সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

বৈশিষ্ট্যযুক্ত পোস্ট

ত্রিপুরা রাজ্য কিভাবে স্বাধীন ভারতের সাথে যুক্ত হয় ?

 How did Tripura Join as a State of Independent India? ত্রিপুরা রাজ্য কিভাবে স্বাধীন ভারতের সাথে যুক্ত হয় ? ভূমিকা ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ১৭ মে ত্রিপুরার মহারাজা বীর বিক্রম কিশোর মানিক্য বাহাদুর ৩৯ বছর বয়সে পরলোক গমন করলে তার পুত্র কিরীট বিক্রম কিশোর দেববর্মন মানিক্য বাহাদুর ত্রিপুরা রাজ্য ও চাকলা রোশনাবাদের জমিদারি উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত হন। তিনি নাবালক থাকায় ভারত সরকারের পরামর্শ অনুযায়ি রাজমাতা মহারাণি কাঞ্চনপ্রভা দেবীর নেতৃত্বে রাজপ্রতিনিধি শাসন পরিষদ বা কাউন্সিল অব রিজেন্সি গঠিত হয়। মহারাণি কাঞ্চনপ্রভা দেবী এই পরিষদের প্রেসিডেন্ট এবং রাজকুমার ব্রজেন্দ্র কিশোর দেববর্মন বাহাদুর ভাইস প্রেসিডেন্ট নিযুক্ত হন। মেজর বঙ্কিম বিহারী দেববর্মন ও মন্ত্রী রাজরত্ন সত্যব্রত মুখার্জি এই পরিষদের সদস্য নিযুক্ত হন। (২) পাকিস্তানের ত্রিপুরা আক্রমনের ষড়যন্ত্র ভারত স্বাধীনতা লাভের অল্পদিনের পরেই ত্রিপুরা রাজ্য এক গভীর সঙ্কটের সম্মুখীন হয়। ত্রিপুরা সীমান্তস্থিত কুমিল্লার মুসলিম ন্যাশনাল গার্ডের উদ্যোগে ও আগরতলার কতিপয় ব্যক্তির সহযোগিতায় পাকিস্তান ত্রিপুরা আক্রমনের পরিকল্পনা করে। ত্রিপুরার রা...

সংবিধানের দর্শন বলতে কী বোঝায়?

সংবিধানের দর্শন বলতে কী বোঝায়?

সংবিধান কতকগুলি আইনের সমষ্টি নয়। এই আইনের সঙ্গে মূল্যবোধ, নৈতিকতা ইত্যাদিও জড়িত থাকে। এ কথা ঠিক যে, সব আইনের মধ্যে মূল্যবোধ, নৈতিকতা খুঁজতে যাওয়াটা ঠিক নয়। কারণ, আইনের একটি আইনগত দিক থেকে যায়। কিন্তু বেশিরভাগ আইনের মধ্যেই মূল্যবোধ লুকিয়ে থাকে। আমাদের সংবিধানের আইনগুলির মধ্যেও একটি নৈতিক লক্ষ্য লুকিয়ে আছে। সুতরাং সংবিধানের রাজনৈতিক দর্শনের বিষয়টিও আমাদের বুঝতে হবে।

প্রথমত, আমাদের বুঝতে হবে সংবিধানের ধারণাগত কাঠামোটিকে। যেমন-অধিকার, নাগরিকতা, গণতন্ত্র ইত্যাদির মতো ধারণাগত নিয়মগুলিকে।

দ্বিতীয়ত, আমাদের বুঝতে হবে রাজনীতি সমাজের লক্ষ্য সংবিধানকে ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

সর্বশেষ ভারতীয় সংবিধানকে বুঝতে হবে গণপরিষদের বিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, যার মধ্যে দিয়ে সংবিধানের তত্ত্বগত বিষয়গুলি দাঁড়িয়ে আছে।

গণতান্ত্রিক রূপান্তরের মাধ্যম হিসেবেসংবিধান

সংবিধানের প্রয়োজন ক্ষমতার প্রয়োগকে নিয়ন্ত্রিত করার জন্য। আধুনিক রাষ্ট্র হল প্রচণ্ড পরিমাণে শক্তিশালী বা ক্ষমতাশালী রাষ্ট্র। এই আধুনিক রাষ্ট্র ক্ষমতার একচেটিয়া দখল ও প্রয়োগের ওপর বিশ্বাসী। যার ফলে বর্তমানের এই চরম ক্ষমতাপ্রবণ রাষ্ট্র যদি ভুল হাতে পড়ে যায় তাহলে ক্ষমতার অপপ্রয়োগ অবশ্যম্ভাবী। যদি রাষ্ট্র নামক প্রতিষ্ঠানটির সৃষ্টি হয়ে থাকে আমাদের নিরাপত্তা ও ভালোভাবে রাখার জন্য তাহলে ভুল হাতে পড়ে রাষ্ট্রের প্রকৃত উদ্দেশ্যটি মাঠে মারা যাবে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহারের ফলে এটি আমাদের বিরুদ্ধেই ব্যবহৃত হবে। ফলে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ যে-কোনো জনগণ করতে পারে। সুতরাং, সাংবিধানিক আইনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার শৃঙ্খলিত প্রয়োগের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে। না হলে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অস্বাভাবিক অপপ্রয়োগের ফলে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র স্বৈরতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত হবে। সংবিধান সর্বদা শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক উপায়ে সামাজিক পরিবর্তনের পক্ষে কথা বলে থাকে।

আমাদের কেন গণপরিষদে ফিরে যাওয়ার প্রয়োজন হল?

সারা পৃথিবী যখন উন্নতির চরম পর্যায়ে পৌঁছে গেছে তখন আমাদের প্রশ্ন জাগতে পারে কেন আমরা ফেলে আসা দিনগুলির দিকে তাকাব। এটা একমাত্র স্বীকৃত ঐতিহাসিকের গুরুদায়িত্ব। তাঁদের কাজ হল অতীতকে ফিরে দেখা। ছাত্র হিসেবে আমাদের যদি মূল বিষয় রাজনীতি হয়ে থাকে তাহলে কেন সংবিধান রচয়িতাদের উদ্দেশ্য ও চিন্তাধারা সম্পর্কে আমাদের জানার আগ্রহ থাকবে? ভারত উন্নয়নশীল দেশ। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য অনেক কিছু পরিবর্তন করতে হয়। সংবিধান রচয়িতাগণ সে সময়ের উপযোগী হিসেবে সংবিধান রচনা করেছিলেন। বর্তমান সময় অনেক পরিবর্তন হয়েছে। যদি ভালোর জন্য অতীতকে ভুলে গেলে ক্ষতির কিছু নেই। কিন্তু ভালো করার পেছনে যদি বাধা কিংবা হুমকির সম্মুখীন হয় তাহলে এদেরকে ভুলে গেলে ক্ষতি হতে পারে। এই ক্ষতির হাত থেকে বাঁচার জন্য গণপরিষদে ফিরে যাওয়া প্রয়োজন। কারণ, আমাদেরকে সংবিধানের রাজনৈতিক দর্শন সম্পর্কে আরও ভালোভাবে বুঝতে হবে।

আমাদের সংবিধানের রাজনৈতিক দর্শন কী?

আমাদের সংবিধানের রাজনৈতিক দর্শনটি কী? তা এককথায় - বোঝানো সম্ভব নয়। অনেকগুলি মূলনীতি বা ধারণার সমন্বয়ে রাজনৈতিক দর্শন গড়ে উঠেছে। যেমন-আমাদের সংবিধান হল উদারনৈতিক, গণতান্ত্রিক, সাম্যবাদী, ধর্মনিরপেক্ষ এবং যুক্ত- রাষ্ট্রীয়। আবার সম্প্রদায়গত মূল্যবোধের ব্যাপারে যুক্ত, ধর্মীয় ও ভাষাগত সংখ্যালঘুদের প্রতি স্পর্শকাতর এবং ঐতিহাসিক- ভাবে পিছিয়ে পড়া গোষ্ঠীর মানুষদের প্রতি দায়বদ্ধ। সংক্ষেপে, ভারতের সংবিধান স্বাধীনতা, আমাদের সামাজিক ন্যায় ও জাতীয় ঐক্যের প্রতি দায়বদ্ধ। ভারতীয় সংবিধানের মধ্যে নিহিত রাজনৈতিক দর্শনের মূল নীতিগুলি হল-

ব্যক্তি স্বাধীনতা

ভারতের সংবিধান ব্যক্তিগত স্বাধীনতা রক্ষার প্রতি দায়বদ্ধ। এই দায়বদ্ধতা হঠাৎ করে একদিনে আসেনি। এটি হল নিরন্তর এক দীর্ঘদিনের বৌদ্ধিক আন্দোলনের ফলশ্রুতি। যার সূত্রপাত হয়েছিল রামমোহন রায়ের ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার পক্ষে বিভিন্ন বক্তব্যের মধ্যদিয়ে। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ইত্যাদির মধ্যে দিয়ে এই লড়াইয়ের সূত্রপাত। স্বাধীনতার পরবর্তীকালে সংবিধানে মতামত প্রকাশের স্বাধীনতার মধ্যদিয়ে যার পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটেছে। ভারতের সংবিধানের মধ্যদিয়ে উদারনৈতিক চরিত্রের প্রকাশ বেশ ভালোভাবেই ঘটেছে বলা যায়। মৌলিক অধিকারের মধ্যে দিয়েই ব্যক্তিগত স্বাধীনতার জায়গাটিকে সংবিধান খুব যত্ন- সহকারে রক্ষা করেছে এটা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

সামাজিক ন্যায়

আমাদের সংবিধানে শুধুমাত্র উদারনৈতিক দিকটির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বরং সামাজিক ন্যায়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাবেকি উদারনীতিবাদ ব্যক্তির অধিকারের ওপর অধিক গুরুত্ব দেয় সামাজিক ন্যায় ও গোষ্ঠীর মূল্যবোধের থেকে। কিন্তু ভারতের সংবিধান সামাজিক ন্যায়ের দিকটিকে অবহেলা করেনি। তার সবচেয়ে বড়ো উদাহরণ হল সংবিধানে তপশিলি জাতি ও উপজাতিদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাসহ সংরক্ষণের সুবিধা প্রদানের কথা বলা যায়। যাতে করে দীর্ঘদিন অন্যায়, অবিচার ও বঞ্চনার শিকার হওয়া এইসব মানুষগুলিকে ন্যায়বিচার দেওয়া সম্ভব হয়।

বৈচিত্র্যতা এবং সংখ্যালঘু অধিকারের প্রতি সম্মান

ভারত হল বিভিন্ন ভাষাভাষি, সংস্কৃতি, খাদ্যাভ্যাসের দেশ। বহু বৈচিত্র্য এখানে লক্ষ করা যায়। বৈচিত্র্য রয়েছে সম্প্রদায়ের মধ্যেও। সেখান থেকে যাবতীয় দ্বন্দ্বের সূত্রপাত। এক সম্প্রদায় অন্যান্য সম্প্রদায়ের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে চায়। যাবতীয় সুযোগসুবিধা কুক্ষিগত করতে চায়। কিন্তু ভারতের সংবিধানে দেশের সব ধরনের সম্প্রদায়ের মানুষকে সমান অধিকার প্রদান করেছে। সেই সঙ্গে সংখ্যালঘুদের অধিকারগুলিকেও সংরক্ষিত করেছে, যাতে দেশের প্রতিটি ভিন্ন সংস্কৃতির সম্প্রদায় ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষরা সমান সুযোগসুবিধা ভোগ করতে পারে।

ধর্মনিরপেক্ষতা

ধর্মনিরপেক্ষতার অর্থ হল ধর্মের সঙ্গে সম্পর্কহীনতা। ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে ধর্মকে ব্যক্তির ব্যাক্তিগত ব্যাপার বলে মনে করা হয়। রাষ্ট্রের সঙ্গে ধর্মের কোনো সম্পর্ক নেই বা রাষ্ট্রের কোনো ধর্মীয় পরিচিতি থাকে না। কিন্তু এই ধারণাটি হল পাশ্চাত্যের ধারণা। আমাদের ভারতে ধর্মনিরপেক্ষতাকে পাশ্চাত্যের অর্থে ব্যবহার করা হয়নি। ভারতে ধর্মনিরপেক্ষতা বলতে বোঝানো হয়েছে রাষ্ট্রে কোনো ধর্মের পৃষ্ঠপোষকতা করবে না। সব ধর্মই রাষ্ট্রের চোখে সমান। রাষ্ট্র কোনো বিশেষ ধর্মের প্রতি পক্ষপাত প্রদর্শন করবে না। রাষ্ট্রের মধ্যে বসবাসকারী প্রতিটি মানুষ তার নিজ নিজ ধর্ম পালন করবে, প্রচার করবে, ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসরণ করবে।

ধর্মীয় গোষ্ঠীর অধিকার

ভারতের সংবিধানে সব ধর্মের মানুষদের সমান অধিকার দিয়েছে। প্রত্যেক ভারতীয়দের তাদের ধর্মশিক্ষার জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তৈরি করার অধিকার দেয়। অর্থাৎ, বলা যায়, ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতার অর্থ ব্যক্তি এবং সম্প্রদায় উভয়েরই ধর্মীয় স্বাধীনতা আছে।

রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপের ক্ষমতা

কিছু কিছু বিষয় আছে রাষ্ট্র হস্তক্ষেপ না করলে সমাধান সম্ভব নয়। এগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ধর্মীয় বিষয়ে হস্তক্ষেপ। এই রকম হস্তক্ষেপ কখনই নেতিবাচক নয়। তবে রাষ্ট্র বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়কে স্বাধীনতা এবং সাম্যের মূল্যবোধকে গুরুত্ব দেয়। আবার বাধাও দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

সর্বজনীন ভোটাধিকার

সর্বজনীন ভোটাধিকারের স্বীকৃতির মধ্যে দিয়ে দেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। ভোটাধিকারের মাধ্যমে গণতান্ত্রিকভাবে শান্তিপূর্ণ উপায়ে মানুষের সরকার পরিবর্তনের পথকে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। সর্বজনীন ভোটাধিকার হল জাতীয়তাবাদের একটি সুনিশ্চিত শর্ত। স্বাধীনতার পর সংবিধানে স্থির হয় 21 বছর বয়স্ক সব নাগরিক ভোট দিতে পারবে। এরপর 1989 খ্রিস্টাব্দে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে ভোটাধিকারের বয়ঃসীমা 21 থেকে কমিয়ে 18 বছর করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা

ভারতের সংবিধানে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে স্থান দেওয়া হয়েছে। যদিও - সংবিধান প্রণেতারা যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যেই এককেন্দ্রিকতার বা কেন্দ্রপ্রবণতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ভারতের ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার জন্য। বিভিন্ন অঞ্চলের ভিন্ন ভিন্ন স্বত্তার জন্য ভারতের বিশেষ কিছু অঞ্চল যেমন-জম্মু ও কাশ্মীর, উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির জন্য পৃথক সুযোগসুবিধা সংবিধানে রাখা হয়েছে। এগুলি সবই যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর উদাহরণ হিসেবে বলা যায়। কেন্দ্র রাজ্যের জন্য পৃথক পৃথক ব্যবস্থা গ্রহণ যুক্তরাষ্ট্রবাদের কথাই স্বীকার করে।

জাতীয় পরিচিতি

সংবিধান সবসময়ই একটি সাধারণ জাতীয় পরিচিতিকে তৈরি করতে চেয়েছে। ভারত বিশালাকৃতি হওয়ার জন্য সবসময় একটা আঞ্চলিক মানসিকতা তৈরি হয়েছে যা দেশের পরিচিতি, ও নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক প্রবণতা। তাই দেশের সংবিধান সবসময় জনগণের মধ্যে একটা জাতীয় পরিচিতি গড়ে তুলতে সদাতৎপর থাকে। ভারতের মতো দেশে বিভিন্ন পরিচিতি রয়েছে জনগণের, অঞ্চলগত, ধর্মীয় ইত্যাদি। সুতরাং আমাদের সংবিধান সবকিছুর মধ্যে একটা ভারসাম্য রক্ষার ব্যবস্থা করেছে।

পদ্ধতিগত সাফল্য

ভারতের সংবিধানে কিছু পদ্ধতিগত সাফল্য লক্ষ করা যায়। যথা-

[i] সংবিধানের রূপকারগণ সকলের মতামতকেই গুরুত্ব দিয়েছেন। সাধারণ মানুষের বর্তমান অবস্থান পরিবর্তনের সদিচ্ছা এখানে আছে।

[ii] সমঝোতা বা সুযোগসুবিধা সবসময় অনুমোদনহীন রূপে দেখা হয় না। তবে সকল সমঝোতা খারাপ নয়। সমঝোতা তখনই আমরা খারাপ মনে করবো যখন কোনো কিছু ব্যক্তিগত স্বার্থ সম্বলিত এবং মূল্যবোধহীন হয়।

সমালোচনা

অন্যান্য দেশের সংবিধানের মতো আমাদের দেশের সংবিধান ও সমালোচনার ঊর্ধ্বেও নয়। ভারতীয় সংবিধানের দোষত্রুটি লক্ষ করা যায়।

প্রথমত, এই সংবিধান ছিল বেমানান। এই সংবিধান অনুমানের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।

দ্বিতীয়ত, এই সংবিধান ছিল অপ্রতিনিধিত্বমূলক। সংবিধান প্রতিষ্ঠাকালে প্রাপ্তবয়স্কের ভোটের অধিকার ছিল না। বেশিরভাগ সদস্যরা এসেছিল সমাজের অগ্রসর শ্রেণির মধ্য থেকে। তাই আমাদের সংবিধান অপ্রতিনিধিত্ব মূলক। এখানে প্রতিনিধিত্বের দুটি উপাদানকে যেমন- ভাষা এবং মতামতকে আলাদা করবে।

তৃতীয়ত, আমাদের পরিস্থিতির সঙ্গে বেমানান বা সামঞ্জস্যহীন।

সীমাবদ্ধতা

এটা ঠিক যে, আমাদের দেশের সংবিধান একেবারে সঠিক নয়। অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে এই সংবিধানের। যে-কোনো দেশের সংবিধানই একটি বিশেষ সামাজিক পরিপ্রেক্ষিতে তৈরি হয়। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অনেক কিছুই পরিবর্তন হয়। তার সঙ্গে সামঞ্জস্য বিধান করে সংবিধানকেও পরিবর্তিত হতে হয়। আবার সংবিধানের মধ্যে অনেক বিতর্কিত বিষয়ও থাকে। অনেক বিষয় থাকে যেগুলির জন্য যত্নসহকারে সংশোধন প্রয়োজন। আবার সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অনেক নতুন বিষয়ের দাবি ওঠে। এইসব সমস্যাগুলি কীভাবে সৃষ্টি হয়েছে? বা কীভাবে এড়ানো যাবে সেগুলি আমাদের আলোচ্য বিষয় নয়। সমস্যাগুলি এতটাও গম্ভীর নয় যেগুলি সংবিধানের দর্শনের ওপরে স্থান পাবে।।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

আগামী' কবিতাটি 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

আগামী Class 12 Bengali Question 2023 সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো (MCQ)  প্রশ্নমান ১ class 12 bengali mcq question answer ১. “ক্ষুদ্র আমি তুচ্ছ নই”-বক্তা কে ? (ক) বৃক্ষ শিশু (খ) বনস্পতি (গ) বটবৃক্ষ (ঘ) সদ্য অঙ্কুরিত বীজ উত্তর: (ঘ) সদ্য অঙ্কুরিত বীজ। ২. অঙ্কুরিত বীজের ক্ষুদ্র শরীরে বাজে— (ক) ঝড় (খ) বৃষ্টি (গ) ভূমিকম্প (ঘ) তুফান উত্তর: (ক) ঝড়। ৩. অঙ্কুরিত বীজের শাখায় প্রত্যাহত হবে— (ক) পত্রমর্মর (খ) মর্মরধ্বনি (গ) পাখির কূজন (ঘ) বিচিত্রধ্বনি উত্তর: (খ) মর্মরধ্বনি । ৪. অঙ্কুরিত বৃক্ষশিশু অরণ্যের বিশাল চেতনা অনুভব করে— (ক) পত্রে (খ) পুষ্পে (গ) শিকড়ে (ঘ) শাখায় উত্তর: (গ) শিকড়ে। ৫. “জানি তারা মুখরিত হবে”—কীভাবে ? (ক) নব শতকের গানে (খ) নতুন দিনের গানে (গ) নব তারণ্যের গানে (ঘ) নব জীবনের গানে উত্তর: (গ) নব অরণ্যের গানে। ৬. অঙ্কুরিত বৃক্ষশিশু নব অরণ্যের গানে মিশে যাবে— (ক) বসন্তে (খ) বর্ষায় (গ) গ্রীষ্মে (ঘ) শীতে উত্তর: (ক) বসন্তে। ৭. অঙ্কুরিত বীজ কোথায় মিশে যাবে ? (ক) অরণ্যের দলে (খ) বৃহতের দলে (গ) ক্ষুদ্রের দলে (ঘ) মহীরুহ-র দলে উত্তর: (খ) বৃহতের দলে। ৮. অঙ্কুরিত বীজ নিজেকে বলেছে— (ক) ভ...

বীরচন্দ্র মানিক্য থেকে বীরবিক্রম কিশোর মানিক্য পর্যন্ত ত্রিপুরার আধুনিকীকরণ সম্পর্কে আলোচনা কর।

 Discuss the modernization of Tripura from Birchandra Manikya to Bir Bikram Kishor Manikya. বীরচন্দ্র মানিক্য থেকে বীরবিক্রম কিশোর মানিক্য পর্যন্ত ত্রিপুরার আধুনিকীকরণ সম্পর্কে আলোচনা কর।  ত্রিপুরায় আধুনিক যুগের সূচনা হয় মহারাজ বীরচন্দ্র মানিক্যের শাসনকালে। তিনি ব্রিটিশ ভারতের শাসন পদ্ধতির অনুকরণে ত্রিপুরার শাসন ব্যবস্থার সংস্কার করেণ এবং লিখিত আইন কানুন প্রনয়নের মাধ্যমে বিচার ব্যবস্থাকে সুসংবদ্ধ ও সুসংগঠিত করেণ। মোটের উপর বীরচন্দ্রমানিক্য (১৮৬২-১৮৯৬ খ্রি:) তাঁর আমলে ত্রিপুরা রাজ্য এক নতুন রূপ লাভ করে। ১) মিউনিসিপ্যালিটি গঠন তিনি ১৮৭১ খ্রিস্টাব্দে আগরতলা মিউনিসিপ্যালিটি গঠন করেন। তবে নাগরিক জীবনের সুযোগ সুবিধা বিধানে কিংবা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা হিসাবে দীর্ঘকাল কোনো কার্যকারী ব্যবস্থা গ্রহণে আগরতলা মিউনিসিপ্যালিটি ছিল ব্যর্থ। ১৯৮১ খ্রিস্টাব্দের ৩ জুলাই ডবলিউ. বি. পাওয়ার সাহেব ত্রিপুরা রাজ্যের প্রথম পলিটিক্যাল এজেন্ট নিযুক্ত হন।  ২) বিচার সংক্রান্ত সংস্কার প্রাচীনকাল হতে দেওয়ানি ও ফৌজদারি সংক্রান্ত বিচারের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি মহারাজ স্বয়ং সম্পাদন করতেন। ১৮৭২ খ্রিস্টা...

বীরচন্দ্র মানিক্যের পূর্ববর্তী সময়ে ত্রিপুরার অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা সম্পর্কে আলোচনা কর।

 Discuss the social and economic condition of Tripura before the accession of Birchandra Manikya. বীরচন্দ্র মানিক্যের পূর্ববর্তী সময়ে ত্রিপুরার অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা সম্পর্কে আলোচনা কর। ভূমিকা ত্রিপুরার মাণিক্য উপাধিকারী রাজন্যবর্গের মধ্যে কেউ কেউ ছিলেন আত্মমর্যাদাজ্ঞানহীন, ক্ষমতালোভী ও ষড়যন্ত্রী। এসব ক্ষমতালোভী ও ষড়যন্ত্রীরা মুঘল ফৌজদারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে অধিক সংখ্যক হাতি, নিয়মিত উচ্চ হারে খাজনা, নজরানা ইত্যাদি দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাজত্বের সনদ লাভ করতেন। এটা ত্রিপুরার দুর্বল অর্থনীতির উপর এক বিরাট আঘাত ও স্থায়ী ক্ষতস্বরূপ ছিল। তবে এ সময়ের শুভদিক হল ত্রিপুরায় ব্রিটিশ ভারতের অনুকরণে আইন প্রণয়নের সূত্রপাত, প্রশাসনিক বিধিব্যবস্থার প্রবর্তন, অর্থনৈতিক উন্নয়নের উন্মেষ ও সামাজিক সংস্কার। Economic Condition ১) চাষাবাদ ও কৃষি ত্রিপুরার অধিবাসীদের প্রধান জীবিকা হল কৃষি। কৃষিজ উৎপাদনের মধ্যে ধান, গম, আলু, আখ, সরিষা, ডাল জাতীয় শস্য, কার্পাস, তুলো, কচু, আদা, তরমুজ ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। শিকার ও পশুপালন করেও তারা জীবিকা নির্বাহ করত। এখানকার চাষযোগ্য সমতল জমির সাথে ...