সংবধানের 74-তম সংবিধান সংশোধনের বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো।
74-তম সংবিধান সংশোধনী আইনটি (1992) মূলত 'নগরপালিকা' আইন নামে পরিচিত। 1994 খ্রিস্টাব্দের 1 জুন থেকে এটি কার্যকর হয়। এর মাধ্যমে ভারতের পৌরসংস্থাগুলি সাংবিধানিক স্বীকৃতি লাভ করে এবং সর্বভারতীয় স্তরে একটি পৌরনীতি গৃহীত হয়। এর প্রধান প্রধান ধারাগুলি ও তার বৈশিষ্ট্যগুলি হল নিম্নরূপ-
[i] 243P: এই ধারায় কমিটি জেলা, মেট্রোপলিটান এলাকা, গৌরএলাকা, পৌরসভা প্রভৃতির সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। 'পৌরসভা' বলতে বোঝানো হয়েছে স্বশাসনের একটি প্রতিষ্ঠান।
[ii] 243Q: এই ধারায় বলা হয়েছে-প্রতিটি রাজ্যে পৌরসভা গঠিত হবে। এই আইন পৌরএলাকার স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান- গুলির জন্য তিন ধরনের সংস্থা গঠনের ব্যবস্থা করেছে।
[a] নগর পঞ্চায়েত সংগঠন, গ্রাম থেকে শহরে রূপান্তরের পর্যায়ে মধ্যবর্তী সংগঠন হিসেবে,
[b] পৌর কাউন্সিল,
[c] পৌর কর্পোরেশন।
[iii] 243R: পৌরসভা 6 ধরনের সদস্য নিয়ে গঠিত হবে বলে এই আইনে ঘোষণা করা হয়েছে।
[a] প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধিবৃন্দ,
[b] পৌরপ্রশাসন বিষয়ে বিশেষ জ্ঞানসম্পন্ন কয়েকজন মনোনীত ব্যক্তি (এদের ভোটাধিকার নেই),
[c] সংশ্লিষ্ট এলাকার লোকসভায় নির্বাচিত প্রতিনিধিবৃন্দ,
[d] সংশ্লিষ্ট এলাকার বিধানসভার প্রতিনিধিবৃন্দ,
[e] রাজ্যসভা ও বিধান পরিষদের সদস্য যাঁরা পৌর- সভার নথিভুক্ত ভোটদাতা এবং
[f] পৌর কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন কমিটির সভাপতিবৃন্দ।
[iv] 243S: এই ধারায় বলা হয়েছে, ও লক্ষ বা তার বেশি জনসংখ্যাবিশিষ্ট পৌরসভায় এক বা একাধিক ওয়ার্ড নিয়ে ওয়ার্ড কমিটি গঠিত হয়। রাজ্য আইনসভা, আইন প্রণয়নের মাধ্যমে এর গঠন ও এলাকা স্থির হয়।
[v] 243T: এই ধারায় SC ও ST-দের আসন সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে এবং 243Uনং ধারায় বলা হয়েছে এর কার্যকাল 5 বছর, তবে এর পূর্বেই একে ভেঙে দেওয়া যায়। তখন 6 মাসের মধ্যে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হয়।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন