সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

বৈশিষ্ট্যযুক্ত পোস্ট

ত্রিপুরা রাজ্য কিভাবে স্বাধীন ভারতের সাথে যুক্ত হয় ?

 How did Tripura Join as a State of Independent India? ত্রিপুরা রাজ্য কিভাবে স্বাধীন ভারতের সাথে যুক্ত হয় ? ভূমিকা ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ১৭ মে ত্রিপুরার মহারাজা বীর বিক্রম কিশোর মানিক্য বাহাদুর ৩৯ বছর বয়সে পরলোক গমন করলে তার পুত্র কিরীট বিক্রম কিশোর দেববর্মন মানিক্য বাহাদুর ত্রিপুরা রাজ্য ও চাকলা রোশনাবাদের জমিদারি উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত হন। তিনি নাবালক থাকায় ভারত সরকারের পরামর্শ অনুযায়ি রাজমাতা মহারাণি কাঞ্চনপ্রভা দেবীর নেতৃত্বে রাজপ্রতিনিধি শাসন পরিষদ বা কাউন্সিল অব রিজেন্সি গঠিত হয়। মহারাণি কাঞ্চনপ্রভা দেবী এই পরিষদের প্রেসিডেন্ট এবং রাজকুমার ব্রজেন্দ্র কিশোর দেববর্মন বাহাদুর ভাইস প্রেসিডেন্ট নিযুক্ত হন। মেজর বঙ্কিম বিহারী দেববর্মন ও মন্ত্রী রাজরত্ন সত্যব্রত মুখার্জি এই পরিষদের সদস্য নিযুক্ত হন। (২) পাকিস্তানের ত্রিপুরা আক্রমনের ষড়যন্ত্র ভারত স্বাধীনতা লাভের অল্পদিনের পরেই ত্রিপুরা রাজ্য এক গভীর সঙ্কটের সম্মুখীন হয়। ত্রিপুরা সীমান্তস্থিত কুমিল্লার মুসলিম ন্যাশনাল গার্ডের উদ্যোগে ও আগরতলার কতিপয় ব্যক্তির সহযোগিতায় পাকিস্তান ত্রিপুরা আক্রমনের পরিকল্পনা করে। ত্রিপুরার রা...

ভারতের ইতিহাসে জৈনধর্মের প্রভাব নির্ণয় করো।

উচ্চমাধ্যমিক সাজেশন-2023
চিন্তাবিদ, বিশ্বাস এবং ইমারতসমূহ : সাংস্কৃতিক বিকাশ (আনুমানিক 300 খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে 600 খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত)

উচ্চমাধ্যমিক সাজেশন-2023 চিন্তাবিদ, বিশ্বাস এবং ইমারতসমূহ : সাংস্কৃতিক বিকাশ (আনুমানিক 300 খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে 600 খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত)

সঠিক উত্তরটি বাছাই করো।  প্রশ্নমান 1

1. সাঁচি অৱস্থিত—

(a) উত্তরপ্রদেশে

(b) মহারাষ্ট্রে

(c) মধ্যপ্রদেশে

(d) ঝাড়খণ্ডে

উত্তর: (c) মধ্যপ্রদেশে।

2. সাঁচি স্তূপের মোট তোরণের সংখ্যা—

(a) 5টি

(b) 4টি

(c) 3টি

(d) ২টি

উত্তর: (b) 4টি।

3. মহাবীরের আসল নাম হল—

(a) সিদ্ধার্থ

(b) তথাগত

(c) আদিনাথ

(d) বর্ধমান

উত্তর: (d) বর্ধমান।

4. বুদ্ধের পূর্বজন্মের কাহিনি সংবলিত গ্রন্থ হল—

(a) ত্রিপিটক

(b) দিব্যবদান

(c) মহাবিভাষা

(d) জাতক

উত্তর: (d) জাতক ।

5. নিম্নোক্ত যে বিষয়টি বৌদ্ধধর্মের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত নয়—

(a) তথাগত

(b) নির্বাণ

(c) লুম্বিনী

(d) পাবাপুরী

উত্তর: (d) পাবাপুরী।

6. “যাবৎ জীবেৎ সুখং জীবেৎ ঋণং কৃত্বা ঘৃতং পিবেৎ”- এই মতবাদে বিশ্বাসী ছিল—

(a) বৌদ্ধরা

(b) চার্বাক সম্প্রদায়

(c) জৈনরা

(d) আজীবিক সম্প্রদায়

উত্তর: (b) চার্বাক সম্প্রদায়।

7. চতুর্থ বৌদ্ধ সংগীতিতে সভাপতিত্ব করেন—

(a) কনিষ্ক

(b) বসুমিত্র

(c) মহাকাশ্যপ

(d) অশোক

উত্তর: (b) বসুমিত্র।

৪. আনন্দ ছিলেন একজন—

(a) প্রাচীন রাজা

(b) বুদ্ধের শিষ্য

(c) মহাবীরের অনুগামী

(d) বণিক

উত্তর: (b) বুদ্ধের শিষ্য ।

9. বুদ্ধচরিত গ্রন্থটি রচনা করেন—

(a) অশ্বঘোষ

(b) ভাস

(c) কালিদাস

(d) দণ্ডী

উত্তর: (a) অশ্বঘোষ ।

10. মহাবলীপুরম জায়গাটি অবস্থিত—

(a) কেরলে

(b) কর্ণাটকে

(c) তামিলনাড়ুতে

(d) অন্ধ্রপ্রদেশে

উত্তর: (c) তামিলনাড়ুতে।

11. জৈন ধর্মের সর্বশেষ তীর্থংকর হলেন—

(a) ঋষভ দেব

(b) মহাবীর

(c) পার্শ্বনাথ

(d) নামদেব

উত্তর: (b) মহাবীর।

নীচের প্রশ্নগুলি একটি শব্দে / পূর্ণাঙ্গ বাক্যে উত্তর দাও।  প্রশ্নমান 1

1. Hagiongraphy বলতে কী বোঝো ?

উত্তর: Hagiongraphy বলতে বোঝায় সাধুসন্তদের জীবনী।

2. দ্য মনুমেন্টস অব সাঁচি গ্রন্থের সম্পাদক কে ছিলেন ?

উত্তর: দ্য মনুমেন্টস অব সাঁচি গ্রন্থের সম্পাদক ছিলেন জন মার্শাল ও আলফ্রেড ফাউচের।

3. কে কবে সাঁচি স্তূপ আবিষ্কার করেন ?

উত্তর: জেনারেল টেলর 1818 খ্রিস্টাব্দে সাঁচি স্তূপ আবিষ্কার করেন।

4. অদৃষ্টবাদ বলতে কী বোঝো ?

উত্তর: অদৃষ্টবাদীরা মনে করতেন, সবকিছুই পূর্বনির্ধারিত এবং কোনো ব্যক্তি নিজ প্রচেষ্টায় নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে না।

5. বিনয় পিটক কী ?

উত্তরঃ বিনয়পিটক বৌদ্ধসংঘের নিয়মাবলি সংবলিত গ্রন্থ।

6. অভিধর্ম পিটক কী ?

উত্তরঃ গৌতম বুদ্ধের দর্শন ও আদর্শ সংবলিত গ্রন্থ অভিধর্মপিটক নামে পরিচিত।

7. প্রথম ও শেষ জৈন তীর্থংকর কে কে ছিলেন ?

উত্তর: প্রথম ও শেষ জৈন তীর্থংকর ছিলেন যথাক্রমে ঋষভদেব ও মহাবীর।

৪. কল্পসূত্র নামে গ্রন্থটি কে রচনা করেন ?

উত্তর: কল্পসূত্র নামে গ্রন্থটি রচনা করেন ভদ্রবাহু।

9. 'সর্বপ্রাণবাদ' বলতে কী বোঝো ?

উত্তর: জৈনধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন যে, পৃথিবীর প্রতিটি বস্তুতেই প্রাণ আছে। বস্তুবাদের এই তত্ত্বই জৈনধর্মে 'সর্বপ্রাণবাদ' নামে খ্যাত।

10. 'চতুর্যাম' কী ?

উত্তর: জৈন তীর্থংকর পার্শ্বনাথ মানুষকে যে-চারটি আদর্শ অর্থাৎ, অহিংসা, সত্য, অচৌর্য ও অপরিগ্রহ অনুসরণ করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন, তা জৈনধর্মে 'চতুর্যাম' নামে পরিচিত।

11. ইলিয়ট মারবেল কী ?

উত্তর: 1854 খ্রিস্টাব্দে গুন্টুরের কমিশনার ওয়াল্টার ইলিয়ট যখন অমরাবতী পরিদর্শন করেন তখন তিনি কয়েকটি ভাস্কর্যের নমুনা মাদ্রাজে নিয়ে যান। তাঁর নামানুসারে এই ভাস্কর্যের নমুনাগুলি ইলিয়ট মারবেল নামে পরিচিত।

12. কোন্ পাথর দিয়ে সাঁচি স্তুপ নির্মিত হয় ?

উত্তর: বেলেপাথর দিয়ে সাঁচি স্তূপ নির্মিত হয়।

13. বোধিসত্ত্ব কথাটির অর্থ কী ?

উত্তরঃ বোধি কথার অর্থ জ্ঞান এবং সত্ত্ব অর্থে জীব অর্থাৎ, যে জ্ঞান অনুশীলন করে জীবের দুঃখ নিবৃত্তি ঘটে তাকেই বোধিসত্ত্ব বলে।

14. ভারতীয় জাদুঘর কবে প্রতিষ্ঠিত হয় ?

উত্তর: 1814 খ্রিস্টাব্দে ভারতীয় জাদুঘর প্রতিষ্ঠিত হয়।

15. বেগম শাহজেহান বেগম কে ?

উত্তর: বেগম শাহজেহান বেগম হলেন ভূপালের বেগম। তিনি ও তাঁর উত্তরাধিকারিণী সুলতানা জেহান বেগম সাঁচি স্তূপ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

নীচের প্রতিটি প্রশ্ন ৪০টি শব্দের মধ্যে লেখো।  প্রশ্নমান 4

1. খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে ভারতে ব্রাহ্মণ্যধর্মবিরোধী আন্দোলনে সামাজিক প্রেক্ষাপট কতটা দায় ছিল বলে তুমি মনে করো ?

উত্তর: খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে ব্রাহ্মণ্যধর্মের বিরুদ্ধে সংঘটিত ধর্মীয় প্রতিবাদী আন্দোলন ছিল একটি তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়। এই ধর্মীয় প্রতিবাদী আন্দোলনের অন্যতম কারণ ছিল সামাজিক।

• প্রতিবাদী আন্দোলনে সামাজিক কারণ :

[i] ব্রাহ্মণদের শোষণ : (a) বৈদিক যুগে ব্রাহ্মণরা ছিল সমাজের সর্বেসর্বা। তাদের বিভিন্ন সামাজিক বিধানের শিকার হয়েছিল হতদরিদ্র মানুষ। বৈশ্য ও শূদ্ররা ব্রাক্ষ্মণ দ্বারা অর্থবহুল যাগযজ্ঞ করতে বাধ্য হত। (b) আবার এই যজ্ঞগুলিতে নিষ্ঠুরভাবে গো-বলি করা হত, যা বৈশ্য ও কৃষকদের কাছে ছিল চরম বঞ্চনা। (c) ব্রাক্ষ্মণরা সমাজে ও রাষ্ট্রের সমস্ত সুযোগসুবিধা ভোগ করলেও রাষ্ট্রকে তারা কোনো কর দিত না।

[ii] শ্রেণিবৈষম্য : (a) বৈদিক যুগে শূদ্রদের অবস্থা ছিল করুণ। শূদ্ররা সমাজে অস্পৃশ্য ছিল। তাদেরকে পণ্যের চোখে দেখা হত। তারা স্বাধীনভাবে ধর্মাচরণও করতে পারত না। (b) একই অবস্থা ছিল বৈশ্যদেরও। ব্যাবসাবাণিজ্য করে তারা বিত্তের অধিকারী হয়েও বিভিন্ন সামাজিক শোষণ ও বঞ্চনার শিকার হত। (c) পরবর্তী বৈদিক যুগে ক্ষত্রিয়রা শক্তিশালী হয়ে ওঠে। তারা ব্রাহ্মণদের দ্বিজত্বের তত্ত্বকে অস্বীকার করে।

[iii] নারীমর্যাদার অবক্ষয় : আদিবৈদিক যুগে সমাজে নারীরা যে সামাজিক মর্যাদা ভোগ করত, তা পরবর্তী যুগে হ্রাস পায়। নারীদের বহু সামাজিক অধিকার কুক্ষিগত হয় পুরোহিত শ্রেণি দ্বারা। সমাজে পুরুষের বহুবিবাহ, বাল্যবিবাহ ও সতীদাহপ্রথার প্রাবল্য বৃদ্ধি পায়।

[iv] প্রতিবাদী ধর্মের উদ্ভব : এইরূপ পরিস্থিতিতে পরবর্তী বৈদিক যুগের শেষের দিকে ব্রাহ্মণ্যধর্মের অনাচার ও ব্রাহ্মণদের শোষণের বিরুদ্ধে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে কতকগুলি প্রতিবাদী ধর্ম। এর মধ্যে উল্লেখ্য ছিল বৌদ্ধধর্ম ও জৈনধর্ম ।

2. নতুন ধর্ম হিসেবে বৌদ্ধধর্ম ও জৈনধর্মকে কেন প্রতিবাদী ধর্ম বলা হয় ? চারটি কারণ উল্লেখ করো ।

উত্তর: খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও প্রচলিত ধর্মের আচরণ বৌদ্ধধর্ম ও জৈনধর্মের উত্থানের প্রধান কারণ। সেই হিসেবে বলতে গেলে ব্রাহ্মণ্য ধর্মের প্রতিবাদী ধর্ম হিসেবে বৌদ্ধধর্ম ও জৈন ধর্মের উৎপত্তি হয়েছিল।

• বৌদ্ধধর্ম ও জৈনধর্ম—প্রতিবাদী ধর্ম:

[i] ধর্মের জটিলতা: বৈদিক ধর্মের জটিলতা, নিষ্ঠাহীন ব্রাহ্মণ্যধর্ম ও উপনিষদের পাণ্ডিত্যপূর্ণ ব্যাখ্যা জনসাধারণের পক্ষে দুর্বোধ্য ছিল। ধর্মীয় ক্রিয়াকর্মের জটিলতা ও পশুবলি জনসাধারণের মনে বৈদিক ধর্মের বিরুদ্ধে এক বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। এইরূপ পরিস্থিতিতে বৌদ্ধ ও জৈনধর্ম শান্তির বাণী নিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে হাজির হয়।

[ii] ধর্মের কঠোরতা: বৈদিক ধর্মের কঠোর জাতিভেদপ্রথা, নিম্নশ্রেণির প্রতি ব্রাহ্মণদের নির্যাতন, ব্রাহ্মণদের আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে ক্ষত্রিয় সম্প্রদায়ের ক্ষোভ বৌদ্ধধর্মকে জনপ্রিয় করেছিল। বৌদ্ধধর্ম ও জৈনধর্ম জাতিভেদ প্রথা ও নির্যাতনের বিরুদ্ধাচরণ করে মানুষকে মুক্তির পথ দেখিয়েছিল।

[iii] ভীতি প্রদর্শন: হিন্দুধর্মের ওপর ব্রাহ্মণদের আধিপত্য থাকায় ব্রাহ্মণদের মধ্যে বহু দুর্নীতির অনুপ্রবেশ ঘটে। বহু অর্থসম্পদের অধিকারী হয়ে তারা বিলাসব্যসনেই ব্যস্ত থাকতেন। নানা কুসংস্কারে উৎসাহ দিয়ে মন্ত্রের সাহায্যে মানুষের আকাঙ্ক্ষা চরিতার্থ করার ভান করে মানুষকে ভীতসন্ত্রস্ত করে রাখতেন। অপরদিকে বৌদ্ধধর্ম ও জৈনধর্ম মানুষকে সহজ-সরল জীবনে উৎসাহ দিত এবং মানুষের মনে শক্তি ও সাহস জোগাত।

[iv] অর্থনৈতিক বৈষম্য: সমাজে অর্থনৈতিক বৈষম্যও এই দুই ধর্মের উত্থানের অন্যতম প্রধান কারণ। লোহার আবিষ্কার, ব্যাবসাবাণিজ্যের বিকাশ, এই অর্থনৈতিক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ফলে কৃষি ও গোপালন পদ্ধতির বিকাশ এবং ব্যাবসাবাণিজ্যের জন্য ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে ব্যবধান বেড়ে যায়।

3. বৌদ্ধধর্মের মূলনীতি ও শিক্ষা সম্পর্কে আলোচনা করো ।

উত্তর: তপস্যায় সিদ্ধিলাভ করার পর গৌতম বুদ্ধ তাঁর মত ও পথ প্রচার করেন। মানুষকে দুঃখকষ্টের হাত থেকে মুক্তিলাভের উপায় হিসেবে তিনি যে-শিক্ষা ও উপদেশ দিয়ে গেছেন তা ছিল চির শাশ্বত ।

• বুদ্ধের মূলনীতি ও শিক্ষা:

[i] আর্যসত্য : কর্মফলবাদে বিশ্বাসী বুদ্ধ বিশ্বাস করতেন মানুষ তার কৃতকর্মের জন্য ফলভোগ করে, দুঃখ পায়। তাই এই দুঃখকষ্টের হাত থেকে মুক্তিলাভের জন্য তিনি চারটি মহান সত্য উপলব্ধি করেন। এই সত্যগুলি হল— (a) পৃথিবী দুঃখময়, (b) মানুষের কামনা-বাসনা ও আসক্তি থেকেই সৃষ্টি হয় দুঃখ, (c) তা দূর করতে পারলেই মোক্ষ বা নির্বাণ অর্থাৎ, শাশ্বত শান্তি ও চরম মুক্তিলাভ সম্ভব এবং (d) এই মুক্তিলাভের জন্য একটি নির্দিষ্ট মার্গ বা পথ অনুসরণ করতে হবে।

[ii] অষ্টাঙ্গিক মার্গ : জন্মান্তরবাদে বিশ্বাসী বুদ্ধ বিশ্বাস করতেন, এই দুঃখময় পৃথিবীতে মানুষ বারবার জন্মগ্রহণ করে। তাই এই জন্মচক্রের হাত থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য তিনি ৪টি মার্গ বা পথের সন্ধান দিয়ে গেছেন। এগুলি হল—সৎ-চিন্তা, সৎ-কর্ম, সৎ-বাক্য, সৎ-জীবিকা, সৎ-চেষ্টা, সৎ-দৃষ্টি, সৎ-সংকল্প ও সম্যক সমাধি।

[iii] মধ্যপন্থা : ভগবান বুদ্ধ মনে করতেন ভোগবিলাস অথবা কঠোর কৃচ্ছ্রসাধন করে মোক্ষ বা নির্বাণ লাভ করা যায় না। তাই তিনি এই মোক্ষলাভের উপায় হিসেবে মানুষকে একটি নতুন পথের সন্ধান দিয়ে গিয়েছেন, তা হল মধ্যপন্থা বা পালি ভাষায় মঝঝিম।

[iv] পঞ্চশীল: এ ছাড়া তিনি মানুষকে কতকগুলি নৈতিক অনুশাসন পালন করতে বলে গিয়েছিলেন। তা হল, প শীল, সমাধি ও প্রজ্ঞা। পঞ্চশীল ছিল গৌতম বুদ্ধপ্রবর্তিত পাঁচটি শীল বা আচরণবিধি, এগুলি হল—ব্যভিচার, মদ্যপান, মিথ্যাভাষণ, পরস্বাপহরণ ও হিংসা থেকে দূরে থাকা।

4. ভারতীয় সমাজ জীবনে বৌদ্ধধর্মের প্রভাব ও গুরুত্ব কতখানি আলোচনা করো ।

উত্তরঃ ভারতীয় জনজীবনে বৌদ্ধধর্মের প্রভাব অনস্বীকার্য। বৌদ্ধধর্মের আদর্শ ভারতের সাংস্কৃতিক জগতে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

• ভারতে বৌদ্ধধর্মের প্রভাব :

[i] মনে রাখতে হবে, খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে বৌদ্ধধর্ম বৈদিক শ্রেণিবৈষম্য, বর্ণবিভেদ ও অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেছিল। আর সেজন্যই সমাজের সকল শ্রেণির অবহেলিত মানুষ গৌতম বুদ্ধের কাছে আশ্রয় নিয়েছিল।

[ii] বুদ্ধের অহিংসা তথা শান্তিবাদী নীতি সর্বপ্রথম ভারতবাসী তথা বিশ্ববাসীকে মুগ্ধ করেছিল। যে শান্তিবাদী আদর্শ আজ সমগ্র বিশ্বের জাতির অনুপ্রেরণা। সম্রাট অশোক ছিলেন বিশ্বের প্রথম নরপতি যিনি যুদ্ধনীতি ত্যাগ করে গৌতম বুদ্ধের অহিংসা মন্ত্রে দীক্ষিত হয়েছিলেন।

[iii] ধর্মীয় জীবনে বৌদ্ধধর্মের প্রভাব সুদূরপ্রসারী। বৌদ্ধধর্মকে মূলধন করেই কুষাণ যুগে গান্ধার শিল্পের উন্নতি হয়।

[iv] বৌদ্ধধর্মকে মূলধন করে প্রাচীন ভারতের নানা স্থানে নির্মিত হয়েছে অসংখ্য মন্দির ও মঠ, যেগুলি আজও সমাদৃত।

[v] বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থ ত্রিপিটক-সহ অসংখ্য বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থ প্রাচীন ভারতের অমূল্য সম্পদ। [vi] গৌতম বুদ্ধের হাত ধরেই ভারতে পালি ও প্রাকৃত ভাষার উন্নতি হয়। যে প্রাকৃত ভাষা থেকে বর্তমান ভারতের অধিকাংশ ভাষার জন্ম হয়েছে।

[vil] প্রাচীন ভারতে বিভিন্ন সময়ে আয়োজিত বিভিন্ন বৌদ্ধ সংগীতিগুলির মূল্য অপরিসীম। কারণ এই সমস্ত সংগীতি- গুলিতেই উদ্ভব হয় মহাযান ও হীনযান বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের।

পরিশেষে বলা যায় যে, বৌদ্ধধর্মের মানবতাবোধ ও সাম্যবাদী আদর্শগুলি এতটাই জনপ্রিয়তা লাভ করে যে, দেশ- কালের সীমা অতিক্রম করে এই ধর্ম আজ বিশ্বধর্মে পরিণত হয়েছে।

5. ভারতের ইতিহাসে জৈনধর্মের প্রভাব নির্ণয় করো।

উত্তর: খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে প্রাচীন ভারতের ইতিহাসে প্রতিবাদী ধর্ম হিসেবে জৈনধর্মের উদ্ভব একটি তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়। কারণ, ভারতীয় সংস্কৃতিকে জৈনধর্ম নানাভাবে সমৃদ্ধিশালী করে তুলেছে।

• ভারতে জৈনধর্মের প্রভাব: ভারতীয় সমাজ, সংস্কৃতি ও ধর্মে জৈনধর্মের প্রভাব অনস্বীকার্য, কারণ—

[i] জৈনদের ইতিবাচক ভূমিকা: খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে ব্রাহ্মণ্য ধর্মের বিরুদ্ধে ভারতীয় জনমানসে জৈনরা এক ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেছিল। কারণ, জৈনধর্মের সমতার বাণী তৎকালীন সমাজে অবহেলিত মানুষকে দেখিয়েছিল বাঁচার পথ।

[ii] বর্ণভেদ ও অস্পৃশ্যতা: বর্ণভেদ ও অস্পৃশ্যতা ছিল বৈদিক সমাজের চরম অভিশাপ। এই অভিশাপ নিয়ে বেঁচে ছিল শূদ্ররা। স্বভাবতই জৈনধর্মের সমতার নীতি মানুষকে দেখায় আলোর পথ।

[iii] অন্তর্নিহিত শক্তির ওপর গুরুত্ব: জৈনধর্ম ব্রাহ্মণ্যধর্মের আচার-অনুষ্ঠানসর্বস্ব জাঁকজমকের প্রতিবাদ জানিয়ে মানুষকে সহজ, সরল ও অনাড়ম্বর জীবনযাপনে উৎসাহিত করে। শুধু তাই নয়, আত্মার উৎকর্ষ ও মানুষের অন্তর্নিহিত শক্তির ওপর গুরুত্ব আরোপ করে জৈনধর্ম ।

[iv] আঞ্চলিক ভাষার গুরুত্ব : সংস্কৃত ভাষা বাদ দিয়ে আঞ্চলিক ভাষার প্রাধান্যের ওপর জোর দেয় জৈনধর্ম। ফলে প্রাকৃত ভাষার ব্যবহার শুরু হয়। এ ছাড়া গুজরাটি, তামিল ও কন্নড় ভাষাতেও জৈনধর্মের আলোচনা হয় যা ভাষাগুলিকে সমৃদ্ধ করে।

[v] অমূল্য দলিল: সমকালে বিভিন্ন জৈন দার্শনিকগণ যে-সমস্ত জৈনগ্রন্থ রচনা করেছেন তা প্রাচীন ভারতের অমূল্য দলিল। জৈন ভগবতীসূত্র, কল্পসূত্র, পরিশিষ্ট পর্বন প্রভৃতি সংস্কৃত ভাষায় লিখিত হয়। জৈনধর্ম প্রচারকদের হাত ধরেই ভারতে প্রাকৃতভাষা প্রাণ পায় ।

[vi] জৈন দার্শনিকদের আবির্ভাব: এযুগে ভদ্রবাহু, হেমচন্দ্র, সিন্ধুসেন, হরিভদ্রের মতো প্রথিতযশা জৈন দার্শনিক জন্মগ্রহণ করেন; যাঁদের লেখনী ভারতীয় সাহিত্যকে বহুগুণ সমৃদ্ধ করেছিল। [vii] স্থাপত্য ও ভাস্কর্যকর্ম: ভারতীয় স্থাপত্য ও ভাস্কর্যকর্মে জৈনধর্ম ও তার বিষয়বস্তু গভীর প্রেরণা জুগিয়েছিল। এরই প্রভাবে গড়ে উঠেছিল ভারতের প্রাচীন মন্দির, গুহা ও চৈত্যশিল্প, যেমন—উদয়গিরির গুহা, জুনাগড়ের জৈন মন্দির, ইলোরার জৈন মন্দির প্রভৃতি।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

আগামী' কবিতাটি 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

আগামী Class 12 Bengali Question 2023 সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো (MCQ)  প্রশ্নমান ১ class 12 bengali mcq question answer ১. “ক্ষুদ্র আমি তুচ্ছ নই”-বক্তা কে ? (ক) বৃক্ষ শিশু (খ) বনস্পতি (গ) বটবৃক্ষ (ঘ) সদ্য অঙ্কুরিত বীজ উত্তর: (ঘ) সদ্য অঙ্কুরিত বীজ। ২. অঙ্কুরিত বীজের ক্ষুদ্র শরীরে বাজে— (ক) ঝড় (খ) বৃষ্টি (গ) ভূমিকম্প (ঘ) তুফান উত্তর: (ক) ঝড়। ৩. অঙ্কুরিত বীজের শাখায় প্রত্যাহত হবে— (ক) পত্রমর্মর (খ) মর্মরধ্বনি (গ) পাখির কূজন (ঘ) বিচিত্রধ্বনি উত্তর: (খ) মর্মরধ্বনি । ৪. অঙ্কুরিত বৃক্ষশিশু অরণ্যের বিশাল চেতনা অনুভব করে— (ক) পত্রে (খ) পুষ্পে (গ) শিকড়ে (ঘ) শাখায় উত্তর: (গ) শিকড়ে। ৫. “জানি তারা মুখরিত হবে”—কীভাবে ? (ক) নব শতকের গানে (খ) নতুন দিনের গানে (গ) নব তারণ্যের গানে (ঘ) নব জীবনের গানে উত্তর: (গ) নব অরণ্যের গানে। ৬. অঙ্কুরিত বৃক্ষশিশু নব অরণ্যের গানে মিশে যাবে— (ক) বসন্তে (খ) বর্ষায় (গ) গ্রীষ্মে (ঘ) শীতে উত্তর: (ক) বসন্তে। ৭. অঙ্কুরিত বীজ কোথায় মিশে যাবে ? (ক) অরণ্যের দলে (খ) বৃহতের দলে (গ) ক্ষুদ্রের দলে (ঘ) মহীরুহ-র দলে উত্তর: (খ) বৃহতের দলে। ৮. অঙ্কুরিত বীজ নিজেকে বলেছে— (ক) ভ...

বীরচন্দ্র মানিক্য থেকে বীরবিক্রম কিশোর মানিক্য পর্যন্ত ত্রিপুরার আধুনিকীকরণ সম্পর্কে আলোচনা কর।

 Discuss the modernization of Tripura from Birchandra Manikya to Bir Bikram Kishor Manikya. বীরচন্দ্র মানিক্য থেকে বীরবিক্রম কিশোর মানিক্য পর্যন্ত ত্রিপুরার আধুনিকীকরণ সম্পর্কে আলোচনা কর।  ত্রিপুরায় আধুনিক যুগের সূচনা হয় মহারাজ বীরচন্দ্র মানিক্যের শাসনকালে। তিনি ব্রিটিশ ভারতের শাসন পদ্ধতির অনুকরণে ত্রিপুরার শাসন ব্যবস্থার সংস্কার করেণ এবং লিখিত আইন কানুন প্রনয়নের মাধ্যমে বিচার ব্যবস্থাকে সুসংবদ্ধ ও সুসংগঠিত করেণ। মোটের উপর বীরচন্দ্রমানিক্য (১৮৬২-১৮৯৬ খ্রি:) তাঁর আমলে ত্রিপুরা রাজ্য এক নতুন রূপ লাভ করে। ১) মিউনিসিপ্যালিটি গঠন তিনি ১৮৭১ খ্রিস্টাব্দে আগরতলা মিউনিসিপ্যালিটি গঠন করেন। তবে নাগরিক জীবনের সুযোগ সুবিধা বিধানে কিংবা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা হিসাবে দীর্ঘকাল কোনো কার্যকারী ব্যবস্থা গ্রহণে আগরতলা মিউনিসিপ্যালিটি ছিল ব্যর্থ। ১৯৮১ খ্রিস্টাব্দের ৩ জুলাই ডবলিউ. বি. পাওয়ার সাহেব ত্রিপুরা রাজ্যের প্রথম পলিটিক্যাল এজেন্ট নিযুক্ত হন।  ২) বিচার সংক্রান্ত সংস্কার প্রাচীনকাল হতে দেওয়ানি ও ফৌজদারি সংক্রান্ত বিচারের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি মহারাজ স্বয়ং সম্পাদন করতেন। ১৮৭২ খ্রিস্টা...

বীরচন্দ্র মানিক্যের পূর্ববর্তী সময়ে ত্রিপুরার অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা সম্পর্কে আলোচনা কর।

 Discuss the social and economic condition of Tripura before the accession of Birchandra Manikya. বীরচন্দ্র মানিক্যের পূর্ববর্তী সময়ে ত্রিপুরার অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা সম্পর্কে আলোচনা কর। ভূমিকা ত্রিপুরার মাণিক্য উপাধিকারী রাজন্যবর্গের মধ্যে কেউ কেউ ছিলেন আত্মমর্যাদাজ্ঞানহীন, ক্ষমতালোভী ও ষড়যন্ত্রী। এসব ক্ষমতালোভী ও ষড়যন্ত্রীরা মুঘল ফৌজদারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে অধিক সংখ্যক হাতি, নিয়মিত উচ্চ হারে খাজনা, নজরানা ইত্যাদি দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাজত্বের সনদ লাভ করতেন। এটা ত্রিপুরার দুর্বল অর্থনীতির উপর এক বিরাট আঘাত ও স্থায়ী ক্ষতস্বরূপ ছিল। তবে এ সময়ের শুভদিক হল ত্রিপুরায় ব্রিটিশ ভারতের অনুকরণে আইন প্রণয়নের সূত্রপাত, প্রশাসনিক বিধিব্যবস্থার প্রবর্তন, অর্থনৈতিক উন্নয়নের উন্মেষ ও সামাজিক সংস্কার। Economic Condition ১) চাষাবাদ ও কৃষি ত্রিপুরার অধিবাসীদের প্রধান জীবিকা হল কৃষি। কৃষিজ উৎপাদনের মধ্যে ধান, গম, আলু, আখ, সরিষা, ডাল জাতীয় শস্য, কার্পাস, তুলো, কচু, আদা, তরমুজ ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। শিকার ও পশুপালন করেও তারা জীবিকা নির্বাহ করত। এখানকার চাষযোগ্য সমতল জমির সাথে ...