উচ্চমাধ্যমিক সাজেশন-2023 সম্পর্ক, বর্ণ এবং শ্রেণি : প্রারম্ভিক সমাজ (আনুমানিক 600 খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে 600 খ্রিস্টাব্দ)
উচ্চমাধ্যমিক সাজেশন-2023
সম্পর্ক, বর্ণ এবং শ্রেণি : প্রারম্ভিক সমাজ (আনুমানিক 600 খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে 600 খ্রিস্টাব্দ)
সঠিক উত্তরটি বাছাই করো। প্রশ্নমান 1
1. মহাভারতের পর্বসংখ্যা হল—
(a) 12টি
(b) 14টি
(c) 16টি
(d)18টি
উত্তর: (d) 18টি।
2. কৌরবদের রাজধানী ছিল—
(a) ইন্দ্রপ্রস্থ
(b) হস্তিনাপুর
(c) গান্ধার
(d) পাঞ্চাল
উত্তর: (b) হস্তিনাপুর।
3. আর্যভট্ট ছিলেন—
(a) গুপ্তযুগের খ্যাতনামা গণিতজ্ঞ
(b) গুপ্তযুগের খ্যাতনামা জ্যোতির্বিদ
(c) কুষাণ যুগের খ্যাতনামা বিজ্ঞানী
(d) কুষাণ যুগের খ্যাতনামা শল্য চিকিৎসক
উত্তর: (a) গুপ্তযুগের খ্যাতনামা গণিতজ্ঞ ।
4. বৈদিক যুগে বর্ণিত চারবর্ণের জন্মকাহিনির উল্লেখ আছে —
(a) ঋগবেদে
(b) যজুর্বেদে
(c) অথর্ববেদে
(d) সামবেদে
উত্তর: (a) ঋগবেদে।
5. বাংলা ভাষায় মহাভারত প্রথম লেখেন—
(a) ব্যাসদেব
(b) কাশীরাম দাস
(c) কালিপ্রসন্ন সিংহ
(d) কৃত্তিবাস ওঝা
উত্তর: (b) কাশীরাম দাস।
6. প্রভাবতী গুপ্ত ছিলেন একজন—
(a) গুপ্ত বংশীয় শাসক
(b) মৌর্য শাসক
(c) বাকাটক শাসক
(d) গুপ্তদের সামন্ত শাসক
উত্তর: (c) বাকাটক শাসক ।
7. কুম্ভী ও নিষাদী শীর্ষক রচনাটি একটি—
(a) ছোটোগল্প
(b) প্রবন্ধ
(c) উপন্যাস
(d) নাটক
উত্তর: (a) ছোটোগল্প ।
৪. মহাভারতের আনুমানিক রচনাকাল হল—
(a) খ্রি.পূ. 100 থেকে 100 খ্রি.
(b) খ্রি.পূ. 200 থেকে 200 খ্রি.
(c) খ্রি.পূ. 300 থেকে 300 খ্রি.
(d) খ্রি.পূ. 400 থেকে 400 খ্রি.
উত্তর : (d) খ্রি.পূ. 400 থেকে 400 খ্রি.।
নীচের প্রশ্নগুলি একটি শব্দে / পূর্ণাঙ্গ বাক্যে উত্তর দাও। প্রশ্নমান 1
1. দ্রোণাচার্য কে ছিলেন ?
উত্তর: দ্রোণাচার্য ছিলেন কুরু ও পাণ্ডবদের শিক্ষাগুরু তথা অস্ত্রগুরু।
2. মনুস্মৃতি কখন রচিত হয় ?
উত্তর: খ্রিস্টপূর্ব 200 অব্দ থেকে 200 খ্রিস্টাব্দের মধ্যে মনুস্মৃতি রচিত হয়।
3. গৌতমীপুত্র সাতকর্ণী কে ছিলেন ?
উত্তর: গৌতমীপুত্র সাতকর্ণী ছিলেন সাতবাহন বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা।
4. বর্ণ বলতে কী বোঝায় ?
উত্তর: কর্ম বা পেশার ভিত্তিতে বৈদিক সমাজ 4টি শ্রেণিতে বিভক্ত ছিল এবং প্রত্যেকটি শ্রেণিকেই বলা হত বর্ণ।
5. মৃচ্ছকটিকম্ গ্রন্থটি কে রচনা করেন ?
উত্তর: মৃচ্ছকটিকম্ গ্রন্থটি শূদ্রক রচনা করেন ।
6. চারুদত্ত কে ছিলেন ?
উত্তর: মৃচ্ছকটিকম্ নাটকে বর্ণিত একজন বণিক ছিলেন চারুদত্ত।
7. ব্রাত্যষ্টোম যজ্ঞ কী ?
উত্তর: ধর্মসূক্তে ব্রাত্যদের সমাজ-বহির্ভূত অস্পৃশ্য জাতি বলা হয়েছে। তবে তারা যে-যজ্ঞ দ্বারা ব্রাক্ষ্মণসমাজে উন্নীত হত বা হতে পারত, সেই যজ্ঞকে বলা হয় ব্রাত্যষ্টোম যজ্ঞ ।
৪. অবন্তিপুত্ত কে ছিলেন ?
উত্তর: মজ্ঝিমা নিকয়া সাহিত্যে উল্লিখিত একজন রাজা ছিলেন অবন্তিপুত্ত।
9. সূত কাদের বলা হত ?
উত্তর: প্রাচীন ভারতের সারথি কবিদের সূত বলা হত, যাঁরা যুদ্ধক্ষেত্রে বীর যোদ্ধাদের বীরত্ব নিয়ে কবিতা লিখতেন।
10. কুস্তী ও নিষাদী গ্রন্থের মূল প্রেক্ষাপট কোনটি ?
উত্তরঃ কুন্তী ও নিষাদী গ্রন্থের মূল প্রেক্ষাপট মহাভারতের জতুগৃহ পর্ব।
11. বি বি লাল কে ছিলেন ?
উত্তর: বি বি লাল ছিলেন খ্যাতনামা প্রত্নতত্ত্ববিদ।
12. কাচ্চান Kachhana) কে ছিলেন ?
উত্তর: কাচ্চান (Kachhana) ছিলেন গৌতম বুদ্ধের এক শিষ্য।
13. পণ্ডিত ডি এস সুকথাঙ্কর কবে মহাভারতের সমালোচনাত্মক সংস্করণের কাজ শুরু করেন ?
উত্তর: 1920 খ্রিস্টাব্দে পণ্ডিত ভি এস সুথাঙ্কর মহাভারতের সমালোচনাত্মক সংস্করণের কাজ শুরু করেন।
14. গান্ধারী কে ছিলেন ?
উত্তর: প্রাচীন ভারতের গান্ধার রাজকন্যা অর্থাৎ হস্তিনাপুরের রাজা ধৃতরাষ্ট্রের স্ত্রী ছিলেন গান্ধারী।
15. শকরা ভারতের কোথায় রাজত্ব করত ?
উত্তর: শকরা ভারতের তক্ষশীলা, মথুরা ও সৌরাষ্ট্রে রাজত্ব করত।
নীচের প্রতিটি প্রশ্ন 60টি শব্দের মধ্যে লেখো। প্রশ্নমান 3
1. বর্ণভেদ ও জাতিভেদ প্রথার মধ্যে কী তফাত খুঁজে পাও ?
উত্তরঃ পেশা বা বৃত্তি অনুসারে বৈদিক সমাজ চারটি বর্ণে বিভক্ত ছিল। ঋগবেদে বর্ণ কথাটি গাত্রবর্ণ (গৌরবর্ণ; অর্থাৎ আর্যগণ এবং কৃষ্ণবর্ণ; অর্থাৎ অনার্য বা দস্যু) অর্থে ব্যবহৃত হত। যদিও এই বর্ণ বলতে শ্রেণিকে বোঝাত; জাতি নয়। পরবর্তী বৈদিক যুগে আর্যরা কৃষি-অর্থনীতিতে প্রবেশ করে। এই সময় লৌহের প্রচলন ঘটে। ফলে কৃষির ব্যাপক উন্নতি হয়। কৃষিকার্যের স্বার্থে শ্রমবিভাজন আবশ্যিক হয়ে পড়ে। এই শ্রম বিভাজন থেকেই উৎপত্তি হয় দেশভিত্তিক জাতিপ্রথা। অন্যদিকে বৈদিক সমাজ জীবনে চতুবর্ণ প্রথার অবনমন শুরু হয়।
2. জাতিভেদ প্রথা উদ্ভবের তিনটি কারণ লেখো।
[i] স্থান বা আয়তন: ভারতবর্ষ সুবিশাল এবং তার এই বৃহৎ আয়তন জাতিব্যবস্থা উদ্ভবের অন্যতম কারণ। আর্যরা ভারতে প্রবেশ করে সমগ্র ভারত জয় করতে পারেনি ফলে ঐক্যবোধ সৃষ্টি হয়নি। ভারতের বিভিন্ন স্থানে বসবাসকারী বিভিন্ন মানুষ নিজ নিজ আচার-ব্যবহার, স্বতন্ত্র ঐতিহ্য সৃষ্টি করে। এর ফলে বিভিন্ন অংশের মধ্যে সামাজিক পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়, যা জাতিব্যবস্থার সৃষ্টি করে।
[ii] জীবিকা: পরবর্তী বৈদিক যুগে বিভিন্ন গোষ্ঠী ও বিভিন্ন বৃত্তির মানুষ বংশানুক্রমিকভাবে তাদের পৈতৃক জীবিকা অনুসরণ করতে থাকে। সময়ক্রমে একটি গোষ্ঠীর বা বৃত্তির মানুষ একটি পৃথক জাতিতে পরিণত হয়। এইভাবে মুচি, মেথর, কামার প্রভৃতি জাতির উদ্ভব ঘটে।
[iii] বৈবাহিক সম্পর্ক: ঋগ্বৈদিক পরবর্তীযুগে আন্তঃবর্ণ, অসবর্ণ বিবাহ প্রথা বন্ধ হয়ে গেলেও সমাজে ‘অনুলোম’ ও ‘প্রতিলোম’ বিবাহ প্রচলিত ছিল। ‘অনুলোম' বিবাহ (উচ্চবর্ণের পাত্র ও নিম্নবর্ণের কন্যা) ও ‘প্রতিলোম’ বিবাহের (নিম্নবর্ণের পাত্র ও উচ্চবর্ণের কন্যা) ফলে সমাজে বর্ণসংকরের সৃষ্টি হয় এবং এরা হীন বলে প্রতিপন্ন হত এবং শূদ্রবর্ণ বলে পরিচিত হত।
3. বি বি লাল প্রত্নতাত্ত্বিক খননকার্যের ফলে মহাভারত সম্পর্কে কী সিদ্ধান্তে উপনীত হন ?
উত্তর: বি বি লাল মহাভারতের পৌরাণিক ব্যাখ্যার খোঁজে উত্তর প্রদেশের বিভিন্ন স্থানে খননকার্য চালান এবং এই অঞ্চলে জনবসতির প্রমাণ পান। পাঁচটি স্তরবিশিষ্ট এই বাসস্থানের দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরটি চিহ্নিত করা হয়। এই প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানে বি বি লাল গৃহনির্মাণে ব্যবহৃত উপকরণকে প্রাচীন ও প্রারম্ভিক পর্যায়ের উপকরণ দিয়ে বানানো বলে মনে করেছেন, যা মহাভারতে বর্ণিত সুউচ্চ প্রাসাদে পূর্ণ এবং বৃহৎ তোরণদ্বার ও গগনচুম্বী অট্টালিকার সঙ্গে মেলে না। ফলে বলা যায়, সাহিত্যগত উপাদান ও প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদানের মধ্যে কোনোরকম সম্পর্ক ও সাযুজ্য পাওয়া যায় না, যা মহাভারতের সত্যতা নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন উত্থাপন করে।
4. মেগাস্থিনিস এবং কৌটিল্যের মতে বর্ণ কী ছিল ?
উত্তর: মেগাস্থিনিস এবং কৌটিল্যের মতে বর্ণ: গ্রিক পর্যটক মেগাস্থিনিস বর্ণব্যবস্থার স্তরবিন্যাসের কাঠামোকে শনাক করতে গিয়ে বলেন, তাঁর মতে, একজন মানুষকে বর্ণের অন্তর্গত হিসেবে চিহ্নিত করা হত। বর্ণ পরিবর্তন করা বা তার বাইরে বিবাহ করার সাধ্য কারুর ছিল না। তিনি সাতটি বর্ণের অস্তিত্বের কথা বলেছেন। অপরদিকে কৌটিল্য প্রাচীন সাহিত্যের মত এবং মেগাস্থিনিসের মতের সঙ্গে সহমত পোষণ করেছেন। তিনিও সাতটি বর্ণের অস্তিত্বের কথা বলেছেন।
.png)
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন