জেলাপরিষদের ক্ষমতা ও কার্যাবলি বর্ণনা করো।
ত্রিপুরার ত্রিস্তরবিশিষ্ট পঞ্চায়েত ব্যবস্থার সর্বোচ্চ স্তরে জেলাপরিষদের অবস্থান। সমষ্টিগত উন্নয়ন এবং সমাজের প্রত্যেকের আর্থসামাজিক উন্নতিবিধানের জন্য জেলাপরিষদ গুরুত্বপূর্ণ কার্যসম্পাদন করে থাকে।
ক্ষমতা ও কার্যাবলি: জেলাপরিষদের ক্ষমতা ও কার্যাবলির মধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য হল-
[i] কৃষি, পশুপালন, কুটিরশিল্প, সমবায় আন্দোলন, গ্রামীণ ঋণ, জল সরবরাহ, সেচ, ঔষধালয়, হাসপাতাল, যোগাযোগ, ছাত্রকল্যাণসহ প্রাথমিক ও বয়স্ক শিক্ষা, জলকল্যাণ এবং অন্যান্য জনহিতকর কাজের উদ্দেশ্যে প্রকল্প গ্রহণ।
[ii] রাজ্য সরকার বা অন্য যে-কোনো কর্তৃপক্ষ যে-কোনো প্রকল্প নির্বাহ কিংবা যে-কোনো কর্তব্য সম্পাদন অথবা যে-কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংগঠন পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করতে তা পালন করা।
[iii] কোনো প্রকল্প সুসম্পন্ন করার জন্য কোনো পঞ্চায়েত সমিতি আর্থিক সংকটে পড়লে সেই প্রকল্প সম্পাদনের দায়িত্ব নিজে হাতে গ্রহণ করা।
[iv] জেলার মধ্যে অবস্থিত যে-কোনো বিদ্যালয়, সাধারণ পাঠাগার, জনপ্রতিষ্ঠান বা জনকল্যাণকর সংগঠন পরিচালনার জন্য অনুদান প্রদান।
[v] জেলার অধিবাসীদের পক্ষে জনকল্যাণকর অথচ জেলার বাইরে অবস্থিত যে-কোনো প্রতিষ্ঠানসংক্রান্ত কার্যনির্বাহের জন্য অর্থপ্রদান করা।
[vi] রাজ্যের মধ্যে প্রযুক্তিগত ও অন্যান্য যে-কোনো বিশেষ ধরনের শিক্ষার উন্নতির জন্য বৃত্তি প্রদান করা।
[vii] জেলাস্থিত পঞ্চায়েত সমিতিগুলির বাজেট পরীক্ষা ও অনুমোদন করা।
[viii] পঞ্চায়েত সমিতি গ্রাম পঞ্চায়েতসমূহ কর্তৃক পরিচালিত উন্নয়ন কার্যাবলি সম্পর্কে রাজ্য সরকারকে পরামর্শ দেওয়া।
[ix] জেলার অধিবাসীদের অর্থপ্রদান করা।
[x] গ্রাম্য হাটবাজারের মালিকানা অধিগ্রহণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করা।
[xi] আর্তদের ত্রাণের ব্যবস্থা করা।
[xii] কোনো প্রকল্প একাধিক ব্লকে বিস্তৃত থাকলে সেই প্রকল্পের দায়িত্ব গ্রহণ করা।
[xiii] জেলার অন্তর্গত রাজ্য সরকারের মালিকানাধীন কিংবা রাজ্য সরকার কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত যেসব রাস্তা, সেতু, খাল, ঘরবাড়ির সম্পত্তির নিয়ন্ত্রণ পরিচালনার দায়িত্ব জেলা- পরিষদের হাতে অর্পণ করলে সেই দায়িত্ব পালন করা।
[xiv] পঞ্চায়েত সমিতির কোনো প্রকল্প কর্মসূচিকে রূপায়িত করার জন্য রাজ্য সরকার কর্তৃক প্রদত্ত অর্থের সদ্ব্যবহার হল কিনা তার পরীক্ষা করা।
[xv] যে-কোনো আনন্দানুষ্ঠানের জন্য অনুমতি দেওয়া এবং অর্থ আদায় করা।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন