ভারতীয় সংবিধান-সুপরিবর্তনীয় না দুষ্পরিবর্তনীয়।
যে-সংবিধানকে খুব সহজেই পরিবর্তন করা যায় তাকে সুপরিবর্তনীয় সংবিধান বলে। আর যে-সংবিধানকে খুব সহজে পরিবর্তন করা যায় না, পরিবর্তন করতে হলে বিশেষ পদ্ধতি অবলম্বন করতে হয় তাকে দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধান বলে।
ভারতীয় সংবিধান সম্পূর্ণরূপে সুপরিবর্তনীয় বা সম্পূর্ণরূপে দুষ্পরিবর্তনীয় নয়, ভারতের সংবিধানে সুপরিবর্তনীয়তা ও দুষ্পরিবর্তনীয়তার এক সংমিশ্রণ লক্ষ করা যায়। সংবিধানে কতক- গুলি ধারা আছে। যেমন-রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে ক্ষমতা বণ্টন ইত্যাদি ক্ষেত্রে সংবিধান দুষ্পরিবর্তনীয়। আবার, রাজ্যের নাম ও সীমানা পরিবর্তন প্রভৃতি ক্ষেত্রে সংবিধান সুপরিবর্তনীয়। তাই বলা যায়, ভারতীয় সংবিধান অংশত নমনীয় ও অংশত অনমনীয়।
ভারতীয় শাসনব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রীয় না এককেন্দ্রিক?
ভারতীয় সংবিধানে ভারতকে কোথাও যুক্তরাষ্ট্র বলে চিহ্নিত | করা হয়নি। 1(1) নং ধারায় 'রাজ্যসমূহের ইউনিয়ন' বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবুও তত্ত্বগতভাবে ভারতের শাসনব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার সমস্ত অপরিহার্য বৈশিষ্ট্যগুলি লক্ষ করা যায়। যেমন-
[i] কেন্দ্র ও অঙ্গরাজ্যসমূহকে নিয়ে দু-ধরনের সরকারের উপস্থিতি,
[ii] লিখিত ও দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধানের প্রাধান্য,
[iii] সংবিধান কর্তৃক কেন্দ্র ও রাজ্যগুলির মধ্যে ক্ষমতা বণ্টন,
[iv] একটি নিরপেক্ষ যুক্তরাষ্ট্রীয় আদালতের অবস্থান।
এদিক থেকে ভারতকে যুক্তরাষ্ট্র বলেই চিহ্নিত করা যায়। প্রকৃতিগত বিচারে ভারতীয় শাসনব্যবস্থায় কেন্দ্রিকতার প্রবণতা বেশি। যেমন-
[i] আইন সংক্রান্ত বিষয়ে কেন্দ্রের প্রাধান্য,
[ii] শাসন পরিচালন সংক্রান্ত বিষয়ে কেন্দ্রের প্রাধান্য,
[iii] আর্থিক বিষয়ে কেন্দ্রের প্রাধান্য,
[iv] রাজ্যের নাম ও সীমানা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কেন্দ্রের প্রাধান্য ইত্যাদি। অর্থাৎ, স্বাভাবিক এবং জরুরি-উভয় অবস্থাতেই এখানে কেন্দ্রকে শক্তিশালী করা হয়েছে।
সুতরাং, বর্তমানে ভারতের শাসনব্যবস্থাকে যুক্তরাষ্ট্র না বলে সহযোগিতামূলক বা সমবায়িক যুক্তরাষ্ট্র বলে অভিহিত করাই যুক্তিযুক্ত।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন