ত্রিপুরা মধ্যশিক্ষা পর্ষদ প্রদত্ত MODEL QUESTION ও তার সমাধান (2022-23) ইতিহাস
.png)
সঠিক উত্তরটি বাছাই করো 1 x 10 = 10
1. ভারতের প্রাচীনতম নগরকেন্দ্রিক সভ্যতা হলো—
(a) মেহেরগড় সভ্যতা
(b) হরপ্পা সভ্যতা
(c) বৈদিক সভ্যতা
(d) আর্য সভ্যতা
উত্তর: (b) হরপ্পা সভ্যতা ।
2. ‘হর্ষচরিত' গ্রন্থটির লেখক হলেন—
(a) বানভট্ট
(b) মেগাস্থিনিস
(c) হরিষেণ
d) ফা-হিয়েন
উত্তর: (a) বানভট্ট।
3. কোন্ মহাকাব্যকে 'পঞ্চমবেদ' বলা হয় ?
(a) রামায়ণকে
(b) মহাভারতকে
(c) গীতাকে
(d) ঋগবেদকে
উত্তর: (b) মহাভারতকে।
4. প্রথম বৌদ্ধ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়—
(a) রাজগৃহে
(b) কাশ্মীরে
(c) পাটলিপুত্রে
(d) বৈশালীতে
উত্তর: (a) রাজগৃহে।
5. মার্কোপোলো ছিলেন একজন—
(a) ভেনিসীয় পর্যটক
(b) ইতালীয় পর্যটক
(c) মরক্কোর পর্যটক
d) আফ্রিকার পর্যটক
উত্তর: (a) ভেনিসীয় পর্যটক।
6. ‘সাত' শব্দটি কোন ধর্মের সঙ্গে যুক্ত ?
(a) হিন্দু ধর্ম
(b) শিখ ধর্ম।
(c) বৌদ্ধ ধর্ম
(d) জৈন ধর্ম
উত্তর: (b) শিখ ধর্ম।
7. হাম্পির ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কার করেন—
(a) কর্নেল কালিন ম্যাকেনজি
(b) কর্নেল কলিন ম্যাকেনজি
(c) কর্নেল কলিন ভাভেন্ডি
(d) স্যার জন মার্শাল
উত্তর: (a) কর্নেল কালিন ম্যাকেনজি ।
৪. আকবরের শাসনব্যবস্থার মূল বৈশিষ্ট্য ছিল—
(a) নবরত্নসভা
(b) মনসবদারি প্রথা
(c) রাজস্ব ব্যবস্থা
(d) ধর্মীয় ব্যবস্থা
উত্তর: (d) মনসবদারি প্রথা ।
9. নীচের ঘটনাগুলি কালক্রমে সাজাও—
(i) 'সতীদাহ প্রথা' বিলুপ্ত
(ii) স্বত্ববিলোপ নীতি প্রবর্তন
(iii) অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি প্রবর্তন
(iv) ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান
(a) i-ii-ii-iv
(b) i-iv-iii-ii
(c) iii-i-ii-iv
(d) iv-iii-ii-i
উত্তর: (c) iii-i-ii-iv।
10. 'গান্ধি-আরউইন' চুক্তি অন্য যে নামে পরিচিত সেটি হল—
(a) দিল্লি চুক্তি
(b) সিমলা চুক্তি
(c) পুনে চুক্তি
(d) লখনউ চুক্তি
উত্তর: (a) দিল্লি চুক্তি।
II. নীচের প্রশ্নগুলি একটি শব্দে / পূর্ণাঙ্গ বাক্যে উত্তর দাও। 1 x 20 = 20
11. 'ভারতীয় প্রত্নতত্ত্বের জনক' কাকে বলা হয় ?
উত্তর: স্যার আলেকজান্ডার ক্যানিংহামকে ভারতীয় প্রত্নতত্ত্বের জনক বলা হয় ।
12. ভারতের প্রাচীনতম লিপির নাম কী ?
উত্তর: ভারতের প্রাচীনতম লিপি হল — সিন্ধু লিপি ।
13. কোন্ পরীক্ষা দ্বারা ইতিহাসের প্রাচীনত্ব স্থির করা হয় ?
উত্তর: রেডিয়ো কার্বন-14 ডেনড্রোক্রোনোলজি পরীক্ষা দ্বারা ইতিহাসের প্রাচীনত্ব স্থির করা হয় ।
14. কনিষ্কের রাজধানী কোথায় ছিল ?
উত্তরঃ কনিষ্কের রাজধানী ছিল পুরুষপুর, বর্তমান পেশোয়ার।
15. মৌর্য বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্রাট কে ছিলেন ?
উত্তর: মৌর্য বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্রাট ছিলেন সম্রাট অশোক।
16. ভারতের একটি মহাকাব্যের নাম লেখো ।
উত্তর: ভারতের একটি মহাকাব্য হল রামায়ণ ।
17. 'ত্রিরত্ন'-এর আদর্শ কে প্রচার করেন ?
উত্তর: ত্রিরত্ন-এর আদর্শ প্রচার করেন জৈন তীর্থংকর মহাবীর।
18. কাকে 'Globe Trotter' বলা হয় ?
উত্তর: ইবন বতুতাকে Globe Trotter বলা হয়।
19. কত খ্রিস্টাব্দে পানিপথের প্রথম যুদ্ধ হয় ?
উত্তর: 1526 খ্রিস্টাব্দে পানিপথের প্রথম যুদ্ধ হয়।
20. 'রিহলা' কোন্ জাতীয় গ্রন্থ ?
উত্তর: ‘রিহলা’ একটি ভ্রমণবৃত্তান্তমূলক গ্রন্থ।
21. কবীর কার শিষ্য ছিলেন ?
উত্তর: কবির ভক্তিসাধক রামানন্দের শিষ্য ছিলেন।
22. তুলুড বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ রাজা কে ছিলেন ?
উত্তর: তুলুভ বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ রাজা ছিলেন কৃষ্ণ দেবরায়।
23.'গোপুরম' কথাটির আক্ষরিক অর্থ কী ?
উত্তর: 'গোপুরম' কথাটির আক্ষরিক অর্থ প্রবেশদ্বার।
24. বৈরাম খাঁ কে ছিলেন ?
উত্তরঃ বৈরাম খাঁ ছিলেন মোগল সম্রাট হুমায়ূন ও আকবরের বিশেষ উপদেষ্টা ও আকবরের অভিভাবক।
25. 'পোলাজ' কাকে বলে ?
উত্তর: সম্রাট আকবরের আমলে যে জমিতে সারা বছর চাষাবাদ হত, সেই সকল উর্বর জমিগুলিকে পোলাজ বলে।
26. ভারতে ‘আধুনিক পুলিশি ব্যবস্থা'র পথিকৃৎ কে ছিলেন ?
উত্তর: ভারতে আধুনিক পুলিশি ব্যবস্থার পথিকৃৎ ছিলেন লর্ড কর্নওয়ালিশ ।
27. ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কবে দেওয়ানি লাভ করে ?
উত্তর: ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি দেওয়ানি লাভ করে 1765 খ্রিস্টাব্দে।
28. কোন্ আইনের দ্বারা কোম্পানির শাসনের অবসান হয় ?
উত্তর: 1758 খ্রিস্টাব্দের মহারানির সনদ আইন বা Government of India Act, 1958 দ্বারা ভারতে কোম্পানি অবসান হয়।
29. “উকিল নেহি, দলিল নেহি, আপিল নেহি”- শ্লোগানটি কোন্ আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ?
উত্তর: উকিল নেহি, দলিল নেহি, আপিল নেহি— শ্লোগানটি রাওলাট বিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত।
30. ভারতীয় সংবিধানের 'প্রস্তাবনা' কতবার সংশোধিত হয়েছে ?
উত্তর: ভারতীয় সংবিধানের প্রস্তাবনা কেবলমাত্র একবার 1976 খ্রিস্টাব্দে সংশোধিত হয়েছে।
III. নীচের প্রতিটি প্রশ্ন 20টি শব্দের মধ্যে লেখো 2 x 5 = 10
31. কলিঙ্গ যুদ্ধের ঐতিহাসিক গুরুত্ব কী ?
উত্তর: কলিঙ্গ যুদ্ধের তাণ্ডবলীলা ও মানুষের মৃত্যু দেখে সম্রাট অশোক অনুশোচনায় দগ্ধ হন। এরপর তিনি বৌদ্ধধর্ম এবং শান্তিবাদী নীতি গ্রহণ করেন। সেজন্য তিনি 251 খ্রিস্টপূর্বাব্দের পর ধর্মবিজয় নীতি গ্রহণ করেন।
32. বিজয়নগর সাম্রাজ্যে নারীর স্থান কীরূপ ছিল ?
উত্তর: বিজয়নগর সাম্রাজ্যে নারীরা সমাজে বিশেষ মর্যাদা ভোগ করতেন। সমাজ, রাজনীতি ও সামরিক ক্ষেত্রে ছিল তাদের অবাধ বিচরণ। অভিজাত ঘরের মহিলারা লেখাপড়া, শাস্ত্রচর্চা, অসিচালনায় এমনকি নৃত্য ও সংগীতে যথেষ্ট পারদর্শী ছিলেন। কিন্তু তারা অবাধ স্বাধীনতার অধিকারী হলেও সেই সময় বহুবিবাহ, বাল্যবিবাহ, সতীদাহ, পণপ্রথা, দেবদাসী প্রথার মতো ঘৃণ্য প্রথা নারী জীবনকে কলুষিত করেছিল।
33. ‘মিল্কিয়ত' (Milkiyat) কাকে বলে ?
উত্তরঃ মিষ্কিয়ত শব্দটির উৎপত্তি আরবি শব্দ মিল্কিয়া থেকে। যার অর্থ সম্পত্তি। মোগল যুগে জমিদারগণ যে বিস্তীর্ণ অঞ্চল বা জমিজমা বা ভূসম্পত্তি নিজেদের ভোগ দখলে রাখতেন, সেগুলিকে মিল্কিয়ত বলা হত। জমিদাররা এই জমি সাধারণত ভাড়া করা শ্রমিক দিয়ে চাষ করত। প্রয়োজনে তারা এই জমি ভাড়া বা বন্ধক রাখতে পারত।
34. সিপাহি বিদ্রোহের প্রত্যক্ষ কারণ কী ছিল ?
উত্তর : 1857 খ্রিস্টাব্দের মহাবিদ্রোহের প্রত্যক্ষ কারণ ছিল এনফিল্ড রাইফেল। এই রাইফেলের কার্তুজ দাঁত দিয়ে কেটে বন্দুকে বারুদ ভরতি করতে হত। গুজব ছিল, এই রাইফেলের কার্তুজ গোরু ও শূকরের চর্বি মিশ্রিত, সেই কারণে হিন্দু ও মুসলিম উভয় সৈনিকরাই এই রাইফেল ছুঁতে অস্বীকার করে।
35. 'ডান্ডি অভিযান' বলতে কী বোঝো ?
উত্তর: লবণ তৈরির ওপর ব্রিটিশ সরকারের একচেটিয়া অধিকার ছিল। গান্ধিজি ঘোষণা করেন লবণ আইন ভঙ্গের মাধ্যমে ব্রিটিশ সরকারের ওই একচেটিয়া অধিকারে আঘাত হানতে হবে। কারণ লবণ এক অপরিহার্য সামগ্রী যা ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সকলেই ব্যবহার করে। তাই তিনি 1930 খ্রিস্টাব্দের 12 মার্চ আহমেদাবাদের সবরমতি আশ্রম থেকে 240 মাইল দূরে ডাঞ্চি উপকূলের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। 6 এপ্রিল ডান্ডিতে পৌঁছে সমুদ্রের জল থেকে লবণ তৈরি করে আইন অমান্য আন্দোলনের সূচনা করেন। এই অভিযান ইতিহাসে ডান্ডি অভিযান নামে খ্যাত।
IV. নীচের প্রতিটি প্রশ্ন 60টি শব্দের মধ্যে লেখো 3x3=9
36. যাজ্ঞবল্ক্য স্মৃতিতে কয়প্রকার স্ত্রীধনের কথা বলা হয়েছে ? এগুলির নাম উল্লেখ করো ।
উত্তর: যাজ্ঞবল্ক্য স্মৃতিতে মূলত ছয় প্রকার স্ত্রীধনের উল্লেখ পাওয়া যায়। যেমন- (i) অধ্যাগ্নি (ii) অধ্যবাহন প্রীতিদর (iii) মাতৃদত্ত (iv) ভ্রাতৃদত্ত (v) পিতৃদত্ত
37. ভক্তিবাদের মূলনীতিগুলি উল্লেখ করো।
উত্তর: ভক্তিবাদের মূল কথা হল—
[i] আত্মার সঙ্গে পরমাত্মার মিলন।
[ii] ঈশ্বর এক এবং অদ্বিতীয়।
[iii] ভক্তিই মুক্তির আসল পথ।
[iv] তাঁরা হিন্দুধর্মের কঠোর অনুশাসন, অর্থহীন উপাচার ও পৌত্তলিকতাবাদে বিশ্বাসী ছিলেন না।
[v] তাঁরা সমাজে প্রচলিত জাতিভেদ প্রথার বিশ্বাসী ছিলেন না। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে তোলা।
38. চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের তিনটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো।
উত্তর: চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের তিনটি বৈশিষ্ট্য হল—
[i] চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলে কোম্পানির নিশ্চিত আয়ের উৎস ঠিক হয়। রাজস্বের চাহিদা স্থায়ীভাবে নির্ধারিত হলে কোম্পানি নিয়মিতভাবে রাজস্ব প্রাপ্তির আশা করতে শুরু করে।
[ii] ফসল উৎপাদন বেশি হোক বা কম, রাজস্ব প্রদান করতেই হত। কোনোরকম প্রাকৃতিক দুর্যোগ এলেও রাজস্বের হারের কোনো রদবদল হত না।
[iii] এইসময় গ্রামাঞ্চলে জোতদার নামে বড়ো কৃষক সম্প্রদায় খুব শক্তিশালী হয়ে ওঠে। এরা জমিদারদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে উসকানি দিতে থাকে। জোতদাররা ইচ্ছাকৃতভাবে রাজস্ব দিতে বিলম্ব করে এবং অন্যান্য কৃষকদের রাজস্ব না দেওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করে। ফলে জমিদাররা সঠিক সময়ে রাজস্ব পরিশোধে ব্যর্থ হয়।
V. নীচের প্রতিটি প্রশ্ন ৪০টি শব্দের মধ্যে লেখো 4x4=16
39. বৌদ্ধধর্ম এবং জৈনধর্মের মধ্যে ২টি সাদৃশ্য এবং ২টি বৈসাদৃশ্য আলোচনা করো।
উত্তর: বৌদ্ধধর্ম এবং জৈনধর্মের মধ্যে নানাধরনের সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য দেখা যায়।
• বৌদ্ধধর্ম ও জৈনধর্মের মধ্যে সাদৃশ্য:
[i] উদ্ভবগত: ব্রাক্ষ্মণ্য ধর্মের অনাচারের প্রতিবাদে বৌদ্ধ ও জৈন—এই দুই ধর্মের উত্থান ঘটে, এ কারণেই এদের প্রতিবাদী ধর্ম হিসেবে অভিহিত করা হয়। বৌদ্ধধর্ম ও জৈনধর্মে সহজ-সরল ধর্মীয় মতবাদ প্রচারিত হয়েছিল।
এই দুই ধর্মের উদ্ভব ঘটেছিল প্রায় একই সময়ে। উভয় ধর্মই বহুলাংশে হিন্দু দার্শনিক চিন্তা থেকে উদ্ভূত। [ii] প্রবর্তকদের মধ্যে সাদৃশ্য: উভয় ধর্মমতই পূর্ব ভারতে উদ্ভূত হয়। উভয় ধর্মের প্রবর্তক গৌতম বুদ্ধ ও মহাবীর ছিলেন ক্ষত্রিয় রাজবংশজাত। উভয় ধর্মই প্রায় সমসাময়িক।
• বৌদ্ধধর্ম ও জৈনধর্মের মধ্যে বৈসাদৃশ্য :
সংগঠিত ক্ষেত্র
(i) বৌদ্ধধর্মে ভোগ ও ত্যাগের মধ্যবর্তী পথ (মঝঝিম পন্থা) অবলম্বনের কথা বলা হয়েছে।
(ii) গৌতম বুদ্ধ যে-কোনো জীব বা প্রাণীহত্যারই বিরোধী ছিলেন।
অসংগঠিত ক্ষেত্র
জৈনধর্মে কঠোর কৃচ্ছসাধনের পন্থা অবলম্বনের বিধান দেওয়া হয়েছে। এই ধর্মে ত্যাগ ও কঠোর তপশ্চর্যার পাশাপাশি উপবাসের ওপরও গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
জৈনধর্মে কঠোর অহিংস নীতির কথা বলা হয়েছে। জৈনরা জীবকুলের পাশাপাশি জড়বস্তুতেও প্রাণের অস্তিত্বে বিশ্বাসী ছিলেন।
40. বিজয়নগর সাম্রাজ্যে জলের চাহিদাকে কীভাবে মেটানো হত তা আলোচনা করো।
উত্তর: বিজয়নগরের শাসকরা শহরবাসীকে জল সরবরাহের জন্য নানাবিধ উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এ ব্যাপারে সহায়ক ভূমিকা পালন করে তুঙ্গভদ্রা নদী ও তার জল।
[i] তুঙ্গভদ্রা নদীর প্রাকৃতিক প্রবাহ ছিল উত্তর-পূর্ববাহিনী। এই নদীটি বিজয়নগরকে বৃত্তাকারে ঘিরে রেখেছিল।
আবার এখানে গ্র্যানাইট পাথরের খাঁজ থেকে উৎপন্ন অসংখ্য জলধারার অভাব ছিল না। যেগুলি তুঙ্গভদ্রায় গিয়ে মিলিত হয়েছে।
[ii] এইসব জলের উৎসগুলিকে কাজে লাগানোর জন্য সেখানকার শাসকরা নদীর ওপর বাঁধ দিয়ে জল ধরে রাখার ব্যবস্থা করেন। এ ছাড়া তাঁরা ছোটো-বড়ো অনেকগুলি জলাধার নির্মাণ করেন। আবার বৃষ্টির জল ধরে রাখার জন্যও তাঁরা বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছিলেন। বৃষ্টির জল তাঁদের ব্যবহার করতেই হত, কারণ এটি ছিল ভারতের এক শুষ্ক অঞ্চল।
[a] পনেরো শতকে তৈরি এরূপ একটি জলাধারের অস্তিত্ব এখানে খুঁজে পাওয়া গিয়েছে। এই জলাধারটির বর্তমান নাম হল কমলাপুরমের জলাধার। এর জল শুধু আশেপাশের অঞ্চলে জলসেচের কাজেই ব্যবহৃত হত না, এর জল খাল কেটে শহরের (রাজধানী) মধ্যে প্রবেশ করানোর ব্যবস্থাও হয়েছিল।
[b] এরূপ একটি গুরুত্বপূর্ণ খালের নাম পাওয়া যায়, তা হল হিরিয়া খাল। তুঙ্গভদ্রা নদীর ওপর বাঁধ দিয়ে ওই খালের মাধ্যমে শহরে জল সরবরাহ করা হত। উপরন্তু তা জলসেচের কাজেও ব্যবহার করা হত। তবে অনেকেই মনে করেন যে, এই খাল নির্মাণ করেছিলেন সংগমবংশীয় রাজারা।
41. সিপাহি বিদ্রোহ কবে, কোথায় আত্মপ্রকাশ করে ? সিপাহি বিদ্রোহের প্রত্যক্ষ কারণ কী ছিল ?
উত্তর: সিপাহি বিদ্রোহ 1857 খ্রিস্টাব্দের মে মাসে মিরাটের সেনা ছাউনিতে প্রথম দানা বাঁধে। ডঃ রমেশচন্দ্র মজুমদারের মতে এই বিদ্রোহের চরিত্র সমরৈখিক ছিল না। বিক্ষিপ্তভাবে বিদ্রোহ সংঘটিত হয়।
• সিপাহি বিদ্রোহের প্রত্যক্ষ কারণ—
1857 খ্রিস্টাব্দের মহাবিদ্রোহের প্রত্যক্ষ কারণ ছিল এনফিল্ড রাইফেল। এই রাইফেলের কার্তুজ দাঁত দিয়ে কেটে বন্দুকে বারুদ ভরতি করতে হত। গুজব ছিল, এই রাইফেলের কার্তুজ গোরু ও শূকরের চর্বি মিশ্রিত, সেই কারণে হিন্দু ও মুসলিম উভয় সৈনিকরাই এই রাইফেল ছুঁতে অস্বীকার করে।
অথবা, সিপাহি বিদ্রোহের ব্যর্থতার চারটি কারণ আলোচনা করো ।
উত্তর: সিপাহি বিদ্রোহের ব্যর্থতার পেছনে অনেকগুলি কারণ লক্ষণীয়, যেমন—
[i] পরিকল্পনার অভাব : কোনো একটি কার্য সঠিক রূপায়ণের জন্য সঠিক পরিকল্পনার প্রয়োজন হয়। এই সিপাহি
বিদ্রোহের সেই সঠিক পরিকল্পনা ছিল না বললেই চলে। সিপাহি বিদ্রোহের নেতৃবৃন্দ জনগণের সামনে কোনো সঠিক লক্ষ্য তুলে ধরতে পারেনি। বিদ্রোহ হয়েছিল বিক্ষিপ্তভাবে ও বিভিন্ন সময়ে। ফলে ইংরেজ প্রশাসনকে বিদ্রোহ দমন করতে বিশেষ কোনো অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়নি।
[ii] অযোগ্য নেতৃত্ব : বিদ্রোহীরা মোগল সম্রাট বাহাদুর শাহকে সর্বজনস্বীকৃত নেতা ঘোষণা করেন। কিন্তু তিনি বিদ্রোহে যোগ্য নেতৃত্ব দিতে পারেনি। যা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছিল।
[iii] সঠিক রণকৌশলের অভাব : মহাবিদ্রোহ সাফল্যের জন্যে যে রণকৌশলের প্রয়োজন ছিল তা অনেক ক্ষেত্রেই নেতৃবৃন্দের কাছে ছিল অজানা। ত্রুটিপূর্ণ ও আধুনিক সমরসজ্জার খুঁটিনাটির অজ্ঞতাই এই বিদ্রোহকে ব্যর্থতার মুখে ঠেলে দেয়।
[iv] বিদ্রোহের সীমাবদ্ধতা : ভারতের বিভিন্ন স্থানে এই বিদ্রোহ প্রসারিত হলেও তা মূলত উত্তর ও মধ্যভারতের মধ্যেই ছিল সীমাবদ্ধ। অন্যান্য অঞ্চলে এর কোনো বিশেষ প্রভাব পড়েনি। সমস্ত অঞ্চলে বিদ্রোহ না হওয়ায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি শান্তিপূর্ণ অঞ্চল থেকে দ্রুত সেনা নিয়ে গিয়ে বিদ্রোহ অধ্যুষিত অঞ্চলে তাদের নিয়োজিত করে। এরজন্য রেলপথের বিস্তার ইংরেজদের বিশেষভাবে সাহায্য করেছিল।
42. ভারতীয় সংবিধানের উদ্দেশ্য প্রস্তাবে কী কী আদর্শ ব্যক্ত করা হয়েছিল ?
উত্তর: জওহরলাল নেহরু গণপরিষদে 1946 খ্রিস্টাব্দের 13 ডিসেম্বর প্রস্তাব পেশ করেছিলেন। তাতে বলা হয়েছে— [i] Objective Resolution বা উদ্দেশ্য প্রস্তাব একটি ঐতিহাসিক প্রস্তাব ছিল, যা স্বাধীন ভারতের সংবিধানের মূল আদর্শের রূপরেখা প্রস্তুত করেছিল এবং সংবিধান প্রণয়নের কাজটি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য পরিকাঠামো সরবরাহ করেছিল।
[ii] এই প্রস্তাবে ভারতকে 'স্বাধীন সার্বভৌম প্রজাতন্ত্র' হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং এতে নাগরিকদের সামা, স্বাধীনতা, ন্যায়বিচারের অধিকারকে নিশ্চিত করা হয়। [iii] এই প্রস্তাবে আশ্বস্ত করা হয়- সংখ্যালঘু, পশ্চাৎপদ উপজাতি অঞ্চল এবং হতাশাগ্রস্ত ও অন্যান্য পিছিয়ে পড়া শ্রেণির জন্য পর্যাপ্ত সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হবে।
অথবা, গান্ধিজি কেন হিন্দুস্থানি ভাষা জাতীয় ভাষা হওয়া উচিত বলে মনে করেন ?
উত্তর: গান্ধিজির হিন্দুস্থানি ভাষা জাতীয় ভাষা হওয়া উচিত বলে মনে হওয়ার কারণগুলি ছিল— [i] গান্ধিজি এবং কংগ্রেস হিন্দি ও উর্দুর সংমিশ্রণে গঠিত হিন্দুস্থানি ভাষাকে জনপ্রিয় এবং সাধারণ মানুষের ভাষা বলে মনে করতেন। ভারতীয় সংস্কৃতিতে এই মিশ্র ভাষা অনেক সমৃদ্ধ হয়েছে।
[ii] অনেক বছর ধরে বিভিন্ন সূত্র থেকে অনেক শব্দ এবং অর্থ এই ভাষায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। যার ফলে এই ভাষা। অনেকের কাছেই বোধগম্য হয়। গান্ধিজি মনে করতেন, এই ভাষা ভারতের বিবিধ সম্প্রদায়ের মধ্যে আদানপ্রদানের আদর্শ ভাষা হতে পারে। এই ভাষা হিন্দু-মুসলমান এবং উত্তর থেকে দক্ষিণের মানুষদের ঐক্যবদ্ধ করতে পারে।
VI. নীচের প্রতিটি প্রশ্ন 120টি শব্দের মধ্যে লেখো। 5 x 2 = 10
43. হরপ্পা সভ্যতার বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো।
উত্তর: পৃথিবীর প্রাচীনতম সভ্যতাগুলির মধ্যে অন্যতম হল হরপ্পা সভ্যতা। এই সভ্যতার অন্যতম প্রত্ননগর ছিল মহেন-জো- দারো।
• মহেন-জো-দারোর বৈশিষ্ট্য :
[i] বৃহদাকার: এটি ছিল একটি সর্ববৃহৎ নগরকেন্দ্র, যার আয়তন ছিল 200 হেক্টর।
[ii] বাড়িঘর: মহেন-জো-দারোতে বাড়ি নির্মাণের ৭টি স্তর পাওয়া গেছে। বাড়িগুলি তৈরি হত রোদে শুকোনো ও আগুনে পোড়ানো ইট দিয়ে, গ্রিড পদ্ধতিতে। বন্যার হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বাড়িগুলি উঁচু পাটাতনের ওপর তৈরি করা হত। ঘরগুলির উপরের দিকে পাথরের তৈরি ঝাঁজরি লাগানো হত।
[iii] রাস্তাঘাট: বাড়িঘর নির্মাণের আগেই রাস্তাঘাটগুলি তৈরি করা হত, যার উপকরণ ছিল পোড়া মাটির ইট। রাস্তাগুলি 6-10 মিটারের বেশি চওড়া ছিল। প্রধান সড়কগুলি উত্তর-দক্ষিণ বা পূর্ব-পশ্চিমে সমান ও সমান্তরালভাবে বিস্তৃত ছিল। রাস্তার দু-ধারে নর্দমার ব্যবস্থা ছিল। ছোটো ছোটো গলিগুলি প্রধান রাস্তায় উন্মুক্ত হত।
[iv] নিকাশি ব্যবস্থা: প্রত্যেক বাড়িতে একটি করে কূপ ছিল। বাড়ির নোংরা জল পোড়ামাটির নল দিয়ে শোষক কূপের মধ্য দিয়ে প্রধান নর্দমায় প্রবেশ করত। নর্দমাগুলিতে ম্যানহোলের ব্যবস্থা ছিল।
[v] স্নানাগার: এর দুর্গ এলাকায় 180 x 108 বর্গফুট আয়তন-বিশিষ্ট একটি বড়ো স্নানাগার আবিষ্কৃত হয়েছে। এর মাঝখানে ছিল একটি 39 × 23 x 8 ঘনফুটের পুকুর। এর চারিধারে 3 মিটার পুরু বিটুমিনের প্রলেপ দিয়ে জল নিরোধকের ব্যবস্থা ছিল। এর জল সরবরাহ ও নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ছিল। শুধু তাই নয়, নীচে নামার জন্য সিঁড়িও তৈরি করা হয়েছিল।
[vi] শস্যভাণ্ডার: এখানে 45.71 x 15.23 বর্গমিটার আয়তন-বিশিষ্ট একটি বড়ো শস্যভাণ্ডার আবিষ্কৃত হয়েছে। পণ্ডিতগণ স্বীকার করেছেন, খ্রিস্টপূর্ব 5 শতকের আগে এত বড়ো শস্যভাণ্ডার পৃথিবীতে ছিল না। ঐতিহাসিক এ এল ব্যাসাম একে রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
অথবা, হরপ্পা সভ্যতার অধিবাসীদের সামাজিক জীবন সম্পর্কে আলোচনা করো ।
উত্তরঃ ভারতের প্রাচীন সভ্যতাগুলির মধ্যে সিন্ধু সভ্যতা ছিল অন্যতম এবং অবশ্যই অনন্য। এর সামাজিক, অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় জীবন ছিল বেশ আকর্ষণীয়।
• সিন্ধু সভ্যতার সামাজিক জীবন :
[i] শ্রেণিবৈষম্য: সিন্ধু সভ্যতার সমাজে শ্রেণিবৈষম্য ছিল বলে ঐতিহাসিকেরা মত প্রকাশ করেছেন। অধ্যাপক এ ডি পুসলকর সিন্ধু সভ্যতার জনসমাজকে চারটি শ্রেণিতে বিভক্ত করেছেন। যথা— শিক্ষিত সম্প্রদায়, ৩ যোদ্ধা, © বণিক এবং ও কর্মকার ও শ্রমিক শ্রেণি। সিন্ধু সভ্যতার দুর্গ ও নগরের পাকাবাড়ির পাশাপাশি ঝুপড়ি জাতীয় সারিবদ্ধ ঘরগুলি সমাজে শ্রেণিবৈষ্যম্যের অস্তিত্বকে চিহ্নিত করে। তবে সামাজিক শ্রেণিগুলির মধ্যে পুরোহিত সম্প্রদায়ের গুরুত্ব ছিল বেশি।
[ii] কৃষিকর্ম: সিন্ধুবাসীদের সামাজিক জীবনের অনেকটাই আবর্তিত হত কৃষিকর্মের দ্বারা। কোনো সমাজে কৃষি অর্থনীতির বিকাশ না হলে নাগরিক সমাজের বিকাশ ঘটে না। সিন্ধু সভ্যতার জমি সিন্ধুনদের অববাহিকায় অবস্থিত হওয়ায় তা কৃষির বিকাশের অনুকূল ছিল। সিন্ধু সভ্যতার খননকার্যের ফলে পাওয়া নানা তথ্য এবং শস্য রাখার গোলার উপস্থিতি প্রমাণ করে সিন্ধু সভ্যতায় কৃষিকাজ বেশ উন্নত ছিল।
[iii] পোশাক-পরিচ্ছদ: সিন্ধুবাসীদের পোশাক-পরিচ্ছদ, বিলাস-দ্রব্য এবং গহনা বেশ উন্নতমানের ছিল। এরা সুতি ও পশম উভয় ধরনের পোশাকই ব্যবহার করত। নারীরা সাধারণত দু-ধরনের পোশাক ব্যবহার করত। অলংকার হিসেবে নূপুর, আংটি, বাজু, হার, বালা, দামি পাথর ব্যবহার করত। সেই সময় সোনার ব্যবহার হত বলে জানা গেছে।
[iv] খাদ্য: সিন্ধুবাসীরা খাদ্য হিসেবে বিভিন্ন দ্রব্য গ্রহণ করত। দুধ, খেজুর, গম, যব তারা খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করত। এ ছাড়া মাছ, মাংস তাদের প্রিয় খাবার ছিল।
[v] গৃহপালিত পশু: গোরু, মোষ, ষাঁড়, ছাগল প্রভৃতি গৃহপালিত পশু হিসেবে ব্যবহৃত হত। সিন্ধু সভ্যতায় ঘোড়ার অস্তিত্বের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
[vi] কুটির শিল্প: সিন্ধু সভ্যতার মানুষের দক্ষতার পরিচয় মেলে হস্তশিল্পে। মৃৎপাত্র নির্মাণ থেকে শুরু করে তাতের কাজ তারা অত্যন্ত নৈপুণ্যের সঙ্গে করত।
44. অহিংস অসহযোগ আন্দোলনের গুরুত্ব আলোচনা করো।
উত্তরঃ অহিংস অসহযোগ আন্দোলন ব্যর্থ হলেও জাতীয় সংগ্রামের ইতিহাসে এর গুরুত্ব কম ছিল না। ধর্ম বর্ণ জাতি নির্বিশেষে ভারতের সর্বস্তরের মানুষ যেভাবে এই আন্দোলনে শামিল হয়েছিল তা ছিল অভূতপূর্ব। তাই অনেকেই এই আন্দোলনকে একটি গণ আন্দোলন বলে অভিহিত করেছেন। অসহযোগ আন্দোলনে জনগণ যেভাবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন তা ছিল ঔপনিবেশিক ভারতে নজিরবিহীন কারণ—
[i] গান্ধিজি সাধারণ মানুষকে রাওলাট আইন এবং জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিতে আহ্বান করেন।
[ii] গান্ধিজি আশা করেছিলেন, খিলাফত প্রশ্নের সঙ্গে অসহযোগের কর্মসূচিকে যুক্ত করতে পারলে জাতীয় আন্দোলন জোরদার হবে এবং হিন্দু-মুসলিম সম্প্রদায়কে ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ করা যাবে।
[iii] স্বদেশি দ্রব্য গ্রহণ এবং বিদেশি দ্রব্য বয়কট কর্মসূচি পালনের মধ্যে দিয়ে তিনি অহিংস আন্দোলন গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। গান্ধিজি তাঁর এই আন্দোলন স্বরাজ অর্জনের লক্ষ্যে পরিচালিত করেন।
[iv] স্বদেশি আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যুব সম্প্রদায় স্কুল-কলেজ যেতে অস্বীকার করে, উকিলরা আদালত পরিত্যাগ করেন এবং শ্রমিকরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ধর্মঘট পালন করে।
[v] অন্ধ্রপ্রদেশের পার্বত্য এলাকার আদিবাসীরা অরণ্য আইন অমান্য করেন এবং অযোধ্যার কৃষকরা কর দিতে অস্বীকার করেন। কুমায়ুন অঞ্চলের কৃষকরা সরকারের জন্য মাল বহন করতে অস্বীকার করেন।
[vi] অসমের চা-বাগানের শ্রমিকরা মালিক শ্রেণি ও ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেন এবং গান্ধিজির আদর্শে ব্যাপকভাবে অনুপ্রাণিত হন।
[vii] গান্ধিজি সতর্কভাবে কংগ্রেস দলকে পুনর্গঠন করেছিলেন এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রাদেশিক কমিটি গঠন করে। কৃষকদের স্বার্থকে কংগ্রেসের নেতৃত্বে পরিচালিত করেছিলেন।
[viii] দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ভিন্ন মতামত পোষণকারী মধ্যবিত্ত নেতারা, যেমন—জওহরলাল নেহরু, সুভাষচন্দ্র বসু, বল্লভভাই প্যাটেল, জে বি কৃপালনি, চক্রবর্তী রাজাগোপালাচারির মতো শিক্ষিত মধ্যবিত্ত নেতারাও গান্ধিজির সঙ্গে সহাবস্থানে এসেছিলেন।
অথবা, গোলটেবিল বৈঠকের আলোচনা কেন অমীমাংসিত ছিল ?
উত্তর: সাইমন কমিশনের রিপোর্ট পর্যালোচনা এবং আইন অমান্য আন্দোলনের প্রেক্ষিতে সরকার লন্ডনে একের পর এক গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে। 1930 খ্রিস্টাব্দের নভেম্বর মাসে প্রথম বৈঠক আয়োজিত হয়, কিন্তু কংগ্রেসের শীর্ষস্থানীয় নেতারা জেলে থাকায় এই বৈঠক ব্যর্থ হয় ।
[i] গান্ধিজি জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর 1931 খ্রিস্টাব্দের জানুয়ারি মাসে গান্ধি-আরউইন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় এবং চুক্তির শর্তস্বরূপ গান্ধিজি আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিয়ে কংগ্রেস নেতৃবর্গের সঙ্গে লন্ডনে দ্বিতীয় গোলটেবিল বৈঠকে যোগ দেন।
[ii] তবে এই বৈঠকে কংগ্রেস ভারতীয়দের রাজনৈতিক স্বাধীনতা বা ডোমিনিয়ান স্ট্যাটাসের দাবি অর্জন করতে ব্যর্থ হয়। লন্ডনের এই বৈঠক অমীমাংসিত থাকায় গান্ধিজি ভারতে এসে আইন অমান্য আন্দোলন পুনরায় শুরু করেন। তৃতীয় গোলটেবিল বৈঠকে (1932 খ্রিস্টাব্দ) কংগ্রেস নেতৃবর্গ অংশগ্রহণ করেননি, ফলে মুসলিম লিগ এই বৈঠকে পৃথক মুসলিম রাষ্ট্রের প্রস্তাব পেশ করে।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন