পরিবহণ
ত্রিপুরার সড়কপথ , রেলপথ , জলপথ এবং আকাশপথ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা ( প্রশ্নোত্তরসহ ) দেওয়া হল ।
সড়কপথ
উত্তর - পূর্বাঞ্চলের একটি অরণ্যসংলগ্ন রাজ্য হল ত্রিপুরা । এই রাজ্যটি পর্বতময় । ভূপ্রকৃতি উঁচুনীচু , ঘন জঙ্গলে পরিপূর্ণ । রাজ্যের ৬০ শতাংশ ভূখণ্ডই পার্বত্য অঞ্চল । ছ - টি বড়ো পর্বতশ্রেণি সমান্তরালভাবে উত্তর - দক্ষিণে সারারাজ্যে ছড়িয়ে আছে । সহজেই অনুমান করা যায় , এই রাজ্যের রাস্তাঘাট নির্মাণ কী পরিমাণে কষ্টকর ও ব্যয়সাধ্য ছিল । ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দ থেকে সড়ক নির্মাণকার্য শুরু হয় । প্রাথমিক অবস্থায় তৈরি হওয়া সড়কের নাম ছিল কুর্তি রোড । পরে তা ‘ অসম - আগরতলা রোড ’ নামে পরিচিতি লাভ করে । এই সড়ক নির্মাণে বহুশ্রম , বহুঅর্থ ব্যয়িত হয়েছে । শুধুমাত্র পাহাড় নয় , ত্রিপুরার পাহাড়ি নদী এবং খরস্রোতা নদীগুলিকে শাসনে এনে প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে সড়কপথ নির্মাণকার্য সত্যিই কঠিন ছিল ।
অবশেষে বহুবাধাবিঘ্ন অতিক্রম করে অসম - আগরতলা রোড আজ ত্রিপুরার জীবনরেখা হিসেবে ত্রিপুরার যোগাযোগ ও পরিবহণ ব্যবস্থার মধ্যমণি হয়ে আছে । ‘ অসম - আগরতলা সড়ক ’ বর্তমানে ত্রিপুরার বৃহত্তম সড়ক । ত্রিপুরার দ্বিতীয় বৃহত্তম সড়ক হল আগরতলা - সাব্রুম রোড , যার দৈর্ঘ্য ১৩৩ কিলোমিটার । এই রাস্তাটি বর্তমানে জাতীয় সড়কের মর্যাদা পেয়েছে । বর্তমানে ত্রিপুরায় ৮৫৩ কিমি জাতীয় সড়ক বিদ্যমান ।
১. ত্রিপুরার প্রধান জাতীয় সড়ক পরিবহণ ব্যবস্থার নাম কী ?→ ৪৪ নং জাতীয় সড়ক পরিবহণ ব্যবস্থা ।
২. ৪৪ নং জাতীয় সড়কটি অসমের কোন্ স্থান থেকে শুরু হয়েছে ?
→ অসমের চোরাইবাড়ি থেকে ।
৩. ধর্মনগর থেকে আগরতলা হয়ে সাব্রুমের দূরত্ব কত কিমি ?
→ ৩৩২ কিমি ।
৪. জাতীয় সড়কপথে আগরতলা থেকে ধর্মনগরের দূরত্ব কত কিমি ?
→ ১৯৫ কিমি ।
৫. আগরতলা থেকে সাব্রুমের দূরত্ব কত কিমি ?
→ ১৩৭ কিমি ।
৬. আগরতলা থেকে শিলচরের দূরত্ব কত কিমি ?
→ ৩০৬ কিমি ।
৭. ধর্মনগর থেকে সড়কপথে শিলচরের দূরত্ব কত কিমি ?
→ ১৪০ কিমি ।
৮. আগরতলা থেকে সড়কপথে শিলং - এর দূরত্ব কত কিমি ?
→ ৪৯৭ কিমি ।
৯. আগরতলা থেকে সড়কপথে কলকাতার দূরত্ব কত কিমি ?
→ ১,৬৫৩ কিমি ।
১০. ত্রিপুরা সরকার দ্বারা পরিচালিত পরিবহণ প্রতিষ্ঠানটির নাম কী ?
→ ত্রিপুরা রোড ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন ।
১১. রাজ্য সরকারের ‘ পরিবহণ ভবনটি ’ কোথায় অবস্থিত ?
→ আগরতলায় আস্তাবল মাঠসংলগ্ন স্থানে ।
১২. আন্তর্জাতিক বাস - স্টেশনটি কোথায় অবস্থিত ?
→ আগরতলার কৃষ্ণনগরে ।
১৩. আগরতলা - ঢাকা বাস সার্ভিস কবে চালু হয় ?
→ ২২ সেপ্টেম্বর , ২০০৩ খ্রিস্টাব্দে ।
১৪. আগ্রতলা এবং ঢাকার মধ্যে চলাচলকারী বাসগাড়ি দুটির নাম কী ?
→ মৈত্রী ( ভারত ) , আগরতলা থেকে ঢাকা এবং শ্যামলী ( বাংলাদেশ ) , ঢাকা থেকে আগরতলা ।
১৫. ইন্টার - স্টেট বাস টার্মিনালটি কোথায় অবস্থিত ?
→ আগরতলার উপকণ্ঠে চন্দ্রপুরে ।
রেলপথ
রেলপথ তিন রকমের হয়— ( ১ ) ব্রড গেজ , ( ২ ) মিটার গেজ এবং ( ৩ ) ন্যারো গেজ ।
বর্তমানে ত্রিপুরা রাজ্যে ব্রড গেজে রেল চলে । যোগাযোগের ক্ষেত্রে ত্রিপুরা রেল - মানচিত্রে এক উল্লেখযোগ্য স্থান করে নিয়েছে । বর্তমানে আগরতলা পর্যন্ত প্যাসেঞ্জার এবং এক্সপ্রেস ট্রেনগুলি প্রচুর যাত্রী নিয়ে যাতায়াত করছে । ত্রিপুরাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন আজ বাস্তবায়িত হয়েছে ।
পত্রিপুরায় রেলপথ চালু হয় → ২২ এপ্রিল , ১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দে
ত্রিপুরা কোন্ রেল অঞ্চলের অধীন → নর্থ ফ্রন্টিয়ার রেলওয়ে
এনএফ রেলওয়ের সদর দপ্তর → মালিগাঁও ( গুয়াহাটি )
বর্তমানে ত্রিপুরার প্রধান রেলওয়ে স্টেশন → ডুকলি
বর্তমানে ত্রিপুরার অভ্যন্তরে চালু রেলপথের দৈর্ঘ্য → ২০২ কিমি
বর্তমানে ত্রিপুরায় আগরতলা থেকে যাতায়াত করা যায় → দিল্লি , কলকাতা , গুয়াহাটি , শিলচর , ধর্মনগর ও উদয়পুর ( ত্রিপুরা )
ধর্মনগর থেকে আগরতলা পর্যন্ত মোট ক - টি রেলস্টেশন আছে ? → ১৪ টি
আগরতলা থেকে উদয়পুর পর্যন্ত ক - টি রেলস্টেশন আছে ? → ৫ টি
ধর্মনগর থেকে আগরতলা পর্যন্ত রেলপথের মোট দৈর্ঘ্য → ১৪৪ কিমি
আগরতলা থেকে উদয়পুর পর্যন্ত রেলপথের মোট দৈর্ঘ্য → ৪৪ কিমি
ধর্মনগর থেকে আগরতলা পর্যন্ত রেলস্টেশনগুলির নাম → ধর্মনগর , পানিসাগর , পেচারথল , কুমারঘাট , নালকাটা , মনু , এস কে পাড়া , জওহরনগর , আমবাসা , মুঙ্গিয়াকামী , তেলিয়ামুড়া , জিরানিয়া , যোগেন্দ্রনগর , আগরতলা ।
আগরতলা থেকে উদয়পুর পর্যন্ত রেলস্টেশন গুলির নাম → আগরতলা , সেকেরকোর্ট , বিশালগড় , বিশ্রামগঞ্জ , উদয়পুর ।
ত্রিপুরার সবচেয়ে বড়ো রেল সুড়ঙ্গ → লংতরাই পাহাড়ের সুড়ঙ্গ , ১,৮৮৮ মিটার দৈর্ঘ্য ।
পাহাড় অঞ্চলে রেল - সুড়ঙ্গের সংখ্যা → ১১ টি |
ত্রিপুরার অভ্যন্তরে অসমসংলগ্ন রেলস্টেশনের নাম → চুরাইবাড়ি
ত্রিপুরার অভ্যন্তরে বর্তমানে রেলস্টেশনের সংখ্যা → ২০ টি
ত্রিপুরার ব্রড গেজ রেললাইন চালু হয় → ২০১৬ খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাসে
ধর্মনগর - আগরতলা যাত্রীবাহী ট্রেন ( একজোড়া চালু হয় ব্রড গেজ ) → ৭ আগস্ট , ২০১৬ খ্রিস্টাব্দে
আগরতলা – শিয়ালদহ কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস প্রতি মঙ্গল ও শনিবার ( চালু হয় → ৭ অক্টোবর , ২০১৬ খ্রিস্টাব্দ )
আখাউরা - আগরতলা রেলপথের শিলান্যাস হয় → ৩১ জুলাই , ২০১৬ খ্রিস্টাব্দে
আগরতলা থেকে সাব্রুম পর্যন্ত রেলপথ → ১১০ কিমি
নর্থ ফ্রন্টিয়ার রেলওয়ের শাখা দফতর → আগরতলার গুর্খাবস্তিতে পণ্ডিত নেহরু কমপ্লেক্স
ত্রিপুরার অভ্যন্তরে রেল চলাচল করছে → ধর্মনগর থেকে আগরতলা কাজ চলছে আগরতলা — সাব্রুম ভায়া বিলোনিয়া |
ধর্মনগর থেকে আগরতলা পর্যন্ত রেলপথের মোট দৈর্ঘ্য → ১৭৫ কিমি
কুমারঘাট থেকে আগরতলা পর্যন্ত রেলপথে মোট রেলসেতুর সংখ্যা → ছোটো : ১৭০ টি , বড়ো : ১৫ টি
যে - ক - টি যাত্রীবাহী ট্রেন আগরতলা পর্যন্ত যাতায়াত করে → ১. দিল্লি - আগরতলা ( এক্সপ্রেস ) ২. শিলচর - আগরতলা ( প্যাসেঞ্জার ) ৩. আগরতলা - কলকাতা ( প্যাসেঞ্জার ) ৪. কলকাতা আগরতলা ( মৈত্রী এক্সপ্রেস )
বাংলাদেশের সঙ্গে সংযোগের রেলপথ → আগরতলা - আখাউরা রেলসংযোগ শিলান্যাস হয় ৩১ জুলাই ২০১৬ খ্রিস্টাব্দে
ব্রড গেজে চালু হওয়া আগরতলা - নয়া দিল্লি ত্রিপুরাসুন্দরী এক্সপ্রেস ’ - এর আত্মপ্রকাশ ঘটেছে → ৩১ জুলাই , ২০১৬ খ্রিস্টাব্দে
আগরতলা - কলকাতা কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস চালু হয় → ৭ অক্টোবর , ২০১৬ খ্রিস্টাব্দে । প্রান্তিক | স্টেশন - শিয়ালদহ
জলপথ
জলপথ ত্রিপুরা রাজ্যে প্রায় নেই বললেই চলে । কারণ ত্রিপুরার নদীগুলি সংবৎসর নাব্য নয় । তবু যে জলপথ একেবারেই ব্যবহৃত হয় না , তা নয় । অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ এবং বনজসম্পদ পরিবহণের কাজে ত্রিপুরার গোমতী , মনু ও জুরী নদী বর্ষা এবং শরৎকালে ব্যবহার করা হয় । অমরপুর মহকুমার ডম্বুর ও রইস্যাবাড়ি অঞ্চলে নৌকাযাত্রী ও মাল পরিবহণের ব্যবস্থা চালু আছে ।
আকাশপথ
ত্রিপুরার অন্যতম যোগাযোগ ব্যবস্থা হল আকাশপথ । ভারতের মূলভূখণ্ডের সঙ্গে সংযোগস্থাপনের জন্য আকাশপথ এই রাজ্যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ । আপদকালীন সময়ে এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য এই আকাশপথের গুরুত্ব অপরিসীম । সহজ যাতায়াতের উপায় হিসেবে আকাশপথই এই রাজ্যে জনপ্রিয় । বর্তমানে রাজ্যের রাজধানী আগরতলা থেকে বহুসরকারি ও বেসরকারি বিমান কলকাতা , দিল্লি , গুয়াহাটি ও শিলচর যাতায়াত করে ।
বর্তমানে রাজ্যের অভ্যন্তরে আকাশপথে যাতায়াতের জন্য হেলিকপ্টার সার্ভিস চালু হয়েছে । যদিও বিমানপথের যাতায়াতের খরচ খুবই ব্যয়সাধ্য ব্যাপার , তবু ত্রিপুরার মানুষের কাছে এই বিমানপথই বহিত্রিপুরার সঙ্গে যোগাযোগের সহজতম উপায় ।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
১. কবে আগরতলা বিমানবন্দরের পত্তন হয় ?
→ ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে আগরতলা বিমানবন্দরের পত্তন হয় ।
২. আগরতলায় চালু বিমান সংস্থাগুলি কী কী ?
→ আগরতলায় চালু বিমান সংস্থাগুলি হল — এয়ার ইন্ডিয়া , ইন্ডিগো , স্পাইসজেট , ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্স , জেট এয়ারওয়েস ইত্যাদি ।
৩. ত্রিপুরা রাজ্যে হেলিকপ্টার সার্ভিস কোন্ সংস্থা পরিচালনা করে ?
→ ত্রিপুরা রাজ্যে হেলিকপ্টার সার্ভিস পবনহংস সংস্থা পরিচালনা করে ।
৪. কবে রাজ্যে হেলিকপ্টার সার্ভিস চালু হয় ?
→ ২০০২ খ্রিস্টাব্দের অক্টোবর মাসে রাজ্যে হেলিকপ্টার সার্ভিস চালু হয় ।
৫. রাজ্যের অভ্যন্তরে কোন কোন স্থানে হেলিকপ্টার সার্ভিস চালু আছে ?
→ আগরতলা , কৈলাসহর , ধর্মনগর , কাঞ্চনপুর , গন্ডাছড়া প্রভৃতি ২০ টি স্থানে হেলিকপ্টার সার্ভিস চালু আছে ।
৬. আকাশপথে আগরতলা থেকে কলকাতা শহরের দূরত্ব কত ?
→ আকাশপথে আগরতলা থেকে কলকাতা শহরের দূরত্ব ৩১৫ কিমি ।
৭. আগরতলা শহর থেকে বিমানবন্দরের দূরত্ব কত কিমি ?
→ আগরতলা শহর থেকে বিমানবন্দরের দূরত্ব ১২ কিমি ।
৮. সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদনক্রমে আগরতলা বিমানবন্দরের নতুন নামকরণ কি করা হয়েছে ?
→ বীরবিক্রম মাণিক্য কিশোর বিমানবন্দর রাখা হয়েছে ।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন