শাসন বিভাগ কী?
যে-কোনো ধরনের সংগঠন, স্কুল, কলেজ পরিচালনা ও কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে গেলে যে তত্ত্বাবধায়কের প্রয়োজন হয়, রাষ্ট্রের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হয় না। অর্থাৎ, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের দৃষ্টিভঙ্গিতে শাসন বিভাগ বলতে সেই গুরুত্বপূর্ণ বিভাগকে বোঝায়, যে বিভাগ দেশের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ, নীতি নির্ধারণ এবং তদারকিকরণ ইত্যাদি কাজগুলি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও তার মন্ত্রীসভাই শুধু নন, সরকারি রাষ্ট্রকৃত্যক বা আমলাদের দ্বারাও সম্পাদিত হয়ে থাকে। তাকেই এককথায় বলা হয়, শাসন বা প্রশাসনিক বিভাগ।
বিভিন্ন প্রকার শাসন বিভাগ কী কী?
পৃথিবীর প্রতিটি দেশেই একই ধরনের শাসক দেখা যায় না। বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন ধরনের শাসক দেখা যায়। যেমন-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শাসক হলেন মার্কিন রাষ্ট্রপতি। আবার ব্রিটেনের প্রধান শাসক হলেন রাজা বা রানি। আবার বিভিন্ন দেশের প্রধান শাসকের ক্ষমতা ও কার্যাবলির মধ্যেও পার্থক্য লক্ষ করা যায়। যেমন-মার্কিন রাষ্ট্রপতির যে ক্ষমতা ভারতের রাষ্ট্রপতির ক্ষেত্রে তার পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।
এই পার্থক্যগুলি আলোচনা করতে হলে আমাদের বিভিন্ন দেশের শাসনব্যবস্থার চরিত্রটি বুঝতে হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হল রাষ্ট্রপতি শাসিত শাসনব্যবস্থার দেশ, সেখানে শাসন বিভাগের সব ক্ষমতা ন্যস্ত থাকে রাষ্ট্রপতির হাতে। আবার, ব্রিটেন হল সংসদীয় গণতন্ত্রের দেশ যেখানে সাংবিধানিক রাজতন্ত্র লক্ষ করা যায়। দ্বিতীয় এলিজাবেথ হলেন আনুষ্ঠানিক প্রধান। ফ্রান্সে আধা- রাষ্ট্রপতিশাসিত শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী উভয়ই শাসন বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীকে নিয়োগ করলেও প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রীসভাকে বরখাস্ত করতে পারেন না। জাপানে সংসদীয় গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা লক্ষ করা যায়। সেখানে রাজা হলেন প্রধান শাসক, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী প্রকৃত ক্ষমতা ভোগ করেন। ইটালিতেও সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা লক্ষ করা যায়। আবার, রাশিয়া হল আধা-রাষ্ট্রপতিশাসিত রাষ্ট্র, সেখানে রাষ্ট্রপতি হলেন দেশের প্রধান শাসক। রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীকে নিয়োগ করেন। প্রধানমন্ত্রী হলেন সরকারের প্রধান। জার্মানি হল সংসদীয় গণতন্ত্রের দেশ, সেখানে রাষ্ট্রপতি হলেন আনুষ্ঠানিক প্রধান এবং Chancellor হলেন সরকারের প্রধান।
রাষ্ট্রপতিশাসিত শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি হলেন দেশের ও সরকারের প্রধান। এই ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির অফিস খুবই শক্তিশালী হয়, তত্ত্বগত ও বাস্তবিক উভয় দিক থেকেই। রাষ্ট্রপতিশাসিত শাসন- ব্যবস্থার দেশগুলির মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল ও দক্ষিণ আমেরিকার বেশিরভাগ দেশগুলি পড়ে।
সংসদীয় ব্যবস্থায়, প্রধানমন্ত্রী হলেন সরকারের প্রধান। বেশিরভাগ সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি বা রাজা হলেন- শাসক, প্রধানমন্ত্রীসহ ক্যাবিনেট হল প্রকৃত ক্ষমতার অধিকারী। ব্রিটেন, জাপান, জার্মানি, ইটালি হল সংসদীয় শাসনব্যবস্থার উদাহরণ। আবার, আধা-রাষ্ট্রপতিশাসিত শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী প্রায় সমান ক্ষমতা ভোগ করেন। এই ব্যবস্থায় কখনো রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী একই দলের হয়ে থাকেন আবার, কখনো বিরোধী দলভুক্ত হয়ে থাকেন। ফ্রান্স, রাশিয়া, শ্রীলঙ্কা ইত্যাদি হল এই ধরনের ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত।
বিভিন্ন ধরনের শাসন বিভাগ
যৌথ নেতৃত্বের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা ব্যবস্থা > সংসদীয় শাসনব্যবস্থা > আধা-রাষ্ট্রপতিশাসিত ব্যবস্থা > সাংবিধানিক বা নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্র > সংসদীয় সাধারণতন্ত্র > আনুষ্ঠানিক বা নিয়মতান্ত্রিক শাসক প্রধান
ব্যক্তিগত নেতৃত্বের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা ব্যবস্থা > রাষ্ট্রপতি শাসিত শাসনব্যবস্থা
শ্রীলঙ্কার আংশিক রাষ্ট্রপতিশাসিত শাসন- ব্যবস্থা
1978 খ্রিস্টাব্দে শ্রীলঙ্কায় সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সেখানে আধা-রাষ্ট্রপতিশাসিত শাসনব্যবস্থা চালু হয়। এর ফলে সেখানকার রাষ্ট্রপতি জনগণ দ্বারা প্রত্যক্ষভাবে নির্বাচিত হন। তবে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দল বা একই দলের সদস্য হতে পারেন। সে বিষয়ে সংবিধানে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতি প্রভূত ক্ষমতার অধিকারী। তিনি যেমন পার্লামেন্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের প্রার্থীকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করেন, আবার তাঁকে বরখাস্ত করতেও পারেন। তিনি একাধারে রাষ্ট্রের, সেনাবাহিনী ও সরকারের প্রধান। শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতি 6 বছরের জন্য নির্বাচিত হন এবং তাঁকে পদচ্যুত করতে গেলে জটিল পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়, যা প্রায় অসম্ভব।
ভারতের সংসদীয় শাসনব্যবস্থা
ভারতীয় শাসনব্যবস্থা সংসদীয় ও রাষ্ট্রপতিশাসিত শাসন- ব্যবস্থার সমন্বয়ে গঠিত হওয়ার ফলে এক অভিনব শাসন- ব্যবস্থা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। ভারতের রাষ্ট্রপতি তত্ত্বগতভাবে শাসন বিভাগের চূড়ান্ত কর্তৃত্বের অধিকারী হলেও প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত একটি ক্যাবিনেটের পরামর্শে পরিচালিত হন বলে কার্যত তিনি নিয়মতান্ত্রিক বা নামসর্বস্ব শাসক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।
যোগ্যতা: রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হতে গেলে প্রার্থীকে অবশ্যই কতকগুলি যোগ্যতার অধিকারী হতে হয়। যেমন তাঁকে-
[i] অবশ্যই ভারতীয় নাগরিক হতে হবে।
[ii] অন্তত 35 বছর বয়স্ক হতে হবে।
[iii] লোকসভায় নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতাসম্পন্ন হতে হবে সংবিধানের [58(1) নং ধারা] অনুসারে।
[iv] তা ছাড়া, কেন্দ্রীয় সরকার, রাজ্য সরকার বা স্থানীয় সরকারি কর্তৃপক্ষ-এর কোনো লাভজনক পদে তিনি নিযুক্ত থাকতে পারবেন না, সংবিধানের [58(2) নং ধারা অনুসারে]।
নির্বাচন পদ্ধতি: একক হস্তান্তরযোগ্য সমানুপাতিক প্রতিনিধির ভিত্তিতে গোপন ভোটের মাধ্যমে একটি নির্বাচক সংস্থা কর্তৃক ভারতীয় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
[i] ভারতীয় পার্লামেন্টের উভয়কক্ষেই নির্বাচিত সদস্য এবং
[ii] রাজ্য আইনসভার নিম্নকক্ষের অর্থাৎ, বিধানসভার নির্বাচিত সদস্যদের নিয়ে এই নির্বাচক সংস্থা গঠিত হয়।
কার্যকাল ও পদচ্যুতি: রাষ্ট্রপতির কার্যকালের মেয়াদ হল 5 বছর। অবশ্য-[i] রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে, [ii] তাঁর মৃত্যু হলে অথবা, [iii] সাংবিধানিক বিধিভঙ্গের অপরাধে পার্লামেন্ট তাঁকে পদচ্যুত করলে কিংবা, [iv] আদালত রাষ্ট্রপতির নির্বাচন বাতিল করে দিলে কার্যকালের মেয়াদ পরিসমাপ্তির পূর্বেই রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হতে পারে। রাষ্ট্রপতি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করতে চাইলে - তাঁকে নিজ হাতে পদত্যাগপত্র লিখে উপরাষ্ট্রপতির কাছে তা জমা দিতে হবে। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার 6 মাসের মধ্যেই নতুন রাষ্ট্রপতির নির্বাচনকার্য সম্পন্ন করতে হয়।
সংবিধানের 56নং ধারা অনুসারে রাষ্ট্রপতিকে সংবিধান ভঙ্গের অপরাধে 61 নং ধারায় বর্ণিত 'ইমপিচমেন্ট পদ্ধতির মাধ্যমে পদচ্যুত করা যায়। পার্লামেন্টের যে-কোনো কক্ষই রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে প্রস্তাব আকারে সংবিধানভঙ্গের অভিযোগ আনতে পারে। যে কক্ষে এই অভিযোগ আনীত হবে, সেই কক্ষের মোট সদস্যসংখ্যার অন্যূন এক চতুর্থাংশের স্বাক্ষরিত লিখিত বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার অন্তত 14 দিন পরে প্রস্তাবটি আলোচনার জন্য সংশ্লিষ্ট কক্ষে উত্থাপন করা হয়। প্রস্তাবটি সেই কক্ষের মোট সদস্যসংখ্যার অন্তত দুই-তৃতীয়াংশের সম্মতিসূচক ভোটে গৃহীত হলে, অপর কক্ষ অভিযোগ সম্পর্কে অনুসন্ধান করে। এরপর সেই কক্ষেও প্রস্তাবটি যদি দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের দ্বারা সমর্থিত হয়, তাহলে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করা যায়।
রাষ্ট্রপতির স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা
তত্ত্বগতভাবে ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রভূত ক্ষমতার অধিকারী। সংবিধানের 53(1) নং ধারায় বলা হয়েছে যে, ইউনিয়নের শাসন সংক্রান্ত ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে ন্যস্ত রয়েছে। রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা-বলিকে আট ভাগে ভাগ করে আলোচনা করা যেতে পারে। এগুলি হল-[i] শাসনসংক্রান্ত ক্ষমতা, [ii] সামরিক ক্ষমতা, [iii] কূটনৈতিক ক্ষমতা, [iv] আইনসংক্রান্ত ক্ষমতা, [v] অর্থ-সংক্রান্ত ক্ষমতা, [vi] জরুরি অবস্থা সংক্রান্ত ক্ষমতা।
শাসনসংক্রান্ত ক্ষমতা ভারতের রাষ্ট্রপতি হলেন দেশের সর্বোচ্চ শাসন বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ। তিনি নিজে কিংবা তাঁর অধস্তন কর্মচারীবৃন্দের মাধ্যমে সংবিধান অনুসারে শাসন সংক্রান্ত কার্যাবলি সম্পাদন করতে পারেন [53(1) নং ধারা]। এখানে অধস্তন কর্মচারী বলতে মন্ত্রীদের বোঝানো হয়েছে। রাষ্ট্রপতির শাসন সংক্রান্ত ক্ষমতাকে নিম্নলিখিত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যেতে পারে।
[i] শাসনকার্য পরিচালনা: কেন্দ্রীয় সরকারের যাবতীয় শাসনকার্য রাষ্ট্রপতির নামে সম্পাদিত হয় [77(1) নং ধারা]। ভারত সরকারের যে-কোনো সিদ্ধান্ত তত্ত্বগতভাবেই তাঁরই সিদ্ধান্ত। সরকারি কার্য পরিচালনা বিষয়ে যেসব নিয়ম তৈরি হয়, সেগুলি তাঁর দ্বারাই তৈরি হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হয়। আবার, রাষ্ট্রপতি মন্ত্রীদের মধ্যে দায়িত্ব ও কার্যভার বণ্টন করে দেন।
[ii] নিয়োগ সংক্রান্ত ক্ষমতা: ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারীদের নিয়োগ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি প্রধানমন্ত্রী- সহ মন্ত্রীসভার অন্যান্য সদস্য, ভারতের অ্যাটর্নি জেনারেল, মহাহিসাব নিয়ামক ও নিরীক্ষক, নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় জনপালন কৃত্যক কমিশন, আন্তঃরাজ্য পরিষদ, তপশিলি জাতি ও উপজাতিদের জন্য 'একজন বিশেষ আধিকারিক', অনুন্নত শ্রেণিগুলির অবস্থা বিষয়ে অনুসন্ধান কমিশন, সরকারি ভাতা সংক্রান্ত কমিশন, অঙ্গরাজ্যের রাজ্যপাল প্রমুখকে নিয়োগ করেন।
[iii] অপসারণ সংক্রান্ত ক্ষমতা: রাষ্ট্রপতি যেমন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ করার ক্ষমতা আছে, তেমনি কিছু কিছু ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারীদের তিনি অপসারণ বা পদচ্যুতও করতে পারেন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, তিনি ব্যক্তিগত- ভাবে মন্ত্রীদের এবং রাজ্যপাল, অ্যাটর্নি জেনারেল, কেন্দ্রীয় কিংবা রাজ্যের জনপালন কৃত্যক কমিশনের সভাপতি বা সদস্যদের পদচ্যুত করতে সক্ষম।
[iv] রাজ্যগুলিকে নির্দেশদানের ক্ষমতা: রাষ্ট্রপতি রাজ্য- সরকারগুলিকে কেন্দ্রীয় আইন অমান্য করে এবং কেন্দ্রীয় শাসন বিভাগের কার্যাবলির সঙ্গে সাযুজ্য রক্ষা করে কার্যসম্পাদন করার জন্য নির্দেশ দিতে পারেন। তা ছাড়া, জাতীয় ও সামরিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা, রেলপথ ইত্যাদি সংরক্ষণের জন্য রাজ্য সরকার- গুলিকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন।
সামরিক ক্ষমতা রাষ্ট্রপতি হলেন দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। তিনি স্থল, নৌ ও বিমানবাহিনীর প্রধানদের নিয়োগ করেন। জাতীয় প্রতিরক্ষা কমিটির প্রধান হিসেবে তাঁকে কার্য- সম্পাদন করতে হয়। ওই কমিটির সিদ্ধান্ত অনুসারে তিনি যুদ্ধ ঘোষণা কিংবা শান্তি স্থাপন করতে পারেন।
কূটনৈতিক ক্ষমতা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি হলেন সমগ্র ভারতের প্রধান প্রতিনিধি। রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তিনি বিভিন্ন রাষ্ট্রে ভারতীয় কূটনৈতিক প্রতিনিধি প্রেরণ করেন। বিদেশি কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা তাঁর কাছে নিজ নিজ পরিচয়পত্র পেশ করেন এবং তিনি তাঁদের স্বাগত জানান। আবার, পার্লামেন্টের সম্মতি-সাপেক্ষে বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে সন্ধিস্থাপন বা চুক্তি সম্পাদনের কার্য তাঁর নামেই সম্পাদিত হয়।
আইন-সংক্রান্ত ক্ষমতা যুক্তরাজ্যের রাজা বা রানির মতো ভারতের রাষ্ট্রপতি হলেন পার্লান্টের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই শাসন বিভাগের প্রধান হিসেবে তিনি যেমন ভূমিকা পালন করেন, তেমনি পার্লামেন্টের অঙ্গ হিসেবে তাঁর হাতে কতকগুলি গুরুত্বপূর্ণ আইন সংক্রান্ত ক্ষমতা অর্পণ করা হয়েছে। সেই ক্ষমতাগুলি হল-
[i] পার্লামেন্টের অধিবেশন সংক্রান্ত ক্ষমতা: রাষ্ট্রপতি পার্লামেন্টের অধিবেশন আহ্বান করতে কিংবা স্থগিত রাখতে পারেন। তবে তাঁকে পার্লামেন্টের অধিবেশন এমনভাবে আহ্বান করতে হয়, যাতে একটি অধিবেশনের সঙ্গে পরবর্তী অধিবেশনের ব্যবধান 6 মাসের কম হয়। কার্যকাল শেষ হওয়ার পূর্বে রাষ্ট্রপতি লোকসভা ভেঙে দিতে পারেন।
[ii] পার্লামেন্টের সদস্য মনোনয়নের ক্ষমতা: সাহিত্যিক, বৈজ্ঞানিক, সমাজসেবী প্রমুখের মধ্য থেকে তিনি 12 জনকে রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে মনোনীত করেন। তা ছাড়া, ইঙ্গ- ভারতীয় সম্প্রদায়ের যথেষ্ট সংখ্যক প্রতিনিধি লোকসভায় নেই মনে করলে তিনি সেই সম্প্রদায়ের মধ্য থেকে ২ জনকে লোকসভার সদস্য হিসেবে মনোনয়ন করতে পারেন।
[iii] ভাষণ প্রদান ও বাণী প্রেরণের ক্ষমতা: রাষ্ট্রপতি পার্লামেন্টের সভায় ভাষণ দিতে এবং 'বাণী' প্রেরণ করতে পারেন। তিনি পার্লামেন্টের যে-কোনো কক্ষে কিংবা উভয় কক্ষের যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দিতে পারেন।
[iv] অধ্যাদেশ জারির ক্ষমতা: পার্লামেন্টের অধিবেশন বন্ধ থাকাকালে বিশেষ প্রয়োজন মনে করলে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ বা অর্ডিন্যান্স জারি করতে সমর্থ। ওই অধ্যাদেশ পার্লামেন্ট প্রণীত আইনের মতোই কার্যকর হয়। রাষ্ট্রপতি যে-কোনো সময় অধ্যাদেশ প্রত্যাহার করে নিতে পারেন।
[v] বিল পাসে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা: যেহেতু রাষ্ট্রপতি হলেন পার্লামেন্টের অবিচ্ছেদ্য অংশ, সেহেতু তাঁর সম্মতি ছাড়া কোনো বিল আইনে রূপান্তরিত হতে পারে না। পার্লামেন্টের উভয়কক্ষে গৃহীত হওয়ার পর প্রতিটি বিলকে রাষ্ট্রপতির সম্মতির জন্য প্রেরণ করা হয়। রাষ্ট্রপতি অর্থবিল ছাড়া অন্য বিলে সম্মতি জ্ঞাপন করতে পারেন কিংবা নাও পারেন, অথবা পুনর্বিবেচনার জন্য বিলটিকে পার্লামেন্টের কাছে ফেরত পাঠাতে পারেন, কিন্তু পার্লামেন্টের উভয় কক্ষে পুনর্বিবেচিত হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির সম্মতির জন্য বিলটিকে দ্বিতীয়বার প্রেরণ করা হলে সংশ্লিষ্ট বিলে তিনি সম্মতি জ্ঞাপন করতে বাধ্য। কিন্তু কোনো অর্থবিলকে পুনর্বিবেচনা করার জন্য তিনি পার্লামেন্টের কাছে ফেরত পাঠাতে কিংবা তাতে অসম্মতি জ্ঞাপন করতে পারেন না।
ভেটো ক্ষমতা: রাষ্ট্রপতির বিল বাতিল করার ক্ষমতাকে 'ভেটো ক্ষমতা' বলা হয়। রাষ্ট্রপতির ভেটো ক্ষমতাকে তিনভাগে ভাগ করা যায়, যথা- [a] চরম ভিটো, [b] স্থগিতকারী ভিটো, [c] পকেট ভিটো।
[a] চরম ভেটো: যুক্তরাজ্যের রাজা বা রানির মতো ভারতের রাষ্ট্রপতি অর্থবিল ও সংবিধান-সংশোধনী বিল ছাড়া অন্য যে-কোনো বিলে অসম্মতি জ্ঞাপন করতে পারেন। ফলে বিলটি বাতিল হয়ে যায়। কিন্তু ভারতে ক্যাবিনেট শাসন- ব্যবস্থা প্রবর্তিত হওয়ার ফলে কার্যত রাষ্ট্রপতি কোনো সরকারি বিলে অসম্মতি জ্ঞাপন করেন না।
[b] স্থগিতকারী ভেটো: রাষ্ট্রপতি যখন পার্লামেন্ট কর্তৃক গৃহীত কোনো বিলকে সরাসরি বাতিল না করে পুন-র্বিবেচনার জন্য সেটিকে পার্লামেন্টের কাছে ফেরত পাঠান, তখন রাষ্ট্রপতির সেই ক্ষমতাকে স্থগিতকারী ভেটো প্রয়োগ-এর ক্ষমতা বলা হয়।
[c] পকেট ভেটো: রাষ্ট্রপতির কাছে প্রেরিত কোনো বিলে সম্মতি বা অসম্মতি জ্ঞাপন করার কিংবা বিলটিকে ফেরত পাঠাবার কোনো নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হয় না। ফলে কোনো বিল বাতিল না করে কিংবা পুনর্বিবেচনার জন্য পার্লামেন্টের কাছে ফেরত না পাঠিয়ে রাষ্ট্রপতি অনির্দিষ্ট কালের জন্য বিলটিকে আটকে রাখতে পারেন। এই ক্ষমতাকে রাষ্ট্রপতির 'পকেট ভেটো' সংক্রান্ত ক্ষমতা বলা হয়।
অর্থ-সংক্রান্ত ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে অর্থসংক্রান্ত কতকগুলি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা রয়েছে। ক্ষমতাগুলি হল-
[i] রাষ্ট্রপতির পূর্বসুপারিশ ছাড়া কোনো অর্থবিল লোকসভায় আনা যায় না।
[ii] আকস্মিক ব্যয়সংকুলানের জন্য ভারতের যে আকস্মিক ব্যয়সংকুলান তহবিল রয়েছে, তা রাষ্ট্রপতির হাতেই ন্যস্ত থাকে।
[iii] কেন্দ্র ও রাজ্যগুলির মধ্যে রাজস্ব বণ্টন-এর জন্য প্রতি 5 বছর অন্তর রাষ্ট্রপতি একটি অর্থ কমিশন গঠন করেন।
[iv] প্রত্যেক আর্থিক বছর-এর জন্য সরকার-এর সম্ভাব্য আয়ব্যয়ের বিবরণ বা বাজেট অর্থমন্ত্রীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি পার্লামেন্টের কাছে উপস্থাপন করেন।
জরুরি অবস্থা জারিসংক্রান্ত ক্ষমতা ভারতীয় রাষ্ট্রপতির জরুরি অবস্থা সংক্রান্ত ক্ষমতা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা বলে বিবেচিত হয়। তিনি তিন প্রকার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন, যথা-[a] জাতীয় জরুরি অবস্থা, [b] রাজ্যে সাংবিধানিক অচলাবস্থা জনিত জরুরি অবস্থা, [c] আর্থিক জরুরি অবস্থা।
[a] জাতীয় জরুরি ব্যবস্থা: যুদ্ধ, বহিরাক্রমণ কিংবা দেশের মধ্যে সশস্ত্র বিদ্রোহের ফলে সমগ্র ভারত বা তার কোনো অংশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়েছে অথবা বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করলে রাষ্ট্রপতি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন। [352(1)]। এরূপ জরুরি অবস্থাকে সাধারণভাবে জাতীয় জরুরি অবস্থা বলা হয়।
[b] সাংবিধানিক অচলাবস্থাজনিত জরুরি অবস্থা: কোনো রাজ্যের রাজ্যপালের রিপোর্টের ভিত্তিতে বা অন্য কোনোভাবে রাষ্ট্রপতি যদি সন্তুষ্ট হন যে, সংশ্লিষ্ট রাজ্যে উদ্ভূত বিশেষ পরিস্থিতিতে সংবিধান অনুযায়ী শাসনকার্য পরিচালিত হওয়া সম্ভব নয়, তাহলে তিনি সংশ্লিষ্ট রাজ্যে সাংবিধানিক অচলাবস্থা ঘোষণা করতে অর্থাৎ, রাষ্ট্রপতির শাসন জারি করতে পারেন [356(1) নং ধারা]। তা ছাড়া, কোনো রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশ পালনে ব্যর্থ হলে কিংবা এরূপ নির্দেশ কার্যকর করতে অস্বীকার করলে রাষ্ট্রপতি ওই রাজ্যে রাষ্ট্রপতির শাসন জারি করতে সক্ষম [365নং ধারা]।
[c] আর্থিক জরুরি অবস্থা: সমগ্র ভারত বা তার যে-কোনো অংশের আর্থিক স্থায়িত্ব বা সুনাম বিনষ্ট হয়েছে বলে রাষ্ট্রপতি যদি সন্তুষ্ট হন, তাহলে তিনি আর্থিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন। রাষ্ট্রপতি দ্বারা ঘোষিত এরূপ জরুরি অবস্থাকে 2 মাসের মধ্যে পার্লামেন্টের উভয়কক্ষের সম্মতি লাভ করতে হয়। না হলে বাতিল হয়ে যায়।
ভারতের উপরাষ্ট্রপতি
পদমর্যাদার দিক থেকে ভারতের রাষ্ট্রপতির ঠিক পরেই উপরাষ্ট্রপতির স্থান। সংবিধানের 66নং ধারা অনুসারে উপরাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থীকে নিম্নলিখিত যোগ্যতার অধিকারী হতে হয়-
[i] প্রার্থীকে অবশ্যই ভারতীয় নাগরিক হতে হবে।
[ii] তাঁকে অন্তত 35 বছর বয়স্ক হতে হবে।
[iii] তাঁকে রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতার অধিকারী হতে হবে।
[iv] তিনি ভারত সরকার বা কোনো রাজ্য সরকার অথবা, এই দুটি সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন কোনো স্থানীয় বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের অধীন কোনো লাভজনকপদে অধিষ্ঠিত থাকতে পারবেন না।
নির্বাচন ও পদচ্যুতি: পার্লামেন্টের উভয়কক্ষের সদস্যদের নিয়ে গঠিত একটি নির্বাচক সংস্থা কর্তৃক একক হস্তান্তরযোগ্য সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে গোপন ভোটে উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তাঁর কার্যকালের মেয়াদ 5 বছর। তাঁকে পদচ্যুত করার জন্য রাজ্যসভায় 14 দিন পূর্বে বিজ্ঞপ্তি দিতে হয়। পদচ্যুতি সংক্রান্ত প্রস্তাবটি যদি রাজ্যসভার তদানীন্তন মোট সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোট-এ গৃহীত হয় এবং ওই প্রস্তাবে লোকসভা যদি সম্মতি জ্ঞাপন করে, তাহলেই উপরাষ্ট্রপতিকে পদচ্যুত করা যায়।
ক্ষমতা ও কার্যাবলি: সংবিধানের 64 নং ধারা অনুযায়ী উপরাষ্ট্রপতি পদাধিকার বলে রাজ্যসভার সভাপতি হিসেবে কার্যসম্পাদন করেন। এটিই হল উপরাষ্ট্রপতির প্রথম কাজ। তবে রাষ্ট্রপতির মৃত্যু, পদত্যাগ বা পদচ্যুতি অথবা, অন্য কোনো কারণে রাষ্ট্রপতিপদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত উপরাষ্ট্রপতি, রাষ্ট্রপতি হিসেবে কার্যসম্পাদন করেন [65(1)]।
প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীপরিষদ
ভারতীয় সংবিধানের 74(1) নং ধারায় বলা হয়েছে যে, রাষ্ট্রপতিকে সাহায্য ও পরামর্শদানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে পরিচালিত একটি মন্ত্রীসভা থাকবে এবং রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীকে নিয়োগ করবেন এবং প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে অন্যান্য মন্ত্রীদের নিয়োগ করবেন। [75(1) নং ধারা]।
ভারতীয় সংবিধানে মন্ত্রীসভার গঠন সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো আলোচনা নেই। বলা হয়েছে যে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের পার্লামেন্ট-এর যে-কোনো একটি কক্ষের সদস্য হতেই হবে। পার্লামেন্টের কোনো কক্ষের সদস্য নন এমন কোনো ব্যক্তি যদি মন্ত্রীপদে নিযুক্ত হন, তাহলে তাঁকে 6 মাসের মধ্যেই পার্লামেন্টের যে-কোনো কক্ষের সদস্য হতে হবে, অন্যথায় তাঁকে পদত্যাগ করতে হয়। মন্ত্রীসভার সাধারণ কার্যকালের মেয়াদ হল 5 বছর। তবে এই সময়ের পূর্বেই যদি লোকসভা ভেঙে দেওয়া হয়, [i] মন্ত্রীসভার বিরুদ্ধে লোকসভায় অনাস্থা প্রস্তাব গৃহীত হয়, [ii] লোকসভায় কোনো সরকারি প্রস্তাব বা বিল নাকচ হয়ে যায়, কিংবা [iii] প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেন, তবে মন্ত্রীসভার পতন ঘটবে।
মন্ত্রীপরিষদের আয়তন
মন্ত্রীসভার সদস্যসংখ্যা কত হবে, মন্ত্রীদের কটি শ্রেণিতে ভাগ করা হবে ইত্যাদি বিষয়ে ভারতের মূল সংবিধানে কোনো কথা বলা হয়নি। প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজন অনুসারে মন্ত্রীর সংখ্যা বাড়াতে বা কমাতে পারেন। তবে 2003 খ্রিস্টাব্দে প্রণীত 91-তম সংবিধান সংশোধনী আইনে প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রীসভার সদস্যসংখ্যা লোকসভার মোট সদস্যসংখ্যার শতকরা 15 ভাগের বেশি হবে না। বর্তমানে মন্ত্রীদের তিন শ্রেণিতে ভাগ করা যায়, যথা- [a] ক্যাবিনেট মন্ত্রী, b] রাষ্ট্রমন্ত্রী (স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত) এবং [c] রাষ্ট্রমন্ত্রী।
সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীই হলেন দেশের প্রকৃত শাসক। সাধারণত দেখা যায়, তিনি সমগ্র ক্যাবিনেটের পরিবর্তে এর বিশেষ বিশেষ দু-তিনজন সদস্য-এর সঙ্গে পরামর্শ করে যাবতীয় নীতি নির্ধারণ এবং সরকারি কার্যাবলি পরিচালনা করেন। প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর ওই দু-তিনজন একান্ত বিশ্বস্ত সহকর্মীকে নিয়ে ক্যাবিনেটের মধ্যে একটি 'অভ্যন্তরীণ ক্যাবিনেট' গড়ে ওঠে। অনেকসময়, সকল সিদ্ধান্ত 'অভ্যন্তরীণ ক্যাবিনেট' বা 'কিচেন ক্যাবিনেট' গ্রহণ করে এবং সেগুলির ওপর সম্মতির সিলমোহর অঙ্কন করার জন্য ক্যাবিনেটের কাছে পেশ করা হয়ে থাকে।
প্রধানমন্ত্রী সংবিধানের 75(1) নং ধারায় বলা হয়েছে যে, ভারতের রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হবেন। তত্ত্বগত- ভাবে রাষ্ট্রপতির ইচ্ছার ওপর প্রধানমন্ত্রীর নিয়োগ নির্ভর করলেও বাস্তবে এ ব্যাপারে রাষ্ট্রপতির কোনো 'স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা' নেই। প্রথা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পার্লামেন্টের, বিশেষত লোক- সভার সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বা মোর্চার নেতা বা নেত্রীকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যকালের মেয়াদ হল 5 বছর। তার বেতন, ভাতা ইত্যাদি নির্ধারণের দায়িত্ব সংবিধান পার্লামেন্টের ওপর অর্পণ করেছে।
ক্ষমতা ও কার্যাবলি: ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ও কার্যাবলিকে নিম্নলিখিত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যেতে পারে-
[i] লোকসভার নেতা বা নেত্রী হিসেবে প্রধানমন্ত্রী।
[ii] মন্ত্রীসভা গঠনে প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা।
[iii] ক্যাবিনেটের নেতা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী।
[iv ] আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা।
[v] নিয়োগ সংক্রান্ত ক্ষমতা।
[vi] রাষ্ট্রপতির প্রধান পরামর্শদাতা হিসেবে ভূমিকা।
[vii] সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বা মোর্চার নেতা বা নেত্রী হিসেবে ভূমিকা।
রাষ্ট্রকৃত্যকের শ্রেণিবিভাগ
আমলাতন্ত্র হল ভারতের স্থায়ী শাসক। কারণ, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রীসভা 5 বছরের জন্য নির্বাচিত হন। এরা হলেন সরকারের রাজনৈতিক অংশ। কিন্তু আমলাতন্ত্র হল সরকারের অরাজনৈতিক অংশ। আমলারা নির্দিষ্ট যোগ্যতা ভিত্তিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে একটি নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত চাকুরিতে কার্যরত থাকেন। এরা হলেন সরকারের কাজের প্রধান চালিকাশক্তি। সরকারের রাজনৈতিক অংশটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকে কিন্তু সেই সিদ্ধান্তকে বাস্তবায়িত করার দায়িত্ব অরাজনৈতিক অংশের অর্থাৎ, আমলাতন্ত্রের।
রাষ্ট্রকৃত্যকের শ্রেণিবিভাজন
সর্বভারতীয় কৃত্যক > ভারতীয় প্রশাসনিক পরিসেবা (Indian Adminis trative Service) > ভারতীয় পুলিশ পরিসেবা (Indian Police Service)
কেন্দ্রীয় কৃত্যক > ভারতীয় বৈদেশিক পরিসেবা (Indian Foreign Service) > ভারতীয় রাজস্ব পরিসেবা (Indian Revenue Service)
রাজ্য কৃত্যক > বিক্রয়কর কর্মকর্তা (Sales Tax Officers)
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন