d] সংখ্যালঘুদের নিজস্ব বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয় থাকতে পারে।

[e] ভারতের নির্বাচনে ভ্রমণের জন্য আসা বিদেশিরা ভোট দিতে পারে না।

[f] চলচ্চিত্র এবং সংবাদমাধ্যমের ওপর কোনো ধরনের সরকারি নিয়ন্ত্রণ থাকা উচিত নয়।

[g] বিদ্যালয়ের বার্ষিক অনুষ্ঠানের কর্মসূচি চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে ছাত্রছাত্রীদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

[h] প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রত্যেকের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক।

[a] বিদ্যালয়ে কোন বিষয় নিয়ে পড়ব, তা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকা উচিত। এই বক্তব্যটি থেকে একজন ছাত্রের কর্তব্যের কথা প্রকাশ পাচ্ছে।

[b] অস্পৃশ্যতার নীতি সমাজ থেকে বর্জন করা হয়েছে। —এই বক্তব্যটির মাধ্যমে সাম্যের নীতিকে প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে। সাম্যের অধিকারের 17 নং ধারায় অস্পৃশ্যতা বিলোপসাধনের কথা সুস্পষ্টভাবে ঘোষণার মাধ্যমে সমাজে সাম্যের নীতিকে সুদৃঢ়করণ করা হয়েছে।

[c] সকল ভারতীয় নাগরিক ‘আইনের দৃষ্টিতে সমান'। এটিও সাম্যের অধিকারের একটি নীতি। ভারতীয় সংবিধানে 12–35নং ধারায় নাগরিকদের মৌলিক অধিকারগুলি বর্ণিত আছে। 14–18নং ধারায় সাম্যের অধিকারটি বর্ণিত আছে। 14নং ধারায় বলা হয়েছে, রাষ্ট্র কোনো ব্যক্তিকে 'আইনের চোখে সমতা' (Equality before the Law) কিংবা 'আইনসমূহ কর্তৃক সমভাবে রক্ষিত' (Equal protection of Laws) হওয়া থেকে বঞ্চিত করতে পারবে না। সুতরাং উপরিল্লিখিত বক্তব্যটি সাম্যের নীতির একটি অংশ যা 14নং ধারায় বর্ণিত, যার অর্থ ভারতীয় নাগরিক সকলেই আইনের চোখে সমান।

[d] সংখ্যালঘুদের নিজেদের স্কুল বা কলেজ থাকতে পারে। এই বক্তব্যটি আসলে সংবিধানে লিপিবদ্ধ নাগরিকদের সংস্কৃতি ও শিক্ষা বিষয়ক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত। সংবিধানের 29 নং এবং 30নং ধারায় এই অধিকারটি বর্ণিত আছে। এই অধিকার অনুযায়ী ধর্ম অথবা ভাষাভিত্তিক সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলি নিজেদের পছন্দমতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন ও পরিচালনা করতে পারে।

[e] ভারত পরিদর্শনে আসা বিদেশিরা ভারতীয় নির্বাচনি প্রথায় অংশগ্রহণ করতে পারেন না, সংক্ষেপে তারা ভোট প্রদান করতে পারেন না। এই বক্তব্যটির মাধ্যমে দুটি বিষয়কে চিহ্নিত করা যায়। প্রথমত, ভারতীয় নাগরিকদের ভোটদানের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অধিকার কেবল ভারতের স্থায়ী বাসিন্দারাই ভোগ করে। দ্বিতীয়ত, নাগরিকদের বিদেশি বলে যে প্রকারভেদটি রয়েছে, যারা বাইরে থেকে ভারত পরিদর্শনে আসেন এবং আমরা যাদের বিদেশি বলে চিহ্নিত করি, তারা কখনোই ভোট প্রদানের অধিকার পাবে না।

[f] চলচ্চিত্র বা অন্য কোনো গণমাধ্যমে সেন্সরশিপ থাকা উচিত নয়। বাকস্বাধীনতার অধিকার অনুযায়ী নাগরিকের বাক ও মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা আছে । মতামত প্রকাশের উপায় বিভিন্ন হতে পারে— পুস্তিকা, গ্রন্থ, লিফলেট, খবরের কাগজ, রেডিয়ো, টেলিভিশন, চলচ্চিত্র ইত্যাদি বিভিন্ন গণমাধ্যমের দ্বারা আমরা আমাদের মতপ্রকাশ করি বা করতে পারি। তাই যে মাধ্যমের দ্বারা আমরা আমাদের মত প্রকাশ করে থাকি সেইখানে সেন্সরশিপ থাকা অন্যায়। কারণ, মতপ্রকাশের অধিকার আমাদের মৌলিক অধিকার।

[g] বার্ষিক অনুষ্ঠানের পরিকল্পনায় ছাত্রদের অবশ্যই অংশ- গ্রহণ করা উচিত। এই বক্তব্যের মধ্যে ছাত্রদের কর্তব্যের বিষয়টিকে বলা হয়েছে। আমরা জানি কর্তব্য যা আমরা আমাদের নৈতিকতাবোধ থেকে করি বা কখনো দায়িত্ববোধ থেকেও করি। তবে কর্তব্যপালনে যেহেতু বাধ্যবাধকতা নেই অর্থাৎ, পালন না করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ নয়, তাই উচিতার্থে কাজটি করার কথা বলা হয়। কারণ, সংবিধানে কর্তব্যপালন না করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ নয়।

[h] প্রত্যেকের প্রজাতন্ত্র দিবস পালন করা উচিত— প্রত্যেকেই দেশের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা থেকে এই দিনটি পালন করে। এই দিনটিতে অংশগ্রহণ আমাদের কর্তব্য, যা আমরা নৈতিকবোধ থেকে, শ্রদ্ধা বা ভালোবাসা থেকে করি। কিন্তু আমরা করতে বাধ্য নই। তাই না করলে কারোর কোনো ক্ষতি হবে না।না।

সংবিধানেও কর্তব্যপালন না করার সঙ্গে আদালত কর্তৃক বিচারযোগ্য অপরাধ বা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হবে এমন বলা নেই। তাই নাগরিকরা প্রজাতান্ত্রিক দিবস পালন না করলে কোনো অসুবিধা নেই।

8 বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে ব্যঙ্গচিত্র সংগ্রহ করো। এই সকল ব্যঙ্গচিত্রগুলি কোন্ বিষয়ের সঙ্গে সংযুক্ত ? কোন্ কোন্ রাজনৈতিক মতাদর্শ এইগুলিতে প্রতিফলিত হয়েছে ?

বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে ব্যঙ্গচিত্র সংগ্রহকরণ

এই সকল সংবাদপত্রগুলি আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি তথা জটিল রাজনৈতিক বিষয়ের সঙ্গে সংযুক্ত।

প্রথম চিত্রটিতে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তথা বিরোধী দলের অবস্থান ফুটে উঠেছে। বিরোধী দল জনমত গঠন করে রাজনৈতিক আবহাওয়াকে সরগরম করে তোলে এবং নিজেদের অবস্থান সুনিশ্চিত করতে চায়।

দ্বিতীয় চিত্রটিতে সরকার যে বিভিন্ন সমস্যার নাগপাশে জর্জরিত সেই বক্তব্যটি পরিস্ফুট। পেট্রোল-ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে বিরোধী শিবির সরকারকে যে কতটা কোণঠাসা করছে এবং সরকারের অবস্থান এক্ষেত্রে কতটা সমীচীন তা ফুটে উঠেছে।

তৃতীয় ব্যঙ্গচিত্রটিতে এক জটিল সামাজিক সমস্যা ফুটে উঠেছে। সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধ এবং সাধারণ মানুষের বাক্ স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়ার মতো জটিল পেক্ষাপট এক্ষেত্রে প্রকাশ পাচ্ছে। পীত সাংবাদিকতার বিষয়টিও এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য।


সারসংক্ষেপ ও সম্ভাব্য প্রশ্নাবলি

প্রাচীন গ্রিসের এথেন্স শহরে সক্রেটিস ছিলেন শ্রেষ্ঠ জ্ঞানী। উনি সমাজ, ধর্ম, রাজনীতি বিষয়ে তৎকালীন সমাজে বিতর্কের ঝড় তুলেছিলেন। তৎকালীন দিনের প্রচলিত ধারণায় আঘাত হানার জন্য তাঁকে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে প্রাণদণ্ড দেওয়া হয়।

সক্রেটিসের সবচেয়ে প্রিয় ছাত্র প্লেটো তাঁর জীবন ও ধারণাকে নিয়ে গ্রন্থ লিখেছিলেন। প্লেটো তাঁর The Republic নামক গ্রন্থে ন্যায় সম্পর্কে আলোচনা করেছিলেন। এই আলোচনা হয়েছিল কথোপকথনের মাধ্যমে, যার মূল বক্তা ছিলেন সক্রেটিস। সক্রেটিস তাঁর ছাত্র সেফিলাসের সঙ্গে কথোপকথনের মাধ্যমে যে 'ন্যায়' সংক্রান্ত আলোচনাকে শুরু করেন, তার বিস্তার করেন প্লেটো। এই আলোচনার মধ্যদিয়ে প্লেটো বুঝিয়েছিলেন তৎকালীন ন্যায়- সংক্রান্ত ধারণা যথেষ্ট নয় এবং গ্রহণযোগ্যও নয়। আর তা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সেফিলাস এবং তার বন্ধুদের মাধ্যমে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল সক্রেটিস সবসময় তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিতে প্রমাণ করার চেষ্টা করতেন তাঁর সীমাবদ্ধতা কোথায় এবং তাঁর অসংগতি অনুসন্ধান করতেন। এইভাবে সক্রেটিসের যারা প্রতিদ্বন্দ্বী তাঁরাও স্বীকার করতেন বা স্বীকার করতে বাধ্য হতেন যে, তাঁদের প্রতিষ্ঠিত মতটি আর সমাজের কাছে গ্রহণযোগ্য নয় বা টেকসই নয়।

নীচের কথোপকথনের মাধ্যমে তা প্রমাণ হয়— “সেফিলাস তুমি ঠিকই বলেছ, কিন্তু ন্যায় প্রসঙ্গে কথাগুলি কি ঠিক?”—কেবল সত্যি বলা এবং ঋণশোধ করাই—আর কিছু নয়?

 এবং এটি তেমন কিছু ব্যতিক্রমও নয়। ধরে নেওয়া যাক একজন বন্ধু যখন সে তার শুভ মনে আছে তখন আমায় সকল অস্ত্র তুলে দিচ্ছে, আবার যখন তার মধ্যে অশুভ মনের স্যার হচ্ছে তখন সে যা দিয়েছে তা কি আবার ফেরত নেওয়া উচিত?

আপনি সম্পূর্ণ সত্য, সে উত্তর দেয়। সুতরাং, সত্যভাষণ এবং ঋণশোধ করাই কেবলমাত্র ন্যায়-এর যথার্থ সংজ্ঞা হতে পারে না। এবং খুব সরলভাবে ন্যায়কে যেভাবে ব্যাখ্যা করা হল, তা হল—যে আমাদের সঙ্গে ভালো করবে তাদের সঙ্গে আমরা ভালো করব এবং শত্রুদের সঙ্গে ক্ষতি করব। পরে বললাম যারা ভালো করবে তাদের সঙ্গে ভালো এবং শত্রুরা যখন ক্ষতি করবে তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করব।

 হ্যাঁ আমার কাছে এটিই সত্যি মনে হয়েছে।

কিন্তু আমাদের কি কাউকে আঘাত করা উচিত?

নিঃসন্দেহে যারা ক্ষতিপরায়ণ, কুচক্রী তারা তাদের শত্রুকে আঘাত করবে।

যখন ঘোড়ারা আঘাত পায় তখন কি এটি তার উন্নতি, না অবনতি ?

অবনতি হয়। ভালো মানের ঘোড়ার ক্ষেত্রে, কুকুরদের ক্ষেত্রে নয়? হ্যাঁ, নিশ্চয়ই।

এবং কুকুরদের ক্ষেত্রে অবনতি হবে, ভালো মানের কুকুরদের ক্ষেত্রে এবং ঘোড়াদের ক্ষেত্রে নয়। হ্যাঁ, অবশ্যই।

এবং যে মানুষরা আঘাত পেয়েছে এবং তাদের অবনতি হবে, মানুষটির সঠিক মূল্যবোধ। এইভাবে প্রমাণিত হবে না। নিশ্চয়ই।

এই মনুষ্য মূল্যবোধ কি ন্যায় নিশ্চিত করে? —এটিই পরিণতি।

তাহলে যে মানুষগুলি আঘাতপ্রাপ্ত তারা কি অন্যায় করবে?

তাহলে যিনি সংগীতকার তিনি কি কাউকে তাঁর শিল্পসত্তা দিয়ে অসংগীতকার (Unmusical) করে তুলতে পারবেন?

-অবশ্যই নয়। বা কোনো ঘোড়সওয়ার তার পারদর্শিতাকে কাজে লাগিয়ে কাউকে খারাপ ঘোড়সওয়ার বানাতে পারবে?

 -অসম্ভব।

—এইভাবে যুক্তি দিয়ে প্রশ্নের পর প্রশ্ন করে মানুষের বিশ্বাসের ভিত্তি যে কতটা ভঙ্গুর তা প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন প্লেটো তাঁর The Republic গ্রন্থে। এখানে তাঁর শিক্ষক সক্রেটিস হলেন বিবেক। সক্রেটিস তাঁর প্রিয় শিষ্যদের সঙ্গে কথোপকথনের মাধ্যমে 'ন্যায়'-এর সংজ্ঞা ও ধারণাকে সন্ধান করে তা প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেছেন।

উপরিউক্ত বক্তব্যটি পাঠ করে নিম্নলিখিত প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করো।

a. সক্রেটিস কে ছিলেন ?

(১) সক্রেটিস প্রাচীন গ্রিসের এথেন্সে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি গ্রিসের একজন শ্রেষ্ঠ এবং পাশ্চাত্য রাষ্ট্রদর্শনের পুরোধা ছিলেন। প্রাচীন গ্রিসের ধর্ম, রাজনীতি, সমাজ সম্পর্কে তৎকালীন ধ্যান- ধারণাকে আঘাত হানেন, ফলে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে তাঁকে প্রাণদণ্ড দেওয়া হয়।

b. প্লেটোর গ্রন্থের নাম কী ?

প্লেটোর গ্রন্থের নাম The Republic

c. The Republic-এর মূল বিষয় কী ছিল ?

ন্যায় বা Justice সম্পর্কে প্লেটোর ধ্যানধারণা এখানে লিপিবদ্ধ করেন তিনি।

d.ন্যায়তত্ত্বের প্রতিষ্ঠা কীভাবে করেন প্লেটো ?

 প্লেটো জীবনে সক্রেটিসের দ্বারা প্রভাবান্বিত ছিলেন। সক্রেটিসের প্রিয় ছাত্র ছিলেন প্লেটো। সক্রেটিসের নিজের কোনো লেখা ছিল না। প্লেটো তাঁর ন্যায়তত্ত্বকে The Republic-এ সংকলিত করেন। প্লেটো এই তত্ত্বকে Dialogue বা কথোপকথনের মাধ্যমে পরিবেশন করেন। এখানে কথোপকথনটি ছিল কাল্পনিক এবং সক্রেটিস ছিলেন মূল বক্তা। সক্রেটিস এখানে প্লেটোর বিবেক। সক্রেটিস ন্যায় প্রসঙ্গ উত্থাপন এবং তাঁর ধারণাকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তাঁর ছাত্র সেফিলাস-এর সঙ্গে কথার মাধ্যমে।

e.ন্যায় ধারণাকে কী পদ্ধতিতে প্লেটো প্ৰতিষ্ঠিত করেছেন ?

 প্লেটো মূলত আদর্শ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন যা ন্যায় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সম্ভব, প্লেটোর যাবতীয় শিক্ষা সক্রেটিসের সান্নিধ্যে কিন্তু সক্রেটিসের নিজের কোনো লেখা নেই। উনি মুখেই যা আলোচনা করেছেন প্লেটো তাকে প্রশ্নের আকারে সাজিয়ে ন্যায়ের ধারণাকে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন। কয়েকটি যুক্তিনির্ভর সাধারণ প্রশ্ন করে সহজেই মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে যাওয়া যায় সক্রেটিসের দ্বন্দ্ব (Dialect) মূলক পদ্ধতিতেই, প্লেটো সে শিক্ষা নিয়েছেন।


অন্যান্য সম্ভাব্য প্রশ্নোত্তর
বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর প্রশ্নমান 1

1 রাষ্ট্রবিজ্ঞান একটি—

A গতিশীল শাস্ত্র

B. স্থিতিশীল শাস্ত্র

C. সৃষ্টিশীল শাস্ত্র

D. কর্মশীল শাস্ত্র

2 রাজনৈতিক তত্ত্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়; কারণ—

A. শিক্ষাক্ষেত্রে প্রয়োজন

B. রাজনৈতিক তত্ত্ব যে-কোনো বিষয়ের ভালোমন্দ উভয়দিকই আলোচনা করে

C. পাঠ্যবিষয়ের অন্তর্গত

D আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার ব্যাপকতা বৃদ্ধি করে

3 রাজনীতি হল—

A. একটি পদ্ধতি

B. একটি গাণিতিক হিসাব

C. একটি ভৌগোলিক এলাকা

D. একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি

4 রাজনীতির জন্য তাৎপর্যপূর্ণ নয়—

A. দ্বন্দ্বের সমাধানে সাহায্য করা

B. প্রচারকার্যকে সংগঠিত করা

C. কাজের জন্য অর্থ পাওয়া

D. ভ্রান্ত নীতির বিরোধিতা করা

5 বর্তমানে রাজনীতি বলতে বোঝায়—

A. সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া

B. রাজনৈতিক বিচারবিশ্লেষণ

C. মাজ ও রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ক্রিয়াকর্মের বিচার- বিশ্লেষণ

D. নাগরিক জীবন সংক্রান্ত জ্ঞান নিয়ে আলোচনা

6 রাজনীতির মূল উপাদান

A. ক্ষমতা ও স্বাধীনতা

B. দ্বন্দ্ব ও প্রতিযোগিতা

C. দ্বন্দ্ব ও উপযোগিতা

D. ক্ষমতা ও দ্বন্দ্ব

7 'রাজনীতি হল প্রভাব ও প্রভাবশালীদের পর্যালোচনা'— এরূপ মনে করেন—

A. ল্যাসওয়েল

B. চার্লস মেরিয়াম

C. ডেভিড ইস্টন

D এঙ্গেলস

8 রাজনীতির মূল বিষয় হল—

A. গণতন্ত্র

B রাজতন্ত্র

C. ক্ষমতা

D. বিপ্লব

9 রাজনীতি রাষ্ট্রবিজ্ঞানের যে দিক—

A. তত্ত্বগত

B. ব্যাবহারিক

C. ভাবগত

D. কোনোটিই নয়

10 রাজনীতির মূল উপাদান—

A. 4টি

B. 3টি

C. 2টি

D. 1টি

11 ‘পলিটিক্স' শব্দটি ক-টি গ্রিক শব্দ থেকে উদ্ভূত হয়েছে ?

A. 1টি

B. 2টি

C. 3টি

D 4টি

12 ‘পলিটি' শব্দটি গ্রিক শব্দ ............ থেকে এসেছে।

A. স্টেটাস

B. পলিস

C. সিভিটাস

D. সিটি

13 প্রাচীন গ্রিসের একদল চিন্তাবিদের নাম ছিল—

A. সোফিস্ট

B. উটোপিয়া স্টোয়িক

C. সিন্টিক্যালিস্ট

 D. টোরি

14 Republic গ্রন্থটির রচয়িতা হলেন—

A. কার্ল মার্কস

B. প্লেটো

C. সক্রেটিস

D. সেফিলাস

15 প্লেটোর শিক্ষক ছিলেন—

A. কার্ল মার্কস

B. রুশো

C. সক্রেটিস

D. সেফিলাস

16 হিন্দ স্বরাজ-এর রচয়িতা হলেন—

A. মহাত্মা গান্ধি

B. রুশো

C. কার্ল মার্কস

D. প্লেটো

17 এদের মধ্যে রাজনৈতিক নেতা হলেন—

A. মহাত্মা গান্ধি

B. রুশো

C. কার্ল মার্কস

D. মনমোহন সিং 

18 সাধারণ মানুষ রাজনীতিকে গ্রহণ করে—

A. বিরোধিতা করে

B. শপিংমল থেকে বাজার করে

C. চাকুরির সন্ধান করে

D.নিয়মিত টিভিতে খবর দেখে

19 স্বাধীনতাকে একটি মৌলিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার কথা প্রথম বলেন—

A. মহাত্মা গান্ধি

B রুশো

C. কার্ল মার্কস।

D আম্বেদকর

20 এথেন্সে সর্বজনীন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন—

A. কার্ল মার্কস 

B. প্লেটো

 C. ক্রেটিস

D. সেফিলাস

21 রাজনীতিতে শেষ কথা বলে—

A. সমাজবন্ধ মানুষ

B. সরকার

C. প্রশাসন

D.রাষ্ট্র

22 রাজনীতির পরিধি হল—

A. ব্যাপক

B. সংকীর্ণ

C. দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সম্পর্কিত

D. সমগ্র সমাজ

23 ভারতে রাজনীতি সম্পর্কে ভাবনাচিন্তা শুরু হয়—

A. খ্রিস্ট জন্মের 500-600 বছর আগে

B.খ্রিস্ট জন্মের 500-700 বছর পরে

C. খ্রিস্ট জন্মের 400-500 বছর আগে

D. খ্রিস্ট জন্মের 300-500 বছর পরে

24 সামাজিক রাজনীতির সপক্ষে তাত্ত্বিক আন্দোলন শুরু করেন—

A. ইস্টন

B. লক

C. বেনফিল্ড

D. অ্যালান বল

25 'পরিবর্তন ও সমস্যার গভীরতাই রাজনীতিশাস্ত্রে নতুন গতি এনেছে' কথাটি বলেছেন—

A. লিপসন

B. লিপসেট

C. সিজউইক

D. সিলি

26 অ্যারিস্টট্স একজন দার্শনিক।

A. গ্রিক

B. জার্মান

C. রোমান

D. ব্রিটিশ

27 রাজনীতির তত্ত্বগত আলোচনা সর্বপ্রথম শুরু করেন—

A. অ্যারিস্টটল

B. লক

C. মেকিয়াভেলি

D. প্লেটো

28 রাজনীতি চর্চার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য দৃষ্টিভঙ্গির সূচনা করেন—

A. মার্কসবাদ

B. পুঁজিবাদ

C. গণতন্ত্র

D. একনায়কতন্ত্র

29 রাজনীতিকে ধর্ম ও নৈতিকতা থেকে বিচ্ছিন্ন করেছেন—

A. কার্লওয়েস

B. গ্রাহাম ওয়ালাস

C. মেকিয়াভেলি

D. স্যাবাইন

30 ‘রাজনৈতিক তত্ত্বের কাজ রাজনৈতিক জীবন সম্পর্কে সুশৃঙ্খল অনুসন্ধান'—বলেছেন—

A. প্লেটো 

B. স্যাবাইন

C. অ্যারিস্টটল

D. জন স্টুয়ার্ট মিল

31 রাজনীতিকে ‘Master Science' বলেছেন—

A. মেকিয়াভেলি

B. প্লেটো

C. অ্যারিস্টটল

D. মন্তেস্কু

32 A Grammar of Politics গ্রন্থটির লেখক—

A. বার্কার

B. ল্যাঙ্কি

C. হবহাউস

D. রুশো

33 Public Opinion গ্রন্থটির লেখক—

A. অ্যারিস্টট্ল

B. গার্নার

C. লিপম্যান

D. ব্লুন্টসলি

34 Modern Political Analysis গ্রন্থটির রচয়িতা—

A. লিপসেট

B. অ্যালান বল

C. সিজউইক

D. বেম্থাম

35 Law of the Constitution গ্রন্থটির রচয়িতা হলেন—

A. অস্টিন

B. এ ভি ডাইসি

C. অ্যারিস্টটল

D. মিলার

36 The Political Man গ্রন্থটির লেখক—

A. লিপসেট

B.ডেভিড ইস্টন

C. বারট্রাম লাথাম

D. লেনিন

37 “যে মানুষ সমাজে বসবাস করে না, সে হয় পশু, নয় ঈশ্বর’ কথাটি বলেছেন—

A. অ্যারিস্টট্ল

B. প্লেটো

C. মেকিয়াভেলি

D. রুশো

38 ‘রাজনীতি হল সমাজের এমন এক ‘প্রক্রিয়া", যা ক্ষমতার কাঠামোর মাধ্যমে ‘মূল্যের বণ্টন করা যায়’—উক্তিটি করেছেন—

A. অ্যালান বল

B. ডেভিড ইস্টন

C. লেনিন

D. বারট্রাম লাথাম

39 শুধু বেঁচে থাকার জন্য নয়, সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্য মানুষকে রাষ্ট্র গড়তে হয়'—উক্তিটি করেছেন—

A. প্লেটো

B. অ্যারিস্টটল

C. রুশো

D. মার্কস

40 ‘মানুষ রাজনৈতিক জীব’—বলেছেন—

A. প্লেটো

B. অ্যারিস্টটল

C. রুশো

D. পোলক

41 'সঠিক নামকরণের সমস্যা নিয়ে অন্যান্য সামাজিক বিজ্ঞানের তুলনায় রাষ্ট্রবিজ্ঞান অধিক বিব্রত'—কথাটি বলেছেন—

A. গেটেল

B. জেলিনেক

C. সিজউইক

D. উইলোবি

42 ‘পরিবর্তন ও সমস্যার গভীরতাই রাজনীতিশাস্ত্রে নতুন গতি এনেছে'—বলেছেন—

A. লিপসেট

B. লিপসন

C. সিজউইক

D. সিলি

43 ‘রাজনীতির বিষয়বস্তু হল একটি গোষ্ঠীর জন্য লক্ষ্য নির্ধারণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর সদস্যদের মধ্যে সম্পর্কের বণ্টন'—কথাটি বলেছেন—

A. হবস, লক, রুশো

B. হেগ, হ্যারপ, ব্রেসলিন

C. অ্যারিস্টটল, প্লেটো, অ্যালান বল

D. কার্ল মার্কস, লেনিন, রজনিপাম দত্ত


অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর   প্রশ্নমান 1

1. রাজনীতি কী ?

> রাজনীতি হল এমন একটি প্রক্রিয়া যার সাহায্যে বিভিন্ন গোষ্ঠী যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে সক্ষম হয়।

2. ‘Politics' শব্দটির উৎপত্তি কোন্ শব্দ থেকে হয়েছে ?

> গ্রিক শব্দ 'Polis' যার অর্থ হল নগর, সেখান থেকে ‘Politics' বা ‘রাজনীতি' শব্দটি এসেছে।

3. ‘রাজনীতি’ বিষয়টি কোন্ গ্রন্থের নাম থেকে এসেছে ?

>‘রাজনীতি’ বিষয়টি অ্যারিস্টটলের পলিটিক্স নামক গ্রন্থের নাম থেকে এসেছে।

4. রাজনীতির উৎস কী ?

> রাজনীতির উৎস ‘শ্রেণিবিরোধ’ ও ‘মানুষ'।

5. রাজনৈতিক তত্ত্ব কী ?

> রাজনৈতিক তত্ত্ব হল রাজনীতি বিষয়ক কতকগুলি সাধারণ নীতির সূত্রবদ্ধ রূপ।

6. ‘রাষ্ট্রদর্শনের জনক' কাকে বলা হয় ?

> প্লেটোকে 'রাষ্ট্রদর্শনের জনক' বলা হয়।

7. রাজনীতির মূল বিষয় কী ?

> ‘ক্ষমতা’ ও ‘প্রভাব’ হল রাজনীতি অনুসন্ধানের মূল বিষয়।

8. জনগণের সার্বভৌমিকতার ওপর কে গুরুত্ব আরোপ করেছেন ?

> জনগণের সার্বভৌমিকতার ওপর রুশো গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

9. রাজনীতির তত্ত্বগত আলোচনা প্রথম কে শুরু করেন ?

> রাজনীতির তত্ত্বগত আলোচনা প্রথম শুরু করেন অ্যারিস্টটল।

10. রাজনীতির প্রকৃতি বা মূল বিষয়বস্তু কী ?

> রাজনীতির প্রকৃতি বা মূল বিষয়বস্তু হল দ্বন্দ্ব, দ্বন্দ্ব নিরসনের উপায় ও পার্থক্য উদ্ভূত সমস্যার সমাধান।

11. রাজনৈতিক ক্রিয়াকলাপ কী ?

> রাজনৈতিক ক্রিয়াকলাপ বলতে রাষ্ট্রগঠন, সরকারের পরিবর্তন প্রভৃতি বিভিন্ন ক্ষেত্রে মানুষের রাজনৈতিক সক্রিয়তাকে বোঝায়।

12. রাজনৈতিক তত্ত্ব অধ্যয়নের যে-কোনো একটি কারণ উল্লেখ করো।

> রাজনৈতিক তত্ত্ব আমাদের দৈনন্দিন জীবনের বাস্তব রাজনীতির গতিপ্রকৃতিকে বুঝতে সাহায্য করে, যার দ্বারা দৈনন্দিন জীবনযাত্রা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রভাবিত হয়ে থাকে।

13. রাজনৈতিক তত্ত্ব গুরুত্বপূর্ণ কেন?

> রাজনৈতিক তত্ত্ব গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি সমালোচনামূলক মূল্যায়নকে অগ্রাধিকার দেয়।

14. ইংরেজি “Theory' শব্দটির উৎপত্তি কোন্ শব্দ থেকে হয়েছে ?

> গ্রিক শব্দ “Theoria' থেকে ইংরেজি “Theory' শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে।

15. রাজনৈতিক তত্ত্বে আমরা কী পড়ি ?

> গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, সাম্য ইত্যাদির আদর্শ এবং সমাজনীতি ও মূল্যবোধ সম্পর্কে আমরা রাজনৈতিক তত্ত্ব থেকে জানতে পারি।

16. প্লেটোর শিক্ষক ছিলেন কোন্ বিখ্যাত দার্শনিক ?

> বিখ্যাত দার্শনিক সক্রেটিস ছিলেন প্লেটোর শিক্ষক।

17. The Republic গ্রন্থটির লেখক কে ?

> The Republic গ্রন্থটির লেখক হলেন প্লেটো।

18. হিন্দ স্বরাজ গ্রন্থটির লেখক কে ?

> হিন্দ স্বরাজ গ্রন্থটির লেখক হলেন মহাত্মা গান্ধি।

19 সমাজকে কেন্দ্র করে রাজনীতির আলোচনার সূত্রপাত করেন কোন্ দার্শনিকগণ ?

> সমাজকে কেন্দ্র করে রাজনীতির আলোচনার সূত্রপাত করেন আচরণবাদী দার্শনিকগণ।

20. সমাজ ও রাজনীতির মূলকথা কী ?

> সমাজ ও রাজনীতির মূলকথা হল রাজনীতিবিদদের কার্যকলাপের মধ্যে যেমন রাজনীতি আছে, তেমনই রাজনীতি আছে বিভিন্ন সামাজিক ক্রিয়া-প্রক্রিয়ার মধ্যেও।

21. মার্কসীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু কোনটি ?

> শ্রেণিসংগ্রাম মার্কসীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু।

22. রাজনীতি সম্পর্কে মার্কসের ধারণা কী ?

> মার্কস রাজনীতিকে উপরিকাঠামোর অংশ হিসেবে প্রতিপন্ন করেছেন।

23. রাজনীতির প্রথম বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যাকার কে ?

> রাজনীতির প্রথম বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যাকার হলেন টমাস হস।

24. Modern Democracy গ্রন্থটির লেখক কে ?

> Modern Democracy গ্রন্থটির লেখক লর্ড ব্রাইস।

25. Human Nature in Politics গ্রন্থটির লেখক কে ?

> Human Nature in Politics গ্রন্থটির লেখক গ্রাহাম ওয়ালাস।

26. অরাজনৈতিক রাজনীতি বলতে কী বোঝায় ?

> অরাজনৈতিক রাজনীতি বলতে মূল্যবোধহীন রাজনীতিকে বোঝায়।

27. রাষ্ট্রনীতিকে ক-ভাগে ভাগ করা যায় ?

> রাষ্ট্রনীতিকে দু-ভাগে ভাগ করা যায়, যথা—[a] তত্ত্বগত রাষ্ট্রনীতি এবং [b] ব্যাবহারিক রাষ্ট্রনীতি।

28. তত্ত্বগত রাষ্ট্রনীতি কী ?

> তত্ত্বগত রাষ্ট্রনীতির অর্থ হল রাষ্ট্র, সরকার, আইন ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে তত্ত্বগত আলোচনা ।

29. ব্যাবহারিক রাষ্ট্রনীতি কী ?

> ব্যাবহারিক রাষ্ট্রনীতির অর্থ হল রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ব্যাবহারিক দিক। রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির ক্ষেত্রে পদ্ধতিগত আলোচনাই ব্যাবহারিক রাষ্ট্রনীতির আলোচ্য বিষয়।


সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর   প্রশ্নমান 2

1. রাজনৈতিক তত্ত্ব বলতে কী বোঝো ?

> রাজনৈতিক তত্ত্ব হল রাজনৈতিক ক্রিয়াকর্ম বা রাজনৈতিক বিষয়াদি সম্পর্কিত ব্যাখ্যামূলক আলোচনা বা মানসিক চিন্তাধারা। সমাজবদ্ধ চিন্তাশীল মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তিই হল সমাজস্থ বিষয়াদি সম্পর্কে আলোচনা করা। সমাজের গঠনগত কাঠামো থেকে শুরু করে সরকার এবং তার প্রয়োজন ইত্যাদি সব বিষয়েই মানুষের জানার আগ্রহ অসীম। আর রাজনৈতিক তত্ত্বের কাজ মনুষ্য সমাজের যাবতীয় প্রশ্নের সঠিক ব্যাখ্যার অনুসন্ধান করা ।

2. রাজনৈতিক তত্ত্বের কাজ কী ?

> সংবিধান, সরকার, সামাজিক জীবনের ধ্যানধারণা তৈরি হয় রাজনৈতিক তত্ত্বের দ্বারা। রাজনৈতিক তত্ত্বই নির্ধারিত করে কোনো রাষ্ট্রের সংবিধান, প্রশাসন, অর্থনীতি এবং সমাজব্যবস্থার চরিত্র বা প্রকৃতি কেমন হবে। স্বাধীনতা, সাম্য, ন্যায়, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা প্রভৃতির ধারণা তৈরি হয় রাজনৈতিক তত্ত্বের মাধ্যমে। আইনের অনুশাসন, ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি, বিচার বিভাগীয় সমীক্ষা ইত্যাদির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করার কাজ রাজনৈতিক তত্ত্বের।

3. রাজনীতির অর্থ কী ?

> 'রাজনীতি' বলতে কী বোঝায় তা এককথায় বলা কঠিন। রাজনীতির ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Politics' শব্দটি এসেছে গ্রিক শব্দ ‘Polis’ থেকে, যার অর্থ নগররাষ্ট্র। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক অ্যারিস্টটল Politics নামক তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থের মাধ্যমেই তাঁর রাজনীতির আলোচনার সূচনা করেন, সেখানে রাজনীতি বলতে মূলত তৎকালীন গ্রিক নগররাষ্ট্র সম্পর্কিত আলোচনাকেই বোঝানো হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীকালে এই ধারণার ব্যাপক পরিবর্তন হয়।

4. রাজনীতির অস্তিত্ব কীভাবে উপলব্ধি করি ?

> রাজনীতির উপস্থিতি পরিলক্ষিত হয় [i] রাজনৈতিক ব্যবস্থায়, [ii] কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা প্রদর্শনের মধ্যে, [iii] সমাজে সকলের স্বার্থ প্রতিষ্ঠিত করার মধ্যে ও [iv] রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের গৃহীত সিদ্ধান্ত এবং সমাজে সেই সিদ্ধান্ত প্রয়োগের মাধ্যমে।

5. রাজনীতির দুটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো ।

> রাজনীতির বৈশিষ্ট্যগুলি হল—

(a) রাজনীতি ক্ষমতা সম্পর্কে আলোচনা করে।

[b] রাজনৈতিক ব্যবস্থার মধ্যে রাজনীতির সন্ধান পাওয়া যায়।

6. সরকার ভালো এবং মন্দ উভয়দিক থেকেই মনুষ্য- জাতিকে প্রভাবিত করে—কীভাবে ?

> বৈদেশিক নীতি, শিল্পনীতি, অর্থনৈতিক নীতি রূপায়ণের মাধ্যমে রাষ্ট্র মনুষ্য প্রজাতির কল্যাণসাধন করে। অন্যদিকে সমাজের কোনো দ্বন্দ্বমূলক বিষয়কে সামলাতে গিয়ে রাষ্ট্র অনেকসময় হিংসাত্মক হয়ে পড়ে যা মনুষ্য প্রজাতির জন্য চিন্তার কারণ।

7. 'মনুষ্য প্রজাতি হল অনন্য' এ কথা কেন বলা হয় ?

> 'মনুষ্য প্রজাতি হল অনন্য' এ কথা বলার কারণ—

[i] সমাজে মানুষ কোনো ক্রিয়ার কার্যকারণকে উপলব্ধি করতে বা আয়ত্ত করতে এবং ক্রিয়ার প্রতিক্রিয়া করতেও সক্ষম।

[ii] সামাজিক বা রাজনৈতিক কোনো বিষয়কে কেন্দ্র করে আলোচনা করতে বা বিতর্ক করতেও সক্ষম মনুষ্য প্রজাতি। তাই তাদেরকে অনন্য হিসেবে অ্যাখ্যায়িত করা হয়।

8. সরকারের প্রতি নাগরিকরা/ আমরা কীভাবে উৎসাহ দেখাব ?

> সরকারের কার্যাবলি নাগরিকদের প্রভাবিত করে। আবার নাগরিকরাও সরকারি কার্যকলাপে অংশগ্রহণ করে। যেমন—বিশেষ কোনো ঘটনার প্রচারের কাজে অংশগ্রহণ করা, জনমত গঠনে অংশগ্রহণ করা, সংঘ বা সমিতি গঠন করা ইত্যাদি।

9. রাজনৈতিক তত্ত্বের যে-কোনো একটি প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করো।

> রাজনৈতিক তত্ত্ব এমন কিছু নীতি, আদর্শ নিয়ে আলোচনা করে যেগুলি একটি দেশের সংবিধানকে নতুন মাত্রা দিয়ে থাকে। সরকার ও জনগণের সামাজিক জীবনকে একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতির মধ্যে নিয়ে আসে। একইসঙ্গে এটি স্বাধীনতা, সাম্য, ন্যায়, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ইত্যাদি ধারণাগুলির অর্থ আমাদের কাছে সহজবোধ্য করে তোলে।

10. আমরা রাজনৈতিক তত্ত্ব পাঠ করব কেন ?

> কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারণা তৈরি করতে রাজনৈতিক তত্ত্ব পড়া বা জানা প্রয়োজন। এ ছাড়া 18 বছর বয়স হলেই আমরা ভোটদান করি। কিন্তু সঠিক ভোট প্রদান করতে গেলে সামাজিক-রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্পষ্ট বুঝতে হবে। যারা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র তাদেরও রাজনৈতিক তত্ত্ব পাঠের প্রয়োজন। সমাজে টিকে থাকতে গেলে আমাদের নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়া প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে নাগরিকতা, সাম্য, স্বাধীনতা, মৌলিক অধিকার এই বিষয়কাল সম্পর্কে স্পষ্ট ও সঠিক ধারণার জন্যও রাজনৈতিক তত্ত্ব পাঠের প্রয়োজন আছে।


বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্নোত্তর   প্রশ্নমান 4

1. রাজনৈতিক তত্ত্বের উদ্দেশ্য কী ?

> সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বিষয়াদি সম্পর্কে বিশদে আলোচনা বা চিন্তাভাবনাই হল রাজনৈতিক তত্ত্ব। সামগ্রিক- ভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সমাজকে প্রতিনিয়ত প্রভাবিত করে, পরিবর্তিতও করে। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে মানুষের যাবতীয় চিন্তা- ভাবনার ব্যাপক বিকাশ ঘটে এবং এর ফলে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করে। এই পরিবর্তন বা প্রভাবকে ব্যাখ্যা করতে নির্দিষ্ট কিছু নীতি, আদর্শ এবং মূল্যবোধের সন্ধান পাওয়া যায়। এই নীতি, আদর্শ, মূল্যবোধই সাধারণ মানুষকে নতুন চিন্তার রসদ জোগায় এবং রাজনৈতিক নীতিকেও নিয়ন্ত্রণ করে। বিভিন্ন রাষ্ট্র এই মূল্যবোধকে সংবিধানে স্থান দিয়ে যত্ন সহকারে রক্ষা করে। উদাহরণ হিসেবে ভারত, ব্রিটেন, আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের কথা বলা যায়। সুতরাং রাজনৈতিক তত্ত্বের মাধ্যমে কোনো রাষ্ট্রের প্রকৃতি নির্ধারণ এবং তাকে সংবিধানে লিপিবদ্ধ- করণই হল রাজনৈতিক তত্ত্বের উদ্দেশ্য।

2. রাজনৈতিক তত্ত্বের প্রধান আলোচ্য বিষয় কী ?

> আমরা যদি আমাদের চারপাশে তাকাই তাহলে আমরা বিভিন্ন ধরনের আন্দোলন, উন্নয়ন, পরিবর্তন ইত্যাদি দেখতে পাব । কিন্তু একটু গভীরে গিয়ে বিশ্লেষণ করলে আমরা দেখতে পাব কিছু মূল্যবোধ ও নীতি যেগুলি মানুষকে উদবুদ্ধ করছে ও নীতি নির্ধারণে সাহায্য করছে। বিভিন্ন ধরনের আদর্শ, যেমন—গণতন্ত্র, স্বাধীনতা এবং সাম্য ইত্যাদি। বিভিন্ন দেশ তাদের সংবিধানে বিভিন্ন ধরনের নীতি, আদর্শকে স্থান দিয়েছে, যেমন—মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সংবিধান। এইসব নীতি, আদর্শগুলির একরাতে উৎপত্তি ঘটেনি। সভ্যতার প্রাচীনকাল থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক পণ্ডিত ব্যক্তিদের বক্তব্য, আলোচনা, লেখনীর মাধ্যমে এগুলি গড়ে উঠেছে এবং রাজনৈতিক তত্ত্বের মধ্যে স্থানলাভ করেছে। রাজনৈতিক তত্ত্বের মূল আলোচ্য বিষয়বস্তুগুলি হল—

প্রথমত, রাজনৈতিক তত্ত্ব সেইসব নীতি ও আদর্শ নিয়ে কাজ করে যেগুলি সংবিধানকে একটি নতুন আকার দিয়ে থাকে এবং সরকার ও মানুষের সামাজিক জীবনকে একটি পদ্ধতিতে নিয়ে আসে। রাজনৈতিক তত্ত্ব স্বাধীনতা, সাম্য, ন্যায়, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ইত্যাদি ধারণাগুলির অর্থ আমাদের কাছে পরিষ্কার করে উপস্থাপন করে থাকে। একই সঙ্গে এটি আইনের অনুশাসন, ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি, বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা ইত্যাদি নীতিগুলির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করে।

দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক তত্ত্ব সবসময় পুরোনো নীতি আদর্শগুলিকে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন করে ব্যাখ্যা উপস্থাপন করে দাবি ও চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে। যার ফলে সর্বজনীন রাজনৈতিক নীতি ও আদর্শগুলির নতুন নতুন ব্যাখ্যা পাওয়া যায়।

তৃতীয়ত, রাজনৈতিক তত্ত্বের মাধ্যমে পরিবর্তিত পৃথিবীর সঙ্গে সামঞ্জস্যবিধান করে বিভিন্ন ধারণা ও নীতিগুলির ব্যাখ্যা প্রদান ও নতুন মাত্রা যুক্ত করা সম্ভব হয়। কোনো একটি রাজনৈতিক আদর্শ বা নীতিকে বর্তমান সময়ের সমস্যার পরিপ্রেক্ষিতে নতুন মাত্রা প্রদান করা হয়ে থাকে। যার ফলে এই রাজনৈতিক আদর্শ ও নীতিগুলির যৌক্তিকতা ও প্রাসঙ্গিকতা বজায় থাকে।

3. মানবজাতিকে 'অনন্য' বলা হয় কেন ?

> মানবজাতি বিশ্বসংসারে শ্রেষ্ঠ প্রাণী এবং অনন্যও বটে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায় এই অনন্য বলার দুটি কারণ আছে—

[a] মানবজাতি সমাজের যে কোনো বিষয়ে প্রয়োজনমতো ক্রিয়া করতে পারে এবং কোনো সমাজের ক্রিয়ার প্রতি প্রয়োজনীয় প্রতিক্রিয়াও করতে পারে। যেমন—বোঝার সমস্যাকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রের করণীয় কী সে বিষয়ে মানবজাতি তার মত জানাতে পারে এবং রাষ্ট্রের এই বিষয়ে সিদ্ধান্তের প্রতি যদি মানবজাতির আস্থা না থাকে তাহলে তারা রাষ্ট্রের নেওয়া সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করতে পারে।

[b] যে-কোনো বিষয়ে মানবজাতি তাঁর মতামত জানাতে বা সমালোচনা করতে বা বিতর্ক করতে পারে। রাষ্ট্রের নেওয়া যে-কোনো সিদ্ধান্তের বিপরীত অবস্থান গ্রহণ করার ক্ষমতা ও সামর্থ্য আছে জনগণের।

4. শ্রেণি কী ?

> শ্রেণিকে আমরা বৃহৎ একটি গোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত করতে পারি। তবে শ্রেণিচরিত্র নির্বিশেষে শ্রেণির ধরন ব্যাখ্যা করতে পারি। যেমন—

[i] যখন কোনো একটি শ্রেণির পরিচয় তার সামাজিক অবস্থানের ওপর নির্ভর করে তখন সেই শ্রেণির পরিচয় এক ধরনের হয়, যেমন—দাস মালিক এবং দাস।

[ii] উৎপাদনের উপকরণের মালিকানার ভিত্তিতে শ্রেণির পরিচয় হতে পারে, যেমন—মালিক শ্রেণি । [iii] সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সদস্যদের পরিচয় ভিন্ন, যেমন— শ্রমিক সংঘের সদস্যরা শ্রমিক শ্রেণি নামে পরিচিত।

[iv] এ ছাড়া রয়েছে ব্যবসায়ী শ্রেণি বা শিল্পপতি শ্রেণি।

5. শ্রেণিসংগ্রামের প্রকৃতি কী ?

> সমাজে বিভিন্ন শ্রেণি বা গোষ্ঠীর উপস্থিতি লক্ষণীয়। সমাজে বিভিন্ন শ্রেণির উপস্থিতি এবং বিভিন্ন শ্রেণির স্বার্থ বিভিন্ন হওয়ায় একে অপরের মধ্যে সংঘাত অনিবার্য হয়ে পড়ে। বিশেষ করে, সমাজে দুর্বল ও সবল দু-ধরনের শ্রেণির বিভাজন প্রকট। মার্কসের মতে, অর্থনৈতিক দিক থেকে এই বিভাজন হয়ে থাকে সমাজে। দুর্বলরা নিজেদের স্বার্থ প্রতিষ্ঠার জন্য এবং নিজেদের বিশ্বাসের জন্য আন্দোলনে ব্রতী হয়। রাজনীতির ভাষায়, মার্কস একেই শ্রেণিসংগ্রাম বলেছেন। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে এই সংগ্রামই স্থির করে সমাজ কার নিয়ন্ত্রণে থাকবে অর্থাৎ, কার আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হবে।

6. সরকারি প্রক্রিয়ায় জনগণ কীভাবে নিজেকে সংযুক্ত করে ?

> সরকারের গৃহীত নীতির দ্বারাই আমাদের জীবন সার্বিক- ভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়। তাই আমাদের তথা জনগণের উচিত যে সিদ্ধান্তের দ্বারা জনগণের জীবন নিয়ন্ত্রিত হয় সেইদিকে নজর দেওয়া বা যত্নবান হওয়া। সুতরাং, জনগণের উচিত সরকারি

চিত্র সরকারের বিরুদ্ধে জনমত গঠন

চিত্র সরকারের বিরুদ্ধে জনমত গঠন

কাজের প্রতি আগ্রহী হওয়া এবং সচেতন হওয়া। যদি জনগণ মনে করেন সরকারের গৃহীত নীতি তাদের স্বার্থের পরিপন্থী হচ্ছে সেক্ষেত্রে জনগণ একত্রিতভাবে সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে নিম্নরূপে—

[i] সরকারের মতের বিরুদ্ধে প্রচার করে।

[ii] যথার্থ জনমত সংগঠিত করে।

[iii] যদি সরকার জনগণের স্বাধীনতা এবং অন্যান্য অধিকার লঙ্ঘন করে, সেক্ষেত্রে জনগণ সরকারের কাজের বিরুদ্ধে মতবাদ গড়ে তুলে তা প্রচার করতে পারে।

7. 'জনগণ হল গণতন্ত্রের অতন্ত্র প্রহরী'—রাজনৈতিক তত্ত্বের পরিপ্রেক্ষিতে কথাটির ব্যাখ্যা করো।

> রাজনীতির আলোচনায় অনেকখানি জুড়ে আছে সরকারের কর্মকাণ্ড বা কার্যকলাপ। এই কার্যকলাপ আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাপনে যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করে। সরকারের অর্থনৈতিক নীতি, শিক্ষাগত নীতি সবকিছুর ওপর আমাদের জীবন নির্ভরশীলই নয়, প্রভাবিতও বটে। কোনোভাবে যদি সরকার তার কৃতকর্ম সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে না পারে বা সরকার দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে, তাহলে সেই সরকারের দ্বারা গৃহীত যাবতীয় নীতি সমাজ তথা মানবজীবনকে ধ্বংসের মুখে ফেলবে। এই পরিস্থিতি থেকে সমাজকে মুক্ত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন জনগণ—

[i] সজাগ নাগরিক সরকারের দুর্নীতিগ্রস্ত পদক্ষেপের বিরোধিতা করে গণতন্ত্রকে রক্ষার স্বার্থে।

[ii] রাজনৈতিক নেতাদের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি, দুরাচারের বিরুদ্ধে জোটবদ্ধ হতে নাগরিকরা সভাসমিতি করেন, সংঘ, সমিতি গঠনের মাধ্যমে জনমত গড়ে তোলেন।

[iii] সরকারের ভুল বা ত্রুটিযুক্ত সিদ্ধান্তের প্রতি নাগরিকরা কড়া নজর রেখে গণতন্ত্রকে রক্ষা করে।

8. রাজনীতির পরিধির বাইরেও রাজনৈতিক নেতাদের কার্যপরিধি বিস্তৃত—রাজনৈতিক তত্ত্ব কীভাবে এই বক্তব্যটি ব্যাখ্যা করে ?

অথবা, রাজনৈতিক তত্ত্বের সাহায্যে উপরিউক্ত বক্তব্যটির সত্যতা বিচার করো।

> রাজনৈতিক নেতারা এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা যারা নির্বাচনের সঙ্গে অর্থাৎ, নির্বাচনি লড়াইয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত

চিত্র রাজনৈতিক নেতার বক্তৃতা

চিত্র রাজনৈতিক নেতার বক্তৃতা

এবং সরকারি পদ অধিকার করে তারা জনসেবার জন্য কাজ করে। রাজনীতির পরিধির বাইরে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের কাজের সম্প্রসারণ-এর এটাই প্রথম পদক্ষেপ। এ ছাড়াও রাজনীতি নিরাপত্তা এবং নিজের লক্ষ্যপূরণে দক্ষতার সঙ্গে অগ্রসর হয়। অনেক সময় রাজনৈতিক নেতৃত্বরা বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা প্রতিশ্রুতিও দেন। শুধু - তাই নয়, অযোগ্য ব্যক্তিত্বরাও রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করেন। এই ধরনের ধারণা রাজনীতি সম্পর্কে আছে। দুর্ভাগ্যবশত রাজনীতি সম্পর্কে এই সকল ধারণাই সত্যি। রাজনীতি বেশিরভাগ সময়েই ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহৃত হয়, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের দ্বারা।

9. রাজনীতিবিদরা যা করেন রাজনীতি হল তার থেকেও বেশি কিছু। তুমি কি এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত ? উদাহরণ সহযোগে লেখো।

> হ্যাঁ, রাজনীতিবিদরা যা করেন, রাজনীতি তার থেকেও বেশি কিছু। সরকারের একটি অংশ হিসেবে রাজনীতিবিদরা রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু রাজনীতি এর ওপরে অবস্থিত। যে-কোনো সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ও অবিচ্ছেদ্য অংশ হল রাজনীতি। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়—

[i] সরকার কী করছে, কীভাবে তারা জনগণের আশা- আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করছে তার সঙ্গে রাজনীতি জড়িত।

[ii] কীভাবে জনগণ বা মানুষ সংগ্রাম করছে এবং সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করছে তার সঙ্গে রাজনীতি জড়িত।

[iii] মানুষ কীভাবে রাজনৈতিক কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত তার আলোচনা রাজনীতি করে থাকে। এই রাজনৈতিক কার্যকলাপ করতে গিয়ে তারা প্রত্যেকে প্রত্যেকের সঙ্গে আপসরফা করে থাকে যৌথ কার্যকলাপের ক্ষেত্রে।

এই প্রত্যেকের নিজেদের মধ্যে আপসরফার বিষয়টি সামাজিক উন্নয়নকে বাস্তবায়িত করতে এবং জনগণের সাধারণ সমস্যাগুলির সমাধান করতে সাহায্য করে। যেগুলিও রাজনীতির আলোচনার বিষয়বস্তু।


রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর   প্রশ্নমান 6

1. রাজনীতির অর্থ ব্যাখ্যা করো।

> ভূমিকা: ‘রাজনীতি’ বলতে কী বোঝায় তা এককথায় বলা কঠিন। রাজনীতির ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Politics' শব্দটি এসেছে গ্রিক শব্দ ‘Polis’ থেকে, যার অর্থ নগররাষ্ট্র। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক অ্যারিস্টটল Politics নামক তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থের মাধ্যমেই তাঁর রাজনীতির আলোচনার সূচনা করেন, সেখানে রাজনীতি বলতে মূলত তৎকালীন গ্রিক নগররাষ্ট্র সম্পর্কিত আলোচনাকেই বোঝানো হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীকালে এই ধারণার ব্যাপক পরিবর্তন হয়।

[i] রাজনীতি প্রসঙ্গে আধুনিক ধারণা: আধুনিক রাষ্ট্র- বিজ্ঞানীদের মতে—রাজনীতি হল একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে মানবগোষ্ঠীগুলি এমন এক পরিস্থিতির অন্বেষণ করে, যেখানে গোষ্ঠীগুলি শান্তিপূর্ণ ও সফলভাবে নিজেদের উদ্দেশ্যপূরণ করতে পারে। অধ্যাপক অ্যালান বলের মতে, রাজনীতি হল—একধরনের কার্যকলাপ যা সমাজের সকল স্তরের বিরোধ ও তার মীমাংসার সঙ্গে যুক্ত। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী মিলারও বলেছেন যে, যেখানে কোনো বিরোধ নেই, যেখানে কোনো সমস্যা নিয়ে বিতর্ক হয় না- সেখানে রাজনীতি অনুপস্থিত থাকে। মিলার, অ্যালান বল, ল্যাসওয়েল, রবার্ট ডাল প্রমুখের মতে, যেখানেই কোনো বিরোধ আছে, ক্ষমতার লড়াই আছে, সেখানেই আছে রাজনীতি। ডেভিড ইস্টন রাজনীতিকে ব্যাখ্যা করেছেন ‘মূল্যের কর্তৃত্বসম্পন্ন বণ্টন' হিসেবে। এই ব্যাখ্যানুসারে রাজনীতির পিছনে রয়েছে সম্পদের অপ্রতুলতা। সমাজে যেসব প্রয়োজনীয় বস্তু মানুষের চাহিদাপূরণ করে অথচ পরিমাণের দিক থেকে অপ্রতুল সেগুলিই হল 'মূল্য', আর এই অপ্রতুল মূল্যকে সমাজে বণ্টন করে দেওয়ার জন্যই দরকার কর্তৃত্ব'।

[ii] রাজনীতি প্রসঙ্গে মার্কসীয় ধারণা: মার্কসীয় দৃষ্টিতে রাজনীতি হল—একটি শ্রেণিগত ধারণা,

চিত্র লেনিন

চিত্র লেনিন

যা ক্ষমতাকে কার্যকর করার ক্রিয়াকলাপের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকে। তাঁদের মতে, রাজনীতির পিছনে অন্য সব উপাদানের থেকেও অর্থনৈতিক উপাদানের প্রভাবই সবথেকে বেশি। এই কারণেই লেনিন রাজনীতিকে 'অর্থনীতির ঘনীভূত প্রকাশ' বলে উল্লেখ করেছেন। অমার্কসবাদী রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা কিন্তু রাজনীতি ও অর্থনীতির মধ্যে এমন কোনো ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে স্বীকার করেন না।

উপসংহার: সাধারণভাবে রাজনীতি বলতে—আমরা রাজনৈতিক দলগুলি সম্পর্কিত কাজকর্ম এবং সরকার গঠন ও পরিচালন সংক্রান্ত কাজকর্মকে বুঝে থাকি বটে, তবে আধুনিক মানবজীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রকেই প্রভাবিত করে চলেছে রাজনীতি। এই কারণেই রাজনীতি ও আধুনিক সমাজ ওতপ্রোতভাবে যুক্ত হয়ে পড়েছে।

2. সামাজিক ক্রিয়া হিসেবে রাজনীতির প্রকৃতি আলোচনা করো।

> রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক অ্যারিস্টটল তাঁর Politics নামক গ্রন্থের মাধ্যমে রাজনীতি আলোচনার সূচনা করেন। রাজনীতির ইংরেজি প্রতিশব্দ ‘Politics' শব্দটি এসেছে গ্রিক শব্দ 'Polis থেকে, যার অর্থ নগররাষ্ট্র।

রাজনীতির প্রকৃতি : আধুনিক মানুষের জীবন ও সমাজের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে পলিটিক্স বা রাজনীতি। রাজনীতিকে কেন্দ্র করেই মানুষের সমাজজীবন আবর্তিত হয়। সামাজিক ক্রিয়া- কলাপরূপে রাজনীতির প্রকৃতি আলোচনা প্রসঙ্গে যেসব বিষয় আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের গবেষণায় স্থান পেয়েছে, সেগুলি হল—

[i] রাজনীতির আলোচনা সমাজনিরপেক্ষ হতে পারে না। সমাজজীবনের পটভূমিতেই রাষ্ট্রচিন্তার উন্মেষ ঘটে। তাই সমাজজীবনকে বাদ দিয়ে রাজনীতির আলোচনা সম্পূর্ণ হতে পারে না।

[ii] রাজনীতি বলতে আমরা বুঝি সমাজের শাসন প্রক্রিয়া। আর্থার বেন্টলে বলেন, ‘রাজনীতির উপাদানগুলির উৎস কেবলমাত্র রাষ্ট্র নয়, রাজনীতির উৎস হল সমাজ।' অ্যালান বল-এর বক্তব্য হল, “যে-কোনো বিরোধ ও তার নিষ্পত্তিই হল রাজনীতি।' তিনি দেখিয়েছেন একটি পরিবারের দুটি শিশু যদি কোনো খেলনাকে কেন্দ্র করে ঝগড়ায় লিপ্ত হয়, সেইসময় তার মা সেই ঝগড়ার মীমাংসা করে দেন, সেখানেই রাজনীতির জন্ম। এই ভাবে সমাজের ভিতর মানুষে-মানুষে দ্বন্দ্ব বা সংঘাত এবং তার সমাধানের উদ্যোগ থেকেই রাজনীতির জন্ম।

চিত্র অ্যালান বল

চিত্র অ্যালান বল

[iii] আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মতে, সামাজিক গোষ্ঠীসমূহের মধ্যে পারস্পরিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় যেখানে ক্ষমতা ও প্রভাব পরিলক্ষিত হয়, সেখানেই রাজনীতির অস্তিত্ব প্রকটিত হয়। সাম্প্রতিককালের রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা রাজনীতির মুখ্য বিষয়রূপে ক্ষমতার কথা বলেছেন।

[iv] হ্যারল্ড ল্যাসওয়েল বলেন, ‘রাজনীতি হল প্রভাব ও প্রভাবশালীদের আচরণের অনুশীলন।' বর্তমানে জনগণের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক ব্যবস্থার একটি প্রধান বিষয়।

[v] সাম্প্রতিককালে পৌরসমাজের ভূমিকা আধুনিক রাষ্ট্র- বিজ্ঞানীদের রাজনীতির আলোচনায় স্থান অধিকার করেছে। পরিবেশ সংরক্ষণের বিভিন্ন পরিবেশবাদী মঞ, বিশ্বায়ন- বিরোধী সামাজিক মঞ্চ, নারীবাদী ক্ষমতায়ন আন্দোলন প্রভৃতির কথা এই প্রসঙ্গে উল্লেখ করা যায়।

[vi] মার্কসবাদীরা পৃথক দৃষ্টিকোণ থেকে রাজনীতিকে বিশ্লেষণ করেছেন। তাঁদের মতে, রাজনীতি হল একটি শ্রেণিগত ধারণা যা ক্ষমতাকে কার্যকর করার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত। রাজনীতির সঙ্গে অর্থনৈতিক উপাদান গভীরভাবে জড়িত। তাঁদের মতে, ‘রাজনীতি হল অর্থনীতির ঘনীভূত রূপ। প্রচলিত সমাজব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখার জন্য রাজনীতি অর্থনীতির তোষণ করে থাকে।

উপরোক্ত আলোচনার শেষে বলা যায় যে, রাজনীতি সমাজ- বিচ্ছিন্ন কোনো বিষয় নয়। তাই রাজনীতি ও আধুনিক সমাজ ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। মানুষের আর্থিক, বৈষয়িক ও সাংস্কৃতিক জীবনের ওপর রাজনীতির ভূমিকা ক্রমশ বেড়ে চলেছে। রাজনীতির প্রকৃতি সামাজিক ক্রিয়াকলাপের ওপর নির্ভরশীল।

3. রাজনীতি ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান কি এক ? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

> রাজনীতির আক্ষরিক ব্যুৎপত্তিগত অর্থ: রাজনীতি বা ‘Politics' কথাটি গ্রিক শব্দ 'Polis' থেকে এসেছে। ‘Polis' কথাটির অর্থ গ্রিক ভাষায় নগর বা নগররাষ্ট্র । দীর্ঘ আড়াই হাজার বছর আগে গ্রিসের নগর রাষ্ট্রগুলির সামাজিক এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের ওপর নির্ভর করেই অ্যারিস্টটল, প্লেটো তাঁদের রাজনীতির সংজ্ঞা দিয়েছিলেন তথা রাজনীতির অর্থ ব্যাখ্যা করেছিলেন। তৎকালীন নগর রাষ্ট্রগুলির বিরোধ ও বিরোধের মীমাংসাকেই অ্যারিস্টট্ল রাজনীতি হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। পরবর্তীকালের রাষ্ট্র দার্শনিকরাও রাজনীতিকে দ্বন্দ্ব বা বিরোধ এবং এই বিরোধের মীমাংসা হিসেবেই বারংবার চিহ্নিত করেছেন।

চিত্র অ্যারিস্টটল

চিত্র অ্যারিস্টটল

[i] সংকীর্ণ ব্যাখ্যা: আধুনিককালেও রাজনীতি বলতে আমরা প্রাথমিকভাবে ভোটদান এবং ভোটদানকে কেন্দ্র করে যাবতীয় নির্বাচনি কর্মকাণ্ডকেই বুঝি। এ ছাড়া রাজনৈতিক নেতাদের ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করা বা পাইয়ে দেওয়ার রাজনীতিকেই রাজনীতি বলে থাকি। রাজনীতিকে ঘোর কলিযুগে রাজনৈতিক নেতাদের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি হিসেবেও চিহ্নিত করি।

[ii] ব্যাপক অর্থে: কিন্তু উপরে বর্ণিত রাজনীতির ব্যাখ্যা অবশ্যই সংকীর্ণতা দোষে দুষ্ট। রাজনীতি হল সামগ্রিকভাবে সরকারের প্রশাসনিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং গৃহীত সিদ্ধান্ত, যে সিদ্ধান্তের সুষ্ঠু প্রয়োগের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালিত হয় এবং নাগরিকদের কল্যাণ সাধিত হয়।

[iii] রাষ্ট্রবিজ্ঞানের মধ্যে রাজনীতির অবস্থান: রাজনীতির সংকীর্ণ ও ব্যাপক ধারণাকে সামগ্রিকভাবে রাজনৈতিক ধারণা বলতে পারি, যা রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ধারণার একটি অংশ-মাত্র। সম্পূর্ণ রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পরিধির অনেকটি অংশ জুড়ে রয়েছে রাজনীতি। কিন্তু রাজনীতি রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সমষ্টিগত আলোচনা নয়।

[iv] রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ধারণা: রাষ্ট্রবিজ্ঞান মূলত রাষ্ট্র এবং রাষ্ট্রের মধ্যে অবস্থিত অরাষ্ট্রীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। রাষ্ট্র এবং রাষ্ট্রের পরিধির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নিয়ে তাত্ত্বিক আলোচনা করে রাষ্ট্রবিজ্ঞান। এ ছাড়া বিজ্ঞান- সম্মতভাবে এই সমাজ বিজ্ঞানের শাখাটি রাষ্ট্রের তত্ত্ব, কাঠামো, সরকারি কার্যাবলি ও তার আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষণ, আন্তর্জাতিক আইন, সংগঠন ইত্যাদি সম্পর্কে এবং বিভিন্ন প্রকার রাজনৈতিক ব্যবস্থার তুলনামূলক আলোচনা ও মূল্যায়ন করে।

উপসংহার: সুতরাং আমরা বলতে পারি, রাজনীতিকে রাষ্ট্র- বিজ্ঞান নিজের বিস্তৃত পরিধির দ্বারা সমৃদ্ধ করেছে, উন্নত করেছে। রাজনীতিকে আধুনিক যুগের পরিবর্তিত সমাজের সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ করে গতিশীল করে তুলেছে রাষ্ট্রবিজ্ঞান। তাই রাজনীতি এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানের মধ্যে পরিধিগত এবং বিষয়বস্তুগত পার্থক্য থাকলেও উভয়ের মধ্যে সম্পর্কও গভীর। কারণ, রাজনীতির আলোচনা সম্প্রতি সামাজিক প্রক্রিয়ার আলোচনা হিসেবেই বিবেচ্য হয়। আমরা জানি রাষ্ট্রবিজ্ঞান একটি শ্রেষ্ঠ সমাজবিজ্ঞান। রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রক্রিয়া পরস্পরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে। সুতরাং, পরিমাপগত কিছু পার্থক্য থাকলেও রাজনীতি ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সম্পর্কও সুগভীর।

4. রাজনৈতিক তত্ত্বের আলোচ্য বিষয় কী ? অথবা, রাজনৈতিক তত্ত্বের পরিধি আলোচনা করো।

> রাজনৈতিক তত্ত্বের আলোচ্য বিষয়: প্রচলিত ধারণানুসারে বলা যেতে পারে যে, রাজনৈতিক তত্ত্বের পাঠ্যবস্তু হল রাজনৈতিক দর্শন। রাজনৈতিক ধ্যানধারণা এবং প্রধান আলোচ্য বিষয়সমূহ রাজনৈতিক তত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত। সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বিষয়াদি সম্পর্কে বিশদে আলোচনা বা চিন্তাভাবনাই হল রাজনৈতিক তত্ত্ব। সামগ্রিকভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সমাজকে প্রতিনিয়ত প্রভাবিত করে, পরিবর্তিতও করে। কিন্তু কীভাবে করে এবং এর ফলে কতটা প্রভাব বিস্তার করতে পারে, সেই প্রভাব কতটা সুদূরপ্রসারী হবে ইত্যাদি বিষয়গুলিও রাজনৈতিক তত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।

ব্যাপক অর্থে, রাজনৈতিক জীব হিসেবে মানুষ এবং তার রাজনৈতিক ক্রিয়াকলাপ রাজনৈতিক তত্ত্বের আলোচনার অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

রাজনৈতিক তত্ত্বের আলোচনার দুটি দিক। একটি তত্ত্বগত এবং অপরটি হল বাস্তব বা ব্যাবহারিক দিক। রাজনৈতিক তত্ত্বের তত্ত্বগত দিকটি হল সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বিষয়াদি সম্পর্কে বিশদে আলোচনা বা চিন্তাভাবনা। সামগ্রিকভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সমাজকে প্রতিনিয়ত প্রভাবিত করে, পরিবর্তিতও করে। কিন্তু কীভাবে করে এবং এতে কতটা প্রভাব বিস্তার করতে পারে সেই বিষয়গুলি হল রাজনৈতিক তত্ত্বের তাত্ত্বিক দিক। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে মানুষের যাবতীয় চিন্তাভাবনা এবং এই চিন্তাভাবনা প্রভাবিত এবং পরিবর্তিত করে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে, যা নতুন চিন্তার রসদ জোগায়। এখান থেকে নতুন করে রাজনৈতিক তত্ত্বের সূত্রপাত হয়। বিভিন্ন রাষ্ট্রই রাজনৈতিক তত্ত্বের এই তাত্ত্বিক দিককে সংবিধানে যত্নসহকারে স্থান দেয়। রাজনৈতিক তত্ত্বের তাত্ত্বিক দিকটি একদিনে গড়ে ওঠে না এবং যে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী এই চিন্তাভাবনা বা আলোচনার সূত্রপাত করেন, তিনি কোন্ সামাজিক প্রেক্ষাপটে অবস্থান করেন এই বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, তাঁর ওই প্রেক্ষাপট তাত্ত্বিক দিকটিকে সমৃদ্ধ করে। পরবর্তীকালে অ্যারিস্টটল, প্লেটো, মার্কস, মহাত্মা গান্ধি এবং আর আম্বেদকর সকলেই নিজ নিজ সামাজিক প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিয়েছেন। গণতন্ত্র, একনায়ক- তন্ত্র, ন্যায়, সাম্য, স্বাধীনতা, মৈত্রী, ধর্মনিরপেক্ষতা এইসব আদর্শই রাজনৈতিক তত্ত্বের তাত্ত্বিক দিক।

চিত্র বি আর আম্বেদকর

চিত্র বি আর আম্বেদকর

রাজনৈতিক তত্ত্বের তাত্ত্বিক দিকটি আলোচনা করলেই রাজনৈতিক তত্ত্বের আলোচনা সম্পূর্ণ হয় না। রাজনৈতিক তত্ত্বের ব্যাবহারিক দিকটিও গুরুত্বপূর্ণ। সাম্য, স্বাধীনতা, মৈত্রী, গণতন্ত্র, একনায়কতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা প্রভৃতি তত্ত্বগুলির বাস্তবে প্রয়োগও গুরুত্বপূর্ণ। তত্ত্বের আকারে যে নীতিগুলির রূপায়ণ হল তা বাস্তবে কতটা প্রয়োগযোগ্য তা বিবেচনা করাও জরুরি। আর রাজনৈতিক তত্ত্বের এই দিকটি হল তত্ত্বের ব্যাবহারিক বা প্রায়োগিক দিক। এককথায়, তত্ত্বের অন্তর্নিহিত ব্যাখ্যাকে উপলব্ধি না করে প্রয়োগ করা সম্ভব নয়। প্রয়োগের পর কতটা বাস্তবসম্মত হল তা লক্ষ করাও রাজনৈতিক তাত্ত্বিকদের কাজ। যেমন—স্কুলছুট একটি সামাজিক সমস্যা। এই সমস্যাকে রুখতে মিড-ডে মিলের প্রস্তাব নেওয়া হয় এবং তা বাস্তবে প্রয়োগও হয়। কিন্তু তা ছাত্রদের স্কুলমুখী করতে কতটা সক্ষম হয়েছে— এই বিষয়- গুলিই বাস্তবে প্রয়োগ করা হয়। যদিও তা কতটা বাস্তবিক তা নজর রাখা বাঞ্ছনীয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক তাত্ত্বিক, সমাজবিদদের তার্কিক আলোচনার মাধ্যমেই সাম্য, স্বাধীনতা, নাগরিকতা, অধিকার, ন্যায়, ধর্মনিরপেক্ষতা প্রভৃতি বিষয়গুলি বাস্তবে প্রয়োগযোগ্য করে তোলা হয়।

5. আমরা কেন রাজনৈতিক তত্ত্ব অধ্যয়ন করবো ?

> প্রতিটি মানুষই ছোটো থেকে বড়ো হওয়ার সঙ্গে পরিবার ও তার পরিবেশ থেকে নিজস্ব কিছু রাজনৈতিক ধ্যানধারণা নিয়ে বড়ো হয়। কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারণা তাদের মধ্যে সবসময় থাকে না। কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারণা তৈরি করতে রাজনৈতিক তত্ত্ব পড়া বা জানা প্রয়োজন। সুতরাং—

[i] রাজনৈতিক সচেতনতার জন্য রাজনৈতিক তত্ত্ব অধ্যয়নের প্রয়োজন। রাজনৈতিক তত্ত্ব না পড়লে সমাজব্যবস্থা উপলব্ধিতে অভাব তৈরি হবে। সমাজব্যবস্থার ইতিহাস অর্থাৎ দাসপ্রথা, সামন্তপ্রথা ইত্যাদি জানা যাবে না। সুতরাং, বর্তমান সমাজব্যবস্থায় আমরা একদিনে এসে পৌঁছায়নি, তা জানার ক্ষেত্রে ফাঁক তৈরি হবে। আর এই ফাঁকপূরণ করবে রাজনৈতিক তত্ত্ব। এ ছাড়া রাজনৈতিক সচেতনতার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হল প্রশাসনিক ব্যবস্থা তথা শাসনব্যবস্থা অর্থাৎ, গণতন্ত্র না একনায়কতন্ত্র। এসব কিছুই জানা সম্ভব রাজনৈতিক তত্ত্বের মধ্যে। সর্বোপরি, নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলার জন্য সাম্য-মৈত্রী-স্বাধীনতার তত্ত্ব বিশদে জানা আবশ্যিক। যা রাজনৈতিক তত্ত্বের থেকেই আমরা জানতে পারি।

[ii] রাজনৈতিক তত্ত্বের সম্যক ধারণা থাকলে সাধারণ মানুষ রাষ্ট্রের কাছে তাদের নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হবে। রাজনৈতিক তত্ত্বের অধ্যয়নে সাধারণ মানুষের বুদ্ধির বিকাশ তরান্বিত হয়, ফলে একটি রাষ্ট্রের প্রকৃতি সম্পর্কে অবহিত হয়। এর থেকে রাজনৈতিক দলগুলির মতাদর্শ সম্পর্কে জ্ঞাত হওয়ার সুযোগ পায় । এতে নিজেদের মত গঠনে ইতিবাচক পদক্ষেপ নিতে পারে, যা ভোটদানকে প্রভাবিত করে।

[iii] রাজনৈতিক তত্ত্ব কোনো-না-কোনোভাবে আমাদের প্রত্যেকের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আমরা জনগণ, যে পেশাই অবলম্বন করে জীবনধারণ করি না কেন সবকিছুই রাজনীতির দ্বারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রভাবিত হয়ে থাকে। যেমন—আমরা প্রত্যেকেই প্রাথমিকভাবে অঙ্ক শিখি, যেটা শুধুমাত্র গণিতশাস্ত্রবিদ বা ইঞ্জিনিয়ার হব বলে নয়। আমাদের দৈনন্দিন জীবনধারণের জন্যও এটি কাজে লাগে।

[iv] রাজনৈতিক তত্ত্ব অধ্যয়নের ফলে ব্যক্তিনাগরিক একাধারে সমাজ, রাষ্ট্র, শাসনপ্রণালী, কর্তৃপক্ষের ধরন বা প্রকৃতি, গণতন্ত্র, একনায়কতন্ত্র, রাজনীতি প্রভৃতি সম্পর্কে বিশদে জ্ঞানার্জনের সুবিধা পায়। সেইমতো সমাজের প্রতি তাদের নিজেদের দায়িত্বপালন সম্পর্কে সচেতন হয়। প্রয়োজনে বিরোধী মত গঠন করে সমাজের মঙ্গলসাধনে ব্রতী হয়। এইভাবে সমাজ সচেতনতা বৃদ্ধি পায়।

[v] সবশেষে বলা যায়, আমরা ছাত্রছাত্রীরা বিতর্ক, প্রতিদ্বন্দ্বিতা উপভোগ করতে পছন্দ করি। সঠিক-ভুল, ন্যায়-অন্যায় সম্পর্কে আমাদের মতামত আছে কিন্তু কখন, কোন্ পরিস্থিতিতে কোটি ঠিক বা যুক্তিসংগত, কোটি ভুল বা যুক্তিসংগত নয়—এই ধারণাটি পরিষ্কার নয়। রাজনৈতিক তত্ত্ব আমাদের সামনে পদ্ধতিগত চিন্তাভাবনার দরজাটি খুলে দেয়। জনস্বার্থে সাম্য, ন্যায় ইত্যাদি ধারণাগুলির ব্যবহার সম্পর্কে আমাদের সামনে সঠিক পথ দেখাতে সাহায্য করে।

6. রাজনীতির বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো ৷

> রাজনীতির সংজ্ঞা নিয়ে বিভিন্ন মতভেদ আছে। বিভিন্ন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী বিভিন্ন সংজ্ঞা প্রদান করেছেন। সেখান থেকেই রাজনীতির নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যগুলি নির্ধারণ করা হয়েছে—

[i] রাজনীতি ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকে গুরুত্ব দেয় এবং ব্যক্তির সঙ্গে গোষ্ঠীর সম্পর্ককে ব্যাখ্যা করে।

[ii] রাজনীতি ব্যক্তির আচরণ এবং ব্যক্তির সমাজের প্রতি আচরণকে ব্যাখ্যা করে।

[iii] রাজনীতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল মানুষকে সরকারি কার্যকলাপ সম্পর্কে অবহিত করা।

[iv] নাগরিকরা সরকারি কার্যকলাপের প্রতি সতর্ক হবে— এটিও রাজনীতিরই পাঠ।

[v] আধুনিক রাজনীতি সমাজ জীবনের একটি শাখা হিসেবে নিজের পরিচয়কে তুলে ধরে।

[vi] রাজনীতিকে অধ্যাপক শ্রেণি সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণের একটি প্রক্রিয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

আগামী' কবিতাটি 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

আগামী Class 12 Bengali Question 2023 সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো (MCQ)  প্রশ্নমান ১ class 12 bengali mcq question answer ১. “ক্ষুদ্র আমি তুচ্ছ নই”-বক্তা কে ? (ক) বৃক্ষ শিশু (খ) বনস্পতি (গ) বটবৃক্ষ (ঘ) সদ্য অঙ্কুরিত বীজ উত্তর: (ঘ) সদ্য অঙ্কুরিত বীজ। ২. অঙ্কুরিত বীজের ক্ষুদ্র শরীরে বাজে— (ক) ঝড় (খ) বৃষ্টি (গ) ভূমিকম্প (ঘ) তুফান উত্তর: (ক) ঝড়। ৩. অঙ্কুরিত বীজের শাখায় প্রত্যাহত হবে— (ক) পত্রমর্মর (খ) মর্মরধ্বনি (গ) পাখির কূজন (ঘ) বিচিত্রধ্বনি উত্তর: (খ) মর্মরধ্বনি । ৪. অঙ্কুরিত বৃক্ষশিশু অরণ্যের বিশাল চেতনা অনুভব করে— (ক) পত্রে (খ) পুষ্পে (গ) শিকড়ে (ঘ) শাখায় উত্তর: (গ) শিকড়ে। ৫. “জানি তারা মুখরিত হবে”—কীভাবে ? (ক) নব শতকের গানে (খ) নতুন দিনের গানে (গ) নব তারণ্যের গানে (ঘ) নব জীবনের গানে উত্তর: (গ) নব অরণ্যের গানে। ৬. অঙ্কুরিত বৃক্ষশিশু নব অরণ্যের গানে মিশে যাবে— (ক) বসন্তে (খ) বর্ষায় (গ) গ্রীষ্মে (ঘ) শীতে উত্তর: (ক) বসন্তে। ৭. অঙ্কুরিত বীজ কোথায় মিশে যাবে ? (ক) অরণ্যের দলে (খ) বৃহতের দলে (গ) ক্ষুদ্রের দলে (ঘ) মহীরুহ-র দলে উত্তর: (খ) বৃহতের দলে। ৮. অঙ্কুরিত বীজ নিজেকে বলেছে— (ক) ভ...

বীরচন্দ্র মানিক্য থেকে বীরবিক্রম কিশোর মানিক্য পর্যন্ত ত্রিপুরার আধুনিকীকরণ সম্পর্কে আলোচনা কর।

 Discuss the modernization of Tripura from Birchandra Manikya to Bir Bikram Kishor Manikya. বীরচন্দ্র মানিক্য থেকে বীরবিক্রম কিশোর মানিক্য পর্যন্ত ত্রিপুরার আধুনিকীকরণ সম্পর্কে আলোচনা কর।  ত্রিপুরায় আধুনিক যুগের সূচনা হয় মহারাজ বীরচন্দ্র মানিক্যের শাসনকালে। তিনি ব্রিটিশ ভারতের শাসন পদ্ধতির অনুকরণে ত্রিপুরার শাসন ব্যবস্থার সংস্কার করেণ এবং লিখিত আইন কানুন প্রনয়নের মাধ্যমে বিচার ব্যবস্থাকে সুসংবদ্ধ ও সুসংগঠিত করেণ। মোটের উপর বীরচন্দ্রমানিক্য (১৮৬২-১৮৯৬ খ্রি:) তাঁর আমলে ত্রিপুরা রাজ্য এক নতুন রূপ লাভ করে। ১) মিউনিসিপ্যালিটি গঠন তিনি ১৮৭১ খ্রিস্টাব্দে আগরতলা মিউনিসিপ্যালিটি গঠন করেন। তবে নাগরিক জীবনের সুযোগ সুবিধা বিধানে কিংবা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা হিসাবে দীর্ঘকাল কোনো কার্যকারী ব্যবস্থা গ্রহণে আগরতলা মিউনিসিপ্যালিটি ছিল ব্যর্থ। ১৯৮১ খ্রিস্টাব্দের ৩ জুলাই ডবলিউ. বি. পাওয়ার সাহেব ত্রিপুরা রাজ্যের প্রথম পলিটিক্যাল এজেন্ট নিযুক্ত হন।  ২) বিচার সংক্রান্ত সংস্কার প্রাচীনকাল হতে দেওয়ানি ও ফৌজদারি সংক্রান্ত বিচারের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি মহারাজ স্বয়ং সম্পাদন করতেন। ১৮৭২ খ্রিস্টা...

বীরচন্দ্র মানিক্যের পূর্ববর্তী সময়ে ত্রিপুরার অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা সম্পর্কে আলোচনা কর।

 Discuss the social and economic condition of Tripura before the accession of Birchandra Manikya. বীরচন্দ্র মানিক্যের পূর্ববর্তী সময়ে ত্রিপুরার অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা সম্পর্কে আলোচনা কর। ভূমিকা ত্রিপুরার মাণিক্য উপাধিকারী রাজন্যবর্গের মধ্যে কেউ কেউ ছিলেন আত্মমর্যাদাজ্ঞানহীন, ক্ষমতালোভী ও ষড়যন্ত্রী। এসব ক্ষমতালোভী ও ষড়যন্ত্রীরা মুঘল ফৌজদারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে অধিক সংখ্যক হাতি, নিয়মিত উচ্চ হারে খাজনা, নজরানা ইত্যাদি দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাজত্বের সনদ লাভ করতেন। এটা ত্রিপুরার দুর্বল অর্থনীতির উপর এক বিরাট আঘাত ও স্থায়ী ক্ষতস্বরূপ ছিল। তবে এ সময়ের শুভদিক হল ত্রিপুরায় ব্রিটিশ ভারতের অনুকরণে আইন প্রণয়নের সূত্রপাত, প্রশাসনিক বিধিব্যবস্থার প্রবর্তন, অর্থনৈতিক উন্নয়নের উন্মেষ ও সামাজিক সংস্কার। Economic Condition ১) চাষাবাদ ও কৃষি ত্রিপুরার অধিবাসীদের প্রধান জীবিকা হল কৃষি। কৃষিজ উৎপাদনের মধ্যে ধান, গম, আলু, আখ, সরিষা, ডাল জাতীয় শস্য, কার্পাস, তুলো, কচু, আদা, তরমুজ ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। শিকার ও পশুপালন করেও তারা জীবিকা নির্বাহ করত। এখানকার চাষযোগ্য সমতল জমির সাথে ...