ত্রিপুরা মধ্যশিক্ষা পর্ষদ প্রদত্ত MODEL QUESTION ও তার সমাধান (2022-23) ইতিহাস -2
সঠিক উত্তরটি বাছাই করো। 1 × 10 = 10
1. মহেন-জো-দারোতে যতগুলি কৃপ আবিষ্কৃত হয়েছে, তা হল—
(a) প্রায় 700টি
(b) 600টির কম
(c) প্রায় 500টি
(d) 1000ft
উত্তর: (a) প্রায় 700টি।
2. অশোকের লিপি প্রথম পাঠোদ্ধার করেন—
(a) স্যার প্রিন্সেপ
(b) এ কানিংহাম
(c) ফ্লিট
(d) ফার্গুসন
উত্তর: (a) স্যার প্রিন্সেপ ।
3. বি বি লাল ছিলেন একজন খ্যাতনামা—
(a) নৃতত্ত্ববিদ
(b) প্রত্নতত্ত্ববিদ
(c) লিপিবিশারদ
(d) ভূবিদ্যাবিশারদ
উত্তর: (b) প্রত্নতত্ত্ববিদ ।
4. দক্ষিণ ভারতে যাযাবর ভিক্ষু সন্ন্যাসীরা যে-নামে পরিচিত ছিল—
(a) জপ্পাত
(b) জঙ্গম
(c) লিঙ্গায়ত
(d) আলভার
উত্তর: (b) জঙ্গম।
5. আল-বিরুনীর প্রকৃত নাম ছিল—
(a) আবু রিহান
(b) আবু হায়দার
(c) আবু বকর
(d) আবুল ফজল
উত্তর: (a) আবু রিহান।
6. শিখধর্মে খালসা পথের সূচনা করেন—
(a) গুরু গোবিন্দ সিং
(b) গুরু রামদাস
(c) গুরুনানক
(d) গুরু অর্জুন সিং
উত্তর: (a) গুরু গোবিন্দ সিং ।
7. বিজয়নগর সাম্রাজ্যটি প্রতিষ্ঠিত হয়—
(a) 1335 খ্রিস্টাব্দে
(b) 1336 খ্রিস্টাব্দে
(c) 1337 খ্রিস্টাব্দে
(d) 1338 খ্রিস্টাব্দে
উত্তর: (b) 1336 খ্রিস্টাব্দে
৪. খারবন্দি বলতে বোঝায়—
(a) খাস জমি
(b) গভীর জঙ্গল ও ঝোপঝাড়পূর্ণ অঞ্চল
(c) আবাদি জমি
(d) তরাই অঞ্চল
উত্তর: (b) গভীর জঙ্গল ও ঝোপঝাড়পূর্ণ অঞ্চল।
9. চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত কে প্রবর্তন করেছিলেন ?
(a) লর্ড ওয়েলেসলি
(b) লর্ড কর্নওয়ালিশ
(c) টমাস মুনরো
(d) হল্ট ম্যাকেঞ্জি
উত্তর: (b) লর্ড কর্নওয়ালিশ।
10. লাহোর অধিবেশন হয়—
(a) 1922 খ্রিস্টাব্দে
(b) 1925 খ্রিস্টাব্দে
(c) 1927 খ্রিস্টাব্দে
(d) 1929 খ্রিস্টাব্দে
উত্তর: (d) 1929 খ্রিস্টাব্দে।
নীচের প্রশ্নগুলি একটি শব্দে / পূর্ণাঙ্গ বাক্যে উত্তর দাও। 1 x 20 = 20
11. এপিগ্রাফিক কী ?
উত্তর: এপিগ্রাফিক হল প্রাচীন শিলালিপি অধ্যয়ন পদ্ধতি।
12. কুলি লাইন কী ?
উত্তর: মহেন-জো-দারোর দুর্গ এলাকায় বা উচ্চ শহরে দু-কামরা বিশিষ্ট ছোটো ছোটো 16টি ঘর আবিষ্কৃত হয়েছে, একেই বলা হয় কুলি লাইন ।
13. সিন্ধু সভ্যতায় কতগুলি সিন্ধুলিপি আবিষ্কৃত হয়েছে ?
উত্তর: সিন্ধু সভ্যতায় 4000টি সিন্ধুলিপি আবিষ্কৃত হয়েছে।
14. ভি এস সুকতাঙ্কর কে ছিলেন ?
উত্তর: ভি এস সুকতাঙ্কর ছিলেন সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্য বিশেষজ্ঞ।
15. প্রথমে মগধের রাজধানী কোথায় ছিল ?
উত্তর: প্রথমে মগধের রাজধানী ছিল রাজগৃহে বা রাজগিরে।
16. মহাভারত কখন রচিত হয় ?
উত্তর: খ্রিস্টপূর্ব 500 অব্দ থেকে 500 খ্রিস্টাব্দের মধ্যে মহাভারত রচিত হয়।
17. কে, কবে সাঁচি স্তূপ আবিষ্কার করেন ?
উত্তর: জেনারেল টেলর, 1818 খ্রিস্টাব্দে সাঁচি স্তুপ আবিষ্কার করেন।
18. ইবন বতুতা কে ছিলেন ?
উত্তর: ইবন বতুতা ছিলেন মরক্কো দেশ থেকে আগত বিদেশি পর্যটক; যিনি মোহম্মদ-বিন-তুঘলকের আমলে ভারতে এসেছিলেন।
19. মুকাদ্দম কাকে বলা হত ?
উত্তরঃ মোগল যুগে পঞ্চায়েত প্রধানকে মুকাদ্দম বা মণ্ডল বলা হত।
20. বার্নিয়ারের রচনার নাম লেখো ।
উত্তর: বার্নিয়ারের রচনাটি হল—ট্রাভেলস্ ইন দ্য মোগল এম্পায়ার।
21. 'সিলসিলা' বলতে কী বোঝো ?
উত্তর: এক-একটি সুফিসস্ত ও তাঁর সম্প্রদায়কে বলা হত 'সিলসিলা'।
22. মহানবমী দিব্যের ভবনটি কোন্ শহরে অবস্থিত ?
উত্তর: মহানবমী দিব্যের ভবনটি হাম্পি শহরে অবস্থিত।
23. বিজয়নগরের কোন শ্রেণিকে বহিক্কল বলা হত ?
উত্তর: বিজয়নগরের বয়নশিল্পী শ্রেণিকে বহিক্কল বলা হত।
24. তাকৎ-ই-আকবরি কার লেখা ?
উত্তর: তবাকৎ-ই-আকবরি রচনা করেন নিজামউদ্দিন আহমেদ।
25. খুদকাস্তা বলতে কী বোঝো ?
উত্তর: মোগল যুগে যে-সমস্ত স্থানীয় কৃষক নিজের জমি চাষ করত তাদের বলা হত খুদকাস্তা।
26. অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি' কে প্রবর্তন করেছিলেন ?
উত্তরঃ লর্ড ওয়েলেসলি, 1798 খ্রিস্টাব্দে 'অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি' প্রবর্তন করেছিলেন।
27. ব্রিটিশ সরকার কোন্ ভারতীয় উপজাতিকে আদর্শ বসতি স্থাপনকারী হিসেবে গণ্য করেছিল ?
উত্তর: ব্রিটিশ সরকার সাঁওতাল উপজাতিকে আদর্শ বসতি স্থাপনকারী হিসেবে গণ্য করেছিল।
28. Relief of Lucknow" ছবির চিত্রকর কে ছিলেন ?
উত্তর: 'Relief of Lucknow' ছবির চিত্রকর ছিলেন টমাস জোনস বার্কার।
29. গান্ধিজির আত্মজীবনীর নাম লেখো।
উত্তর: গান্ধিজির আত্মজীবনীর নাম— The Story of My Experiments with Truth.
30. কত খ্রিস্টাব্দে গণপরিষদ গঠিত হয়েছিল ?
উত্তর: 1946 খ্রিস্টাব্দে গণপরিষদ গঠিত হয়েছিল।
নীচের প্রতিটি প্রশ্ন 20টি শব্দের মধ্যে লেখো। 2x 5 = 10
31. কাকে, কেন ভারতের প্রথম ঐতিহাসিক সম্রাট বলা হয় ?
ঐতিহাসিক হেমচন্দ্র রায়চৌধুরী ও রাধাকুমুদ মুখোপাধ্যায় চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যকে ভারতের প্রথম ঐতিহাসিক সম্রাট' বলেছেন। কারণ তাঁরই হাত ধরে ভারতের প্রথম রাষ্ট্রীয় ঐক্যের পথ প্রশস্ত হয়।
32. কলিন ম্যাকেনজি কে ছিলেন ?
ব্রিটিশ চিত্রশিল্পী কলিন ম্যাকেনজি জন্মগ্রহণ করেন 1754 খ্রিস্টাব্দে। তিনি একাধারে ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার, সার্ভেয়ার এবং মানচিত্রকার। 1815 খ্রিস্টাব্দে ভারতের প্রথম সার্ভেয়ার জেনারেল হিসেবে নিযুক্ত হন। 1821 খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুর আগে পর্যন্ত তিনি এই পদে আসীন ছিলেন। তিনি ভারতের অতীতকে আরও ভালোভাবে বুঝতে এবং ঔপনিবেশিক শাসনব্যবস্থাকে সহজভাবে পরিচালনা করতে স্থানীয় ইতিহাস সংগ্রহ ও সমীক্ষা শুরু করেন।
33. টোডরমল ব্যবস্থা কী ?
সম্রাট আকবরের দেওয়ান টোডরমল 1582 খ্রিস্টাব্দে চাষযোগ্য জমি জরিপ করেন। জমির উৎপাদিকা শক্তি অনুসারে জমিকে 3 ভাগে ভাগ করেন এবং তার ভিত্তিতে খাজনার হার নির্ধারণ করেন। টোডরমলের এই রাজস্ব সংক্রান্ত ব্যবস্থাকেই বলা হয়। টোডরমল ব্যবস্থা।
34. দেহ হতে প্রাণবায়ু নির্গত হয়ে গিয়েছিল'— তাৎপর্য কী ছিল ?
লর্ড ডালহৌসি কর্তৃক অবধ (অযোধ্যা) অধিগ্রহণকালে নবাব ওয়াজিদ আলি শাহকে কলকাতায় নির্বাসিত করা হয়। কিন্তু তাঁর জনপ্রিয়তা এতটাই ছিল যে, অবধের সাধারণ মানুষ তাদের প্রিয় নবাবকে শেষবার দেখার জন্য রাস্তায় ভিড় করে। জনশ্রুতি আছে তারা কানপুর পর্যন্ত নবাবের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর পথ অনুসরণ করে। তাদের এই অভিব্যক্তি এবং নবাবের প্রতি ভালোবাসা সেই সময়ের অনেক লেখা ও গানেও স্থান পেয়েছে। অনেক পর্যবেক্ষকের রচনায় তা লিপিবদ্ধ হয়েছে। আলোচ্য উক্তিটি সেই প্রসঙ্গেই ব্যক্ত হয়েছে।
35. গান্ধি-আরউইন চুক্তির (1931) শর্তগুলি আলোচনা করো।
উত্তর: 1931 খ্রিস্টাব্দের জানুয়ারি মাসে গান্ধিজি এবং ভাইসরয় লর্ড আরউইনের মধ্যে গান্ধি-আরউইন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় । এই চুক্তির শর্ত অনুসারে—
[i] গান্ধিজি আইন অমান্য আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেবেন এবং লন্ডনে অনুষ্ঠিত গোলটেবিল বৈঠকে যোগদান করবেন।
[II] সরকার সমস্ত সত্যাগ্রহী বন্দিদের মুক্তি দিতে সম্মত হয়।
[ii] সমুদ্র উপকূলে লবণ নির্মাণের অনুমতি সরকার প্রদান করে।
নীচের প্রতিটি প্রশ্ন 60টি শব্দের মধ্যে লেখো। 3x3 = 9
36. প্রাচীন ভারতে শাস্ত্রমতে কয়প্রকার বিবাহরীতি প্রচলিত ছিল ? নামগুলি উল্লেখ করো ।
উত্তর: বৈদিক যুগে নারীসমাজে বিভিন্ন ধরনের বিবাহরীতি প্রচলিত ছিল। সেযুগে মনুস্মৃতি ও যাজ্ঞবল্ক্য স্মৃতিতে হিন্দুশাস্ত্র অনুযায়ী আট রকমের বিবাহরীতির উল্লেখ পাওয়া যায়। এ ছাড়া কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রে বিবাহরীতি নিয়ে অনেক কথা বলা হয়েছে।
• বৈদিক যুগে আট রকমের বিবাহরীতি হল- ব্রাহ্ম, দৈব, আর্থ, প্রজপত্য, অসুর, গান্ধর্ব, © রাক্ষস, 6 উপশাচ বা পৈশাচ ।
37. ভক্তিবাদী আন্দোলনের তিনটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো।
উত্তর: মধ্যস্থকারীর ভূমিকা: ভক্তিবাদের প্রচারকগণ নিজেদের ভগবান ও জনসাধারণের মধ্যস্থকারী বলে দাবি করতেন।
এঁরা সপ্ত-কবি নামে পরিচিত ছিলেন। সম্ভ-কবিরা ছিলেন ধর্মের পথপ্রদর্শক। ক্রমে এঁদের অনুগামীরা এক-একটি সম্প্রদায় গড়ে তোলে ।
• উদারতা: ভক্তিবাদের উত্থানের ফলে বৈদিক সমাজে এক উদারতার পরিবেশ সৃষ্টি হয়, যেখানে নারী ও নিম্নশ্রেণির মানুষেরাও বৈদিক শ্লোকগুলি পাঠ করার সুযোগ পায়। ইতিপূর্বে সেই অধিকার ব্রাহ্মণ ছাড়া অন্য কারুর ছিল না।
• আদর্শের বিভিন্নতা: ভক্তিবাদী সাধকেরা বিভিন্ন আদর্শের দ্বারা অনুপ্রাণিত হন। এর মধ্যে বৌদ্ধধর্ম ও জৈনধর্ম ছাড়াও ইসলাম ধর্মের প্রভাব ছিল। যেমন—সগুণরা মূর্তিপুজোয় বিশ্বাসী ছিল, আবার নির্গুণরা ভগবানকে নিরাকাররূপে পুজো করত। অন্যদিকে, তামিলনাডুতে দেখা যায় ভক্তিবাদীরা দুটি গোষ্ঠীতে বিভক্ত ছিল। একদল ছিল বিষ্ণুর উপাসক, যাদের আলভার বলা হত এবং আর এক দল শিবের উপাসনা করত, যাদের নায়নার বলা হত।
38. “জোতদারদের উত্থান অবশ্যম্ভাবী রূপে জমিদারদের কর্তৃত্বকে দুর্বল করে দেয়।”—বক্তব্যটির তাৎপর্য সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: জোতদারদের উত্থান অবশ্যম্ভাবী রূপে জমিদারদের কর্তৃত্বকে দুর্বল করে দিয়েছিল।
[i] অষ্টাদশ শতাব্দীতে যখন জমিদারদের কর্তৃত্ব প্রশ্নের মুখে পড়েছিল তখন একদল ধনী কৃষক সম্প্রদায় তাদের অবস্থানকে মজবুত করেছিল। গ্রামাঞ্চলে জোতদারদের ক্ষমতা জমিদার অপেক্ষা অনেক বেশি সক্রিয় ছিল।
[ii] জমিদাররা গ্রামের খাজনাকে বাড়ানোর জন্য যে প্রচেষ্টা চালিয়েছিল জোতদাররা তার বিরোধিতা করে। তারা জমিদার এবং তাদের কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনে বাধা দিত এবং জোতদাররা রায়তদের নিজের দলে টেনে নিয়ে রাজস্ব প্রদানে বিলম্ব করত।
[iii] ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে, জোতদাররা বিস্তীর্ণ অঞ্চল দখল করে নেয়। স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং মহাজনদের ওপরও তাদের নিয়ন্ত্রণ থাকত, এইভাবে সেই অঞ্চলের দীনদরিদ্র কৃষকদের ওপর তারা অসীম শক্তি প্রয়োগ করত।
[iv] জমিদারদের জমি নিলাম হয়ে গেলে প্রায়শই জোতদাররা জমিদারদের সেইসব জমিগুলিকে ক্রয় করে নিব। এইভাবে উত্তরবঙ্গে জোতদাররা অনেক বেশি প্রভাবশালী হয়ে পড়ে।
নীচের প্রতিটি প্রশ্ন ৪০টি শব্দের মধ্যে লেখো। 4x4 = 16
39. স্তূপ কেন এবং কীভাবে নির্মিত হত ?
উত্তর: প্রাচীন ভারতের স্থাপত্যশৈলীগুলির মধ্যে অন্যতম স্তূপশৈলী। মৌর্য যুগ থেকে প্রথম ভারতে স্তূপস্থাপত্যের সূচনা হয়। এসময় ভারতে অনেকগুলি স্তূপ স্থাপিত হয়। এগুলির মধ্যে অন্যতম হল সাঁচির স্তূপ।
• স্তূপ কীভাবে নির্মিত হত : সাধারণত স্তূপগুলি নির্মিত হত রাজা, কোনো ধনী ব্যক্তি, বণিক, ভিক্ষু-ভিক্ষুণী অথবা সাধারণ মানুষের দানে।
• স্তূপ স্থাপনের উদ্দেশ্য : গৌতম বুদ্ধ জীবদ্দশায় তাঁর প্রিয় শিষ্য আনন্দকে উপদেশ দিয়ে যান যে, তাঁর অনুগামীরা যেন তাঁর দেহাবশেষের ওপর থুপ (স্তূপ) প্রতিষ্ঠা করে। যেখানে তারা আরাধনা করবে এবং সুখ-শান্তি লাভ করবে। তাই বুদ্ধের দেহাবসানের পর বৌদ্ধরা বুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলিতে বুদ্ধের দেহাবশেষ ও তাঁর ব্যবহৃত বিভিন্ন জিনিস রেখে অনেকগুলি মন্দির স্থাপত্য প্রতিষ্ঠা করে।
• কীভাবে নির্মিত হয়: ‘স্তূপ' কথাটি একটি সংস্কৃত শব্দ। যার অর্থ ঢিপি। এটি একটি অর্ধবৃত্তাকার ঢিপি। এর মূল উপকরণ ছিল পাথর, বাঁশ, কাঠ ইত্যাদি। পরে স্তূপগুলি অন্দ (Anda) নামে পরিচিত হয়। অন্দের ওপর স্থাপিত হয় একটি ঝুলবারান্দা; যেগুলিকে বলা হয় হার্মিক (harmika)। এখানে স্থাপিত হত একটি আয়তাকার ঘর, যাকে বলা হয় দেবতার ঘর। হার্মিকের ওপর ক্রমানুসারে স্থাপন করা হয় ছতরি বা ছাতা। স্তূপের উপরিভাগে নির্মিত দেবতার ঘরের চারপাশে একটি বেড়া দেওয়া হত, যাতে এই পবিত্র স্থানটির পবিত্রতা বজায় থাকে।
সাঁচির স্তূপের চারদিকে চারটি সুদৃশ্য তোরণ গড়ে তোলা হয়েছে। পূর্বদিকের তোরণ বা প্রবেশপথ দিয়ে পুণ্যার্থীরা প্রবেশ করত এবং দক্ষিণাবর্তে স্তূপের চারপাশ প্রদক্ষিণ করত। পরে এই স্থাপত্যের সঙ্গে যুক্ত হয় অনেক কুলুঙ্গি। এ ছাড়া ঝুলবারান্দার চারিধারে পাথরনির্মিত বেড়ার বদলে কাঠ ও বাঁশের বেড়া ব্যবহার করা হয়।
40. বিজয়নগরের ব্যাবসাবাণিজ্য কীরূপ ছিল ?
উত্তর: দক্ষিণ ভারতের অন্যতম সম্পদশালী রাজ্য ছিল বিজয়নগর। বিজয়নগরের এই প্রাচুর্যের কারণ ছিল তার উন্নত সমুদ্রবন্দর, উর্বর কৃষিজমি এবং পৃথিবীখ্যাত মশলা।
তৎকালীন যুদ্ধবিগ্রহে অশ্বারোহী বাহিনী ছিল অপরিহার্য। উন্নতমানের ঘোড়া আসত আরব এবং মধ্য এশিয়া থেকে। প্রথম দিকে আরব বণিকেরা এই ব্যাবসা শুরু করলেও ক্রমে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অনেকে ঘোড়া ব্যাবসায় অংশ নেয়। 1498 খ্রিস্টাব্দের পর পোর্তুগিজরা উপমহাদেশের পশ্চিম উপকূলে বাণিজ্যিক ও সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করে। তারা ব্যাবসাবাণিজ্য শুরু করলে বিজয়নগরের আর্থিক প্রগতি আরও বৃদ্ধি পায় ।
বিজয়নগরের মশলা, বস্ত্র ও মূল্যবান পাথরের বাজার বিখ্যাত ছিল। এই ধরনের বাজারে বিত্তবান শ্রেণির আনাগোনা ছিল যারা মূল্যবান পাথর ও অলংকার কিনতে আসত। বাণিজ্য থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব রাজ্যের সমৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
41. 1857 খ্রিস্টাব্দের মহাবিদ্রোহের রাজনৈতিক কারণসমূহ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: রাজনৈতিক কারণ :
[i] ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সম্প্রসারণে লর্ড ডালহৌসি ‘স্বত্ববিলোপ নীতি' নামে এক সাম্রাজ্যবাদী নীতি গ্রহণ করেন। এই নীতিতে দত্তকপুত্রের উত্তরাধিকার স্বত্ব বাতিল করে সেই ভারতীয় রাজন্যবর্গের রাজ্য অধিগ্রহণ করার শর্ত দেওয়া হয়।
[ii] স্বত্ববিলোপ নীতিতে ব্রিটিশ সরকার সাতারা, নাগপুর, ঝাঁসি, সম্বলপুর, বাঘাট, উদয়পুর ইত্যাদি দেশীয় রাজ্য দখল করে নেয় ।
[ii] ডালহৌসি বিভিন্ন দেশীয় শাসকদের পেনশন ও ভাতা বাতিল করে দেন। একইভাবে কর্ণাটকের নবাব, সুরাটের নবাব এবং পাঞ্জাবের রাজার উপাধি সরকার বাতিল করে দেয়।
[iv] একইভাবে, নানাসাহেব দত্তকপুত্র হওয়ায় তাঁর ভাতা সরকার বন্ধ করে দেয়। বিভিন্ন দেশীয় রাজ্য বলপূর্বক এবং ছলনা করে হাতিয়ে নেওয়ায় সেখানকার শাসক এবং প্রজারা সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে শামিল হয়।
42. নিপীড়িত গোষ্ঠীর সুরক্ষার সপক্ষে যুক্তি তুলে ধরো।
উত্তর: দলিতদের অধিকার সুরক্ষার পক্ষে সংবিধান সভায় নিম্নলিখিত যুক্তিসমূহ পেশ করা হয়—
[i] গণ পরিষদের সমাজতান্ত্রিক নেতা এন জি রঙ্গ সমাজের দরিদ্র এবং নিপীড়িত মানুষদের প্রকৃত অর্থে সংখ্যালঘু হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি এ সমস্ত মানুষদের জন্য সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে সংরক্ষণ প্রদানের কথা বলেন।
[ii] সভার অধিকাংশ দলিত সদস্যরা মনে করতেন, অস্পৃশ্যতার সমস্যা কেবলমাত্র সংরক্ষণ এবং সুরক্ষার মাধ্যমে সমাধান করা যাবে না। তাদের এই প্রতিবন্ধকতা জাতি বিভাজিত সমাজের সামাজিক রীতিনীতি এবং নৈতিক মূল্যবোধের কারণে ঘটেছিল।
[iii] সমাজ তাদের সেবা এবং শ্রম গ্রহণ করেছে ঠিকই কিন্তু তাদের সঙ্গে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলেছে। তাদের মন্দিরে প্রবেশাধিকার বা একসঙ্গে ভোজন করা থেকে বিরত রাখা হয়েছে।
[iv] মাদ্রাজের জে নাগাপ্পা বলেন, সংখ্যার দৃষ্টিতে দলিতরা সংখ্যালঘু নয়, জনসংখ্যার 20-25 শতাংশ। তাদের ভোগান্তির কারণ ছিল সামাজিক নীতি দ্বারা প্রান্তিকীকরণ, সংখ্যাগত কারণের কোনো গুরুত্ব ছিল না। তাদের কাছে শিক্ষাও পৌঁছোয়নি এবং প্রশাসনের কোনো কাজে তারা অংশীদার ছিলেন না।
অথবা, রাজ্যগুলিকে অধিক ক্ষমতা দেওয়ার পক্ষে কী কী যুক্তি দেওয়া হয়েছিল ?
উত্তর: রাজ্যগুলিকে অধিক ক্ষমতা দেওয়ার পক্ষে যুক্তিগুলি ছিল—
[i] মাদ্রাজের সদস্য কে সান্ধানাম কেন্দ্রকে শক্তিশালী করার জন্য ক্ষমতার পুনর্বণ্টনের কথা বলেছিলেন। কারণ কেন্দ্রের দায়দায়িত্বের বোঝা বেড়ে গেলে হয়তো ঠিকভাবে কাজ করতে পারবে না, তাই কেন্দ্রের উচিত কিছু দায়িত্ব রাজ্যগুলির হাতে ছেড়ে দেওয়া।
[ii] তিনি বলেন, আর্থিক দিক দিয়ে রাজ্যগুলি স্বনির্ভর নয়। শিক্ষা, জনস্বাস্থ্য, পরিকাঠামো নির্মাণ, শিল্পের অনুদান প্রভৃতি যে-কোনো ছোটো-বড়ো বিষয়ে রাজ্যগুলিকে কেন্দ্রের মুখাপেক্ষী থাকতে হবে। এই ধারণা ভ্রান্ত। অর্থ ছাড়া রাজ্যগুলির উন্নয়ন কখনোই সম্ভব নয়।
[iii] তিনি আশঙ্কা করে বলেন, এই প্রস্তাবিত ক্ষমতার বণ্টন যদি গৃহীত হয় তাহলে ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে পড়বে এবং রাজ্যগুলি আগামী দিনে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করবে।
নীচের প্রতিটি প্রশ্ন 120টি শব্দের মধ্যে লেখো। 5x2 = 10
43. সিন্ধু সভ্যতার পতনের কারণ আলোচনা করো।
উত্তর: সিন্ধু সভ্যতা ভারতের একটি প্রাচীন ও উন্নত নগরকেন্দ্রিক সভ্যতা। কিন্তু এত উন্নত ও সমৃদ্ধ সভ্যতার যে-ঠিক কী । কারণে পতন হয়েছিল তা ঐতিহাসিকদের কাছে আজও রহস্যাবৃত। তবে আনুমানিক 1500 খ্রিস্টপূর্বাব্দে সিন্ধু সভ্যতার পতন হয়েছিল বলে মনে করা হয়।
• সিন্ধু সভ্যতার পতনের কারণ
[i] জলবায়ুর পরিবর্তন: সিন্ধু সভ্যতাকে তিলোত্তমার মতো রূপদান করার জন্য ইট আগুনে পোড়ানো হয়েছিল। আর ইট পোড়ানোর জন্য যথেচ্ছভাবে গাছ কাটায় জলবায়ুর ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছিল। এর ফলে সিন্ধু সভ্যতা একটি মরুপ্রায় অঞ্চলে পরিণত হয়েছিল।
[ii] বন্যা: অনেক ঐতিহাসিকের মতে, শেষের দিকে সিন্ধুনদে পলি পড়ায় বন্যা হয়েছিল, যা সিন্ধু সভ্যতার পতনের আর-এক অন্যতম কারণ। সিন্ধুনদে বাঁধ দেওয়া সত্ত্বেও সিন্ধু সভ্যতা সাতবার ধ্বংস হয়েছিল এবং পুনরায় তা নির্মিত হয়েছিল বলে প্রমাণ পাওয়া যায়।
[iii] ভূমিকম্প: জলবিজ্ঞান বিষয়ক গবেষণায় জানা গেছে যে, হরপ্পায় ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল। তা ছাড়া সিন্ধু সভ্যতায় আবিষ্কৃত মানুষের কঙ্কালগুলি রাস্তায়, স্নানাগারে পড়ে থাকতে দেখে ঐতিহাসিকেরা মনে করেন যে, এখানে মৃত্যু এসেছিল অতর্কিতে। এই আকস্মিক মৃত্যুর কারণ ভূমিকম্প ছিল বলে অনেক ঐতিহাসিক মন্তব্য করেছেন।
[iv] জনসংখ্যা বৃদ্ধি: সিন্ধু সভ্যতার প্রথমদিকে বাড়িগুলি পরিকল্পনা মাফিকভাবে তৈরি হলেও পরবর্তীকালে বাড়ি- গুলির ঘিঞ্জি অবস্থান প্রমাণ করে যে, জনসংখ্যার ব্যাপক হারে বৃদ্ধি ঘটেছিল। ফলে খাদ্যাভাব ও জনসংখ্যা বৃদ্ধিজনিত সমস্যা সিন্ধু সভ্যতার পতনকে অনেকখানি ত্বরান্বিত করেছিল।
[v] সিন্ধুনদের গতিপথ পরিবর্তন: ঐতিহাসিকদের মতে, সিন্ধুনদ গতিপথ পরিবর্তন করার ফলে জনবসতির মূলকেন্দ্র থেকে সিন্ধুনদের প্রবাহ পথ অনেক দূরে সরে যায়। এর ফলে সিন্ধু সভ্যতার গ্রাম ও শহরাঞ্চলগুলি উয় মরুভূমিতে পরিণত হয়। এই কারণে সিন্ধু সভ্যতা ধ্বংস হয়।
[vi] বহিঃশত্রুর আক্রমণ: সিন্ধু সভ্যতায় আবিষ্কৃত কঙ্কাল-গুলির অবস্থান, তাতে আঘাতের চিহ্ন, সিন্ধুবাসীদের আত্মরক্ষামূলক অস্ত্রের অনুপস্থিতি প্রভৃতি লক্ষ করে অনেক ঐতিহাসিক সিন্ধু সভ্যতার পতনের জন্য বহিঃশত্রুর আক্রমণকে দায়ী করেছে।
তবে সিন্ধু সভ্যতার পতন কীভাবে ঘটেছিল সে সম্পর্কে আজও তথ্যানুসন্ধান চলছে। এখনও কোনো স্থির সিদ্ধাস্তে উপনীত হওয়া যায়নি। তবে মার্টিমার, হুইলার প্রমুখ পুরাতত্ত্ববিদগণ সিন্ধু অঞ্চলের বিভিন্ন পুরাতাত্ত্বিক নমুনা পর্যবেক্ষণ করে মনে করেন ঋগবেদে পুরন্দর সম্ভবত ইন্দ্রকে বলা হয়েছে অর্থাৎ, পুর বা দুর্গ ধ্বংসকারী। খুব সম্ভবত এই ‘দুর্গ” অর্থে হরপ্পা সভ্যতার কথা বলা হয়েছে।
অথবা, হরপ্পা সভ্যতা ছিল একটি নগরকেন্দ্রিক সভ্যতা। তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর: সিন্ধু উপত্যকায় খননকাজ করে যে-সমস্ত প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান পাওয়া গিয়েছে তার প্রেক্ষিতে দাবি করা যায় যে, এই সভ্যতা ছিল একটি নগরকেন্দ্রিক সভ্যতা।
[i] সিন্ধু উপত্যকায় খননকাজ করে অনেক বসতিকেন্দ্র আবিষ্কৃত হয়েছে। এখানকার ঘরবাড়িগুলির প্রধান উপকরণ ছিল পোড়ামাটির ইট, চুন-সুরকি ইত্যাদি। বাড়িগুলি তৈরি হত গ্রিড পদ্ধতিতে। বাড়িগুলি হত একতল বা দ্বিতলবিশিষ্ট। প্রত্যেক বাড়িতে স্নানাগার ও কূপের ব্যবস্থা ছিল। দ্বিতলে ওঠার সিঁড়িরও ব্যবস্থা ছিল।
[ii] ঘরবাড়ি নির্মাণের আগেই রাস্তাঘাটগুলি নির্ধারিত হত। রাস্তাগুলি ছিল সমান ও প্রায় সমান্তরালভাবে দুদিকে বিস্তৃত। প্রধান সড়কগুলি 6-10 মিটারের বেশি চওড়া হত। রাস্তাগুলি উপরাস্তা ও গলিতে বিভক্ত ছিল।
[ii] রাস্তার দু-ধারে নর্দমার ব্যবস্থা ছিল। বাড়ির নোংরা জল এইসব নর্দমাগুলিতে গিয়ে পড়ত। এগুলিতে ম্যানহোল ও শোষক কৃপ ব্যবস্থা ছিল। বাড়ির সামনে ডাস্টবিন রাখা হত। সিন্ধুবাসীরা ডাস্টবিন ছাড়া অন্যত্র আবর্জনা ফেলত না।
[iv] উচ্চ শহরগুলিতে বড়ো বড়ো বাড়ি, স্নানাগার, শস্যাগার ইত্যাদি থাকত। মহেন-জো-দারোর উচ্চ শহরে একটি দুর্গের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে।
সুতরাং, এককথায় বলা যায় যে, সিন্ধু সভ্যতা ছিল একটি পরিকল্পিত নগরকেন্দ্রিক সভ্যতা। নগরবাসীরা কখনোই নগরের আইনকানুন অমান্য করত না। যা কেন্দ্রীভূত পৌরশাসন ব্যবস্থার সাক্ষ্য বহন করে।
44. ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে মহাত্মা গান্ধির আবির্ভাব জাতীয় আন্দোলনের চরিত্রে কতখানি পরিবর্তন এনেছিল আলোচনা করো ।
উত্তর: ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে 1914-47 খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কাল Gandhian Era নামে পরিচিত। গান্ধিজির নেতৃত্বেই জাতীয়তাবাদী সংগ্রাম গণ-আন্দোলনে রূপান্তরিত হয়।
[i] গান্ধিজি ভারতবর্ষের প্রথম জাতীয়তাবাদী নেতা যিনি নিজের জীবনশৈলী সাধারণ মানুষের মতো গড়ে তুলেছিলেন। কংগ্রেস নেতৃবর্গ যেখানে পশ্চিমি পোশাক বা ভারতীয় বন্ধগলা জাতীয় বস্ত্র পরিধান করতেন, গান্ধিজি সেখানে সাধারণ ধুতি পরিধান করতেন। তিনি সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করতেন, এমনকি সাধারণ হিন্দুস্থানি ভাষায় কথা বলতেন।
[ii] তিনি প্রতিদিনের কিছুটা সময় চরকায় সুতো কাটায় ব্যয় করতেন এবং অন্যান্য জাতীয়তাবাদী নেতাদের কাজ করতে উৎসাহিত করতেন। মানসিক ও শারীরিক শ্রমের মধ্যে যে-চিরাচরিত ব্যবধান ছিল, গান্ধিজি সুতো কাটার মাধ্যমে তা দূর করতে সচেষ্ট হন। অন্যান্য নেতাদের মতো গান্ধিজি সাধারণ মানুষদের নিজের থেকে পৃথক করে রাখেননি, বরং তাদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে তাদের সমস্যাগুলি অনুধাবন করার চেষ্টা করেছেন।
[iii] 1916-18 খ্রিস্টাব্দের মধ্যে চম্পারন, খেদা এবং আহমেদাবাদের বিভিন্ন স্থানীয় সমস্যাগুলিকে তিনি গুরুত্ব সহকারে বিচার করেন। চম্পারনে নীল কৃষকদের সমর্থনে তিনি আন্দোলন গড়ে তুলে কৃষকদের জমিতে চাষ করার অধিকার সুরক্ষিত করেন। খেদায় শস্য বিপর্যয়ের দরুন কৃষকদের কর মকুবের দাবিকে সমর্থন জানান। সর্বোপরি, আহমেদাবাদের মিল শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টিও তিনি সুনিশ্চিত করেন। এভাবেই দরিদ্র খেটেখাওয়া মানুষগুলির কাছে গান্ধিজি ঈশ্বরের অবতার বা পরিত্রাতা হয়ে ওঠেন।
[iv] রাজনীতিবিদ হওয়ার পাশাপাশি তিনি সমাজসংস্কারকও ছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, স্বাধীনতালাভের যোগ্য হওয়ার জন্য ভারতীয়দের বাল্যবিবাহ এবং অস্পৃশ্যতার মতো সামাজিক কুসংস্কার থেকে মুক্ত হতে হবে। এর পাশাপাশি তিনি হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতির ওপরও জোর দিয়েছিলেন।
[v] অস্পৃশ্যতার অবস্থার উন্নতিকল্পে তিনি সারাজীবন চেষ্টা চালিয়ে যান। সমাজে অস্পৃশ্য ব্যক্তিদের তিনি হরিজন বা ঈশ্বরের সন্তান হিসেবে উল্লেখ করেন। উপবাস, দেশভ্রমণ, 'হরিজন সেবক সংঘ' স্থাপন এবং সংবাদপত্র ও ম্যাগাজিনে বিভিন্ন সচেতনতামূলক বার্তার প্রচার করে তিনি সমাজের অস্পৃশ্যদের মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন।
[vi] ভারতীয় মহিলাদের পর্দা ছেড়ে বেরিয়ে এসে তিনি স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগ দিতে আহ্বান জানান। গান্ধিজির প্রচেষ্টায় মহিলারা বিভিন্ন র্যালি, বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দেন, বিলাতি বস্ত্র ও মদের দোকানের সামনে পিকেটিং করেন, এমনকি গান্ধিজির সঙ্গে তারা ডান্ডি অভিযানেও পা মেলান। গান্ধিজি মনে করতেন, মহিলাদের স্বনির্ভর হয়ে উঠতে হবে এবং সংগ্রাম করে নিজেদের অধিকার অর্জন করে নিতে হবে।
অথবা, অসহযোগ আন্দোলন কীভাবে প্রতিবাদের রূপ ধারণ করে ?
উত্তর: অসহযোগ আন্দোলনে জনগণ যেভাবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন তা ছিল ঔপনিবেশিক ভারতে নজিরবিহীন, কারণ—–
[i] গান্ধিজি সাধারণ মানুষকে রাওলাট আইন এবং জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিতে আহ্বান করেন।
[ii] গান্ধিজি আশা করেছিলেন, খিলাফত প্রশ্নের সঙ্গে অসহযোগের কর্মসূচিকে যুক্ত করতে পারলে জাতীয় আন্দোলন জোরদার হবে এবং হিন্দু-মুসলিম সম্প্রদায়কে ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ করা যাবে।
[iii] স্বদেশি দ্রব্য গ্রহণ এবং বিদেশি দ্রব্য বয়কট কর্মসূচি পালনের মধ্যে দিয়ে তিনি অহিংস আন্দোলন গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। গান্ধিজি তাঁর এই আন্দোলন স্বরাজ অর্জনের লক্ষ্যে পরিচালিত করেন।
[iv] স্বদেশি আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যুব সম্প্রদায় স্কুল-কলেজ যেতে অস্বীকার করে, উকিলরা আদালত পরিত্যাগ করেন এবং শ্রমিকরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ধর্মঘট পালন করে।
[v] অন্ধ্রপ্রদেশের পার্বত্য এলাকার আদিবাসীরা অরণ্য আইন অমান্য করেন এবং অযোধ্যার কৃষকরা কর দিতে অস্বীকার করেন। কুমায়ুন অঞ্চলের কৃষকরা সরকারের জন্য মাল বহন করতে অস্বীকার করেন।
[vi] অসমের চা-বাগানের শ্রমিকরা মালিক শ্রেণি ও ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে এবং গান্ধিজির আদর্শে ব্যাপকভাবে অনুপ্রাণিত হয়।
[vii] গান্ধিজি সতর্কভাবে কংগ্রেস দলকে পুনর্গঠন করেছিলেন এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রাদেশিক কমিটি গঠন করে কৃষকদের স্বার্থকে কংগ্রেসের নেতৃত্বে পরিচালিত করেছিলেন।
[viii] দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ভিন্ন মতামত পোষণকারী মধ্যবিত্ত নেতারা, যেমন— জওহরলাল নেহরু, সুভাষচন্দ্র বসু, বল্লভভাই প্যাটেল, জে বি কৃপালনি, চক্রবর্তী রাজাগোপালাচারির মতো শিক্ষিত মধ্যবিত্ত নেতারাও গান্ধিজির সঙ্গে সহাবস্থানে এসেছিলেন।
.png)
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন