গ্রাম পঞ্চায়েতের ক্ষমতা ও কার্যাবলির উল্লেখ করো।
1993 খ্রিস্টাব্দে ত্রিপুরা পঞ্চায়েত আইনে ত্রিস্তর বিশিষ্ট পঞ্চায়েত ব্যবস্থা গঠন করা হয়। এগুলি হল-[a] গ্রামস্তরে গ্রাম পঞ্চায়েত, [b] ব্লকস্তরে পঞ্চায়েত সমিতি এবং [c] জেলাস্তরে জেলাপরিষদ।
তৃণমূল পর্যায়ে গ্রামীণ কর্মকান্ডের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গ্রাম পঞ্চায়েতগুলি আবর্তিত হওয়ায় বহুবিধ কার্যের দায়িত্ব এই সংস্থার ওপরে বর্তেছে। গ্রাম পঞ্চায়েতের কার্যাবলিকে তিনভাগে ভাগ করা যায়, যথা-[a] অবশ্যপালনীয় কর্তব্য, [b] ইচ্ছাধীন কর্তব্য এবং [c] অন্যান্য কর্তব্য।
গ্রাম পঞ্চায়েতের কার্যাবলি > অবশ্যপালনীয় কর্তব্য > ইচ্ছাধীন কর্তব্য > অন্যান্য কর্তব্য
[a] অবশ্যপালনীয় কর্তব্য: গ্রাম পঞ্চায়েতের অবশ্য পালনীয় কর্তব্যগুলি হল-
[i] জনস্বাস্থ্য সংরক্ষণ, ময়লা নিষ্কাশন, জল নিষ্কাশন ও অপরিচ্ছন্নতা নিবারণ করা।
[ii] ম্যালেরিয়া, গুটিবসন্ত, কলেরা ও অন্যান্য মহামারি নিবারণের ব্যবস্থা করা।
[iii] পানীয় জল সরবরাহ, জলাধার পরিষ্কার ও তা জীবাণুমুক্ত রাখা।
[iv] জলপথ রক্ষণাবেক্ষণ, জলপথ ও সর্বজনীন স্থানে অবৈধ দখল অপসারণ করা।
[v] গ্রাম পঞ্চায়েতের মালিকানাধীন ঘরবাড়ির সম্পত্তি সংরক্ষণ বা মেরামত করা।
[vi] সর্বজনীন পুষ্করিণী, সাধারণের গোচারণ ক্ষেত্র, শ্মশানঘাট এবং সর্বজীবন কবরখানা পরিচালনা ও তত্ত্বাবধান করা।
[vii] পঞ্চায়েত আইন অনুসারে 'ন্যায় পঞ্চায়েত' গঠন ও পরিচালনা করা।
[viii] গবাদিপশুর অনধিকার প্রবেশ প্রতিরোধ করা এবং অনধিকার প্রবেশ করলে তার জরিমানা ব্যবস্থার প্রচলন করা।
[ix] সমাজ ও অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য স্বেচ্ছাশ্রম সংগঠিত করা ইত্যাদি।
b) ইচ্ছাধীন কর্তব্য: যে-সমস্ত দায়িত্ব গ্রাম পঞ্চায়েত স্বেচ্ছায় পালন করে, তাকে ইচ্ছাধীন কর্তব্য বলে। এর ইচ্ছাধীন কর্তব্যগুলি হল-
[i] জনসাধারণ ব্যবহৃত রাস্তাসমূহের জন্য আলোর ব্যবস্থা করা।
[ii] জনপথের ধারে ও অন্যান্য সর্বজনীন স্থানে বৃক্ষাদি রোপণ ও বনসৃজন করা।
[iii] কূপ, পুষ্করিণী ও দিঘি খনন করা।
[iv] গ্রন্থাগার ও পাঠাগার স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ করা।
[v] বাজার নির্মাণ, নিয়ন্ত্রণ, আনন্দানুষ্ঠানের আয়োজন, মেলা ও হাট বসানো এবং নিয়ন্ত্রণ ও স্থানীয় কৃষিজাত দ্রব্যাদি এবং স্থানীয় হস্তশিল্প ও কুটির- শিল্পজাত সামগ্রীর প্রদর্শনীয় ব্যবস্থা করা।
[vi] দারিদ্র্য দূরীকরণ কর্মসূচি গ্রহণ ইত্যাদি।
[c] অন্যান্য কর্তব্য: গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্যান্য কতর্ব্যগুলি হল-
[i] প্রাথমিক, সামাজিক, প্রযুক্তিবিদ্যাগত বা বৃত্তিমূলক শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করা।
[ii] গ্রামীণ চিকিৎসাকেন্দ্র, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, প্রসূতিসদন ও শিশুমঙ্গলকেন্দ্র স্থাপন করা।
[iii] খেয়াঘাট পরিচালনা করা।
[iv] জলসেচের ব্যবস্থা করা।
[v] রুগ্ন ও অনাথদের তত্ত্বাবধান করা।
[vi] বাস্তুহারাদের পুনর্বাসন।
[vii] রাজ্য সরকার কর্তৃক উন্নয়নমূলক ও জনহিতকর কার্যাদির সপক্ষে ব্যাপক প্রচারকার্য চালানো ইত্যাদি।
সুতরাং, বলা যায় গ্রাম পঞ্চায়েতের ক্ষমতা ও কার্যাবলি ব্যাপক। এটি বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে গ্রামীণ জীবনে উন্নয়নের এক যুগান্তকারী জোয়ার এনেছে। তাই এর অবদানকে কখনোই অস্বীকার করা যায় না।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন