সুপ্রিমকোর্টের পরামর্শদান এলাকা বলতে কী বোঝো? সুপ্রিমকোর্টের গঠন উল্লেখ করো।
যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থায় কেন্দ্র ও অঙ্গরাজ্যে ক্ষমতা বণ্টনকে কেন্দ্র করে বিরোধ দেখা দিতে পারে। এই বিরোধ মীমাংসার জন্য একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ যুক্তরাষ্ট্রীয় আদালত থাকে। ভারতের সুপ্রিমকোর্ট হল এরকম একটি আদালত। ভারতের বিচারব্যবস্থার শীর্ষে এর অবস্থান। ভারতে যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় সুপ্রিমকোর্ট ব্যাপক ও বহুমুখী ক্ষমতার অধিকারী। সুপ্রিমকোর্টের বহুমুখী ক্ষমতার অন্যতম হল পরামর্শদান করা। ভারতের সুপ্রিমকোর্ট প্রয়োজনে পরামর্শ প্রদান করে থাকে। সুপ্রিমকোর্টের পরামর্শদান এলাকাকে এইভাবে ব্যাখ্যা করা যায়-
সুপ্রিমকোর্টের পরামর্শদান এলাকা: ভারতের সুপ্রিমকোর্ট রাষ্ট্রপতির আইনগত পরামর্শদাতার ভূমিকা পালন করে। অন্যদিকে, মার্কিন সুপ্রিমকোর্ট বা, অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ আদালত হাইকোর্টের এই ভূমিকা নেই। ভারতের সুপ্রিমকোর্টের পরামর্শদান এলাকাকে দু-ভাগে ভাগ করা যায়-
[a ] রাষ্ট্রপতি যদি মনে করেন যে, আইন বা তথ্য সংক্রান্ত কোনো সর্বজনীন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উদ্ভব ঘটেছে বা ঘটার সম্ভাবনা আছে তাহলে তিনি সেই প্রশ্নে 143(1) নং ধারা অনুযায়ী সুপ্রিমকোর্টের পরামর্শ চাইতে পারেন। এক্ষেত্রে সুপ্রিমকোর্ট তার পরামর্শ দিতেও পারে, আবার নাও দিতে পারে। অন্যদিকে, সুপ্রিমকোর্ট পরামর্শ দিলে রাষ্ট্রপতি তা গ্রহণ করতেও পারেন, আবার নাও পারেন।
[b] সংবিধান প্রবর্তিত হওয়ার পূর্বে সম্পাদিত সন্ধি, চুক্তি, অঙ্গীকারপত্র, সনদ প্রভৃতির মধ্যে যেগুলি সংবিধান প্রবর্তিত হওয়ার ফলে বলবৎ রয়েছে সেইসব বিষয়ে কোনোরূপ বিরোধ দেখা দিলে রাষ্ট্রপতি প্রধান ধর্মাধিকরণের পরামর্শ চাইতে পারেন, 143 (2)নং ধারায় এর উল্লেখ আছে। এক্ষেত্রে সুপ্রিমকোর্ট পরামর্শ দিতে বাধ্য থাকে, কিন্তু রাষ্ট্রপতি সুপ্রিমকোর্টের পরামর্শ গ্রহণ করতেও পারেন, আবার নাও পারেন।
এখন পর্যন্ত সমস্ত ক্ষেত্রেই সুপ্রিমকোর্ট তার মতামত জানিয়েছে এবং রাষ্ট্রপতিও তা গ্রহণ করেছেন। যেমন, কেরলের শিক্ষাবিল সম্পর্কিত সমস্যা (1957), বেরুবাড়ির সমস্যা (1959), জম্মু ও কাশ্মীর পুনর্বাসন বিল (1982) প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য যে, রাষ্ট্রপতিই কেবলমাত্র সুপ্রিমকোর্টকে পরামর্শদানের জন্য অনুরোধ করতে পারেন, কোনো অঙ্গরাজ্যের সরকার তা পারে না।
সুপ্রিমকোর্টের গঠন: ভারতের মূল সংবিধানে বলা হয়েছিল, ভারতের সুপ্রিমকোর্ট । জন প্রধান বিচারপতি এবং অনধিক 7 জন বিচারপতি নিয়ে গঠিত হবে। তবে পার্লামেন্ট আইন প্রণয়ন করে - এর সংখ্যা বৃদ্ধি করতে পারে। 2011 খ্রিস্টাব্দে প্রণীত একটি আইন অনুসারে বর্তমানে 1 জন প্রধান বিচারপতি এবং অনধিক 30 জন অন্যান্য বিচারপতি অর্থাৎ মোট 31 জন বিচারপতি নিয়ে - এটি গঠিত। তবে বর্তমানে (2019)-এর কার্যকরী বিচারপতির - সংখ্যা 29। আবার, রাষ্ট্রপতির সম্মতিক্রমে এর প্রধান বিচারপতি প্রয়োজনে অস্থায়ী বিচারপতি নিয়োগ করতে পারেন। সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতিগণ রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হন।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন