ভারতের সংবিধানে উল্লিখিত শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক অধিকারটি আলোচনা করো।
ব্যক্তির ব্যক্তিত্বের পূর্ণাঙ্গ বিকাশের জন্য শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিকাশ অপরিহার্য। জন স্টুয়ার্ট মিল যথার্থই বলেছেন, 'গণতন্ত্রের সাফল্য শিক্ষার ওপর নির্ভরশীল'। অজ্ঞ, অশিক্ষিত, কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানুষের মধ্যে কখনও রাজনৈতিক চেতনার বিকাশ ঘটে না, যার ফলস্বরূপ গণতন্ত্র সাফল্য লাভ করতে পারে না। এই প্রয়োজনীয়তা থেকে 2002 খ্রিস্টাব্দের 12 ডিসেম্বর 86-তম সংবিধান সংশোধনী আইনের মাধ্যমে 21(1) নং ধারায় শিক্ষার অধিকারকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। সংবিধানের 29নং এবং 30নং ধারায় ভারতীয় নাগরিকদের শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক অধিকারকে সুনিশ্চিত করা হয়েছে।
[i] ভাষা লিপি ও সংস্কৃতির সংরক্ষণ: সংবিধানের 29নং ধারায় বলা হয়েছে যে, ভারতীয় ভূখণ্ডে যে-কোনো অংশে বসবাসকারী সমস্ত শ্রেণির নাগরিকের যে-কোনো স্থানের ভাষা, লিপি ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের অধিকার রয়েছে।
দ্বিতীয়ত বলা হয়েছে, সরকারের দ্বারা বা আর্থিক সাহায্যে পরিচালিত কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্ম-জাতি- বর্ণ এবং ভাষার বিভেদজনিত কারণে কোনো ব্যক্তিকে প্রবেশের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। মাদ্রাজ সরকারি কলেজে ধর্মের ভিত্তিতে আসন সংরক্ষণের ব্যবস্থা সংবিধান বিরোধী বলে গণ্য হবে।
[ii] ভাষা ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান: সংবিধানের 30নং ধারায় বলা হয়েছে যে, ধর্মীয় বা ভাষাগত সংখ্যা- লঘুসহ সকল সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং পরিচালনার অধিকার রয়েছে। এই ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে ধর্মের ভিত্তিতে কোনো আসন সংরক্ষণ করা যাবে না।
আবার 30(1)-A নং ধারায় বলা হয়েছে, রাষ্ট্র সংখ্যালঘু শ্রেণির কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি অধিগ্রহণ করতে চাইলে সেক্ষেত্রে তাকে পুরো ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে।
সুতরাং, উপরোক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, ভারতের মতো বহুভাষা ও নানা মতের দেশে 29 ও 30নং ধারায় বর্ণিত শিক্ষা ও সংস্কৃতির অধিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ উল্লেখ্য যে, সংখ্যালঘুদের ভাষা, লিপি, সংস্কৃতি ও শিক্ষাগত সুযোগসুবিধা ও অধিকার রক্ষা করাই ছিল সংবিধান প্রণেতাদের মূল উদ্দেশ্য।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন